Friday, October 30, 2009

| সৃজনশীল গাধা কিংবা বিনোদনের বিনোদন...|



| সৃজনশীল গাধা কিংবা বিনোদনের বিনোদন...|
রণদীপম বসু

...
আমাদের চারদিকে বিনোদনের এতো রকম উৎস ও উপাদান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যে, 'বিনোদন নেই বিনোদন নেই' বলে যে হা-হুতাশ ছড়াই আমরা, তা কিন্তু বিনোদনের উৎসের অভাবে নয়, বিনোদন গ্রহণের অক্ষমতাই বলা যায়। বহু উৎস থেকেই মানুষ বিনোদন পেতে পারে। স্তর বা মাত্রা বা দেখার দৃষ্টি ভেদে এর ভিন্নতা হতে পারে। কেউ সিনেমা দেখে বিনোদন পায়, কেউ গান শুনে। কেউ মুক্ত বিহঙ্গের মতো নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে ঘোরাঘুরি করে, কেউ ঘরের নির্জন কোণে দিনভর প্রিয় বইগুলোর আশ্চর্য মোহময় জগতে ডুবে থেকে বিনোদন পায়। কেউ বিরতিহীন আড্ডা কিংবা তাস পেটানোর উল্লাসে বিনোদন খুঁজে, কেউ তার বিস্ময়কর সৃজনের একান্ত জগতে নিয়ত ভাঙচুর হতে হতে অনির্বচনীয় আনন্দ খুঁজে পায়। এরকম বহু একক কিংবা একাধিক উৎস থেকেই মানুষ তার নিজস্ব আনন্দটুকু নিংড়ে নিংড়ে বিনোদনের আয়োজন করে। ব্যক্তির রুচি, বোধ, উপলব্ধি, এগুলো বিনোদনের মাত্রা নিরূপনে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের কাজ করে। তবে এখানে যে সব নমুনা-উৎস উল্লেখ করা হলো তা হচ্ছে লক্ষ্যবদ্ধ বিনোদন। অর্থাৎ তা থেকে বিনোদন পাবো এই সম্ভাব্যতা বুকে নিয়ে আমরা এসব উৎসে ঝাঁপিয়ে পড়ি।

Saturday, October 24, 2009

| To see and write Bangla | ইউনিকোডে বাংলা দেখা ও লেখা |



| To see and write Bangla | ইউনিকোডে বাংলা দেখা ও লেখা |

[স্বীকারোক্তি: ‘ইউনিকোডে বাংলা দেখা ও লেখা’ শিরোনামের এই পোস্টটির জন্য সম্পূর্ণ কৃতজ্ঞতার দাবীদার বাংলা লেখক কমিউনিটি ব্লগ সচলায়তন । সচলাতয়নের ‘বাংলা লিখতে হলে’ পোস্টটাকে আপাত প্রয়োজনানুযায়ী কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করে নির্বাচিত অংশ প্রায় হুবহু এখানে তুলে দেয়া হলো।]

বাংলা লিখতে হলে (To write Bangla)

Friday, October 23, 2009

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৮১-৯০|


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৮১-৯০|
রণদীপম বসু

...
(৮১)
ভুল হচ্ছে সেই শুদ্ধতম সম্ভাবনা
যা মানুষের পছন্দের তালিকায় আসে না কখনোই।

(৮২)
‘তেল দেয়া’ বিস্ময়কর এক প্রায়োগিক আর্ট,
সঠিকভাবে দিতে জানলে তা দাতাকেই তেল-চকচকে করে তুলে।

(৮৩)
ভুলে যাওয়া কঠিনতম কাজ;
চেষ্টা করে হয়তো কোনকিছু মনে করা যায়,
কিন্তু চেষ্টা করে ভুলে যাওয়া যায় না।

Monday, October 19, 2009

[ছোটদের গল্প...| অর্ক’র চোখ ]



| অর্ক’র চোখ |
রণদীপম বসু
...

