Saturday, June 28, 2008

# ‘আটাশে জুন, এক অভিনব মানুষ ড. ইউনূসের জন্মদিন’










‘আটাশে জুন, এক অভিনব মানুষ ড. ইউনূসের জন্মদিন’
-রণদীপম বসু


চট্টগ্রামের সম্ভ্রান্ত সওদাগর পরিবারে পিতা দুলা মিয়া সওদাগর ও মাতা সুফিয়া খাতুনের নয় সন্তানের মধ্যে তৃতীয় যে সন্তানটি ১৯৪০ সালের ২৮ জুন এই পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হলো, কেউ কি কল্পনায়ও ভাবতে পেরেছে তখন, এই ছেলেই একদিন স্বপ্নের বাতিঅলা হয়ে বিশ্বের শীর্ষ মর্যাদাসম্পন্ন নোবেল শান্তি পুরস্কার জয় করে বিশ্বমানচিত্রে বাংলাদেশকে নিমেষেই অভূতপূর্ব মর্যাদায় আসীন করে দেবে ! আর কেই বা বাঙালীর দ্বিধার জড়তা ভেঙে আবারও পূর্ণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে সেই সাহসী মন্ত্র উচ্চারণ করবেন- আমরা পারি... !

তিনি প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আমাদের স্বাপ্নিক পুরুষ। মায়ের কড়া শাসনের মধ্যে শৈশবে তাঁর মধ্যে যে শৃঙ্খলাবোধ গড়ে ওঠে, আজীবন তাই তাঁকে একটা সুশৃঙ্খল কর্মে চিন্তায় ও জীবন যাপনে সার্থকভাবে চালিত করে। ছোটবেলা থেকেই সাহিত্য সংগীত চিত্রকলা ও বিজ্ঞানের প্রতি তাঁর ছিলো তীব্র ঝোঁক। লামারবাজার অবৈতনিক প্রাথমিক বিদ্যালয় দিয়ে যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার শুরু, তারপর থেকে সব পর্যায়েই অসাধারণ মেধার স্বাক্ষর রাখতে শুরু করেন তিনি। চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুলে থাকতেই তেরো বছর বয়সে বয়স্কাউটের জাতীয় সমাবেশ জাম্বুরিতে যোগদানের জন্য ১৯৫৩ সালে করাচি ভ্রমন করেন। বয়স্কাউট হিসেবে ১৯৫৫ সালে কানাডা ও ১৯৫৯ সালে ফিলিপাইন ও জাপান সফর করেন। এভাবেই তাঁর মধ্যে নেতৃত্বগুনের বিকাশ ঘটে। ১৯৫৫তে চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়ে ‘দু’পাতা’ নামে একটা লিটল ম্যাগাজিনের সম্পাদনা শুরু করেন। এ সময় তিনি কলেজের ‘সম্মিলিত ছাত্র প্রগতি সংঘের’ নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন। ১৯৫৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে ভর্তি হন এবং ১৯৬১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক হয়ে মাত্র ২১ বছর বয়সে ঐতিহ্যবাহী চট্টগ্রাম কলেজে অধ্যাপনা শুরু করেন। এরই মধ্যে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের যাবতীয় শিল্পজাত দ্রব্যের জন্য আবশ্যক প্যাকেজিং সামগ্রির পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আমদানি নির্ভরতা কমানোর জন্য ১৯৬৪ সালে একটি প্যাকেজিং শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন যা প্যাকেজিং সামগ্রির চাহিদা মেটাতে অনেকটা সক্ষম হয় এবং লাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। ১৯৬৫ সালের মাঝামাঝি উচ্চশিক্ষার জন্য ফুলব্রাইট বৃত্তি নিয়ে আমেরিকায় পাড়ি জমান এবং ভেন্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন। আমেরিকায় থাকাকালীন তিনি কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় ও মধ্য টেনেসি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতায় নিযুক্ত থাকেন। এবং ১৯৭০ সালে তিনি রাশান বংশোদ্ভুত আমেরিকান নাগরিক ভিরা ফোরোস্টেনকোর সাথে বিয়েবন্ধনে আবদ্ধ হন।

১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হলে তিনি আমেরিকায মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আত্মনিয়োগকরেন। অর্থ সংগ্রহ আন্দোলন, প্রচারণা ও জনমত গঠনে অন্যতম অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। বাংলাদেশ নাগরিক সমিতির সচিব ও দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষে প্রকাশিত সংকলন সম্পাদনার দায়িত্বও পালন করেন। অত্যন্ত গভীর দেশপ্রেম তাঁর। উচ্চতর লেখাপড়া এবং অধ্যাপনার সুবাদে পৃথিবীর সবচে’ উন্নত দেশের দেয়া সুযোগ ও আকর্ষণীয় সুবিধা সে দেশে তাঁকে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার জন্য প্রলুব্ধ করতে পারে নি। ঘরের ছেলে ঘরেই ফিরে এসেছেন।

১৯৭২ সালে দেশে ফিরে সরকারের পরিকল্পনা কমিশনে যোগ দেন। অফিসে পেপার পড়া ছাড়া আর কোন কাজ না থাকায় কর্মহীন দিনগুলো কর্মপাগল ইউনূসকে ব্যথিত করে তোলে। এক পর্যায়ে কমিশনের দায়িত্বে ইস্তফা দিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব নিয়ে তিনি চট্টগ্রামে চলে যান। আর এটাই ছিলো তাঁর জীবনের অন্যতম টার্নিং পয়েণ্ট।

যেভাবে একটি স্বপ্নের শুরু
ছাত্রদের অর্থনীতির পাঠ দিতে গিয়ে তাত্ত্বিক অর্থনীতির সাথে ব্যবহারিক অর্থনীতির যে বৈষম্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে, তা তাঁকে ভীষণভাবে ভাবিয়ে তোলে। বিশেষ করে ১৯৭৪ সালে সৃষ্ট বাংলাদেশের ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের হাত ধরেই ড. ইউনূসের চিন্তা জগতে উন্মেষ ঘটে নতুন ভাবনার। ক্ষুধায় মারীতে মানুষের এতো মৃত্যু দেখে ভীষণ বিব্রত তিনি উপায় খুঁজতে গিয়ে প্রথমেই বিশ্ববিদ্যালয়ের আশেপাশে বিনাচাষে পড়ে থাকা বিস্তীর্ণ আবাদযোগ্য জমিতে প্রয়োজনীয় ফসল ফলানোর উদ্যোগ হিসেবে ‘নবযুগ তেভাগা খামার’ আন্দোলন শুরু করেন এবং এতে সুফলও পান। পরবর্তীতে শ্রমসম্বল দরিদ্র মানুষগুলোকে মহাজনী জোঁকের হাত থেকে উদ্ধার করার নিমিত্তে কাজ করতে গিয়ে প্রথমে যে বোধোদয়টি তাঁর হলো, প্রচলিত নিয়মে যাদের অর্থ আছে, জামানত দেয়ার যোগ্যতা আছে তারাই ব্যাংক থেকে ঋণ পাবেন, যার নেই তিনি পাবেন না। তাহলে রাষ্ট্রের এতোগুলো ব্যাংক কার স্বার্থে ? তিনি এ বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে উঠলেন এবং সদম্ভে ঘোষণা করলেন, ‘ঋণ মানুষের মৌলিক অধিকার।’ কিন্তু রাষ্ট্রের এখানে কিছুই করণীয় নাই জেনে এবার নিজেই উল্টো স্রোতের কাণ্ডারি হয়ে ওঠলেন। স্থানীয় জোবরা গ্রামের ৪২টি হতদরিদ্র পরিবারকে নিজের পকেট থেকে মাত্র ৮৫৬ টাকা দৈনিক কিস্তিতে ঋণ প্রদানের মাধ্যমে তিনি ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম শুরু করলেন। এর সাফল্যে উদ্বুদ্ধ হয়ে ১৯৭৬ সালের আগষ্ট মাসে চট্টগ্রামের বুড়িশ্চর ইউনিয়নের এই জোবরা গ্রামেই একটি প্রায়োগিক গবেষণা প্রকল্প হিসেবে এককালে বিশ্বখ্যাত হয়ে ওঠা এই গ্রামীণ ব্যাংক প্রকল্পের শুরু।

১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সমর্থনে প্রকল্পটি টাঙ্গাইলের সুরুয গ্রামে সম্প্রসারণ ঘটে। পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (ইফাদ)-এর আর্থিক সহায়তায় ১৯৮২ সালে প্রকল্পটি ঢাকা, রংপুর এবং পটুয়াখালী জেলায় সম্প্রসারিত হয়। সাফল্যের সাথে এ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হওয়ার প্রেক্ষিতে ১৯৮৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে প্রকল্পটিকে গ্রামীণ ব্যাংক নামকরণ করে একটি বিশেষায়িত ঋণদান প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের জন্য বাংলাদেশ সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সে অনুযায়ী গ্রামীণ ব্যাংক অধ্যাদেশ ১৯৮৩ জারি করা হয় এবং একটি স্বতন্ত্র ব্যাংক হিসেবে গ্রামীণ ব্যাংকের আত্মপ্রকাশ ঘটে। অনেক কাঠখড় পোড়ানো অদম্য ইচ্ছা, অটুট মনোবল আর দৃঢ় আত্মবিশ্বাসের মধ্য দিয়ে অতঃপর পেরিয়ে গেলো আরো প্রায় পঁচিশটি বছর, সিকি শতাব্দি। ইতোমধ্যে ড. ইউনূস হয়ে ওঠলেন বিশ্বজয়ী ক্ষুদ্রঋণের স্বপ্নদ্রষ্টা, প্রায়োগিক অর্থনীতির রূপকার একজন বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্ব। প্রচলিত ব্যাংকিং ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জামানতবিহীন ঋণ প্রদানের ঘোষণা দিলে যাঁকে একদিন অনেকেই ‘পাগল’ সম্বোধন করতেও দ্বিধা করে নি, তাঁরাই চোখ কপালে তুলে হাঁ করে দেখতে লাগলো কীভাবে কালে কালে ঈর্ষণীয় সমৃদ্ধিতে ভরে ওঠলো ড. ইউনূসের স্বীকৃতির ঝুলি। বিশ্বের সব সেরা স্বীকৃতি ও পুরস্কার অর্জনে বাদ না পড়া ইউনূসের সত্তরেরও অধিকটি পুরস্কার ও এওয়ার্ডের সুদীর্ঘ তালিকার ধারে কাছেও পৌঁছতে পারে এমন ব্যক্তি গিনেজ বুক অব রেকর্ডসেও আর কেউ নেই। বিশ্বমানচিত্রে যেন ড. ইউনূস ও বাংলাদেশ মিলে মিশে একাকার হয়ে আছে।

