Sunday, October 19, 2008

@ মুজাহিদকে অপমান !









মুজাহিদকে অপমান !
রণদীপম বসু

চ্যানের এনটিভি’র রাত সাড়ে দশটার নিউজে জানা গেলো যে পুলিশ জামায়াত নেতা আলী আহসান মুজাহিদের উত্তরার বাসায় তল্লাশি চালিয়েছে। কিন্তু কেন চালিয়েছে তা আমার বোধগম্য হলো না। মোটাবুদ্ধির কারণে এরকম সমস্যা আমার মাঝে মধ্যেই ঘটে থাকে। বোধশক্তি থমকে যায়।

উচ্চ আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর পলাতক আসামী (!) মুজাহিদ যখন সভাসমিতিতে বক্তব্য রাখেন, সবাই দেখে, পুলিশ দেখে না ! প্রধান উপদেষ্টার সাথে বেশ আড়ম্বরেই রাষ্ট্রিয় গুরুত্বপূর্ণ (?) বৈঠক করে, পুলিশ দেখে না ! গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বলছি এজন্যই যে, রাষ্ট্রিয় মারাত্মক গুরুত্বপূর্ণ কোন সমস্যা না হলে একজন সরকার প্রধান কোন পলাতক আসামীর সাথে বৈঠক করবে এটা আমি বিশ্বাস করি না। কিন্তু সমস্যাটা নিশ্চয়ই মারাত্মক তো বটেই, খুবই গোপনীয়ও হয়তো। নইলে দুর্নীতি দমনেচ্ছুক দায়িত্বশীল সরকার প্রধান নিশ্চয়ই তা জাতিকে অবগত করাতেন। আর আমরা এসব উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রনীতির কৌশল না বুঝেই পুলিশ কেন দেখে না এটা নিয়ে সবাই হৈ চৈ বাঁধিয়ে দিয়েছি। আমরা বুঝতে চাই না যে, কেউ যদি দেখতে অক্ষম হয় তাকে দোষ দিয়ে লাভ আছে ? দরকার হচ্ছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার। তবে তারও আগে বুঝতে হবে পুলিশ কি দেখে না ? না কি দেখবে না, কোনটা ? সমস্যা হলো মোটা বুদ্ধির লোকেরা রাস্তার মাঝখান দিয়ে সোজা হাঁটে। তাই এতো ঘোরপ্যাঁচে না গিয়ে সরলভাবে বুঝে ফেলে, সরকার যখন দেখে না, পুলিশও দেখে না। পুলিশ তো সরকারেরই দক্ষিণ হস্ত। তার কি আলাদা কোন সত্ত্বা আছে নাকি ? যখন সরকার দেখতে শুরু করবে, পুলিশও তখন দেখতে পাবে।


কিন্তু আমি এখনো বুঝতেই পারছি না পুলিশ কেন হঠাৎ মুজাহিদের বাসায় তল্লাশি করতে গেলো ! হতে পারে চ্যানেলে একটা ভূয়া সংবাদ দিয়েছে, নয়তো পুলিশের কোন তৃতীয় নয়ন গজিয়েছে যা দিয়ে নিজেরা দেখে না, অন্যকে দেখায়। কেননা সরকার যে দেখতে পায় বা দেখতে চায় এর কোন আলামত এখনো তো স্পষ্ট হয় নি কোথাও। বিমান বন্দরের ত্রিমোহনায় ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ -কে লালনের নাম ধরে মধ্যযুগীয় মোল্লারা যখন বাঙালির হাজার বছরের লোকায়ত সংস্কৃতির নাড়ি ধরে টান দিলো, আমাদের সরকার যে বাঙালির সেই ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারের সরকার তা বিশ্বাস করানোর মতো কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কি ? দেলোয়ার হোসেন সাঈদী যখন দেশের অমুসলিমদের উপাসনামূর্তি ছাড়া বাকি সব মূর্তি ভাঙার হুমকী দেয়, সরকার তখনো কোন ব্যবস্থা নিয়েছে কি ? আর উপাসনামূর্তি বাদ দিলে বাকি যা থাকে তা তো প্রায় সবই রাষ্ট্রেরই। নইলে কোথাও কোন কষ্টিপাথরের মূর্তি পাওয়া গেলে প্রত্ন-সম্পদ হিসেবে রাষ্ট্র তা হস্তগত করে কেন ?