ঘটনার শুরু কিন্তু গতকাল পঞ্চম শ্রেণীর অংকের ক্লাস থেকে। একেবারে ভিন্নভাবে। সব ছাত্রের মনোযোগ যখন অংক স্যারের দিকে, অর্ক’র দৃষ্টিটা বারবার মাথার উপরে ভন্ভন্ করে ঘুরতে থাকা ফ্যানটাতে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। অংক স্যারও এই অমনোযোগী ছাত্রের ব্যাপারটা খেয়াল করেই ডাক দিলেন- এই ছেলে, দাঁড়াও !
থতমত খেয়ে দাঁড়ালো সে।
তোমার কী সমস্যা বলো তো ? ওখানে কী দেখছো ?
একটু ইতস্তত করে বললো- স্যার, সাপ।
সাপ ! কোথায় ?- স্যারের কণ্ঠে বিস্ময়।
অর্ক তর্জনীটা ফ্যানের দিকে তাক করে ধরলো- ওইখানে।

Monday, October 12, 2009

| ‘দারিদ্র্য বিমোচনের বিরুদ্ধে’ সংগ্রাম !!!




| ‘দারিদ্র্য বিমোচনের বিরুদ্ধে’ সংগ্রাম !!!
রণদীপম বসু
...
খবরটাতে চমক আছে বলতেই হবে, ‘১৭ অক্টোবর একই মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন হাসিনা-খালেদা।’ আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বহুদিন ধরে দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে যেখানে পরস্পর কথা বলা দূরে থাক্, মুখ দেখা-দেখিও বন্ধ থাকাটাই স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়ে আসছে, সেখানে দুই নেত্রী একই মঞ্চে অবস্থান করে বক্তব্য রাখবেন, বিষয়টার গুরুত্ব খাটো করে দেখার উপায় তো নেই-ই, জাতির কাছে এরকম বহুল কাঙ্ক্ষিত ঘটনা যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা সুবাতাস বইয়ে দেয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে, নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্যেও তা আশ্বস্ত হওয়ার ব্যাপার বৈ কি। এই বিরল ঘটনা কী করে সম্ভব হচ্ছে ? অনেকগুলো পত্রিকাতেই খবরটা এসেছে। ১২ অক্টোবর ২০০৯ তারিখের দৈনিক ‘সমকাল’ থেকে জানা যাচ্ছে যে আগামী ১৭ অক্টোবর ২০০৯ তারিখ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (প্রাক্তন চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) বিকেল ৩.০০টায় দারিদ্র্য বিমোচনে জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ক্যাম্পেইনের অর্থসহায়তায় বাংলাদেশের সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি) আয়োজিত ‘দারিদ্র্য বিমোচন’ শীর্ষক অনুষ্ঠিতব্য এক বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইতোমধ্যে দুই নেত্রী উপস্থিত থাকতে রাজি হয়েছেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ভাষণ দেবেন।

| হঠাৎ হুক্কা-হুয়া রব ছাড়িয়া নিজের পরিচয় প্রকাশ করিলো...!



 | হঠাৎ হুক্কা-হুয়া রব ছাড়িয়া নিজের পরিচয় প্রকাশ করিলো...!
 রণদীপম বসু
...
প্রশাসনে সংখ্যালঘুদের ব্যাপক মূল্যায়ন’। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায় বেশ বড় হরফে এই শিরোনামের রিপোর্টটি পড়ে হোঁচট খেলাম প্রথমেই। এরপর অনেকগুলো প্রশ্ন মনে উঁকি দিতে থাকলো। তবে সবার আগে যে প্রশ্নটি এলো তা হলো- সংবাদপত্র কেন ?

