Tuesday, September 22, 2009

। দুই-মেগাপিক্সেল...। এক চিমটি র‌্যাংগস ।


। দুই-মেগাপিক্সেল...। এক চিমটি র‌্যাংগস ।
রণদীপম বসু

...
আমার এই দুই-মেগাপিক্সেলটা যখন হাতে আসে, র‌্যাংগস ভবন তখন বিলুপ্তির শেষ ধাপে। টাউন বাসে আসতে যেতে এর বিলুপ্তির প্রতিটা ধাপই চোখে পড়েছে। কিন্তু তা ধারণ করে রাখার সুযোগ ছিলো না। হঠাৎ করে ঢাকায় উগ্র-মোল্লাদের ভাস্কর্য ভাঙার একটা অস্থিরতা দেখা দিলে, ‘যদি হারিয়ে যায়’ ধরনের একটা বোধ বুকের ভেতরে চাড়া দিয়ে উঠলো। জনপদ জুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন ভাস্কর্য-স্মারক-পথভাস্কর্য-স্থাপনাগুলোকে আলোকস্মৃতিতে ধরে রাখার হাস্যকর একটা তাগিদ থেকে ছাপোষাদের প্রাপ্য অনুদান উৎসব বোনাসের সীমিত সামর্থ দিয়ে দুই-মেগাপিক্সেলটার স্বত্ব পেলাম। ক’দিন পরই ঈদের ছুটি, ঢাকা যখন ফাঁকা অবস্থা, ভবঘুরে দু’পা সঙ্গি করে বেরিয়ে পড়ি। দুপুর নাই সন্ধ্যা নাই যখন যেখানে পারছি দুই-মেগাপিক্সেলে ধরতে চাচ্ছি সব। আমার দুর্ভাগ্য বলতে হবে, সেই ক’টা দিনই সূর্য মিয়াও সম্ভবত ঈদের ছুটিতে ঢাকার বাইরে ছিলো। তাই আমার মতো ভাদাইম্যা-কুয়াশার উৎপাতে ছবি তুলবো কী, একটু দূর থেকেই দেখা যাচ্ছিলো না কিছুই। কিন্তু এর পরে যে আমার আর সুযোগ নেই !

Sunday, September 20, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| ০১ | জাতির উদ্দেশ্যে সালাম |


| দুই-মেগাপিক্সেল…| ০১ | জাতির উদ্দেশ্যে সালাম |
রণদীপম বসু


পঙ্গু-জীবনের অনিশ্চিৎ ভার ভিক্ষার উপরই ছেড়ে দিয়েছে সে। দুই-মেগাপিক্সেলটা তাক করে বললাম- তোমার ছবি অনেকেই দেখবে কিন্তু। সাথে সাথে ডান হাতটা কপালে ঠেকিয়ে জাতির উদ্দেশ্যে সালাম ছুঁড়ে দিলো।

জাতি কী দিয়েছে তাকে, এটা কি ভেবেছে সে ? আমরা যাঁরা কয়েক কেলাশ পাশ দিয়ে বেশ তাগড়া হয়ে উঠেছি, তাঁরাই হয়তো এসব হিসাব-নিকাশ করতে করতে মুখে ফেনা তুলে ভাবি- সালাম ? কাকে দেবো ! কেনো দেবো ! অথচ সে হয়তো হিসাবটাই বুঝে না। বুঝবে কী করে ! সেই সুযোগটাও কি জাতি দিয়েছে তাকে ? তাই কিংবা তবু, জাতির উদ্দেশ্যে সালাম দিতে ভুল করেনি সে।

আস-সালামু-আলাইকুম….. ঈদ ও পুজা মুবারক…


[sachalayatan]
...

Friday, September 18, 2009

| বাটা'র জুতো, পায়ে না বগলে শোভা পায় ভালো ?


