‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।’ -- প্রাচীন গ্রীক কবি ইউরিপিডিস (৪৮০-৪০৬ খ্রীঃ পূঃ)
Saturday, November 28, 2009
অদৃশ্য বাতিঘর-১০ (কবিতাগুচ্ছ)
অদৃশ্য বাতিঘর-১০ (কবিতাগুচ্ছ)
-রণদীপম বসু
...
বিষণ্ন লিরিক
...
(০১)
চুপে চুপে খুঁজে নাও কাঙ্ক্ষিত গোলাপ তোমার
বাহারি পাঁপড়ির ভিড়ে
নিসর্গে ভেজা এই স্বপ্নালু উদ্যানে জলে
দিলাম উন্মুক্ত করে তোমার প্রবেশ;
অবারিত ইচ্ছেকে শুধু
নির্বিশেষে কোরো না উন্মুক্ত যেনো
তবে নতমুখী হয়ে যাবে উন্মিলিত পুষ্পেরা সব।
নতমুখী গোলাপেরা কখনো বোঝে না মানুষের ভাষা।
অদৃশ্য বাতিঘর-০৯ (কবিতাগুচ্ছ)
অদৃশ্য বাতিঘর-০৯ (কবিতাগুচ্ছ)
-রণদীপম বসু
...
অন্তর্লীন বৃক্ষ এক
...
(প্রয়াত কথাশিল্পী আখতারুজ্জামান ইলিয়াস-কে শ্রদ্ধার্ঘ)
এখনো শৈত্য ঝরে কবোষ্ণ মাটিতে
অন্ধকারে।
কোথাও শব্দ নেই কোনো অথবা শিশির;
দরদর ঘামে ঝরে বৃক্ষপত্রেরা তবু।
বাতাসে কিসের ওম ?
পরস্পর চাওয়া-চাওয়ি মুখে
জটলাটা ফিকে হয়ে এলে
তখনো পড়ে থাকেন শরীরসুদ্ধ তিনি।
কষ্ট ঝেরে নির্বিকার জীবিত বাতাসে
একটি কথাই কেবল ঘোরে আর ফিরে-
আরেকটু সময় ছিলো বড়ো বেশি প্রয়োজন খুব।
অফুরন্ত এতো যে সময় পচে এতোসব নষ্ট বিবরে
হায়, কারো কারো রয়েই যায়
চিরন্তন আকাল প্রহর...।
অদৃশ্য বাতিঘর-০৮ (কবিতাগুচ্ছ)
অদৃশ্য বাতিঘর-০৮ (কবিতাগুচ্ছ)
- রণদীপম বসু
...
স্বপ্নের কাছে সমর্পিত
...
(তরিকুল ইসলাম দুলাল বন্ধুবরেষু)
স্বপ্নের কাছে সমর্পিত হবো দ্বিধাহীন-
খুব বেশি আকাঙ্ক্ষা তো নয়
তবু নিজ নিজ বৃত্তের মাঝে বহমান মানুষেরা আজ
একান্ত স্বাধীন নয় আর
হুট করে হানা দেয় বিরোধী আপন ছায়া
বিষাক্ত আঁচড় কাটে স্বপ্নবান চোখে।
কী করে সরাই তাকে ?
Sunday, November 22, 2009
| ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল বক্তৃতা |
১০ ডিসেম্বর ২০০৬ অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত নোবেল বক্তৃতা
'দারিদ্র্যকে আমরা জাদুঘরে পাঠাতে পারি'
-মুহাম্মদ ইউনূস
...
মান্যবর রাজা, রাজকীয় মান্যবর, নরওয়ের নোবেল কমিটির মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সুধীমণ্ডলী, ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ!