সংবাদপত্র কেন ? আদৌ কি আমাদের সংবাদপত্রের প্রয়োজন আছে ? এই যুগে এসে এরকম অদ্ভুত প্রশ্নে যে-কেউ বিস্মিত হতেই পারেন। তাতে করে প্রশ্নের গুরুত্ব হারিয়ে যাবে না। প্রশ্ন তার অবস্থানে ঠিকই থেকে যাবে। হযতো একটু ইনিয়ে বিনিয়ে এই প্রশ্নগুলোই অন্যভাবে করা হবে- সংবাদপত্র আমাদেরকে কী দেয় ? এতে হয়তো কেউ কেউ বিরক্ত হবেন- এটা কোন নতুন প্রশ্ন হলো ! তবু পুরনো প্রশ্নই কখনো কখনো নতুন করে ছুঁড়তে হয় বৈ কি। সত্যি করে বলুন তো, সংবাদপত্র আমাদেরকে আসলে কী দেয় ? কেউ হয়তো বলবেন, কেন, সমসাময়িক উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি আমাদের দৃষ্টিগ্রাহ্যতায় এনে দেয়। কেউ বলবেন বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের যোগান দেয। কেউ বলবেন যে আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। কেউ বলবেন আনন্দ দেয় বিনোদন দেয়, কেউ বলবেন রাষ্ট্র ও সমাজের নানান অসংগতি অনাচার তুলে ধরে অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদ করে। আবার কেউ কেউ হয়তো বলবেন আলু দেয়, বাঁশ দেয়, কাঁচকলা দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি। কেউ আবার ফোঁড়ন কাটতে পারেন- বিজ্ঞাপনও দেয়। সবার কথাই সত্যি। সংবাদপত্র আমাদেরকে এ সবই দিতে পারে এবং দেয়ও। তবে দেয়ার প্রক্রিয়া, বিষয় আর উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণে উপস্থাপন বৈগুন্যে যা দেয়া হয় তা কি আর তা-ই থাকে ? এসব ভিন্নতার মাধ্যমেই পাঠকের কাছে প্রতিটা সংবাদপত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও নির্দিষ্ট হয়ে যায়। সচেতন পাঠক মাত্রেই চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারেন ওটা বিনোদন পত্রিকা, ওটা অপরাধ পত্রিকা, ওটা সাহিত্য পত্রিকা, ওটা কৌতুক পত্রিকা, ওটা চিন্তাজীবী পত্রিকা, ওটা ফালতু পত্রিকা, ওটা কাজের পত্রিকা, ওটা তদবিরি বা দলীয় পত্রিকা এসব। এক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর যে কৃতিত্বটা স্বীকার করতে হবে তা হলো, সব ধরনের বিষয় বা বিষয় বৈচিত্র্যকে ধারণ করে একই অঙ্গে এই পত্রিকাগুলো এতো  রূপের মিশ্রন ঘটিয়েছে যে, একজন সাধারণ নাগরিককে আর ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের পত্রিকা না রাখলেও চলে। একটি দৈনিক থেকেই সব ধরনের টেস্ট চেখে নেয়া সম্ভব। খবর, তথ্য, বিনোদন, সাহিত্য, মতামত ইত্যাদি হরেকরকম বিষয়ে পাঠকরুচির সমন্বয় ও সমাবেশ ঘটাতে আজকাল দৈনিকগুলোর এতো আয়োজন দেখে অনেকেই হয়তো মুগ্ধ-বিস্ময়ে ভাবতেও পারেন, আহা, পাঠক-সন্তুষ্টির জন্য এরা কতো কিছুই না করছে ! পারলে জানটাও দিয়ে দেয় আর কি ! আসলেই কি তা-ই ? আমাদের অধিকাংশ দৈনিকের জন্মেতিহাস তো তা বলে না।

Saturday, October 10, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল...| পাখির চোখে |



   | দুই-মেগাপিক্সেল...| পাখির চোখে |
     রণদীপম বসু
...
(০২)
সেই যে-মানব একদিন ডানা মেলে ভেসে থাকা পাখিটার দিকে মুখ তুলে তাকালো গভীরভাবে, সেদিনই তার মনে জেগে উঠলো উড়ার বাসনা। সাধ জাগলো বিশ্বটাকে পাখির চোখে দেখার। কিন্তু সে তো উড়তে জানে না ! তাই বলে কি থেমে থাকবে ? মানুষ থেমে থাকে না কখনো। ডানা নেই তবু ডানার সাহসে বাইতে শিখলো ঠিকই।
সেও কি এভাবে কল্পনা করেছিলো, অনেক উঁচু দালানের কার্নিশে বসে শ্রান্ত পাখিটা ওই দূরের মিরপুর ভাসানী স্টেডিয়ামটাকে কি এভাবেই দেখে ?

