<?xml version='1.0' encoding='UTF-8'?><?xml-stylesheet href="http://www.blogger.com/styles/atom.css" type="text/css"?><feed xmlns='http://www.w3.org/2005/Atom' xmlns:openSearch='http://a9.com/-/spec/opensearchrss/1.0/' xmlns:georss='http://www.georss.org/georss'><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802</id><updated>2009-11-13T03:18:11.303+07:00</updated><title type='text'>Horoppa                                                                ‘হরপ্পা’</title><subtitle type='html'>‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই। তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।’

                                                                                -- প্রাচীন গ্রীক কবি ইউরিপিডিস
                                    (৪৮০-৪০৬ খ্রীঃ পূঃ)</subtitle><link rel='http://schemas.google.com/g/2005#feed' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/posts/default'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/'/><link rel='hub' href='http://pubsubhubbub.appspot.com/'/><link rel='next' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default?start-index=26&amp;max-results=25'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email></author><generator version='7.00' uri='http://www.blogger.com'>Blogger</generator><openSearch:totalResults>291</openSearch:totalResults><openSearch:startIndex>1</openSearch:startIndex><openSearch:itemsPerPage>25</openSearch:itemsPerPage><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-2892453584299457517</id><published>2009-11-08T04:00:00.000+07:00</published><updated>2009-11-08T04:00:52.494+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Free-Article'/><title type='text'>| ফুটোস্কোপ দর্শন...!</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvXfkGhVyUI/AAAAAAAAGCc/dc1y9ZrOB6U/s1600-h/4079443565_9f5d29112b.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvXfkGhVyUI/AAAAAAAAGCc/dc1y9ZrOB6U/s400/4079443565_9f5d29112b.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| ফুটোস্কোপ দর্শন...!&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; রণদীপম বসু&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&amp;nbsp;[ উৎসর্গ: &lt;a href="http://www.sachalayatan.com/sujan"&gt;সুজঞ্চৌ&lt;/a&gt; ]&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কার্টুন-চিত্রের জনক কে ? প্রশ্নটা মাথায় আসতেই ফের প্রতিবারের মতো সেই পুনর্জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে উঠলাম। কী সেই জ্ঞান ? তা হলো- আমি এটুকু জানলাম যে, আমি এর কিছুই জানি না। জ্ঞানীজনেরা বলেন, জানা মানেই জ্ঞান। অর্থাৎ এর আগে আমি নিশ্চিতভাবে এ বিষয়ে অজ্ঞান ছিলাম। কেননা, এ বিষয়ে আমি কোন কিছু জানতাম কি জানতাম না, সেটাই জানা ছিলো না আগে ! এখন তো এটা জানতে পেরেছি যে আমি জানি না ! এভাবেই নাকি মানুষ জ্ঞানী হয়ে উঠে। অতএব এই চমৎকার জ্ঞান নিয়ে কথা আর আগানো মানে যে ‘বাবা মদন, থাক, অনেক হয়েছে’ জাতীয় প্রশস্তি-বাক্য প্রাপ্তির সম্ভাব্য নিশ্চয়তা বিধান, অন্তত এটা বোঝার জ্ঞান নিয়ে কেউ কি সন্দেহ পোষণ করবেন ? মনে হয় না। সে জ্ঞানও ময়-মুরব্বির দোয়ায় অর্জন করে ফেলেছি বলা যায় ! অতএব সাহিত্য-তলানিচাপা মানুষ, যাকে কিনা শিল্প-মূর্খ বললেও খুব কম বলা হয়, তার মাথায় এমন সীমা-ছাড়া জ্ঞানী-প্রশ্ন আসবে কেন ? জ্ঞানীজনের মতে এটাকেই বলে প্রভাব।&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;প্রভাবিত হওয়া আর প্রভাবিত করা, এ দুয়ের মধ্যে কে বেশি সক্রিয় তা নিয়ে জ্ঞানীদের মধ্যে বিস্তর মতভেদ থাকার কথা। অন্তত এমনটাই মনে হয়। তবে এ সমস্যা আমার নয়, জ্ঞানীদের। তাহলে এ প্রসঙ্গ কেন এলো ? এর উত্তর সুজন চৌধুরী, আদর করে যাঁকে অনেকেই সুজঞ্চৌ বলে ডাকেন। তাঁর অন্য পরিচয় হচ্ছে, সম্ভাব্যতার বিচারে তিনি এমন একজন ব্যক্তি যাঁকে আমি দেখি নি কখনো। আর অন্য পরিচয় হচ্ছে তিনি একজন শিল্পী। এবং এটাই তাঁর প্রধান পরিচয় বলে আমার ধারণা। কেমোন শিল্পী তিনি ? মানুষের ভেতরের মানুষটাকে যিনি ক্যানভাসের আলোয় মূর্ত করে তোলায় দারুণ পারদর্শি। পেন্সিল, কলম, তুলি বা অন্য যাই বলি না কেন, সন্দেহাতীত মুন্সীয়ানায় তাঁর স্রষ্টা-হাতের ক্যারিকেচারে এরা কিভাবে একেকটা শিল্পের সৃজনোন্মুখ হাতিয়ার হয়ে উঠে তা না দেখলে ধারণা পাওয়া মুশকিল। কিন্তু এগুলো কোন নতুন কথা নয়, প্রশস্তিমূলক কথা, যা অন্তর্জালিক জগতের অনেকেই জানেন। নতুন ও বেদনাদায়ক কথাটা হচ্ছে, পাঠকরা যা-ই ভাবেন, আমি বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, একটা জায়গায় শিল্পী সুজন চৌধুরী আসলে ব্যর্থ ! সেই ব্যর্থতাটা চিহ্ণিত করার ফাঁকে শিল্পীর প্রতি আমার সমবেদনাটা জানিয়ে রাখি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ভালো করে বোঝার বয়স থেকে পত্র-পত্রিকা-ম্যাগাজিন বা প্রিন্ট মিডিয়ায় কার্টুন ক্যারিকেচার দেখে দেখে অভ্যস্ত চোখে দুঃখ হতো কার্টুন-চরিত্রগুলোর জন্য। ভাবতাম আহা দেখো, কেমন সুন্দর একটা মুখকে কোন্ পাজী লোকটা যে এমন বিদঘুটে করে এঁকেছে ! আরো বড়ো হতে হতে ধারণাটা আরো পোক্ত হয়েছে যে, এই কার্টুন-শিল্পীরা এমন পাজীই হয়। বিখ্যাত বিখ্যাত সব লোকদের চেহারা এমন কিম্ভুতকিমাকার বানিয়ে ফেলা পাজী লোক ছাড়া কি সম্ভব ! অথচ অনায়াস চেষ্টায় অঙ্কিত চরিত্রের পরিচয় বুঝতেও কোন কষ্ট হয় না কারো ! এবং সাথে সাথে কী ভয়ঙ্কর আশ্চর্যই না হতাম, অসম্ভব জ্ঞানী-গুণী লিখিয়ে ব্যক্তিরা বিশাল বিশাল গদ্য কলাম লিখেও আসল কথাটা বুঝাতে যেখানে ঘেমে নেয়ে একাকার হয়ে উঠতেন, সেখানে কিনা এমন পাজী কার্টুনিস্টের কয়েকটা অদ্ভুত আঁচড় কী অবলীলায় কতো কথাই না বলে দেয় ! তা কী করে সম্ভব ? এর উত্তরও আমার জানা নেই। শুধু এটুকু বুঝতাম যে, কার্টুন-চিত্রে ব্যক্তির পরিচয় অক্ষুণ্ন রেখে তার অন্তর্নিহিত চরিত্র প্রকাশের মধ্য দিয়ে ঐ ব্যক্তির এক ভিন্নমাত্রিক চরিত্র, বক্তব্য বা ভাব প্রদর্শন, যেখানে এই শিল্পটার ক্ষমতা সাংঘাতিক !&amp;nbsp; এবং যিনি এই বিকৃতির শিল্পস্রষ্টা, তাঁর মুণ্ডুটা চিবিয়ে ছাতু করার জন্য কার্টুন-চরিত্রের অন্তরালের বাস্তব ব্যক্তিটি যে হামেশাই মুখিয়ে থাকবেন, এতে আর সন্দেহ কী ! নাকে-মুখে ফুলে-ফেঁপে উঠার মতো দুয়েকটা কিল-ঘুষি খেয়েই যেখানে মানুষ রীতিমতো খুন-পিয়াসী হয়ে উঠে, সেখানে চেহারার আদি জিওগ্রাফিটাই রীতিমতো ভেঙেচুরে একাকার !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইসব পরোক্ষ উপলব্ধিও কী নিদারুন মার খেয়ে গেলো প্রত্যক্ষ অনুভবের কাছে ! শিল্পী সুজঞ্চৌ কোন্ বেখেয়ালে যে তাঁর শিল্প-হাতিয়ারসহ ধরা খেয়ে গেলেন চরিত্র বাছাইয়ে গড়বড় করে, তা ভাবতেই বড় তৃপ্তি পাচ্ছি ! বিষয়-বৈকল্যে শিল্পও যে তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে, এর মস্ত প্রমাণ হচ্ছে কোন পদেই পড়ে না রণদীপম বসু নামের এমন একটা হাওয়াই চরিত্রকে শিল্পের বল্লম ছুঁড়ে অমর-বাস্তবতা দান করা। বিখ্যাত খণ্ডিত হয় শিল্পের নির্দয় আঘাতে, আর অখ্যাত পায় অমরত্ব। তাই ক্ষুব্ধ বিখ্যাতরা যখন তাঁদের অমেয় ক্ষতিপূরণে তেড়ে যায়,&amp;nbsp; অখ্যাতরা সেক্ষেত্রে অমর্ত্য আনন্দে ডুগডুগি বাজায়। আমিও সেই টইটম্বুর আনন্দে আপ্লুত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অন্তর্জালিক লেখক কমিউনিটি ব্লগ ‘সচলায়তন’-এর শিল্প-স্রোতে শিল্পী সুজন চৌধুরীর ‘&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/sujan/28495"&gt;আয় তোর মুণ্ডুটা দেখি ফুটোস্কোপ দিয়ে- ২৪&lt;/a&gt;’-এর একটা হিরন্ময় ব্যর্থতার ঋণ আমার অনেক অনেক কৃতজ্ঞতা দিয়েও শোধ হবার নয়। মৃত্যুশীল অসংখ্য জীবনের চাইতেও এক ফোঁটা অমরত্ব যে অনেক দীর্ঘ। ভাগ্যিস তিনি এই ভুলটা করেছিলেন, এটাই আমার সৌভাগ্য ! মাই হ্যাট’স অফ টু য়্যু সুজন্দা !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-2892453584299457517?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/2892453584299457517/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=2892453584299457517' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/2892453584299457517'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/2892453584299457517'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/11/blog-post_08.html' title='| ফুটোস্কোপ দর্শন...!'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvXfkGhVyUI/AAAAAAAAGCc/dc1y9ZrOB6U/s72-c/4079443565_9f5d29112b.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-2293985078850976093</id><published>2009-11-06T12:12:00.002+07:00</published><updated>2009-11-06T20:52:40.771+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Free-Article'/><title type='text'>| আমাদের 'ব্যা-করণ' শিক্ষা !</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvOxcv05vEI/AAAAAAAAGCU/uUVW-7yJ0m4/s1600-h/XRayOfPeaceblog_1207816722_1-MMMM.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvOxcv05vEI/AAAAAAAAGCU/uUVW-7yJ0m4/s320/XRayOfPeaceblog_1207816722_1-MMMM.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| আমাদের 'ব্যা-করণ' শিক্ষা !&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(০১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;পড়ার সামর্থ যতটুকুই থাক, পাঠক হিসেবে নিজেকে কখনোই খাটো করে দেখি না আমি। আর আমিই বা কেন ! নিজের ক্ষেত্রে কেউই তা দেখেন না। কারণ এটা একটা স্বতঃস্ফূর্ত প্রক্রিয়া, স্রোতের মতো। স্রোত ভারী হলে গন্তব্য দূরবর্তী হবে, নয়তো নিকটবর্তী। তবে পাঠ যেটুকুই হোক, পাঠকের মৌলিক চরিত্র একটাই, পাঠের আগ্রহ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যেহেতু আমি বহুভাষী নই, অন্য কোন ভাষা আমি জানি না বা বুঝি না, তাই মাতৃভাষা বাংলাই শেষ ভরসা আমার। অনেকটা অসহায়ত্বে আক্রান্ত নিরূপায় মানুষের ঈশ্বর-ভরসার মতো। ভিন্নভাষী কোন বই নিয়ে যদি কোথাও কোন তোলপাড় উঠতে শুনি, তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো সেটার অনুদিত বাংলার অপেক্ষাতেই থাকতে হয় আমাকে। সে অপেক্ষা সার্থক হোক বা না হোক। তৃষ্ণাও কখনো মেটে, কখনো মেটে না। যেটুকু না মেটে সেটা আমারই সীমাবদ্ধতা হিসেবে মেনে নেই। এছাড়া কিছু তো করার নেই। যাদের নির্ভর করার মতো একাধিক ভাষা-বিকল্প থাকে তাঁরা হয়তো আমার মতো এতোটা অসহায় নন। তবে এ নিয়ে আমার কোন&amp;nbsp; আফসোস নেই। আফসোস যেটা, সেটা অন্য জায়গায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আমার প্রয়াত পিতার পরিশুদ্ধ বাংলায় কতোটা দখল ছিলো তা জানার বা দেখার সুযোগ আমার হয় নি। তবে দু’কলম ইংরেজী লিখলে ওখানের পিছলে যাওয়া বানান-ত্রুটিগুলো যে তাঁর তীক্ষ্ণ চোখে এড়াতো না ঠিকই, সাথে এটাও বুঝিয়ে দিতে কার্পণ্য করতেন না, সেকালের এন্ট্রান্স পাশ চাট্টিখানি কথা নয় ! এই প্রবণতা কেবল যে আমার পিতারই ছিলো তা নয়। সে আমলের শিক্ষিত ও প্রায়-শিক্ষিত অধিকাংশ মুরব্বীদের ক্ষেত্রেই কম-বেশি প্রযোজ্য ছিলো। হতে পারে ঐতিহাসিকভাবে এটা তাঁদের একাধারে ব্রিটিশ, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ আমলের&amp;nbsp; ত্রিভঙ্গ সময়-ভ্রমণের এক অদ্ভুত আপতিক ফলাফল, যা তাঁদের মানসিক জগতটাকে সেভাবেই গড়ে দিয়েছিলো। তাই বলে বাংলা ভাষাটা যে এতো অপয়া ছিলো তাও নয়। আমাদের ধর্ম-স্যারের মতো আকাট মূর্খ-পরিবেষ্টিত সংস্কৃতজ্ঞ পণ্ডিতজনের পাল্লায় পড়ে এটাও বুঝতে বাকী ছিলো না যে, নিরেট মূর্খ আমরা কোনোভাবে ছাব্বিশটা ইংরেজী অক্ষর শিখে একটু গড়াগড়ি দিতে পারলে আমাদের দ্বারা ইংরেজীটা শিখে ফেলা অসম্ভব নয়। কিন্তু শুদ্ধভাবে বাংলা শেখা মামার বাড়ির আবদার নাকি ! কারণ সংস্কৃত ভাষার পর বাংলাই হচ্ছে পৃথিবীর জটিলতম ভাষা। আর তাই আমরা মূর্খরা আসলে বাংলা ব্যাকরণ শিখতে গিয়ে ব্যাকরণ তো শিখি না, দড়ি ছেঁড়া বকনা-বাছুরের মতো ব্যা-করণটাই শিখি। বাংলা ব্যাকরণ শিখতে হলে আগে যে সংস্কৃত ব্যাকরণটা ভালোভাবে শিখতে হবে, এই কথাটা মূর্খরা বুঝবে কী করে ! নইলে আমাদের বাংলাভাষা ব্যবহারের এই ছিড়িদশা হবে কেন ! পণ্ডিত স্যারের বিরক্তি-মাখানো কথাগুলো আমরা একসময় ভুলে যাই। হয়তো আবার ভুলিও না, মনের গোপনে কোথায় কিভাবে যেন আটকে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(০২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ব্যাকরণ মানে কী ? ছোটবেলায় পাঠ্যপুস্তকে শিখেছিলাম- ‘যে পুস্তক পাঠ করিলে ভাষা শুদ্ধরূপে লিখিতে, বলিতে ও পড়িতে পারা যায় তাহাকে ব্যাকরণ বলে।’ পরীক্ষা পাশের জন্য সংজ্ঞাটা যে ভালোভাবে মুখস্থ করেছিলাম তাতে কোন সন্দেহ নেই। নইলে এখনো অক্ষরে অক্ষরে মনে আছে কী করে ! এখানেই শেষ নয়, পরীক্ষা পাশের আয়োজনে অতঃপর পদ, প্রকরণ, বাক্য, সন্ধি, প্রত্যয়, কারক, বিভক্তি, বাগধারা, নত্ব-বিধান, ষত্ব-বিধান, কিছু ভাব সম্প্রসারণ, সারাংশ, পত্র আর গুটিকয় রচনা মুখস্থ করে রীতিমতো গুডবয় হয়ে পরীক্ষা পাশও করে ফেললাম ঠিকই। কিন্তু শুদ্ধরূপে ভাষা শিক্ষা কি হয়েছে আদৌ ? বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ ডিগ্রিটা হাতে নিয়েও একদিন নিজের দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে গেলাম- বাংলায় শুদ্ধভাবে একটি বাক্যও বলতে পারি না ! লিখবো আর কী ?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এরপর মাতৃভাষা শুদ্ধভাবে শেখার জন্যে লাইব্রেরি লাইব্রেরি ঘুরে আমাকে আদর্শ বাংলা ব্যাকরণের খোঁজ করতে দেখে বন্ধুরা অনেকেই হাসাহাসি করলো- ‘বেটা বলদ, হাহ্ ! মাতৃভাষা শিখবে ব্যাকরণ পড়ে !’ সত্যিই তো ! অবোধ শিশুরা ব্যাকরণ শিখে এসে কথা বলা শুরু করে নাকি ! আমার কোন জবাব থাকে না। কেননা কাউকে এটা বুঝাতে পারি না যে, ব্যাকরণ তো ভাষার মধ্যে নতুন করে কিছু আরোপ করে না, বরং ভাষার অন্তর্নিহিত নিয়মগুলোকে শ্রেণীবদ্ধভাবে প্রকাশ করে মাত্র। এতে ভাষা ব্যবহারে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠিত হয়। আমি সেই নিয়মগুলো জানতেই আগ্রহী হয়েছি কেবল। কোন কোন কবিবন্ধু তো আরো এক কাঠি সরেস- যাও, ব্যাকরণ শিখে তর্কালঙ্কার হয়ে এসে দেখি দু’কলম ব্যাকরণিক কাব্য রচনা করো ! আমি হাঁ-না কিছুই বলতে পারি না। তারুণ্যের একটা বিশেষ বয়সে নাকি বাঙালি সন্তান মাত্রেই কবি হয়ে উঠে। আমিও তো এর বাইরে নই। তাই ‘ব্যাকরণ মেনে কবিতা চলে না’ জাতীয় কথাগুলো শুনে মনে মনে যে বেশ পুলকিত বোধ করতাম তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে ! তারপরও নিজের কাছেই প্রশ্নমুখি হয়ে উঠি- তাহলে কবিতা বা কাব্যভাষা কি ভাষারীতির বাইরের কিছু ?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিভিন্ন আঞ্চলিক ভাষা ও বাচনভঙ্গির যে বৈচিত্র্য, তারও একটি আদর্শ-রীতি রয়েছে যা শিখতে ওই ভাষার ব্যাকরণের দরকার পড়ে। তাহলে মাতৃভাষা শুদ্ধভাবে জানতে ব্যাকরণের গুরুত্ব কম কিসে ! আসলে ব্যাকরণের কাজটা কী তা বোঝার ক্ষেত্রে আমাদের অমনোযোগ বা অস্পষ্টতাই আমাদেরকে ব্যাকরণ-বিমুখ করে রেখেছে। তাই, শেষপর্যন্ত বইয়ের দোকান বা লাইব্রেরিগুলোতে ব্যাকরণের নামে যে সব বই হাতে ধরিয়ে দেয়া হয়, তা হচ্ছে পরীক্ষাপাশের কতকগুলো গাইডবুক। মন-মতো আদর্শ ব্যাকরণ আর পাওয়া হয় না। এ অতৃপ্তিটা থেকেই গেলো। হয়তো অনেকেরই থেকে যায়। নইলে বিভিন্ন অফিস-আদালতের চিঠি-চালাচালি ও নথিপত্রে এবং কখনো কখনো পত্র-পত্রিকা ম্যাগাজিন বই-পত্রে এমন কি পাঠ্যপুস্তকেও বিভিন্ন সময়ে বাংলা ভাষা ও বানানে যে তুঘলকি রামলীলায় হাবুডুবু খেতে হয় আমাদেরকে, এর মূল কারণ বা উৎস কী হতে পারে বলে মনে হয় ? বিশেষ করে বানান নৈরাজ্যের যে চেহারা, তাতে মনে হয় না শুদ্ধরীতি ব্যবহারে আমরা কেউ খুব বেশি আন্তরিক। ব্যবহারিক অভিধান উল্টে উল্টে বানান সংশোধনের কাজ হয়তো এগিয়ে নেয়া সম্ভব, কিন্তু প্রকৃতই ভাষার শুদ্ধরীতি ও বানান-বিভ্রাট থেকে মুক্ত হতে ব্যাকরণের আবশ্যকতাকে খাটো করে দেখার কোন উপায় আছে কি ? এই দুর্ভাগ্যের কারণ কি বাংলা ভাষায় একান্ত নির্ভর করার মতো আদর্শ ব্যাকরণ গ্রন্থের অপ্রতুলতা ? না কি শূন্যতা !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(০৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বাংলাভাষার ইতিহাস অনেক পুরনো হলেও বাংলা ভাষা বিকাশের ইতিহাস খুব পুরাতন নয়। বাংলা ব্যাকরণ রচনার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে বিদেশীরাই প্রথম বাংলা ভাষার ব্যাকরণ রচনায় উদ্যোগী হয়েছিলেন। জানা যায় ভাওয়াল পরগণার একটি গীর্জায় বসে পর্তুগীজ ধর্মযাজক মনোএল অষ্টাদশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে (১৭৩৪-১৭৪২) বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন। ল্যাটিন গ্রামার অনুসরণে পর্তুগীজ ভাষায় রচিত এই বইটি ১৭৪৩ সালে ছাপা হয় পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে। পরবর্তীতে ১৭৭৮ সালে ইংরেজী ভাষায় ‘A Grammar of the Bengal Language’&amp;nbsp; রচনা করেন নাথানিয়াল ব্রাসি হ্যালহেড। বইটি রচনায় তিনি আবার ইংরেজী গ্রামারের রীতি নীতি অনুসরণ করেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরো পরে বিদেশীদের বাংলা ভাষা শিখানো এবং দেশীয় ছেলেমেয়েদের ভাষার লিখন পদ্ধতি শিক্ষা দেয়ার প্রয়োজনে বেশ কিছু ব্যাকরণ গ্রন্থ রচিত হয়। সম্ভবত রাজা রামমোহন রায়’ই প্রথম এ কাজটি করেন। তিনি সংস্কৃত ও অন্যান্য ভাষার ব্যাকরণ থেকে নিজেকে মোহমুক্ত রেখে বাংলাভাষার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে বাংলা ব্যাকরণ রচনা করেন, যদিও তা ইংরেজী ভাষায়। এরপর ১৮৫৩ সালে প্রকাশিত হয় ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ‘ব্যাকরণ কৌমুদী’। এর কিছুকাল পর চন্দ্রকান্ত তর্কালঙ্কার রচনা করেন ‘কাব্যতন্ত্র ছন্দ:প্রক্রিয়া’। পরবর্তীতে অবশ্য কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা ভাষার ব্যাকরণ বিকাশে অবদান রাখতে শুরু করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিংশ শতকে এসে ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ড.সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় প্রমুখ বাংলাভাষার আধুনিক রীতিনীতির বিকাশ ঘটাতে সক্রিয় ভূমিকা নেন। ড.মুহম্মদ শহীদুল্লাহ বাংলা একাডেমী কর্তৃক গৃহীত ব্যবহারিক বাংলা অভিধান প্রকল্পের সংকলন ও সম্পাদনার প্রাথমিক পর্যায়ে (১৯৬১-১৯৬৪) প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এক্ষেত্রে বাংলা ভাষা বিকাশে বাংলা একাডেমী যথেষ্ট অবদান রাখার চেষ্টা করেছে। বিশেষ করে ব্যবহারিক বাংলা অভিধান রচনার মধ্য দিয়ে প্রমিত বানানরীতি প্রচলনে বাংলা একাডেমী যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। কিন্তু বাংলা আদর্শ ব্যাকরণ গ্রন্থের শূন্যতা বোধ করি এখনো পূর্ণ হয় নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আর তাই বেশ ক’দিন আগে পত্রিকায় (ইত্তেফাক) খবরটা পড়ে খুবই স্বস্তি অনুভব হলো যে, বাংলা ভাষার আদর্শ ব্যাকরণ রচনার উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে বাংলা একাডেমী। এ লক্ষ্যে দু’দিনের এক কর্মশালাও নাকি হয়ে গেছে। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন পরবর্তী বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার প্রয়াস হিসেবে ১৯৫২ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলা একাডেমী বোধ করি এই প্রথমবারের মতো বাংলাভাষার আদর্শ ব্যাকরণ রচনার উদ্যোগ নিলো। দেরিতে হলেও এই উদ্যোগকে অবশ্যই সাধুবাদ জানাই। এতোদিনে অন্তত একটা চোখ-টাটানো গভীর শূন্যতা পূরণের আশাবাদ জেগে উঠলো বৈ কি ! এই প্রকল্পের চূড়ান্ত সফলতার মধ্য দিয়ে আশা করি বাংলা একাডেমী তার নামটিকে আরো উজ্জ্বল বিভায় রাঙিয়ে তুলবে। এখানে তো কারো আন্তরিকতায় ঘাটতি থাকার কথা নয়, এ যে আমাদের মাতৃভাষা, আ-মরি বাংলা ভাষা !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/ranadipam_basu/28497"&gt;sachalayatan&lt;/a&gt;]&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-2293985078850976093?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/2293985078850976093/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=2293985078850976093' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/2293985078850976093'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/2293985078850976093'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/11/blog-post_06.html' title='| আমাদের &apos;ব্যা-করণ&apos; শিক্ষা !'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvOxcv05vEI/AAAAAAAAGCU/uUVW-7yJ0m4/s72-c/XRayOfPeaceblog_1207816722_1-MMMM.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-8445174187816571585</id><published>2009-11-05T00:51:00.003+07:00</published><updated>2009-11-05T01:35:46.032+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Bar-bonita'/><title type='text'>| বার-বণিতা...[০১]</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvHCU23f3nI/AAAAAAAAGCM/MhTacaNjgJc/s1600-h/27b.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvHCU23f3nI/AAAAAAAAGCM/MhTacaNjgJc/s320/27b.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| বার-বণিতা...[০১]&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; [&lt;b&gt;আশ্বস্তি&lt;/b&gt; : &lt;i&gt;সাদৃশ্য খুঁজিবার অতি-কল্পনের মতোই সিরিজের শিরোনামটিকে শিরোধার্য ভাবিবার আপাত কোন কারণ নাই। এবং সাধু ও চলিতের মিশ্রনও এইখানে দোষণীয় গণ্য হইবে না।&lt;/i&gt;] &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;একদিন ঘুমের মধ্যে রাজা পাখি হইয়া গেলেন। ফুড়ুৎ করিয়া রাজপ্রাসাদ হইতে বাহির হইয়া উড়িয়া চলিলেন। উড়িতে উড়িতে উড়িতে উড়িতে নদী-নালা-খাল-বিল-পাহাড়-জঙ্গল পার হইয়া উড়িতেই লাগিলেন। পাখি হইয়া নিচের দৃশ্য চাহিয়া দেখিতে মন্দ লাগিতেছে না, বড়ই সৌন্দর্য বোধ হইতেছে ! পাখির চোখ দিয়া ভূ-প্রকৃতি-পরিবেশ দেখিবার মধ্যে এতো মধুর মাদকতা যে, রঙ-মহলের শরবত-ই-তহুরাও ইহার ধারেকাছে আসিতে পারিবে না ! আগে কখনোই তাহা টের পাইবার সুযোগ হয় নাই বলিয়া রাজার খুবই আফসোস হইতে লাগিলো। ইশ্, মানুষ হইতে পাখির জীবন কতো সুখের, কত্তো আনন্দময় ! আহা, আরো আগে কেন তিনি পাখি হইলেন না ! মুক্ত দুনিয়ায় উড়িয়া চলিবার বিচিত্র মজায় ডুবিয়া রাজার আর খেয়াল থাকিলো না তিনি কোথা হইতে কোথায় চলিয়া আসিয়াছেন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;নিচের দিকে ভালো করিয়া চাহিলেন। ইহাকে একটি লোকালয় বলিয়া মনে হইতেছে। ধীরে ধীরে এইবার নিচের দিকে নামিতে লাগিলেন। অস্পষ্ট নড়াচড়াগুলো স্পষ্ট হইয়া উঠিতেই দেখিলেন একটি উঠতি বয়সী বালিকা রুদ্ধশ্বাসে দৌঁড়াইতেছে। পিছন হইতে তিন-চারিটি যুবক তাহাকে তাড়া করিয়া ধরিয়া ফেলিল। চলমান লোকচক্ষুর সম্মুখেই তাহারা বালিকাটিকে জোরপূর্বক একটি যন্ত্র-শকটে তুলিয়া লইলো। শকটটি মুহূর্তকালের মধ্যে চলিতে লাগিলো। রাজাও পিছু পিছু উড়িয়া চলিলেন। ইহা কোন্ রাজ্য, রাজা বুঝিতে পারিলেন না। তবু এইটা বুঝিলেন যে তাহার নিজ রাজ্য অপেক্ষা এই রাজ্যটি অধিকতর সুসভ্যই হইবে। কারণ তাহার রাজ্যে এইরকম যন্ত্র-শকট কোথাও নাই। এমনকি রাজা নিজেও এই প্রথম ইহা দেখিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দুইপাশে জড়াজড়ি করিয়া রাজপ্রাসাদকেও হার মানাইয়া দিবার মতো বহুবর্ণিল উঁচু উঁচু নানান ভঙ্গিমার কতো-শতো দালান আর অসংখ্য পদের শকটপূর্ণ অগণিত নাগরিকে গিজগিজে লোকালয় ছাড়িয়া&amp;nbsp; শকটটি ছুটিয়া চলিলো। কোলাহল হালকা হইয়া আসিলে একটা বিবর্ণ ভগ্নপ্রায় দালানের সম্মুখে আসিয়া শকটটি থামিলো। শকট হইতে বাহির করিয়া বালিকাটিকে যুবকগুলি টানিয়া হেঁচড়াইয়া দালানের ভিতরে লইয়া চলিল। বালিকার মুখ শক্ত কাপড়ে বাঁধিয়া রাখায় চিৎকার করিবার বদলে তাহার মুখ হইতে গোঁ গোঁ শব্দ হইতে লাগিলো। ইহা যে ভয়ঙ্কর অনাচার হইতে যাইতেছে তাহা বুঝিতে পারিয়া রাজা তাঁহার রাজকীয় হুঙ্কার দিয়া উঠিলেন। কিন্তু পাখির মতো প্যাঁক প্যাঁক শব্দ শুনিয়া খেয়াল হইল তিনি আর রাজা নহেন, পাখি হইয়া গিয়াছেন। আকস্মিক এই পাখি-জীবনের অসহায়ত্ব বুঝিতে পারিয়া হঠাৎ তাহার আফসোস হইতে লাগিলো- রাজা হইয়াও একটি সামান্য বালিকার জন্য কিছুই করিতে পারিতেছেন না ! নিষ্ফল হতাশায় গাঁইগুঁই করিতে করিতে রাজার ঘুম ভাঙিয়া গেলো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ঘামিয়া নাহিয়া একশেষ হইয়া ধড়মড় করিয়া উঠিয়া বসিলেন তিনি। হাসফাঁস নিঃশ্বাস স্বাভাবিক হইয়া আসিলে দেখিলেন রাণীসাহেবা তাহার দিকে কটমট করিয়া চাহিয়া আছেন। ‘পানি’ বলিয়া হুঙ্কার ছাড়িতেই হুড়মুড় করিয়া যুবতী বাঁদী রাজকীয় পানির পাত্র লইয়া সামনে আসিয়া দাঁড়াইলো। পরপর দুই পাত্র পানি পান করিয়া তৃষ্ণা নিবারণ হইতেই সামনে দাঁড়ানো উদ্ভিন্ন-যৌবনা সুন্দরী বাঁদীটিকে কিভাবে যেন সেই বালিকা বলিয়া বারবার ভ্রম হইতে লাগিলো।