Monday, November 24, 2008

@ ইহা কাজের কথা নয়














ইহা কাজের কথা নয়
রণদীপম বসু
...
চল্লিশার প্রভাব কিনা জানি না, সাদাকে কালো বলিয়া ভ্রম হইতেও পারে। তথাপি যাহা দেখিতেছি তাহার জন্য মনটা হু হু করিয়া উঠিল। এইরকমের বিরল হইয়া যাওয়া দৃশ্য কতোকাল যাবৎ দেখিতেছি না ! ছয়-সাতটি বছর তো গত হইয়াই গেল !

সুরমার ব্যঞ্জনা মাখিয়া চক্ষু দুইখানা উজ্জল হইল কিনা কে জানে। ভক্ত আশেকান কর্মী সমর্থক বেষ্টিত হইয়া ধবধবে পোশাক পরিয়া তিনি বয়সকে দমাইয়া রাখিয়া যেইভাবে মহল্লার সদর রাস্তাটিকে এইপার ওইপার করিতে লাগিলেন, ভাবিতে লাগিলাম, আহা, এইরকম স্বতঃপ্রণোদিত হইয়া কয়জনে ইহা করিতে পারে ! নেতা হইবার যোগ্যই বটে ! এইরূপ ঘটা করিয়া কুশল বিনিময়ের হেতু বুঝিয়া উঠিতে আমার গুটিকয় মুহূর্ত চলিয়া গেলো। হঠাৎ করিয়া মাথার ভিতরে দিব্যজ্ঞান আসিয়া ভর করিতে লাগিল। কোনরূপ শ্লোগান বা স্বরোৎক্ষেপণ না ঘটিলেও নেতাজীর ভক্তকূলের মুখভঙ্গি অবলোকন করিয়া কীভাবে যেনো তাহাদের বক্ষাভ্যন্তরে গুমড়াইয়া উঠা কথাগুলি দিব্যকানে শুনিতে লাগিলাম- আসিতেছে শুভদিন অমুক ভাইয়ের সালাম নিন, তোমার ভাই আমার ভাই অমুক ভাই অমুক ভাই !

Wednesday, November 19, 2008

@ ছেঁড়া ঘুড্ডি ...(০১)














| ছেঁড়া ঘুড্ডি ...|০১| ছাই |

রণদীপম বসু
...
‘যেখানে দেখিবে ছাই/ উড়াইয়া দেখ তাই/ মিলিলে মিলিতে পারে/ অমূল্য রতন...।’ কে লিখেছিলেন ? রামনিধি গুপ্ত ? ঈশ্বর গুপ্ত ? না কি অন্য কেউ ? এ মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তবে এই চরণগুলো সেই শৈশব-কৈশোরে স্তোত্রের মতো ঠোটস্থ করেই কি ক্ষান্ত হয়েছিলাম ? মোটেই না। স্তোত্র বা শ্লোক কি আর মিথ্যে হতে পারে !

আজ থেকে ত্রিশোধিক বছর পূর্বে মফস্বল শহরগুলোতে এখনকার মতো তো আর প্রাকৃতিক জ্বালানী গ্যাসের কায়কারবার ছিলো না। লাকড়ি, খড়ি, তুষ, শুকনো লতা-পাতা খড় নির্ভর চুলাসমৃদ্ধ বাঙালির রান্নাঘরের বাইপ্রোডাক্ট বর্জ্য হিসেবে ছাইয়ের চেয়ে হীন তুচ্ছ পদার্থ আমাদের ইহলৌকিক জীবনে আর কিছু ছিলো বলে জানা ছিলো না। পরিবারের সবচেয়ে অকর্মণ্য অপদার্থ ছেলেটিকেও যখন বলা হতো ‘তোর পাতে ছাই দেবো’, শতকরা নিরানব্বইভাগ সম্মানবোধহীন ছেলেটিরও বাকি একভাগ সম্মানবোধ ধপ করে জ্বলে উঠতো অপমানে ! দেশ-গাঁয়ের বাক্যবাণ সমৃদ্ধ ঝগড়াটে দুই প্রতিবেশিনীর ঝগড়ার চূড়ান্ত অস্ত্র প্রয়োগ হতো ‘তোর মুখে ছাই পড়ুক’ বলে। অতএব এতো হীনমানের বস্তুটি যে হাটেমাঠেঘাটে পথে গলিতে যত্রতত্র অতি সহজলভ্য হবে তাতে আর বিচিত্র কি !

@ ‘স্বভাব যায় না মইলে !'












