Thursday, March 26, 2009

# চিত্রকল্পে কিশোর-কবিতার স্বরূপ অন্বেষণ...


চিত্রকল্পে কিশোর-কবিতার স্বরূপ অন্বেষণ...
রণদীপম বসু
...
‘সেই লেখা লেখা নয় নাহি যার রস।’ কবি ঈশ্বর গুপ্তের এই রায়কে মান্য করলে আমাদের স্বীকার করে নিতে হয় যে, রস সৃষ্টিই সাহিত্যের অভীষ্ট লক্ষ্য। তাহলে প্রশ্ন আসে রস কী ? টস টস করে ঝরে পড়ার মতো কোন নিঃসৃত তরল পদার্থ যে নয় তা তো আমরা বুঝতেই পারছি। এ হচ্ছে সাহিত্যের রস। আর কাব্য বিচারে এলে কাব্যরস। তবে রস প্রসঙ্গে জানতে হলে আমাদেরকে তো রসশাস্ত্রে ঢু মারতেই হয় !

প্রাচ্য-অলঙ্কার শাস্ত্রে রস একটি পারিভাষিক শব্দ। যার ধাতুগত মূল অর্থ হচ্ছে আস্বাদন করা। কাব্যতত্ত্বের প্রধান পুরুষ আচার্য ভরত তাঁর নাট্যশাস্ত্রে নাকি ঘোষণা করেছেন এই বলে যে, “-নহি রসাদ ঋতে কশ্চিদর্থঃ প্রবর্ততে।” (নাট্যশাস্ত্র, -৬/৩৪) অর্থাৎ রস ব্যতিরেকে কোন বিষয়েরই প্রবর্তনা (সূচনা) হয় না। রসের এই সর্বব্যাপী-সর্বগ্রাহী স্বরূপ উপলব্ধি করেই রসের সংজ্ঞার্থ নির্ণয়ে আত্ম-জিজ্ঞাসায় প্রশ্ন রাখেন- “অত্রাহ, রস ইতি কঃ পদার্থ ?” অর্থাৎ রস কোন পদার্থকে বলে ? উত্তর-অন্বেষার সারাৎসার- “আস্বাদ্যত্বাৎ” (নাট্যশাস্ত্র, -৬/৩৫), যা আস্বাদিত হয়। রসবাদী হিসেবে আরেক খ্যাতিমান চতুর্দশ শতাব্দের বিশ্বনাথ কবিরাজ তাঁর ‘সাহিত্য দর্পণ’ গ্রন্থে ভরত-এর কথারই প্রতিধ্বনিত করলেন- রস্যতে ইতি রসঃ। (সাহিত্য দর্পণ, -১/৩) অর্থাৎ যা রসিত বা আস্বাদিত হয়, তা-ই রস। এবং রসের ব্যাপ্তি প্রকাশ করলেন এভাবে- “সর্বোহপি রসনাদ্ রসঃ” (সাহিত্য দর্পণ, -৩/৪২) অর্থাৎ রসন বা আস্বাদন হেতু সবই রস। হাঃ হাঃ, তাহলে তো আস্বাদন হেতু তালের রস আর কাব্যরসে কোন তফাৎ দেখি না ! তফাৎ হয়তো এটাই যে তালের রসের আস্বাদন করতে হলে গাছ বেয়ে আগায় চড়তে হবে। আর কাব্যরসের আস্বাদ পেতে হলে ডুব দেবার নিমিত্তে কাব্যহ্রদে ঝাঁপ দিতে হবে। বিষয়টা যেহেতু কাব্যকেন্দ্রিক, তাই যাঁরা কাব্যসাহিত্য নিয়ে নাড়াচাড়া করেন, লেখালেখি করেন কিংবা এ থেকে রস আস্বাদনে আগ্রহী বা রসসৃষ্টির সম্ভাব্য নেশায় বুঁদ হতে আকাঙ্ক্ষি, তাঁদের জন্য ওইদিকে ঝাঁপ দেয়া ছাড়া আপাত কোন গতিক দেখছি না। এক্ষেত্রে সাহিত্যের মহাফেজখানায় খুঁজে খুঁজে হয়রান না হয়ে আপাতত যে দুটো অবশ্যপাঠ্য বইকে সঙ্গি করে নিলে পথ খুঁজতে খুব একটা বেগ পেতে হবে না, তা হচ্ছে নরেন বিশ্বাসের ‘কাব্যতত্ত্ব-অন্বেষা’ এবং ‘অলঙ্কার অন্বেষা’। এ নিবন্ধে এই বিষয়ক অর্থাৎ প্রাচ্য-অলঙ্কার শাস্ত্র তথা কাব্যতত্ত্ব সংশ্লিষ্ট যাবতীয় তথ্য ও বাচন-বর্ণনার জন্য আমি শ্রদ্ধেয় নরেন বিশ্বাসের কাছে অকৃত্রিম কৃতজ্ঞতায় এ দুটো গ্রন্থ-সহায়তার ঋণ স্বীকার করে নিচ্ছি।