&lt;br /&gt;‘আপনার কী হয়েছে জাহাপনা ?&lt;br /&gt;রাণীর প্রশ্নে সম্বিৎ ফিরিয়া পাইয়া রাজা বলিলেন- একটি বালিকার প্রতি জোরপূর্বক অনাচারের কোন বিহিত করিতে পারিলাম না !&lt;br /&gt;রাণী কিছুই বুঝিলেন না। চলিয়া যাইবার নির্দেশ না পাইয়া দাঁড়াইয়া থাকা সুন্দরী বাঁদীটির দিকে একবার কটাক্ষ দৃষ্টি হানিয়া পুনরায় রাজার দিকে মনোযোগী হইলেন। রাজা ইশারায় বাঁদীকে চলিয়া যাইতে বলিয়া এইবার রাণীকে আদ্যপান্ত খুলিয়া বলিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাণী শুনিয়া বলিলেন- উহা অবশ্যই অন্যায় কার্য। কিন্তু অভয় অনুমতি পাইলে আমি কি একটা কথা বলিতে পারি জাহাপনা ?&lt;br /&gt;তুমি নির্ভয়ে বলো রাণী।&lt;br /&gt;আপনিও কি আপনার এই মহলে ঐরূপ সহস্রাধিক বালিকাকে বাঁদী বানাইয়া আটকাইয়া রাখেন নাই ?&lt;br /&gt;রাজ-অহঙ্কারে টোকা পড়িল। রাণীর দিকে কটমট দৃষ্টি হানিয়া রাজা রাণীর নিদমহল হইতে বাহির হইয়া গেলেন।&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আজ নকিবের কণ্ঠ বাজিয়া উঠিবার সুযোগ হইলো না। পাত্রমিত্র সভাসদগণ রাজসভায় ঢুকিয়াই চমকিয়া উঠিতে লাগিলেন। সিংহাসনের সামনে স্বয়ং রাজাহুজুর আনমনে পায়চারি করিতেছেন। আনমনা রাজাকে কুর্নিশ করিয়া করিয়া যে যার আসনের সামনে গিয়া নীরব হইয়া দুরুদুরু বক্ষে দাঁড়াইয়া রহিলো। হঠাৎ পায়চারি থামাইয়া রাজা সভার দিকে দৃষ্টিপাত করিয়া সিংহাসনে আরোহণ করিলেন।&lt;br /&gt;উজির সাহেব !&lt;br /&gt;আদেশ করুন জাহাপনা।&lt;br /&gt;এই রাজ্যে কোথায় কোন্ বালিকা কিভাবে কাহার দ্বারা কখন উত্যক্ত হয়েছে এই তালিকা সংগ্রহ করা হউক।&lt;br /&gt;তাই হবে জাহাপনা...&lt;br /&gt;আর শুনুন, আজই পাত্তা লাগান, কোন্ রাজ্যে অদ্ভুত সব যন্ত্রশকটের প্রচলন হয়েছে। অনতিবিলম্বে ওই মুল্লুকের বিশদ বয়ান এই সভায় অবগত করানো হোক।&lt;br /&gt;জো হুকুম জাহাপনা।&lt;br /&gt;সভার কার্য আজকের মতো বিরতি। বলিয়াই রাজা চিন্তিত মনে রাজসভা হইতে প্রস্থান করিলেন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রাজসকাশে যেইসব আর্জি আর বিচারকার্য সম্পন্ন হইবার জন্য আজ নথিভুক্ত হইয়াছিলো, সেইগুলি সেইভাবে পড়িয়া রহিল। ইতোমধ্যেই সভাসদগণের মস্তিষ্কের উষ্ণতা তিরিশ ডিগ্রি বাড়িয়া গিয়াছে। হঠাৎ করিয়া রাজার এইসব কথাবার্তার মাথামুণ্ডু কেহ কিছুই বুঝিতে পারিতেছেন না। একটা অনাহুত অস্থিরতা লইয়াই তাহারা এইদিনের মতো সভাস্থল ত্যাগ করিলেন বটে, কিন্তু তাহাদের মন পড়িয়া রহিলো রাজপ্রাসাদের সভাকক্ষের মধ্যেই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;br /&gt;(চলমান...)&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;পর্ব : [*] [০২]&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-8445174187816571585?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/8445174187816571585/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=8445174187816571585' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/8445174187816571585'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/8445174187816571585'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/11/blog-post_05.html' title='| বার-বণিতা...[০১]'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SvHCU23f3nI/AAAAAAAAGCM/MhTacaNjgJc/s72-c/27b.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-4234557196926185647</id><published>2009-11-03T01:21:00.001+07:00</published><updated>2009-11-03T01:33:37.761+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Unknown Words'/><title type='text'>| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...| ২৬ |</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su8jH1rszjI/AAAAAAAAGCE/8RW2kS-oXXE/s1600-h/prokashoniblog_1209575869_1-prokashoniblog_1209574948_9-Kobita_PIC.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su8jH1rszjI/AAAAAAAAGCE/8RW2kS-oXXE/s320/prokashoniblog_1209575869_1-prokashoniblog_1209574948_9-Kobita_PIC.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...| ২৬ |&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&amp;nbsp;রূপা, অনেকদিন পর আজ হঠাৎ করে শরীরটা অসুস্থ বোধ করছে ভীষণ ! সকাল থেকেই মাথাটা কেমোন ফাঁকা ফাঁকা লাগছিলো। দৈনন্দিন কাজকর্মে আজ তো তেমন পরিশ্রমের কোন কাজ করি নি ! তবু দিনের শেষে শক্ত-সমর্থ এই দেহটা ভেঙ্গে পড়তে চাইছে কেন ? মাংস-পেশীগুলোতে চাপা ব্যথা, আর মাথাটা যেন ঘাড়ের উপর থাকতেই চাইছে না। একটা উক্তি আমার বেশ প্রিয়- প্রত্যেকেরই মাঝেমধ্যে অসুস্থ হওয়া উচিৎ, নইলে সুস্থ থাকার আনন্দটা ঠিক ঠিক উপলব্ধি করা যায় না। নিষ্ঠুর সত্য বলেই হয়তো এ মুহূর্তে কথাটা খুব অপ্রিয় ঠেকছে। কী লজ্জার কথা দেখো, আর একটা দিন পেরিয়ে নতুন শতাব্দীতে পা দেবো একটা ক্রীড়ানুষ্ঠানের মাধ্যমে, বার্ষিক ক্রীড়া। তার একদিন পরই আমার এখানে আবার সাতদিনের একটা কর্মশালার আয়োজন হতে যাচ্ছে, যখন দু’মিনিটের জন্যেও হয়তোবা মরারও সময় পাবো না। এরকম একটা সময়ে এটা খুবই লজ্জার কথা হবে আমার পরিচিত গণ্ডিতে অস্বাভাবিক সুস্থ ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত আমি যদি এমন বেমক্কা অসুস্থ হয়ে পড়ি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বিশ্বাস করো, এই অপরিহার্য সুস্থ থাকার সময়টাতে এরকম বিব্রতকর অবস্থাটা আমার জন্যে খুবই লজ্জার হবে। এই অসুস্থতার কষ্টটাও আমার এ অনিবার্য লজ্জাবোধের কাছে নগন্য ঠেকছে। আমি খুব সঙ্কোচ বোধ করছি রূপা। তোমাকে যে বলে ফেললাম এতেও ভয় পাচ্ছি, যদি এ আপাত অসুস্থতার খবর শুনে তুমি আবার অহেতুক কষ্ট পেয়ে আমার যন্ত্রণা ও লজ্জা বাড়িয়ে দাও আরো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জানো তো রূপা, বিদেশ-বিভুঁইয়ে মানুষ অসুস্থ হলে যন্ত্রণার চেয়ে বেশি করে বাজে তার অসহায়ত্বটুকু, যদি না পাশে এমন কেউ থাকে যার কাছে নিজকে পরম নির্ভরতায় সঁপে দিয়ে নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ে থাকতে পারে। এ মুহূর্তে আমার মনে পড়ছে তোমাকেই। আত্মীয় নয়, পরিজন নয়, বন্ধু-বান্ধব কেউ নয়, শুধুই তোমাকে। পুরনো বিশ্বস্ত শরীরটা নিয়ন্ত্রণের বাইরেই চলে যেতে চাইছে বলেই কি ? আমার সবটুকু আত্মবিশ্বাস আর মনোবল এক করে ভীষণভাবে চাইছি আমি, এমন অবমাননাকর অসুস্থতার হাতে কোনোভাবেই নিজকে সঁপে দেয়া চলবে না। বিশ্বস্ত সুস্থতায় কোন আঁচড়ও লাগা চলবে না এখন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ মুহূর্তে আমার কোন কিছু ভাবতে বা লিখতেও কষ্ট হচ্ছে রূপা। কিন্তু পৃথিবীতে যা-ই ঘটুক তোমাকে না বলেও যে রেহাই নেই। মধ্যরাতের বাতি নিভে গেলে ঝুপ করে ঢেকে দেয়া গাঢ় অন্ধকারে সমগ্র আবহ জুড়ে তখন তোমাকেই টের পাই আমি। দিনের আলোয় তোমার আর আমার মাঝে যারা বিঘ্নতার দেয়াল তুলে রাখে, রাত্রির একাগ্রতায় ওরা ভেসে যায় সব। তখন শুধু তুমি আর আমি। দু’জনের পৃথিবীতে ঈশ্বরের মতোন আমি তখন তোমাকে শুধুই ভাঙচুর করি। তারপর গড়ে তুলি আবার। ফের ভাঙচুর করি। আবার গড়ি। ভাঙাগড়ার এই শব্দহীন খেলায় খেলতে খেলতে কখন যে কিভাবে কোন্ চৈতন্যের আড়ালে হারিয়ে যাই টেরও পাই না।&lt;br /&gt;তুমিই যে আমার এ মগ্ন অস্তিত্বের একান্ত খেলার সাথী রূপা !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(চলবে...)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পর্ব:[&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2008/10/blog-post_2861.html"&gt;২৫&lt;/a&gt;] [*] [২৭]&lt;br /&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-4234557196926185647?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/4234557196926185647/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=4234557196926185647' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/4234557196926185647'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/4234557196926185647'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/11/blog-post_03.html' title='| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...| ২৬ |'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su8jH1rszjI/AAAAAAAAGCE/8RW2kS-oXXE/s72-c/prokashoniblog_1209575869_1-prokashoniblog_1209574948_9-Kobita_PIC.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-7126179843269355934</id><published>2009-11-02T21:06:00.001+07:00</published><updated>2009-11-02T21:22:20.765+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Utbachan'/><title type='text'>| উৎবচন-শতক…| এক |</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su7nUI4yZLI/AAAAAAAAGB8/JqhmjrpXIQg/s1600-h/2802_1038043645105_1645941882_142321_5945122_n.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su7nUI4yZLI/AAAAAAAAGB8/JqhmjrpXIQg/s320/2802_1038043645105_1645941882_142321_5945122_n.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;| উৎবচন-শতক…|এক|&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যুবতী মেয়েদের চুলের দৈর্ঘ্য নির্দেশ করে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তার সংস্কারের শিকড় কতোটা গভীরে প্রোথিত,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর কথায় কথায় স্রষ্টাকে উদ্ধৃত করার সংখ্যা দিয়ে মাপা যায়&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;পুরুষের ভণ্ডামির বিস্তার।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;শিল্পের ঘাড়ে কাপড় তুলে দিয়ে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অশ্লীলতার বৈধ বিপণনকারীর তালিকায়&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সর্বাগ্রে আসে স্বঘোষিত কবিদের নাম।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;নিচের কাপড় তুলে মুখ ঢেকে যারা লজ্জানিবারণ করে,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তাদের লজ্জাস্থানই উন্মুক্ত হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তা দেখে লজ্জা পায় অন্যেরা,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর কেউ কেউ মজা পায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কখনো কখনো নির্দোষ হলেও&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভণ্ডামির উৎকৃষ্ট উপায়ই হলো সবকিছু স্রষ্টার নামে সঁপে দেয়া।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;নিজেকে গোপন করতে মানুষ অন্যকে উদ্ধৃত করে, আর&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অন্যকে আড়াল করতে নিজেকে নিয়ে বদমায়েশি করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষ যতক্ষণ পশু থাকে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ততক্ষণ সে নিজেকে মানুষ বলে প্রচার করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;এখন বৃষ্টি হলে আমার পিতা যা করতেন&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আমিও তা-ই করি, নিজেকে রক্ষা করি। আর আমার সন্তান&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;বৃষ্টিতে ঝাঁপিয়ে পড়ে, কৈশোরে আমি যা করতাম।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ব্যক্তি বদলে যায়, মানুষ বদলায় না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আগে ছোট অফিসের বড় কর্মকর্তা হয়ে অধঃস্তনকে নিয়ে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যেরকম ব্যতিব্যস্ত ছিলাম, এখন বড় অফিসের ছোট কর্মকর্তা আমাকে নিয়ে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আমার বসও সেরকম ব্যতিব্যস্ত থাকেন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;দায়িত্বহীন মানুষ আর ভারহীন গাধায় কোনো পার্থক্য নেই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(০৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের লেজ দৃশ্যমান নয় বলে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;লেজেগোবরে শব্দটি মানুষ অন্যায়ভাবে লেজযুক্ত পশুদের ঘাড়ে চাপিয়ে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অনৈতিক বৈষম্য সৃষ্টি করেছে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মোবাইল ফোন হচ্ছে সেই যন্ত্র, যা দিয়ে মানুষের&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভণ্ডামি রেকর্ড হয়, আর নষ্টামি আড়ালে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অধিকাংশ প্রাণীর শব্দ বিক্ষেপণের দুটো মুখ থাকে-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;একটা সামনে বা উপরে, অন্যটা নিচে বা পেছনে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;এই দুটো মুখের বিভেদ ঘুচাতে জানেন যিনি,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আজকাল তাকেই সফল মানুষ বলে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অফিস হচ্ছে সেই খোঁয়াড় যেখানে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;নতুন কোন সৃজন হয় না,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যা আছে তা ধ্বংস করার প্রক্রিয়া ছাড়া।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের ব্যক্তিত্ব তাঁর চেহারায় নয়,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;হাঁটার স্টাইলেই আঁকা থাকে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;‘না’ বলতে জানে না যে, তাঁর ‘হাঁ’ বলাটাই ভণ্ডামি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অংক শেখার প্রথম পাঠই হচ্ছে অংক ভুলে যাওয়া,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভুলতে না পারলে বিসর্জনের শুদ্ধতা আসে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কম্পিউটার বানায় যে, ততক্ষণই সে কম্পিউটার চালায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর যে কম্পিউটার চালায়, আসলে কম্পিউটার তাকে চালায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;শ্রাদ্ধের নামে মৃতের কোন শেষকৃত্য হয় না,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;প্রকৃতপক্ষে জীবিতরা নিজেদেরই শ্রাদ্ধ করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আহার সংযমে দৈহিক ওজন বাড়ানোয় কোন অলৌকিকতা নেই,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;রয়েছে বস্তুগত চাতুর্য্য।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;গাম্ভীর্য একধরনের স্বার্থপর অক্ষমতা,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যা মানুষকে প্রকাশিত হতে দেয় না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মেরুদণ্ডের অবস্থান মানুষের হাড়বাঁধানো শিরদাঁড়ায় নয়,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যৌবনে থাকে জননযন্ত্রে, বার্ধক্যে ব্যাংক-ব্যালেন্সে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আফসোস হচ্ছে সেই ধুর্ততা,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সময়কে ধরতে না পেরে কপট ও মূর্খরা যা করে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষকে পশু বানানোই মানুষের শ্রেষ্ঠ বিনোদন,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;পশুরা তা জানলে তাদের নিজস্ব সমাজে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;জঘণ্য গালিটা হবে ‘মানুষ’।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যার রক্ত দাসত্ব মুছতে পারে না&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তার অনুরোধ হয় নির্দেশের স্বরে,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;একজন স্বাধীন প্রভু নির্দেশ করে অনুরোধের সুরে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যে নিজেকে ফাঁকি দেয়, সে অন্যকেও ফাঁকি দেয়;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যখন সে অন্যকে ফাঁকি দেয়,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আসলে সে নিজেকেই প্রতারিত করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যে পুরুষ নারীকে অবজ্ঞা করে, সে ধ্বংসকে আমন্ত্রণ জানায়;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;নারীর প্রতি অনুগত যে, সে স্ত্রৈণ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যে বিশ্বস্ত থাকে, আজীবন অন্ধত্বই নিয়তি তার।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সৃষ্টিশীল পুরুষেরা নতুন অপশনের খোঁজে জীবনটাই ব্যয় করে দেয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যে নারী পুরুষকে বিশ্বাস করে, সে বোকা;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যে অবিশ্বাস করে, সে নির্বোধ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যে নির্ভর করে, সে অকর্মণ্য।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অথচ এর বাইরে নারীর জন্য কোনো অপশন রাখেনি পুরুষ।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অহঙ্কার সেই জ্বলজ্বলে বই, যার পাতায় পাতায়&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অশ্লীল শব্দ আর অর্থহীন বাক্যের সমাহার।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মুদ্রাদোষ মানুষের একমাত্র স্মারক, যা তার পরিচয় বহন করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অসভ্য মানুষ এটাকে দোষ বলে প্রচার করেছে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(২৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের ক্ষমতা তার স্বপ্নের চেয়ে বড় হয় না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ক্ষমতা একরৈখিক, সীমাবদ্ধ; স্বপ্ন বহুমাত্রিক, অসীম।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;স্বপ্নের দুর্বলতা হলো, তাকে টেনে নিচে নামানো যায় না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;উইগ, মাথার টাক ঢাকার সাথে সাথে মানুষের গুণগুলোও ঢেকে ফেলে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভণ্ড-ধার্মিকের মতো মানুষকে অভিনয়বাজ শয়তানে পরিণত করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মৃত্যু হিসাব-নিকাশহীন এক কাল্পনিক যাত্রা&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যার কোনো শুরু নেই, শেষও নেই;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যেখানে কোন ধর্মগ্রন্থ নেই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;শুচিবাই কোন পরিচ্ছন্নতা নয়,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মনের কোণায় লুকিয়ে থাকা নিজস্ব নোংরামির বহিঃপ্রকাশ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যেখানে রুগ্নতার চেয়ে বেশি থাকে অসভ্যতা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ব্যাঙের বের হবার সাধ্য নাই বলে তাকে কূপমণ্ডুক হয়েই জীবন কাটাতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কিন্তু মানুষের সাধ্য অসীম,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তবু বাঙালির শখ কূপমণ্ডুক থাকাতেই ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;এজন্যে বাঙালি মানুষ হয না, হতে পারে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষই সবচেয়ে অসভ্য প্রাণী, কারণ&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সে কেবল নিজের অনুকূলেই নিজের মতো করে সভ্যতা নির্মাণ করেছে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তাই মানুষের সভ্যতা প্রকৃতির অনুকূল নয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সু-স্বাস্থ্য মানে নিরোগ থাকা নয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;এই বিশাল ও ভয়ঙ্কর জীবাণুমণ্ডলে ডুবে থেকে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;রোগ-জীবাণু মুক্ত থাকার কথা কেবল নির্বোধরাই ভাবতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সুস্থ থাকার সামর্থই হচ্ছে স্বাস্থ্য।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আবেগ হচ্ছে প্রাকৃতিক অসভ্য অবস্থা ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষ যতক্ষণ আবেগহীন থাকে, ততক্ষণ সে দিগম্বর হয় না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মুদ্রা বা অর্থের শক্তি তার লেনদেনের মধ্যে,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;প্রতিটা লেনদেন মানুষের ভেতরটাকে একটানে বাইরে নিয়ে আসে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যা বাস্তব তা-ই সত্য, তাই&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;বাস্তবতাকে স্বীকার না-করার অর্থ&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৩৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;প্রকৃতির সৌন্দর্য্য তার নগ্নতায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষ যতক্ষণ প্রকৃতির অনুকূলে থাকে, তার নগ্নতা সৌন্দর্য্য ছড়ায়;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;প্রকৃতির প্রতিকূলে মানুষই হয়ে উঠে সবচেয়ে অশ্লীল।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;পিতা আর জন্মদাতা এক নয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;জননযন্ত্র সক্রিয় হলেই জন্ম দেয়া যায়,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;পিতা হতে দরকার হয় বাৎসল্যের।