Friday, August 28, 2009

# টান নেই আঁচড় নেই শুধুই বিষাদ - ০৩ (কবিতাগুচ্ছ)


টান নেই আঁচড় নেই শুধুই বিষাদ - ০৩ (কবিতাগুচ্ছ)
-রণদীপম বসু


দেউটিতে বসে নেই কেউ
রণদীপম বসু

দেউটিতে বসে নেই কেউ, বসবেও না আর।
নির্জলা আকাশটাকে ভাঁজ করতে করতে করতে করতে
যে নাকি একদিন নিজেই এক হয়ে যেতো খাপখোলা আকাশ
সে এখন জলডুবি হ্রদের স্বচ্ছ অতলে ডুবে মেঘেদের মিতালি পাতায়,
মাছেদের নির্জন সঙ্গমচিহ্ণ খুটে খুটে উরুর জমিনে আঁকে বৃষ্টির ক্ষত।

সংসার উচ্ছন্নে যায়।
দেউটির শূন্যতা ডিঙিয়ে উন্মুক্ত কবাটে লাগে বাতাসের ঢেউ
এক চিমটি আর্দ্রতার সুখ ঘরময় ছোটাছুটি হাহাকার ছড়ায়
বসতে বলে না কেউ, বলবেও না আর
মোমরঙে আঁকাবুকো জ্যোৎস্নার আকাশ
বৃষ্টি নয়, রোদের উষ্ণতায় গলে ছিঁড়েখুড়ে নৈঃশব্দে হারায়।

দেউটিতে বসে নেই কেউ।
হয়তো বসবে এসে কখনো আবার কেউ
ইচ্ছের ভ্রুকুটি-জলে আবার ভাসাবে কেউ নতুন আকাশ
এ খবর রটায় না কেউ, তবু কেউ কেউ জেনে যায়
খিড়কি খুলে উঁকিঝুঁকি দেয়- কখন সঙ্গপ্রিয় পিঁপড়েরা
কুটিকুটি কেটেকুটে সার বেধে নিয়ে যাবে পুরনো আকাশ...!
(২৭-০৮-২০০৯)

Thursday, August 20, 2009

| প্রফেসর ইউনূস ও অমর্ত্য সেন, ভিন্ন স্রোতেও এক অভিন্ন মুখ !


প্রফেসর ইউনূস ও অমর্ত্য সেন, ভিন্ন স্রোতেও এক অভিন্ন মুখ !
-রণদীপম বসু


দু’জনকে দুই মেরুর অর্থনীতিবিদ বলা হয়। কেন বলা হয় তা বুঝি না আমি। অর্থনীতি আমার পঠিত বিষয় নয়, কিংবা এ বিষয়ে খুব একটা জানিও না। যেটুকু জানি, দুজনই বাঙালি, অর্থনীতির ছাত্র ও অধ্যাপক এবং নোবেল লরিয়েটও। অমর্ত্য সেন (Amartya Sen), একজন তাত্ত্বিক অর্থনীতিবিদ, যাঁকে কল্যাণমূলক অর্থনীতির প্রবক্তা বলা হয়। তিনি তাঁর গবেষণায় দেখিয়েছেন যে, দুর্ভিক্ষের সাথে উৎপাদনের সম্পর্ক ক্ষীণ, বরং খাদ্যের অসম বণ্টন ও ক্রয় ক্ষমতা বা খাদ্য সংগ্রহের বিপর্যয়ই দুর্ভিক্ষের মূল কারণ। বিশ্বের যেসব দেশ বিভিন্ন সময়ে যে বছর দুর্ভিক্ষে পতিত হয়েছিলো, তিনি দেখিয়েছেন, বিস্ময়করভাবে সেই বছর সেই দেশটিতে খাদ্যের বাম্পার ফলনের রেকর্ড রয়েছে অর্থাৎ গড় উৎপাদনের চাইতে ফলন বেশি ছিলো। আরো অনেক অনেক বিষয়ই ছিলো, যা এ বিষয়ে বিজ্ঞজনরাই ভালো বলতে পারবেন। অর্থনীতির তাত্ত্বিক দুনিয়ায় অনন্য অবদানের জন্য অমর্ত্য সেনকে ১৯৯৮ সালে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়।

| ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত প্রথম বাঙালি |


‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’,
যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননায় ভূষিত প্রথম বাঙালি