আবহমান...


আবহমান...
রণদীপম বসু
...
খোদ মহানগরীতে রাস্তার পাশে বটগাছ ! খুব একটা চোখে পড়ে না। তবু অযত্নে অবহেলায় বেড়ে ওঠা এরকম একটা অল্পবয়েসী গাছের গোড়ায় মাটি ফেলে কারা যেন অতি যত্ন করে ইট সিমেন্টের একটা গোলাকার বেদী বানিয়ে রেখেছে। অতএব পাশে একটা টং-দোকান তো নিশ্চিৎ ! চা পান সিগারেট। আর হাল আমলের মোবাইল সংস্কৃতির সলতে ধরে ফেক্সিলোডের চেয়ার টেবিল পেতে বসাটাই তো স্বাভাবিক। বেশ একটা জমজমাট অবস্থা, বিশেষ করে দুপুরের দিকে। খররৌদ্রের দাবদাহে পুড়ে ঘর্মাক্ত কপালটা গলার গামছায় মুছতে মুছতে জিরিয়ে নেয়া রিক্সাচালকটির মতো গাড়িঅলা সাহেবের অপেক্ষারত ড্রাইভার কিংবা লাঞ্চবিরতির ফাঁকে দু’টান সিগারেটের ধোঁয়ায় একটু আরাম খোঁজেন চাকুরে বাবুটিও। শ্রেণীপেশার ভেদাভেদ ভুলে বহুবিচিত্র কর্মজীবী মানুষগুলোর এই দু’দণ্ড জিরিয়ে নেয়ার ফাঁকে কোত্থেকে হাজির হলো বাউলগোছের লোকটি। কাঁধে ঝোলানো দোতারাটার দিকে চেয়ে উৎসাহী কারো অনুরোধ তুঙ্গে পৌঁছতেই ব্যাস, জমে ওঠলো মেলা !

Wednesday, March 18, 2009

# আহা জীবন ভ্রাম্য জীবন..। ০১।


আহা জীবন ভ্রাম্য জীবন..। ০১।
রণদীপম বসু
...
প্রতিদিনের প্রাত্যহিকতাগুলো মেনেও রোজ সকালে অফিসের পথে বেরিয়ে আরেকটা যে কাজ প্রতি কর্মদিবসেই করতে হয় আমাকে তা হচ্ছে নির্দিষ্ট একটা জায়গায় এসে হাতটা উঠিয়ে অহেতুক নাকটাকে চেপে ধরে ঘ্রাণেন্দ্রিয়ের স্বাভাবিকতাটুকু কিছু সময়ের জন্য রুদ্ধ করে রাখা। কেন ? কারণ রাস্তাটার প্রায় আধেক অংশ জুড়ে যে বড় ডাস্টবিনটাতে এলাকার সব বর্জ্য ও আবর্জনা এসে জমা হয়, তার তীব্র দুর্গন্ধ জায়গাটাকে সাংঘাতিক ভারী করে রাখে। তাই এ জায়গাতে এসে সব পথচারীরাই হেঁটে কিংবা রিক্সায় যেভাবেই যান না কেন, দম বন্ধ করে এক নিঃশ্বাসে পেরিয়ে যাবার তাড়নায় আক্রান্ত হয়ে পড়েন। কিন্তু এক দমে কখনোই পেরনো সম্ভব হয় না কারোরই।