ব্যক্তিগতভাবে মাত্র ৮৫৬ টাকা দিয়ে যে স্বপ্নের শুরু, তাই কালে কালে আজ জোবরা থেকে বিশ্ব জয় করে অসলোতে গিয়ে ছুঁয়েছে তার আলো। নতুন নতুন চিন্তা ও ধ্যান ধারণা নিয়ে আজীবন স্রোতের বিপরীতে চলা এই বাঙালী সন্তান প্রচলিত অর্থে কখনোই বিতর্কের উর্ধ্বে থাকেন নি যদিও, বলা যায় সবসময়ই নিজকে দেশ জাতি ও মানুষের প্রশ্নমুখর মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছেন এবং রাখছেনও, তবু রবীন্দ্রনাথের পর আর কোন বাঙালী দেশ ও জাতিকে বিশ্বমানচিত্রে মর্যাদার এতোটা উঁচুতে তুলে নিতে পেরেছেন বলে মনে হয় না। আর তাই এ জাতির সন্তান হিসেবে তাঁর কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই। চলমান আবেগ, রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি চিন্তাচেতনা, সংকীর্ণ স্বার্থপরতা দিয়ে মেধা ও মননে বলীয়ান ড. ইউনূসের মতো একজন নির্লোভ নিরহঙ্কারী সৃজনশীল ব্যক্তিত্বের মূল্যায়ন হয়তো সম্ভব নয়। এ জন্যে আমাদেরকে সময়ের নিরপেক্ষ সিদ্ধান্তের জন্য হয়তো আরো বহুদিন অপেক্ষা করতে হবে। অথচ ‘দুনিয়ায় কেউ গরীব থাকবে না, গরীব না থাকাই মানুষের অধিকার’- এই স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ড. ইউনূস ক্ষুদ্রঋণ বা মাইক্রো ক্রেডিটের জনক হিসেবে বিশ্বস্বীকৃত। তাঁর হাত ধরেই ১৯৮০ সালের পর ডিকশনারিতে যোগ হয় ‘micro-cradit+’ শব্দটি। তবে বর্তমানে এটিকে ‘micro finance’ নামেও অভিহিত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের প্রায় ২ কোটি দরিদ্র মানুষ সহ বিশ্বের ১৩১ টি দেশের ১২ কোটিরও অধিক মানুষ তাদের ভাগ্যোন্নয়নে বর্তমানে এই ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচির আওতায় এসেছে। ড. ইউনূসের এ ক্ষুদ্রঋণতত্ত্বের সাফল্য গাঁথাকে স্বীকৃতি দিতে জাতিসংঘ ২০০৫ সালকে ‘আন্তর্জাতিক ক্ষুদ্রঋণ বর্ষ’ হিসেবেও পালন করে।

১৩ অক্টোবর ২০০৬ তারিখে পুরস্কার ঘোষণার প্রাক্কালে নোবেল শান্তি পুরস্কার কমিটির চেয়ারম্যান প্রফেসর ওলে ডানবোল্ট মিউস তাঁর সাইটেশনে বলেন-
“নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি ২০০৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার মুহাম্মদ ইউনূস এবং গ্রামীণ ব্যাংকের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন প্রচেষ্টায় অবদানের জন্য এ পুরস্কার দেয়া হচ্ছে।
বিপুল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে দারিদ্র্যের চক্র ভেঙে বের করে আনার পথ দেখাতে না পারলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি অর্জন সম্ভব নয়। ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচি সে রকমের একটি পথের দিশা। এ পথে আনা উন্নয়ন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের অগ্রগতিকেও গতিশীল করে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, পৃথিবীর অনেক দেশেই কোটি মানুষের স্বার্থে স্বপ্নের বাস্তব প্রয়োগে মুহাম্মদ ইউনূস নিজের নেতৃত্ব গুনের প্রকাশ ঘটিয়েছেন। জামানত ছাড়াই দরিদ্র মানুষকে ঋণ দেয়া অসম্ভব একটি ধারণাই ছিলো। তিন দশক আগে যাত্রা শুরু করে গ্রামীণ ব্যাংকের মাধ্যমে ইউনূস প্রথমবারের মতো এ অসম্ভব ধারণাকেই শুধু ভাঙেন নি, তিনি ক্ষুদ্রঋণ কর্মসূচিকে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছেন।.............”

এ ঘোষণার পরপরই বিশ্বের সবক’টা মিডিয়ায় যে ভাবে ড. ইউনূস ও বাংলাদেশকে বিরাট কৌতূহল নিয়ে প্রত্যক্ষ করলো সবাই, নিজেদের অভিব্যক্তি প্রকাশ করলো, দেশে বিদেশে অভিনন্দনের স্রোত বইলো তাতে ড. ইউনূসকে নিয়ে আমাদের যতো বিতর্কই থাকুক না কেন, বাঙালী হিসেবে আমাদের বুকের ছাতিটা সত্যিই দশগুন বড় হয়ে যায় বৈ কি। আর সর্বশেষ সেদিন ক্যামব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮০০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ক্যামব্রিজ প্রোগ্রাম ফর ইন্ডাস্ট্রির (সিপিআই) ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তৈরি করা তালিকায়ও বিশ্বের ৫০ জন অগ্রণী চিন্তকের অন্যতম চিন্তক হিসেবে ঘোষণা করা হলো প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নাম।

কেউ কি জানে, এরকম আলোকিত আরেকটা সন্তানের জন্য একটা জাতিকে কতোকাল অপেক্ষা করে থাকতে হয় ?

২৮ জুন তাঁর শুভ জন্মদিন। এই দিনে তাঁকে জানাই আনত শ্রদ্ধায় মোড়ানো কৃতজ্ঞ শুভেচ্ছা। আরো অনেক অনেক কাল আমাদেরকে আলোকিত করে রাখুন তিনি।

(R_d_B)
(R_d_B)
(R_d_B)
(Sa7rong)

Tuesday, June 24, 2008

# সচল পেন্সিলে আঁকা - ০১...(সেই আংটিটা)



সেই আংটিটা
-রণদীপম বসু



‘ছাদনাতলা’ শব্দটার কূলঠিঁকুজি খুব একটা জানা নেই আমার। কৌতুহলও তেমন ছিলো না বলে ‘বেলতলায়’ যাওয়ার মতোই ‘ছাদনাতলা’-কেও ব্যঞ্জনাময় প্রতীকী ও রসাত্মক শব্দ হিসেবে ইতিবাচক সম্মতি নিয়েই দেখেছি। কিন্তু বেলতলার মতো ওখানেও যাওয়ার ব্যাপারে ব্যক্তিগত আতঙ্কটা আর কাটাতে পারলাম কই ! সহপাঠি বন্ধুদের সৃষ্ট প্রজন্ম যখন স্কুলের গণ্ডিও পেরোতে বসেছে, তখন যে কোন্ আত্মদর্শনে আদিষ্ট হয়ে এমন এক দুঃসাহসিক কাজ করে বসলাম, প্রবল চিন্তাস্রোত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসার পর নিজেই আশ্চর্য হয়ে গেলাম- এ কী করেছি ! আমিও খোঁয়াড়ের হয়ে গেলাম !

অফিসের সহকর্মীদের অর্থপূর্ণ দৃষ্টি চালাচালিকে কৌতুকপূর্ণ মনে হলেও অবজ্ঞা করার কোন উপায় ছিলো না। কথা নেই বার্তা নেই আকস্মিক বিয়ে করে ফেলা বাঙালী যুবকের গলায় এট লিস্ট একটা স্বর্ণের চেইন আর হাতে অন্তত একটা আংটি থাকবে না ! এটা কী করে হয় ! রহস্য না থেকেই যায় না। এতে যে কোন রহস্য নেই, এক্কেবারে সোজা সাপ্টা একটা ব্যাপার, সম্ভবত কেউ এটা বিশ্বাস করে নি। একজন উত্তীর্ণ যুবক যৌতুক তো দূরের কথা, শাস্ত্রীয় বাধ্যবাধকতাকেও কচু দেখিয়ে উর্বর মঙ্গলের প্রতীক গোল করা বেডিংটাও সঙ্গে নিতে অস্বীকৃতি জানাবে, এটাকে গুলমারা ভাবলেও ভাবতে পারে কেউ। কিন্তু আমি নিশ্চিৎ, হাতে আংটি না থাকার কারণ হিসেবে একটা কঠিন প্রতিজ্ঞার পেছনে যে তুচ্ছ ঘটনার বয়ান করলাম সে বিবেচনায় আমি তাদের কাছে একটা বেয়াকুব হিসেবেই চিহ্নিত হয়েছি। সম্ভবত বেয়াকুবি আর আত্ম-অহমিকার মধ্যে খুব একটা তফাৎ নেই।

উনিশ’শ বিরাশি কি তিরাশি সালের ঘটনা এটা। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম বা দ্বিতীয় বর্ষ অনার্সের ছাত্র আমি। সিলেট এম সি কলেজ হিসেবে আদিনামে যাকে এখন চিনি আমরা, ওটাই কেন জানি কোন্ সরকারি ম্যাজিকে সিলেট সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ নামে পরিচিত ছিলো এবং কাগজপত্রেও তাই লেখা হতো। আমাদের অনার্সের সার্টিফিকেটেও এই অযৌক্তিক নামটাই আছে। আর ভিন্নভাবে আলাদা কম্পাউণ্ড নিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠিত ইণ্টারমিডিয়েট কলেজটাকে সরকারিভাবে বলা ও লিখা হতো এম সি কলেজ নামে, যা এখন সিলেট সরকারি কলেজ। যাক্, কেমিস্ট্রির ছাত্রদের পাঠ্যসূচির অংশ হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক আয়োজনে শিক্ষা সফরের নামে বিভিন্ন ইণ্ড্রাস্টিয়াল ট্যুরে যেতে হতো আমাদের।