বাটা'র জুতো, পায়ে না বগলে শোভা পায় ভালো ?
রণদীপম বসু

[প্রথমেই বলে রাখি, এটা কোন জুতো প্রদর্শনের পোস্ট নয়। চলমান কিছু বাস্তবতা নিয়ে নাড়াচাড়া কেবল। তাই দয়া করে কেউ ভুল বুঝবেন না।]

বগলে জুতো মাথায় ছাতা, বাঙাল জনপদে এটা মোটেও কোন অপরিচিত দৃশ্য নয়। সেই ছোটবেলা থেকে তা এতো দেখে আসছি যে, মনে হয় জুতো পায়ে নয়, বরং বগলতলাতেই মানানসই বেশি। পায়ে পরার জুতো কেন পা ছেড়ে বগলতলায় উঠে যায় তা নিয়ে গবেষণার খুব একটা প্রযোজন হয়তো নেই। পা থেকে জুতো মহার্ঘ হয়ে গেলে বা পায়ের চেয়ে জুতোর নিরাপত্তা অগ্রাধিকার পেলে এমনটা ঘটতে পারে। তবে পা থেকে কেন জুতো মহার্ঘ হবে বা অধিক নিরাপত্তা দাবী করবে সেটা হয়তো গবেষণার বিষয়। এ নিয়ে গবেষণা কেউ যে করছে না, তাই বা বলি কী করে। বিশেষ করে জুতো নিয়ে যাদের কায়কারবার তেমন বড় বড় কোম্পানি বা বহুজাতিক কোম্পানিগুলো যে দেশে তাদের পুঁজির বিস্তার ঘটাবে সেখানকার বৃহত্তর জনগোষ্ঠির পা ও জুতোর সম্পর্ক নিয়ে আগ্রহ দেখাবে এটাই তো স্বাভাবিক। নইলে তাদের ব্যবসার শনৈ শনৈ উন্নতির চাবির খোঁজ পাবে কী করে !

Tuesday, September 15, 2009

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|৬১-৭০|


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|৬১-৭০|
রণদীপম বসু
...
(৬১)
প্রশংসা বহুল চর্চিত একটি লেনদেন মাত্র,
যা খরচ করে মানুষ তার চেয়ে বেশি লাভ করতে চায়।
(৬২)
ক্ষমতার ব্যবহার ক্ষমতাকে অন্ধ করে।
অন্ধ সিংহের চাইতে দৃষ্টিবান গাধাও কার্যকর।
(৬৩)
বিয়ে হলো সংশোধনের অযোগ্য ভুল,
যা করে গবেটরা বীরত্ব দেখায়
আর বীরেরা বুদ্ধু সাজে।
(৬৪)
টক-শো আর চিড়িয়াখানায় একটাই তফাৎ;
টক-শো’তে কিছু মানুষ প্রদর্শন করানো হয়
আর চিড়িয়াখানায় পশু।
(৬৫)
সবচেয়ে পরাধীন সে-ই, যার আত্মহত্যার অধিকার নেই।

| আমি কি প্রতারিত ! গ্রামীণ ফোন কী বলে ?