-রণদীপম বসু

...
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আরেকটি বিরল সম্মান বয়ে আনলেন বাঙালি ও বাংলাদেশের জন্য। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক পদক ‘প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’-এ ভূষিত হলেন তিনি। ১২ আগস্ট ২০০৯ বুধবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত প্রায় ৩.০০ টায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসের ইস্ট রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাকজমকের সাথে মুহুর্মুহু করতালির মধ্যে দিয়ে নিজ হাতে ড. ইউনূসের গলায় এ পদক পরিয়ে দেন। এ সময় তাঁকে সহায়তা করেন ফার্স্ট লেডি মিশেল ওবামা।


বিজ্ঞান, রাজনীতি, অর্থনীতি, ক্রীড়া, সঙ্গীত ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে অনন্য সাধারণ অবদান রাখার জন্য এই সম্মাননা জানাতে নির্বাচিত ১৬ জনের নাম গত জুলাই ২০০৯ মাসেই ঘোষণা করা হয়েছিলো। এদের মধ্যে ১২ জন আমেরিকান এবং ৪ জন আমেরিকার বাইরের। ড. ইউনূস ছাড়া বাকিরা হচ্ছেন দক্ষিণ আফ্রিকার আর্চ বিশপ ডেসমন্ড টুটু, ব্রিটিশ পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিফেন হকিং, মার্কিন সিনেটর রবার্ট এডোয়ার্ড কেনেডি, প্রখ্যাত চলচ্চিত্র অভিনেতা সিডনি পয়টিয়ার, সাবেক প্রথম মহিলা আইরিশ প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, অভিনেত্রী চিতা রিভেরা, নাগরিক আন্দোলনের নেতা রেভারেন্ড জোসেফ-ই-লোয়ারি, আমেরিকান আদিবাসী ঐতিহাসিক ও শিক্ষাবিদ জোসেফ মেডিসিন ক্রো, সমাজকর্মী ন্যান্সি গুডমান ব্রিঙ্কার, চিকিৎসা বিজ্ঞানী ড. জানেট ডেভিসন রাউলি, সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি সান্ড্রা ডে ও’কনর, টেনিস তারকা বিলি জিন কিং, মানবতাবাদী হিস্পানিক চিকিৎসক ড. পেড্রো জোসে গ্রিয়ান জুনিয়র প্রমুখ।

Friday, August 14, 2009

| …সাহিত্যের দিনমজুর !


…সাহিত্যের দিনমজুর !
রণদীপম বসু
.
(০১)
‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে…’, রবীন্দ্রনাথের এই সঙ্গীতটিকে ঋদ্ধি ও মননে ধারণ করেছিলেন বললে হয়তো ভুলভাবে বলা হবে ; বলতে হবে, ওই সঙ্গীতের মন্থিত জীবন-রসের সবটুকু মাধুর্যকেই বুকে আগলে নিয়েছিলেন তিনি। শুধু কি আগলেই নিয়েছিলেন ? আগুনের ওই পরশমণির অনিন্দ্য ছোঁয়ায় অগ্নিশুদ্ধ হয়ে নিজেকে এমন এক জীবনশিল্পীর মর্যাদায় আলোকিত করে নেন, সমকালীন বাস্তবতায় কী সাহিত্যে কী সাংবাদিকতায় কী চিন্তা চেতনা জীবনাচারে সময়ের চেয়েও এক অগ্রবর্তী পুরুষে উত্তীর্ণ হন তিনি। আর সময়ের চেয়ে এগিয়ে গেলে যা হয়, চলনে বলনে যাপনে সহজ সারল্যের প্রকাশ সত্ত্বেও সাধারণের চোখে হয়ে যান দুর্নিবার বিস্ময়, জিজ্ঞাসায় মোড়ানো এক রহস্য পুরুষ ! মাহবুব-উল আলম ছিলেনও তা-ই।

