Thursday, July 30, 2009

[Hijra] হিজড়া, প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের এক দুর্ভাগা শিকার !


হিজড়া, প্রকৃতির বিচিত্র খেয়ালের এক দুর্ভাগা শিকার !
রণদীপম বসু
...
স্মৃতি হাতড়ালে এখনো যে বিষয়টা অস্পষ্ট হয়ে ধরা পড়ে, শৈশবের অবুঝ চোখে সেইকালে বুঝে উঠতে পারতাম না, কারো বাড়িতে সন্তান জন্ম নিলে শাড়ি পরা সত্ত্বেও বিচিত্র সাজ-পোশাক নিয়ে কোত্থেকে যেসব মহিলা এসে নাচগান বা ঠাট্টা-মশকরা করে তারপর বখশিস নিয়ে খুশি হয়ে চলে যেতো, এদের আচার আচরণ ও বহিরঙ্গে দেখতে এরা এমন অদ্ভুত হতো কেন ! শৈশবের অনভিজ্ঞ চিন্তা-শৈলীতে পুরুষ ও নারীর পার্থক্যের জটিলতা বিশ্লেষণ করার ক্ষমতা না জন্মালেও স্বাভাবিকতার বাইরে দেখা এই অসঙ্গতিগুলো ঠিকই ধরা পড়েছে, যা প্রশ্ন হয়ে বুকের গভীরে জমে ছিলো হয়তো। পরবর্তী জীবনে তা-ই কৌতুহল হয়ে এক অজানা জগতের মর্মস্পর্শী পীড়াদায়ক বাস্তবতাকে জানতে বুঝতে আগ্রহী করে তুলেছে। আর তা এমনই এক অভিজ্ঞতা, যাকে প্রকৃতির নির্মম ঠাট্টা বা রসিকতা না বলে উপায় থাকে না !

Tuesday, July 28, 2009

# আহা জীবন ভ্রাম্য জীবন...০৭


|ইঁদুর|
রণদীপম বসু

ইঁদুরের বংশ
করে দিন ধ্বংস...!
.
.
যে অদৃশ্য ইঁদুরের দৌরাত্ম্যে ভোগে লোকটি পথে নেমেছে, ইঁদুর নামের কিছু দৃশ্যমান ও ক্ষতিকর প্রাণী ধ্বংস করে অন্যের দিন-যাপনকে আরেকটু নিরুপদ্রব করে দেয়ার জন্য, এসব দৃশ্যমান ইঁদুর হয়তো ধ্বংস হবে ঠিকই।
কিন্তু সেই অদৃশ্য ইঁদুরের দৌরাত্ম্য কি থামবে তাতে...?

[somewherein]

# ওই ছেমড়ি তোর পাছায় কাপড় কই !


| ওই ছেমড়ি তোর পাছায় কাপড় কই !
রণদীপম বসু

সমস্যা হলো পেটে দানা না থাকলেও পাছা বা লজ্জা আমাদের ঢেকে রাখতেই হয়। আমাদের মান সম্মান ইজ্জত ওই পাছার মধ্যেই থাকে কিনা ! তাই ভেতরে সদরঘাট হলেও বাইরে ফিটফাট থাকতে পারতপক্ষে কসুর করি না আমরা। কিন্তু চাইলেই কি ফিটফাট থাকা যায় ? প্রয়োজনীয় খাবার না পেলে আধপেটা কিংবা উপোস চালিয়ে দেয়া গেলেও পাছা অর্ধেকটা কিংবা পুরোটা উন্মুক্ত রাখার কায়দা কি আছে ? প্রকৃতির নিয়ম যে বড়ো উল্টো ! পাছা খোলা রাখো কিবা ঢেকে রাখো, প্রকৃতির কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু পেটে দানা না দিয়ে সইবে কতো ? প্রকৃতি সয় না তা। শেষ পর্যন্ত প্রকৃতির বশ না হয়ে উপায়ও থাকে না আমাদের। পাছা ঢাকো কি না ঢাকো, পেটের জোগাড় আগেভাগেই করে রাখতে হয়। পেট আর পাছার এই যে সমন্বয়, কারো কারো কাছে তা কোনো বিষয়ই নয়, যাদের আয় উপার্জনে লক্ষ্মীর বর রয়েছে। কিন্তু লক্ষ্মীছাড়া যাদের অনিবার্য ব্যয়ের সাথে আয়ের সংগতি পরিহাসের পর্যায়ে চলে যায়, তাদের পাছায় যে সত্যি সত্যি কাপড় থাকবে সে গ্যারান্টি কে দেবে ?