আমি কি প্রতারিত ! গ্রামীণ ফোন কী বলে ?
রণদীপম বসু
.
এ পোস্ট যে কোন প্রশস্তিমূলক নয়, তা শিরোনামেই স্পষ্ট। কিন্তু এটা নিন্দাসূচক পোস্টও নয়। দেশের বৃহত্তম মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণ ফোনের অদ্ভুত আচরণ বা সম্ভাব্য অভিসন্ধিমূলক কৌশলে ইন্টারনেট গ্রাহক বা ব্যবহারকারী হিসেবে নিজেকে যে প্রতারিত বোধ করছি, তা কতোটা যৌক্তিক, এই ভাবনাটা শেয়ার করাই এই পোস্টের উদ্দেশ্য। আমি ঠিক জানি না, অন্যদের এ অভিজ্ঞতা হয়েছে কি না।
গ্রামীণ ফোনের পেন-ড্রাইভ স্টাইলের এজ মডেম সমৃদ্ধ ’আলো আসবেই’ নামের প্লাগ এন্ড প্লে সুবিধার প্যাকেজটা বাজারে আসার আগে আমি অন্য একটা অপারেটরের ডায়াল-আপ স্যাটেলাইট কানেকশান ব্যবহার করতাম। গ্রামীণ ফোনের এই চাহিদাসম্পন্ন ও জনপ্রিয় হয়ে ওঠা প্যাকেজটা মনে ধরায় আমি কয়েকবার ধরনা দিয়ে অবশেষে সেসময় চারহাজার চারশ’ টাকার বিনিময়ে প্রিপেইড ইন্টারনেট সীমসহ এই মডেম দিয়ে প্রিপেইডে তাদের পি-টু (P2) প্যাকেজ অর্থাৎ আনলিমিটেড একসেস ব্যবহার করে আসছি। ব্যক্তি ব্যবহারকারী হিসেবে ইন্টারনেটে কিছুক্ষণ ঘোরাঘুরি আর ব্লগিং-এর জন্য ভ্যাটসহ মাসে নির্ধারিত ৯৭৭.৫০ টাকার অগ্রীম রিচার্জ দিয়ে আনলিমিটেড একসেস ব্যবহারের আদৌ কোন প্রয়োজন আছে কি না, সেটা ভিন্ন বিষয়। চাকুরিগত কারণে অফিস ডে’তে দিনে তা ব্যবহারের খুব একটা সুযোগ হয় না। অফিস-এন্ডে রাতে বাসায় কয়েক ঘণ্টা ইন্টারনেট ব্যবহার করতে এই ব্যয়বহুল প্যাকেজের খুব একটা প্রয়োজন না থাকলেও ব্যক্তিগত পছন্দ এবং কখনো যদি বেশি ব্যবহারের প্রয়োজন পড়ে বিবেচনায় আমি পি-টু (P2) কানেকশানেই আগ্রহী ছিলাম এবং আছিও।

Sunday, September 13, 2009

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৫১-৬০|


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৫১-৬০|
রণদীপম বসু

.
(৫১)
যে রোগে কেবল রোগীই টের পায় না কিছু, ভোগে অন্যরা,
তা হলো পাগলামী।
(৫২)
তাঁরাই ধড়িবাজ,
সর্বাবস্থায় যাঁরা হাসিটাকে ধরে রাখে, মুছে না কখনো।
(৫৩)
সংস্কারমুক্তির প্রথম পাঠোত্তীর্ণে
তথাকথিত যে আস্তিক লোকটি আমাকে সর্বাগ্রে অভিনন্দন জানালো,
ভণ্ডের তালিকায় তাঁকেই আমি টুকে নিলাম সর্বাগ্রে।

Friday, September 11, 2009

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ৪১-৫০|


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ৪১-৫০|
রণদীপম বসু

.
(৪১)
কবি হবার প্রথম শর্তই হলো নির্লজ্জ হওয়া ;
লজ্জা নিয়ে কোন জননক্রিয়া হয় না।

(৪২)
কাউকে চিনতে হলে, তাকে বিপজ্জনকভাবে রাগিয়ে দাও ;
জিহ্বায় তার যেটুকু পোশাক অবশিষ্ট থাকবে, সেটুকুই সভ্য সে।

(৪৩)
শিক্ষা সেই মুখোশ, যা পরে মানুষ
সামাজিকতার ভাঁড়ামি আর নিখুঁত ভণ্ডামি করে।

(৪৪)
স্তনপিণ্ডে পাথরের আগ্রহ থাকে না;
কারণ সে নিজেকেও প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে।

(৪৫)
একটা অশ্লীল ও হাস্যকর রণক্ষেত্রকে সবাই ঠাট্টা করে দাম্পত্য বলে, যেখানে
দু’পক্ষেই অপেক্ষা করে নোংরা পরাজয়।