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কবি হবার প্রথম শর্তই হলো নির্লজ্জ হওয়া ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;লজ্জা নিয়ে কোন জননক্রিয়া হয় না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কাউকে চিনতে হলে, তাকে বিপজ্জনকভাবে রাগিয়ে দাও ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;জিহ্বায় তার যেটুকু পোশাক অবশিষ্ট থাকবে, সেটুকুই সভ্য সে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;শিক্ষা সেই মুখোশ, যা পরে মানুষ&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সামাজিকতার ভাঁড়ামি আর নিখুঁত ভণ্ডামি করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;স্তনপিণ্ডে পাথরের আগ্রহ থাকে না;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কারণ সে নিজেকেও প্রতিদ্বন্দ্বী ভাবে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;একটা অশ্লীল ও হাস্যকর রণক্ষেত্রকে সবাই ঠাট্টা করে দাম্পত্য বলে, যেখানে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;দু’পক্ষেই অপেক্ষা করে নোংরা পরাজয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;জগতের জটিলতম কূহকের নাম- সন্তানের চোখ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;শেষপর্যন্ত যার পাঠোদ্ধার হয় না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;চরিত্র হলো স্বভাবের শৃঙ্খলে বাঁধা নিজস্ব কারাগার;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;এ থেকে মুক্তি পায় না কেউ, শৃঙ্খলের ধরন পাল্টায় কেবল।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের যে আদিম প্রহসনটি আশ্চর্যজনকভাবে টিকে আছে এখনো,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তা হলো ‘নাম’-পরিচয়। অথচ নাম কোন পরিচয়ই বহন করে না। আর&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের অদ্ভুত রসবোধের উৎকৃষ্ট ঠাট্টাটি হচ্ছে ‘নামকরণ’।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৪৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;নারী এক অদ্ভুত যন্ত্র,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সহজ বিষয়কে যে অনায়াসে জটিল বস্তুতে প্রক্রিয়াজাত করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;পুরুষ হচ্ছে লোকাল বাস,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কখনোই যাত্রীক্ষুধা মেটে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যে রোগে কেবল রোগীই টের পায় না কিছু, ভোগে অন্যরা,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তা হলো পাগলামী।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তাঁরাই ধড়িবাজ,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সর্বাবস্থায় যাঁরা হাসিটাকে ধরে রাখে, মুছে না কখনো।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সংস্কারমুক্তির প্রথম পাঠোত্তীর্ণে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;তথাকথিত যে আস্তিক লোকটি আমাকে সর্বাগ্রে অভিনন্দন জানালো,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভণ্ডের তালিকায় তাঁকেই আমি টুকে নিলাম সর্বাগ্রে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সম্রাট শাজাহানকে কৃতিত্ব দেয় সবাই, অথচ&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;রাষ্ট্রের কোষাগার নিঙড়ে নির্মিত তাজমহল হলো&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানবিক নিঃস্বতার এক মহার্ঘ স্মারক।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;পায়ের গঠন স্বপ্নকে সুগঠিত করে;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;পা-হীন মানুষের স্বপ্নও পঙ্গু হয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সভ্যতা হলো চশমার মতো,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;দৃষ্টিহীন চোখে তা অশ্লীল ও মূর্খ ফ্যাশন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের শ্রেষ্ঠ গুণ হলো চাইলেই সে গুণশূন্য হতে পারে,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অন্য প্রাণীরা তা পারে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;বুড়ো আঙুল সবকিছুকে ওকে করে দেখানোয় পারঙ্গম হলেও&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;গোল বাঁধাতেও ওস্তাদ সে,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;এজন্যেই বুড়ো আঙুলকে টিপসই ছাপে আটকে রাখা হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৫৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সবকিছু খেতে পারা ছাগলের দোষ নয়, অনেক বড় গুণ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের হীনমন্যতার নিকৃষ্ট নমুনা হলো ছাগলকে ছাগল বানিয়ে রাখা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;একটি অক্ষরকে ধারণ করার আগের ও পরের মানুষটি ভিন্ন হয়ে যায়,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;এখানেই অক্ষরের অসীম ক্ষমতা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;শাসক যতো শক্তিধরই হোক, একটা অক্ষরের ক্ষমতাও রাখে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;প্রশংসা বহুল চর্চিত একটি লেনদেন মাত্র,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যা খরচ করে মানুষ তার চেয়ে বেশি লাভ করতে চায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ক্ষমতার ব্যবহার ক্ষমতাকে অন্ধ করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অন্ধ সিংহের চাইতে দৃষ্টিবান গাধাও কার্যকর।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;বিয়ে হলো সংশোধনের অযোগ্য ভুল,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যা করে গবেটরা বীরত্ব দেখায়&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর বীরেরা বুদ্ধু সাজে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;টক-শো আর চিড়িয়াখানায় একটাই তফাৎ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;টক-শো’তে কিছু মানুষ প্রদর্শন করানো হয়&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর চিড়িয়াখানায় পশু।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সবচেয়ে পরাধীন সে-ই, যার আত্মহত্যার অধিকার নেই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অনিয়ন্ত্রিত ক্রুদ্ধতা জলাতঙ্কে আক্রান্ত একটা উন্মাদগ্রস্ত কুকুর।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ধর্মগ্রন্থ এক অলৌকিক তাবিজ, যার ক্ষমতা কেবল কল্পনায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মূর্খ-সমাজে কল্পনার ক্ষমতা অসীম।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আশ্চর্য হওয়ার ক্ষমতা মানুষকে স্বপ্নবান করে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;স্বপ্নবান মূর্খ স্বপ্নহীন জ্ঞানীর চেয়ে উত্তম।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৬৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অশ্লীলতার জন্ম অবদমিত কামনায়, যা&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;লালিত ও পরিপুষ্ট হয় ভদ্রলোকালয়ে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;বেঁচেথাকার আশ্চর্য প্রেরণা হচ্ছে মৃত্যুচিন্তা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যে সমাজে গাধার শ্রেষ্ঠ গুণ হলো সে গাধা&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর মানুষের নিকৃষ্ট অপরাধ হচ্ছে সে মানুষ,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সে সমাজ বাঙালির।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;প্রকৃতির সবুজ ছোঁয়া থেকে যে যতো দূরবর্তী&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সে ততো সভ্য,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;বহুতলশীর্ষ ফ্যাটে হয় সভ্যতম মানুষটির বসবাস।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আজকাল কোন অফিসে ঢুকলে মনে হয়&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভুল করে বুঝি মসজিদেই ঢুকে গেলাম,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;জরুরি ফাইলের চাইতে জায়নামাজই অধিক মূল্যবান সেখানে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;পুলিশের আচরণই বলে দেয় রাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্য কেমন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যতদিন চাকুরে থাকে ততদিন সে দাস;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অবসরে গেলেই তৎক্ষণাৎ সে পেনশনভোগী এক ব্যবহারযোগ্য দাসীতে পরিণত হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সেবার সাথে মুনাফার যোগসূত্র মানে-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ধর্ষণের মাধ্যমে ধর্ষিতাকে যৌনসুখ দেয়ার মহত্ত্ব !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;একান্ত সেবক মানে, হয় সে ভণ্ড নয় স্বার্থপর।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ঝুলন্ত  ব্রা’কে পুরুষ দেখে স্তন, নারী ভাবে আব্রু।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৭৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ওকে নিয়ে ঘুরতে যাবার পথ-খরচা না রেখে নিজের জন্য ঔষধ কিনে বোকারা;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অর্থহীন দীর্ঘ জীবনের চাইতে অর্থময় স্বল্প জীবন অনেক বেশি তাৎপর্যময়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সবাই নিজে নিজে একেকজন সাংঘাতিক নীতিবান মানুষ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;নিজের সাথে বনে না এমন সব নীতিই হয় অনীতি বা দুর্নীতি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভুল হচ্ছে সেই শুদ্ধতম সম্ভাবনা&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যা মানুষের পছন্দের তালিকায় আসে না কখনোই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;‘তেল দেয়া’ বিস্ময়কর এক প্রায়োগিক আর্ট,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সঠিকভাবে দিতে জানলে তা দাতাকেই তেল-চকচকে করে তুলে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভুলে যাওয়া কঠিনতম কাজ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;চেষ্টা করে হয়তো কোনকিছু মনে করা যায়,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কিন্তু চেষ্টা করে ভুলে যাওয়া যায় না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কৈশোর আর বয়স্কের তফাৎ বয়সে নয়,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অনিশ্চয়তায় আর মৃত্যুচিন্তায়; যা কৈশোরে থাকে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;অনিশ্চয়তা আর মৃত্যুচিন্তার ক্রমবর্ধমান তীব্রতা নিয়েই&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষ ক্রমান্বয়ে বয়স্ক হতে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;বৈশ্যবৃত্তি আর বেশ্যাবৃত্তির মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্য,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;বানানের দুয়েকটা ‘কার’-চিহ্ণের ভিন্নতা ছাড়া;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;উভয় বৃত্তির মৌল শব্দই ‘বশ’।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মনুষ্যসমাজে শুকরের আধিক্য মানুষের নোংরামিকেই চিহ্ণিত করে;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যত্রতত্র বিষ্ঠা ছড়ালে বরাহ-দর্শন তো হবেই !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মেরুদণ্ডী প্রাণীর পায়ের আধিক্য মেরুদণ্ডের অবনমনই নির্দেশ করে;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;দুপেয়ে প্রাণীর উল্লম্ব ও ঋজু মেরুদণ্ড চতুষ্পদীতে আনুভূমিক হয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সৌন্দর্যবোধ হচ্ছে সেই নান্দনিক উপলব্ধি,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ভিন্ন আঙ্গিকে যা মানুষকে যৌন পরিতৃপ্তি দেয।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৮৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;জগতের যেকোন বস্তু বা প্রাণীকে ব্যবচ্ছেদ করলে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কার্যকর কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য বেরিয়ে আসে;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের আচরিত ধর্মকে ব্যবচ্ছেদ করে তেমন কিছুই পাওয়া যায় না,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;উদ্ভট কিছু গোঁড়ামি আর ভণ্ডামি ছাড়া !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;না-জানার মধ্যে মূর্খতা নেই, জানার চেষ্টা না-করাটাই মূর্খতা;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর মূর্খতার পরিচায়ক হচ্ছে গোঁয়ার্তুমি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;চিন্তক-অঙ্গে বৈকল্য আসলেই মানুষ গোঁয়ার্তুমিতে আক্রান্ত হয়। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সংস্কৃতি হচ্ছে সেক্স বা জননক্রিয়া,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সভ্য মানুষের চোখে যা অশ্লীল।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের সার্বভৌমত্ব হচ্ছে- মানুষ হতে কোন ঈশ্বরের প্রয়োজন হয় না;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর ঈশ্বরের অসহায়ত্ব হলো- মানুষ না থাকলে যার কোন অস্তিত্বই থাকে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ধর্মের অক্ষমতা হলো- নিজেকেই ধারণ করতে অক্ষম সে;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;স্রষ্টার অক্ষমতা- সৃষ্টের দাক্ষিণ্য ছাড়া তিনি অচল।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেছেন এটা কাহিনী;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সত্য হলো, মানুষই ঈশ্বরের স্রষ্টা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;উদ্বৃত্ত শরীর, একমাত্র দুঃসহ বোঝা&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যা চাইলেই মানুষ ফেলে দিতে পারে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সময়ের ভার মানুষকে কুকুর বানিয়ে ফেলে;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আগেভাগে তাই সৃজন ও মননের ভেক্সিন নিতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;রাজনীতি কি নীতির রাজা, না কি রাজার নীতি&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়- যখন বৈশ্যবৃত্তি ঠাঁই গাড়ে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সেটা আর রাজনীতি থাকে না, নতুন এক বেশ্যাবৃত্তিতে পরিণত হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;লেখক-চরিত্র সবচাইতে ভঙ্গুর পদার্থ,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কলমের এক খোঁচাতেই যা গুঁড়ো হয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;জগতের একমাত্র নিঃস্ব প্রাণী মানুষ,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সকল প্রাণীকে সে নিঃস্ব করতে ভালোবাসে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১০০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;স্বাভাবিক আয়ুগ্রস্ত মানুষের শতায়ু হওয়া অভিশাপ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;দেয়া এবং নেয়া উভয়টাতেই অক্ষম সে। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;[*][১০১-২০০]&lt;br /&gt;......................&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-7126179843269355934?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/7126179843269355934/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=7126179843269355934' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/7126179843269355934'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/7126179843269355934'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/11/blog-post_8845.html' title='| উৎবচন-শতক…| এক |'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su7nUI4yZLI/AAAAAAAAGB8/JqhmjrpXIQg/s72-c/2802_1038043645105_1645941882_142321_5945122_n.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-1337245340813991060</id><published>2009-11-02T02:21:00.002+07:00</published><updated>2009-11-02T03:00:01.316+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Article (Literature)'/><title type='text'>| ছড়া’র গাঁঠছড়াটা খুলবে কে ?</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su3kPuWDlEI/AAAAAAAAGB0/VMXOF3fNdTg/s1600-h/555700491_d258592bac.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su3kPuWDlEI/AAAAAAAAGB0/VMXOF3fNdTg/s320/555700491_d258592bac.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| ছড়া’র গাঁঠছড়াটা খুলবে কে ?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;শূন্য থেকে কোন কিছুই সৃষ্টি হয় না। বিশেষ করে শিল্প-সংস্কৃতি চর্চার ক্ষেত্রে তা তো কল্পনাই করা যায় না। কথার ঠেলায় কথা বলতে গিয়ে যাঁরা ঠাশ করে বলে ফেলেন- ‘&lt;i&gt;এই যে এটা আমার মৌলিক সৃষ্টি&lt;/i&gt;’, তাঁরা হয় ডাহা মিথ্যে কথা বলেন, কিংবা বোকার স্বর্গে বাস করেন। আর বোকার স্বর্গে বাস করে কেউ তর্কাতীতভাবে সৃজনশীল হবেন এটা যে বিশ্বাস করে, সে হয়তো এটাও বিশ্বাস করে যে সোনা দিয়ে নিশ্চয়ই পাথরবাটি বানানো সম্ভব। তবে সোনা দিয়ে পাথরবাটি বানানোর এই ধারণাটাকে একেবারে উড়িয়ে দেয়ার জো নেই। অন্তত শিল্প-সাহিত্যের ক্ষেত্রে এই অদ্ভুত উদ্যোগ বা চর্চার চেষ্টাটা যদি না থাকতো তাহলে সমালোচনা সাহিত্য নামের কোন বিশ্লেষণী সাহিত্য বিভাগ সৃষ্টিরও আদৌ প্রয়োজন হতো কিনা সন্দেহ। বনের মোষ তাড়ানোর মতো কার এতো দায় পড়তো কেউ কোথাও পাথর দিয়ে স্বর্ণপাত্র কিংবা সোনা দিয়ে পাথরবাটি সৃষ্টির ভয়ঙ্কর কোন কৃতিত্ব দেখালো কিনা ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সাহিত্য-সংস্কৃতির সৃজনশীল ক্ষেত্র ও ধারাটাকে সাবলীল রাখতে হলে এ দায় কারো না কারো ঘাড়ে চাপবেই। কেউ নিজে থেকে এ দায় ঘাড়ে তুলে নেন, আবার কাউকে এ দায় চাপিয়েও দেয়া হয়। তবে প্রতি প্রজন্মেই এই দায় কাউকে না কাউকে নিতেই হয়। হোক সে লেখক, পাঠক কিংবা অর্বাচীন গোছের কেউ। কেননা শিল্পের বহমান স্রোতে ব্যর্থতার দায়ভার কোন ব্যক্তিবিশেষ নয়, গোটা প্রজন্মকেই নিতে হয়। যিনি এটা বোঝেন না বা বুঝেও না বোঝার ভান করেন, তাঁকে আর যাই হোক সংস্কৃত বলা চলে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;যে প্রতিপাদ্য সামনে নিয়ে এই আলোচনাটার সূত্রপাত, তা হলো- ছড়া’র গাঁঠছড়াটা খুলবে কে ? এই প্রতিপাদ্য বিষয় বা প্রশ্নটাতে চোখ আটকে গেলেই প্রথম যে প্রশ্নটা ফের সামনে এসে দাঁড়াবে, ছড়া নিয়ে কিসের এতো গাঁঠছড়া ? খুব মৌলিক না হলেও এর ভেতরে আবার বেশ কিছু প্রগৈতিহাসিক প্রশ্ন যেমন ছড়া কী, কেন, কিভাবে ইত্যাদিও এসে জড়ো হতে থাকবে। এ জন্যে শুরুতেই বলে দেয়া, শূন্য থেকে কোন কিছুই সৃষ্টি হয় না। ছড়া হলো সাহিত্য বা সংস্কৃতির খুব আদি একটা মাধ্যম। সংস্কৃতি যদি হয় মানুষের প্রবহমান জীবনধারা, তাহলে ছড়াও নিশ্চয়ই এর বাইরের কিছু নয়। বরং মিলেমিশে এক হয়ে থাকা মানুষের সংস্কৃতিগত ইতিহাসের প্রতিচিত্র তা। কিন্তু দৃশ্যমান বা উপলব্ধিজাত মাধ্যম হতে হলে অবশ্যই সে মাধ্যমের একটা সুনির্দিষ্ট প্রকৃতি, কাঠামো বা শর্ত থাকবেই। কচু, ঘেচু, পাঁঠা, ছাগল, চাউল, ভুষি ইত্যাদি কোন কিছু না হয়ে ওটা ছড়া হবে কেন ? এটাই হচ্ছে ছড়া নিয়ে গাঁঠছড়া। ওটা যে কবিতা নয়, পদ্য নয়, গীত বা অন্য কিছু নয়, কেবলই ছড়া, সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি শিল্প মাধ্যম, তা নির্ধারণ ও সূত্রাবদ্ধ করতে গিয়েই এই গেরো বা গাঁঠছড়ার জন্ম। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;কী সেই গেরো?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ছড়া নিয়ে গাঁঠছড়া’র যে গেরো তা ছাড়িয়ে এর সুনির্দিষ্ট একটা সংজ্ঞা নির্ধারণ করতে গিয়ে উনিশ শতকের শেষের দিকে সেকালের সব বাঘা বাঘা পণ্ডিতজনের মধ্যে রীতিমতো তাত্ত্বিক ও তথ্যগত যে আলোচনা ও প্রতি-আলোচনার সূত্রপাত হলো, তা বেশ মজার বৈ কি। এতে করে ছড়াসাহিত্যের বিশাল একটা লাভ হয়ে গেলো। লোক-ছড়া ও আধুনিক ছড়া’র পার্থক্য এবং শিল্প-মাধ্যম হিসেবে ছড়া’র একটা চারিত্রিক কাঠামো দাঁড়ানোর ক্ষেত্র তৈরি হয়ে গেলো। হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (বঙ্গীয় শব্দকোষ), রাজশেখর বসু (চলন্তিকা অভিধান), যোগেশ চন্দ্র রায় (বাঙ্গালা শব্দকোষ), নগেন্দ্রনাথ বসু (বিশ্বকোষ), সুকুমার সেন প্রমুখ পণ্ডিতদের মধ্যে যেমন ছড়ার ইতিহাস খোঁজা নিয়ে ঝঞ্ঝাট বাঁধলো, অন্যদিকে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে যোগীন্দ্রনাথ সরকার, রামেন্দ্রসুন্দর ত্রিবেদী, মোহিতলাল মজুমদার, সুকুমার সেন, অন্নদাশঙ্কর রায়, অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, মোঃ এনামুল হক, সৈয়দ আলী আহসান, আশুতোষ ভট্টাচার্য প্রমুখ পণ্ডিতজনের আলোচনার মধ্যদিয়ে ছড়া’র বৈশিষ্ট্য বিচারের এক তুমুল তত্ত্ব চালাচালিও হয়ে গেলো। এতে করে এই প্রেক্ষাপটে বিভিন্নভাবে যে গুরুত্বপূর্ণ মতামতগুলো জমা হলো, তার অনুসরণে গবেষক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ তাঁর ছড়া বিষয়ক গবেষণা সন্দর্ভে &lt;b&gt;আধুনিক ছড়া’র অনিবার্য বৈশিষ্ট্য&lt;/b&gt; হিসেবে সেগুলোকে সংক্ষেপে উপস্থাপন করেন এভাবে- &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;১.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ায় যুক্তিসঙ্গত বা বিশিষ্ট ভাব কিংবা ভাবের পারম্পর্য নেই।&lt;br /&gt;২.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ায় ঘটনার ধারাবাহিকতা বা আনুপূর্বিক কাহিনী থাকে না।&lt;br /&gt;৩.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়া ধ্বনি প্রধান, সুরাশ্রয়ী।&lt;br /&gt;৪.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ায় রস ও চিত্র আছে, তত্ত্ব ও উপদেশ নেই।&lt;br /&gt;৫.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ার ছন্দ শ্বাসাঘাত প্রধান প্রাকৃত বাংলা ছন্দ।&lt;br /&gt;৬.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়া বাহুল্যবর্জিত, দৃঢ়বদ্ধ ও সংক্ষিপ্ত।&lt;br /&gt;৭.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ার ভাষা লঘু ও চপল।&lt;br /&gt;৮.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ার রস তীব্র ও গাঢ় নয়, স্নিগ্ধ ও সরস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আলোচিত মতামতগুলোর ভিত্তিতে আরো কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও গ্রহণযোগ্যতা পেয়ে যায়। যেমন:&lt;br /&gt;&lt;b&gt;ক)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়া ও সঙ্গীতের পার্থক্য:&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;১.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়া আবৃত্তি বা ধ্বনিনির্ভর। অন্যদিকে সঙ্গীত তাল ও সুর নির্ভর।&lt;br /&gt;২.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ার সুর একটানা বৈচিত্র্যহীন। অন্যদিকে সঙ্গীতের সুর বিচিত্র বা বৈচিত্র্যময়।&lt;br /&gt;&lt;b&gt;খ)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়া ও শিশু-কবিতার পার্থক্য:&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;১.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ার বিষয়বস্তু উদ্ভট, অসঙ্গত। শিশু-কবিতার বিষয়বস্তু সাধারণত সুসঙ্গত হয়ে থাকে।&lt;br /&gt;২.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ার আকার হ্রস্ব। শিশু-কবিতার আকার দীর্ঘও হয়ে থাকে।&lt;br /&gt;৩.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ার ছন্দ শ্বাসাঘাত প্রধান প্রাকৃত বাংলা ছন্দ অর্থাৎ স্বরবৃত্ত। কিন্তু শিশু-কবিতার যে কোন ছন্দ হতে পারে।&lt;br /&gt;৪.