Thursday, July 23, 2009

# ‘কিংবদন্তী’


‘কিংবদন্তী’
রণদীপম বসু

“ আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি
আমি আমার পূর্বপুরুষের কথা বলছি।
তাঁর করতলে পলিমাটির সৌরভ ছিল
তাঁর পিঠে রক্তজবার মতো ক্ষত ছিল।”


কবি আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ’র ‘আমি কিংবদন্তীর কথা বলছি’ শিরোনামের বিখ্যাত এ অমর কবিতাটা পড়েননি বা এর কিছু পঙক্তি শুনেননি এমন বয়স্ক শিক্ষিত বাঙালি খুব বেশি নেই। বাঙালির ইতিহাস এই কিংবদন্তীরই ইতিহাস। এভাবেই আরেক কিংবদন্তী হয়ে ওঠা আমাদের প্রিয় মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যেন আগামী প্রজন্ম কখনোই ভুলে না যায়, সেই অদম্য ইচ্ছের স্বপ্নই ঝরে পড়ে ভাস্কর হামিদুজ্জামান খানের গড়া ভাস্কর্য ‘কিংবদন্তী’র ঝকঝকে ধাতব শরীরে।

Wednesday, July 22, 2009

# আর ভিক্ষা করুম না, কানে ধরছি !


আর ভিক্ষা করুম না, কানে ধরছি !
রণদীপম বসু

কিছু কিছু ছবির কোন ক্যাপশান হয় না, হওয়া উচিত না। তবু বাঙড়ামি করে ক্যাপশান বসিয়ে দেই আমরা।
এ ছবিটার কি কোন ক্যাপশান হয়...! কিংবা নিচের এই ছবিটার...!

# দেখুন তো, চিনতে পারেন কিনা ?


। দেখুন তো, চিনতে পারেন কিনা ?
রণদীপম বসু
...
ছবির বস্তুটাকে আপনি কি নারিকেল ভাবছেন ? নিশ্চিত থাকুন, এগুলো নারিকেল নয়। তবে তা যে-গাছের ফল বা বীজ, আমাদের অত্যন্ত পরিচিত সে গাছটাকে উদ্ভিদের বৈজ্ঞানিক শ্রেণীকরণে একে তৃণগোত্রের উদ্ভিদ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও গাছটির আকার আকৃতি বা উচ্চতা বিবেচনায় নিলে আমাদের অনভিজ্ঞ বিস্ময়ের সীমা থাকে না !

Friday, July 17, 2009

# লোকটা নাকি পাগল ছিলো...!


লোকটা নাকি পাগল ছিলো...!
রণদীপম বসু
...
টোনা কহিলো- টুনি পিঠা করো। টুনি কহিলো- চাল আনো, তেল আনো, নুন আনো, গুড় আনো ইত্যাদি ইত্যাদি। টোনা কহিলো- ঠিক আছে, আমি যাইতেছি, তুমি রান্নার বুঝ-ব্যবস্থা করো। এইভাবে টুনি ঘরের কাজে আটকা পড়িলো। আর টোনা ফুড়ুৎ কইরা উড়াল দিয়া গেলোগা। এবং অন্য আরেক টুনির সঙ্গে পুটুর-পাটুর করিতে লাগিলো।
এই গল্প থেকে থেকে আমরা কী শিক্ষা পাই ? শিক্ষা পাই- ছাগল দুই ধরনের। দেশি ছাগল আর রাম-ছাগল। দেশি ছাগল হইলো ব্ল্যাক বেঙ্গল। কান দুইটা ছোট ছোট। আর রামছাগল ? কান দুইটা এই লম্বা লম্বা ! বদমাইশি কইরা কইরা জীবনে বহুৎ কানমলা খাইছে তো, শরীরটা মাশাল্লা হৃষ্টপুষ্ট হইছে ! কিন্তু কানগুলা আমার চ্যাঙ্গের মতো ঝুইল্যা গেছে !

কী বুঝলি ?