(৪৬)
জগতের জটিলতম কূহকের নাম- সন্তানের চোখ;
শেষপর্যন্ত যার পাঠোদ্ধার হয় না।

(৪৭)
চরিত্র হলো স্বভাবের শৃঙ্খলে বাঁধা নিজস্ব কারাগার;
এ থেকে মুক্তি পায় না কেউ, শৃঙ্খলের ধরন পাল্টায় কেবল।

(৪৮)
মানুষের যে আদিম প্রহসনটি আশ্চর্যজনকভাবে টিকে আছে এখনো,
তা হলো ‘নাম’-পরিচয়। অথচ নাম কোন পরিচয়ই বহন করে না। আর
মানুষের অদ্ভুত রসবোধের উৎকৃষ্ট ঠাট্টাটি হচ্ছে ‘নামকরণ’।

(৪৯)
নারী এক অদ্ভুত যন্ত্র,
সহজ বিষয়কে যে অনায়াসে জটিল বস্তুতে প্রক্রিয়াজাত করে।

(৫০)
পুরুষ হচ্ছে লোকাল বাস,
কখনোই যাত্রীক্ষুধা মেটে না।

...

[৩১-৪০][*][৫১-৬০]
...
[sachalayatan]
[somewherein | alternative]
...

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৩১-৪০|


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৩১-৪০|
রণদীপম বসু

.
(৩১)
মৃত্যু হিসাব-নিকাশহীন এক কাল্পনিক যাত্রা
যার কোনো শুরু নেই, শেষও নেই;
যেখানে কোন ধর্মগ্রন্থ নেই।

(৩২)
শুচিবাই কোন পরিচ্ছন্নতা নয়,
মনের কোণায় লুকিয়ে থাকা নিজস্ব নোংরামির বহিঃপ্রকাশ;
যেখানে রুগ্নতার চেয়ে বেশি থাকে অসভ্যতা।

(৩৩)
ব্যাঙের বের হবার সাধ্য নাই বলে তাকে কূপমণ্ডুক হয়েই জীবন কাটাতে হয়।
কিন্তু মানুষের সাধ্য অসীম,
তবু বাঙালির শখ কূপমণ্ডুক থাকাতেই ;
এজন্যে বাঙালি মানুষ হয না, হতে পারে না।

(৩৪)
মানুষই সবচেয়ে অসভ্য প্রাণী, কারণ
সে কেবল নিজের অনুকূলেই নিজের মতো করে সভ্যতা নির্মাণ করেছে।
তাই মানুষের সভ্যতা প্রকৃতির অনুকূল নয়।

(৩৫)
সু-স্বাস্থ্য মানে নিরোগ থাকা নয়।
এই বিশাল ও ভয়ঙ্কর জীবাণুমণ্ডলে ডুবে থেকে
রোগ-জীবাণু মুক্ত থাকার কথা কেবল নির্বোধরাই ভাবতে পারে।
সুস্থ থাকার সামর্থই হচ্ছে স্বাস্থ্য।

(৩৬)
আবেগ হচ্ছে প্রাকৃতিক অসভ্য অবস্থা ;
মানুষ যতক্ষণ আবেগহীন থাকে, ততক্ষণ সে দিগম্বর হয় না।

(৩৭)
মুদ্রা বা অর্থের শক্তি তার লেনদেনের মধ্যে,
প্রতিটা লেনদেন মানুষের ভেতরটাকে একটানে বাইরে নিয়ে আসে।

(৩৮)
যা বাস্তব তা-ই সত্য, তাই
বাস্তবতাকে স্বীকার না-করার অর্থ
নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।

(৩৯)
প্রকৃতির সৌন্দর্য্য তার নগ্নতায়।
মানুষ যতক্ষণ প্রকৃতির অনুকূলে থাকে, তার নগ্নতা সৌন্দর্য্য ছড়ায়;
প্রকৃতির প্রতিকূলে মানুষই হয়ে উঠে সবচেয়ে অশ্লীল।

(৪০)
পিতা আর জন্মদাতা এক নয়।
জননযন্ত্র সক্রিয় হলেই জন্ম দেয়া যায়,
পিতা হতে দরকার হয় বাৎসল্যের।
...