সাঈদীর বক্তব্য যখন ওইসব মূর্তি অপসারণকারীর বক্তব্যের প্রত্যক্ষ প্রতিনিধিত্ব করলো, তখন আর বুঝতে বাকি থাকলো কি যে এই জঘন্য কাজটা পরোক্ষে ভিন্ন নাম ধরে মূলত মৌলবাদী জামায়াতে ইসলামীরই কাজ ? প্রধান উপদেষ্টার সাথে মুজাহিদের বৈঠকের পর পর দেশ জুড়ে যখন গুঞ্জন উঠলো, সাথে সাথে ঘটলো মৃণাল হকের ভাস্কর্য অপসারণ ! একটা দিয়ে আরেকটা আড়াল করা ? তাও আবার বিমান বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রহসনমূলক বক্তব্য শুনে একটা রামছাগলেরও হাসি পাবার কথা। বলে কিনা, মূল ভাস্কর্যের নমূনা অনুযায়ী হয় নি বলেই এরাই এর অপসারণের ব্যবস্থা নিয়েছে ! জাতির সংস্কৃতির ধারক বাহক লেখক কবি শিল্পী ভাস্কররা দুর্বলতম দুর্ভাগা বলেই কি তাঁদেরকে নিয়ে এমন রাষ্ট্রিয় ছিনিমিনি খেলা ? মোটাবুদ্ধিতে আবারো বুঝে যাই, উপদেষ্টার বৈঠকখানা থেকে বিমান বন্দর হয়ে মুজাহিদের বাসা পর্যন্ত যে নাটক চলছে তাতে সরকারি সায় তো রয়েছেই, হয়তো সরকারি ইন্দনও রয়েছে। আর তা-ই যদি হয়ে থাকে তবে আর রাখঢাকের কিছু রইলো না যে, জামায়াতে ইসলামীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটা মৌলবাদী সরকার মাথায় নিয়েই আমরা একটা নিরপেক্ষ (!) গণতান্ত্রিক নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, আদৌ যদি সে নির্বাচন হয়। মৌন মিছিল করার দায়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেফতারকৃত সেই ছাত্র-শিকদের নির্যাতিত হওয়ার স্মৃতি আসলে কখনোই ভুলা যাবে না।

কিন্তু এবারও আমার মোটা মাথায় এটা ধরছে না যে, আইনের প্রতি এতো বিশ্বস্ত আল্লাওয়ালা ব্যক্তি মুজাহিদ পলাতক হবেন কেন ? তিনি কি চোর ছ্যাচ্চর নাকি ! এমন সৎ আদর্শ ও পবিত্র মুবারকধারী জামায়াত শীর্ষ নেতা মুজাহিদ কি অন্যান্য দলের নাফরমান পাতি নেতাদের থেকেও খারাপ হয়ে গেলেন যে, ওরা কেউ গ্রেফতারের আগে পালালো না, আর মুজাহিদ ভয় পেয়ে পালিয়ে থাকবেন ! আর পুলিশ তাকে খুঁজে খুঁজে হয়রান হয়ে যাবে !

উঁহু, আমি বিশ্বাস করলাম না। এটা নিশ্চয়ই একাত্তরের রাজাকার মিথে প্রভাবিত কোন নাফরমান পুলিশ সদস্য কর্তৃক মুজাহিদকে পলাতক আখ্যা দিয়ে তাঁকে সুপরিকল্পিত অপমান করা হচ্ছে ! আমি এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। এবং আমি এও আশা করি যে মুজাহিদ অন্তত চোর ছ্যাচ্চর থেকেও নীচে নেমে যান নি।
(১৮/১০/২০০৮)

[mukto-mona]
[khabor.com]
[sachalayatan]
[sa7rong]

Sunday, October 12, 2008

# যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(২৫)














যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(২৫)
তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)

রূপা,এখন আমি যে কথাটা বলতে চাচ্ছি , তা ভালো না লাগলে ফেলে রাখতে পারো। কিন্তু আমাকে তা বলতেই হবে। বাস্তবতাকে কীভাবে অস্বীকার করবো আমি ! আর আমার ভালোবাসাও তো অবাস্তব নয়। তাই এ দুই বাস্তবতাকে মিলিয়ে নিয়েই যে আমাকে এগুতে হবে, কোন অবাঞ্চিত স্ববিরোধিতায় আক্রান্ত না হয়ে।