‘স্বভাব যায় না মইলে’
রণদীপম বসু
...
আমাদের দেশে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা কতো ? আট কোটি ? সঠিক সংখ্যাটি এ মুহূর্তে হাতে নেই আমার। আট কোটির ধারে কাছে হবে হয়তো। সেক্ষেত্রে কতজন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন বা করার সুযোগ পান ? এই হিসাবটা হয়তো চলে আসে নির্বাচনের ফলাফল থেকে। আমাদের জাতীয় নির্বাচনগুলোর বিগত ইতিহাস অনুযায়ী মোট ভোটারের ষাট থেকে পঁয়ষট্টি ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেই মোটামুটি সফল নির্বাচন হয়েছে বলে সরকারীভাবে ধরে নেয়া হয়। এখানে যে ভোটগুলো অধিকার প্রয়োগ করা সত্তেও প্রক্রিয়াগত ভুলে নষ্ট হয়ে যায় তা বাদ দিলে মোটা দাগে আমরা ধরে নিতে পারি যে ন্যুনতম শতকরা পঁয়ত্রিশ ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন নি। এদের কত ভাগ ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে চেয়েছেন বা চান, কিন্তু তাঁদের অধিকার প্রয়োগের সুযোগ বা সামর্থ না থাকায় তা প্রয়োগ করতে পারেন নি বা পারছেন না, এ বিষয়টা নিয়ে কোন জরিপ হয়েছে কিনা জানা নেই। কিন্তু অধিকার সুরক্ষার প্রসঙ্গ এলে এ বিষয়টি কি বিবেচনায় না এসে পারে ? দেশের বর্তমান রাজনৈতিক জটিলতায় বহুপাক্ষিক ধস্তাধস্তির মধ্যে হঠাৎ করে আনুমানিক চল্লিশ হাজার পবিত্র হজযাত্রীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের বিষয়টি রাজনৈতিক এজেণ্ডায় চলে আসায় বিষয়টাকে আর খাটো করে দেখার কোন উপায় নেই।

Sunday, November 16, 2008

[এবার যাওয়া যাক অন্য ঘরে... !]



[এবার যাওয়া যাক অন্য ঘরে... !]
রণদীপম বসু

এতো হাবিজাবি ! মহার্ঘ সঞ্চয় ভেবে ভরে গেছে ঘর !
অর্থ আর অনর্থের ভারে জমিয়েছি যা, রয়ে গেলো ‘কৃতকর্মের’ দায়।
হয়েছে কি নাড়াচাড়া ? পাশের দরজাটা থাক্ না খোলা !
এবার না হয় যাওয়া যাক্ অন্য ঘরে !!!

[h-o-r-o-p-p-a-হ-র-প্পা]

[Horoppa-ex:‘উত্তর-হরপ্পা’]



...

Saturday, November 15, 2008

@ আমাদের দিগম্বর তত্ত্ব…!














আমাদের দিগম্বর তত্ত্ব…!
রণদীপম বসু
...
‘অর্থ গোবর সমতূল্য। ইহা স্তুপীকৃত করিয়া রাখিলে দুর্গন্ধ ছড়ায়। ছিটাইয়া দিলে উর্বরতা বৃদ্ধিকারক সার হয় এবং ফলন বৃদ্ধি করে।’ ছাত্রত্বের সেই কৈশোরকালে ভাবসম্প্রসারণ বা রচনা জাতীয় কিছু মুখস্ত করা বাক্যগুলো এখনো যে জ্বলজ্বল করে স্মৃতিতে ভেসে উঠে, তা কি কৈশোরিক স্পর্শকাতর স্মৃতির কৃতিত্ব, না কি অনেককিছুই বদলে যাওয়া সমকালীন দীর্ঘশ্বাসের নষ্টালজিক আবেগ, তার পার্থক্য টানা দুরুহ। তবে যে কর্পোরেট সময়কালে আমরা এখন অবস্থান করছি, এর প্রতিটা মুহূর্তের জন্য, প্রতিটা নিঃশ্বাসের জন্যই আমাদেরকে বিনিময়হারে অর্থমূল্য গুনতে হয়। কথাটাকে মনে হয় হাইপোথিটিক্যাল মন্তব্য হিসেবে উড়িয়ে দেয়ার কোন উপায় নেই। তা যে আক্ষরিক অর্থেই পূর্ণভাবে সত্য, একটু তলিয়ে ভাবলেই খুব স্পষ্ট হয়ে উঠে। অর্থাৎ এই অর্থ বা কড়ি আমাদের নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস থেকে শুরু করে আমাদের প্রতিটা মুহূর্ত, মৃত্যুকাল বা মৃত্যুপরবর্তী সময়েও অতি আবশ্যকীয় অনুষঙ্গ হিসেবে আষ্টেপৃষ্ঠে এমনভাবে জড়িয়ে আছে যে তা থেকে আমাদের মুক্তি নেই। তবে কি এই মূর্ত-জগতের ব্যবহারিক অধিপতি মানুষ প্রজাতিটা আসলে পরাধীন ! আসলেই তাই। রাস্তার ফকির থেকে ক্ষমতার শীর্ষদেশে অবস্থানকারী প্রাসাদবাসী ব্যক্তিটিও প্রকৃত অর্থে পরাধীনই। জ্যাঁ জ্যাক রুশো কি আর এমনি এমনি বলেন, ‘Man born free but chained in everywhere !’