[২১-৩০][*][৪১-৫০]
...
[sachalayatan]
[somewherein | alternative]
...

Thursday, September 10, 2009

। ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…। উৎবচন-গুচ্ছ ।


। ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…। উৎবচন-গুচ্ছ ।
|রণদীপম বসু |
...............................................
[উৎসর্গ : হুমায়ুন আজাদ, যাঁকে আদর্শ ভাবলে প্রাণিত হই ]
...
সতর্কতা:
ধর্মীয় বিশ্বাস ও সংস্কার বা মুক্তচিন্তা বিষয়ে যাঁদের সংবেদনশীলতা রয়েছে,
তাঁদের জন্য অস্বস্তিকর হতে পারে।
————————————
সূচিপাঠ
————————————
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…। ০১ – ১০।
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…। ১১ – ২০।
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…। ২১ – ৩০।
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ৩১ - ৪০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ৪১ - ৫০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ৫১ - ৬০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ৬১ - ৭০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ৭১ - ৮০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৮১ - ৯০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৯১ - ১০০|
.....
[ উৎবচন-শতক...| এক ]
.....
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১০১ - ১১০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১১১ - ১২০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১২১ - ১৩০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৩১ - ১৪০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৪১ - ১৫০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৫১ - ১৬০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৬১ - ১৭০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৭১ - ১৮০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৮১ - ১৯০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন... |১৯১ - ২০০|
.....
@ | উৎবচন-শতক...| দুই |
.....
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২০১ - ২১০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২১১ - ২২০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২২১ - ২৩০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২৩১ - ২৪০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২৪১ - ২৫০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২৫১ - ২৬০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২৬১ - ২৭০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২৭১ - ২৮০|
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২৮১ - ২৯০|
ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|২৯১ - ৩০০|
...
@ | উৎবচন-শতক...| তিন |
@ ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৩০১-৩১০|
...
অগ্রন্থিত উৎবচনগুচ্ছ
...
@ উৎবচন...| ৩১১-৩২০ |
@ উৎবচন...| ৩২১-৩৩০ |
@ উৎবচন...| ৩৩১-৩৪০ |
উৎবচন...| ৩৪১-৩৫০ |
উৎবচন...| ৩৫১-৩৬০ |
উৎবচন...| ৩৬১-৩৭০ |
@ উৎবচন...| ৩৭১-৩৮০ |
উৎবচন...| ৩৮১-৩৯০ |
উৎবচন...| ৩৯১-৪০০ |
...
@ উৎবচন-শতক...| চার |
...
@ উৎবচন...| ৪০১-৪১০ |

————————————

Wednesday, September 9, 2009

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…| ২১ – ৩০ |


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…| ২১ – ৩০ |
রণদীপম বসু

.
(২১)
আফসোস হচ্ছে সেই ধুর্ততা,
সময়কে ধরতে না পেরে কপট ও মূর্খরা যা করে থাকে।
(২২)
মানুষকে পশু বানানোই মানুষের শ্রেষ্ঠ বিনোদন,
পশুরা তা জানলে তাদের নিজস্ব সমাজে
জঘণ্য গালিটা হবে ‘মানুষ’।
(২৩)
যার রক্ত দাসত্ব মুছতে পারে না
তার অনুরোধ হয় নির্দেশের স্বরে,
একজন স্বাধীন প্রভু নির্দেশ করে অনুরোধের সুরে।