সেবারের সফর সূচিতে ছিলো সুদূর শিল্পনগরী চট্টগ্রামের বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। স্টিল মিলস, টিএসপি, ইউরিয়া, বেভারেজ, সিরামিক, পেপার, রেয়ন, ফার্মাটিউক্যালস, রিফাইনারী ইত্যাদি। দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী কলেজের বিশাল এলাকার একপ্রান্তে হোস্টেল এরিয়ার শহীদ শ্রীকান্ত ছাত্রাবাঁসের বোর্ডার আমি। মোটামুটি লম্বা একটা সফরের প্রস্তুতি নিতে বাড়ি গেলাম। প্রয়োজনীয় টাকা পয়সা ও আনুষঙ্গিক প্রস্তুতি নিয়ে ফিরে আসবো হোস্টেলে, মা’র আঙুলে নতুন আংটিটার দিকে চোখ গেলো। বাহ, সুন্দর তো ! মেট্রিকের পর থেকেই বাড়ির বাইরে বাইরে। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে খুব একটা বাড়ি যাওয়া হতো না বলে নিজ গৃহে পরবাসী ভাবটা থিতু হতে শুরু করেছে তখন। উপর উপর দেখার কারণেই হয়তো বাড়িঘরের অনেক অনিবার্য পরিবর্তনগুলোও চোখ এড়িয়ে যেতে শুরু করেছে। মা’র আংটিটাও আগে দেখেছি বলে মনে হয় নি। এটা কোন উল্লেখযোগ্য বিষয়ও নয়। আর আমিও তখন আংটি ব্যবহার করি না। তবু আংটিটার কোথায় যেন একটা বিশেষত্ব ছিলো। দেখি দেখি বলে অচেনা কৌতুহলে মা’র আঙুল থেকে আংটিটা খুলে নিয়ে নেড়েচেড়ে দেখতে থাকি। বিশেষত্ব কী এটা ধরার চেষ্টা করছি। মা তার সংসারের আটপৌরে ব্যস্ততায় ব্যস্ত হয়ে গেলেন। আমিও আংটিটা হাতে নিয়ে কৌতুহল মেটাতেই ব্যস্ত। এবং মুগ্ধও। মেয়েলি হাতের ছোট্ট আংটি, আমার অনামিকা গলে ঢোকার মতো বড় নয়, আবার কড়ে আঙুলের জন্যেও ততোটা ছোট নয়। এক সময় মাকে দিতে যাবো, কিন্তু তাঁর ব্যস্ততা আর কাছাকাছি না থাকায় পরে দেবো ভেবে কড়ে আঙুলেই পরে রাখলাম। কিন্তু ফেরার সময় বেমালুম ভুলে গেলাম। মা-ও কি ভুলে গিয়েছিলেন ? না কি মাতৃত্বের অপার স্নেহে ওটা ফেরৎ চাইলেন না, কে জানে। চলন্ত গাড়িতে বসে খেয়াল হতেই ধক্ করে ওঠলো বুকটা। তখন তো আর সেলুলারের যুগ নয় যে ভুলের জন্য মা’র কাছে দুঃখ প্রকাশ করে নেবো। যাক্, পরেরবার বাড়িতে এসেই দিয়ে যাবো না হয়।

চিটাগাং এসে শিক্ষা সফরের বিচিত্র পাঠ আর অভিজ্ঞতাগুলো সঞ্চিত করতে টাইট প্রোগ্রামের মধ্যে দিয়ে যেতে হলো আমাদের। কেননা ওখান থেকে একটাদিন সময় বাঁচাতে হবে। এতো কাছে এসে কক্সবাজার ঘুরে যাবো না এটা তো হয় না। অবশেষে কক্সবাজার সৈকতে এসে সব কষ্ট ভুলে গেলাম। আমার মতো বেশিরভাগেরই জীবনের প্রথম সমুদ্র দর্শন, একেবারে ছুঁয়ে দেখার নৈকট্যে এসে। পঁচিশ বছর আগের সী বীচ ও আশপাশটা এখনকার মতো এতোটা সরগরম হয়ে ওঠেনি। এতো সুযোগ সুবিধা বা আবাসিক ব্যবস্থাও তখন ছিলো না। তিন-চারটা মোটেল যেমন সায়মন, শৈবাল, উপল, প্রবাল আর কি যেন নাম ছিলো। অথচ বীচের নিকটবর্তী ভুলে যাওয়া নামের ঐ মোটেলটাই ছিলো আমাদের মতো ছন্নছাড়াদের থাকার জন্য সুলভ ব্যবস্থা। বড়োসড়ো লম্বা একটা রুমে হাসপাতালের ওয়ার্ডের মতো গণশয্যার সুলভ বন্দোবস্তে আমাদের ঠাঁই হলো। গাইড কাম অভিভাবক হিসেবে আসা আমাদের বিভাগীয় চেয়ারম্যান ড. আজিজুর রহমান এবং রীতিমতো সন্ত্রস্ত করে রাখা অত্যন্ত কড়া মেজাজী অধ্যাপক মেঘনাদ সাহা স্যারের বজ্র-নিয়ন্ত্রণে এই প্রথম একটু ঢিল পেতেই হুড়মুড় করে সৈকতের দিকে যে যার মতো ছুট দিলাম। চিৎকার করে সবাইকে মেঘনাদ স্যার আরো কী যেন বললেন বা সতর্ক করে দিলেন সে দিকে আর খেয়াল নেই।

সমুদ্রের কাছে এলে মানুষ কি শিশু হয়ে যায় ? প্রথম সমুদ্রের বুকে আমি এবং আমরা শিশুর উচ্ছ্বাসে জল খেলায় অস্থির হয়ে ওঠলাম। ছুটে আসা বিশাল বিশাল ঢেউয়ের সাথে আকাশের দিকে ওঠে যাওয়া আবার আচমকা নেমে যাওয়ার সাথে সাথে পায়ের নীচের বালি সরে ধপাস করে পড়ে গিয়ে ফিরে যাওয়া ঢেউয়ের সাথে তীর থেকে দূরে চলে যাওয়া। এ রকম অসতর্ক উল্লাসে কখন যে অনেক দূরে চলে গেলাম, বলতে পারি না। সচেতন হলাম যখন, দেখি দূরে সৈকতে দাঁড়িয়ে নিত্যসঙ্গি ছাতাটাকে শাসানোর ভঙ্গিতে উচিয়ে চিৎকার করে আমাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছেন কেমিস্ট্রির বাঘ নামে খ্যাত আমাদের মেঘনাদ স্যার। ভাটা শুরু হয় হয়। পড়িমরি সাঁতরে তীরে এলাম। তখন অলরেডি স্যারের তুফান চলছে একেকজনের উপর। অপরাধীর মতো সয়ে যাচ্ছিলাম মাথা নীচু করে। তখনই খেয়াল করলাম, বাঁ হাতের কড়ে আঙুলে মায়ের সেই আংটিটা নেই !

স্যারের বকাঝকা চুলোয় গেছে তখন। একটা অস্থিরতা পেয়ে বসলো। হয়তো বা চোখে মুখে অবয়বে প্রকট হয়ে ওঠা এই অস্থিরতা কারো চোখ এড়ায় নি, স্যারের প্রশ্ন- ‘এই, কী হয়েছে তোর ?’ খুলে বলতেই ততোধিক বিরক্তি আর ঝাঁঝ নিয়ে ‘বেশ হয়েছে ! খুব ভালো করেছো ! যত্তোসব অপদার্থ।’ বলেই গটগট করে ফিরে চললেন। মার প্রিয় আংটি। একে তো আঙুলে লুজ ছিলো। সাগরের লোনা পানিতে পিচ্ছিল করে দেয়া চামড়া সেটাকে আর ধরে রাখতে পারে নি। এখন এই সাগরের কোথায় খুঁজবো ! অবসন্ন মনে অপরাধীর মতো মোটেলে ফিরে এলাম।

শাওয়ার সেরে সবাই যে যার মতো হুল্লোড়ে মেতে ওঠেছে। আমার ভাল্লাগছিলো না কিছুই। আমি তো চেয়ে আনি নি। বা মা তো আমাকে এক্কেবারে দিয়ে দেন নি আংটিটা। অন্য রকম একটা আংটি। এর দামদস্তুর সম্পর্কেও স্পষ্ট কোন ধারণা নেই। কী এক বিশেষত্ব ছিলো যেনো আংটিটাতে। স্যারের কথাটাকে মনের মধ্যে নেড়েচেড়ে হালকা হতে চাইলাম-‘ আংটি গেছে যাক্। তুমি তো রয়ে যাওনি !’ কিন্তু কিছুতেই অপরাধবোধ মন থেকে নামাতে পারছি না।

ভরা পূর্ণিমায় সাগর দেখতে মধ্যরাতে দল বেঁধে সবাই বীচে গেলো আবার। কেউ কেউ অতিরিক্ত ক্লান্তিতে পূর্ণিমার চেয়ে শয্যাই উত্তম বিবেচনা করে রয়ে গেলেও বিরল সুযোগ ছাড়তে চাইলাম না আমি। এক অভুতপূর্ব অভিজ্ঞতা ! মহাপ্রকৃতির নিজের হাতে গড়া সুন্দরের রূপ মানুষের তৈরি অক্ষরের ভাষা দিয়ে প্রকাশ আমার আয়ত্তের বাইরে। সৌন্দর্য্যের গভীরতায় মানুষ কি অব্যক্ত কোন বিষাদে আক্রান্ত হয় ! কাছেই পাহাড়ের চূড়া থেকে বাতিঘরের ঝিকঝিক আলো ঘড়ির কাটার মতো ক্ষণে ক্ষণে বিষন্ন ঝলক মেরে যাচ্ছে। যে ছেলেমেয়েগুলো ক’ঘণ্টা আগেও দিনের আলোয় অসম্ভব উচ্ছল ছিলো, অদ্ভুত এক নীরবতায় এখন আবৃত সবাই ! আমি কি এই অসহ্য সুন্দরে ডুবে যাচ্ছিলাম ? হঠাৎ পেছন থেকে হাতের আলতো ছোঁয়া পেলাম কাঁধে। চমকে ওঠলাম ! পেছন ফিরেই দেখি মেঘনাদ স্যার ! ‘তুই খুব বোকা, তাই না ?’ কথা তো নয়, কষ্টের বরফ গলানো উষ্ণতা ! এ কোন্ মেঘনাদ স্যার ! পূর্ণিমার ভরা আলোয়ও ঠাহর করতে পারলাম না।

বাড়ি ফিরতেই মার প্রশ্ন, ‘কি রে, আংটি কাকে দিয়েছিস ?’ আমি থতমত খেয়ে ওঠলাম। না মা, ওটা সাগরের ঢেউয়ে কখন যে হারিয়ে...। কথা শেষ হবার আগেই মার পরের প্রশ্নে একেবারে স্তব্ধ হয়ে গেলাম। ‘তুই কি কাউকে ভালোবাসিস ?’

তিনি জানেন, তাঁর ছেলে কখনো মা’র সাথে মিথ্যে বলে নি। অথচ আজ এ কী হলো ! সন্তানের প্রতি মা’র অবিশ্বাস মাখানো মুখ সচল পেনসিলে আঁকা অক্ষয় স্কেচ হয়ে গেঁথে গেলো আমার বুকে ! মুহূর্তেই পৃথিবীটা বদলে গেলো। মনে মনে এক ধনুর্ভঙ্গ প্রতিজ্ঞায় নিজেকে শৃঙ্খলিত করে নিলাম। যে সন্তান মায়ের বিশ্বাসের ছোট্ট একটা আংটিকেই ধরে রাখতে পারলো না, ওই আঙুলে তো আর কোন আংটিই শোভা পেতে পারে না !