Monday, November 10, 2008

@ জাবিতে ছাত্রী নিপীড়ন ইস্যু, মিডিয়ার অপর পিঠ














জাবিতে ছাত্রী নিপীড়ন ইস্যু, মিডিয়ার অপর পিঠ
রণদীপম বসু
...
এইতো কিছুদিন আগে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বশেষ ছাত্রী নিপীড়ন ইস্যুতে মিডিয়ার মাধ্যমে যে তোলপাড়ের খবর আমরা পেয়েছি, সেই উপস্থাপিত খবরগুলোর বস্তুনিষ্ঠতা নিয়েই এবার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। এক্ষেত্রে ক্যাম্পাসে আন্দোলনের সময়ে যা ঘটেছে অনেক পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ঘটনার বিপরীত চিত্রটি সচেতনভাবে আড়াল করে একটি খণ্ডিত অংশ দেশবাসীর সামনে উপস্থাপন করেছে বলে সরাসরি অভিযুক্ত করে মিডিয়াকে অনেকটা চ্যালেঞ্জই করা হয়েছে। গত ৯ নভেম্বর ২০০৮ দৈনিক জনকণ্ঠের উপসম্পাদকীয়তে ‘জাবিতে নিপীড়ন ইস্যু- মিডিয়া কি দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করছে ?’ শিরোনামে সুস্পষ্টভাবে মিডিয়ার দায়িত্বজ্ঞানহীন ভূমিকাকে অভিযুক্ত করে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে তিনি বলেন- ‘তদন্ত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থেকে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলব, তথ্যনির্ভর বক্তব্য প্রকাশ না করে মিডিয়া স্বেচ্ছাচারিতার মাধ্যমে দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করেছে। ক্যাম্পাস সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করেছে। নেতিবাচক রিপোর্ট তৈরি করাই কি এখন মিডিয়ার আদর্শ ?’

Friday, November 7, 2008

@ ‘...কীভাবে বদলে যেতে হয় !’-(বারাক ওবামা)













‘...কীভাবে বদলে যেতে হয় !’
রণদীপম বসু
...
‘আমেরিকা জানে কীভাবে বদলে যেতে হয়।’ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্সিয়াল ইলেকশানের বিজয় ভাষণে বারাক ওবামার এই উক্তি যে সমকালীন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদেরকে নতুন করে ভাবনা এবং অগ্রবর্তী কোন গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করে তুলবে, তা বলতে হয়তো ভবিষ্যৎ বক্তা হতে হয় না। হয়তো বা এই উক্তিই একদিন আমেরিকার ইতিহাসের আরেকটা মাইলফলকও হয়ে উঠতে পারে। যেভাবে আব্রাহাম লিঙ্কনের অজর উক্তিটাও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে আছে।

'Government of the people, by the people, for the people'- গেটিসবার্গ এড্রেসে আমেরিকার তৎকালীন জনপ্রিয় প্রেসিডেণ্ট আব্রাহাম লিঙ্কন তাঁর মুখ দিয়ে যে স্বপ্নধোয়া বাক্যটা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন বিশ্বমানবতার কাছে, তখনো কি এর কোন প্রায়োগিক বাস্তবতা ছিলো ? ছিলো না। আর ছিলো না বলেই তা এতো বেশি কাঙ্ক্ষিত, প্রত্যাশিত স্বপ্নের মতো হয়ে উঠেছিলো সবার কাছে। জাতি ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্রনীতির অনিবার্য এক ঝিনুক বাক্য হয়ে উঠতে পেরেছিলো তা। রাষ্ট্রপরিচালনায় লিঙ্কনের এই অজর বাক্য একটা আদর্শ সরকারের সমস্ত বৈশিষ্ট্য ধারণ করার মতো স্বপ্ন-বাতিঘরের আলো ছড়িয়ে কূলের নিশানা দেখিয়ে গেছে পথহারা রাষ্ট্রনাবিকদের। এবং এখনো দেখিয়ে যাচ্ছে। তবুও কি পাড়ে ভিড়তে পেরেছে সবাই ? না কি ভিড়তে চেয়েছে ? লিঙ্কন নিজেও প্রাণ হারিয়েছেন আততায়ীর অব্যর্থ নিশানায় তাঁর নিজ দেশেই।

Wednesday, November 5, 2008

@ ‘ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট’