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ার পরিণতি আকস্মিক। অন্যদিকে শিশু-কবিতার পরিণতি সুষ্ঠু ও পরিকল্পিত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;(কিভাবে এবং কোন্ প্রেক্ষিতে ছড়া’র বৈশিষ্ট্য হিসেবে উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলো গ্রন্থিত হলো, তার ব্যাখ্যা করতে হলে বক্ষ্যমান রচনার শুরুতে এই লেখককে ‘&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2008/12/blog-post.html"&gt;&lt;b&gt;প্রসঙ্গ: ছড়া কিংবা ছড়া নিয়ে গাঁঠছড়া&lt;/b&gt;&lt;/a&gt;’ শীর্ষক আরেকটি দীর্ঘ রচনা পত্রস্থ করতে হয়। তারচে’ বরং আগ্রহী পাঠক যদি একটু কষ্ট করে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রকাশিত জাহাঙ্গীর আলম জাহান সম্পাদিত নিরঙ্কুশ ছড়ার কাগজ ‘&lt;b&gt;আড়াঙ্গি&lt;/b&gt;’ জুন ২০০৯ সংখ্যা কিংবা ঢাকা থেকে প্রকাশিত নূর আল ইসলাম সম্পাদিত সাহিত্য সূচক লিটল ম্যাগাজিন ‘&lt;b&gt;শুচি&lt;/b&gt;’ জুলাই ২০০৯ ছড়া সংখ্যায় উল্লেখিত রচনাটা দেখে নেন, সেটাই অধিকতর শোভন হবে বলে মনে করি।) &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;মানবিক জীবনযাত্রার মতো সতত পরিবর্তন ও সঞ্চরণশীল শিল্প-মাধ্যমের ক্ষেত্রে অনড় ও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্ত বা স্বতসিদ্ধ নীতি আদৌ আরোপ করা যায় কিনা তা নিশ্চয়ই যুক্তিসাপেক্ষ বিষয়। তাই আধুনিক ছড়ার বৈশিষ্ট্য নির্ধারণী উপরোক্ত সিদ্ধান্তগুলোকেও চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা যাবে কিনা তা নিয়েও ভাবনা করার যথেষ্ট অবকাশ রয়ে গেছে বৈ কি। কেননা ওইসব মতামত বা সিদ্ধান্ত আরোপকালীন সময়ে অর্থাৎ উনবিংশ শতকের শেষভাগ থেকে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ পর্যন্ত সমকালীন যাঁরা ছড়া জাতীয় রচনায় নিজেদেরকে পুরোপুরি বা আংশিক ব্যপৃত রেখেছিলেন তাঁদের অধিকাংশ রচনাই উপরোক্ত সবগুলো বৈশিষ্ট্য ধারণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এমনকি আরো মজার বিষয় হচ্ছে, রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে যেসব কবি বিভিন্নভাবে ওই তাত্ত্বিক আলোচনায় নিজেদেরকে খুব সফলভাবেই জড়িত করেছিলেন, তাঁরাও অনেকেই তাঁদের ছড়া জাতীয় রচনায় আধুনিক ছড়ার বৈশিষ্ট্যগুলোকে সফলভাবে প্রয়োগ বা প্রকাশ করতে পারেন নি। অর্থাৎ তত্ত্বের সাথে বাস্তবতার ফারাকটা যে আসলে মেটানো সম্ভব হয় নি, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এক্ষেত্রে ছড়ায় আধুনিকতা বা আধুনিক ছড়া’র রূপ বিচার করতে উদাহরণের খোঁজে খুব বেশি পেছনে না গিয়ে আমরা রবীন্দ্রনাথ থেকেই শুরু করতে পারি। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;খাপছাড়া কথাগুলো&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;শিশু-কিশোরদের জন্য রবীন্দ্রনাথ ছড়া বা ছড়া জাতীয় রচনা ও পদ্য-কবিতার বই লিখেছেন পাঁচটি। ‘&lt;i&gt;শিশু&lt;/i&gt;’ (১৯০৩), ‘&lt;i&gt;শিশু-ভোলানাথ&lt;/i&gt;’ (১৯২২), ‘&lt;i&gt;খাপছাড়া&lt;/i&gt;’ (১৯৩৬), ‘&lt;i&gt;ছড়ার ছবি&lt;/i&gt;’ (১৯৩৭) ও ‘&lt;i&gt;ছড়া&lt;/i&gt;’ (১৯৪১)। প্রচুর লোকছড়া সংগ্রহ করে বাংলা লোকছড়ার বিপুল ঐশ্বর্যে গভীরভাবে আলোড়িত হয়ে তিনি লোকছড়া-বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধ রচনায় হাত দেবার পাশাপাশি বিভিন্ন কবিতায় ছড়ার ছন্দ ব্যবহার করায়ও উদ্যোগী হয়ে ওঠেন। খুব সঙ্গতভাবে এই প্রভাব যে শিশু-কিশোর রচনায়ও পড়বে এটা আর বলার বাকি রাখে না। তবে উপরোক্ত পাঁচটি বইয়ের মধ্যে ‘খাপছাড়া’ বাদে বাকিগুলোকে কোনভাবেই ছড়ার বই বলা চলে না। মূলত ‘&lt;i&gt;শিশু&lt;/i&gt;’ ও ‘&lt;i&gt;শিশু-ভোলানাথ&lt;/i&gt;’ শিশু-পদ্য বা কবিতার বই। লোকছড়ার কাছাকাছি বৈশিষ্ট্য ধারণ করলেও রচনাগুলোর ভাব ও দৈর্ঘ্য বিবেচনায় এগুলোকে কেউ পূর্ণাঙ্গ ছড়া বলেন না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;...কবে বিষ্টি পড়েছিল,&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;বান এল সে কোথা&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;শিবঠাকুরের বিয়ে হল&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;কবেকার সে কথা।...&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;(বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর/ শিশু/ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;শিশু&lt;/i&gt;’র অধিকাংশ কবিতার গভীর ও তত্ত্বপূর্ণ ভাব ডিঙিয়ে যে কয়টা রচনা শিশুতোষ পর্যায়ে পৌঁছতে সক্ষম হয়েছে তার মধ্যে আবার অধিকাংশই কবিতা। যেমন ‘&lt;i&gt;লুকোচুরি&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;বীরপুরুষ&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;জন্মকথা&lt;/i&gt;’ ইত্যাদি। আবার গুটিকয় যেমন ‘&lt;i&gt;খেলা&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;সমালোচক&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;সাত ভাই চম্পা&lt;/i&gt;’ এগুলো ছড়ার বৈশিষ্ট্যের কাছাকাছি এলেও ৩৬ থেকে ৯৬ পঙক্তিতে বিন্যস্ত এতো দীর্ঘতার বিচারে কিছুতেই এগুলোকে ছড়া বলা যায় না। উপরে উদ্ধৃতাংশের ‘&lt;i&gt;বিষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর&lt;/i&gt;’ রচনাটির মধ্যে লোকছড়ার বৈশিষ্ট্য স্পষ্ট, কিন্তু ৫ স্তবকে ৮০ পঙক্তিতে দীর্ঘ বিস্তৃতির কারণে এটা আর ছড়া থাকে না। ‘&lt;i&gt;শিশু&lt;/i&gt;’র পর প্রায় কুড়ি বছর ব্যবধানে রচিত ‘&lt;i&gt;শিশু-ভোলানাথ&lt;/i&gt;’ বইটির রচনাগুলোতে যদিও এই দীর্ঘতা ও তত্ত্বের ভার কমে এসেছে, তবু ছড়া বিচারে ছড়ার ছন্দ থাকলেও এগুলো যথেষ্ট দীর্ঘাকৃতি এবং কবিতা পর্যায়ে। সেখানেও কোন ছড়া নেই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;মুচকে হাসে অতুল খুড়ো,&lt;br /&gt;কানে কলম গোঁজা।&lt;br /&gt;চোখ টিপে সে বললে হঠাৎ,&lt;br /&gt;‘পরতে হবে মোজা।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হাসল ভজা, হাসল নবাই-&lt;br /&gt;‘ভারি মজা’ ভাবল সবাই-&lt;br /&gt;ঘরসুদ্ধ উঠল হেসে,&lt;br /&gt;কারণ যায় না বোঝা।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;(খাপছাড়া/ রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;রবীন্দ্র-সাহিত্যে একমাত্র ছড়াগ্রন্থ আসলে ‘&lt;i&gt;খাপছাড়া&lt;/i&gt;’। ১০৫ টি রচনার সবগুলোই যদিও সংগৃহীত লোকছড়ার মতো শিরোনামহীন, তবু দুয়েকটা ব্যতিক্রম বাদ দিলে উপস্থাপিত ছড়া-বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী রচনাগুলোর আকারে হ্রস্বতা, সহজ-সরল বিষয় ও বলার ভঙ্গিতে বেশ দৃঢবদ্ধতা ও ছড়ার ছন্দ অর্থাৎ স্বরবৃত্তের সমিল ছন্দের উপস্থিতি সাপেক্ষে খাপছাড়ার রচনাগুলো পুরোপুরি ছড়া বৈশিষ্ট্যে উজ্জ্বল হয়ে ওঠেছে। পড়তে গিয়ে কোথাও আটকা পড়ে না বা ভাবের কোন আধিক্য নেই। বিষয় বৈচিত্রে জটিল মহাজটিল ভাবসমৃদ্ধ রচনাসম্ভারের বিশালতাও যার কাছে এতো নস্যি, সেই রবীন্দ্রনাথ জীবন সায়াহ্ণে এসে একেবারে পরিপূর্ণ অবস্থায় এত্তো সহজ রচনায় হাত দিলেন ! তবে কি আগে গুরুত্ব দেন নি ! আসলে তাও নয়। সহজ জিনিস লেখাটাই যে সবচেয়ে জটিল কাজ, তা রবীন্দ্র জবানিতেই জেনে যাই আমরা তাঁর ‘&lt;b&gt;ছেলে ভুলানো ছড়া : ১&lt;/b&gt;’ শীর্ষক গদ্যে-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;...হঠাৎ মনে হইতে পারে যে, যেমন-তেমন করিয়া লিখিলেই ছড়া লেখা যাইতে পারে। কিন্তু সেই যেমন তেমন ভাবটি পাওয়া সহজ নহে। সংসারের সকল কার্যেই আমাদের এমনি অভ্যাস হইয়া গেছে। সহজ ভাবের অপেক্ষা সচেষ্ট ভাবটাই আমাদের পক্ষে সহজ হইয়া উঠিয়াছে।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;এই কথাই প্রতিফলিত হতে দেখা যায় ‘খাপছাড়া’ গ্রন্থটির নামপৃষ্ঠায় কবির ভনিতায়-&lt;br /&gt;‘&lt;i&gt;সহজ কথায় লিখতে আমায় কহ যে,&lt;br /&gt;সহজ কথা যায় না লেখা সহজে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;লেখার কথা মাথায় যদি জোটে&lt;br /&gt;তখন আমি লিখতে পারি হয়তো।&lt;br /&gt;কঠিন লেখা নয়কো কঠিন মোটে,&lt;br /&gt;যা-তা লেখা তেমন সহজ নয় তো।&lt;/i&gt;’ &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;পরবর্তীতে ‘&lt;i&gt;ছড়ার ছবি&lt;/i&gt;’ ও ‘&lt;i&gt;ছড়া&lt;/i&gt;’ নামের গ্রন্থ দুটোর রচনাগুলোর অবস্থা আবার পুরোপুরি বিপরীত। নামে ছড়া হলেও ওগুলোতে কোন ছড়াই নেই। ‘ছড়ার ছবি’ বই প্রসঙ্গে বইটিতে রবীন্দ্রনাথ যদিও বলেন-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;এই ছড়াগুলি ছেলেদের জন্যে লেখা। সবগুলো মাথায় এক নয়। রোলার চালিয়ে প্রত্যেকটি সমান সুগম করা হয়নি। এর মধ্যে অপেক্ষাকৃত জটিল যদি কোনোটা থাকে তবে তার অর্থ হবে কিছু দুরূহ, তবু তার ধ্বনিতে থাকবে সুর।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ছড়া হিসেবে এমন সরাসরি সচেতন ঘোষণার পরও রচনাগুলো ভাব ভঙ্গি দীর্ঘতায় আসলে যে ছড়া হয়ে ওঠেনি, হয়েছে কবিতা, সেটাই একটা রহস্য বৈ কি !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;হিজিবিজি অক্ষরগুলো&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;জনভাষ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা লোকছড়ার প্রথম সংগ্রাহক ও প্রথম আধুনিক বাংলা ছড়াকারের মর্যাদা দেয়া হয় যোগীন্দ্রনাথ সরকারকে। তৎকালীন বঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রায় চারশত সংগৃহিত ছড়ার সংকলন ‘&lt;i&gt;খুকুমণির ছড়া&lt;/i&gt;’ (১৮৯৯) গ্রন্থে তাঁর নিজেরও একাধিক ছড়া অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেছে বলে ধারণা করা হয়। তবে তাঁর নিজস্ব রচনাগুলো রবীন্দ্রনাথ ও তাঁর সমকালীনদের ছড়ারও পূর্ববর্তী। সেইদিক থেকে শিশু-মনস্তত্ত্ব নির্ভর উদ্ভট কল্পনায় গড়া আজগুবি ছড়া রচনা, হিউমার ও ছড়ায় চিত্রধর্মীতা সৃষ্টিতে সাফল্যই তাঁকে প্রথম আধুনিক ছড়াকারের মর্যাদায় অধিষ্ঠিত করে। ১৮৯১ সালে ‘&lt;i&gt;হাসি ও খেলা&lt;/i&gt;’ পুস্তক প্রকাশের মধ্য দিয়ে বাংলা শিশু সাহিত্যের জগতে তাঁর পদচারণা শুরু হয়। এটা উপকথা ও ছড়াজাতীয় রচনার মিশ্র সংকলন। ছড়াগুলোর ছন্দ ও ভঙ্গি যথাযথ হলেও আকারে দীর্ঘতা ও ভাষার শৈথিল্যের কারণে এগুলোকে উপরে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় ছড়া বলা যায় না। যেমন ৪ স্তবক ও ১৬ পঙক্তিতে বিন্যস্ত নিচের ‘&lt;i&gt;কাকাতুয়া&lt;/i&gt;’ রচনাটির দীর্ঘতার সাথে রয়েছে তত্ত্ব-উপদেশ সমৃদ্ধ ভাষা শৈথিল্য। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;কাকাতুয়া, কাকাতুয়া, আমার যাদুমণি,&lt;br /&gt;সোনার ঘড়ি কি বলিছে, বল দেখি শুনি ?&lt;br /&gt;বলিছে সোনার ঘড়ি, টিক্ -টিক্ -টিক্ ,&lt;br /&gt;যা কিছু করিতে আছে করে ফেল ঠিক্।&lt;br /&gt;সময় চলিয়া যায়-&lt;br /&gt;নদীর স্রোতের প্রায়,&lt;br /&gt;যে জন না বুঝে, তারে ধিক্ শত ধিক্।&lt;/i&gt;...&lt;br /&gt;(কাকাতুয়া/ হাসি ও খেলা/ যোগীন্দ্রনাথ সরকার)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;খুকুমণির ছড়া&lt;/i&gt;’ সংকলন প্রকাশের আগেই তাঁর ‘&lt;i&gt;রাঙা ছবি&lt;/i&gt;’ (১৮৯৬), ‘&lt;i&gt;ছড়া ও ছবি&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;খেলার সাথী&lt;/i&gt;’ (১৮৯৮) ও ‘&lt;i&gt;হাসিরাশি&lt;/i&gt;’(১৮৯৯) বইগুলোও প্রকাশিত হয়। ওগুলোতেও যেখানে ছড়া জাতীয় রচনা রয়েছে সেগুলোর দীর্ঘ আকার, কোথাও গল্পরসের আধিক্য, কোথাও ছন্দবৈচিত্র্য ইত্যাদি ধারণ করে সেগুলো মূলত হাস্যরসপ্রধান কিশোরকবিতা হয়ে গেছে, ছড়া হয় নি। সেই বিবেচনায়, আমরা মানি আর না মানি, ‘&lt;i&gt;হাসিরাশি&lt;/i&gt;’ গ্রন্থের ‘&lt;i&gt;কাজের ছেলে&lt;/i&gt;’ শিরোনামের- ‘&lt;i&gt;দাদ খানি চাল/ মুসুরির ডাল/ চিনি-পাতা দৈ,/ দু’টা পাকা বেল/ সরিষার তেল/ ডিম-ভরা কৈ।&lt;/i&gt;...’ সমৃদ্ধ সেই বিখ্যাত শিশুপাঠ্য রচনাটির মতো যোগীন্দ্রনাথের আরো অনেক রচনাই ছড়ার আসর থেকে নির্দ্বিধায় খারিজ হয়ে যায়। তবে প্রথম বই প্রকাশের দীর্ঘ সতের বছর পর ১৯১৬ সালে প্রকাশিত ‘&lt;i&gt;হিজিবিজি&lt;/i&gt;’-কেই বৈশিষ্ট্য বিচারে সফল ও সার্থক ছড়াগ্রন্থ হিসেবে স্বীকার করা হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;এক রত্তি ছিল যখন, ডিমের মতো ছাঁদ&lt;br /&gt;পেটটি ছিল ঢাকাই জালা ষাঁড়ের মত নাদ;&lt;br /&gt;বয়স বেড়ে ক্রমে এখন হল বেজায় বুড়ো,&lt;br /&gt;ডাকতে হলে বলে সবাই ‘গঙ্গারামের খুড়ো’।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;(গঙ্গারামের খুড়ো/ হিজিবিজি/ যোগীন্দ্রনাথ সরকার)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;কেবল ঢং ও ছন্দ থাকলেই যদি ছড়া না হয়&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;শুরুতেই সাহিত্য ও ছড়া জগতের দুজন খ্যাতিমান প্রাতঃস্মরণীয় ব্যক্তিত্বের আলোচনাতে যেভাবে অধিকাংশ ছড়া জাতীয় রচনা নির্ধারিত বৈশিষ্ট্যের বিবেচনায় ছড়া থেকে বাতিলের তালিকায় পড়তে শুরু করেছে, তাতে করে ‘আর কাজ নেই বাবা মদন’ অবস্থার আশঙ্কাই তৈরি হয়ে যায়। কিন্তু চূড়ান্ত একটা রূপরেখা পেতে হলে যে মদন-বাবাজীর থামার কোন উপায়ও নেই, তাও তো সত্যি। তবে সেই আদ্যিকাল থেকেই ছড়া বা ছড়ার ঢংটা যে খুবই আকর্ষণীয় একটা শিল্প ও বিনোদন মাধ্যম হিসেবে যুগে যুগে অত্যন্ত জনপ্রিয়তা পেয়ে আসছে তা বোধ করি অস্বীকার করার উপায় নেই। গবেষক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ তাঁর গবেষণা সন্দর্ভ ‘&lt;b&gt;ছড়ায় বাঙালী সমাজ ও সংস্কৃতি&lt;/b&gt;’ গ্রন্থে এ ধরনের কিছু নমুনা উপস্থাপন করেন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;মধ্যযুগীয় পুঁথিতে ১২০৪ সনে রচিত অজ্ঞাত রচয়িতার ‘&lt;b&gt;কালিপ্রস্তুতের ছড়া&lt;/b&gt;’ এরকম-&lt;br /&gt;&lt;i&gt;লোধ লাহা লোহার গুঁড়ি&amp;nbsp;&amp;nbsp; অর্কাঙ্গার যবার কুড়ি&lt;br /&gt;গাবের ফল হরিতকী&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ভৃঙ্গার্জ্জুন আমলকী&lt;br /&gt;বাবলা ছাল জাঁটির রস&amp;nbsp;&amp;nbsp; ডালিম সেছে করিবে কষ&lt;br /&gt;ভেলায় করা এক আলি&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; চারিযুগলা উঠবে কালি।।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;পঞ্চদশ শতকের শেষ পাদে রচিত বিজয় গুপ্তের ‘&lt;b&gt;মনসামঙ্গল&lt;/b&gt;’ কাব্যে যেমন ছড়ার ঢং দেখতে পাই আমরা-&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;শাক তুলিতে যায়ে ধাই চেড়ি।&lt;br /&gt;বাহু লাড়া দিয়া ফিরে বাড়ি বাড়ি।।&lt;br /&gt;পড়িয়া পাটের সাড়ি।&lt;br /&gt;শাক তুলিতে বেড়ায়ে বাড়ি বাড়ি।।&lt;br /&gt;নাচে ধাই দিয়া বাহু লাড়া।&lt;br /&gt;শাক তুলিতে পড়িয়া গেল সাড়া।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তেমনি ষোড়শ শতকের মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘&lt;b&gt;চণ্ডীমঙ্গল&lt;/b&gt;’ কাব্যেও ছড়া-ঢঙের প্রতিফলন পাই-&lt;br /&gt;&lt;i&gt;আয়রে বাছা আয়রে আয়।&lt;br /&gt;কি লাগি কান্দরে বাছা কিবা ধন চায়।।&lt;br /&gt;আনিব তুলিয়ে গগন-ফুল।&lt;br /&gt;একক ফুলের লক্ষৈক মূল।।&lt;br /&gt;সে ফুলে গাঁথিয়ে পরাব হার।&lt;br /&gt;সোনার বাছা কেদোনা আর।।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সঙ্গত কারণে প্রশ্ন এসে যায়, মঙ্গল কাব্যের রচয়িতাগণ কি তাহলে ছড়াও রচনা করেছেন ? এ প্রেক্ষিতে গবেষক শাহেদের মন্তব্যও প্রণিধানযোগ্য-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;কিন্তু মঙ্গলকাব্যের রচয়িতাগণ সচেতনভাবে ছড়া রচনা করেননি। বরং বিচিত্র ছন্দে রচিত অসংখ্য পর্বে বিভক্ত এ-সকল দীর্ঘ কাব্যে লোক-ছড়ার অংশবিশেষ প্রবেশ করে কাব্যদেহে একাকার হয়ে গিয়েছে।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আমাদের প্রাচীন লোকজ উৎসব অনুষ্ঠান উপাচারগুলোতে ছড়ার উপস্থিতি কেমন ছিলো তা আর নতুন করে বলার কিছু নেই। তন্ত্র মন্ত্র জপ ধ্যান বিয়ে পুজা মায় দলাদলির চূড়ান্ত ফলাফলে লড়াই সংঘর্ষের উজ্জীবনী শব্দসম্পাতেও ছড়ার অনিবার্য উপস্থিতিই বলে দেয় লোকায়ত-জীবনধারায় ছড়া কতোটা অভিন্ন অবস্থায় মিশে ছিলো। আমাদের সাহিত্যগত সংস্কৃতির উত্তরণ মানেই তো লোকছড়ার বিবর্তন মাত্র। তাই হাজার বছরের সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার হিসেবে আমাদের আধুনিক হয়ে উঠা মনে-মননে নাড়ির টান হিসেবে ছড়ার প্রভাব এড়ানোর কোন উপায় থাকে না। ফলে পালা-যাত্রা-নাটকে সেই সুদূর অতীত থেকে ছড়া-অঙ্গের উপস্থিতি আমাদেরকে একটুও আশ্চর্য করে না, বরং একটা পরিতৃপ্তির উপলব্ধিই এনে দেয়।&amp;nbsp; &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;b&gt;ঈশ্বর গুপ্তের&lt;/b&gt; ‘&lt;b&gt;বোধেন্দু বিকাশ নাটক&lt;/b&gt;’ (প্র.১২৭০)-এ যেমন দেখি-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;বড় দেখি, কথাগুলো, কড়া কড়া মুখে।&lt;br /&gt;সভা মাজে, দাঁড়াইলি, চাড়া দিয়ে বুকে।।&lt;/i&gt;...’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;তেমনি ছড়াজাতীয় রচনা প্রায় নেই-হিসেবে &lt;b&gt;রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের&lt;/b&gt; (১৮২৭-১৮৮৭) কবিতায়ও ছড়ার ছন্দের ব্যবহার দেখা যায়-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;আয় যাদু আয়রে, আয় যাদু আয় রে,&lt;br /&gt;আয় কোলে আয়রে।&lt;br /&gt;কেমন ভুলিয়ে ছিলি অভাগিনি মায় রে।&lt;/i&gt;...’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;(সীতার বনবাস/ রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়)&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আর ঈশ্বরচন্দ্রের সমসাময়িক কালেই প্রথম বাংলা গদ্যে রচিত হয় উপন্যাস ও নাটক। এতেও ছড়াজাতীয় ঢঙের ব্যবহার দেখতে পাওয়া যায়। দীনবন্ধু মিত্রের ‘&lt;b&gt;বিয়ে পাগলা বুড়ো&lt;/b&gt;’ (১৮৬৬) প্রহসনে দেখা যায়- &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;স্বপোন যদি ফলে।&lt;br /&gt;ঝোলবো তানার গলে।।&lt;br /&gt;হাতে দেব রুলি।&lt;br /&gt;মোম দেব চুলি।।&lt;br /&gt;ভাত খাব থালা থালা।&lt;br /&gt;তেল মাকবো জালা জালা।।&lt;br /&gt;নটের মুকি দিয়ে ছাই।&lt;br /&gt;অতি দিনি শুয়োর খাই।&lt;/i&gt;।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কিংবা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ‘&lt;b&gt;ইন্দিরা&lt;/b&gt;’ (১৮৭৩) উপন্যাসে দেখা যায়-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;i&gt;চলে বুড়ী শোনের নুড়ী,&lt;br /&gt;খোঁপায় ঘেঁটু ফুল।&lt;br /&gt;হাতে নড়ি, গলায় দড়ী,&lt;br /&gt;কানে জোড়া দুল।&lt;/i&gt;&amp;nbsp; &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ছড়া বা কাব্যঘরানার দলভুক্ত না হয়েও নাটক-উপন্যাসে ছড়া বা ছড়া ছন্দের ব্যবহার সুস্পষ্টভাবেই সমকালীন প্রতিবেশে লোকায়ত ছড়ার মাধ্যমে ছড়ার প্রভাব ও তার জনপ্রিয়তাকেই প্রকাশ করে। এই প্রেক্ষিতে উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী (১৮৬৩-১৯১৫) ও অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৮৭১-১৯৫১) কিংবা দ্বিজেন্দ্রলাল রায় (১৮৬৩-১৯১৩) বা প্রমথ চৌধুরীর (১৮৬৮-১৯৪৬) ছড়া-চর্চার কথা আর নাই বা বললাম। তবে ছড়া যতো জনপ্রিয়ই হোক না কেন, ছড়ার ছন্দ বা ভঙ্গি প্রয়োগ করলেই যে ছড়া হয়ে যায় না তা নিশ্চয়ই এতোক্ষণে কারো বুঝতে বাকি নেই। নইলে বাংলা কাব্যে ছন্দের জাদুকর নামে খ্যাত সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের (১৮৮২-১৯২২) ছড়ার ছন্দের প্রতি যে প্রবল আকর্ষণ তাঁর রচনাগুলোতে খুব উজ্জ্বলভাবে ফুটে উঠে, তাতে করে ছড়া রচয়িতা হিসেবে তাঁরই অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে ওঠার কথা ছিলো। তাছাড়া বিদেশী ছড়ার বাংলা অনুবাদের প্রথম কবি হিসেবেও যেখানে তাঁকে চিহ্ণিত করা হয়, সেখানে এক-দু’টা ব্যতিক্রম বাদ দিলে ছড়া-বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী তাঁর সব রচনাই শেষ পর্যন্ত কবিতা বা পদ্য পদবাচ্যে অঙ্কিত হয়ে যায়। ছড়া আর হতে পারে না। অথচ একই সময়কালে এই সত্যেন্দ্রনাথের যুগেই খুব সমান্তরাল অবস্থানে থেকে কিছুটা কম জীবনদৈর্ঘ্য নিয়েও যে বিস্ময়কর ব্যক্তিটি আধুনিক ছড়া-রাজ্যের প্রধান পুরুষ হয়ে উঠলেন, তিনি তৎকালীন সেই বিখ্যাত ‘&lt;b&gt;ননসেন্স ক্লাব&lt;/b&gt;’-এর প্রতিষ্ঠাতা সুকুমার রায় (১৮৮৭-১৯২৩)।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;গাঁঠছড়াও যখন জট পাকিয়ে যায়&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;মূলত সুকুমার রায়ের মাধ্যমেই বাংলা আধুনিক ছড়া তার নিজ আসনে সত্যি সত্যি প্রতিষ্ঠিত হলো বলা যায়। যখন তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সী কলেজের ছাত্র, ক্লাবের এমন অদ্ভুত নামকরণ থেকেই সুকুমার সাহিত্যের মূল ধারাটার আগাম ইঙ্গিত পাওয়া গেলেও কিছুকাল পরে এসে ছড়া-সাহিত্য ঠিকই বুঝে গেলো ‘সুকুমার ঘরানা’ আসলে কী ? &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;i&gt;সম্পাদক বেয়াকুব&lt;br /&gt;কোথা যে দিয়েছে ডুব&lt;br /&gt;এদিকেতে হায় হায়&lt;br /&gt;ক্লাবটিত যায় যায়।&lt;/i&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ক্লাবের এই যায় যায় অবস্থায় ক্লাবটিকে তো বাঁচাতে হবে ! অতএব ক্লাব বাঁচাতে সকল সভ্যদেরকে নিমন্ত্রণ দেয়া হচ্ছে ছড়াতেই-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;i&gt;শনিবার ১৭ই,&lt;br /&gt;সাড়ে-পাঁচ বেলা,&lt;br /&gt;গড়পাড়ে হৈহৈ&lt;br /&gt;সরবতী মেলা।&lt;/i&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এরপরেও ক্লাবের না বেঁচে কি উপায় আছে ! হা হা হা ! এই হলো সুকুমার। কিন্তু এই সুকুমার সুকুমার হয়ে ওঠার পেছনে যে পারিবারিক ঐতিহ্য ও কৈশোরিক ভিত্তি, তাও আমাদেরকে খেয়ালে রাখতে হয়। আবহমান বাংলার লোকছড়া ও রূপকথা-উপকথা নিয়ে যার কায়কারবার, সেই উপেন্দ্রকিশোরের সন্তান হিসেবে একদিকে যেমন লোকায়ত পারিবারিক ঐতিহ্য লালন করে গেছেন, অন্যদিকে ইউরোপে তিন বছর (১৯১১-১৯১৩) উচ্চশিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তাঁকে একইসাথে পাশ্চাত্য জ্ঞান-বিজ্ঞানকে আত্মস্থ করার সুযোগও তৈরি করে দিয়েছে। এডওয়ার্ড লীয়র (১৮১২-১৮৮৮)-এর তিন খণ্ডে প্রকাশিত ‘&lt;i&gt;Book of Nonsense&lt;/i&gt;’ (১৮৪০-১৮৫০), এডমন্ড কেরিহিউ বেন্টলী (১৮৭৫-১৮৫৬)-এর ‘&lt;i&gt;Biography of Biginners&lt;/i&gt;’, লুই ক্যারল (১৮৩২-১৮৯৮)-এর ‘&lt;i&gt;Through the Looking Glass&lt;/i&gt;’ প্রভৃতির অন্তর্ভূক্ত ছড়াজাতীয রচনা যে শুধু সুকুমার-প্রতিভাকেই সমৃদ্ধ করেছে তা-ই নয়, তাঁর মাধ্যমে বাংলা আধুনিক ছড়াকেও রাঙিয়ে তুলেছে পাশ্চাত্য আধুনিকতায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;i&gt;হাঁস ছিল, সজারু, (ব্যাকরণ মানি না),&lt;br /&gt;হয়ে গেল ‘হাঁসজারু’ কেমনে তা জানি না।&lt;br /&gt;বক কহে কচ্ছপে- “বাহবা কি ফুর্তি!&lt;br /&gt;অতি খাসা আমাদের বকচ্ছপ মূর্তি।”&lt;/i&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;(খিচুড়ি/ আবোল তাবোল/ সুকুমার রায়)&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এরকম উদ্ভট-অসংলগ্ন ‘ননসেন্স রাইম’ জাতীয় রচনার আধিক্য সুকুমার রচনাসম্ভারে দেখা যায়। তাঁর সব রচনাই পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী সম্পাদিত ও প্রকাশিত (১৯১৩) এবং পরবর্তীতে পিতার মৃত্যুশয্যায় (১৯১৫) সম্পাদনার ভার নিজের কাঁধে নেয়া ‘&lt;b&gt;সন্দেশ&lt;/b&gt;’ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। উদ্ভট ছড়ার সাথে নিজ হাতে এঁকে দেয়া সাযুজ্যপূর্ণ ছবির উপস্থিতি রচনাকে যেমন আকর্ষণীয় করে তুলেছে, তেমনি ছড়ায় পাশ্চাত্য ঘরানার আধুনিক মাত্রাটাও যোগ করে দিয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;i&gt;হেড আফিসের বড়বাবু লোকটি বড় শান্ত,&lt;br /&gt;তার যে এমন মাথার ব্যামো কেউ কখনো জানত ?