সেই থেকে কখনোই আর আংটি পরি নি আমি। এখনো হু হু সমুদ্রের কাছে গেলে জলের প্রার্থণায় মগ্ন আমি কিছুতেই ভুলতে পারি না, এই সমুদ্রের বুকে আজো রয়ে গেছে আমার মায়ের বিশ্বাস মাখানো ছোট্ট আংটিটা !

(২৩/০৬/২০০৮)
(R_d_B)

Sunday, June 22, 2008

# শব্দের খোঁয়াড়- ০৫ ..(অণুকাব্য)





শব্দের খোঁয়াড়- ০৫ ..(অণুকাব্য)
-রণদীপম বসু


(৪১)
গিয়েছিলেন কুমড়ো ক্ষেতে,
এতগুলো পৃথিবী দেখে সিদ্ধান্তহীন ফিরে এলেন।

(৪২)
আঁজলা ভরে ওঠেছিলো যা
ঝরলো নদীতেই ফের ;
জলের আয়নায় সংক্ষুব্ধ তৃষ্ণারা ভাসে।

(৪৩)
সজোরে পেটাতেই বলটা উড়লো আকাশে,
ঝুলন্ত মাধ্যাকর্ষণ ঘাম হয়ে ঝরে ;
মানুষ ঝরে না।

(৪৪)
ওগুলো মলিন জুতো নয়,
মানুষের বিবর্ণ ইতিহাস।

(৪৫)
ব্যাখ্যা কাজ নয়, কাজের ব্যাখ্যা নেই ;
নিষ্কামের ব্যাখ্যা ভুরিভুরি।

(২১/০৬/২০০৮)

# অদৃশ্য বাতিঘর-০৬ (কবিতাগুচ্ছ)





অদৃশ্য বাতিঘর-০৬ (কবিতাগুচ্ছ)
- রণদীপম বসু

অপেক্ষা

সময়েরা অনড় পাথর হয়ে
জেঁকে আছে বুকের গভীরে খুব-
কে তাকে সরাবে বলো,
সেও কি অপেক্ষায় কারো
ফিরে পেতে আর কোনো যন্ত্রণার
দীঘল হাতের ছোঁয়া...?


পথ চললেই পথের হিসাব

পথ চললেই পথের হিসাব
নইলে কে যায় খুঁজতে এসব পথ-পথিকের প্রাণঠিকুঁজি
আদুর গায়ের মেঠোপথের কোথায় ছিলো খন্দখানা
কোন বছরের ভয়াল বানে মুছে গেছে নাম নিশানা
সুরকী-ভাঙা ঝকর-মকর রাখছে ধরে কার অবদান
পথ হারিয়ে কে দিয়েছে পথের মাঝেই জীবন পুঁজি।

কোন গাঁ থেকে ইষ্টিশানে সড়ক পথে নাই যোগাযোগ
বাস টেম্পো রিক্সাভ্যানে যায় না পাওয়া সময়-সুযোগ
রেলসড়কের টাইম-টেবলে নেইতো কোনো ঠিকঠিকানা
নদীতো নেই
জলের পথের নাব্যতারা উঠছে হয়ে ঘোর-অজানা
কোন্ সেতুটি ধ্বসে গেলো বিকল্প পথ হয়নি বুঝি
পথ চললেই পথের হিসাব নইলে কেন খোঁজাখুজি ?

দেশ-দুনিয়ার পথেঘাটে হার কিসিমের মানুষ ঘোরে
কার ভেতরে কোন্ ঠিকানা না দেখে কে চিনতে পারে ?
কোন্ সে পথে যায় যে খোঁজা কারো বুকে সাগর ফুঁসে
কারো বুকে মেঘলা আকাশ কারো বুকে জ্যোৎস্না হাসে
অনাদি কোন্ বৃক্ষ প্রাচীন কারো বুকে পাতা ঝরায়
রূপ-অরূপের বিচিত্রতায় পথ খুঁজে কে পথটি হারায়
হাজার পথের জটিল মানুষ কারে ফেলে কারে টানি
কাছে আসলেই মানুষ চিনি
নইলে কি আর উপর-ভেতর ভিন্নতাকে বুঝতে পারি ?
(১২/০৫/২০০৩)

একটাই আকাশ

বিশ্বাসেরা মরে গেছে কবেই
তবু তার শবদেহ ছুঁয়ে নতজানু স্বভাব
আমরণ খুঁজে যাবে নিরন্তর প্রাণের আশ্বাস।
এতো প্রেম রক্তপাত আবেগ উচ্ছ্বাস
একান্তে পেরিয়ে তবু
আত্মগত নারী বুঝে না কি
মানুষের বাঁচার সাধ দীর্ঘ খুবই জীবনের চেয়ে ?

বালিয়াড়ি বুকে ধরে
কতোটা দীর্ঘ হয় প্রিয়তম স্বপ্নের স্পন্দন
অজস্র স্বপ্নপাতে
কতোটা বিস্তৃত হয় মানুষের নিজস্ব আকাশ
কেউ কি জানে তা ?
কখনো ঝরে না আকাশ, ঝরায় স্বপ্ন শুধুই ;
একটাই আকাশ, কী হবে গুটিয়ে তাকে-
আনোখি স্বপ্ন হয়ে চোখই ঝরলো না হয়...!
(২০/০২/১৯৯৯)


প্রত্ন-বাউল
(কবি আবু হাসান শাহরিয়ার-কে)

চর্যাপদের কাল ক্ষয়ে গেছে কবে সেই
কাহ্নপা’রা জাদুঘরে
স্বপ্নের নাব্যতা বেয়ে কাদের ললনা তুমি
উদ্ভিন্ন কাঁচুলী খুলে উড়িয়ে পয়ার ধ্বজা
অজন্তার আলগুহায় মজে ওঠো অভিসারে আজো ?

এখন বাংকার ব্লাস্টারের কাল
ব্যাবিলন বুঝে গেছে ক্লাস্টারের লয়
বসরার গোলাপেরা চিকন বিকিনি পড়ে
হুমড়ি খাবে লাল-নীল ক্যাবারের তালে
এইসব ডলারের জয়কার ছেড়ে কে তুমি প্রত্ন-বাউল
সিকস্তির আঁকিবুকি খুঁজে খুঁজে ক্ষয়িষ্ণু বাঙলার তটে
শুধু শুধু অবসন্ন কেবল ?
(২৩/০৪/২০০৩)


শুধু বীজমন্ত্র জানি না বলে
(কবি জয়দুল হোসেন-কে)

একটা যৌবন নষ্ট হয়ে গেছে বলে
নিরন্তর চিৎকারে জেগে থাকেন যৌবনোত্তর যে কবি
তিনি তো জরাগ্রস্ত নন,
জরায় আকণ্ঠ মজ্জিত আমরাই, যারা
যৌবন এসেছিলো কবে জানতে পারিনি বলে
পারিনি হতে কোন মাতঙ্গী প্লাবন।

নষ্ট এই পৃথিবীতে একটাই নষ্ট জীবন
প্রেম তো নষ্ট নয়- নষ্ট নয় কামনার টান
শুধু বীজমন্ত্র জানি না বলে
পারিনি জাগাতে এই জীবনের প্রাণ।

আজ আর বিভ্রান্ত নই-
কোথায় অমিত যৌবনা কবি আদিম কৃষক
ছায়া দাও মন্ত্র দাও ঢালো অমর্ত্য মৌতাত-
চিরকার নতজানু বুক দৃঢ় হোক ভিন্ন ঋজুতায়
নতুন চরের বুকে যৌবনের আদি ভ্রূণ
বুনে যাক তবে এই মন্ত্রপুত হাত।
(১৬/১০/২০০৩)

# অদৃশ্য বাতিঘর-০৫ (কবিতাগুচ্ছ)










অদৃশ্য বাতিঘর-০৫ (কবিতাগুচ্ছ)
- রণদীপম বসু



এটা বধ্যভূমি নয়

আমাদের সব কথা মিশে যায়
বিশ্বস্ত এই মাটিতেই শেষে, মিশে না অন্ধকার-
কেমোন আলগা হয়ে জুড়ে থাকে
প্রতিটা আলোর গায়ে দেখো,
কারণ ওগুলো শোকের ছায়া।

আমাদের সব দুঃখ ডুবে যায় বুকের গভীরে কোথাও
ডোবে না কষ্টের পাথর কিছু-
নির্ণিমেষ অভিমান পারে না ভাঙতে কোনো জড়ল বিষাদ
কারণ ওখানেই ছুঁয়ে থাকে আমাদের অন্তরীণ আহত নিঃশ্বাস।

হয়তো বা আমাদের সব স্মৃতি ধুয়ে যাবে একদিন
আরো কতো স্মৃতিময় বিস্মৃতির প্রাত্যহিক জলে
শুধু জাগবে গভীর ক্ষত
চর হয়ে জেগে ওঠা স্রোতস্বী পথের বুকে অমল ধারায়
কারণ জীবনের শেষ চুম্বনে মিশে ওইখানে
আমাদের প্রিয়তম মানুষেরা কিছু
এই মাটিকেই আঁকড়ে বুকে
রয়েছিলো পড়ে এক অদ্ভুত নিমগ্নতায়...