‘ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট’
রণদীপম বসু

গল্পটির নাম খুব সম্ভবত ‘ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট’। ছোট্ট, এখন যাকে অণুগল্প বলা হয়। বেশ ক’বছর আগে কোথায় যেন পড়েছিলাম। কিন্তু অনুতাপ হচ্ছে, গল্পকার বা বইটির (বই নাকি ম্যাগাজিন নিশ্চিত নই) নাম এখন মনে পড়ছে না। একান্তই স্মৃতিনির্ভর হয়ে উঠার এই এক হ্যাপা।

গল্পের বিষয়বস্তু সাধারণ, কিন্তু ভাব অসাধারণ। সারাৎসার অনেকটা এরকম, অত্যন্ত নিম্নবিত্ত পরিবারের মেয়েটি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা সম্পন্ন করে অনিবার্য প্রয়োজনেই চাকরির বাজারে পা দিলো। কিন্তু যেখানেই আবেদন করুক, প্রচলিত নিয়মে আবেদনপত্রে যাবতীয় সার্টিফিকেটের সাথে একটা ক্যারেক্টার সার্টিফিকেটও জমা দিতে হয়। তার যে স্বভাব-চরিত্র অতিউত্তম, রাষ্ট্র বা সমাজবিরোধী কোন সন্ত্রাসী বা অবৈধ কর্মকাণ্ডে যে সে কখনোই জড়িত ছিলো না, একজন প্রথম শ্রেণীর সরকারি কর্মকর্তা কর্তৃক প্রত্যয়ন না পেলে চাকুরিদাতা কর্তৃপক্ষ নিশ্চিন্ত হয় কী করে ! এটা প্রমাণ করতেই মেয়েটি ইতোমধ্যে বারকয়েক চেষ্টা করেও একটি সার্টিফিকেট পেতে ব্যর্থ হলো। একে তো অভাবী, তাও আবার অপরিচিতা, এরকম মেয়েকে সরকারের কোন দায়িত্ববান কর্মকর্তা না জেনে না শুনে প্রত্যয়ন দেবেন কী করে ! অত্যন্ত সঙ্গত কারণ। অথচ এই একটি সার্টিফিকেটের অভাবে তার সবকিছু যে ভেস্তে যায় যায়। অতঃপর একজন নিকটাত্মীয়ের চ্যানেল ধরে কোন এক ভীষণ ব্যস্ত সরকারি কর্মকর্তার অফিসে গেলো সে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও সিরিয়াল পাচ্ছে না। বেলা গড়িয়ে অবশেষে যখন ডাক পড়লো, সার্টিফিকেট নেবে কী, প্রথম প্রশ্নেই মেয়ে কুপোকাৎ ! সেই একই সমস্যা। ‘তোমাকে আমি কতোটুকু চিনি যে সার্টিফিকেট দেবো ? তোমার স্বভাব চরিত্র সম্পর্কে আমি নিশ্চিৎ হবো কী করে ?’ মেয়ে আর কী বলবে, ফেলফেল করে অসহায় চেয়ে থাকে। হয়তো কর্মকর্তার একটু দয়াও হলো, ‘ঠিক আছে, অমুক যখন বলেছে, দেখা যাক্‌ কী করা যায়। তুমি পাশের রুমে গিয়ে বসো।’

ছোট্ট এ গল্পটির শেষটুকু সম্ভবত এরকম ছিলো যে, ভিজিটরদের সাক্ষাৎদান শেষে দায়িত্ববান কর্মকর্তা উঠে ধীরে ধীরে পাশের রুমে ঢুকলেন এবং ভেতর থেকে দরজাটি বন্ধ হয়ে গেলো। বেশ কিছুক্ষণ পর দরজাটি আবার খুলে গেলো। উস্কুখুস্কু চুল আর বিস্রস্তপ্রায় পোশাকে উদ্ভ্রান্তের মতো যে তরুণীটি বেরিয়ে এলো, তার হাতে একটি ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট। ওটাতে স্পষ্টাক্ষরে ইংরেজিতে জ্বলজ্বল করছে, ‘ ...... সে আমার পূর্ব পরিচিত। তার স্বভাব চরিত্র ভালো। ব্যক্তিগত জীবনে সে অত্যন্ত সৎ, কর্মঠ ও পরিশ্রমী। আমার জানামতে সে সমাজ বা রাষ্ট্রবিরোধী কোন অবৈধ কর্মকাণ্ডে কখনোই জড়িত ছিলো না। আমি তার সর্বাঙ্গীন সাফল্য কামনা করছি।’

সমকালীনতার সংজ্ঞা আমি কেন যেন মাঝে মাঝেই ভুলে যাই। আমাদের এই সমাজ বা রাষ্ট্রে ‘ক্যারেক্টার’ নামীয় জিনিসটার দরকার আদৌ আছে কিনা তাও আমার জানা নেই। কিন্তু ‘ক্যারেক্টারের’ দরকার না থাকলেও ‘ক্যারেক্টার সার্টিফিকেট’-এর প্রয়োজন যে এখনো ফুরিয়ে যায় নি, এটা কি আমাদের পরিচয়, না পরিহাস ?