# [রম্যগল্প]...লিঙ্গান্তর...


লিঙ্গান্তর...
রণদীপম বসু
...
(০১)
হঠাৎ করিয়া একখান গায়েবী আওয়াজ হইলো- ‘ হে প্রাণীগণ, সৃষ্টির পুনর্বিন্যাসকাল আসন্ন। এবার প্রস্তুত হও। অনতিবিলম্বে তোমাদের মধ্যে পরস্পর লিঙ্গ পরিবর্তন করিয়া দেওয়া হইবে।’

চিরিং করিয়া উঠিয়া বসিলো আক্কাছ। অজান্তেই বাম হাতখানা অভ্যাসবশত তলপেট বাহিয়া নিচে নামিতে লাগিলো। এইটা কী শুনিলো ! বৈচিত্র্যহীন ছুটির দিনের মধ্যাহ্ণভোজ সারিয়া ক্রমে ক্রমে গরম হইয়া ওঠা মাথাটাকে নতুন কভার লাগানো বালিশখানায় ভালো করিয়া রাখিতেও পারিলো না, ওই পাশের ঘর হইতে স্ত্রী খালিজা বানু ওরফে কলিজা বেগমের হম্বিতম্বিটাও পুরাদমে শুনা যাইতেছে, আচমকা এই গায়েবী ঘোষণা ! এইটা কী করিয়া সম্ভব ! পুরুষগুলা সব নারী হইয়া নারীগুলি পুরুষ হইয়া যাবে ! নাহ্, সে ভুল শুনিয়াছে !

Tuesday, July 14, 2009

# ছবি ও না-ছবি : একটি সংগীত-সন্ধ্যার নির্ঘণ্ট। ২য়/শেষ পর্ব।


ছবি ও না-ছবি : একটি সংগীত-সন্ধ্যার নির্ঘণ্ট। ২য়/শেষ পর্ব।
রণদীপম বসু

[১ম পর্ব এখানে...]

‘এই চর্মচক্ষে আমরা যাহা দেখি, তাহাই কি সত্যি ?’ এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে নমুনা স্বরূপ আমাদেরকে সেই স্পটগুলোতে ঢুঁ মারতে হবে, যেখানে একটা সংগীত-সন্ধ্যা মুখর অনুষ্ঠানে (১২-০৭-২০০৯ রবিবার ঢাকার শাহবাগে বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের শহীদ জিয়া মিলনায়তনে কিউটেনাস টি সেল লিম্ফোমা নামের ভয়াবহ রকমের ক্যান্সারে আক্রান্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা এ জে এস এম খালেদের চিকিৎসা সহায়তা তহবিল সংগ্রহার্থে আয়োজিত) আমাদের প্রিয় সচল মুখগুলো অনানুষ্ঠানিক যেসব মাধুর্য্য রচনা ও সংরক্ষণ করে গেছেন তা দেখার জন্য।

Monday, July 13, 2009

# ছবি ও না-ছবি : একটি সংগীত-সন্ধ্যার নির্ঘণ্ট। ১ম পর্ব।


ছবি ও না-ছবি : একটি সংগীত-সন্ধ্যার নির্ঘণ্ট। ১ম পর্ব।
রণদীপম বসু
...
ছবি দেয়ার সবচে’ সহজ ও কঠিন সুবিধাটা হলো- নিরেট বুদ্ধিজীবী থেকে শুরু করে একাধারে আমার মতো এক্কেবারে হাবাগোবা বেক্কল-টাইপ লোকটিও হৃদয়ঙ্গম করতে পারেন এমন অসাধ্য প্রচেষ্টায় ইতংবিতং লিখে শহীদ হয়ে যাবার কোন ঝামেলা নেই। ছবিই সবকিছু বলে দেয়। এবং এমনভাবেই বলে দেয় যে, লেখার বাবারও সাধ্যি নেই এর চেয়ে বেশি কিছু বলা বা বুঝানোর। আর বেশি বুঝানো তো দূরের কথা, একটা ছবি দেখে আমরা যা বুঝতে পারি তার সমান বুঝ সাপ্লাই দেয়াও কি যার তার দ্বারা সম্ভব ! আমার দ্বারা তো নয়ই ! এই দেখুন না, এ মুহূর্তে আমি যে কী বুঝাতে চাচ্ছি, এখন নিজেই সেটা বুঝতে পারছি না ! অন্যকে আর বুঝাবো কী ! অতএব এসব ক্যাচক্যাচানি বাদ দিয়ে বরং নিচে কিছু নমুনা ছবি ও উদাহরণ টানাই নিরাপদ উপায় হবে।