Monday, March 16, 2009

# ছেলেগুলো ভালো তো হলোই না, নষ্ট হওয়াও শিখলো না...


ছেলেগুলো ভালো তো হলোই না, নষ্ট হওয়াও শিখলো না...
রণদীপম বসু
...
আগের দিন সুমেরু দা’র ফোন পেলাম। যদিও তারও আগেরদিন পান্থ’র মোবাইল ওয়েভেই জেনে গেছি যে ১৪ মার্চ ‘বন্দুকের নলই ক্ষমতার প্রকৃত উৎস’, সুমেরু মুখোপাধ্যায়ের বইটার প্রকাশনা উৎসবের কথা। অনুষ্ঠানের আরেকটা চমৎকার আকর্ষণের বিষয় ছিলো প্রিয় শিল্পী কফিল আহমেদের ‘একটা ঘাড়ভাঙা ঘোড়ার ওঠে দাঁড়ানো’র আয়োজন। তবে অনিবার্য সমস্যা না থাকলে যে কারণে অনুষ্ঠানটা মিস করার কোন উপায় ছিলো না, বাদাইম্যা সচলদের মুখদর্শন।

Wednesday, March 11, 2009

# ম্যালা কথা বইমেলায়। ০৫। যাঁরা মেলায় যান নি।


ম্যালা কথা বইমেলায়। ০৫। যাঁরা মেলায় যান নি।
রণদীপম বসু
...
[চলমান সতর্কবাণী ঃ এই সিরিজের পর্বে পর্বে বর্ণিত চরিত্রে কিংবা ঘটনা প্রবাহে কেউ কোনরূপ সাদৃশ্য বা মিল খুঁজিয়া পাইলে তাহা ব্যক্তির স্বেচ্ছাকল্পিত অতি সৃজনশীলতা বলিয়া গণ্য হইবে]

যে কোন কারণে হোক, যাঁরা এবার মেলায় যান নি বা যেতে পারেন নি তাঁদের জন্য উৎসর্গিত এই পোস্ট।

Monday, March 9, 2009

# ম্যালা কথা বইমেলায়। ০৪। যে যার তালে !


ম্যালা কথা বইমেলায়। ০৪। যে যার তালে !
রণদীপম বসু
...
[ চলমান সতর্কবাণী ঃ এই সিরিজের পর্বে পর্বে বর্ণিত চরিত্রে কিংবা ঘটনা প্রবাহে কেউ কোনরূপ সাদৃশ্য বা মিল খুঁজিয়া পাইলে তাহা ব্যক্তির স্বেচ্ছাকল্পিত অতি সৃজনশীলতা বলিয়া গণ্য হইবে ]

Saturday, March 7, 2009

# প্যাডেল...


প্যাডেল...
রণদীপম বসু
...
‘এই খালি... !’
সম্মতিসূচক ব্রেক কষেই রিক্সাটা দাঁড়িয়ে গেলো। ঝটপট চড়ে বসেই বললাম- একটু টেনে যান ভাই, দেরি হয়ে গেছে। মেজাজ ভীষণ খাপ্পা হয়ে আছে। নিজের উপরেই। বাঁ হাতের কব্জিতে ন’টা বেজে দশ। সেই পৌনে নয় থেকে রিক্সার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। তিন রাস্তার মোড়টাতে। একটার পর একটা রিক্সা আসছে যাচ্ছে। কাজীপাড়া, শ্যাওড়াপাড়া, পীরের বাগ, মিরপুর-একে যাত্রীদের নিচ্ছে ঠিকই। কিন্তু এতো কাছের গন্তব্য আমার, মিরপুর দুই’টাই পছন্দ হচ্ছে না তাঁদের ! কী আশ্চর্য, চালকের পছন্দেই আজকাল গন্তব্য নির্ধারণ করতে হবে নাকি !