তাই ভুল করে কেউ যেনো একে
বধ্যভূমি বলো না আর ;
মায়ের কোলে কোনো বধ্যভূমি থাকে না-
ওটাই হৃদপিণ্ড আমাদের... ।
(১৪/০৯/১৯৯৬)
[sachalayatan]


কালান্তক শবদেহ

এই শবদেহ নিয়ে কোথায় যাবে তুমি ? পোড়াবে ?
আজন্ম বিষের জ্বালা অন্তর্লীন দ্রোহ হয়ে
যে নাকি নিজেই এক হয়ে গেছে প্রজ্জ্বলিত শিখা
আগুনের সাধ্য কি পোড়ায় তাকে !
কেবল বিষের বিষে ছেয়ে যাবে তোমাদের নিঃশ্বাসী আকাশ
লুটানো পাখিদের গাছেদের পত্রহীন অভিশাপে
পুড়ে যাবে সব যতো স্বপ্নের বসত।
এই দেহ ছুঁয়ে যাবে এতো বেশী দীর্ঘ নয় আগুনের হাত।

এই শবদেহ নিয়ে কোথায় যাবে তুমি ? কবর দেবে ?
মাটিকেই জিজ্ঞেস করো-
অন্তহীন প্রত্যাশার বিপন্ন অক্ষর বুকে প্রতীক্ষায়
যে নাকি তিলে তিলে হয়ে গেছে প্রত্নময় অনঙ্গ শরীর
মৃত্তিকা কি করে গলাবে তাকে ?
মাটিও নেতিয়ে যাবে দীর্ঘতম প্রতীক্ষার তাপে।

কুলপ্লাবী স্রোতে জলে
নদীও পারে না নিতে একপেশে বিষাদের ভার ;
যে সুখ আসেনি ফিরে যে প্রেম থাকেনি ছুঁয়ে
আর কোনো বুক জুড়ে যে কষ্ট কখনো বাজেনি সুরে
সেই শোক শিলাদেহে নিরন্তর গেঁথে আছে দুর্বহ ভারে।
এই শবদেহ নিয়ে কোথায় যাবে তুমি ?
কতোকাল বইবে এই দুর্বহ পাথর ?
তার চেয়ে খুঁজে দেখো সে-ই কোনো প্রিয়তম মানুষেরই বুক-
নিমেষেই মিশে যাবে তাতে
যেভাবে মিশে থাকে রক্তের ভেতরে জাগা রক্তাক্ত শপথ !
(R_d_B)
[mukto-mona]
[sa7rong]


দর্পিত আঙুল তাঁর

একটাই দর্পিত আঙুল তাঁর
উদ্যত স্বাধীন...
সাত কোটি স্বপ্নের জমাট প্রতীক্ষা মেখে
উঠে গ্যাছে এতো যে উঁচুতে তা
গেঁথে গ্যাছে উত্তাল আকাশের বুকে বিশাল... !
একটাই আঙুল তাঁর
তবু সে আঙুল নয়
বজ্র-নির্ঘোষে আঁকা উদ্যত সঙ্গীন এক-
পৃথিবীর সমস্ত মারণাস্ত্র নীচে এসে তার
হয়ে যায় নতজানু খুব
আর সময় চৌচির হয় সন্ত্রস্ত ব্যথায়।

বিচ্ছুরিত আলোকেরা
নিমেষে পেরিয়ে যায় নগর বন্দর সব
সোনার ফসল ছুঁয়ে ছুটে যায় গভীরে আরো
মিটমিটে চাহনীর গভীর গভীরে খুব
জ্বলে ওঠে দাবানল
সহস্র বর্তিকা হয়ে বয়ে যায়
দাবিয়ে দাবিয়ে যায় অনিবার্য আগামীর দিকে।

একটাই আঙুল তার অনন্তে আসীন
যেখানে আকাশ-পায়রারা এসে বুকের পালক খুলে
মুছে দ্যায় নিরন্তর স্বপ্ন-শিশির।


শুয়ে আছেন তিনি

এই বুকের কফিনে শুয়ে আছেন তিনি
আশ্চর্য প্রশান্তি তাঁর
ছুঁয়ে আছে শরীরে বিশাল।

এতো যে অমল স্রোত বয়ে গেছে
বুকের মৌচাক থেকে
বাংলার প্রতিটি স্রোতস্বিনীর কোলে
জলল সূর্যের মতোন উজ্জ্বল হাসি তাঁর
পরম বাৎসল্যে স্নাত হয় অবিরল
উদ্বেল মৃত্তিকায়।
শুয়ে আছেন তিনি অপরূপ কফিনে এক
দরাজ বুকের কোণে নিভৃতে রেখেছিলেন তুলে
সেই স্বপ্নের পালকে মুড়ে উদাত্ত আকাশ-
এখন তা নুয়ে আছে উন্মুক্ত শিয়রে তাঁর,
বৃক্ষেরা স্নিগ্ধ শিশির জলে ধুয়ে দেয় তাঁকে
ধুয়ে দেয় সযত্নে শ্যামল
এতোকার পরিচিত নগ্ন নিথর পা ;
আর কালের সফেদ ছোঁয়ায়
নক্ষত্রেরা মুছে নেয় নিজস্ব কলঙ্ক সব

পতাকার রঙ মেখে শুয়ে আছেন তিনি
বাঙালীর হৃদয়-অতলে অনন্য বিধুর শয্যায়।
(১৯/০৮/১৯৯৬)
[somewherein]
[sachalayatan]



ওরা মানুষ ছিলো না

তাঁকে হত্যা করার আগে
একটুও কেঁপে উঠেনি ওদের হৃদয়
কেনো না ওরা তো মানুষ নয়
মানুষ ছিলো না কোনোদিন।
তাঁর ভালোবাসায় উপচে পড়া বুকে
বুলেটের নির্দয় নগ্নতাকে তাক করার আগে
দ্বিধান্বিত হয়নি একবারও তাদের হিংস্র নখর
কারণ, ওরা মানুষ ছিলো না কখনোই
মানুষের কোনো নখর থাকে না,
মানুষের গর্বিত আঙুলে জড়ানো থাকে মোহন স্নিগ্ধতা।

ঘাতকেরা মানুষ হয় না কখনো
ঘাতকের কোনো জাতিসত্তা নেই।
(১৫/০৮/১৯৯৬)

[sachalayatan]
[pechali]
[somewherein]
[amarblog]
[mukto-mona]
[khabor.com]
[sa7rong]

Friday, June 20, 2008

# যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(২৩)







যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(২৩)

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)


রূপা জানো, ইদানিং কী যেন হয়ে গেছে আমার। তোমাকে কিছুই না বললেই যেন নয়। যা এমনিতে বলতে পারি না, তা হয়তো ঐ যুবককে দিয়ে বলাই। প্রতিদিনের ঘাত-প্রতিঘাত, হাসি-আনন্দ, দুঃখ-বেদনা, মানুষের প্রতিশ্রুতি ভাঙা, আস্থাহীনতা ইত্যাদি সব অনুভূতি যখন আর মনে হয় বইতে পারি না একা, তোমার অনিমেষ ভালোবাসায় সব কিছু সঁপে দিয়ে আমি সান্ত্বনা খুঁজি। তোমাকে পাশে নিয়ে আমি আমার সব উজাড় করে গলে পড়তে চাই তোমাতে রূপা। তুমি কাছে নাই। আমার এ অক্ষম কলমে ভাষাকে আর কতদূর নিতে পারি বলো। হয়তো কিছুই বোঝাতে পারি না। আমার সারাক্ষণের সাথি তুমি, অথচ কত কত দূরে আছো ! তবু সান্ত্বনা, তুমি আমার, কেবলই আমার।

সেদিন এক বিয়েতে গেলাম। আমারই এক সহকর্মীর বিয়ে। অনুষ্ঠানের আড়ম্বরতায় রাজসিক পোশাকে যখন আমার দিকে সবিনয়ে এগিয়ে এলেন হাত মেলালেন নিবিড়, আন্তরিকতায় এতটুকু খাদ না থাকলেও ঐ অবস্থায় ঐ পরিবেশে তাকে কেন জানি আমার আয়ত্তের বাইরের অনেক অনেক দূরের অন্য কোন গ্রহের মানুষ বলে মনে হচ্ছিলো ! অথবা আমিই ভিনগ্রহের কোন প্রাণী হয়ে গেলাম হয়তো। কিছুতেই মিলাতে পারছিলাম না যে তিনিই আমার নিত্যদিনের সেই সহকর্মী। সেদিনের ঐ অনুভূতিই তোমার ভালোবাসায় জারিত করে কত কিছুই না বলে ফেললাম তোমাকে। তুমি কি এতে রাগ করো রূপা ?

আজ আমার আরেক সহকর্মী হঠাৎ ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো। জানলাম বেশ কিছুদিন আগে থেকেই তিনি অসুস্থতার উপসর্গগুলো গোপন করে এসেছেন আমার কাছে। কর্তব্য না কি পরিবারের দায়বদ্ধতার তাগিদে অনুচিৎ এই পরিশ্রম, কে জানে ! মা বাবা স্ত্রী পুত্র গ্রামে ফেলে এই মেসের জীবনে এমন একটা অসুস্থতা ডেকে আনায় তাঁকে তিরস্কারও করলাম বটে। তার লেবেলের অন্যান্য সহকর্মীরা যাদের সাথে সার্বক্ষণিক জীবন যাপন, এরা তার দিকে খুব একটা দিকপাত না করে নির্বিকার তাদের প্রাত্যহিক খাওয়া দাওয়া গল্প গুজব চালিয়ে যাচ্ছে, এ বিষয়টা লক্ষ্য করে নিজের ভেতরে মানুষ সম্পর্কিত ধারণাগুলো খুব চোট খেয়ে ওঠলো। যেনবা নিজেই আঘাত পেলাম ! হতে পারে এ নতুন জীবনে এখনো অভ্যস্ত হয়ে উঠিনি বলেই এতোটা সংবেদনশীল হয়ে ওঠেছি আমি। অফিস প্রধান হিসেবে আমার সাথে না হয় একটা দূরত্ব থাকা স্বাভাবিক। এখানে কর্তব্য আস্তরিকতার মোড়কে উপস্থাপিত হওয়াটাই হয়তো স্বাভাবিক হয়ে এসেছে। কিন্তু তার সহকর্মী বন্ধুদের থেকে সে কি পেলো ? জানি না রূপা, অর্থ ও স্বার্থ মানুষকে কী বানিয়ে তোলে।

রূপা, তোমার ভালোবাসাই আমাকে জাগিয়ে রাখে। আমি এরকম অবস্থায় ঠিক থাকতে পারি না। এ ক্ষেত্রে আমার কর্তব্যের বাইরে না গেলেও চলে। কিন্তু আমি তো কর্তব্যকে ফাঁকা আন্তরিকতার মোড়কে বাঁধতে পারি না ! আন্তরিকতাই বরং কর্তব্যের মোড়কে বাঁধতে হয় আমাকে। তাঁর ঐ কষ্ট দেখে কেন জানি মনে হলো তুমিই কষ্ট পাচ্ছো। আমি এগিয়ে যাই। তাঁর সহকর্মীরা লজ্জা পেলো কি না জানি না। অবশ্য লজ্জাবোধের মাত্রা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হয়। আমি চেয়েছিলাম তারা লজ্জিত হোক। যদিও রূপা, আন্তরিকতার সাথে কোন বিনিময় থাকতে নেই। তাইলে ওটা আন্তরিকতা থাকে না, হয় লোক দেখানো চমক। বিশ্বাস করো, আমার আন্তরিকতায় কোন ঘাটতি ছিলো না। কিন্তু এও ঠিক, আমি বাকিদের লজ্জাও দিতে চেয়েছিলাম। এ কীভাবে সম্ভব আমি জানি না। তবে সবচেয়ে বড় যেটা তা হলো আমার নিজস্ব লজ্জা ! লোকটাকে এই নগন্য সেবা করে আমি আত্মতৃপ্ত হলাম। তবে কি আমি তার অসুস্থতায় অবচেতনে খুশি হয়েছিলাম ! যাতে লোক দেখানো ঠমক দিয়ে আমি আত্মতৃপ্ত হবো ? ছি ছি, কী লজ্জা রূপা, কী লজ্জা ! মনটা এখনো ছোটই রয়ে গেলো আমার !