গ্রামীণ ব্যাংক ও আমি নিজে সবচেয়ে মর্যাদাকর পুরস্কার গ্রহণ করতে আজ গভীর সম্মানিত বোধ করছি। এই সম্মানে সম্মানিত হয়ে আমি পরম রোমাঞ্চিত, অভিতূত ও আপ্লুত। নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে সারাটা বিশ্ব থেকে অগুণতি বার্তা আসছে আমার কাছে। কিন্তু যা আমাকে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করে, যখন প্রায় প্রতিদিন আমি টেলিফোন পাই গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রাহক, বাংলাদেশের সেই সুদূর পল্লীজনপদগুলির মানুষের কাছ থেকে, যারা আমাকে জানাতে চান এই মহৎ স্বীকৃতি পেয়ে তারা কতোখানি গৌরববোধ করছেন।
গ্রামীণ ব্যাংক ও আমি নিজে সবচেয়ে মর্যাদাকর পুরস্কার গ্রহণ করতে আজ গভীর সম্মানিত বোধ করছি। এই সম্মানে সম্মানিত হয়ে আমি পরম রোমাঞ্চিত, অভিতূত ও আপ্লুত। নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে সারাটা বিশ্ব থেকে অগুণতি বার্তা আসছে আমার কাছে। কিন্তু যা আমাকে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করে, যখন প্রায় প্রতিদিন আমি টেলিফোন পাই গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রাহক, বাংলাদেশের সেই সুদূর পল্লীজনপদগুলির মানুষের কাছ থেকে, যারা আমাকে জানাতে চান এই মহৎ স্বীকৃতি পেয়ে তারা কতোখানি গৌরববোধ করছেন।
Friday, November 20, 2009
| ঘৃণার বুলেটে বিদ্ধ ভালোবাসা...!
| ঘৃণার বুলেটে বিদ্ধ ভালোবাসা...!
রণদীপম বসু
...
প্রিয় রাসেল
বেঁচে থাকলে তুমি আজ ঠিক আমার বয়েসী-ই হতে। কারণ একই বছরে জন্মেছিলাম আমরা। কিন্তু আমার মতোই হতে কিনা জানি না। গড়পড়তা বাঙালির মধ্যমাকৃতির দেহে অকাল-বাতাসে উড়ে যাওয়া তৃণভূমির বিরাণ হাহাকার হয়তো জ্বলজ্বল করতো না তোমার মাথায়। ঘন কালো গভীর অরণ্যে বিচ্ছুরিত আলোকরেখার মতো এক ঝাঁক রূপালী ঝিলিক নিয়ে আশ্চর্য সুঠাম ও দীর্ঘদেহী পৌরাণিক পিতার কনিষ্ঠ উত্তরাধিকার তুমি অসম্ভব ঋজুতায় অহঙ্কারী হতে। ‘হয়তো’র সম্ভাব্য-আঁটা এই অনিবার্য বৈশিষ্ট্যও তোমার আর আমার মাঝে মূলত কোন পার্থক্য সূচিত করে না আজ। বেঁচে থাকলে আমাদের আকস্মিক বন্ধুতা হওয়াও তেমন কোন আশ্চর্যের বিষয় হতো না। কারণ এখনো তুমি আমার ভাই। আমাদের পিতা তোমাকে দিয়েছিলেন রক্তের জেনেটিক স্রোত আর আমাকে দিয়েছেন দুর্বার পরিচয়।
Wednesday, November 18, 2009
| এক টুকরো আয়না...!
| এক টুকরো আয়না...!
রণদীপম বসু
...
(০১)
এক জীবনের ফালতু প্যাঁচাল শেষ করতেই মোটামুটি পাঁচশ’ বছরের কম হলে যে চলে না, মূর্খ-চিন্তায় এ আত্মোপলব্ধি যেদিন খোঁচাতে শুরু করলো সেদিন থেকে নিজেই নিজের এক অদ্ভুত ভিকটিম হয়ে বসে আছি। কী আশ্চর্য ! পঞ্চাশ-ষাট বছরের ছোট্ট একটা গড় জীবনের মশকারি কাঁধে নিয়ে ‘মুই কী হনুরে’ হয়ে ওঠা আমাদের আলগা ফুটানিগুলো কতো যে অসার বর্জ্য, ভাটির মাঝিরা বুঝে যান ঠিকই। এই দুঃখে কাঁদবো না কি জীবন নামের মারাত্মক কৌতুকের বিষয়বস্তু হয়ে নিজেকে নিয়ে নিজে নিজেই অদ্ভুতভাবে হাসতে থাকবো, সে সিদ্ধান্তটাও নেয়া হলো না আজো। কী করেই বা নেবো ? স্বপ্ন দেখা শিখতে শিখতেই তো জীবন কাবার ! স্বপ্নকে ছুঁবো কখন ? তার আগেই তো বিশাল একটা ‘ডিম্ব’ ! মানে ফুস ! হাহ্ , এগুলোকে কেউ কেউ ভাবতে পারেন মন খারাপের কথা।
Sunday, November 8, 2009
| ফুটোস্কোপ দর্শন...!