| দুই-মেগাপিক্সেল...| আইডেনটিটি |



   | দুই-মেগাপিক্সেল...| আইডেনটিটি |
     রণদীপম বসু

অর্থনীতির হিসাবে ওরা এসেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তিশালী রাষ্ট্রটি থেকে। জাপান। তারুণ্যে ভরপুর এদেরকে দেখলেই বুঝা যায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বা সেদেশের স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী। উচ্ছল প্রাণ-চাঞ্চল্য সাথে নিয়ে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে এসেছে বেড়াতে কিংবা কোন শিক্ষা সফরে, হয়তো অভিজ্ঞতা অর্জন বা কোন গবেষণা সন্দর্ভ তৈরির জন্য। এ-সবই ধারণা। কিন্তু ছবি যা বলে, তা হয়তো ধারণা নয়। সফরের প্রামাণ্য হিসেবে ডিজিটাল আলোয় যে অভিজ্ঞতাটুকু তাদের মুঠোবন্দী হচ্ছে, তা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।

| দুই-মেগাপিক্সেল...| বঙ্গভবন |



| দুই-মেগাপিক্সেল...| বঙ্গভবন |
     রণদীপম বসু
...
হঠাৎ করেই সুযোগ হলো বঙ্গভবনে যাওয়ার। মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ত্রিসীমানায় আমার মতো নটু-ফটুর প্রবেশাধিকার পাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। মূলত একজন সিনিয়র বন্ধুর সঙ্গি হয়ে যাচ্ছি। পকেটে দুই-মেগাপিক্সেলটা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আমার ভাগ্য যে সুপ্রসন্ন হয় না তার প্রমাণ এই ছবি। গাড়ির ভেতর বসেই সামনের দিকে তাক করা। অঝোর বৃষ্টিতে কাজীপাড়া রাস্তার পানি হাটুর মাপ পেরিয়ে উপরের দিকে উঠছে।

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৭১-৮০|



| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৭১-৮০|
রণদীপম বসু
...

(৭১)
যে সমাজে গাধার শ্রেষ্ঠ গুণ হলো সে গাধা
আর মানুষের নিকৃষ্ট অপরাধ হচ্ছে সে মানুষ,
সে সমাজ বাঙালির।

(৭২)
প্রকৃতির সবুজ ছোঁয়া থেকে যে যতো দূরবর্তী
সে ততো সভ্য,
বহুতলশীর্ষ ফ্ল্যাটে হয় সভ্যতম মানুষটির বসবাস।

(৭৩)
আজকাল কোন অফিসে ঢুকলে মনে হয়
ভুল করে বুঝি মসজিদেই ঢুকে গেলাম,
জরুরি ফাইলের চাইতে জায়নামাজই অধিক মূল্যবান সেখানে।

@ টান নেই আঁচড় নেই শুধুই বিষাদ - ০৪ (কবিতাগুচ্ছ)


| স্রোত-স্বর |
রণদীপম বসু
...
ডিঙাটা বাইছিলো যে দুর্বিনীত হাত
উন্মত্ত বৈঠায় শ্লোকে
প্রতিকূল স্রোত ভেঙে ধাবমান সে তো
লুঠতে নয়, তোমাকে সাজাতেই আসছিলো ;
কী আশ্চর্য প্যারাডক্স- ওটাকে সরাতে গিয়ে
ভয় থির থির তুমি
অদ্ভুত এ দৃশ্য থেকে নদীটাই ফেলে দিলে !

যে-চোখে নদীই নেই, জলের ভ্রুকুটিহীন নিরক্ত গহ্বর
ওখানে কেন সে আসবে আর !
পাড়-হীন তুমি হারিয়েছো স্রোত-স্বর
হারিয়েছো নদীচোখ।
(১৪-১০-২০০৭)

...


  | ছায়াবৃত্ত |
রণদীপম বসু
...
নীলডুবো জলের কাছে বললাম-
আমাকে তোমার আলোটুকু দেবে ?
একদৃষ্টে আমার দিকে চেয়ে জল বললো- এই নাও, সাবধানে রেখো।

জলের আলোয় রাঙা হেঁটে হেঁটে আমি
ঠিক পাহাড়টার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। পাশ থেকে
এক প্রাচীন বৃক্ষ ডেকে উঠলো- 'সবুজ পাখি শোনো,
পাহাড়ের কাছে কিছু চাইতে যেয়ো না যেনো !'
আকস্মিক বিস্ময় চাপা থাকে না কারো, উত্তর এলো-
'প্রাগৈতিহাসিক দুঃখ বুকে বৃষ্টিভেজা পাহাড়টাকে
বুঁদ হয়ে ওভাবেই থাকতে দাও।'

বৃক্ষজ্ঞানহীন আমি বললাম- কিন্তু তুমি আমাকে পাখি বললে কেন ?
‘ডানার সাহস পেলে মানুষ পাখি এবং বৃক্ষ হয়ে যায়’-
মন্ত্রঃপুত বৃক্ষস্বরে চমকে ওঠে দেখি, আমার দুই কাঁধ জুড়ে
বিস্তৃত সবুজ ডানায় আলোকিত চারপাশ !