Friday, March 6, 2009

# ম্যালা কথা বইমেলায়। ০৩। ছিঃ ছিঃ কী লজ্জা !


ম্যালা কথা বইমেলায়। ০৩। ছিঃ ছিঃ কী লজ্জা !
রণদীপম বসু
...
[চলমান সতর্কবাণী ঃ এই সিরিজের পর্বে পর্বে বর্ণিত চরিত্রে কিংবা ঘটনা প্রবাহে কেউ কোনরূপ সাদৃশ্য বা মিল খুঁজিয়া পাইলে তাহা ব্যক্তির স্বেচ্ছাকল্পিত অতি সৃজনশীলতা বলিয়া গণ্য হইবে]

Thursday, March 5, 2009

# ম্যালা কথা বইমেলায়। ০২। প্রকাশক প্রোফাইল।


ম্যালা কথা বইমেলায়। ০২। প্রকাশক প্রোফাইল।
রণদীপম বসু
...
[চলমান সতর্কবাণী ঃ এই সিরিজের পর্বে পর্বে বর্ণিত চরিত্রে কিংবা ঘটনাচিত্র প্রবাহে কেউ কোনরূপ সাদৃশ্য বা মিল খুঁজিয়া পাইলে তাহা ব্যক্তির স্বেচ্ছাকল্পিত অতি সৃজনশীলতা বলিয়া গণ্য হইবে]

# ম্যালা কথা বইমেলায়। ০১। কিছু ঘৃণা, লজ্জা ও কষ্টের কথা।


ম্যালা কথা বইমেলায়। ০১। কিছু ঘৃণা, লজ্জা ও কষ্টের কথা।
রণদীপম বসু
...
(১)
দেশে এখন একটা থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যাকে বলে দুঃসহ। ঘর থেকে বেরোলেই চলমান যে মূর্তিগুলো আশেপাশে দেখি, ক’দিন আগেও এরা উজ্জীবিত মানুষ ছিলো ! এখন শুধুই আতঙ্কগ্রস্ত দুপেয়ে প্রাণী এরা, রোবট যেন। পরস্পর অনাস্থা, অবিশ্বাস। এবং অদ্ভুত এক অথর্বতা এসে গ্রাস করে ফেলেছে ! থমকে গেছে সব ! দৈনন্দিকতার শত কষ্ট ব্যথার মধ্যেও যাদের উৎফুল্ল থাকা উদ্ভাসিত মুখগুলোর দিকে তাকালে ভেতরের জমাট দুঃখগুলো গলে যেতো নিমেষেই, সেই সব মুখ এখন জমাট পাথর মেখে অস্থির ! স্বতঃস্ফূর্ত সতেজতার জায়গায় জমে থাকা স্তব্ধতার আঁচড় দেখে মুষড়ে পড়ি। বিষাদে অবসন্ন হয়ে পড়ি। কিন্তু কেন ? কারা এমন করলো ? কাদেরকে দায়ী করবো আমরা ? এরা সেই সব জন্মগ্রন্থিহীন অমানুষ, যারা মানুষকে মানুষকে বলে গণ্য করে না, নিজের দেশকে যারা মাতৃভূমি জ্ঞান করে না, অভিন্ন রক্তধারায় ভাইকে যারা ভাই বলে মানে না। অর্থাৎ নিজস্ব জন্মজটিলতার লজ্জাকে অন্যের মধ্যে সংক্রামিত করার পৈশাচিক আনন্দ খুঁজে খুঁজে যারা মানবিক সমাজ আর সভ্যতার মুখে চুনকালি মাখানোর বিকৃত তাড়নায় তড়পায় কেবল। একতাল ঘৃণা ছুঁড়ে দিলাম সেই সব অদৃশ্য কুশীলবদের প্রতি। বেদনায় মুহ্যমান আমার অক্ষরগুলো যেন চিরকাল তাদের প্রতি ঘৃণা বর্ষণ করে যায়। যখন আমি হাসবো, কাঁদবো, ঘুমাবো, কাজে মগ্ন হবো কিংবা নীরব ও নির্জনতায় হারিয়ে যাবো, আমার বিগত ও আগত অক্ষরগুলো তখনো যেন বিশ্বের সব মানবতা বিরোধী ঘৃণ্য অপচ্ছায়াগুলোর প্রতি ঘৃণা ছড়িয়ে যায়।