একটু কষ্টও হলো, লোকটার অচেনা এক অভিব্যক্তির মানবিক অনুভূতি কল্পনা করে। যেখান থেকে একটু সহমর্মিতা পাওয়ার কথা, সেখান থেকে তা পেলো না সে !

রূপা. আমি কি পারবো কখনো, তোমার কষ্টের সময়টুকুতে কাছে গিয়ে দাঁড়াতে ? যখন তুমি আমাকে একান্ত কাছে পেতে চাইবে !


চলবে.....


আগের পর্ব (২২):
পরের পর্ব (২৪):

R_d_B

Visitor map


Visitor Map
Create your own visitor map!

# ভাঙা আয়নায় আপন মুখগুলো- (০২)





ভাঙা আয়নায় আপন মুখগুলো- (০২)

মহাবিজ্ঞানী অ্যালবার্ট আয়েনস্টাইন, আপেক্ষিকতার সচল চোখে।

বিজ্ঞানী আইজ্যাক নিউটন, মাধ্যাকর্ষণে টেনে রেখেছেন সব।

বিবর্তনবাদের জনক চার্লস ডারউইন, আমাদের গন্তব্য কোথায় ?

ভ্লাদিমির ইলিচ লেনিন, সমাজতন্ত্র ফুরিয়ে যায়নি এখনো।

চে গুয়েভারা, বিপ্লবী, 'তোমার মৃত‌্যু আমাকে অপরাধী করে দেয়।'

বিল গেটস্ (মাইক্রোসফট), প্রযুক্তি ছুঁয়ে দিলো মানুষের মন।

Thursday, June 19, 2008

# যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(২২)








যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(২২)

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)


‘বিচিত্র দুনিয়া, বিচিত্র দুনিয়ার মানুষ, আরো বিচিত্র মানুষের মন।’

রূপা, মেয়েটি, যুবকের প্রিয়তমা ঐ নারী, যেদিন তার সমস্ত দুঃখের জন্য দায়ী করে যুবকটিকে ক্ষুব্ধ অনুযোগ করলো, সেদিন যুবকটির কী হতে গিয়ে কী জানি কী হয়ে গেলো। ঐ নারী তার কতটুকু অধিকারে আছে এমন দোলাচলে বিনিদ্র রাত আর দিন একাকার হয়ে যুবক যখন দিশেহারা, নারীর আর্ত অনুযোগ কী বয়ে আনলো অন্ধ যুবক তা কি বুঝলো ? এক নারী একটি যুবকের অক্ষম কষ্ট ধারণ করে নীরবে বয়ে চলে- কোন নিঃসঙ্গ যুবকের কাছে এর চেয়ে বড় পাওয়া দুনিয়াতে আর কী আছে ? জানা নেই। অথচ ঐ যুবকের আনন্দে মরে যাবার বদলে তারও পাল্টা অনুযোগই বেরিয়ে এলো ! তবে কি হারানোর সব ভয় সরে যাওয়ায় যা ইচ্ছে করার অধিকার পেয়ে গেলো সে ! আমি জানি না রূপা। তুমি কি জানো কেন এমন হয় ? এ-ই কি প্রেমিক মনের অধিকার সচেতনতা !

অধিকার যেখানে প্রশ্নমুক্ত, সেখানেই কি মানুষ আনন্দ এবং কষ্টের মধ্যে কোন ভিন্নতা না এনে এমোন নির্দ্বিধায় প্রিয়জনকে কষ্ট দিয়ে যায় ? এ জন্যেই কি মেয়েটির নির্দ্বিধ ক্ষুব্ধ অনুযোগের বিপরীতে যুবকটিও দ্বিধাহীন তার ক্ষুব্ধতা ঢেলে দিলো ?

রূপা, এখনো কি আমার সে-ই অধিকার জন্মায়নি, যাতে সমস্ত আনন্দ ও বেদনার মধ্যে কোন বিভেদ না এনেই তা নির্দ্বিধায় তোমাকে দিয়ে যেতে পারি ? এবং অনায়াসে তোমারটুকুও আমি পেতে পারি নিরন্তর !

‘তুমি যখন বলো পাগল হয়ে যাবে, তার আগে আমিই পাগল হয়ে যাই। দোহাই তোমার, এই বুকের মধ্যেই যেমন খুশি পাগল হয়ো তুমি, আর আমাকেও হতে দিয়ো বদ্ধ পাগল ; ঠিক তোমার ওখানটাতেই !’


চলবে.....


আগের পর্ব (২১):
পরের পর্ব (২৩):
R_d_B

Wednesday, June 18, 2008

# শব্দের খোঁয়াড়- ০৪ ..(অণুকবিতাগুচ্ছ)






শব্দের খোঁয়াড়- ০৪ ..(অণুকবিতাগুচ্ছ)

-রণদীপম বসু


(৩১)
চাঁদের সখ্যতা রাতের সাথে ;
চাঁদটা গলে যাবে জেনেও
রাত তবু দিনের কাতর।

(৩২)
যা দেখছি তা-ই কি সত্যি ? না-দেখাটা সত্যি নয় ?
ছোঁয়ার দূরত্বে এসে দাঁড়িয়েছে যে
সে কি সত্যিই কাছে এলো, না কি
হারালো অজানায় ?

(৩৩)
তরলের সুবিধা পাত্রের আকার ধরা নয়,
বেরুনোর স্বাচ্ছন্দ্য। প্রেম কি তাই নয় ?
পরিচয় জানা হয় কি আদৌ ?

(৩৪)
সূর্যের দৌড়াত্ম্য ঢাকে বিভ্রান্ত মেঘ
প্রেমের দৌড়াত্ম্য ঢাকে তুমুল ঘৃণা
চোখের দৌড়াত্ম্য ঢাকে নিকষ আঁধার।
সময়ের দৌড়াত্ম্য ঢাকে কে ?

(৩৫)
সঙ্গমের দৃশ্যপটে দর্শকই মডেল-রোল,
জীবনের দৃশ্যে কোথাও দর্শক নেই।
নীহারিকায় চোখ রেখে মানুষই পারে নক্ষত্র হতে।

(৩৬)
অনন্ত বিশ্বে যেখানেই যাক্, মানুষ হারায় না কখনো ;
তখনি হারিয়ে যায়-
নিজের গভীরে ডুব দেয় যখন।

(৩৭)
পৃথিবীর পাঠশালায় সবাই শিক্ষক ;
একমাত্র ছাত্রটির নাম নির্বোধ পৃথিবী।

(৩৮)
এক গালে চড় খেয়ে
অন্য গাল পেতে দেয়াই অহিংস হয় যদি,
এক গালে চুমু নিয়ে অন্য গাল পেতে দেয়ার নাম ?
হিংসা ?

(৩৯)
পাছা দিয়ে নিয়ে সে মুখ দিয়ে ঢেলে
সৃজনের পৃষ্ঠায় আঁকে অমোচ্য অক্ষর।
স্বভাবে উল্টো বলেই কি মানুষ
কলমটা ভালোবাসে খুব ?

(৪০)
দগ্ধ চোখের রক্ষাকবচ নোনতা জলে ভেসে গেলো,
পুড়তে জলের ঘুণ-আগুনে চোখ দুটো তো রয়েই গেলো।
(১৮/০৬/২০০৮)

# কাঁচকি ছড়া - ০১











কাঁচকি ছড়া - ০১
-রণদীপম বসু

বাঁশ
আঁইক্কাটা ছেঁটে ফেলে
মেখে গাওয়া ঘি
বাঁশ খেয়ে হাঁদারাম
করে হা হা হি।

চোখ
এক চোখ ডানে আর
এক চোখ বাঁয়ে
কী দোষ চোখের, গেলে
মেয়েদের গায়ে !

কেউ কি দেখেছে কোনো
শহরে বা গাঁয়ে
খসে গেছে কোন কিছু
দৃষ্টির ঘা'য়ে ?
(১৭/০৬/২০০৮)
R_d_B

ভাত

চাইলে মাথা কানটা টানো
দেহ চাইলে টানো হাত,
চাও যদি খুব খেতে আলু
চাও তবে ঠিক মোটা ভাত।

বুঝ

কা.. বলতেই কাবাব বুঝেন
কাচ্চি যে নয় সাদা ভাত ;
কাজের কথা বললে, তিনি
কানের ব্যথায় কুপোকাৎ !

নামের মোহ নাই নাকি, তাও
নামটা ছড়ায় দিগবিদিক ;
মা.. বললে মান বুঝেন না
মাইয়া মাগী বুঝেন ঠিক !
(১৭/০৬/২০০৮)

Tuesday, June 17, 2008

# জলের অক্ষরে- ০৫ (কবিতাগুচ্ছ)






জলের অক্ষরে- ০৫ (কবিতাগুচ্ছ)
রণদীপম বসু


ভাঙতে ভাঙতে

বিমূর্ত শব্দগুচ্ছের পালক খুঁজতে বেরিয়েছে
গুটিকয় স্বজনের চোখ।
সমস্যা হলো শঙ্খের সাদার মতো
পৃথিবীর ধূল-জমায় লেপ্টে থাকা বুক
সমুদ্রকে ধুইয়ে দিতে বললেই
দু’কদম পিছিয়ে গিয়ে সমুদ্র বলে কিনা
কবি আর কথক থেকে বিচ্ছিন্ন সে আগেই,
শুধু শুধু বিব্রত কেন ?
দু’হাতে পাথর ভাঙতে ভাঙতে শেষে
সমুদ্রেই ডুব দিলো ওরা।

বাকি যারা জন্মান্ধ ছিলো
পৃথিবীর দায় দেনা মওকুফ হওয়ায়
পাহাড়ের নতজানু ইচ্ছাকেও দেখলো না কেউ,
বৃক্ষ আর মানুষের অভিন্ন বিভেদ তলের
ভয়ানক শূন্যতায় পৌঁছেই
অনন্তের টিকলি পরিয়ে ফিরে এলো ওরাও।

বাতাসের ইচ্ছেকে অবজ্ঞা করে করে
আলোর পাখিরা আজো পথ হারায়
পলক ও পালকহীন।
(২৯/০৫/২০০৮)
(R_d_B)


সুখের কাব্য

অনুল্লেখ্য নুনের কোন শ্বেতপত্র হয় না,
অনিবার্য উপস্থিতি না হলেই বরং উল্লেখযোগ্য হয়ে ওঠে তা।
এর দৃশ্যমানতা কোথায় ! মাছ মাংস সব্জি
নিদেন মসলার আড়ালে চোখ কি জিহ্বার সম্পূরক হয় ?