আমাকে আর পাহাড়ের কাছে চাইতে হবে না কিছু,
চূড়া থেকে ঝাঁপ দেবার মানবিক ইচ্ছেটা ঝলমল করে উঠলো-
সজোর ঝাপটায় ঝাঁপ দিলাম উৎফুল্ল ডানায় ফের,
কী আশ্চর্য ! মরমর করে গোটাকয় শেকড় ছিঁড়লো বটে,
তবু অসংখ্য শেকড়ে বদ্ধ প্রোথিত আমার পা নড়লো না একটুও।

আমি চিৎকার করে উঠলাম, জানতে চাইলাম-
হে জ্ঞানী বৃক্ষ, আমি কি বৃক্ষই তবে !
মাথাটাকে নাড়ালো দু'চারবার, তারপর বললো- না, শেকড়-বাকড়
শুধু মানুষেরই হয়, বৃক্ষের নয়।
- অসম্ভব ! আমি তো হেঁটে হেঁটেই এসেছিলাম এখানে !
বাতাসে শিষ কেটে আবারো বললো সে, এ-সবই
মানুষের কাল্পনিক ভ্রমণ।

দরদর ঘেমে নেয়ে বৃক্ষল-শরীরে আমার ছটফটে মানবিক ক্রোধ
ঠোকাঠুকি করে, ছেঁড়া-ফাড়া অন্ধকার খুঁড়ে আচ্ছন্ন ঘুমের রেশ কেটেকুটে
প্রবল নিঃশ্বাসে খুঁজি একান্ত বিছানা আমার... নিরিবিলি বালিশের ওম...
নিশ্চিন্ত দেয়ালে ঘেরা ছোট্ট সেই ঘর...
আমি খুঁজতেই থাকি নিশ্চল মাংসপিণ্ড কিংবা
কবন্ধহীন বৃত্তে ঘেরা ছায়ার সংসার... আমি খুঁজতেই থাকি...
খুঁজতেই থাকি-
শেষবার কবে যেনো অভ্যাসবশেই  বিছানায় এলিয়েছিলাম গা।

এইসব ছায়াবৃত্ত ভেঙে
জলরাঙা চোখ ফুঁড়ে এক ঝাঁক প্রজাপতি তখন
ঘরময় ছোটাছুটি করে...
(১২/১১/২০০৯)
 ...


| কবিতা লিখতেই হবে এমন কথা নেই |
রণদীপম বসু
...
কবিতা লিখতেই হবে এমন কথা নেই
কিন্তু অসভ্য বর্বরের মতো বসে থাকবো কবিতাহীন
এটা কী করে হয় !
মানুষ আর প্রাণীর ফারাকটা অস্পষ্ট হলেও
যেটুকু স্পষ্টতা তা কবিতার জন্যেই।
সেই থেকে প্রাণপণে কবিতাকেই খুঁজি।

রমনা পার্কে সেদিন কেউ কবিতা কবিতা বলে ডেকে ওঠতেই
বুকের ভেতরের নদীটা গুমড়ে ওঠলো। পাড় ভাঙার শব্দে
চমকে তাকালাম ! মেয়েটির নাম কবিতা। এখন যার আলিঙ্গনে আবদ্ধ,
একটু পরে অন্য কেউ স্থান নেবে তার। এরপর আরো কেউ।
তারপর আরো... আরো...। এভাবেই কবিতার হাতবদল হতে হতে
কবিতা কারো একার থাকে না। কিন্তু সবারও নয়। বেবুশ্যের বিষে আর্দ্র
নীলাভ্র কবিতা সে নিজেরও নয়। কবিতা আসলে কারোরই নয়। তবু
মানুষ কবিতাকে পেতে চায় তার বর্বরতা ঘোচাতে, এবং কবিতাকে পেতে গিয়ে
কবিতা পড়তে গিয়ে মানুষ শেষপর্যন্ত বর্বর হয়।

কবিতা লিখতেই হবে এমন কথা নেই। কবিতা পড়তে হয়,
পড়তে পড়তেই মানুষ কবিতাকে হারিয়ে ফেলে। তখন আবার
কবিতা লিখতে হয়।
মানুষ অসভ্য প্রাণী; কবিতা ছাড়া মানুষের চলে না।
(০৪-০৩-২০১০)
[sachalayatan]
...