| ফুটোস্কোপ দর্শন...!
রণদীপম বসু
...
[ উৎসর্গ: সুজঞ্চৌ ]
...
কার্টুন-চিত্রের জনক কে ? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই ফের প্রতিবারের মতো সেই পুনর্জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠলাম। কী সেই জ্ঞান ? তা হলো- আমি এটুকু জানলাম যে, আমি এর কিছুই জানি না। জ্ঞানীজনেরা বলেন, জানা মানেই জ্ঞান। অর্থাৎ এর আগে আমি নিশ্চিতভাবে এ বিষয়ে অজ্ঞান ছিলাম। কেননা, এ বিষয়ে আমি কোন কিছু জানতাম কি জানতাম না, সেটাই জানা ছিলো না আগে ! এখন তো এটা জানতে পেরেছি যে আমি জানি না ! এভাবেই নাকি মানুষ জ্ঞানী হয়ে উঠে। অতএব এই চমৎকার জ্ঞান নিয়ে কথা আর আগানো মানে যে ‘বাবা মদন, থাক, অনেক হয়েছে’ জাতীয় প্রশস্তি-বাক্য প্রাপ্তির সম্ভাব্য নিশ্চয়তা বিধান, অন্তত এটা বোঝার জ্ঞান নিয়ে কেউ কি সন্দেহ পোষণ করবেন ? মনে হয় না। সে জ্ঞানও ময়-মুরব্বির দোয়ায় অর্জন করে ফেলেছি বলা যায় ! অতএব সাহিত্য-তলানিচাপা মানুষ, যাকে কিনা শিল্প-মূর্খ বললেও খুব কম বলা হয়, তার মাথায় এমন সীমা-ছাড়া জ্ঞানী-প্রশ্ন আসবে কেন ? জ্ঞানীজনের মতে এটাকেই বলে প্রভাব।
Friday, November 6, 2009
| আমাদের 'ব্যা-করণ' শিক্ষা !
| আমাদের 'ব্যা-করণ' শিক্ষা !
রণদীপম বসু
(০১)
পড়ার সামর্থ যতটুকুই থাক, পাঠক হিসেবে নিজেকে কখনোই খাটো করে দেখি না আমি। আর আমিই বা কেন ! নিজের ক্ষেত্রে কেউই তা দেখেন না। কারণ এটা একটা স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া, স্রোতের মতো। স্রোত ভারী হলে গন্তব্য দূরবর্তী হবে, নয়তো নিকটবর্তী। তবে পাঠ যেটুকুই হোক, পাঠকের মৌলিক চরিত্র একটাই, পাঠের আগ্রহ।
যেহেতু আমি বহুভাষী নই, অন্য কোন ভাষা আমি জানি না বা বুঝি না, তাই মাতৃভাষা বাংলাই শেষ ভরসা আমার। অনেকটা অসহায়ত্বে আক্রান্ত নিরূপায় মানুষের ঈশ্বর-ভরসার মতো। ভিন্নভাষী কোন বই নিয়ে যদি কোথাও কোন তোলপাড় উঠতে শুনি, তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো সেটার অনুদিত বাংলার অপেক্ষাতেই থাকতে হয় আমাকে। সে অপেক্ষা সার্থক হোক বা না হোক। তৃষ্ণাও কখনো মেটে, কখনো মেটে না। যেটুকু না মেটে সেটা আমারই সীমাবদ্ধতা হিসেবে মেনে নেই। এছাড়া কিছু তো করার নেই। যাদের নির্ভর করার মতো একাধিক ভাষা-বিকল্প থাকে তাঁরা হয়তো আমার মতো এতোটা অসহায় নন। তবে এ নিয়ে আমার কোন আফসোস নেই। আফসোস যেটা, সেটা অন্য জায়গায়।