আমি বিশ্বাস করি রূপা, যুথবদ্ধ মানব মানবী বাঁধা থাকে হৃদয়ের গেরোয়। অন্ন বস্ত্র বাসস্থানের নিশ্চয়তা শারীরিক অস্তিত্বকে নিরাপদ করে বটে, কিন্তু যেখানে ভালোবাসা নেই, নেই কোন কষ্টের বন্ধন, সেখানে দাম্পত্য জীবন মানেই কি পাশাপাশি দুটো শরীর শুধু শুয়ে থাকা নয় ? এতো কাছাকাছি থেকেও আমৃত্যু অপরিচয়ের নাত্রিক দূরত্বের যোজনা শুধুই। আবার যেখানে নেই খাওয়া পরার এতটুকু নিশ্চয়তা, সেখানেও কি ভালোবাসা থাকে আদৌ ? ঘৃণার সজোর ধাক্কায় প্রকাশিত স্বরূপ দেখে আমরাই কি বলবো তবে, আহা ভালোবাসা, সত্যি কি ঘৃণারই অপর নাম ! তবুও হাজার বছরের চেনা দুটি সত্ত্বা পারে কি একে অপরকে ছেড়ে যেতে ? আমি জানি না।

আমি এও জানি না, লোকে কেন বলে যে অভাব দরজায় এলে ভালোবাসা জানালায় পালায়। এমন নিষ্ঠুর বক্তব্য মেনে নিলে জগৎ সংসারে হৃদয়ের প্রণয়ী অস্তিত্ব থাকে কী করে ! ভালোবাসা যদি কষ্টই হয়, তবে কষ্টকে ভালোবাসতে না পারলে তা কিসের ভালোবাসা, কিসের প্রেম ! আদৌ কি ভালোবাসা হয় ? তেল-নুন-চাল-আটার বস্তুগত হিসাবটাই জীবন হলে এই হিসেবি যান্ত্রিকতায় বেহিসেবি ভালোবাসা আসবে কেন ! শরীরগত অস্তিত্বেই ভালোবাসার প্রকাশ। হয়তো এই নিকষতার প্রয়োজনও উড়িয়ে দেয়া চলে না। কিন্তু এই হিসেবি জীবনের মধ্যেই বেহিসেবি তিক্তমধুরতা আছে বলেই তো জীবন এতো মধুর, এত বেদনার, এতো আকর্ষণীয়। রূপা যাঁরা ভালোবাসতে পারেন, তাঁরা সমগ্রকেই ভালোবাসেন, রসকষহীন রুক্ষ হিসাবের মধ্যেও হৃদয়কে ভালোবাসার কষ্ট দিয়ে অনুভব করেন। নইলে তো পৃথিবীটাই ধূয়া !

ভালোবাসা একপেশেও হতে পারে রূপা। কিন্তু এতে কোন সার্থকতা নেই, দ্বৈত কষ্ট ছাড়া। এবং, এ কষ্ট কি প্রণয়ের কষ্ট ? না কি প্রেমহীনতার ? এর উত্তরটা খুঁজতে পারি আমরা। তবে তা জবাবের জন্য নয়..।


(চলবে...)

[আগের পর্ব:২৪]
[পরের পর্ব:২৬]

Saturday, October 11, 2008

# যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(২৪)














যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(২৪)
তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)

রূপা, তুমি কীভাবে নেবে এটা জানি না। তবে চাও বা না চাও, কষ্ট আমি তোমাকে দেবোই। প্রিয়তমা, তুমি আমার ভালোবাসা, আমার অখণ্ড অস্তিত্বের অংশিধারিণী বন্ধু, একমাত্র সাথি তোমাকে কষ্ট না দিয়ে আমার উপায় নেই। এ যে দেবার কষ্ট ! তীব্র কষ্টের জর্জর আঘাতে তোমাকে ছিন্নভিন্ন করে দিতে চাই আমি, এবং প্রচণ্ড আদরে বুকে টেনে নিয়ে অনন্ত নিবিড়তায় তোমাকে ভরিয়ে তুলবো আমি। তুমিই আমার কষ্টধারিণী। তোমাকে দেয়ার জন্যেই জন্ম আমার এই অসহ্য কষ্টগুলোর। যদি কখনো চলে যাও আমাকে ছেড়ে, সেদিন তো আমি আর কাউকে বলতে যাবো না এ কষ্টের কথা। পৃথিবীতে কে আর থাকবে আমার এ কষ্ট নিতে !

বন্ধু, ভালোবাসা বুঝি এমনই, নিজের অধিকার কী অনায়াসে চলে যায় অন্য হাতে ! নিজকে কষ্ট দেয়ার অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়ে যায় বলে যা কিছু পাই তাই তোমাকেই দিই। তুমিও তো তেমনিই অধিকারহারা। তবু কি তা তুমি ইচ্ছাকৃতই ভুলে থাকো ? নিজকে কষ্ট দেয়ার অধিকার তোমার হাতেও যে নেই তা কেনো যে বুঝতে চাও না ! ওগুলো যে আমারই প্রাপ্য এখন। গভীর ভালোবাসা কখনোই উচ্চকিত হতে জানে না বলে প্রতিশ্রুতি আপনিই এসে যায়। এ যে বলার অপেক্ষা রাখে না ! তুমি কি বুঝবে না তা !?