&lt;br /&gt;দিব্যি ছিলেন খোসমেজাজে চেয়ারখানি চেপে,&lt;br /&gt;একলা বসে ঝিমঝিমিয়ে হটাৎ গেলেন ক্ষেপে!&lt;br /&gt;আঁৎকে উঠে হাত-পা ছুঁড়ে চোখটি ক’রে গোল!&lt;br /&gt;হঠাৎ বলে “গেলুম গেলুম, আমায় ধরে তোল!”&lt;br /&gt;তাই শুনে কেউ বদ্যি ডাকে, কেউ-বা হাঁকে পুলিশ,&lt;br /&gt;কেউ-বা বলে, “কামড়ে দেবে সাবধানেতে তুলিস।”&lt;br /&gt;ব্যস্ত সবাই এদিক-ওদিক করছে ঘোরাঘুরি-&lt;br /&gt;বাবু হাঁকেন, “ওরে আমার গোঁফ গিয়েছে চুরি!”&lt;/i&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;(গোঁফ চুরি/ আবোল তাবোল/ সুকুমার রায়)&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ছড়ায় ছন্দ ব্যবহারের অনুপম দক্ষতা আর হিউমারের উপস্থিতি তো আছেই, আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের চলমান অসংগতি-অসংলগ্নতাগুলোকে বুদ্ধিদীপ্তভাবে কটাক্ষ করে স্যাটায়ারের উপস্থিতি এবং অদ্ভুত ধরনের 'টুইস্ট'-এর ব্যবহার সুকুমারকে অন্য সবার থেকে এক উজ্জ্বল ব্যবধান তৈরি করে নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছে। এজন্যেই হয়তো বুদ্ধদেব বসুর অভিমত- ‘&lt;b&gt;সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত বড়োদের জন্য লিখলেও পড়ে আনন্দ পায় ছোটোরা। তেমনি সুকুমার ছোটোদের জন্য লিখলেও তাঁর লেখা পড়ে আনন্দ পায় বড়োরা।&lt;/b&gt;’ &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কবি ও সমালোচক বুদ্ধদেব বসুই সম্ভবত সুকুমার রায়ের মৃত্যুপরবর্তী সাহিত্যকীর্তি নিয়ে সর্বপ্রথম গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি করেন। তিনি সুকুমারের ছড়াজাতীয় রচনাবলীকে প্রথমেই কবিতা হিসেবে আখ্যায়িত করে বিষয়ানুসারে তিনভাগে বিভক্ত করেছেন-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;১.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;b&gt;‘&lt;i&gt;human experiences exaggerated&lt;/i&gt;’ ধরনের কবিতা।&lt;/b&gt; ‘&lt;i&gt;কাঠবুড়ো&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;গোঁফ চুরি&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;কাতুকুতু বুড়ো&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;গানের গুঁতো&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;চোর ধরা&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;সাবধান&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;বুঝিয়ে বলা&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;ডানপিটে&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;ফসকে গেল&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;ঠিকানা&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;কাঁদুনে&lt;/i&gt;’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;২.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;b&gt;সত্যি সত্যি অদ্ভুত ও আজগুবি কবিতা।&lt;/b&gt; ‘&lt;i&gt;খিচুড়ি&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;ছায়াবাজী&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;কুমড়োপটাশ&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;হুঁকোমুখো হ্যাংলা&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;একুশে আইন&lt;/i&gt;’ ইত্যাদি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;৩.&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;b&gt;‘&lt;i&gt;satire&lt;/i&gt;’ কবিতা।&lt;/b&gt; ‘&lt;i&gt;সৎপাত্র&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;হাতুড়ে&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;রামগরুড়ের ছানা&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;কি মুস্কিল!&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;নোটবই&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;বিজ্ঞান শিক্ষা&lt;/i&gt;’ ও ‘&lt;i&gt;ট্যাঁশ গরু&lt;/i&gt;’।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;“&lt;b&gt;এছাড়া সুকুমার রায়ের দু-চারটা বাস্তবিক ‘serious’ কবিতা আছে&lt;/b&gt;” বলেও বুদ্ধদেব বসু উল্লেখ করেন। ‘&lt;i&gt;ভালো রে ভালো&lt;/i&gt;’ এবং ‘&lt;i&gt;দাঁড়ে দাঁড়ে দ্রুম!&lt;/i&gt;’ এই শ্রেণীর কবিতা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বাংলা সাহিত্যের বাঘা বাঘা পণ্ডিতজনের সক্রিয়তায় নির্ণীত বাংলা ছড়ার উপরোক্ত বৈশিষ্ট্যের সাথে ছড়া-বাস্তবতার ধারণাগত ভিন্নতা থেকে ছড়া-ভাবনা নিয়ে যে গাঁঠছড়ার সৃষ্টি হলো এবং সুকুমারে এসে আধুনিক ছড়ার একটা আদর্শ-রূপ প্রত্যক্ষ করে যখন এই গাঁঠছড়া খুলতে&amp;nbsp; প্রস্তুত আমরা, তখন সাহিত্যের বিদগ্ধজন হিসেবে স্বীকৃত কবি ও সমালোচক বুদ্ধদেব বসু’র উপরোক্ত মতামতে সেই গাঁঠছড়ার গেরোটা আবারো শক্তভাবে এঁটে বসে।&amp;nbsp; আর তারও আগে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুশয্যায় থেকে প্রথম প্রকাশিতব্য গ্রন্থ ‘&lt;i&gt;&lt;b&gt;আবোল তাবোল&lt;/b&gt;&lt;/i&gt;’ (১৯২৩)-এর ভূমিকা লিখতে গিয়ে তাঁর ছড়াজাতীয় রচনাগুলোকে কবিতা হিসেবে আখ্যায়িত করে স্বয়ং সুকুমার রায়ই এই গাঁঠছড়াটাকে সত্যি সত্যি জট পাকিয়ে গেলেন বলা চলে-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;যাহা আজগুবি, যাহা উদ্ভট, যাহা অসম্ভব, তাহাদের লইয়াই এই পুস্তকের কারবার। ইহা খেয়াল রসের বই। সুতরাং সে রস যাঁহারা উপভোগ করিতে পারেন না, এ পুস্তক তাঁহাদের জন্য নহে।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;পুস্তকের অধিকাংশ ছবি ও কবিতা নানা সময়ের “&lt;b&gt;সন্দেশ&lt;/b&gt;” পত্রিকা হইতে সংগৃহীত হইয়াছে। এক্ষণে আবশ্যকমত সংশোধন ও পরিবর্তন করিয়া এবং নানা স্থলে নতুন মালমশলা যোগ করিয়া সেগুলি পুস্তকাকারে প্রকাশ করা হইল।’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;i&gt;গান জুড়েছেন গ্রীষ্মকালে ভীষ্মলোচন শর্মা-&lt;br /&gt;আওয়াজখানা দিচ্ছে হানা দিল্লী থেকে বর্মা।&lt;br /&gt;গাইছে ছেড়ে প্রাণের মায়া, গাইছে তোড়ে প্রাণপণ,&lt;br /&gt;ছুটছে লোকে চারদিকেতে ঘুরছে মাথা ভন্ভন্। &lt;br /&gt;মরছে কত জখম হয়ে করছে কত ছট্ফট্- &lt;br /&gt;বলছে হেঁকে, “প্রাণটা গেল, গানটা থামাও ঝট্পট্।” &lt;br /&gt;বাঁধন-ছেঁড়া মহিষ ঘোড়া পথের ধারে চিৎপাত;&lt;br /&gt;ভীষ্মলোচন গাইছে তেড়ে নাইকো তাহে দৃক্পাত।&lt;br /&gt;চার পা তুলি জন্তুগুলি পড়ছে বেগে মূর্ছায়,&lt;br /&gt;লাঙ্গুল খাড়া পাগল পারা বলছে রেগে “দূর ছাই!”&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জলের প্রাণী অবাক মানি গভীর জলে চুপচাপ,&lt;br /&gt;গাছের বংশ হচ্ছে ধ্বংস পড়ছে দেদার ঝুপ্ঝাপ্।&lt;br /&gt;শূন্য মাঝে ঘূর্ণা লেগে ডিগবাজি খায় পক্ষী,&lt;br /&gt;সবাই হাঁকে “আর না দাদা, গানটা থামাও লক্ষী।”&lt;br /&gt;গানের দাপে আকাশ কাঁপে দালান ফাটে বিলকুল,&lt;br /&gt;ভীষ্মলোচন গাইছে ভীষণ খোশমেজাজে দিল্ খুল্।&lt;br /&gt;এক যে ছিল পাগলা ছাগল, এমনি সেটা ওস্তাদ,&lt;br /&gt;গানের তালে শিং বাগিয়ে মারলে গুঁতো পশ্চাৎ।&lt;br /&gt;আর কোথা যায় একটি কথায় গানের মাথায় ডাণ্ডা,&lt;br /&gt;বাপ রে’ বলে ভীষ্মলোচন এক্কেবারে ঠাণ্ডা।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;(&lt;b&gt;গানের গুঁতো/ আবোল তাবোল/ সুকুমার রায়&lt;/b&gt;)&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;পুরো রচনাটা উদ্ধৃত করা হলো এটাকে ছড়ার রূপ বৈশিষ্ট্য নিরূপণকারী কারখানার ছাঁচে ফেলে একটু যাচাই করে নেয়ার জন্যই মূলত। তার আগে আমাদের পাঠক-বোধ ও উপলব্ধির রসে জারিত করে কী পাই আমরা ? সেটাও দেখে নেযা জরুরি। হিউমার-সমৃদ্ধ এমন সরস রচনার অন্তস্রোতে তীব্র স্যাটায়ারের উপস্থিতি অস্পষ্ট নয়, বরং স্পষ্টভাবেই এসেছে। প্রকরণগত বিবেচনায় স্বরবৃত্ত বা ছড়ার ছন্দে লাফিয়ে লাফিয়ে চলা এই রসরচনাটিতে উপমা উৎপ্রেক্ষার চমৎকার প্রয়োগ পাঠকের শ্রবণেন্দ্রিয়কে এক তৃপ্তিকর মোহময়তায় জড়িয়ে রাখে। ভাবের আতিশয্যহীন সহজ-সরল লঘু শব্দে কোথাও না আটকে সাবলীলভাবে এগিয়ে যাওয়া রচনাটি বুঝতে বা এর রস উপভোগ করতে কাউকে খুব বুঝদার পণ্ডিতও হতে হয় না। জ্ঞানী মূর্খ ছোট বড় সবার জন্যেই উন্মুক্ত এই রসসৃষ্টি পাঠক বিবেচনায় অতি পছন্দের না হয়েই যায় না। এটাকে কি ছড়া বলে, না কি পদ্য কিংবা কবিতা বলা হবে এসব বিভ্রান্তি থেকে অনেক দূরে অবস্থানকারী&amp;nbsp; পাঠকের তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। কিন্তু সাহিত্যের কল তাকে এত্তো সহজে ছেড়ে দিতে রাজী নয়। গ্রন্থিভুক্ত হতে হলে তাকে যে একটা ক্যাটেগরিতে ফেলতেই হবে ! এই কলে ফেলার আগে ‘গানের গুঁতো’ রচনাটি নিয়ে বুদ্ধদেব বসু কী বলেছেন তাও চেখে নেয়া যেতে পারে-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;human experiences exaggerated’ ধরনের কবিতা।...এ-সব কবিতা বিশেষ আনন্দ দেওয়ার কারণ এই যে, এ-সব ঘটনা আমাদের প্রায় প্রত্যেকের জীবনে একটু বিনম্র আকারে ঘ’টে থাকে- মনে হয়, কবি আমাদের প্রত্যেকের সমস্ত গোপন ইতিহাস জেনে নিয়ে একটু বাড়িয়ে-টাড়িয়ে বলছেন। গানের দাপে দালান ফাটুক বা না ফাটুক- কোনো-কোনো সুগায়কের অযাচিত অনুগ্রহে বিব্রত হয়তো অনেকেই হয়েছেন, এবং মনে-মনে বলেছেন, ‘আর না দাদা, গানটা থামাও লক্ষ্মী।’ তাই ভীষ্মলোচন শর্মার প্রবল সংগীতানুরাগের বর্ণনা প’ড়ে পাঠক প্রাণ খুলে হাসেন বটে, কিন্তু সঙ্গে-সঙ্গে ভীষ্মলোচনের ‘শিকার’দের প্রতি প্রত্যেকের বেশ একটু সহানুভূতিও জন্মে।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অন্যদিকে সুকুমার রায় সম্পর্কে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক লীলা মজুমদারের ভাষ্য থেকে আমরা জানতে পারি- ‘&lt;i&gt;সুকুমার নিজে কখনও এমন একটিও পদ রচনা করেন নি, যার মধ্যে অর্থ এবং রস দুই-ই নেই। প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি আঁচড় অর্থে আর রসে টইটম্বুর।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অর্থাৎ রচনাটি যে আসলে অর্থহীন বা লক্ষ্যহীন নয়, তা বুদ্ধদেব বসু ও লীলা মজুমদারের মতামত থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। আসলে সুকুমারের কোন রচনাই অর্থহীন কিংবা লক্ষ্যহীন নয়। একটা অর্থপূর্ণ তীর্যক কটাক্ষকে সরসভাবে উপস্থাপন করাটাই সুকুমার সাহিত্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য। এ জন্যেই বয়স্কদের ক্ষেত্রে যেমন পূর্ণ রস উপভোগে কার্পণ্য ঘটে না, তেমনি উদ্ভটতার প্রতি সরল-স্বাভাবিক আকর্ষণে শিশুরাও নিরীহ আনন্দ থেকে কোনভাবেই বঞ্চিত হয় না। সুকুমার রচনায় এই যে একই সাথে বয়স্ক ও শিশুরা ভিন্ন অবস্থানে থেকেও যার যার নিজস্ব উপলব্ধি দিয়েই পূর্ণ মজা উপভোগ করতে সক্ষম হয়ে ওঠেন, এখানেই সুকুমার রায়ের আশ্চর্য ক্ষমতা। এই ক্ষমতার গুপ্তঘরে কবি-কল্পনার যে উচ্চ-বিভা তার মায়াবী মোহ নিয়ে সুপ্তি-ঘোরে চুপটি করে থাকে সে-সম্পর্কে বলতে গিয়ে কবি জীবনানন্দ দাশের বক্তব্যটিও উদ্ধৃতিযোগ্য-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;i&gt;...সুকুমার রায়ের পৃথিবী- ‘আবোল তাবোল’ যা সত্য হয়ে ফলে উঠেছে তা মোটেই আমাদের চেনাজানা পৃথিবী কিংবা তার প্রতিচ্ছবির মত বাস্তব না হয়েও তেমনি পরিচিত ও তেমনি সত্য। এইখানে কবির সাদাসিধেভাবে সে এক অনন্যসাধারণ শক্তি।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সুকুমার রায় সম্পর্কে গবেষক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদের প্রণিধানযোগ্য মন্তব্যটি হলো- ‘&lt;i&gt;ছন্দ ও স্পন্দক্রম, ‘Rhyme’ ও ‘Rhythm’-এর অপূর্ব সমন্বয়, নির্মল কৌতুক, শ্লেষমিশ্রিত ব্যঙ্গ, অনুপ্রাস-ধ্বনিঝংকার-যমক এবং সর্বোপরি কবিত্বগুণে সুকুমার রায়ের ছড়া বাংলা ছড়ার ধারায় চির উজ্জ্বল হয়ে থাকবে।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;তাঁর মন্তব্যের সাথে সম্পূর্ণ সহমত পোষণ করে আমরাও বলতে পারি, সুকুমার রায়ের ছড়া বাংলা ছড়ার ধারায় চির উজ্জ্বল সংযোজন অবশ্যই। কিন্তু গবেষক শাহেদের গবেষণা সন্দর্ভে সংকলিত ছড়া-বৈশিষ্ট্যগুলোর সাথে সুকুমার-নমুনা হিসেবে এই ‘গানের গুঁতো’ রচনাটাকে মিলাতে গিয়ে কী পাই আমরা ? আধুনিক ছড়ার অনিবার্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে প্রধান যে আটটি শর্ত বা বৈশিষ্ট্যকে চিহ্ণিত করা হয়েছে, এর সাথে আমরা নিশ্চয়ই এবার সুকুমারকে একটু মিলিয়ে দেখতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;প্রথম বৈশিষ্ট্যে বলা হয়েছে, ‘&lt;b&gt;ছড়ায় যুক্তিসঙ্গত বা বিশিষ্ট ভাব কিংবা ভাবের পারম্পর্য নেই।&lt;/b&gt;’ কিঞ্চিৎ সন্দেহ থাকলেও ধরে নিলাম রচনাটির মধ্যে উক্ত বৈশিষ্ট্য পুরোদমেই বলবৎ আছে। দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী ‘&lt;b&gt;ছড়ায় ঘটনার ধারাবাহিকতা বা আনুপূর্বিক কাহিনী থাকে না।&lt;/b&gt;’ এখানে এসে সম্ভবত সুকুমারের আলোচ্য রচনাটিতে খানিকটা সন্দেহ আর অপ্রকাশিত রাখার সুযোগ নেই। ভীষ্মলোচনের প্রবল সংগীতানুরাগের ঘটনায় পর্যায়ক্রমিক একটা কাহিনী সুকুমার তৈরি করেই রেখেছেন, যা কিনা শিং বাগানো পাগলা ছাগলের গুঁতো খেয়ে ভীষ্মলোচনের ঠাণ্ডা হওয়ার মধ্য দিয়ে যবনিকাপাত ঘটে। তাহলে আধুনিক ছড়ার দ্বিতীয় বৈশিষ্ট্য কি ক্ষুণ্ন হয়ে গেলো না ?&amp;nbsp; ‘&lt;b&gt;ছড়া ধ্বনি প্রধান, সুরাশ্রয়ী।&lt;/b&gt;’ তৃতীয় এ বৈশিষ্ট্যে যেমন কোন সমস্যা দেখা যায় না, তেমনি চতুর্থ বৈশিষ্ট্য ‘&lt;b&gt;ছড়ায় রস ও চিত্র আছে, তত্ত্ব ও উপদেশ নেই&lt;/b&gt;’ এবং পঞ্চম বৈশিষ্ট্য ‘&lt;b&gt;ছড়ার ছন্দ শ্বাসাঘাত প্রধান প্রাকৃত বাংলা ছন্দ&lt;/b&gt;’ এর সাথেও কোন সংঘাত চোখে পড়ে না। বরং পুরোমাত্রায় এ বৈশিষ্ট্যগুলো উজ্জ্বল হয়ে ধরা দেয়। কিন্তু ষষ্ঠ বৈশিষ্ট্যে এসে ফের সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় আমাদের। এখানে শর্ত হলো- ‘&lt;b&gt;ছড়া বাহুল্যবর্জিত, দৃঢ়বদ্ধ ও সংক্ষিপ্ত&lt;/b&gt;।’ বাহুল্যবর্জিত ও দৃঢ়বদ্ধতা কোনোভাবে অতিক্রম করা গেলেও আকারে সংক্ষিপ্ত হবার শর্তটিতে এসে এবার আমাদেরকেই প্রশ্নমুখী হয়ে উঠতে হয়। ছড়ার সংক্ষিপ্ত আকার আসলে কতটুকু ? এ ধরনের নিয়মসিদ্ধ কোন শর্ত কি কোথাও পেয়েছি আমরা ? তবে সাধারণ বিবেচনা দিয়েও আমরা স্বরবৃত্ত চারমাত্রার সাড়েতিন পর্বের পঙক্তি হিসেবে ২ স্তবকে ২০ পঙক্তির কোন রচনাকে নিশ্চয়ই ছোট বলতে পারি না। আর বললেও কেউ মেনে নেবেন বলে মনে হয় না। সেক্ষেত্রে ছড়া-বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় রচনাটিকে বেশ দীর্ঘই বলতে হবে। অতএব বাকি দুটো বৈশিষ্ট্য- ‘&lt;b&gt;ছড়ার ভাষা লঘু ও চপল&lt;/b&gt;’ এবং ‘&lt;b&gt;ছড়ার রস তীব্র ও গাঢ় নয়, স্নিগ্ধ ও সরস&lt;/b&gt;’ শর্তানুযায়ী খাপে খাপে মিলে গেলেও আটটি অনিবার্য শর্তের সবকটি পূরণে ব্যর্থ হওয়ার দণ্ড হিসেবে সুকুমারের ‘গানের গুঁতো’ রচনাটি শেষপর্যন্ত ছড়াপদবাচ্য থেকেই বাদ পড়ে যায়। আর শুধু যে আলোচ্য রচনাটিরই ছড়া-মুক্তি ঘটলো তা-ই নয়, প্রতিনিধিত্বকারী এই রচনাটির সাথে বলা চলে সুকুমার রায়ের ছড়াজাতীয় প্রায় পুরো রচনাবলীরই ছড়ামুক্তি ঘটে যায়। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বিচার মানলে তালগাছ আমার বলার কোন সুযোগ কি আছে ? এখন কেউ যদি পাল্টা প্রশ্ন করে- “&lt;i&gt;আপনি কোন্ সুকুমারের কথা বলছেন ? ছড়াকার সুকুমার রায় বলে তো কেউ নেই! তবে কবি ও শিশু-সাহিত্যিক সুকুমার রায় নামে একজন আছেন!.&lt;/i&gt;..” কেমন মনে হবে তখন! এখানে উল্লেখ করা নিশ্চয়ই বাহুল্য হবে না যে, সুকুমার রায় নামটি মুখে নিলেই আধুনিক ছড়ার আদর্শ রচয়িতা হিসেবে বাংলা সাহিত্যের যে চির-উজ্জ্বল মুখটি কল্পনায় ভেসে উঠে, সেই সুকুমার রায়ের প্রশস্ত আকারের প্রায় পাঁচশ’ পৃষ্ঠার হৃষ্টপুষ্ট রচনাসমগ্রটির (তপন রুদ্র সম্পাদিত) মাত্র বত্রিশটি পৃষ্ঠা ব্যয় হয়েছে ছড়া গ্রন্থনায়। বাকি পৃষ্ঠা জুড়ে রয়েছে অসংখ্য কবিতা, গল্প, নাটক, বিবিধ, জীবনী ইত্যাদি। অথচ সেই সময় থেকে আজ পর্যন্ত ‘ছড়া আর সুকুমার’ শব্দ দুটোকে আলাদাভাবে ভাবতে মোটেও অভ্যস্ত নই আমরা কেউ !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;এই গাঁঠছড়া খুলবে কে?&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কবিতার মৌলিক ভাব ও অর্থ-ব্যঞ্জনার সাথে ছড়া বা ছড়াজাতীয় রচনার ভাব, ভঙ্গি ও প্রকরণগত সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে। রয়েছে লক্ষ্যবিদ্ধ করার বিষয়-বৈচিত্র্যেও। প্রতিটা শিল্প-মাধ্যমেরই চিহ্ণিত করার মতো সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম-নীতি বা বৈশিষ্ট্য থাকবে এবং থাকা উচিৎ। কথার ঠেলায় চম্পকবাজী চললেও চলতে পারে, কিন্তু শিল্প-বিচারে এই ঠেলাঠেলি আদৌ সঙ্গত ও শোভন কিনা তা না ভেবেই আমরা অনেকেই খেয়ালখুশি অনুযায়ী যেভাবে লেবেল-আটা-সংস্কৃতি আক্রান্ত হয়ে পড়ছি, তাতে করে যে শিল্প-মাধ্যমের প্রতিই অবিচার করছি, সেদিকটাতে গুরুত্ব দেয়াটাই ভুলে গেছি হয়তো। নইলে লেবেলের তলায় পৌঁছে প্রকৃত বস্তুটার শিল্প-প্রকরণ যাচাই করতে গিয়ে স্বয়ং সুকুমার রায়ই যদি চিহ্ণিতকরণের অপেক্ষায় ঝুলে যান, তাহলে তো সুকুমার পরবর্তী আমাদের প্রচলিত বুলির গোটা ছড়া-সাহিত্যটাই টলে ওঠার কথা ! প্রচলিত অর্থে সুকুমার রায়ের ছড়াগুলো যদি ছড়া-বৈশিষ্টের শর্তানুযায়ী ছড়া না হয়, কাব্য বিচারে সেগুলো আদর্শ কবিতাও না হয় কিংবা পদ্যও না, তাহলে কী ? ছড়ার ভঙ্গি ও স্বভাব অভিন্ন বলে ছড়াজাতীয় রচনাই বলবো ? ‘ছড়াজাতীয় রচনা’ কথাটা তো চিহ্ণিতকরণ সূত্র হতে পারে, চিহ্ণক নয়। তাহলে ফলাফল কী দাঁড়ালো ? &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;জানি না প্রশ্নটা অর্বাচীনের মতো হলো কিনা। তবে যে ছড়া-নির্ণায়ক সূত্রের মাধ্যমে এই প্রশ্ন উত্থাপিত হওয়ার সুযোগ পেলো, হয় সে সূত্রটাকেই পুনর্বিবেচনা করার প্রয়োজন রয়েছে, নয়তো ছড়াজাতীয় রচনাগুলোর পরিচয় বা বৈশিষ্ট্যসূচক নামাঙ্করণের আবশ্যকতা দেখা দিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। ছড়া-বৈশিষ্ট্য বা শর্তের ফাঁদে স্বয়ং সুকুমার রায় পড়ে যাওয়ার অর্থ হচ্ছে সাতচল্লিশপূর্ব ছড়াশিল্প-চর্চাকারী হিসেবে অনেক রথি-মহারথিরাই কুপোকাৎ হয়ে যাওয়া বা তাঁদের অঙ্গহানি ঘটে যাওয়া। এঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছেন গুরুসদয় দত্ত (১৮৮২-১৯৪১), কার্তিকচন্দ্র দাশগুপ্ত (১৮৮৪- ), সুনির্মল বসু (১৯০২-১৯৫৭), অন্নদাশঙ্কর রায় (১৯০৪- ), ত্রিশের দশকের (দশকের হিসাবে ত্রিশ ব্যবহারে মতদ্বৈধতা রয়েছে) সাহিত্যাঙ্গনে ‘স্বপনবুড়ো’ নামে পরিচিত অখিল নিয়োগী (১৯০২-১৯৮৩), কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯-১৯৭৬), প্রেমেন্দ্র মিত্র (১৯০৪-১৯৮২), বুদ্ধদেব বসু (১৯০৮-১৯৭৪), অজিত দত্ত (১৯০৭-১৯৭৯) এবং তৎপরবর্তী সুকান্ত ভট্টাচার্য (১৯২৫-১৯৪৭)। তাঁদের রচনা থেকে উদাহরণ টেনে টেনে শর্ত ও বৈশিষ্টের কষ্টিপাথরে ঘষাঘষি করা যেতে পারে। এতে তালিকা লম্বা হতে থাকবে, ফলাফল বা প্রশ্ন কি পাল্টাবে খুব ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এই একই বিবেচনায় সাতচল্লিশ-উত্তর কিংবা একাত্তর-পরবর্তী একেবারে সমকালীনে এসেও আমাদের ছড়া-সাহিত্যের আরো বহু উদাহরণ যুক্ত হতে পারে, যা কিনা একইভাবে বৈশিষ্ট্য-নির্ণায়ক ছাঁচে পড়ে একাধারে পরিচিতি খোয়াতে থাকবে। কেননা পূর্বপুরুষের পরিচিতি সংকট দেখা দিলে উত্তরপুরুষে এসে কুরুক্ষেত্র বেঁধে যাওয়াটাই খুব স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে যায়। তাই ছড়া নিয়ে এই যে বৈশিষ্ট্যসূচক গাঁঠছড়ার সংকট, তামাদি হয়ে যাওয়ার আগে তা চিহ্ণিত করা জরুরি নয় কি ? কিন্তু কে করবে তা ? চারদিকে আজকাল ছড়ার নামে টনে টনে যা উৎপাদিত হচ্ছে এগুলো কিসের ছড়া, কোন্ পদবাচ্যের, তাই বা কে জানে ! এখানে কি দায়বদ্ধতা বোধ করার মতো যোগ্য কোন বিষয় নেই ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;জানি না এ অর্বাচীন চোখে আমিই কি তিলকে তাল করে দেখছি, না কি যাঁদের দেখার কথা ছিলো সেই চকষ্মানেরাই তাল’কে তিল বানিয়ে রাখছেন, সেই সন্দেহটা মাঝেমধ্যে উঁকিঝুকি দেয় বৈ কি। মীমাংসায় নামলে হয়তো এরও একটা সুরাহা হয়ে যেতে পারতো। আদৌ কি হবে তা ? কিভাবে, কখন ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;br /&gt;&lt;b&gt;কৃতজ্ঞতা:&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;০১)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; ছড়ায় বাঙালী সমাজ ও সংস্কৃতি/ সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ/ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পৌষ ১৩৯৫, ঢাকা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;০২)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; বাংলা লোকসাহিত্যের ধারা/ ওয়াকিল আহমদ/ বইপত্র, এপ্রিল ২০০৭, ঢাকা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;০৩)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; শ্রেষ্ঠ প্রবন্ধ, বুদ্ধদেব বসু/ সঙ্কলন ও সম্পাদনা: বিশ্বজিৎ ঘোষ/ বর্ণায়ন, ফেব্রুয়ারি ২০০৯, ঢাকা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;০৪)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; নির্বাচিত প্রবন্ধ, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর/ সম্পাঃ রবিশংকর মৈত্রী/ শুভ প্রকাশন, বইমেলা ২০০৫, ঢাকা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;০৫)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; খুকুমণির ছড়া/ যোগীন্দ্রনাথ সরকার/ ন্যাশনাল বুক এজেন্সি প্রাইভেট লিমিটেড, বইমেলা ২০০৬, কলকাতা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;০৬)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; সুকুমার রচনা সমগ্র/ সংকলন ও সম্পাদনা: তপন রুদ্র/ সালমা বুক ডিপো, জুন ২০০২, ঢাকা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;০৭)&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; শিশু কিশোর কবিতার হাজার বছর/ সম্পাঃ কামরুন নাহার শিমুল ও কাজী ইমদাদ/ অনিকেত, ফেব্রুয়ারি ২০০৭, ঢাকা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;.....&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-1337245340813991060?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/1337245340813991060/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=1337245340813991060' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/1337245340813991060'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/1337245340813991060'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/11/blog-post_02.html' title='| ছড়া’র গাঁঠছড়াটা খুলবে কে ?'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su3kPuWDlEI/AAAAAAAAGB0/VMXOF3fNdTg/s72-c/555700491_d258592bac.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-8204123845831563974</id><published>2009-11-01T23:40:00.005+07:00</published><updated>2009-11-02T00:07:46.191+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Utbachan'/><title type='text'>| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৯১-১০০|</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su253rbqoVI/AAAAAAAAGBs/zFHlhF49ZtM/s1600-h/124b.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su253rbqoVI/AAAAAAAAGBs/zFHlhF49ZtM/s320/124b.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৯১-১০০|&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সৃষ্টির শ্রেষ্ঠতম সংস্কৃতি হচ্ছে সেক্স বা জননক্রিয়া,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সভ্য মানুষের চোখে যা অশ্লীল।