যেহেতু আমি বহুভাষী নই, অন্য কোন ভাষা আমি জানি না বা বুঝি না, তাই মাতৃভাষা বাংলাই শেষ ভরসা আমার। অনেকটা অসহায়ত্বে আক্রান্ত নিরূপায় মানুষের ঈশ্বর-ভরসার মতো। ভিন্নভাষী কোন বই নিয়ে যদি কোথাও কোন তোলপাড় উঠতে শুনি, তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো সেটার অনুদিত বাংলার অপেক্ষাতেই থাকতে হয় আমাকে। সে অপেক্ষা সার্থক হোক বা না হোক। তৃষ্ণাও কখনো মেটে, কখনো মেটে না। যেটুকু না মেটে সেটা আমারই সীমাবদ্ধতা হিসেবে মেনে নেই। এছাড়া কিছু তো করার নেই। যাদের নির্ভর করার মতো একাধিক ভাষা-বিকল্প থাকে তাঁরা হয়তো আমার মতো এতোটা অসহায় নন। তবে এ নিয়ে আমার কোন আফসোস নেই। আফসোস যেটা, সেটা অন্য জায়গায়।
Thursday, November 5, 2009
| বার-বণিতা...[০১]
| বার-বণিতা...[০১]
রণদীপম বসু
...
[আশ্বস্তি : সাদৃশ্য খুঁজিবার অতি-কল্পনের মতোই সিরিজের শিরোনামটিকে শিরোধার্য ভাবিবার আপাত কোন কারণ নাই। এবং সাধু ও চলিতের মিশ্রনও এইখানে দোষণীয় গণ্য হইবে না।]
একদিন ঘুমের মধ্যে রাজা পাখি হইয়া গেলেন। ফুড়ুৎ করিয়া রাজপ্রাসাদ হইতে বাহির হইয়া উড়িয়া চলিলেন। উড়িতে উড়িতে উড়িতে উড়িতে নদী-নালা-খাল-বিল-পাহাড়-জঙ্গল পার হইয়া উড়িতেই লাগিলেন। পাখি হইয়া নিচের দৃশ্য চাহিয়া দেখিতে মন্দ লাগিতেছে না, বড়ই সৌন্দর্য বোধ হইতেছে ! পাখির চোখ দিয়া ভূ-প্রকৃতি-পরিবেশ দেখিবার মধ্যে এতো মধুর মাদকতা যে, রঙ-মহলের শরবত-ই-তহুরাও ইহার ধারেকাছে আসিতে পারিবে না ! আগে কখনোই তাহা টের পাইবার সুযোগ হয় নাই বলিয়া রাজার খুবই আফসোস হইতে লাগিলো। ইশ্, মানুষ হইতে পাখির জীবন কতো সুখের, কত্তো আনন্দময় ! আহা, আরো আগে কেন তিনি পাখি হইলেন না ! মুক্ত দুনিয়ায় উড়িয়া চলিবার বিচিত্র মজায় ডুবিয়া রাজার আর খেয়াল থাকিলো না তিনি কোথা হইতে কোথায় চলিয়া আসিয়াছেন।
একদিন ঘুমের মধ্যে রাজা পাখি হইয়া গেলেন। ফুড়ুৎ করিয়া রাজপ্রাসাদ হইতে বাহির হইয়া উড়িয়া চলিলেন। উড়িতে উড়িতে উড়িতে উড়িতে নদী-নালা-খাল-বিল-পাহাড়-জঙ্গল পার হইয়া উড়িতেই লাগিলেন। পাখি হইয়া নিচের দৃশ্য চাহিয়া দেখিতে মন্দ লাগিতেছে না, বড়ই সৌন্দর্য বোধ হইতেছে ! পাখির চোখ দিয়া ভূ-প্রকৃতি-পরিবেশ দেখিবার মধ্যে এতো মধুর মাদকতা যে, রঙ-মহলের শরবত-ই-তহুরাও ইহার ধারেকাছে আসিতে পারিবে না ! আগে কখনোই তাহা টের পাইবার সুযোগ হয় নাই বলিয়া রাজার খুবই আফসোস হইতে লাগিলো। ইশ্, মানুষ হইতে পাখির জীবন কতো সুখের, কত্তো আনন্দময় ! আহা, আরো আগে কেন তিনি পাখি হইলেন না ! মুক্ত দুনিয়ায় উড়িয়া চলিবার বিচিত্র মজায় ডুবিয়া রাজার আর খেয়াল থাকিলো না তিনি কোথা হইতে কোথায় চলিয়া আসিয়াছেন।
Tuesday, November 3, 2009
| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...| ২৬ |
| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...| ২৬ |
রণদীপম বসু
...
তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)
...
রূপা, অনেকদিন পর আজ হঠাৎ করে শরীরটা অসুস্থ বোধ করছে ভীষণ ! সকাল থেকেই মাথাটা কেমোন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো। দৈনন্দিন কাজকর্মে আজ তো তেমন পরিশ্রমের কোন কাজ করি নি ! তবু দিনের শেষে শক্ত-সমর্থ এই দেহটা ভেঙ্গে পড়তে চাইছে কেন ? মাংস-পেশীগুলোতে চাপা ব্যথা, আর মাথাটা যেন ঘাড়ের উপর থাকতেই চাইছে না। একটা উক্তি আমার বেশ প্রিয়- প্রত্যেকেরই মাঝেমধ্যে অসুস্থ হওয়া উচিৎ, নইলে সুস্থ থাকার আনন্দটা ঠিক ঠিক উপলব্ধি করা যায় না। নিষ্ঠুর সত্য বলেই হয়তো এ মুহূর্তে কথাটা খুব অপ্রিয় ঠেকছে। কী লজ্জার কথা দেখো, আর একটা দিন পেরিয়ে নতুন শতাব্দীতে পা দেবো একটা ক্রীড়ানুষ্ঠানের মাধ্যমে, বার্ষিক ক্রীড়া। তার একদিন পরই আমার এখানে আবার সাতদিনের একটা কর্মশালার আয়োজন হতে যাচ্ছে, যখন দু’মিনিটের জন্যেও হয়তোবা মরারও সময় পাবো না। এরকম একটা সময়ে এটা খুবই লজ্জার কথা হবে আমার পরিচিত গণ্ডিতে অস্বাভাবিক সুস্থ ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত আমি যদি এমন বেমক্কা অসুস্থ হয়ে পড়ি।
Monday, November 2, 2009
| উৎবচন-শতক…| এক |
| উৎবচন-শতক…|এক|
রণদীপম বসু
...
(০১)
যুবতী মেয়েদের চুলের দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে
তার সংস্কারের শিকড় কতোটা গভীরে প্রোথিত,
আর কথায় কথায় স্রষ্টাকে উদ্ধৃত করার সংখ্যা দিয়ে মাপা যায়
পুরুষের ভণ্ডামির বিস্তার।
(০২)
শিল্পের ঘাড়ে কাপড় তুলে দিয়ে
অশ্লীলতার বৈধ বিপণনকারীর তালিকায়
সর্বাগ্রে আসে স্বঘোষিত কবিদের নাম।
(০৩)
নিচের কাপড় তুলে মুখ ঢেকে যারা লজ্জানিবারণ করে,
তাদের লজ্জাস্থানই উন্মুক্ত হয়।
তা দেখে লজ্জা পায় অন্যেরা,
আর কেউ কেউ মজা পায়।
(০৪)
কখনো কখনো নির্দোষ হলেও
ভণ্ডামির উৎকৃষ্ট উপায়ই হলো সবকিছু স্রষ্টার নামে সঁপে দেয়া।
(০৫)
নিজেকে গোপন করতে মানুষ অন্যকে উদ্ধৃত করে, আর
অন্যকে আড়াল করতে নিজেকে নিয়ে বদমায়েশি করে।
| ছড়া’র গাঁঠছড়াটা খুলবে কে ?
| ছড়া’র গাঁঠছড়াটা খুলবে কে ?