ধন্দে পড়তে হয় তাঁর নামের আগে প্রয়োগযোগ্য একক কোনো বিশেষণের খোঁজে। কথাশিল্পী ? হতেই পারে। সাহিত্যে মৌলিক চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির জন্য যিনি সর্বোচ্চ পুরস্কার হিসেবে ১৯৬৫ সালে ‘বাংলা একাডেমী পুরস্কার’, ১৯৬৭ সালে তৎকালীন পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের দেয়া পুরস্কার ‘প্রাইড অব পারফরমেন্স’ এবং ১৯৭৮ সালে ‘একুশে পদকে’ ভূষিত হন, ‘কথাসাহিত্যিক’ বিশেষণটা যে তাঁর একান্ত নিজস্ব শব্দমালার অংশ হয়ে যায়, তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে ! প্রেসিডেন্ট আইজেন হাওয়ার কর্তৃক আমন্ত্রিত লেখক হিসেবে আমেরিকা সফরে (১৯৫৯ সালে) পাওয়া ‘He is a man of unusual talent’ অভিধা যাঁর স্বীকৃতিপত্রে ঝলমল করতে থাকে, বিশেষণ নিজেও হয়তো বিশেষায়িত হয়ে যায় মাহবুব-উল আলম নামটির সাথে একাত্ম হতে পেরে।

# একটি ফকির প্রজন্ম ও এক টাকা ছাড় !


একটি ফকির প্রজন্ম ও এক টাকা ছাড় !
রণদীপম বসু


গরীবের বউ...

ফকিরের ঘরে ফকির জন্মাবে ধনীর ঘরে ধনী, এটা খুবই প্রাথমিক ও প্রকৃতিগত সত্য কথা। কেননা জন্মমাত্র ফকির পরিবারের সদস্য হিসেবে সে তো ফকিরই হবে। এর অন্যথা হবার কোন কারণ দেখি না। তেমনি ধনীর দুলালের ক্ষেত্রেও বিষয়টা অনুরূপই হয়। তবে জন্ম-পরবর্তী সে কি ফকিরই থাকবে, না কি থাকবে না, কিংবা ধনীর দুলাল কি উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদে আজীবন সম্পদশালী থাকবে, না কি নিঃস্ব হয়ে যাবে তা নির্ভর করবে তার পরবর্তী জীবনের কর্মকৃতি বা কৃতকর্মের উপর। নিজ যোগ্যতা, শ্রম, স্বপ্ন ও দুর্নিবার ইচ্ছাশক্তির ব্যবহার করে জন্মফকির যে কৃতি সম্পদশালী হয়ে উঠতে পারবে না, এমন নিষেধাজ্ঞা কি কোথাও নাজেল হয়েছে ? হয নি। তাই এর নজির যেমন রয়েছে অনেক, তেমনি চুরি-চামারি-ছিনতাই-রাহাজানি-ডাকাতি-প্রতারণা ইত্যাদি অবৈধ পদ্ধতি ও প্রক্রিয়ায় কাড়ি কাড়ি অর্থসম্পত্তির মালিক বনে যাওয়ার নমুনারও অভাব নেই, বরং একটু বেশিই আছে। আবার উত্তরাধিকারসূত্রে প্রচুর অর্থসম্পদশালী হয়েও দূরদৃষ্টিহীন অথর্বতা অযোগ্যতা বা অমিতব্যয়ী অবিমৃষ্যকারিতা ইত্যাদি ইত্যাদি কারণে ফকির হয়ে যাবার ইতিহাসও কম নেই। এজন্যেই হয়তো বিবেকের-কবি গেয়ে উঠেন- ‘আজকে যে রাজাধিরাজ কাল সে ভিক্ষা চায়, চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়...।’ এই যে চিরদিন কারো সমান যায় না, এর মাজেজাও হয়তো অনেক।

Sunday, August 2, 2009

# বন্ধুহীন একটি বিকেল...


বন্ধুহীন একটি বিকেল...
রণদীপম বসু
...
জীবন কি গড়িয়েই চলে ! গড়িয়ে গড়িয়ে কোথায় যে যায় ! এর কূলকিনারা আমরা যে পাই না, তা কি চিরায়ত জীবনটার আবহমান দূরত্ব পাড়ি দেয়ার বিপরীতে আমাদের নিজেদের জীবন-দৈর্ঘ্যরে অকল্পনীয় হ্রস্বতা ?

অনন্ত জীবনের কাছে প্রতিটা মানুষের এতো কৌতুকময় উপস্থিতি একদিন ঠিকই অনুপস্থিতির শূন্যতায় ঢেকে যায়, আমরা থেমে যাই। কিন্তু জীবন গড়িয়েই চলে, বিরামহীন।