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;মানুষের সার্বভৌমত্ব হচ্ছে- মানুষ হতে কোন ঈশ্বরের প্রয়োজন হয় না;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আর ঈশ্বরের অসহায়ত্ব হলো- মানুষ না থাকলে যার কোন অস্তিত্বই থাকে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ধর্মের অক্ষমতা হলো- নিজেকেই ধারণ করতে অক্ষম সে;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;স্রষ্টার অক্ষমতা- সৃষ্টের দাক্ষিণ্য ছাড়া তিনি অচল।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;ঈশ্বর মানুষ সৃষ্টি করেছেন এটা কাহিনী;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সত্য হলো, মানুষই ঈশ্বরের স্রষ্টা।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;উদ্বৃত্ত শরীর, একমাত্র দুঃসহ বোঝা&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;যা চাইলেই মানুষ ফেলে দিতে পারে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সময়ের ভার মানুষকে কুকুর বানিয়ে ফেলে;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;আগেভাগে তাই সৃজন ও মননের ভেক্সিন নিতে হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;রাজনীতি কি নীতির রাজা, না কি রাজার নীতি&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সে বিতর্কে না গিয়েও বলা যায়- যখন বৈশ্যবৃত্তি ঠাঁই গাড়ে&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সেটা আর রাজনীতি থাকে না, নতুন এক বেশ্যাবৃত্তিতে পরিণত হয়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;লেখক-চরিত্র সবচাইতে ভঙ্গুর পদার্থ,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;কলমের এক খোঁচাতেই যা গুঁড়ো হয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(৯৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;জগতের একমাত্র নিঃস্ব প্রাণী মানুষ,&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;সকল প্রাণীকে সে নিঃস্ব করতে ভালোবাসে। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;(১০০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;স্বাভাবিক আয়ুগ্রস্ত মানুষের শতায়ু হওয়া অভিশাপ;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;দেয়া এবং নেয়া উভয়টাতেই অক্ষম সে। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;[&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_23.html"&gt;৮১-৯০&lt;/a&gt;][*][১০১-১১০]&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-8204123845831563974?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/8204123845831563974/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=8204123845831563974' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/8204123845831563974'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/8204123845831563974'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/11/blog-post.html' title='| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৯১-১০০|'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Su253rbqoVI/AAAAAAAAGBs/zFHlhF49ZtM/s72-c/124b.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-1149466540512123430</id><published>2009-10-30T01:45:00.001+07:00</published><updated>2009-10-30T01:55:40.451+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Free-Article'/><title type='text'>| সৃজনশীল গাধা কিংবা বিনোদনের বিনোদন...|</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SunlBO-Lw3I/AAAAAAAAGBk/hQBGVRpA_9Y/s1600-h/yue_minjun_2_o.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SunlBO-Lw3I/AAAAAAAAGBk/hQBGVRpA_9Y/s320/yue_minjun_2_o.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| সৃজনশীল গাধা কিংবা বিনোদনের বিনোদন...|&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আমাদের চারদিকে বিনোদনের এতো রকম উৎস ও উপাদান ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে যে, 'বিনোদন নেই বিনোদন নেই' বলে যে হা-হুতাশ ছড়াই আমরা, তা কিন্তু বিনোদনের উৎসের অভাবে নয়, বিনোদন গ্রহণের অক্ষমতাই বলা যায়। বহু উৎস থেকেই মানুষ বিনোদন পেতে পারে। স্তর বা মাত্রা বা দেখার দৃষ্টি ভেদে এর ভিন্নতা হতে পারে। কেউ সিনেমা দেখে বিনোদন পায়, কেউ গান শুনে। কেউ মুক্ত বিহঙ্গের মতো নিজেকে ছড়িয়ে দিয়ে ঘোরাঘুরি করে, কেউ ঘরের নির্জন কোণে দিনভর প্রিয় বইগুলোর আশ্চর্য মোহময় জগতে ডুবে থেকে বিনোদন পায়। কেউ বিরতিহীন আড্ডা কিংবা তাস পেটানোর উল্লাসে বিনোদন খুঁজে, কেউ তার বিস্ময়কর সৃজনের একান্ত জগতে নিয়ত ভাঙচুর হতে হতে অনির্বচনীয় আনন্দ খুঁজে পায়। এরকম বহু একক কিংবা একাধিক উৎস থেকেই মানুষ তার নিজস্ব আনন্দটুকু নিংড়ে নিংড়ে বিনোদনের আয়োজন করে। ব্যক্তির রুচি, বোধ, উপলব্ধি, এগুলো বিনোদনের মাত্রা নিরূপনে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটকের কাজ করে। তবে এখানে যে সব নমুনা-উৎস উল্লেখ করা হলো তা হচ্ছে লক্ষ্যবদ্ধ বিনোদন। অর্থাৎ তা থেকে বিনোদন পাবো এই সম্ভাব্যতা বুকে নিয়ে আমরা এসব উৎসে ঝাঁপিয়ে পড়ি। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আবার কিছু আছে ব্যতিক্রমী উৎস। চিরায়ত বৈচিত্র্যের এই ব্যতিক্রমী উৎসগুলো কিন্তু খুবই কৌতুহলোদ্দীপক এবং তা তাৎক্ষণিক অনুরণনে এক অনির্বচনীয় উপলব্ধির জন্ম দেয। আমাদের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড ও চলমান জীবনযাত্রার মধ্যেই এই বিনোদনগুলোকে ধরতে পারি আমরা। ফাঁকেফুকে দেখার দৃষ্টিটাকে একটু তীক্ষ্ণ ও লক্ষ্যভেদী করে নিতে হয় কেবল।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ধরুন জনকোলাহল ডিঙিয়ে এসে ফুটপাথের কোন চায়ের দোকানের টুলটিতে বসে আনমনে হয়তো চায়ের কাপে চুমুক দিচ্ছেন। পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া জনস্রোতের দিকে তাকিয়ে দৃষ্টিটাকে একটু তীক্ষ্ণ করুন। দেখুন না, কী এক মজার জগত আপনার চোখের সামনে উন্মুক্ত হয়। প্রত্যেকটা মানুষের হাঁটা এবং হাঁটার স্টাইলটাকে খেয়াল করুন আর ভাবুন- ব্যক্তিত্ব মানুষের চেহারায় নয়, হাঁটার স্টাইলেই আঁকা থাকে। দৃষ্টিটাকে যতোটা সম্ভব সংবদ্ধ করে এবার মিলাতে থাকুন। অন্যরকম এক উপলব্ধিজাত আনন্দ তার সুক্ষ্ম বিনোদনকণা ছড়িয়ে আপনাকে রাঙিয়ে তুলবে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অথবা ধরুন, আপনি কোন হোটেল বা রেস্তোরায় ঢুকলেন লাঞ্চ করতে। ছড়ানো ছিটানো অন্যান্য চেয়ার টেবিল জুড়ে আপনার মতো আরো অনেকেই হয়তো নিরিবিলি লাঞ্চ করছেন। খাবার খেতে খেতে আশেপাশে দৃষ্টিটাকে একটু তীক্ষ্ণ করে তুলুন। খুব ভালো করে প্রত্যেকটা লোকের খাবার ও খাবার গ্রহণ-পদ্ধতি এবং আনুষঙ্গিক ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়াগুলো খেয়াল করুন। কে কিভাবে ভাত কচলাচ্ছেন বা মাখাচ্ছেন, কিভাবে কোন্ পদ্ধতিতে ভাতের গ্রাস বা লোকমাটা হাত দিয়ে মুখে পুরছেন, কিভাবে তা চিবানো হচ্ছে, মুখের বা মুখমণ্ডলের মাংসপেশীগুলোর সঞ্চালন ও তাতে করে ক্ষণে ক্ষণে চেহারার পরিবর্তনগুলো খেয়াল করুন এবং এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে গিয়ে সংশিষ্ট ব্যক্তির চাউনির ধরন বা দৃষ্টিবদ্ধতাটুকুও খুটিয়ে খুটিয়ে বিশ্লেষণ করতে থাকুন। দেখুন না, বিনোদনের কী বিস্ময়কর জগত আপনার সামনে খুলে যায় ! দেখার দৃষ্টি থাকলে এরকম কতো কিছু থেকেই আমরা জীবনের অনেক বোধ ও বিনোদন আহরণ করতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কেউ কেউ ভাঁড়ামো করেও ব্যাপক আনন্দ পান। এই ভাঁড়ামো দেখে আবার অন্য অনেকে তা থেকে প্রচুর বিনোদন সংগ্রহ করেন। আবার এই ভাঁড়ামো থেকে অন্যদের আনন্দ কুড়ানোর উপায় বা প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেও কেউ কেউ বিনোদন পান বৈ কি। আসলে চারদিকে আমাদের কথায়-কাজে-আচারে-বিচারে এতো বেশি অসংগতি ও বৈকল্য ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে যে, একটু গভীরভাবে দেখলে এগুলোর মধ্যে প্রচুর ভাঁড়ামোর উপাদান যেমন চোখে পড়বে, বিনোদন হিসেবেও তা কিন্তু ফেলনা নয়। আর চাইলে জীবনের নশ্বরতাটুকুও হয়তো তা থেকে খুঁজে পেতে পারেন। তবে বহতা নদীর মতো অবিরল ঘটে যাওয়া এই ঘটনাগুলো চলমান, অস্থির। এখন যা আছে, একটু পর সেটা আর থাকছে না। নতুন ঘটনা ঘটছে। নতুন কিছু হয়ে যাচ্ছে। নতুন আরেক বিনোদন বা এর উৎস সৃষ্টি হয়ে যাচ্ছে। লেখালেখির জগতেও এসব উপাদানের কমতি নেই। এক্ষেত্রে বড় সুবিধাটা হলো, এগুলো লিখিত থাকে বলে অক্ষরগুলো সহজে ধুয়ে মুছে হারিয়ে যায় না। নমুনাগুলো দীর্ঘকাল থেকে যায়। তবে বহমান ঘটনা বা পলে পলে পাল্টে যাওয়া প্রেক্ষিতগুলোর বৈচিত্র্য বলেন আর মোহই বলেন, এর মাজেজাই আলাদা। না থাক প্রমাণপত্র কোনো, তাৎক্ষণিক বোধ, উপলব্ধি আর মুহূর্তকালীন জীবনের যে বিচিত্র চিত্র, এর অন্দরে প্রবেশের সূত্রটা যদি একবার আবিষ্কার করে ফেলা যায়, মনে হয় না এক জীবনের সাকুল্য সময়টা আর কখনোই কারো কাছে বোঝা হয়ে উঠবে। এজন্যেই বোধ করি সৃষ্টিশীল ব্যক্তিরা সময়ের ভারে বোর হবেন কি, চিরকাল সময়-ঘাটতিতেই থেকে যান !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এই আলোচনা প্রসঙ্গের যে কোনো বিন্দুতে এসে যে-কেউ হয়তো ধাম করে তাঁর ভিন্নমতটাও ছুঁড়ে দিতে পারেন। এতেও ঘাবড়ানোর কিছু নেই। মতানৈক্য থাকাটাই স্বাভাবিক। এবং অহেতুক ঝুঁকি এড়িয়ে কানে কানে এটাও বলে রাখা আবশ্যক যে, এটাও বিনোদনের আরেক উৎস বৈ কি ! হা হা হা ! তবে খুব খেয়াল করে ! গোটা বিষয়টাই কিন্তু কিছুতেই ঝুঁকিমুক্ত নয়, যতক্ষণ না তা কেবল নিজের মধ্যেই বোঝাপড়ায় সীমাবদ্ধ থাকে ! কারো কোন সিরিয়াস বিষয় থেকেও আপনি বিনোদনের উৎস বা উপাদান খুঁজছেন এই বোধ যদি কেউ একটিবার টের পেতে পারে, তাহলে আপনার চেহারার অরিজিনালিটি বা ন্যাচারাল ফিনিশিং শেষপর্যন্ত অবিকৃত থাকবে এই গ্যারান্টি বা ওয়ারেন্টি আপনার সৃষ্টিকর্তাও আদৌ দিতে পারবেন কিনা তা অজ্ঞাত। অতএব আবারো বলি, খুব খেয়াল করে !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অতি উৎসাহী হয়ে এখনই যারা প্রতিমুহূর্তের ঘটনাপঞ্জির কেসহিস্ট্রি তৈরিতে নেমে যেতে একান্তই&amp;nbsp; একপেয়ে উদ্যোগী হবেন বলে মনে হয়, তাঁদের জন্য দূরবর্তী একটা হতাশার কথা না শোনালেই নয়। ঝুঁকিমুক্ত পদ্ধতিতে এটা করতে গিয়ে সাত-কাণ্ড রামায়ণ রচনার সম্ভাবনায় যে প্রাবল্য চোখে পড়ে, উপসংহারে এসে ‘সীতা কার বাপ’ হয়ে যাবার আশঙ্কাটা তার চেয়েও প্রবল বলেই মনে হয়। তাই মহামুনি বাল্মিকী হয়ে ওঠার আগে উপলব্ধির পূর্ণতার জন্যই দস্যু রত্নাকর হবার প্র্যাকটিসটাও সেরে নেয়া যেতে পারে। কেউ যদি আবার পাল্টা প্রশ্ন করেন, কিভাবে ? এর কোন সুষ্টু উত্তর নেই। কারণ রত্নাকর হতে হলে কোন কিছু জানার প্রয়োজন হয় না। বরং রত্নাকর হলেই কেবল বাল্মিকী হবার উপায়টার খোঁজ নাকি পাওয়া যায়। ঐ যে, পথ চললেই পথের হিসাব। শেষপর্যন্ত পথই পথের শেষটুকুতে নিয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ঈর্ষণীয় ধৈর্য্য দেখিয়ে আবজাব আলোচনার এটুকু পর্যন্ত যাঁরা চলেই এসেছেন, তাঁদের জন্য দুঃসংবাদই বলা যায়। ইতোপূর্বে উল্লেখ করেছিলাম যে, সৃষ্টিশীল ব্যক্তিরা চিরকাল সময়-ঘাটতিতেই থেকে যায়। এদের ছাড়াও আরেক ধরনের প্রাণী আছে যারা কখনোই সময়ের ভারে আক্রান্ত হয় না। অলটাইম বোঝা বইতে বইতে এরা এতোই ব্যতিব্যস্ত থাকে যে, সময়ের বোঝা নেযার ফুরসৎ কই তাদের ! এরা হলো সেই গাধা, খাটি বাংলায় যাদেরকে মৌলিক গর্দভ বলা হয়। গাধার কি কোন বিনোদন থাকে ? মাঝে মাঝে কেন যেন আমার নিজেকেও এর চেয়ে ব্যতিক্রম কিছু মনে হয় না !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-1149466540512123430?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/1149466540512123430/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=1149466540512123430' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/1149466540512123430'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/1149466540512123430'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_30.html' title='| সৃজনশীল গাধা কিংবা বিনোদনের বিনোদন...|'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SunlBO-Lw3I/AAAAAAAAGBk/hQBGVRpA_9Y/s72-c/yue_minjun_2_o.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-2933528336839927788</id><published>2009-10-24T14:01:00.003+07:00</published><updated>2009-10-24T16:11:40.624+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='To write Bangla'/><title type='text'>| To see and write Bangla | ইউনিকোডে বাংলা দেখা ও লেখা |</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SuK8tu_kyDI/AAAAAAAAGBU/zoieZAH3zw8/s1600-h/initial_screen1.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" height="320" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SuK8tu_kyDI/AAAAAAAAGBU/zoieZAH3zw8/s320/initial_screen1.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size: large;"&gt;&lt;b&gt;| To see and write Bangla | ইউনিকোডে বাংলা দেখা ও লেখা |&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;[&lt;b&gt;স্বীকারোক্তি:&lt;/b&gt; &lt;i&gt;‘ইউনিকোডে বাংলা দেখা ও লেখা’ শিরোনামের এই পোস্টটির জন্য সম্পূর্ণ কৃতজ্ঞতার দাবীদার বাংলা লেখক কমিউনিটি ব্লগ &lt;a href="http://www.sachalayatan.com/"&gt;সচলায়তন &lt;/a&gt;। সচলাতয়নের ‘&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/to_write_bangla"&gt;বাংলা লিখতে হলে&lt;/a&gt;’ পোস্টটাকে আপাত প্রয়োজনানুযায়ী কিঞ্চিৎ পরিবর্তন করে নির্বাচিত অংশ প্রায় হুবহু এখানে তুলে দেয়া হলো।&lt;/i&gt;]&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;বাংলা লিখতে হলে (To write Bangla)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;বাংলা সেটআপ&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;বাংলা ঠিক মতো দেখাতে উইন্ডোজে কমপ্লেক্স স্ক্রীপ্ট ইন্সটল করতে হবে। না করা থাকলে, ফায়ারফক্স বা মোজিলা এবং কখনও কখনও ইন্টারনেট এক্সপ্লোরারও সমস্যা করে।&lt;br /&gt;কমপ্লেক্স স্ক্রীপ্ট পাবেন &lt;a href="http://www.omicronlab.com/go.php?id=38"&gt;এখানে &lt;/a&gt; বা &lt;a href="http://www.omicronlab.com/download/tools/iComplex_2.0.0.exe"&gt;এখানে&lt;/a&gt;  &lt;br /&gt;এবার প্রয়োজন একটি ভালো ইউনিকোড ফন্ট। ফন্ট পাবেন&amp;nbsp; &lt;a href="http://arup.kamal.googlepages.com/BNG.ttf"&gt;এখানে &lt;/a&gt;। (অথবা রেপিডশেয়ার থেকে ইউনিকোড ফন্ট রার ফাইল পাবেন &lt;a href="http://rapidshare.com/files/195028822/Unicode_Fonts.rar"&gt;এখানে&lt;/a&gt;।) ফন্টটি ইন্সটল উইন্ডোজের ফন্ট ফোল্ডারে কপি করে &lt;b&gt;কন্ট্রোল প্যানেলে&lt;/b&gt; গিয়ে &lt;b&gt;ফন্টস&lt;/b&gt; এ ক্লিক করুন। তারপর &lt;b&gt;F5&lt;/b&gt; চাপ দিন দুবার। এতে ফন্ট রিফ্রেশ হবে।&lt;br /&gt;এবার আপনার ব্রাউজারকে এই ফন্টটি কে চিনিয়ে দিন বাংলা বর্ণ হিসেবে।&lt;br /&gt;ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার ব্যবহার করলে, &lt;b&gt;টুলস &amp;gt;ইন্টারনেট অপশনস&lt;/b&gt; মেনুতে গিয়ে &lt;b&gt;ফন্টস&lt;/b&gt; এ ক্লিক করুন। এবার ল্যাংগুয়েজ স্ক্রীপ্ট &lt;b&gt;বেঙ্গলী&lt;/b&gt; এবং ওয়েবপেজ ফন্ট &lt;b&gt;BNG&lt;/b&gt; সিলেক্ট করুন।&lt;br /&gt;ফায়ারফক্স ব্যবহার করলে, &lt;b&gt;টুলস &amp;gt; অপশনস&lt;/b&gt; মেনুতে গিয়ে &lt;b&gt;কনটেন্টস&lt;/b&gt; ট্যাবে ক্লিক করুন। এবার &lt;b&gt;ফন্টস অ্যান্ড কালারস&lt;/b&gt; সেকশনের &lt;b&gt;অ্যাডভান্সড&lt;/b&gt; বাটনে ক্লিক করুন। এবার ফন্টস ফর = বেঙ্গলী, সেরিফ=BNG, স্যান সেরিফ=BNG এবং মনোস্পেস = BNG সিলেক্ট করুন ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;* ব্যস বাংলা সেটাপ হয়ে গেল।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অনেক সময় বাংলা লেখার সমস্যা হতে পারে। সেক্ষেত্রে আমরা আপনাকে অভ্র বাংলা কিবোর্ড টুলটি ব্যবহার করতে বলবো।  &lt;a href="http://www.omicronlab.com/go.php?id=36"&gt;অভ্র&lt;/a&gt; (&lt;a href="http://www.omicronlab.com/avro-keyboard-download.html"&gt;বিকল্প&lt;/a&gt;) অথবা &lt;a href="http://www.omicronlab.com/go.php?id=37"&gt;অভ্র পোর্টেবল&lt;/a&gt; (&lt;a href="http://www.omicronlab.com/portable-avro-keyboard.html"&gt;বিকল্প&lt;/a&gt;) বাংলা কিবোর্ড টুল ডাউনলোড করুন এখান থেকে। এছাড়া একটি অনলাইন লেখনী ও কনভার্টার পাবেন&amp;nbsp; &lt;a href="http://bnwebtools.sourceforge.net/"&gt;এখান থেকে&lt;/a&gt;।&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;Bangla Unicode Setup in Windows PC&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;Step: 1&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;First of all, you need to install support for Windows complex script to view complex Asian characters like Bangla. You can download it from&amp;nbsp; &lt;a href="http://www.omicronlab.com/go.php?id=38"&gt;here&lt;/a&gt; (&lt;a href="http://www.omicronlab.com/download/tools/iComplex_2.0.0.exe"&gt;alt&lt;/a&gt;). Run it and install.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;Step: 2&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;Install an Unicode Bangla font. You can download a nice Bangla font from &lt;a href="http://arup.kamal.googlepages.com/BNG.ttf"&gt;here&lt;/a&gt;. (or from RapidShare Unicode font rar file &lt;a href="http://rapidshare.com/files/195028822/Unicode_Fonts.rar"&gt;here&lt;/a&gt;.) Download it and copy that file into Control Panel &amp;gt; Fonts. After copying the font press F5 twice. It will refresh the font list Window.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;Step 3&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;Configure you browser so that it uses your newly installed Bangla unicode font.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;1. For Internet Explorer user, go to Tools &amp;gt; Internet Options. Click on the Fonts button. Then select Language Script : Bengali, Webpage font: BNG. Click Ok.&lt;br /&gt;2. For Firefox user, go to Tool &amp;gt; Options. Then go to Contents tab. Click on the Advanced under Fonts and Colors option. Select Fonts for Bengali, and select BNG as Serif, San serif and Monospace font.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;You are DONE after browser configuration. &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;For more in this issue under different Operating systems, visit &lt;a href="http://en.wikipedia.org/wiki/Wikipedia:Bangla_script_display_help"&gt;this Wikipedia page&lt;/a&gt;.&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;How to write Bangla in any Blog&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;* You can use install&amp;nbsp;  &lt;a href="http://www.omicronlab.com/go.php?id=36"&gt;Avro&lt;/a&gt; (&lt;a href="http://www.omicronlab.com/avro-keyboard-download.html"&gt;alt&lt;/a&gt;) or &lt;a href="http://www.omicronlab.com/go.php?id=37"&gt;Avro Portable&lt;/a&gt; (&lt;a href="http://www.omicronlab.com/portable-avro-keyboard.html"&gt;alt&lt;/a&gt;) to write Bangla in any blog.&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(Thanks to &lt;a href="http://www.sachalayatan.com/user/48"&gt;Hasib&lt;/a&gt; for providing the English translation)&lt;br /&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-2933528336839927788?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/2933528336839927788/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=2933528336839927788' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/2933528336839927788'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/2933528336839927788'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/to-see-and-write-bangla_24.html' title='| To see and write Bangla | ইউনিকোডে বাংলা দেখা ও লেখা |'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SuK8tu_kyDI/AAAAAAAAGBU/zoieZAH3zw8/s72-c/initial_screen1.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-8784276512739758701</id><published>2009-10-23T14:58:00.004+07:00</published><updated>2009-11-01T23:49:36.261+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Utbachan'/><title type='text'>| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৮১-৯০|</title><content type='html'>&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SuFhx4la2CI/AAAAAAAAGAw/PVJ9l-tlYH4/s1600-h/Image6.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SuFhx4la2CI/AAAAAAAAGAw/PVJ9l-tlYH4/s320/Image6.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৮১-৯০|&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;ভুল হচ্ছে সেই শুদ্ধতম সম্ভাবনা&lt;br /&gt;যা মানুষের পছন্দের তালিকায় আসে না কখনোই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;‘তেল দেয়া’ বিস্ময়কর এক প্রায়োগিক আর্ট,&lt;br /&gt;সঠিকভাবে দিতে জানলে তা দাতাকেই তেল-চকচকে করে তুলে। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;ভুলে যাওয়া কঠিনতম কাজ;&lt;br /&gt;চেষ্টা করে হয়তো কোনকিছু মনে করা যায়,&lt;br /&gt;কিন্তু চেষ্টা করে ভুলে যাওয়া যায় না।&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;কৈশোর আর বয়স্কের তফাৎ বয়সে নয়,&lt;br /&gt;অনিশ্চয়তায় আর মৃত্যুচিন্তায়; যা কৈশোরে থাকে না।&lt;br /&gt;অনিশ্চয়তা আর মৃত্যুচিন্তার ক্রমবর্ধমান তীব্রতা নিয়েই&lt;br /&gt;মানুষ ক্রমান্বয়ে বয়স্ক হতে থাকে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;বৈশ্যবৃত্তি আর বেশ্যাবৃত্তির মধ্যে পার্থক্য খুব সামান্য,&lt;br /&gt;বানানের দুয়েকটা ‘কার’-চিহ্ণের ভিন্নতা ছাড়া;&lt;br /&gt;উভয় বৃত্তির মৌল শব্দই ‘বশ’।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;মনুষ্যসমাজে শুকরের আধিক্য মানুষের নোংরামিকেই চিহ্ণিত করে;&lt;br /&gt;যত্রতত্র বিষ্ঠা ছড়ালে বরাহ-দর্শন তো হবেই !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;মেরুদণ্ডী প্রাণীর পায়ের আধিক্য মেরুদণ্ডের অবনমনই নির্দেশ করে;&lt;br /&gt;দুপেয়ে প্রাণীর উল্লম্ব ও ঋজু মেরুদণ্ড চতুষ্পদীতে আনুভূমিক হয়ে যায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;সৌন্দর্যবোধ হচ্ছে সেই নান্দনিক উপলব্ধি,&lt;br /&gt;ভিন্ন আঙ্গিকে যা মানুষকে যৌন পরিতৃপ্তি দেয।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;জগতের যেকোন বস্তু বা প্রাণীকে ব্যবচ্ছেদ করলে &lt;br /&gt;কার্যকর কিছু ধর্ম বা বৈশিষ্ট্য বেরিয়ে আসে;&lt;br /&gt;মানুষের আচরিত ধর্মকে ব্যবচ্ছেদ করে তেমন কিছুই পাওয়া যায় না, &lt;br /&gt;উদ্ভট কিছু গোঁড়ামি আর ভণ্ডামি ছাড়া !