একদিন সেও কিনা...
-রণদীপম বসু

...
কখনোই বলে নি সে- ভালোবাসি,
ডুবু ডুবু চোখে জ্যোৎস্নাকে ঘৃণা করে চাঁদেপাওয়া অক্ষরের শুদ্ধতায়
সে কোন্ ইচ্ছের ক্রন্দন শুনেছে সে বহুকাল? কেউ কি জানতো,
জ্যোৎস্নাকে ঘৃণা করে করে জ্যোৎস্নার নীল জলে একদিন ডুব দেবে সে !

না-পাওয়ার যন্ত্রণা পাথর-বন্দী হলে পাওয়ার কষ্টেই ইচ্ছেরা কাঁদে।
হয়তো সে জেনেছিলো- জলের অক্ষর জলে মুছে না কখনো,
জ্যোৎস্নার কষ্টও জ্যোৎস্নারা পারে না ধুয়ে দিতে।
জ্যোৎস্নার ধবল শয্যায় শুয়ে শেষবার চেয়েছিলো জ্যোৎস্নার দিকেই;
চোখ থেকে ঝরে পড়া জ্যোৎস্নার মতোই কেউ কি জানতো,
রাতের উন্মুক্ত স্থিরতায় বেঁধে কতটুকু অন্ধকার জমেছিলো চোখে !

কখনোই বলে নি সে ভালোবাসি,
শুধু জ্যোৎস্নাকে ঘৃণা করে করে সেও কিনা একদিন জ্যোৎস্না হয়ে গেলো !
 (১৬-০৩-২০১০)
...
(ছবি-কৃতজ্ঞতা: লোটাকম্বল)
...
[sachalayatan]
...


 ঘুম
-রণদীপম বসু
...
একদিন ঘুম ভেঙে দেখি যদি- ভাঙেনি আমার ঘুম
সেদিন তুমি এসেই না হয় ভাঙিয়ে দিয়ো
শুধু তোমাকে দেখবো বলেই অঢেল ঘুমের স্রোত
দেখে নিয়ো স্বপ্নের ডিঙি বেয়ে ঠিক ঠিক পৌঁছে যাবে তোমার ডাঙায়
যেখানে তুমিই হবে আমৃত্যু সওয়ারি আমার...

অথবা না-আসোই যদি
ভুল করে মেলে দিয়ো ভাঁজ-ভাঙা একটুকু স্বপ্ন-চাদর
ঘুম ভাঙা চোখ মেলে হয়তো দেখতেও পারো জেগেই আছি
বুঝে নিয়ো আসলে তা জাগা নয়-
ডুবে আছি অন্তহীন তোমার ঘুমে...
(০৩-০৪-২০১০)
...


| বোকা মেয়ে জানলো না |
 -রণদীপম বসু
...

কথায় কথায় ‘দিব্যি’ টানা ঠিক নয়। তবু
মেয়েটি, ছেলেটির কোন অক্ষমতাকে নয়, বরং
অনির্ণীত সামর্থ্য আর অপরিমেয় সম্ভাবনাকেই জিম্মি করে দিলো
              সমুদ্রের দোহাই টেনে।

মেয়েটি কি জানতো, ছেলেটি সমুদ্র আর সমুদ্রের
              অপার্থিব জগতটাকে অসম্ভব ভালোবাসে ?
সমুদ্রের গভীর নীল জলে সে শুধু মেয়েটির প্রতিচ্ছবি
              দেখতো বলেই কিনা কে জানে,
পড়ন্ত বিকেলের ধুসর আলোয় চুপ করে বসে থাকে
বিষণ্ন সৈকতের প্রান্তসীমায়-

সমুদ্রের এই বিশালতায় সে ঝাঁপ দিতে চেয়েছিলো-
তাই শিখেছিলো হিরন্ময় সাঁতার;
সমুদ্রের অতল-স্পর্শতাকে ছুঁতে চেয়েছিলো-
তাই অনেক প্রতীক্ষার পর তাকে ভুলতে হয়েছে ফের
পুরনো সাঁতার।
ভুলে যাবার মতো ভয়ঙ্কর কঠিন সাধনার কাজ
                     যে সম্ভব করে তুলতে পারে
সেই অপরিমেয় সামর্থ্যবান ছেলেটি
সমুদ্রের নির্জন নিসঙ্গতায় মুখর হতে চেয়েছিলো-
এবং সমুদ্র কখন নিসঙ্গ হবে তারই অধ্যয়নে ব্যস্ত ছিলো সে...