[sachalayatan]

@ 'ভেজালমুক্ত আত্মহত্যার অধিকার চাই'... (রম্য-রচনা)










'ভেজালমুক্ত আত্মহত্যার অধিকার চাই'... (রম্য-রচনা)
রণদীপম বসু

(০১)
বৈকালে টাঙ্কি মারিবার নিয়মিত কর্মে বাহির হইবার পূর্বে লটকনতলায় সাঙ্গপাঙ্গ সবাই আসিয়া জমায়েত হইলেও নন্দু তখনো আসিয়া পৌঁছিল না। এই আকস্মিক বিলম্বের হেতু কী হইতে পারে তাহাও কেহ বুঝিতে পারিল না। পূর্ব ইতিহাস ঘাটিয়া দেখা হইলো, এইরূপ মহৎ কর্মে নন্দু কখনোই বিলম্ব করে নাই। তথাপি তাহার জন্য অপেক্ষা করিতে করিতে অদ্যকার টাঙ্কি মারা কর্ম-পরিকল্পনায় ব্যবহাযোগ্য কলাকৌশলে আহামরি কোন অভিনবত্ব আনা যায় কিনা এই লক্ষ্যে উদ্বুদ্ধ হইয়া নন্দুর ইয়ার-দোস্তগণ এই ফাঁকে নতুন নতুন প্রকৌশলের সন্ধানে তাহাদের অস্বাভাবিক সৃজন-মেধা ব্যয় করিতে থাকিল। কখন যে সূর্য পাটে বসিতে উদ্যত হইয়াছে তাহা তাহারা টের পাইলো কি পাইলো না, কিন্তু তখনো নন্দু আসিয়া পৌঁছিলো না। নানাজনের মনে নানা প্রশ্নের উদয় হইতে লাগিল। পালে থাকিলে পালের রীতিনীতি মানিতে হইবে, ইহাই মান্যবিধান। অতএব নন্দু কেন আসিল না তাহা হইতেও বড় কথা হইলো নন্দু আসিল না। দৈনন্দিন কর্ম বকেয়া রাখিবার সরকারি রীতি তখনো তাহাদিগকে প্রভাবিত করে নাই বলিয়াই হয়তো এতৎবিষয়ের একটা হেস্তনেস্ত করিতেই হয়, এই অভিপ্রায়ে ইয়ারদোস্ত সকলে মিলিয়া নন্দুর ডেরায় গিয়া উপস্থিত হইল।

পরিবারের নাখান্দা অপদার্থ সদস্য হিসাবে নন্দুর অবস্থান কী, তাহা আর বলিবার অপেক্ষা রাখে না। বাড়ির বাহিরের দিকের লাগোয়া পরিত্যক্ত ঘরখানা যাহা কিনা যে কোনো শুভলগ্নে ভাঙিয়া পড়িবার অপেক্ষায় প্রহর গুনিতেছে, উহাতেই পরম সন্তোষে নন্দুর নিরাপদ অবস্থান কায়েম রহিয়াছে। নিরাপদ বলিতেছি এইজন্যই যে, পরিবারের অন্য সকল কিছুতেই উপভোগ ও ব্যবহার প্রত্যাশিদের মধ্যে যেরকম তীব্র প্রতিযোগিতা বর্তমান, এই ঘরখানার প্রতি উল্টো তাহাদের বৈরাগ্যের তীব্রতা প্রকাশ পাওয়ায় ঘরখানা ভাঙিয়া না পড়া পর্যন্ত নন্দুর দখলিস্বত্ব ক্ষুণ্ন হইবার কোন আশঙ্কা অদূর ভবিষ্যতেও নাই বলিলেই চলে। ওই ঘরখানার আরেকটা বিশেষত্ব রহিয়াছে। যাতায়াত সকল প্রাণীর জন্য বিনা বাধায় সমানভাবে উন্মুক্ত হইলেও কাউকে ওইখানে আসা-যাওয়া করিতে কদাচিৎ দৃষ্টিগোচর হইয়া থাকে। এবং যাতায়াতকারী প্রাণীরা যে নন্দুর গুটিকয়েক ইয়ারদোস্ত ছাড়া আর কেহ নয়, এইটা বোধকরি খোলাশা করিয়া বলিবার প্রয়োজন নাই।