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৯০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;না-জানার মধ্যে মূর্খতা নেই, জানার চেষ্টা না-করাটাই মূর্খতা;&lt;br /&gt;আর মূর্খতার পরিচায়ক হচ্ছে গোঁয়ার্তুমি।&lt;br /&gt;চিন্তক-অঙ্গে বৈকল্য আসলেই মানুষ গোঁয়ার্তুমিতে আক্রান্ত হয়। &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_7140.html"&gt;৭১-৮০&lt;/a&gt;][*][&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2009/11/blog-post.html"&gt;৯১-১০০&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-8784276512739758701?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/8784276512739758701/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=8784276512739758701' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/8784276512739758701'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/8784276512739758701'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_23.html' title='| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৮১-৯০|'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/SuFhx4la2CI/AAAAAAAAGAw/PVJ9l-tlYH4/s72-c/Image6.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-1468738417470142233</id><published>2009-10-19T22:11:00.004+07:00</published><updated>2009-10-23T18:47:38.525+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Juvenile story'/><title type='text'>[ছোটদের গল্প...| অর্ক’র চোখ ]</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StyEMlp4YHI/AAAAAAAAGAg/CeKPF_vu1fY/s1600-h/FreedomsFlight.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StyEMlp4YHI/AAAAAAAAGAg/CeKPF_vu1fY/s400/FreedomsFlight.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-size: large;"&gt;&lt;b&gt;| অর্ক’র চোখ |&lt;/b&gt;&lt;/span&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;রণদীপম বসু&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ঘটনার শুরু কিন্তু গতকাল পঞ্চম শ্রেণীর অংকের ক্লাস থেকে। একেবারে ভিন্নভাবে। সব ছাত্রের মনোযোগ যখন অংক স্যারের দিকে, অর্ক’র দৃষ্টিটা বারবার মাথার উপরে ভন্ভন্ করে ঘুরতে থাকা ফ্যানটাতে গিয়ে আটকে যাচ্ছে। অংক স্যারও এই অমনোযোগী ছাত্রের ব্যাপারটা খেয়াল করেই ডাক দিলেন- এই ছেলে, দাঁড়াও !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;থতমত খেয়ে দাঁড়ালো সে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;তোমার কী সমস্যা বলো তো ? ওখানে কী দেখছো ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;একটু ইতস্তত করে বললো- স্যার, সাপ।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সাপ ! কোথায় ?- স্যারের কণ্ঠে বিস্ময়।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অর্ক তর্জনীটা ফ্যানের দিকে তাক করে ধরলো- ওইখানে। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;ভন্ভন্ করে এতো জোরে ঘুরছে যে ফ্যানের ব্লেডগুলোও দেখা যাচ্ছে না, শুধু অস্পষ্ট একটা ছায়াবৃত্ত ছাড়া। ওখানে সাপ কোথায় ! কেউ দেখতে পেলো না। তবু হুড়মুড় করে ক্লাসের ভেতরে মুহূর্তের মধ্যেই একটা বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। ‘সাপ সাপ’ বলে সবাই ফ্যানটার কাছ থেকে দূরে সরতে গিয়ে হাউকাউ চেঁচামেচি শুরু হয়ে গেলো। হট্টগোল শুনে পাশের ক্লাসরুম থেকে বাংলা স্যারও চলে এসেছেন। ততক্ষণে অংক স্যার একটা একটা সুইচ অফ-অন করে করে সুনির্দিষ্ট সুইচটা অফ করতেই ফ্যানের গতি কমে এলো। একটু পরেই ব্লেডের সাথে প্যাঁচানো চিকন কালো রশির মতো সাপটাকে দেখা যেতে লাগলো। এবং ফ্যানটা স্থির হতেই ওটা ঝুপ করে পড়লো নিচে বেঞ্চের উপর। ততক্ষণে অর্কও ওটা থেকে কিছুট দূরে সরে এসেছে। আর ‘সাপ এলোরে সাপ এলোরে’ বলে আবারো একটা হুড়াহুড়ি এবার ক্লাসরুম থেকে একেবারে বারান্দায় গিয়ে পৌঁছলো। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কোত্থেকে একটা বাঁশের লম্বা লাঠি নিয়ে অল্প বয়েসী পিয়ন ছেলেটা সোজা সাপটার কাছে চলে এলো। বেশ সাহসী ছেলে বলা যায়। লাঠিটা তাক করে আঘাত করার আগে তীক্ষ্ণভাবে কী যেন পর্যবেক্ষণ করেই চেঁচিয়ে ওঠলো সে- স্যার, এইটা তো পিলাস্টিকের সাপ !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ভালো করে দেখো- বলে সতর্ক করলেন বাংলা স্যার। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সে যে একটুও মিথ্যে কথা বলেনি তা প্রমাণ করতে এবার লাঠির আগায় খোঁচা দিয়ে সাপটাকে মাটিতে ফেলে দিলো। পড়েই চিৎ হয়ে গেলো ওটা। একটার পর একটা বক্সের মতো প্লাস্টিক কারখানার তৈরি খাঁজগুলো নজরে আসতেই হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো সবাই। শঙ্কিত ভাবটা কেটে যেতেই ক্লাস জুড়ে ছেলেদের হাসির তুবড়িতে খলবল করে ওঠলো রুমটা। কিন্তু অংক স্যারের রাগটা এবার ঠিকই চড়ে উঠেছে- ফাজিল ছেলে কোথাকার ! কই সে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ভয়ে ভয়ে স্যারের সামনে এগিয়ে এলো অর্ক। স্যারের স্বরকম্পন আরো বেড়ে গেছে তখন- তুমি যা করেছো তাতে তোমাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা উচিত ! বেয়াদব ছেলে কোথাকার !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অর্ক কাঁদো কাঁদো গলায় মিনতি করলো- আমি তো কিছু করিনি স্যার !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;করিনি মানে !- স্যারের গলা তখন চরমে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এরই মধ্যে হেডস্যারও চলে এসেছেন। নিয়ম কানুনে অত্যন্ত কড়া এই হেডস্যারকে ইস্কুলে সবাই&amp;nbsp; সমীহ করে চলে। তিনি আসতেই সবাই যার যার সীটে গিয়ে বসে পড়লো। কেবল অর্ক দাঁড়িয়ে রইলো। ক্লাসের সবাইকে শান্ত থাকার নির্দেশ দিয়ে অর্ককে সাথে করে তাঁর রুমের দিকে নিয়ে গেলেন। পেছন পেছন অংক স্যারও গেলেন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সাধারণত জরুরি কোন প্রয়োজন ছাড়া হেডস্যারের রুমে ছাত্রদের খুব একটা যাওয়া হয় না। গুরুতর কোন ব্যাপার হলেই কেবল ওখানে ডাক পড়ে কারো। তাই হেডস্যারের রুমে ঢুকে অর্ক’র খুব ভয় হতে লাগলো। হেডস্যার তাঁর চেয়ারে বসেই সোজা অর্ক’র দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলেন- তুমি যে অপরাধ করেছো এটাকে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধ বলে। এর সাজা কী জানো ? স্কুল থেকে বের করে দেয়া।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আমি স্যার কিছু করিনি- খুব সন্ত্রস্ত কণ্ঠে জবাব দিলো সে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;তাহলে কে করেছে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আমি জানিনা স্যার !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;হঠাৎ হেডস্যারের কঠিন কণ্ঠ গমগম করে ওঠলো- তুমি কি মিথ্যা বলার পরিণাম জানো ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ভয়ে অর্ক’র গলা দিয়ে তখন আর শব্দ বেরুচ্ছে না। তবু মরিয়া হয়ে সে বললো- জী স্যার, আমি মিথ্যা কথা বলি না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কিন্তু স্যার যে তাঁর কথা বিশ্বাস করেছেন তা কী করে বুঝবে সে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;তোমার বাবার ফোন নম্বর আছে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;জী স্যার !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ফোন নম্বরটা রেখে হেডস্যার তাকে ক্লাসে ফেরৎ পাঠালেন। খুব বিমর্ষ মনে অর্ক ফিরে এলো ক্লাসে। কিছুই ভালো লাগছে না তার। সে যে ফ্যানের মধ্যে কোন প্লাস্টিকের সাপ ছুঁড়েনি বা এ সম্পর্কে সে কিছুই জানে না, এটা কেউ বিশ্বাস করছে না ! লজ্জায় অপমানে তার কাঁদতে ইচ্ছে করছে। কিছুক্ষণের মধ্যে ইস্কুল ছুটি হয়ে গেলো। বিমর্ষ অর্ক মাঠ পেরিয়ে গেটের দিকে আনমনে হাঁটতে হাঁটতে টের পেলো, কে যেন তাকে কী বলছে। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সহপাঠী লাবিব। ওর দিকে ঘুরে দাঁড়াতেই সে বললো- হেডস্যার তোকে মেরেছে রে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;না তো !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;তোকে জিজ্ঞেস করেনি এটা কে করেছে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;হাঁ, করেছে !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;তুই কী বলেছিস ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আমি তো জানি না ওটা কে করেছে !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ও আচ্ছা...। বেশ আশ্বস্ত হয়েই চলে গেলো সে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সন্ধ্যায় বাসায় ফিরেই আব্বু জানতে চাইলেন- কী রে বাবু, আজ স্কুলে কী হয়েছে রে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অর্ক’র কাছে সবিস্তারে সব শুনে ‘ও তাই ! ঠিকাছে’ বলে আব্বু তাঁর কম্পিউটার নিয়ে বসে গেলেন। কিন্তু অর্ক’র বুক জুড়ে অনেক অভিমান দানা বেঁধে ওঠেছে তখন। এতগুলো ঘটনা ঘটে গেলো ! অথচ আব্বুর ‘ও তাই, ঠিকাছে’ বলেই শেষ ! আরো বেশি ভারি হয়ে ওঠা মনটাকে বুকে চেপে পড়ার টেবিলে মাথা গুঁজে বসে রইলো সে। হঠাৎ মাথায় আদরের স্পর্শে বুকটা চনমন করে ওঠলো। মুখ না তুলেই বুঝে গেছে, এই ঘ্রাণ আম্মুর। ‘ঔষধটা খেয়ে নাও বাবা !’ &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;মুখ চোখ কুঁচকে এলো অর্ক’র। এ-বেলা এইটা ও-বেলা ওইটা করে করে অতিষ্ঠ করে তোলা ঔষধগুলোর উপর রীতিমতো বিরক্ত সে। কিন্তু কিছুই করার নেই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;গত ছুটিতে আব্বু-আম্মুর সাথে মামারবাড়ি চট্টগ্রাম যাওয়ার পথে তাঁর প্রিয় ভ্রমণ- ট্রেনের জানালায় বসে গাছপালা মাঠ ঘাট নদী বন কে কতো জোরে পেছনে ছুটতে পারে- সে খেলাটাই দেখছিল খুব কৌতুক নিয়ে। দেখতে দেখতে আনমনা হয়ে মাথাটা জানালায় ঠেশ দিয়ে রেখেছিল। হয়তো জানালা দিয়ে মাথাটা বাইরের দিকে কিছুটা বেরিয়েও ছিল। আচমকা কী যেন একটা ভয়ঙ্কর কিছু এসে কপালের ঠিক মাঝখানটায় প্রচণ্ড বাড়ি খেলো ! তারপর আর কিছু বলতে পারে না অর্ক। যখন জ্ঞান ফিরলো, ঘুটঘুটে অন্ধকার একটা ঘরে নিজেকে আবিষ্কার করে খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল। চারদিকের শোরগোলের মধ্যেও অভ্যস্ত নাকে আম্মুর শরীরের ঘ্রাণটা পেয়ে গেছে ঠিকই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এতো অন্ধকার কেন আম্মু ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ওহ্, জেগেছিস তুই ! মাথায় চোখে ব্যান্ডেজ করা যে বাবা !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ক’দিন পর ব্যান্ডেজ খোলা হলে যেদিন থেকে স্বাভাবিকভাবে দেখতে শুরু করলো, সেদিনই খুব আশ্চর্য ও মজার ঘটনাটা খেয়াল করলো সে। হাসপাতালের বেডে শুয়ে শুয়ে ঠিক নাকের উপর ছাদে ঝুলানো ভন্ভন্ করে ঘুরন্ত ফ্যানটাকে খুব ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে চোখ দুটো ছোট ছোট করে তীক্ষ্ণভাবে তাকাতেই ফ্যানের গতিটা কেমোন মন্থর হয়ে গেলো ! দৃষ্টি স্বাভাবিক করতেই ফ্যানটা আবার আগের মতো দ্রুত ঘুরছে। আবার দৃষ্টি তীক্ষ্ণ করলো, গতি মন্থর হয়ে যাচ্ছে। ফ্যানের গায়ে উদ্ভট অর্থহীন লেখাটা দিব্যি পড়তে পেরেছে সে ! পড়ে আর হাসি চেপে রাখতে পারলো না - চমেকহাফ্যা৫৭৮ ! নিয়মিত ডিউটিতে পরিদর্শনে এলে ডাক্তার আঙ্কেলকে বলতেই তিনি চুলগুলো নেড়েচেড়ে আদর বুলিয়ে দিতে দিতে বললেন- খুব মজা বুঝি ? তারপরেও ওটা একটা ক্ষতিকর রোগ বাবা। আমি যে ঔষধগুলো লিখে দেবো তা নিয়মিত খাবে কিন্তু ! কেমন ? আস্তে আস্তে ঠিক হয়ে যাবে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সেই থেকে অর্ক’র স্বাস্থ্যটাও দিনে দিনে ভেঙে পড়তে লাগলো। আব্বু আম্মু আরো কতো যে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেছেন তাকে ! ডাক্তার আঙ্কেল বলেছেন, চোখের অসুখটা সেরে গেলেই স্বাস্থ্য আবার ভালো হয়ে উঠবে। যত তাড়াতাড়ি সেরে যায় ততই মঙ্গল। তাই যতো বিরক্তই লাগুক ঔষধ খেতে এখন কোন আপত্তি করে না সে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;পরদিন ইস্কুলে যেতেই কিছুক্ষণের মধ্যে হেড স্যারের ডাক এলো। উঠে দাঁড়াতেই লাবিবের সাথে চোখাচোখি। ওর ভয়ার্ত চোখে একটু ম্লান হাসি বিনিময় করে হেড স্যারের রুমের দিকে বেরিয়ে গেলো অর্ক। বুকটা দুরুদুরু করতে লাগলো। কিন্তু রুমে ঢুকেই আজ হতবাক সে। গতদিনের ঠিক উল্টো পরিবেশ। হেডস্যার চেয়ার থেকে উঠে এসে অর্ক’র মাথায় মুখে আদর বুলিয়ে বললেন- আমি তোমার আব্বুর কাছে সব শুনেছি বাবা। গতকালকে তোমাকে অনেক বকেছি, তাইনা ! তুমি আসলে খুব ভালো ছেলে। এখন থেকে মনোযোগ দিয়ে পড়াশোনা করবে, আর ডাক্তার সাহেব যা বলেন তা মেনে চলবে। স্কুলে তোমার কোন অসুবিধা হলে আমাকে বলবে, কেমন ? যাও।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;হেড স্যারের মুখের দিকে তাকিয়ে তার চোখে কোত্থেকে যেন পানি চলে এলো। মাথা নিচু করে রুম থেকে বেরিয়ে এলো। ক্লাসরুমে যখন ঢুকলো তখন তার মন ভালোলাগায় টম্বুর হয়ে আছে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;লেজার পিরিয়ডে ফুরফুরে আনন্দ নিয়ে ঝিরিঝিরি বাতাসের মধ্যে রেইনট্রি গাছটার ছায়ায় লাবিবসহ অন্য অনেকের সাথে বসলো সে। উপরের ক্লাসের বড় ভাইয়ারা সুযোগে কিছুক্ষণ ক্রিকেট খেলে নিচ্ছে। কিন্তু খেলা দেখে অর্ক’র কেবল হাসিই পেতে লাগলো। তীক্ষ্ণ চোখে খেয়াল করছে সে, বলটা যাচ্ছে বামে আর ব্যাট হাঁকাচ্ছে ডানে। আবার কখনো বলটা বাউন্স করে উপরে উঠে যাচ্ছে, অথচ ব্যাট পেতে দিচ্ছে গড়ানো বল আটকানোর মতো করে। এই অদ্ভুত ক্রিয়াকলাপ দেখে হিহি করে হাসছে আর চেঁচিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে অর্ক ভুলেই গেছে অথবা জানে না যে, তার অস্বাভাবিক দৃষ্টিতে যেগুলোকে অস্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে, আসলে ওগুলোই স্বাভাবিক। কিন্তু মন্তব্য সে করেই যাচ্ছে- হি হি হি, এই দেখছিস লাবিব, বল কোথায় আর ব্যাট করছে কোথায় ! এক্কেবারে কার্টুনের মতো লাগছে না ! হি হি হি হি...!&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘এই ছেলে !’ একটা আদেশঝরানো কণ্ঠে চমকে ওঠলো অর্ক। পাশেই দাঁড়ানো শক্তসমর্থ গড়নের লম্বাচওড়া ছেলেটি। পরনের ইস্কুলড্রেস বলে দিচ্ছে এ ইস্কুলেরই উপরের ক্লাসের ছাত্র। কে যেন তাকে রণিভাই বলে ডাকলো। কিন্তু সেদিকে খেয়াল না করেই কণ্ঠে সেই আদেশের সুর- ‘তুমি কোন্ ক্লাসে পড়ো ?’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ক্লাস ফাইভ।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;প্রাইমারী ক্লাসের ছাত্র হয়ে বড় ভাইদের সম্পর্কে এরকম মন্তব্য করতে তোমার লজ্জা হয় না ! স্যরি বলো !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আশেপাশে নানান ক্লাসের নানান ভঙ্গির ছাত্ররা, সবার মনোযোগ তখন এদিকে। এরই মধ্যে কিছু কিছু ছাত্রের জটলাও তৈরি হয়ে গেলো এখানে। অর্ক বুঝতে পারছে, হয়তো সে ভুল করেছে, শুধু একটা ‘স্যরি’ বললেই সবকিছু মিটে যাবে। কিন্তু এতোসব কৌতূহলী চোখের সামনে নিজেকে সে খুব অপমানকর অবস্থায় আবিষ্কার করলো। তাই উত্তরের মধ্যে সেই জেদ প্রকাশ পেলো- ‘স্যরি। কিন্তু আমি যা দেখেছি তাই বলেছি !’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;যা দেখেছি মানে !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;রণি’র কণ্ঠে বিস্ময়। এই দুর্বিনীত ছেলে বলে কী ! ক্রিকেটের ক্রিজে দাঁড়ানো যে কী জিনিস, এটা বুঝাতে ওকে তো তাহলে একটু শিক্ষা দিতে হয় ! তাই কিছুটা উত্তেজিত স্বরে বললো- তুমি কি পারবে এরকম এক ওভার বল ঠেকাতে ? হয় স্যরি বলো, না হয় ক্রিজে গিয়ে দাঁড়াও !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সতীর্থ কেউ কেউ রণিকে শান্ত করতে এগিয়ে এলো- বাদ দে তো, বাচ্চা ছেলে এসবের বুঝে কী ! ফাইভের ক্লাস-টিচার স্যারকে একটা কমপ্লেন জানিয়ে রাখলে হবে...।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ওদের কথা শেষ হবার আগেই অর্ক’র স্পষ্ট ঘোষণা- আমি ক্রিজে যাবো !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অর্ক’র তীক্ষ্ণ দৃষ্টি এ মুহূর্তে তীব্রবেগে ছুটে আসা ক্রিকেট বলটার উপর। স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে সে। ওপাশ থেকে রণি’র ছুঁড়ে দেয়া বলটা মাঝামাঝি দূরত্ব পার হয়ে এসে মাটিতে আছাড় খেলো। মুহূর্তের জন্য থমকে গেলো ওটা। তারপর আবার লাফ দিয়ে উঠে স্ট্যাম্প আগলে রাখা ব্যাট হাতে প্রস্তুত অর্ক’র দিকে আসতে লাগলো। তবে অর্ক নিশ্চিত হয়ে গেছে বলটা যে এখন আর স্ট্যাম্প বরাবর আসবে না। বলটা যেখানে আছাড় খেয়েছিলো সেখানের মাটি যে সমতল নয়, বরং একটু উঁচু নিচু ছিলো, কিংবা ছোটখাটো পাথরের কণায় হোঁচট খেয়েছে তা তো পরিষ্কার। কারণ সে দেখতে পাচ্ছে বলের গতিমুখ কিছুটা বেঁকে গেছে। অর্থাৎ অফ-সাইড বা পেছন দিক দিয়ে রেরিয়ে যাবে বলটা। তার হাতের মুঠো ব্যাটের হাতলটাকে আরো ভালোভাবে চেপে ধরেছে। বাঁ পা’টা এক স্টেপ এগিয়ে যেতে প্রস্তুত হয়ে গেছে। কেননা ইতোমধ্যে সে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে, বলটাকে ইস্কুলের বাউন্ডারির ওপারে পাঠাবে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;দর্শকদের মধ্যে তুমুল উত্তেজনা। এতোবড়ো ব্যাটটাকে তুলতে পারবে কি না এটাই যেখানে সন্দেহ, সেই পিচ্চি ছেলেটাই কিনা আন্তঃস্কুল প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ান বোলার রণি’র মারাত্মক পেস বলটাকে সোজা শূন্য দিয়ে বাউন্ডারীর বাইরে পাঠিয়ে দিলো ! রীতিমতো উল্লাস চলছে জুনিয়র শিবিরে, সিনিয়রদের মুখ থমথমে, চোখে অবিশ্বাস !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;দ্বিতীয় বল করতে প্রস্তুত রণি। মুখ চোখ পাথরের মতো কঠিন হয়ে আছে। প্রেস্টিজ ইস্যু। এমন স্নায়ুচাপে কখনো পড়েনি সে। বাংলাদেশ ক্রিড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপি’তে তাকে নেয়ার আলোচনা চলছে। একদিন জাতীয় দলে খেলবে এবং দেশের সেরা পেস-বোলার হবে, এই টইটম্বুর আত্মবিশ্বাসে টোকা লাগায় এবার সত্যি আগ্রাসী হয়ে উঠেছে সে। ঘুরেই বল হাতে দৌঁড়াতে শুরু করলো। হাত ও কাঁধের শিরা-উপশিরা পেশীগুলো সাপের ফণার মতো তড়পাচ্ছে যেন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ব্যাট হাতে প্রস্তুত অর্ক তীক্ষ্ণ চোখে রণি’র হাতের বলটাতে দৃষ্টি আটকে রেখেছে। সবকিছু স্লো-মোশন ছবির মতো ধীরলয়ে চলছে এখন। ভয় পাইয়ে দেয়ার মতো কী বিকট মুখ চোখ করে রণি ভাইয়াটা হাতটাকে চক্রাকারে ঘুরিয়ে উপর থেকে মুঠোয় ধরা বলটাকে সর্বশক্তিতে ঠেলা দিয়ে ছেড়ে দিলো। ছুটে আসা বলটাকে ঝাপসা ঝাপসা লাগছে। মাঝামাঝি দূরত্ব পেরিয়ে অনেকটা এগিয়ে এসে ওটা মাটিতে ধাক্কা খেয়ে ফের লাফ দিলো এবং সোজা তার পেট বরাবর আসতে লাগলো। ঝাঁকি দিয়েই শক্ত মুঠোয় ধরা ব্যাটটাকে উপরে তুলে বলটার ঠিক মুখোমুখি মেলে ধরবে সে। কী আশ্চর্য ! যেভাবে ভাবছে, হাত দুটো সেই দ্রুততায় ব্যাটটাকে তুলতে পারছে না ! বলটা উঠে আসা ব্যাটের হাতলের কানায় ঠক করে বাড়ি খেয়ে চকিতেই কোণাকুণি উপরের দিকে উঠে যেতে লাগলো।...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;খুব অস্বাভাবিক হলেও অর্ক তার তীক্ষ্ণ চোখের বিশেষ দৃষ্টিশক্তি দিয়ে রণি’র দ্বিতীয় বল করার দৃশ্যটাকে যেভাবে ধীর গতিতে প্রত্যক্ষ করছিলো, দর্শকদের চোখে এই ঘটনাই কিন্তু ধরা পড়লো স্বাভাকিক দ্রুততায়। তারা দেখতে পেলো আহত চিতার মতো সবেগে ছুটে এসে রণি তীব্রগতিতে ছুঁড়ে দিলো বলটাকে। চোখের পলকে ওপাশে অর্কের বাড়িয়ে দেয়া ব্যাটের সাথে সংঘর্ষ হতেই সোজা উপরের দিকে শূন্যে উঠে গেলো বলটা। এবং হতবাক হয়ে সবাই দেখলো ক্রিজের মধ্যে চিৎ হয়ে নিঃসাড় পড়ে আছে অর্ক নামের ছেলেটা ! আচমকা স্তব্ধতা কেটে যেতেই হৈ হৈ করে সবাই ছুটে গেলো মাঠের দিকে। খবর পেয়ে স্যারেরাও ছুটে এলেন। সাথে সাথে খোঁজ পড়লো এম্বুলেন্সের।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কিছুক্ষণ আগে জ্ঞান ফিরেছে অর্ক’র। সিস্টার এসে অক্সিজেন মাস্ক খুলে দিয়ে গেছে। বাঁ হাতে স্যালাইন চলছে এবং ক্রমেই সুস্থ হয়ে ওঠছে সে। কিন্তু আজ তার মন খারাপ। খুব ভালোভাবে খেয়াল করে দেখেছে, তীক্ষ্ণভাবে তাকালেও ফ্যানের গতিটা এখন একটুও কমছে না আর। আম্মুকে বলতেই কপালের ব্যান্ডেজটাতে হাত বুলাতে বুলাতে কী খুশি আম্মু ! কিন্তু অর্ক’র যে মশা-মাছি-পোকা-মাকড়ের ওড়াউড়ি, প্রজাপতির পাখা চালনা, কাকের দুষ্টুমি বা গুলতির পাথরটা কিভাবে আমের বোঁটায় গিয়ে আঘাত করে, ধীর গতিতে সেসব দৃশ্যের কিছুই আর মজা করে দেখা হবে না ! যদিও ডাক্তার আঙ্কেলের কথামতো তার স্বাস্থ্য আবার ভালো হয়ে ওঠবে। তাহলে আবার অনেক খেলাধূলা করতে পারবে সে। সহজে ক্লান্ত হবে না কিংবা জ্ঞানও হারাবে না। কিন্তু রণি ভাইয়ের মতো এমন চমৎকার ক্রিকেট কি খেলতে পারবে সে ? ইশ্, যদি পারতো ! ভাবতে না ভাবতেই কেবিনের দরজায় রণি’র মুখটা ভেসে ওঠলো। সাথে সাথে অর্ক’র চেহারাটাও উজ্জ্বল হয়ে ওঠলো। এখন থেকে সে রণি ভাই’র কাছে খেলা শিখবে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;শিয়রের কাছে আসতে না আসতেই অর্ক তার ডান হাত দিয়ে রণি'র হাতটা ধরে বললো- রণি ভাইয়া, আমি খুব স্যরি ! প্লীজ আমাকে...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;তার আগেই রণি তার অন্য হাত দিয়ে অর্ক’র মুখটা আলতো করে চেপে ধরে স্মিত হেসে মাথাটাকে এপাশ-ওপাশ নাড়াতে লাগলো। দুজনের কেউ টের পায়নি, অর্ক’র আম্মুর সাথে কুশল বিনিময় সেরে হেডস্যার কখন যে পেছনে এসে দাঁড়িয়েছেন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;(২০-০৭-২০০৯)&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;[&lt;i&gt;প্রকাশিত: শিশু কিশোর পত্রিকা মাসিক ‘টইটম্বুর’, অক্টোবর ২০০৯, বিশ্ব শিশু দিবস সংখ্যা&lt;/i&gt;]&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/ranadipam_basu/28099"&gt;sachalayatan&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/ranadipam/29030672"&gt;somewherein&lt;/a&gt; | &lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/group/chotodersomewherein/29030672"&gt;chotodersomewherein&lt;/a&gt;] &lt;br /&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-1468738417470142233?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/1468738417470142233/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=1468738417470142233' title='3 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/1468738417470142233'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/1468738417470142233'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_19.html' title='[ছোটদের গল্প...| অর্ক’র চোখ ]'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StyEMlp4YHI/AAAAAAAAGAg/CeKPF_vu1fY/s72-c/FreedomsFlight.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>3</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-8457393897380421438</id><published>2009-10-12T23:29:00.008+07:00</published><updated>2009-10-21T20:47:47.784+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Free-Article'/><title type='text'>| ‘দারিদ্র্য বিমোচনের বিরুদ্ধে’ সংগ্রাম !!!</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/St8Qm8zxUFI/AAAAAAAAGAo/tMBLreawB8Q/s1600-h/21102009%28002%29.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/St8Qm8zxUFI/AAAAAAAAGAo/tMBLreawB8Q/s400/21102009%28002%29.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| ‘দারিদ্র্য বিমোচনের বিরুদ্ধে’ সংগ্রাম !!!