নুনের মতো দুঃখ নিয়েও কাব্য করার কিছু নেই।
তার চে’ সুখই ভালো ; একটা স্বপ্ন স্বপ্ন ভাব,
হলুদ ক্যানভাসে ফুটিয়ে তোলা মাদকীয় শব্দসম্ভার।

গোপন অতলে খোঁজা কষ্ট আর সমৃদ্ধির চেয়ে
গোটা সমুদ্রটাই একটানে এঁকে নেয়া সহজ নয় কি ?
দীর্ঘশ্বাস চাপা থাক মেঘেদের কাছে। জল খুঁড়ে খুঁড়ে
জলের ব্যাঘাত নাই বা হলো।

দুঃখ নিয়ে কাব্য করার কিছু নেই,
এবারের মতো কবিতা না হয় কাঁদলোই না আর।
(১৭/০৬/২০০৮)
(R_d_B)


ভুলতে ভুলতে

শেকড়সুদ্ধই উপড়ে ফেলেছিলাম,
কোত্থেকে এসেছো আবার !
তবে কি ছিন্নমস্তা শেকড়ের গান
নৈঃশব্দেই বেজে যায় আজীবন ?
মাটির জরায়ু জুড়ে বিষাদ শূন্যতা, অবয়বহীন
তবু হৃদয়ের ঘুমজলে ঘিরে থাকা পিপাসার মুখ
অবিকল তোমার আকার !

ভুলতে ভুলতে ভুলেই তো আছি ;
ভুলতে যে চেয়েছি খুব,
হয়তো সে চাওয়াটাই ভুলিনি শুধু।
তা বলে তোমার কি মৃত্যুও নেই !
(২০/০৭/২০০৮)
[sachalayatan]


দৃশ্যকম্পন

আকস্মিক কম্পনে দুলে ওঠলেই
ভূমিকম্প ভূমিকম্প বলে চিৎকার জুড়ে দেয় সব।
আমি তো বিযুক্ত নই মাটিবর্তী এইসব জলাশয় থেকে !
স্থিত বুকে দুলি, আর দুলতেই থাকি...

তুমি আর স্রোতবতী শরীর তোমার
পাশ দিয়ে অকস্মাৎ হেঁটে যায় যখন
নীরব পৃথিবী জুড়ে
অজস্র ভাঙনের এতো যে পতন স্বর
অথচ কী সুনসান সব !
থরথর থরথর শুধু কি আমিই কাঁপি ?

অহল্যা-প্রকৃতি বুঝি শেষমেশ
হেরে যায় তোমার কাছেই !
অশান্ত জলাশয় বুক, তার চে’
তুমিহীন পৃথিবীটাই ভালো নয় কি ফের ?
(২৮/০৭/২০০৮)


প্রথম চুম্বনের দাগ

প্রথম চুম্বনের দাগ মুছে না

শ্যাম্পু সাবান সোডা ঘষে ঘষে
চামড়ার পলেস্তা খসে ঠোঁট দু’টো হয়ে গেছে
ভেঙ্গুরের খাদ
অদৃশ্য উল্কির বিভা, মাংশের গভীরে আঁকে
লাল লাল টক টক মাংশের ক্ষত
কিছুতেই যায় না মোছা প্রথম চুম্বনের দাগ

মানুষের ঠোঁটে রাখা প্রথম বিষাদ
জলের স্পন্দন পেলে
নিমেষে ফোটায় ঠোঁটে রক্ত-রাঙা ফুল

কেউ কি মুছতে পারে প্রথম চুম্বনের দাগ
আমার প্রথম দাগ তোমার ঠোঁটে
হয়ে গেছে দ্বিতীয় তৃতীয় কিংবা
চতুর্থ পঞ্চম
আর
প্রথমটা রেখেছো তুমি অন্যের দখল !
(২৫/০৮/২০০৮)
[khabor.com]
[amarblog]
[somewherein]
[pechali]
[sa7rong]

# আর্টস এণ্ড ইমেজ... (সূচিপাঠ)


আর্টস এণ্ড ইমেজ... (সূচিপাঠ)
-রণদীপম বসু

------------------------------------------------------------
# পোর্ট্রেট
---------------------------
০০) অন্তর্গত স্মৃতির পাতায়...
০১) ভাঙা আয়নায় আপন মুখগুলো..... (০১)
০২) ভাঙা আয়নায় আপন মুখগুলো..... (০২)
০৩) ভাঙা আয়নায় আপন মুখগুলো..... (০৩)
০৪) ভাঙা আয়নায় আপন মুখগুলো..... (০৪)
০৫) ভাঙা আয়নায় আপন মুখগুলো..... (০৫)


------------------------------------------------------------
# স্থাপত্য
---------------------------
০১) আর্টিট্যাকচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০১)
০২) আর্টিট্যাকচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০২)
০৩) আর্টিট্যাকচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৩)
০৪) আর্টিট্যাকচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৪)
০৫) আর্টিট্যাকচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৫)


------------------------------------------------------------
# প্রেম ও প্রকৃতি
---------------------------
০১) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০১)
০২) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০২)
০৩) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৩)
০৪) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৪)
০৫) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৫)
০৬) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৬)
০৭) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৭)
০৮) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৮)
০৯) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৯)
১০) ন্যাচারাল আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (১০)


------------------------------------------------------------
# ন্যুড আর্টস
---------------------------
০১) ন্যুড আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০১)
০২) ন্যুড আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০২)
০৩) ন্যুড আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৩)
০৪) ন্যুড আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৪)
০৫) ন্যুড আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৫)

------------------------------------------------------------
# ফ্যাণ্টাসি আর্টস
---------------------------
০১) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০১)
০২) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০২)
০৩) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৩)
০৪) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৪)
০৫) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৫)
০৬) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৬)
০৭) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৭)
০৮) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৮)
০৯) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৯)
১০) ফ্যাণ্টাসি আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (১০)

-----------------------------------------------------------
# ইউনিক আর্টস
---------------------------
০১) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০১)
০২) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০২)
০৩) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৩)
০৪) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৪)
০৫) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৫)
০৬) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৬)
০৭) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৭)
০৮) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৮)
০৯) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (০৯)
১০) ইউনিক আর্টস এণ্ড ইমেজ..... (১০)

----------------------------------------------------------
.

# শব্দের খোঁয়াড় (অণুকবিতাগুচ্ছ)...০৩








শব্দের খোঁয়াড় (অণুকবিতাগুচ্ছ)...০৩

-রণদীপম বসু

(২১)
মানুষ গালি দেয় মানুষকেই,
আমাকে আমি ;
ভাষার শ্রেষ্ঠত্ব খুঁজে পশুরা ভাষাহীন।

(২২)
মানুষের নিকৃষ্ট ট্রেজেডি তার চাপানো পোশাক ;
শিশুরা ভাগ্যবান, যা দীর্ঘস্থায়ী নয়।

(২৩)
মানুষকে পশু বলায় বন্ধুরা ক্ষুব্ধ হন বলে
পশুকেই মানুষ বলে ডেকে আশ্বস্ত হই ;
ভাগ্যিস পশুদের নিজস্ব নাম নেই।

(২৪)
বৈরী আবহে ডুবেও যে যতো সুবোধ সুশীল
তারা কি নির্বোধ, না ধাড়ি শয়তান ?
বাদামের খোসাটাই ভেজালবিহীন।

(২৫)
মানুষের উচ্চতা নিজ হাতে সাড়ে তিন
দৃষ্টির অনুপাতে স্থিত হয় ঘিলুর আকার,
লিঙ্গের উল্টানুপাতে বাড়ে কমে ভাবনার ব্যাসার্ধ
আর গণিতের উৎপাতে অপদস্ত আবেগের ঘর।

(২৬)
সুখগুলো জ্যোৎস্নায় শিশিরে পালকে জলে
বুনো সবুজে,
দুঃখগুলো কিলবিল মগজের কোষে।

(২৭)
নাই বললেই হয়ে যায় সব,
হাতড়ে হাতড়ে দেখি খাঁ খাঁ রব।

(২৮)
চায়ের কাপটা যদি হয়ে যেতো ‘সে’,
বেঁচে যেতো জীবনের অনিবার্য চায়ের খরচ।

(২৯)
মানষের হাত সর্বত্রগামী ; শুধু
পারে না করে নিতে প্যাণ্টের পকেট বদল।

(৩০)
একটা ছেড়ে অন্যটাতে, করি যতো রাস্তা বদল,
রাস্তা কি বদলায় ?
আমরাই বদলে যাই কেবল।
(১৬/০৬/২০০৮)

Monday, June 16, 2008

# প্রবন্ধ ও আলোচনা... (সূচিপাঠ)



প্রবন্ধ ও আলোচনা... (সূচিপাঠ)
-রণদীপম বসু

-------------------------------------------------------------
# ধর্ম, বিজ্ঞান, দর্শন ও যুক্তিবাদ [Religion, Science, Philosophy, Rationalism]
------------------------------
০১) সর্বগ্রাসী অপ-‘বাদ’ বনাম একজন আরজ আলী মাতুব্বর এবং... (০১)
০২) হিজড়া, প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের এক দুর্ভাগা শিকার !
০৩) শত বর্ষে নারী দিবস এবং মানবেতিহাসের এক বহমান লজ্জার গাথা...
০৪) অস্পৃশ্য ও ব্রাহ্মণ্যবাদ এবং একজন বাবাসাহেব...
০৫) এক জীবনে বাবাসাহেব ড. ভীমরাও আম্বেদকর এবং... 