এই ক্ষণে নন্দু বাড়িতেও নাই। কিন্তু যেই ঘটনার জন্য এই কাহিনীর আবশ্যকীয় অবতারণা তাহা এতদধিক উল্লেখযোগ্য হইয়া উঠিল যে, ঘরখানার অভ্যন্তরস্থ বর্ণনা আর নিতান্তই অনাবশ্যক। কেননা ততক্ষণে ভাঙা তক্তপোশের উপর ছোট্ট একখণ্ড ঢেলা-ইটচাপা চিরকুটখানাই নিমেষে সকলের দৃষ্টি ও মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হইয়া উঠিয়াছে। ইহাতে দুইটি মাত্র বাক্যে দাগানো হস্তাক্ষর যে নন্দুরই, ইহাতে কাহারো সন্দেহ রহিল না। ‘আত্মহত্যা আমার মৌলিক অধিকার। কেবলমাত্র ইহাতেই আমি আমার পূর্ণ অধিকার খাটাইতে পারিব।’ বেশ কিছুদূর ফাঁকা রাখিয়া চিরকূটের নিচে আরেকটি ছোট্ট বাক্য শোভা পাইতেছে- ‘আমার মৃত্যুর জন্য কেহ দায়ি নয়।’

চিরকুটখানা পড়িয়া সবাই হৈ হৈ করিয়া উঠিল। নন্দুর যে হঠাৎ করিয়া এমন আত্মহত্যা করিবার ইচ্ছা পুনর্বার জাগিয়া উঠিবে, ঘুণাক্ষরে কেহই তাহা বুঝিতে পারে নাই। অত্যন্ত সহজ সরল স্বভাবের নন্দুর পেটের ভিতর কোনরূপ জটিলতার লেশমাত্র নাই, এতোকাল তাহারা ইহাই জানিয়া আসিয়াছে। আর জানিবেই বা না কেন ! প্রতিবারেই আত্মহত্যা করিতে যাইবার পূর্বে সে হরিহর আত্মা ইয়ার-বন্ধুবর্গের সহিত সর্বাত্মক পরামর্শক্রমে অনেক পরীক্ষা নিরীক্ষা ও যাচাই বাছাইপূর্বক আত্মহত্যা করিবার অধিকতর কার্যকর ও সঠিক পদ্ধতিটাকে মনেপ্রাণে গ্রহণ করিয়া তবেই বাস্তবায়নে উদ্যোগী হইয়াছে। তথাপি উদ্দেশ্য সফল না হইবার পিছনে পরিকল্পনায় ত্রুটি রহিয়াছে ইহা বলা যাইবে না। ঘটনার মুহূর্তে কোথা হইতে আরেকটি অঘটন আসিয়া সবকিছু লেজেগোবরে করিয়া ফেলায় উদ্যোগগুলো বারেবারে সাফল্যের মুখ দেখা হইতে দূরে থাকিয়া গিয়াছে। তাই বলিয়া জানে-ইয়ার-দোস্তদের অবিশ্বাস করিবে !

এইতো আগেরবার নয়নার কাছে ছ্যাঁকা খাইয়া নন্দুর আত্মহত্যা করিবার অদম্য ইচ্ছাটা যখন সত্যি সত্যি চেগাইয়া উঠিল, কোথা হইতে যেনো গরু-মহিষ বাঁধিবার একখানা শক্তপোক্ত দড়ি আর একখানা মাটির কলসি সে জোগাড় করিয়া আনিল। নয়নার সহিত নন্দুর কোনো সম্পর্ক হইতে পারিত কিনা বা আদৌ কোনো সম্পর্ক হইয়াছিল কিনা কিংবা একটি সংলাপও আদান-প্রদান হইয়াছিল কিনা তাহা বিবেচ্য বিষয় নহে। নন্দুর যখন মনে হইয়াছে যে সে ছ্যাঁকা খাইয়াছে, তখন তাহাই সই। কেননা বীরভোগ্যা পৃথিবীর সমস্ত কিছুতে অধিকারযোগ্যতা থাকিবার পরেও নিজের ঘরেই যখন অধিকার খাটাইবার এতটুকু সুযোগও পাইলো না, কৈশোরোত্তীর্ণ সম্মানবোধ হয়তো তাহা মানিয়া লইতে পারে নাই। অতএব অধিকার প্রতিষ্ঠার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তাহাকে যদি অধিকার খাটাইবার একমাত্র জায়গা হিসাবে নিজের শরীর বা প্রাণটাকেই চিহ্ণিত করিয়া দেয় তাহাতে কাহার কী বলিবার আছে ! ইতিমধ্যেই সাঁতার শিখিয়া ফেলায় কীভাবে ডুবিয়া মরিতে হয় এই প্রক্রিয়া জানা না থাকায় ইয়ার-বন্ধুদের কাছে আসিয়া পরামর্শ চাহিল। শহরে একে তো জলাধারের সমস্যা, অন্যদিকে পদ্ধতিটা অনেক আদিম এবং নির্ভরযোগ্য মনে না হওয়ায় বাতিল হইয়া গেল। বিকল্প হিসাবে ঝুলিয়া মরাটাই অধিকতর নির্ভরযোগ্য মনে হইলেও আগে গাছে চড়া না শিখিলে এই পদ্ধতিও প্রয়োগযোগ্য হইবে না বিধায় দীর্ঘপ্রক্রিয়া হিসাবে ইহাও বাতিল হইয়া গেলো। আরো দুই একটা বিকল্প নাড়াচাড়া করিয়া অবশেষে নিরাপদ প্রক্রিয়া হিসাবে ট্রেইনের তলায় পড়িয়া আত্মাহুতি দিবার পদ্ধতিটাই সর্বসম্মতিক্রমে গৃহিত হইলো।