Thursday, July 9, 2009

# । প্রান্তিকের জন্ম দিনে।


। প্রান্তিকের জন্ম দিনে।
রণদীপম বসু

মানুষ ছোট্ট হতে পারে, মনটা তাঁর হতে হয় অনেক বড়।

মুক্ত-ডানার পাখি হয়ে আকাশের চাবিটাকে খুঁজে খুঁজে
একদিন তুমিও হয়ে ওঠো অনেক অনেক অনেক বড়।

প্রান্তিক দীপম, তোমার শুভ জন্মদিনে আজ এই কামনা।

----------------------------

[sachalayatan]
[somewherein|chotoder somewherein]

Wednesday, July 8, 2009

# প্রয়াত ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ, কবরের জায়গা না পেয়ে এখনো দাফনের অপেক্ষায়...!


প্রয়াত ড. আলাউদ্দিন আল আজাদ,
কবরের জায়গা না পেয়ে এখনো দাফনের অপেক্ষায়...!

রণদীপম বসু
...
মৃত্যুর পর তাঁকে যেন শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হয়, তাঁর এই শেষ ইচ্ছেটা তিনি একবারও কি উচ্চারণ করতেন, যদি জানতেন কবরের একটুকু জায়গা না পেয়ে দাফনের অপেক্ষায় তাঁর নিথর মরদেহটি পাঁচ পাঁচটি দিন হাসপাতালের হিমঘরে পড়ে থাকবে ! এই জাতির কাছে তাঁর চাওয়াটা কি খুব বেশি কিছু ?

Sunday, July 5, 2009

# আমাদেরকে যেন আফসোস করতে না হয় !


আমাদেরকে যেন আফসোস করতে না হয় !
রণদীপম বসু
...
আমাদের জীবনকালেই হয়তো সেই সময়টা আমরা দেখে যাবো, এই দেশ এই মাটি এবং আমাদেরকে রাহুমুক্ত করতে নির্দ্বিধায় জীবনটাকে বাজী রেখে যাঁরা পাহাড়ের মতো অদম্য বুকটাকে টানটান করে দাঁড়িয়েছিলেন ট্যাঙ্ক গুলি আর বন্দুকের মুখে, আমাদের প্রচণ্ড অপরাধবোধ আর তীব্র পাপবোধ থেকে রেহাই পেতে ঋণশোধ তো দূরের কথা, একটুখানি কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্যেও তখন আর একজনকেও খুঁজে পাবো না আমরা ! তাঁরা আমাদের ভাই, বন্ধু, পিতা, প্রাণের প্রিয়জন। তাঁরা আমাদের অহঙ্কার, বীর মুক্তিযোদ্ধা। কৃতজ্ঞ সন্তান হিসেবে মায়ের প্রতিটা ফোঁটা দুধের ঋণ শোধ করে দিয়েছিলেন তাঁরা। ভাই হিসেবে ভ্রাতৃত্বের অমোঘ বন্ধনকে করেছেন পবিত্র, বন্ধু কিংবা প্রিয়জন হিসেবে স্বতঃস্ফূর্ত দায়বোধের পবিত্রতা ধারণ করে এই জাতিকে কলুষমুক্ত করতে সর্বোচ্চ ত্যাগে মহীয়ান তাঁরা আজ আমাদের পিতার আসনে অধিষ্ঠিত।

Thursday, July 2, 2009

# নদী নয় নারী নয় ..(অণুকাব্যগুচ্ছ-০৬)


নদী নয় নারী নয় ..(অণুকাব্যগুচ্ছ)
রণদীপম বসু

(০১)
বালিকার নদীটাকে ছুঁবো বলে আমি
ডুব দিতে বারবার ভুল জলে নামি।

(০২)
জলের অতলে ডুবে করি জলচাষ
ওখানেও তুমি ! না কি জলের আকাশ !

(০৩)
যেখান দিয়ে হেঁটে গেছো, দৌঁড়ে খুঁজি পথ
থমকে দাঁড়াই, ভাঙছে নদী জলেরই শপথ !

(০৪)
চুম্বনের ওই গন্ধ খুঁজে নদীর কাছে যাই
নদী বলে-
তোমার মতো বোকা তো ভাই স্বপ্নপুরে নাই !

(০৫)
মৃত্যু ছিলো তোমার বুকে, নদী দিলো ঠাঁই
বললে তুমি- এবার পেলাম তোমার পুরোটাই !
(০২-০৭-২০০৯)

[sachalayatan]