------------------------------------------------------------
চার্বাকের খোঁজে...
------------------------------
০১) মনু'র বৈদিক চোখ : নারীরা মানুষ নয় আদৌ... [পর্ব-০১][পর্ব-০২][পর্ব-০৩]
০২) ভারতীয় ও অন্যান্য দর্শনপাঠ : ক্রমান্বয়াধীন গ্রন্থসূচি...
০৩) নিরীশ্বরবাদী দর্শন : অধ্যায়সূচি : বৌদ্ধদর্শন...
০৪) অনেকান্তবাদী দর্শন : অধ্যায়সূচি : জৈনদর্শন...
০৫) চার্বাকের খোঁজে...: পাঠসূচি...
০৬) ভারতীয় ষড়দর্শন-০১ : অধ্যায়সূচি : ন্যায়দর্শন...
০৭) ভারতীয় ষড়দর্শন-০২ : অধ্যায়সূচি : বৈশেষিক দর্শন...
০৮) ভারতীয় ষড়দর্শন-০৩ : অধ্যায়সূচি : সাংখ্যদর্শন...
০৯) ভারতীয় ষড়দর্শন-০৪ : অধ্যায়সূচি : যোগদর্শন...
১০) ভারতীয় ষড়দর্শন-০৫ : অধ্যায়সূচি : মীমাংসা-দর্শন...
১১) ভারতীয় ষড়দর্শন-০৬ : অধ্যায়সূচি : বেদান্ত-দর্শন...


------------------------------------------------------------
# সাহিত্য [Literature Bengali]-----------------------------
০১) কবিতার ভাষান্তর, আদৌ কি অনুবাদ সম্ভব ?
০২) উল্টোস্রোতের কূলঠিকানা, প্রসঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন... (০১)
০৩) সমুদ্রের যে সমুদ্র গুপ্তই থেকে গেলো
০৪) …সাহিত্যের দিনমজুর !
০৫) এক টুকরো আয়না...!
০৬) খনা, জনভাষ্যে মিশে থাকা আমাদের লোক-ভাষ্যকার... 
০৭) চাণক্য-পণ্ডিতের কৌটিল্য-তত্ত্ব, ইতিহাসের টেরাকোটায়
০৮) সৃষ্টিতে যাপনে কথাশিল্পী মাহবুব-উল আলম


------------------------------------------------------------
# ছড়া ও কিশোর-কবিতা [Rhymes, Juvenile Poems]
-----------------------------
০১) কান্না পেলে কাঁদতে হয়, কিন্তু কীভাবে কাঁদবো..
০২) চারুপাঠের মগ্নকিশোর ও আমাদের কিশোর কবিতা..
০৩) ছড়া-কবিতায় ছন্দের শাসন ও দুঃশাসন..
০৪) আমাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ভানুমতির খেল..
০৫) উল্টোস্রোতের কূলঠিকানা, প্রসঙ্গ লিটল ম্যাগাজিন... (০২)
০৬) সাহিত্যে ছড়ার অবদান কতটুকু, সংশয় কোথায় ?
০৭) প্রসঙ্গ: ছড়া কিংবা ছড়া নিয়ে গাঁঠছড়া...(০১)
০৮) কবি-কবিতা-ছড়া-শিল্প-বিভ্রম...
০৯) চিত্রকল্পে কিশোর-কবিতার স্বরূপ অন্বেষণ...
১০) ছড়া'র গাঁঠছড়াটা খুলবে কে ?
১১) কবি ও শিশুসাহিত্য এবং আমাদের দায়বদ্ধতা...
১২) ছড়ার গাঁঠছড়াটা খুলবে কী করে...
১৩) প্রসঙ্গ : সমকালীন ছড়া !

-----------------------------------------------------------
# প্রতিক্রিয়া [Criticism]
----------------------------
০১) জাতীয় কবিতা পরিষদ, কবি ও অকবি’র পার্থক্য নির্ণায়ক কারা..
০২) ‘ছড়া পত্রিকা’ ত্রয়োদশ সংখ্যা- ‘উল্টা বুঝলি রাম’ !
০৩) ছোট কাগজ ‘অন্ত্যমিল’, একটি আলোচনা একটি পর্যালোচনা..
০৪) বাড়িভাড়া আইন, কাজীর কিতাব এবং তোঘলকি বাস্তবতা..!
০৫) সবার মাথাই কি আউলায়, যেমন গুগল.. ?
০৬) একটি বিপজ্জনক গবেষণা এবং মনোসমীক্ষণিক বাস্তবতা...
০৭) ষোড়শ সংখ্যা 'প্রতীকী', কিছু কথা কিছু আকথা... 
০৮) ইয়োগা, সুস্থতায় যোগচর্চা: একটু সুলুক-সন্ধান...
০৯) শ্রদ্ধেয় রাহাত খান, এভাবেও মিথ্যাচার করা যায় !
১০) জাতীয় নারী উন্নয়ন নীতি, কাঁঠালের আমসত্ত্ব !
১১) লেখক-সম্ভ্রম বনাম লেখক-সম্মানী 
১২) জগতে কতোকিছু শেখার আছে !

-----------------------------------------------------------
# সমতলে বক্ররেখা...
---------------------------
১) লেখা ও লেখক কিংবা পাঠকের দীর্ঘশ্বাস...
২) অভাব ও আমাদের অভাববোধ...
৩) বিনোদন-থেরাপি...
৪) মুখ ও মুখোশ এবং আমাদের মুখরতা...
৫) নাস্তিক্য বনাম আস্তিক্য, শুধুই কি সত্যাসত্য দ্বন্দ্ব ?...
৬) আমাদের সব আবেগই কি যুক্তিহীন !...
৭) বিজ্ঞানহীন প্রযুক্তিমনস্কতা, তবে কি কাঁঠালেও আমসত্ত্ব হয় !...
৮) বাক্যের অখণ্ডতা, শব্দার্থবোধ, প্রেম ও তার সমাজ চেতনা...
৯) আমার দর্শন চর্চা ও কিছু ঔচিত্যবোধ প্রসঙ্গে...

-----------------------------------------------------------
# নীতিকথা...
----------------------------
০১) চাণক্যজন কহেন...
০২) চাণক্য নীতি-সূত্র...
০৩) ভর্তৃহরি'র নীতিশতক...
-----------------------------------------------------------
# বইপত্র...
----------------------------
০১) গ্রন্থ : চার্বাকেতর ভারতীয় দর্শন-১ (জৈন ও বৌদ্ধ দর্শন)...
০২) গ্রন্থ : চার্বাকেতর ভারতীয় দর্শন-২ (ন্যায়, বৈশেষিক, সাংখ্য ও যোগ দর্শন)...
০৩) গ্রন্থ : চার্বাকেতর ভারতীয় দর্শন-৩ (পূর্ব-মীমাংসা)...
০৪) গ্রন্থ : চার্বাকেতর ভারতীয় দর্শন-৪ (বেদান্ত)...
০৫) গ্রন্থ : চার্বাকের খোঁজে ভারতীয় দর্শন (রোদেলা সংস্করণ)...

# বিনে পয়সার বিজ্ঞাপন...

-----------------------------------------------------------

# মুক্তগদ্য... (সূচিপাঠ)



মুক্তগদ্য... (সূচিপাঠ)
-রণদীপম বসু

-----------------------------------------------------------
# সমকালীন
-------------------
৪৬) ম্যালা কথা বইমেলায়...[০১][০২][০৩][০৪][০৫][...]
৪৮) আহা জীবন ভ্রাম্য জীবন...
৬৫) বাটা'র জুতো, পায়ে না বগলে শোভা পায় ভালো ?...
৬৬) 'একুশে পদক' চান ? এখনই আবেদন করুন !
৬৭) নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ, লুঠপাটের নতুন ধান্ধা নয় তো !
৬৮) হঠাৎ হুক্কা-হুয়া রব ছাড়িয়া নিজের পরিচয় প্রকাশ করিলো ! 
 ৬৯) 'দারিদ্র্য বিমোচনের বিরুদ্ধে' সংগ্রাম !!!
 ৭০) ইউনিকোডে বাংলা দেখা ও লেখা
৭১) সৃজনশীল গাধা কিংবা বিনোদনের বিনোদন
 ৭২) আমাদের 'ব্যা-করণ' শিক্ষা !
৭৩) ফুটোস্কোপ দর্শন...!
৭৪) বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ও আমাদের অভিশপ্ত শিশুরা 
৭৫) একজন ফকির হায়দার বাবা এবং কিছু প্রশ্নরেখা...
৭৬) বিজয় বনাম অভ্র বিতর্ক, ভাষা উন্মুক্তির লক্ষ্যটাই নির্ধারণ করে দিলো... 
৭৭) আমার একটা ফেসবুক ছিলো...
৭৮) জন্মদিনে প্রফেসর ইউনূস ও সোশ্যাল বিজনেস ডে 
৭৯) আগুন, কিভাবে নিজে বাঁচবেন এবং অন্যকে বাঁচাবেন
 ৮০) হলিউড-মুভিতে যে অভিনয় করলাম সেটা মনে করতে পারছি না কেন !
৮১) আলগা-প্যাঁচাল...[০১- ভীমরুল] [০২- হাত ] [ ০৩- লাঞ্চবিরতি ও একটি ডিনারপার্টির ভূমিকা ]
[ ০৪- চিত্তবাবু জানেন ] [ ০৫-রবিবারে আসেন ] [ ০৬-এইটা ঠিক না! ]
৮২) হ্যান্ডবিল : ভূমিকম্পে করণীয়... 
৮৩) যেখানে শোয়ে আছেন আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ সাতজন...
৮৪) 'সুযোগের অভাবে চরিত্রবান!'
৮৫) ক্ষুদ্রঋণের সুদ গণনা ও গ্রামীণ ব্যাংক বিতর্ক
৮৬) এন্থনি উইলসন, কিডনি ছাড়াই ঘুরে বেড়ান গোটা পৃথিবী !
৮৭) এটাই কি রমজানের পবিত্রতা রক্ষা !
৮৮) নিজের সাথে বোঝাপড়া : তর্কতত্ত্ব... 
৮৯)  রাজনীতি ও বুদ্ধিবৃত্তি...

# রিভিউ
-------------------

-------------------------------------------------------
# সংগ্রহ
--------------------
০১) ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল বক্তৃতা 
০২) সামাজিক ব্যবসা : নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন (প্রফেসর ইউনূসের সাক্ষাৎকার)
০৩) কে আছেন এমন দাঁতাল স্মৃতিধর ! 
০৪) প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক: ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন

---------------------------------------------------------
# হ-য-ব-র-ল
----------------------
সরল অংক...
স্বগত প্রশ্নগুলি...

---------------------------------------------------------

.

# হারানো দিনলিপি... (সূচিপাঠ)



হারানো দিনলিপি... (সূচিপাঠ)
-রণদীপম বসু

------------------------------------------------------------
# স্মৃতিচারণ
--------------------------------

------------------------------------------------------------
--------------------------------
* পর্ব : [০০][০১][০২][০৩][০৪][০৫][০৬]
[৩৭][৩৮][৩৯][৪০][৪১][৪২][৪৩][৪৪][৪৫][৪৬]
[৪৭][৪৮][৪৯][৫০][৫১][৫২][৫৩][৫৪][৫৫][৫৬][*]

------------------------------------------------------------
.