মরিবার ক্ষেত্রে পূর্ব অভিজ্ঞতা না থাকিবার দরুন কীভাবে কী করিতে হয় তাহা না জানিয়া একদিন সত্যি সত্যি ইস্টিশানের রেললাইনের পার্শ্বে গিয়া দাঁড়াইয়া গেলো। ইয়ার দোস্তরা ভালো করিয়া বুঝাইয়া দিলো, ট্রেইনটা যখন নিকটবর্তী হইবে তখনি ঝাঁপাইয়া লাইনের উপর পড়িয়া যাইতে হইবে। কিন্তু কোথা হইতে কীভাবে যেন খাকিপোশাকধারী বেরসিক পুলিশ আসিয়া কলার চাপিয়া ধরিয়া হিড়হিড় করিয়া টানিয়া লইয়া চলিল। ইয়ার-দোস্তরাও রেহাই পাইলো না। ইয়া বড় লোহার গরাদের ভিতরে একরাত্রি হাতিমার্কা মশার কামড় আর পুলিশি ভেটকি খাইয়া মরিবার ইচ্ছাটা সেই যে মরিয়া গেলো, পরদিন গার্জিয়ানদের বন্ড-সহির বিনিময়ে ছাড়া পাইয়া একে অন্যকে দোষারোপ করিতে করিতে বাড়ি ফিরিয়া গেল বটে। কিন্তু ইতিমধ্যে তাহারা আরো বড় হইয়া গেলো। ইহার পর বেশ কিছুদিন কাটিয়া গেল এবং ক্রমে ক্রমে মরিবার কথা ভুলিয়াও গেলো। আর এখন মন-প্রাণ ভরিয়া টাঙ্কি মারিতে হইলে যে অনিবার্যভাবেই বাঁচিয়া থাকিতে হইবে এই বোধোদয়ও তাহারা ইতিমধ্যে অর্জন করিয়া ফেলিয়াছে। কিন্তু নন্দুর এই আকস্মিক ঘটনায় তাহারা অতিশয় হকচকিত হইয়া এ ওর দিকে তাকাইতে লাগিল। হায় হায়, এখন কী হইবে ! নন্দু কোথায় যাইতে পারে ? নিশ্চয়ই সেই মাঠের দিকে গিয়াছে। অহেতুক আর বিলম্ব না করিয়া পড়িমরি সবাই উর্ধ্বশ্বাসে ছুটিল সেইদিকে।