(চলবে...)

[আগের পর্ব: ২৩]
[পরের পর্ব: ২৫]

Thursday, October 2, 2008

@ ঈদের কেবল্ টিভির ডিশ লাইন ব্যবসা বনাম নৈতিকতা..














ঈদের কেবল্ টিভির ডিশ লাইন ব্যবসা বনাম নৈতিকতা
রণদীপম বসু

আজ ঈদের ঠিক আগের দিনটাতে টিভির কেবল্ লাইনটা হঠাৎ অফ হয়ে গেলো। টিভি অন করতেই মনিটরে শুধু ঝিরঝিরি। হয়তো সাময়িক যান্ত্রিক ত্রুটি হবে ভেবে গা করি নি। তা ছাড়া এমনিতেই আমি লেখালেখি আর কম্পিউটার নিয়ে এতো ব্যস্ত থাকি যে টিভির সামনে খুব একটা বসা হয় না। তাই কোন্ চ্যানেলে কবে কী অনুষ্ঠান এসব সূচিটুচিরও ধার ধারি না। হঠাৎ করে রিমোট হাতে নিয়ে এতোগুলো চ্যানেল ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ভালো কোন অনুষ্ঠান খোঁজার বিরক্তির চেয়ে বিজ্ঞাপন আর ভাঁড়ামোর বিড়ম্বনা আরো বেশি। তা ছাড়া জেন্যুইন দর্শক যিনি, বাচ্চার স্কুল বন্ধের সুবর্ণ সুযোগটাকে যথোপযুক্ত কাজে লাগানোর মহতি ইচ্ছা নিয়ে নাইওরী হয়েছেন। অতএব আমার তো টিভিমুখো হবারই কথা না।

কিন্তু ঈদের লম্বা বন্ধের সুযোগে চাকুরেরা যখন পইপোটলাসহ ঢাকা ছেড়ে বাড়িঘরমুখো হচ্ছেন, ছোট্ট ভাইটা সে সুযোগে উল্টো ঢাকামুখি। গতকাল এসে হাজির। বাড়ির হাউকাউ গইগ্যাঞ্জামের চেয়ে ঢাকাতে ক’টা দিন নিরিবিলিতে ঈদের স্পেশাল অনুষ্ঠানগুলো তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করা যাবে। আর ফাঁকে ফাঁকে ফাঁকা হয়ে যাওয়া ঢাকা শহরটাকে নিরুপদ্রবে ইচ্ছেখুশি ঘুরে ঘুরে দেখা যাবে। কিন্তু প্রথম পরিকল্পনাতেই ধাক্কা খেয়ে ভাই আমার রীতিমতো তটস্থ। আট ঘণ্টা পেরিয়ে গেলো লাইন তো ঠিক হচ্ছে না !

এমন নয় যে বিল বাকি। সংশ্লিষ্ট মাসের ডিশের বিল কেবল অপারেটররা শুরুতেই অগ্রীম নিয়ে যায়। অতএব বিষয়টা কী তা বোঝার জন্য আশেপাশের ফ্ল্যাটগুলোতে খোঁজ খবর নিতে লাগলাম। খুবই পরিতাপের বিষয়, আমাদের পুরনো লাইনের সব গ্রাহকরাই বুড়ো আঙুল চুষছেন। অথচ নতুন চালু হওয়া সেদিনের অপারেটর লাইনটা ঠিকই বহাল তবিয়তে চালু এবং আগের চাইতেও নাকি রঙ বেশি ছড়াচ্ছে। আহারে, নতুন চালু করার সময় কতো সুযোগ সুবিধা অফার করেছিলো এরা ! তখন কেন যে লাইনটা পাল্টালাম না ! আফসোস হচ্ছে। আমাদের অপারেটরের নম্বরে মোবাইল কল করছি, লাইন বিজি এবং রিং বাজলেও ফোন ধরছে না। বিষয় কী ? শেষপর্যন্ত সন্ধ্যের পর বাসা থেকে বেরোলাম। বেশ কিছুদূর হেঁটে তাদের অফিসে গিয়ে দেখি দোকানের সাটার নামানো এবং প্রতিটা পয়েণ্টে ইয়া বড়ো বড়ো তালা ! মাথাটা উষ্ণ হয়ে উঠছে। আশেপাশের দোকানগুলোতে খোঁজ নিলাম, এরা কোথায় ? গতকাল থেকে কর্মচারিদের ঈদের ছুটি শুরু হয়েছে, তাই কেউ নেই।
নেই মানে ! আমি তো রীতিমতো হতবাক ! আসার পথেই তো অন্য কেবল অপারেটরদের অফিসগুলো খোলা এবং সক্রিয় দেখে এলাম। অথচ এদেরটা বন্ধ ! কিছুতেই হিসাব মিলছে না। এখন এই ঈদের তুমুল সময়টাতে এসে যখন তাদের সেবা প্রদানের প্রয়োজনীয়তা সেনসেটিভলি খুব গুরুত্ব দাবি করছে, তখনই কিনা এরা নেই ! এ কেমন এদের ব্যবসা, আর কী রকমই বা এদের ব্যবসা পলিসি, বুঝতে পারছি না। তাদের পরিচালকের নম্বরেও বারবার রিং করলাম। শুধুই নো আনসার !