অতঃপর এক নিসঙ্গ বিকেলে সমুদ্রের দূরাগত গর্জন শুনতে শুনতে
একটি ছেলে চুপ করে বসে থাকে সৈকতের নিস্তব্ধ প্রান্তসীমায়।
সাঁতার ভুলে যাওয়া ছেলেটি ততদিনে জেনে গেছে-
সমুদ্রের বিশালতায় ঝাঁপ দেয়া যায় না কখনো,
              হেঁটে হেঁটে নেমে যেতে হয়; কারণ-
সমুদ্রকে ছুঁয়ে দিলে সমুদ্রই টেনে নেয় বুকে !

সে এগিয়ে যায় সমুদ্রের দিকে...
তার অনির্ণীত সামর্থ্য আর অপরিমেয় সম্ভাবনা
              জিম্মি হয়ে আছে এই সমুদ্রের কাছে !
চাইলেই সে নেমে যেতে পারে একটু একটু করে
সমুদ্রের জরায়ু ফুঁড়ে এক নিঃসীম অন্ধকারের বিবর্ধক জগতে
চাইলেই নেমে যেতে পারে, কিন্তু
সন্ধ্যার গাঢ় নোনা আভায়
সমুদ্রের কালো জল কোন প্রতিচ্ছবিই দেখালো না তাকে;
ফেলফেল অন্ধকারে এক অচেনা সমুদ্রের দিকেই তাকিয়ে রইলো সে...

বোকা মেয়ে জানলো না-
একটি ছেলে সমুদ্রে ঝাঁপ দিতে এসে
শেষপর্যন্ত একাই ফিরে গেলো তার সবটুকু সামর্থ্য নিয়ে।

 ছেলেটির অনির্ণীত সম্ভাবনা
              মেয়েটির কাছে অযথাই জিম্মি হয়ে রইলো।
...
(২৩-০৫-২০১০)
...
[sachalayatan]
...

Friday, October 9, 2009

| ষোড়শ সংখ্যা ‘প্রতীকী’, কিছু কথা কিছু আকথা…|



| ষোড়শ সংখ্যা ‘প্রতীকী’, কিছু কথা কিছু আকথা…|
রণদীপম বসু

০১.
কে কেন কিভাবে লিখেন, এ নিয়ে দুনিয়াজোড়া মজার মজার কাহিনী প্রচলিত আছে। আবার প্রতিটা মানুষই নাকি কোন না কোনভাবে কিছু কিছু মজার স্ববিরোধিতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বিশেষ করে যাঁরা ভাবনার খুব গভীরতলে পৌঁছে যান, তাঁরাই আবার খুব হালকামাত্রায় এসে বেশ হাস্যকর কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বসেন। বিজ্ঞানী নিউটনের এরকম একটা ঘটনার কথা তো বহুল প্রচলিত, যা সেই ছাত্রকালে শুনে বেশ মজা পেয়েছিলাম। কী এক গবেষণা চালাতে গিয়ে নিউটন নাকি একবার দুই কোঠা বিশিষ্ট বড় একটি বাক্সের মধ্যবর্তী পার্টিশনটাতে দুই আকৃতির দুটো ছিদ্র করেছিলেন, কোঠা বদল করতে বড় বিড়ালের জন্য একটি এবং ছোটটির জন্য অন্যটি। শুধুমাত্র একপাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়ার জন্য দুটো বেড়ালের জন্য যে একটি রাস্তাই যথেষ্ট, এ কথাটা নিউটনকে কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছে না। অবশেষে তাঁর সহকারী হাতে-কলমে দেখিয়ে দেয়ার পর নিউটনের উক্তি ছিলো- তাই তো ! ঘটনাটি আদৌ সত্য কিনা, না কি বাঙালির রসসৃষ্টির অসাধারণ প্রতিভার আরেকটি নমুনা উদাহরণ কে জানে। তবে মনোবিজ্ঞান বলে যে, ভাবনার উচ্চস্তরে অবস্থান করলে একই সময়ে নিচের স্তরের এরকম ছোটখাটো অসংগতি ঘটানো মানব-মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রবণতার একটা অংশ।

| ‘একুশে পদক’ চান ? এখনই আবেদন করুন !