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…| ১১ – ২০ |



| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…| ১১ – ২০ |

রণদীপম বসু

.
(১১)
অধিকাংশ প্রাণীর শব্দ বিক্ষেপণের দুটো মুখ থাকে-
একটা সামনে বা উপরে, অন্যটা নিচে বা পেছনে।
এই দুটো মুখের বিভেদ ঘুচাতে জানেন যিনি,
আজকাল তাকেই সফল মানুষ বলে।
(১২)
অফিস হচ্ছে সেই খোঁয়াড় যেখানে
নতুন কোন সৃজন হয় না,
যা আছে তা ধ্বংস করার প্রক্রিয়া ছাড়া।
(১৩)
মানুষের ব্যক্তিত্ব তাঁর চেহারায় নয়,
হাঁটার স্টাইলেই আঁকা থাকে।
(১৪)
‘না’ বলতে জানে না যে, তাঁর ‘হাঁ’ বলাটাই ভণ্ডামি।
(১৫)
অংক শেখার প্রথম পাঠই হচ্ছে অংক ভুলে যাওয়া,
ভুলতে না পারলে বিসর্জনের শুদ্ধতা আসে না।
(১৬)
কম্পিউটার বানায় যে, ততক্ষণই সে কম্পিউটার চালায়।
আর যে কম্পিউটার চালায়, আসলে কম্পিউটার তাকে চালায়।
(১৭)
শ্রাদ্ধের নামে মৃতের কোন শেষকৃত্য হয় না,
প্রকৃতপক্ষে জীবিতরা নিজেদেরই শ্রাদ্ধ করে।
(১৮)
আহার সংযমে দৈহিক ওজন বাড়ানোয় কোন অলৌকিকতা নেই,
রয়েছে বস্তুগত চাতুর্য্য।
(১৯)
গাম্ভীর্য একধরনের স্বার্থপর অক্ষমতা,
যা মানুষকে প্রকাশিত হতে দেয় না।
(২০)
মেরুদণ্ডের অবস্থান মানুষের হাড়বাঁধানো শিরদাঁড়ায় নয়,
যৌবনে থাকে জননযন্ত্রে, বার্ধক্যে ব্যাংক-ব্যালেন্সে।
...


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|০১ -১০|



| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|০১ -১০|
রণদীপম বসু

.
(০১)
যুবতী মেয়েদের চুলের দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে
তার সংস্কারের শিকড় কতোটা গভীরে প্রোথিত,
আর কথায় কথায় স্রষ্টাকে উদ্ধৃত করার সংখ্যা দিয়ে মাপা যায়
পুরুষের ভণ্ডামির বিস্তার।

(০২)
শিল্পের ঘাড়ে কাপড় তুলে দিয়ে
অশ্লীলতার বৈধ বিপণনকারীর তালিকায়
সর্বাগ্রে আসে স্বঘোষিত কবিদের নাম।

(০৩)
নিচের কাপড় তুলে মুখ ঢেকে যারা লজ্জানিবারণ করে,
তাদের লজ্জাস্থানই উন্মুক্ত হয়।
তা দেখে লজ্জা পায় অন্যেরা,
আর কেউ কেউ মজা পায়।

Monday, September 7, 2009

[Yoga] আপনি কেন ইয়োগা চর্চা করবেন... (হাইপার-লিঙ্কড ইয়োগা-সমগ্র)


--------------------------
[Yoga] আপনি কেন ইয়োগা চর্চা করবেন... (হাইপার-লিঙ্কড ইয়োগা-সমগ্র)
--------------------------
-রণদীপম বসু
-----------