রণদীপম বসু
...
শূন্য থেকে কোন কিছুই সৃষ্টি হয় না। বিশেষ করে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে তা তো কল্পনাই করা যায় না। কথার ঠেলায় কথা বলতে গিয়ে যাঁরা ঠাশ করে বলে ফেলেন- ‘এই যে এটা আমার মৌলিক সৃষ্টি’, তাঁরা হয় ডাহা মিথ্যে কথা বলেন, কিংবা বোকার স্বর্গে বাস করেন। আর বোকার স্বর্গে বাস করে কেউ তর্কাতীতভাবে সৃজনশীল হবেন এটা যে বিশ্বাস করে, সে হয়তো এটাও বিশ্বাস করে যে সোনা দিয়ে নিশ্চয়ই পাথরবাটি বানানো সম্ভব। তবে সোনা দিয়ে পাথরবাটি বানানোর এই ধারণাটাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়ার জো নেই। অন্তত শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে এই অদ্ভুত উদ্যোগ বা চর্চার চেষ্টাটা যদি না থাকতো তাহলে সমালোচনা সাহিত্য নামের কোন বিশ্লেষণী সাহিত্য বিভাগ সৃষ্টিরও আদৌ প্রয়োজন হতো কিনা সন্দেহ। বনের মোষ তাড়ানোর মতো কার এতো দায় পড়তো কেউ কোথাও পাথর দিয়ে স্বর্ণপাত্র কিংবা সোনা দিয়ে পাথরবাটি সৃষ্টির ভয়ঙ্কর কোন কৃতিত্ব দেখালো কিনা ?
Sunday, November 1, 2009
| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৯১-১০০|
| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৯১-১০০|
রণদীপম বসু
...
(৯১)
সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সংস্কৃতি হচ্ছে সেক্স বা জননক্রিয়া,
সভ্য মানুষের চোখে যা অশ্লীল।
(৯২)
মানুষের সার্বভৌমত্ব হচ্ছে- মানুষ হতে কোন ঈশ্বরের প্রয়োজন হয় না;
আর ঈশ্বরের অসহায়ত্ব হলো- মানুষ না থাকলে যার কোন অস্তিত্বই থাকে না।
(৯৩)
ধর্মের অক্ষমতা হলো- নিজেকেই ধারণ করতে অক্ষম সে;
স্রষ্টার অক্ষমতা- সৃষ্টের দাক্ষিণ্য ছাড়া তিনি অচল।
(৯৪)
ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেছেন এটা কাহিনী;
সত্য হলো, মানুষই ঈশ্বরের স্রষ্টা।
(৯৫)
উদ্বৃত্ত শরীর, একমাত্র দুঃসহ বোঝা
যা চাইলেই মানুষ ফেলে দিতে পারে না।
(৯৬)
সময়ের ভার মানুষকে কুকুর বানিয়ে ফেলে;
আগেভাগে তাই সৃজন ও মননের ভেক্সিন নিতে হয়।
(৯৭)
রাজনীতি কি নীতির রাজা, না কি রাজার নীতি
সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়- যখন বৈশ্যবৃত্তি ঠাঁই গাড়ে
সেটা আর রাজনীতি থাকে না, নতুন এক বেশ্যাবৃত্তিতে পরিণত হয়।
(৯৮)
লেখক-চরিত্র সবচাইতে ভঙ্গুর পদার্থ,
কলমের এক খোঁচাতেই যা গুঁড়ো হয়ে যায়।
(৯৯)
জগতের একমাত্র নিঃস্ব প্রাণী মানুষ,
সকল প্রাণীকে সে নিঃস্ব করতে ভালোবাসে।
(১০০)
স্বাভাবিক আয়ুগ্রস্ত মানুষের শতায়ু হওয়া অভিশাপ;
দেয়া এবং নেয়া উভয়টাতেই অক্ষম সে।
...
Subscribe to:
Posts (Atom)












