Saturday, February 28, 2009

# এটা কি বিডিআর বিদ্রোহ, না কি কোন জঙ্গি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন...!


এটা কি বিডিআর বিদ্রোহ, না কি কোন জঙ্গি পরিকল্পনার বাস্তবায়ন...!
রণদীপম বসু
...
২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ বাংলাদেশ রাইফেলস তথা বাংলাদেশের ইতিহাসের যে ভয়াবহতম নৃশংস ঘটনা ঘটে গেলো তাকে একেবারে প্রাথমিকভাবে বিডিআর জওয়ানদের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ বিদ্রোহ হিসেবে তাৎক্ষণিকভাবে আখ্যায়িত করা হলেও ধীরে ধীরে ভেতরের লোমহর্ষক ঘটনাগুলো মিডিয়ার মাধ্যমে একে একে উন্মোচিত হতে থাকলে তা যে আদৌ কোনো বিদ্রোহ ছিলো কিনা সে হিসাবটাই এখন গরবর হতে শুরু করেছে। অন্তত এটা বুঝা গেলো যে বিডিআর-এর মধ্যে মিশে থাকা তৃতীয় কোন গোষ্ঠী এই ঘটনাধারাকে জনসাধারণের মধ্যে অত্যন্ত সফলভাবে ভিন্নখাতে দৃষ্টি ঘুরিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছিল বলেই মনে হয়। ইতোমধ্যে ঘটনার যেটুকু আমরা জানতে পারছি তাতেই এর ভয়বহতায় আৎকে উঠছি ! এরই মধ্যে জিম্মি অবস্থা থেকে মুক্ত অনেকের ভাষ্যও মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পারছি আমরা। যদিও সবটুকু শোনার সুযোগ আমাদের নেই বা এগুলোর সত্যাসত্য যাচাইয়ের কোন উপায় আমাদের নেই। তবু শুরু থেকে সাধারণ নাগরিকদের কাছে প্রকাশিত ঘটনাচিত্র, জওয়ানদের বিভিন্ন সময়ে উৎক্ষিপ্ত উক্তি, দাবী-দাওয়া এমনকি সামগ্রিক বডিল্যাংগুয়েজের সাথে ঘটনাপরবর্তী আংশিক উন্মোচিত বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে সামগ্রিক পরিস্থিতির গভীরে ভয়ঙ্কর একটা পূর্ব-পরিকল্পনার চিহ্ণগুলো ক্রমেই যেন স্পষ্ট হয়ে উঠছে। সংগত কারণেই মনের মধ্যে এই প্রশ্নটাই গুমড়ে গুমড়ে উঠছে- এটা কি সত্যিই বিডিআর জওয়ানদের তাৎক্ষণিক বিদ্রোহ ছিলো, না কি গভীর কোন জঙ্গি পরিকল্পনার বাস্তবায়িত অংশ ?

Friday, February 27, 2009

# অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০০৯ এবং ক্ষীণদৃষ্টি পণ্ডিতজনের চশমাগুলো...



অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০০৯ এবং ক্ষীণদৃষ্টি পণ্ডিতজনের চশমাগুলো...
রণদীপম বসু
...
বাংলাদেশে গোটা বছর যে পরিমাণ গ্রন্থ প্রকাশিত হয় তার সিংহভাগ হয়ে থাকে ফেব্রুয়ারিতে। কেন হয় তা সবাই মোটামুটি অবগত। এরই মধ্যে ফেব্রুয়ারি শেষ হয়ে এলো। বাংলা একাডেমী প্রাঙ্গণে চলমান এবারের একুশে বইমেলায় যাঁরা ইতোমধ্যেই এক বা একাধিকবার ঘুরে এসেছেন তাঁরা নিশ্চয়ই একাডেমীর অন্যতম কৌতুহলী জায়গাটাকেও চিনতে ভুল করেন নি। ‘নজরুল মঞ্চ’।

Wednesday, February 18, 2009

# টান নেই আঁচড় নেই শুধুই বিষাদ - ০২ (কবিতাগুচ্ছ)


টান নেই আঁচড় নেই শুধুই বিষাদ - ০২ (কবিতাগুচ্ছ)
-রণদীপম বসু


প্রতিদিন তোমাকে

যখন নিশ্ছিদ্র আচ্ছন্নে থাকি
অসংখ্য পঙক্তিতে শুধু তোমাকেই আওড়াই
অবিরাম...
কখনো সরব হলে, নিশ্চিন্ত হই-
ওখানে কবিতা নেই, তুমিই কেবল...

তোমার আলিঙ্গন ছাড়া কী করে অক্ষরেরা শব্দ হবে !
তোমার চুম্বন ছাড়া শব্দের সাধ্য কী পঙক্তি হবার !
তোমার বিরহ পেলেই অপাঙক্তেয় পঙক্তিরা সব
একেকটা কবিতা হয়ে
ঝাঁপ দেয় আদিগন্ত শূন্যতার ডানায়...

এবং ঝরতে ঝরতে পড়তে পড়তে
যখন খাবলে ধরি ক্রমশই অপসৃত তোমার অঢেল বুক
কী আশ্চর্য, কারা যেন কবিতা কবিতা বলে হর্ষধ্বনি করে !
ওরা কি জানে কবিতা আর মাংসের তফাৎ ?

কোথাও নিবিষ্ট নই তোমাকে ছাড়া, অথচ
অন্ধি-সন্ধি-মাংসের আড়ালে অশ্রান্ত খুঁজে খুঁজে
প্রতিদিন তোমাকে তোমার তোমাকে হারাই...
(১৭/০২/২০০৯)

Tuesday, February 10, 2009

# মেধাবী ছেলে..


মেধাবী ছেলে..
রণদীপম বসু
...

বাপীর সাথে বইমেলা থেকে কিনে আনা মজার মজার বইগুলো পড়ে প্রান্তু ঠিকই জেনে গেছে লেখাপড়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্য ভালো রাখার জন্য খেলাধূলাও করতে হবে নিয়মিত। তাই ইস্কুল ছুটির পরই ইস্কুলভ্যানটা না আসা পর্যন্ত তাড়াহুড়ো করে কটকটে রোদের মধ্যেই অন্য সহপাঠিদের সাথে দৌঁড়ঝাপ করতে শুরু করে। তা করতে গিয়ে মাঠের মধ্যে কখনো চিৎ হয়ে কখনো কাৎ হয়ে কখনো বা উপুড় হয়ে আছড়ে পড়ে। ইউনিফরমটা ধুলোতে মাটিতে একাকার হয়ে ময়লা দাগ বসে যায়। তাতে যে প্রান্তুর কোন দোষই নেই মামণিটা তা কিছুতেই বুঝতে চায় না। মেধাবী ছেলেরা কি আর এমনি এমনি মাটিতে গড়াগড়ি খায় ? বাসায় এলেই মামণির এই গজরগজর এক্কেবারেই অপছন্দ তার।