|‘একুশে পদক’ চান ? এখনই আবেদন করুন !
রণদীপম বসু
...
গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাকের ১২ পৃষ্ঠায় ‘বিনোদন প্রতিদিন’ বিভাগের পাতায় প্রকাশিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তিটিকে নিশ্চয়ই কেউ বিনোদন হিসেবে নেবেন না। তবু সিরিয়াস এই বিজ্ঞপ্তিটাকে কেন যেন মজার একটা বিনোদন হিসেবেই মনে হলো। আমার ভুল হয়ে থাকলে পাঠক চোখে নিশ্চয়ই তা এড়াবে না। একুশে পদক- ২০১০-এ পুরস্কার প্রদানের নিমিত্তে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে প্রদত্ত এ বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হচ্ছে- ‘ এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে একুশে পদক- ২০১০ এর পুরস্কার প্রদানের নিমিত্ত নিম্ন বর্ণিত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি/ সংগঠনকে নির্ধারিত ছকে জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ পূর্বক আগামী ২২-১০-২০০৯ ইং তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের যে কোন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন যে কোন দপ্তর/ অধিদপ্তর/ সংস্থা এবং জেলা প্রশাসনের (সংশ্লিষ্ট জেলা) দপ্তরে দাখিলে জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। উপরোক্ত দপ্তর/ সংস্থা মনোনয়ন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অগ্রায়ন করবে।..’ (বিঃ দ্রঃ- বিজ্ঞপ্তির ভাষা ও বানান হুবহু রাখা হয়েছে।)

| নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ, লুঠপাটের নতুন ধান্ধা নয় তো !



| নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ, লুঠপাটের নতুন ধান্ধা নয় তো !
রণদীপম বসু

জাতে বাঙাল হওয়ার সমস্যা এটাই, শুরুতেই সন্দেহ এসে ভর করে। গত ০২ অক্টোবর ২০০৯ শুক্রবারের দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় বড় লাল শিরোনামে প্রধান সংবাদটা ছিলো- ‘সব ধরনের নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ’। তার নিচেই ছোট্ট উপশিরোনাম- ‘বিপণন কোম্পানিগুলোকে পেট্রোবাংলার চিঠি, উৎপাদন না বাড়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে’। ০১ অক্টোবর থেকে বলবৎ হওয়া এ সিদ্ধান্তটি গ্যাস (Gas) ও জ্বালানিসম্পদের তত্ত্বাবধানকারী সরকারি সংস্থা পেট্রোবাংলা  (Patrobangla) ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৯ বুধবার চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। এই সংবাদ শুনামাত্র নাকি সারাদেশে সংযোগ প্রত্যাশী, ঠিকাদার সংস্থার সদস্যরা বিপণন কোম্পানিগুলোর সামনে বিক্ষোভও করেছে। শেষপর্যন্ত ফলাফল যে কী দাঁড়াবে তা-ই ভাববার বিষয় বৈ কি। আদৌ কি ভালো কিছু হচ্ছে ?

| দুই-মেগাপিক্সেল…| রায়েরবাজার টু ধানমন্ডি |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| রায়েরবাজার টু ধানমন্ডি |
রণদীপম বসু



১৬ জানুয়ারি ২০০৯, ছুটির দিন থাকায় দুই-মেগাপিক্সেলটা সাথে নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম। উদ্দেশ্য রায়েরবাজার বধ্যভূমি। এর আগে যাইনি কখনো। লোকেশান নিয়ে জানলাম, মিরপুর থেকে ‘শতাব্দী’ টাউন সার্ভিসে ‘শংকর’ নামক জায়গায় নেমে রিক্সায় গন্তব্যস্থল। আমি তো আর চিনি না, গাবর যাত্রী পেয়ে বাসঅলা আমাকে নামিয়ে দিলো পিলখানার রাইফেল স্কয়ারের কাছে। কী আর করা ! বাংলাদেশ রাইফেলস-এর সুদৃশ্য ফটকটি তাক করে দিলাম সাটার টিপে।