
শেষ মুহূর্তের আগে...
রণদীপম বসু
...
০১.
বুকের ভেতরে কোথায় যেন একটা পাথর আটকে গেছে ! শ্বাস নিতে পারছি না। ভয়ঙ্কর হাসফাস হচ্ছে। আগুনের তীব্র হল্কায় ভেতরে ঝলসে যাচ্ছে সব। কী হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। খাড়া করা দড়ির মতো ভারসাম্যহারা শরীরটা মুহূর্তেই লুটিয়ে পড়লো মাটিতে। এরপর যা ঘটতে লাগলো, অবিশ্বাস্য, আরো ভয়ঙ্কর ! চোখ দুটো বুজে এসেছে প্রায়। কিন্তু এ কী দেখছি আমি ! এক তীব্র অজানা আতঙ্কে সিটিয়ে যাচ্ছি ক্রমশই। ব্যায়ামপুষ্ট তরতাজা শরীরটা শুকনো ফোটা পাকা আমের বাকলের মতো এমন অদ্ভুত কুঁকড়ে যেতে লাগলো, খলবলে পেশীবান ভেজা উরুটা দেখতে দেখতেই চিপসে অর্ধেক হয়ে গেলো ! ধনুকের ছিলার মতো তারুণ্যের উজ্জ্বল টানটান চামড়া যেন সহস্রভাঁজে ঝুলে পড়েছে। কে বলবে এটা বিরানব্বই বছরের পুষ্টিহীন কোন অশীতিপর বার্ধক্য আক্রান্ত উরু নয় ! মাংসপেশীগুলো জমে পাথর হয়ে যাচ্ছে সব। গোটা শরীরটাই কি এমন বীভৎস হয়ে গেলো !