ব্যর্থ অসন্তোষ নিয়ে ফিরে এসে দেখি বাসার সামনে হল্লা। সামনের লাইটপোস্টের গায়ে মই লাগানো। শহরের ডিশ লাইন সরবরাহ ব্যবস্থাটা রাস্তার লাইট পোস্টগুলোকে অবলম্বন করে গড়ে উঠা বলে মোড়ে মোড়ে লাইট পোস্টের গায়ে কেবলের কম্বাইন্ড সংযোগ পয়েণ্ট তৈরি করা। আমার বাসার সামনেও তা-ই। মইয়ের চূঁড়ায় দাঁড়িয়ে কর্মরত লোকটিকে ভেতরে ভেতরে বহু আশা নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই আপনি কোন লাইনের লোক ? নীচে দাঁড়ানো অন্য একজন আবছা আলো থেকে জবাব দিলো, আমরা ... ... কেবলের। মানে আমাদেরটা নয় ! আবারো আশাহত হলাম। অথচ এই এরা যখন নতুন লাইন বসায়, আকর্ষণীয় সুযোগ ও রেট অফার করলেও পুরনো লাইনটা পাল্টাই নি শুধু নৈতিকতা নামের কী অদ্ভুত একটা বিষয়কে মাথায় রেখে ! চলমান লাইনে যেহেতু কোন সমস্যা নেই, কোন অজুহাত ছাড়াই পুরনোদের সাথে কোনরূপ জয়জিজ্ঞাসা না করে হুট করে লাইন পাল্টে নেয়াটা তখন আমার কাছে খুবই অনৈতিক মনে হয়েছিলো। এখনো যখন খুব যুক্তিসঙ্গতভাবেই আশেপাশের ফ্ল্যাটের লোকজন ঝটপট নিজেদের লাইনগুলো পাল্টে নতুন লাইনের সংযোগ দিয়ে টিভিগুলো সচল করে নিচ্ছে, আমাকেও করে দেবে কিনা জানতে চাইলে এবারও আমি ইতিবাচক কোন সাড়া দিতে পারলাম না। বললাম, আগে তাদের সাথে আলোচনা করে না নেয়াটা অনৈতিক হয়ে যায় না ?
থাকেন আপনার নৈতিকতা নিয়ে, বলেই লোকগুলো চলে গেলো।
আমি বিষণ্ন মনে ঘরে ফিরে এলাম। নীরব ছোট্ট খালি বাসায় হাসিখুশিপ্রিয় ভাইটির মুখে রাজ্যের হতাশা।

একটা মাসের রোজার সংযম শেষে আগামীকাল পবিত্র ঈদ। চারদিকে আনন্দের কোলাহল। ছোট ভাইটার জন্য জমে উঠা কষ্টটা বুকে চেপে দোতলার বেলকনিতে গিয়ে দাঁড়ালাম। কাচের জানলা ডিঙিয়ে এখান থেকেই দেখা যাচ্ছে পাশের ফ্ল্যাটের টিভিটাতে সচল রঙের ঝলকানি। ফ্ল্যাটের ভদ্রলোকও, যিনি একটু আগেই লাইন পরিবর্তন করিয়েছেন, বোধ করি তাঁর বেলকনিতে দাঁড়িয়ে তিনি আমাকেই পর্যবেক্ষণ করছেন। চোখে চোখ পড়তেই বিজয়ীর মতো একটা অচেনা হাসি ছুঁড়ে দিয়ে রুমে ঢুকে গেলেন। আর আমি তখন দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে সেই হাসির অর্থ উদ্ধারের কসরত করে যাচ্ছি...।
(০১/১০/২০০৮)

[somewherein]
[amarblog]