জীবনের বহু বহু ব্যস্ততার মধ্যে আমাদের সময়ই হয় না নিজেকে একটু একান্ত করে দেখার। আমি কে, কী, কেন, কোথায়, কিভাবে, এ প্রশ্নগুলো করার। অথচ সামান্য এ ক’টা প্রশ্নের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে আমাদের সবটুকু রহস্য, ঠিকানা, পরিচয় এবং অস্তিত্বের অনিবার্য শর্তগুলোও। প্রশ্নের এই স্বচ্ছ আয়নায় নিয়ত বদলে যাওয়া জীবনের জলছবিগুলোই আমাদের প্রতিটা যাপন-মুহূর্ত, চলমান জীবন। অসংখ্য সমস্যার গেরোয় জট পাকিয়ে যাওয়া আমাদের জটিল জীবনযাত্রার জট খোলার চাবিটাও যে রয়ে গেছে সেখানেই, কেউ কেউ ঠিকই জানেন, আর অনেকেই তার খোঁজ রাখি না আমরা। এই প্রশ্নের সূত্র ধরেই এগুতে এগুতে অন্তর্ভেদী দার্শনিক ব্যক্তি যাঁরা, একসময় পৌঁছে যান ঠিকই জীবন ছাড়িয়ে মহাজীবনের বিপুল রহস্যের উজ্জ্বলতম দোরগোড়ায় এক অভূতপূর্ব বিস্ময় নিয়ে ! কিন্তু আমরা যারা অতি সাধারণ জন, খুব সাধারণ দেখার চোখ নিয়েও তারা কি পারি না এই অগুনতি যাপনের ভিড়ে শুধু একটিবার নিজের দিকে ফিরে তাকাতে ? যে আমাকে নিয়ে আমি নিত্যদিনের কর্মশালায় খাচ্ছি-দাচ্ছি-হাসছি-খেলছি-ঘুরছি আর মগ্ন হচ্ছি চিন্তায় বা দুঃশ্চিন্তায়, আমাদের সে ‘আমি’টা দেখতে কেমন, তা কি জানি আমরা ?

| প্রসঙ্গ: ইয়োগা ও টুটুল ভাই, মতামত পোস্ট |


|প্রসঙ্গ: ইয়োগা ও টুটুল ভাই, মতামত পোস্ট|
রণদীপম বসু
...
সচল আহমেদুর রশীদ টুটুল, তাঁর অন্য পরিচয় হলো তিনি একজন নিষ্ঠাবান কবি, ইয়োগা প্রেমিক, স্বনামধন্য ‘শুদ্ধস্বর’ প্রকাশনার গর্বিত সত্ত্বাধিকারী এবং একজন জনপ্রিয় সচল-প্রকাশকও। গায়ের রঙ অন্ধকারে বিভ্রান্ত হওয়ার মতো মিশমিশে কালো এবং মিটমিটিয়ে হাসতে খুব পছন্দ তাঁর। গায়ের রঙ আদৌ কালো কিনা, না কি আমারই সাময়িক দৃষ্টিবিভ্রম, জানি না। তবে তাঁকে ফর্সা গৌড়বর্ণ বললে খুব খুশি হন তিনি। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত হবি হলো ছিটগ্রস্ত মানুষকে গ্যাড়াকলে ফেলে অসহ্যরকমের মজা লুটা। দীর্ঘ তালিকায যুক্ত হওয়ার যোগ্য এসব বহু গুণেই গুণান্বিত তিনি। যেমন ৯২ আজিজ কোঅপারেটিভ সুপার মার্কেটের তৃতীয় তলার স্বল্পপরিসর জায়গা জুড়ে তাঁর প্রতিষ্ঠান শুদ্ধস্বরে গিয়ে কখনো কেউ অতি ভাগ্যবলে তাঁকে হাতেনাতে পেয়ে গেলে তিনি চা-বিড়ি না খাইয়ে ছাড়েন না বলে শুনেছি, কিংবা সবজান্তা, পান্থ বা তাঁদের মতো দুষ্টু ছেলেদের হাতে বিড়ি টানার সম্ভ্রান্ত কোন পাইপ দেখলে তো এদের অকালপক্কামী দেখে তাঁর মাথাটাই আউলে যায় ! মুরব্বি হিসেবে তা সহ্য করবেন কিভাবে ! তাই ছোঁ মেরে পাইপটি নিয়ে তিনি নিজেই পাইপের পাছায় আগুন লাগানোর অসাধ্য কাজটি সফল না হওয়াতক চালাতেই থাকেন চালাতেই থাকেন। এসব গুণের কথা বলতে লাগলে আমার আসল কথাটিই আর বলা হবে না !