ততক্ষণে বিকাল মজিয়া সন্ধ্যা হইয়া আসিতেছে। প্রয়োজনীয় আলোর স্বল্পতায় দূর হইতে মাঠের মধ্যিখানে ছায়ার মতো কাউকে বসিয়া থাকিতে দেখিয়া ইয়ার-দোস্তদের বুকে পানি আসিল। তথাপি দ্রুত নিশ্চিন্ত হইবার প্রত্যাশায় হাঁফাইতে হাঁফাইতে একযোগে সকলেই হাঁক ছাড়িল, ন...ন্দু... ! ছায়াটা নড়িয়া উঠিল, কিন্তু কোন প্রত্ত্যোত্তর আসিল না। দ্রুতবেগে কাছে আসিয়া সবাই দেখিল, নন্দু বিষণ্ন মনে বিধ্বস্ত অবস্থায় বসিয়া বসিয়া কোঁকাইতেছে। তথাপি তাহাকে জীবিত আবিষ্কার করিয়া ইয়ার-দোস্তরা যাহার পর নাই উল্লসিত হইয়া চিৎকার করিয়া উঠিল- হুড়ড়েএএএএএ...। কিন্তু নন্দুর মুখ হইতে তখন কোঁকানির সঙ্গে সঙ্গে তীব্র ক্ষোভ ঝরিয়া পড়িতেছে, ভেজাল বিষ বিক্রেতা মুদি দোকানি ময়নাকে এইবার সে দেখিয়াই ছাড়িবে। কিন্তু তাহার কথার মধ্যিখানেই একজন নন্দুর গলায় আঙ্গুল ঢুকাইয়া দিলো এবং হক হক করিয়া তীব্র উদ্গারে নন্দু এক কলস পরিমাণ বমি করিয়া দিলেও বমির চেহারা দেখিবার মতো যথেষ্ট পরিমাণ দিবালোক হয়তো অবশিষ্ট ছিলো না। তথাপি শেষ পর্যন্ত নন্দু বুঝি বাঁচিয়া গিয়া তাহার আরেকটি উদ্যোগও ব্যর্থ হইয়া গেলো ! চারিদিকে ভেজালের ভীড়ে অতিষ্ঠ হইতে হইতে সবাই যখন বীতশ্রদ্ধ হইয়া উঠিয়াছে, সেই মুহূর্তে এইরকম একটি উপকারী ভেজালকে ‘চিয়ার আপ’ না জানাইলে কি হয় ! যেই ভাবা সেই কাজ। দুইজন দৌঁড়াইয়া গিয়া কোথাও হইতে বেশ কতকগুলি রসগোল্লা নিয়া আসিল। সোল্লাসে সবাই মিষ্টিগুলি খাইয়াও ফেলিল। কিন্তু বিষণ্ন অসুস্থ নন্দুর আরেকটি সাফল্য মাঠে মরিয়া যাওয়ায় অত্যন্ত আশাহত হইয়া সে ওই মিষ্টি ছুঁইয়াও দেখিল না। কিন্তু হঠাৎ করিয়া এই কী হইল ! মুহূর্তকালের মধ্যেই ইয়ার-দোস্তগণ তীব্র ভেদবমি করিতে করিতে লুটাইয়া পড়িল। এদিকে কিছু করিবার মতো সক্ষমতা তাহারও কমিয়া আসিতেছে। এবং হঠাৎ করিয়া সে সশব্দে কাঁদিয়া উঠিল।

(০২)
ক্লিনিকের ইমার্জেন্সীতে রীতিমতো ভীড় জমিয়া গেছে এবং মুহূর্তে মুহূর্তে তাহা বাড়িতেছে। এইদিকে সেইদিকে অনবরত ক্যামেরার ফ্লাশ জ্বলিয়া উঠিতেছে । কর্তব্যরত ডাক্তার সাহেব আগত সংবাদকর্মীদের কাছে ব্যাখ্যা করিতে করিতে হাঁফাইয়া উঠিতেছেন। একইসঙ্গে ভর্তি হওয়া পাঁচ-পাঁচটি তরুণ রোগীর দুঃখজনক আপডেট দিতেছেন তিনি । ভেজাল বিষের প্রয়োজনীয় বিষক্রিয়ার অভাবে বাচিঁয়া যাওয়া একমাত্র রোগীটির সঙ্গে বাকি রোগীদিগকে বাঁচানো যায় নাই ভেজাল মিষ্টিতে থাকা অনাহুত বিষক্রিয়ার কারণে। যাহার মরিয়া যাওয়ার কথা, সে মরিল না। অথচ যাহারা বাঁচিয়া থাকাকে স্বাগতম জানাইতে চাহিয়াছিল, তাহারাই কিনা মরিয়া গেলো ! জড়াইয়া গেলো ভেজাল মিষ্টির জালে !

(০৩)
সেই হইতেই আমাদের নন্দুর যখনি কোনরূপ আত্মহত্যা করিবার ইচ্ছা জাগিয়া উঠে, সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কে ভীষণ কাহিলও হইয়া পড়ে। যখনি ভাবিতে বসে, জীবনটা ভেজাল হইয়া যাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যুর মধ্যেও ভেজাল ঢুকিয়া গেছে, সে আর ঠিক থাকিতে পারে না ! তথাপি নন্দু এখন আরো অনেক বড় হইয়া গেছে। এতো বড়ো সে কখনোই হইতে চাহে নাই। কিন্তু ইহা রোধ করিবার কোন উপায়ও তাহার জানা নাই। কেননা প্রয়াত বন্ধুদের প্রতি দুর্বহ কৃতজ্ঞতার অসহ্য বোঝা মাথায় নিয়া এখনো সে তাহার সেই অপূর্ণ একটি দাবিকেই ঝাণ্ডা বানাইয়া দাঁড়াইয়া থাকে রাস্তার মোড়ে মোড়ে, ‘ভেজালমুক্ত আত্মহত্যার অধিকার চাই। আত্মহত্যা আমার মৌলিক অধিকার।’

[sachalayatan]