&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;খবরটাতে চমক আছে বলতেই হবে, ‘&lt;i&gt;১৭ অক্টোবর একই মঞ্চে বক্তব্য রাখবেন হাসিনা-খালেদা।&lt;/i&gt;’ আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বহুদিন ধরে দুই নেত্রী শেখ হাসিনা ও বেগম খালেদা জিয়ার মধ্যে যেখানে পরস্পর কথা বলা দূরে থাক্, মুখ দেখা-দেখিও বন্ধ থাকাটাই স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হয়ে আসছে, সেখানে দুই নেত্রী একই মঞ্চে অবস্থান করে বক্তব্য রাখবেন, বিষয়টার গুরুত্ব খাটো করে দেখার উপায় তো নেই-ই, জাতির কাছে এরকম বহুল কাঙ্ক্ষিত ঘটনা যে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটা সুবাতাস বইয়ে দেয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি করবে, নাগরিক হিসেবে আমাদের জন্যেও তা আশ্বস্ত হওয়ার ব্যাপার বৈ কি। এই বিরল ঘটনা কী করে সম্ভব হচ্ছে ? অনেকগুলো পত্রিকাতেই খবরটা এসেছে। ১২ অক্টোবর ২০০৯ তারিখের দৈনিক ‘সমকাল’ থেকে জানা যাচ্ছে যে আগামী ১৭ অক্টোবর ২০০৯ তারিখ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (প্রাক্তন চীন-মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্র) বিকেল ৩.০০টায় দারিদ্র্য বিমোচনে জাতিসংঘের মিলেনিয়াম ক্যাম্পেইনের অর্থসহায়তায় বাংলাদেশের সর্বদলীয় সংসদীয় গ্রুপ (এপিপিজি) আয়োজিত ‘দারিদ্র্য বিমোচন’ শীর্ষক অনুষ্ঠিতব্য এক বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইতোমধ্যে দুই নেত্রী উপস্থিত থাকতে রাজি হয়েছেন। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে বিরোধী দলীয় নেত্রী খালেদা জিয়া ভাষণ দেবেন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হচ্ছে &lt;b&gt;“দাঁড়াও, কাজ করো, দারিদ্র্য হটাও”&lt;/b&gt;। জাতিসংঘের সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এমডিজি) অনুসারে ২০১৫ সালের মধ্যে বাংলাদেশের অর্ধেক জনশক্তিকে দারিদ্র্যমুক্ত করার লক্ষ্যে দারিদ্র্য বিমোচনের বৈশ্বিক ক্যাম্পেইনকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতেই এই আয়োজন। জানা যায় জাতীয় সংসদের স্পীকার ও এপিপিজি চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করবেন। দুই নেত্রী ছাড়াও এখানে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, এপিপিজি’র দুই কো-চেয়ারম্যান ও সরকারি দলের চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ আবদুস শহীদ এবং বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকও বক্তব্য রাখবেন। এছাড়া নাগরিক কমিটির পক্ষ থেকে একজন বিশিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য দেয়ার কথা রয়েছে। পৃথিবীর বিভিন্ন দাতাদেশ ও সংস্থার প্রতিনিধি এবং কূটনীতিকরা এতে উপস্থিত থাকবেন। মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, অর্থনীতিবিদ, সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিক, পদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদেরও সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হবে। সম্মেলন উপলক্ষে দেশের প্রতিটি মহানগর ও জেলা সদরে বড় ধরনের সমাবেশের আয়োজন করা হবে। এইসব সমাবেশে উপস্থিত সুধীজনের সামনে সরাসরি সম্মেলনটি সম্প্রচার করে দেখানোর ব্যবস্থা করা হবে। জেলা প্রশাসনকে ওই সমাবেশ অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে খবরে প্রকাশ।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StNYUjQPOMI/AAAAAAAAGAI/KqR0C0A3pxU/s1600-h/12102009%28002%29.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" height="320" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StNYUjQPOMI/AAAAAAAAGAI/KqR0C0A3pxU/s320/12102009%28002%29.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এই সম্মেলনের জন্য যে বিশাল ও বর্ণিল আয়োজন করা হচ্ছে তাতে কোন সন্দেহ নেই। সবই ঠিক আছে। শুধু সন্দেহের একটা ‘কিন্তু’ যুক্ত হয়ে যায় যখন শোনা যায় যে দেশী-বিদেশী ছোট বড় এতো এতো আমন্ত্রিতদের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র নোবেল লরিয়েট প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের নাম নেই। অর্থাৎ তাঁকে এ সম্মেলনে অফিসিয়ালি আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে না। বড়ই মজার বিষয় ! ড. ইউনূসকে নিয়ে যার যার নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গিতে যত বিতর্কই থাকুক না কেন, কেউ কি এই নিশ্চয়তা দিতে পারবেন যে আমন্ত্রিত অতিথিরা সবাই গুণে-মানে-যোগ্যতায়-অবস্থানে ড. ইউনূসের চাইতে এগিয়ে ? তিনি কি কোন দেশদ্রোহী ? তাঁর বিরুদ্ধে কি অপরাধী হিসেবে গোটা কয়েক মামলা ঝুলে আছে ? না-কি কর ফাঁকি দিয়েছেন তিনি ? ব্যক্তি জীবনে অত্যন্ত সাদাসিধে সৎ ও বাহুল্যহীন জীবন যাপনকারী এই ব্যক্তিই যে জাতিসংঘে বা আন্তর্জাতিক বিশ্বে দারিদ্র্য বিমোচন বিষয়ক ভাবনাজগতে একটি উজ্জ্বল ও বিশেষ&amp;nbsp; আইকন হিসেবে উচ্চ মর্যাদা পেয়ে থাকেন, এটা কি অস্বীকার করা যাবে ? সম্প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা পদক ‘&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2009/08/blog-post_20.html"&gt;প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম’ প্রদান অনুষ্ঠানে&lt;/a&gt; আমেরিকায় তাঁর প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতদের কুটনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত নজিরবিহীন নির্লিপ্তির মধ্য দিয়ে বিদেশের মাটিতে যে রাষ্ট্রীয় হীনমন্যতা দেখানো হয়েছে, নিজের দেশে নিজ মাটিতেও সেই হীনমন্যতাই কি প্রকাশ করা হচ্ছে না ? ব্যক্তি বিরোধ, দলীয় বিরোধ, রাজনৈতিক বিরোধ বা তাত্ত্বিক বিরোধ কারো সাথে কারো হয়তো থাকতেই পারে। তাই বলে একজন যোগ্য নাগরিকের সাথে জাতীয় মান-সম্মান ভূলুণ্ঠিত হওয়ার মতো রাষ্ট্র পর্যায়ের বিরোধ কি হতে পারে ? তাহলে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দল মত নির্বিশেষে দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম কথাটা কি ফাঁকা বুলি হয়ে গেলো না !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেলুকাসের এতো বৈচিত্র্য-বিস্ময় এ দেশেই বুঝি সম্ভব। নিজে চোখ বন্ধ রেখে কেউ দেখছে না ভাবা কতোটা শুভ বুদ্ধির পরিচায়ক কে জানে, তথ্য-প্রযুক্তির আলোকবেগের কল্যাণে আমাদের এসব সুকৃত (!) অর্জন কি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কারো অজানা বা অপ্রকাশিত থাকছে ? ঢাকায় অবস্থানকারী বিভিন্ন দেশের এমবেসি বা হাইকমিশনগুলোও নিশ্চয়ই বসে বসে মূলো চিবুচ্ছে না বা ঘুমাচ্ছে না। এ জন্যেই কি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন এবং ভারতের কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী’কে সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তাঁরা নির্ধারিত অন্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির কারণ দেখিয়ে আমন্ত্রণ গ্রহণ করেন নি ? শোনা যায় &lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2009/08/blog-post_6001.html"&gt;নোবেল লরিয়েট অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন&lt;/a&gt; সহ বিশ্বপর্যায়ের আরো কাউকে কাউকে এ সম্মেলনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তাঁদের উপস্থিতি এই সম্মেলনকে অবশ্যই আরো ঐশ্বর্য্যময় ও ফলপ্রসূ করে তুলবে। এই দেশের নাগরিক হিসেবে আমরাও তা চাই।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু আমাদের সরকার কি সত্যি সত্যি দারিদ্র্য বিমোচনে আন্তরিক ? সন্দেহ হয়। কেননা ১২ অক্টোবর ২০০৯-এর দৈনিক ‘সমকাল’-এর প্রথম পাতায় ‘সামনের সারি ফাঁকা : স্পিকার ভীষণ ক্ষুব্ধ’ শীর্ষক আরেকটি প্রতিবেদন আমাদেরকে এ বিষয়ে সন্দেহবাতিক করে তুলে। সামনের সারিতে আসনের দাবিতে যখন জাতীয় সংসদের অধিবেশন বর্জন করছে বিরোধী দল, তখন কিনা চলমান অধিবেশনে সামনের সারিতে আসন পাওয়া সাংসদদেরকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ! প্রধানমন্ত্রী ছাড়া বাকি সিনিয়র সংসদ সদস্যদের এমন অনুপস্থিতি নিয়ে নাকি গত ১১ অক্টোবর ২০০৯ তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্পীকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। এ কারণে রোববার দিনের নির্ধারিত কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ‘দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র’ (পিআরএসপি) নিয়ে সাধারণ আলোচনা বাতিল করতে হয় ! &lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের পর অধিবেশন শুরুতেই স্পিকার আবদুল হামিদ বলেন- ‘&lt;i&gt;দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী প্রশ্নোত্তর পর্ব টেবিলে উত্থাপন করে দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলপত্র (পিআরএসপি) নিয়ে সাধারণ আলোচনার কথা ছিল। কিন্তু যারা আলোচনার জন্য তুমুল আগ্রহ দেখিয়েছিলেন তাদেরই অধিবেশন কক্ষে দেখা যাচ্ছে না। এমনকি যিনি আলোচনা উত্থাপন করবেন (অর্থমন্ত্রী) তিনিও নেই। সামনের সারির মন্ত্রী ও নেতারা অনুপস্থিত। প্রধান হুইপকেও দেখা যাচ্ছে না।’...&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;...‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি নিজে নির্ধারিত সময়ে সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত হতে পারলে মন্ত্রীরা পারবেন না কেন ? এটি আমি স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছি না। এভাবে তো চলতে পারে না।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;দৈনিক পত্রিকাগুলোয় চোখ বুলালেই এসব কতো বাহারি ঘটনার পরোক্ষ সাক্ষি হয়ে যাই আমরা। দারিদ্র্য বিমোচন হবে কি হবে না, সরকার এতে আন্তরিক কি-না, এসব নিয়ে বহু তর্ক-বিতর্ক হতে পারে বা হতে থাকবে। তবে এসব আলামতের মধ্যে একটা কাকতালীয় মুদ্রন-ত্রুটিতে চোখ পড়তেই প্রথমে চমকে উঠলাম। অতঃপর হাসতে হাসতে পেটে খিল পড়ার যোগার। সমকালের ‘একই মঞ্চে হাসিনা-খালেদা’ শীর্ষক প্রতিবেদনটির ১৭ পাতায় মুদ্রিত চতুর্থ লাইন থেকে উদ্ধৃত ত্রুটিপূর্ণ বাক্যটি কি সেরকম কোন আগাম আলামতেরই ইঙ্গিত দিচ্ছে-&lt;br /&gt;‘সম্মেলন থেকে ‘&lt;b&gt;দারিদ্র্য বিমোচনের বিরুদ্ধে&lt;/b&gt;’ ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার ‘শপথ’ও&amp;nbsp; নেবেন দুই নেত্রী।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;span style="font-family: SolaimanLipi; font-size: small;"&gt;…&lt;br /&gt;&lt;b&gt;অতিরিক্ত সংযুক্তি:&lt;/b&gt; আজ ১৭ অক্টোবর ২০০৯ তারিখের সমকালে প্রধান শিরোনামটি হচ্ছে ‘হঠাৎ কেন বেঁকে বসলেন খালেদা’। গতকাল আকস্মিক সংবাদ সম্মেলন করে বেগম খালেদা জিয়া শেখ হাসিনার সঙ্গে এক মঞ্চে উঠবেন না বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সাথে কিছু শর্তও জুড়ে দিয়েছেন। কেনইবা আমন্ত্রণ গ্রহণ, আর কেনইবা প্রত্যাখান ! বঙ্গদেশে সেলুকাস বড়ই বিচিত্র ! আহা দারিদ্র্য বিমোচন !&lt;/span&gt; &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/ranadipam_basu/27962"&gt;sachalayatan&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/ranadipam/29026985"&gt;somewherein&lt;/a&gt; | &lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/group/alternative/29026985"&gt;alternative&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://mukto-mona.com/banga_blog/?p=2797"&gt;mukto-mona&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-8457393897380421438?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/8457393897380421438/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=8457393897380421438' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/8457393897380421438'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/8457393897380421438'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_4771.html' title='| ‘দারিদ্র্য বিমোচনের বিরুদ্ধে’ সংগ্রাম !!!'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/St8Qm8zxUFI/AAAAAAAAGAo/tMBLreawB8Q/s72-c/21102009%28002%29.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-7497212763203192338</id><published>2009-10-12T00:31:00.005+07:00</published><updated>2009-10-17T12:55:27.337+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Free-Article'/><title type='text'>| হঠাৎ হুক্কা-হুয়া রব ছাড়িয়া নিজের পরিচয় প্রকাশ করিলো...!</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StIV0e-kA8I/AAAAAAAAGAA/2WMmU1NNq3M/s1600-h/6523.1236785809.Desh-10.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" height="320" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StIV0e-kA8I/AAAAAAAAGAA/2WMmU1NNq3M/s320/6523.1236785809.Desh-10.jpg" width="320" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&lt;b&gt;| হঠাৎ হুক্কা-হুয়া রব ছাড়িয়া নিজের পরিচয় প্রকাশ করিলো...!&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;&amp;nbsp;রণদীপম বসু&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;‘&lt;a href="http://www.amardeshbd.com/dailynews/pdfgen/gen_amardesh.php?pages=pdfGen&amp;amp;NewsID=242108"&gt;প্রশাসনে সংখ্যালঘুদের ব্যাপক মূল্যায়ন&lt;/a&gt;’। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রথম পৃষ্ঠায় বেশ বড় হরফে এই শিরোনামের রিপোর্টটি পড়ে হোঁচট খেলাম প্রথমেই। এরপর অনেকগুলো প্রশ্ন মনে উঁকি দিতে থাকলো। তবে সবার আগে যে প্রশ্নটি এলো তা হলো- সংবাদপত্র কেন ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সংবাদপত্র কেন ? আদৌ কি আমাদের সংবাদপত্রের প্রয়োজন আছে ? এই যুগে এসে এরকম অদ্ভুত প্রশ্নে যে-কেউ বিস্মিত হতেই পারেন। তাতে করে প্রশ্নের গুরুত্ব হারিয়ে যাবে না। প্রশ্ন তার অবস্থানে ঠিকই থেকে যাবে। হযতো একটু ইনিয়ে বিনিয়ে এই প্রশ্নগুলোই অন্যভাবে করা হবে- সংবাদপত্র আমাদেরকে কী দেয় ? এতে হয়তো কেউ কেউ বিরক্ত হবেন- এটা কোন নতুন প্রশ্ন হলো ! তবু পুরনো প্রশ্নই কখনো কখনো নতুন করে ছুঁড়তে হয় বৈ কি। সত্যি করে বলুন তো, সংবাদপত্র আমাদেরকে আসলে কী দেয় ? কেউ হয়তো বলবেন, কেন, সমসাময়িক উল্লেখযোগ্য ঘটনাবলি আমাদের দৃষ্টিগ্রাহ্যতায় এনে দেয়। কেউ বলবেন বিভিন্ন তথ্য উপাত্তের যোগান দেয। কেউ বলবেন যে আমাদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। কেউ বলবেন আনন্দ দেয় বিনোদন দেয়, কেউ বলবেন রাষ্ট্র ও সমাজের নানান অসংগতি অনাচার তুলে ধরে অন্যায় ও অবিচারের প্রতিবাদ করে। আবার কেউ কেউ হয়তো বলবেন আলু দেয়, বাঁশ দেয়, কাঁচকলা দেয় ইত্যাদি ইত্যাদি। কেউ আবার ফোঁড়ন কাটতে পারেন- বিজ্ঞাপনও দেয়। সবার কথাই সত্যি। সংবাদপত্র আমাদেরকে এ সবই দিতে পারে এবং দেয়ও। তবে দেয়ার প্রক্রিয়া, বিষয় আর উদ্দেশ্যের ভিন্নতার কারণে উপস্থাপন বৈগুন্যে যা দেয়া হয় তা কি আর তা-ই থাকে ? এসব ভিন্নতার মাধ্যমেই পাঠকের কাছে প্রতিটা সংবাদপত্রের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যও নির্দিষ্ট হয়ে যায়। সচেতন পাঠক মাত্রেই চোখ বন্ধ করে বলে দিতে পারেন ওটা বিনোদন পত্রিকা, ওটা অপরাধ পত্রিকা, ওটা সাহিত্য পত্রিকা, ওটা কৌতুক পত্রিকা, ওটা চিন্তাজীবী পত্রিকা, ওটা ফালতু পত্রিকা, ওটা কাজের পত্রিকা, ওটা তদবিরি বা দলীয় পত্রিকা এসব। এক্ষেত্রে আমাদের জাতীয় দৈনিক পত্রিকাগুলোর যে কৃতিত্বটা স্বীকার করতে হবে তা হলো, সব ধরনের বিষয় বা বিষয় বৈচিত্র্যকে ধারণ করে একই অঙ্গে এই পত্রিকাগুলো এতো&amp;nbsp; রূপের মিশ্রন ঘটিয়েছে যে, একজন সাধারণ নাগরিককে আর ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ের পত্রিকা না রাখলেও চলে। একটি দৈনিক থেকেই সব ধরনের টেস্ট চেখে নেয়া সম্ভব। খবর, তথ্য, বিনোদন, সাহিত্য, মতামত ইত্যাদি হরেকরকম বিষয়ে পাঠকরুচির সমন্বয় ও সমাবেশ ঘটাতে আজকাল দৈনিকগুলোর এতো আয়োজন দেখে অনেকেই হয়তো মুগ্ধ-বিস্ময়ে ভাবতেও পারেন, আহা, পাঠক-সন্তুষ্টির জন্য এরা কতো কিছুই না করছে ! পারলে জানটাও দিয়ে দেয় আর কি ! আসলেই কি তা-ই ? আমাদের অধিকাংশ দৈনিকের জন্মেতিহাস তো তা বলে না।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;জন্মেতিহাস জেনে তারপর পত্রিকা পড়তে হবে এমন দায় সাধারণ পাঠকের নেই বা থাকেও না। কিন্তু অসংখ্য অপরাধকর্মের মাধ্যমে রাতারাতি আঙুল ফুলে কলাগাছ এবং তারপরে বটগাছে পরিণত হয়ে সেসব অপরাধ ধামাচাপা দিতে অন্যায় প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্য নিয়ে যারা পত্রিকা বের করেন, তারা পত্রিকার মাধ্যমে সমাজসেবা করবেন বা পাবলিককে জ্ঞানী গুণী সভ্য বানিয়ে তোলার মহৎ কর্মে ব্রতী হবেন এমনধারা চিন্তা করে কেউ বোকার স্বর্গে বাস করতে চাইলে করুন। তবে পত্রিকা মালিকের স্বার্থের এক কানাও ক্ষতি হয়েছে এ ধরনের কোন ভালো উদ্যোগ গ্রহণ বা আয়োজন করার নজির কোন পত্রিকা কি আজো সৃষ্টি করতে পেরেছে ? কিন্তু এদের ভেতরের উদ্দেশ্য তো বাইরে থেকে নিরীহ পাঠকের বোঝার কোন উপায় নেই। ফলে পাঠকের বিভ্রান্তি কাটারও কোন সুযোগ থাকে না যে, কোন কোন পত্রিকা কী কৌশলে তাদের হীন উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কিভাবে পাঠকমনে ফের সাম্প্রদায়িকতা ছড়ানোর স্লো-পয়জনিং এর মতো হীন কর্মে নিয়োজিত রয়েছে। তার একটি নমুনা হলো শুরুতেই উল্লেখ করা ‘&lt;a href="http://www.amardeshbd.com/dailynews/detail_news_index.php?NewsID=242108&amp;amp;NewsType=bistarito&amp;amp;SectionID=home"&gt;প্রশাসনে সংখ্যালঘুদের ব্যাপক মূল্যায়ন&lt;/a&gt;’ শীর্ষক রিপোর্টটি। ১১ অক্টোবর ২০০৯ তারিখের দৈনিক ‘আমার দেশ’ পত্রিকায় প্রতিবেদক কাদের গনি চৌধুরীকৃত রিপোর্টটি পড়লে মনে হবে বাংলাদেশে আদতে কোন মানুষ নেই, আছে মুসলমান ও সংখ্যালঘু। আর সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যেও কোন বাঙালি নেই, আছে সেই মুসলমান ও সংখ্যালঘুই। এরকম জঘন্য সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন রিপোর্টটির উল্লেখযোগ্য অংশ এরকম-&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;i&gt;‘জনপ্রশাসনের পদোন্নতিতে এবার সংখ্যালঘুদের ব্যাপক মূল্যায়ন করা হয়েছে। যুগ্ম সচিব পদে এবার নজিরবিহীনভাবে ৭৯ শতাংশ সংখ্যালঘু সরকারি কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন। আর মুসলমানরা পেয়েছেন মাত্র ৩৯ শতাংশ।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;সংস্থাপন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রশাসনের ৮৪ ব্যাচের ১২০ জন কর্মকর্তা এবার যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পান। অনেকে সুপারসিডেড হওয়ায় পদোন্নতি তালিকায় সর্বশেষ স্থান পাওয়া কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম লস্কর-এর সিরিয়াল নম্বর ২৬৭। এ ২৬৭ জন কর্মকর্তার মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৩৮ জন রয়েছেন। এ ৩৮ জনের মধ্যে ৩০ জনই এবার যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পেয়েছেন। সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের পদোন্নতির হার ৭৯ শতাংশ। অপরদিকে ২২৯ জন মুসলমান কর্মকর্তার মধ্যে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে ৯০ জনকে। বাদ পড়েছেন ১৩৯ জন। মুসলমান কর্মকর্তাদের পদোন্নতির হার মাত্র ৩৯ শতাংশ। এটি পদোন্নতি পাওয়া শেষ কর্মকর্তার সিরিয়াল হিসাব করে বের করা হয়েছে।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি ফিটলিস্টে যেসব কর্মকর্তার নাম রয়েছে তা হিসাব করলে মুসলমান কর্মকর্তাদের পদোন্নতির হার আরও কমে যাবে। শুধু তা-ই নয়, যুগ্ম সচিব হিসেবে অন্যান্য ক্যাডারদের আরও ১০ সংখ্যালঘু কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে অন্যান্য ক্যাডারের মাত্র ৩৩ জন মুসলমান কর্মকর্তা পদোন্নতি পেয়েছেন।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতির জন্য তৈরি ফিটলিস্ট বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এ লিস্টের প্রথম ১০০ জনের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ১২ জন কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের সবাইকে এবার পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। প্রথম ১০০ জনে সুপারসিডেড হয়েছেন ৬১ জন। তারা সবাই মুসলমান। এমনকি পদোন্নতি তালিকায় একনম্বরে থেকেও সুপারসিডেড হলেন এসএম মফিদুল ইসলাম। অত্যন্ত মেধাবী এ সরকারী কর্মকর্তা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন এবং মুখে দাড়ি আছে বলে তাকে জামায়াত সমর্থক আমলা আখ্যা দিয়ে পদোন্নতিবঞ্চিত করা হয়। পদোন্নতির ফিটলিস্ট বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একজনকে পদোন্নতি দেয়ার পর তার পরের সিরিয়ালে যেসব মুসলমান কর্মকর্তা রয়েছেন তাদের বাদ দেয়া হয়, আবার পেছনে গিয়ে যেখানে সংখ্যালঘু কর্মকর্তা রয়েছেন তাকে বা তাদের পদোন্নতি দিয়ে পরবর্তী মুসলমান কর্মকর্তাদের নাম বাদ দেয়া হয়।’.......&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;&lt;br /&gt;&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;...‘সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের যে ৮ কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব হিসেবে পদোন্নতি পাননি এদের মধ্যে ২ জন বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন, ২ জনের পদোন্নতির জন্য প্রয়োজনীয় মার্কস ছিল না এবং বাকি ৪ জনকে বিএনপিপন্থী হিসেবে চিহ্ণিত করে পদোন্নতি দেয়া হয়নি বলে সূত্র জানায়।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;অতিরিক্ত সচিব হিসেবে ৭ সেপ্টেম্বর পদোন্নতি দেয়া হয় ৬০ জনকে। তাদের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের ১৩ জন পদোন্নতি পান। বর্তমানে জনপ্রশাসনে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ৬৮ জন কর্মকর্তা যুগ্ম সচিব ও একই পদমর্যাদায় কর্মরত আছেন।&amp;nbsp; উপসচিব হিসেবে পদোন্নতি দেয়া হয় ২৭১ জনকে। তাদের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন ৫০ জন। সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে জনপ্রশাসনে কর্মরত আছেন ৯৬ জন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;সংস্থাপন মন্ত্রণালয়ের এক হিসাবে দেখা যায়, বর্তমানে জনপ্রশাসনে ৪ হাজার ৫৩০ জন কর্মকর্তা কর্মরত। তাদের মধ্যে ৪ হাজার ১১১ জন মুসলমান এবং ৪১৯ জন সংখ্যালঘু। ৬৩ জন সচিবের মধ্যে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের রয়েছেন ৩ জন। ১৮৫ জন অতিরিক্ত সচিবের মধ্যে ২২ জন সংখ্যালঘু, ৪৩৩ জন যুগ্ম সচিবের মধ্যে ৬৮ জন, ১ হাজার ৩৮৬ জন উপসচিবের মধ্যে ১৭০ জন, ১ হাজার ৪৮৮ জন সিনিয়র সহকারী সচিবের মধ্যে ৯৬ জন এবং ৯৭৫ জন সহকারী সচিবের মধ্যে ৬০ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কর্মকর্তা রয়েছেন।’&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;রিপোর্টটি পড়ার পর প্রথমেই যে প্রশ্নটা উঁকি দিলো তা হলো, এই স্বাধীন দেশে খুব নিকৃষ্ট সাম্প্রদায়িকতা দোষে দুষ্ট এরকম একটা লেখা ছাপানোর অভিরুচি কোন পত্রিকার থাকতে পারে কি না ? অথচ এই ‘আমার দেশ’ পত্রিকার প্রথম পাতার লোগোর সাথে যে শ্লোগানটি মুদ্রিত হয়, তা হলো ‘স্বাধীনতার কথা বলে’। স্বাধীনতার কথা বলার চমৎকার নমুনা বৈ কি ! এরপরই যে প্রশ্নটি এলো, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে কোন নাগরিককে কেউ সংখ্যালঘু চিহ্ণিত করে কটাক্ষ করার অধিকার সংরক্ষণ করেন কিনা ? এই রাষ্ট্রের নাগরিক যোগ্যতা যাচাই ও মূল্যায়নের ক্ষেত্রে কি কোন নাগরিককে বাঙালি&amp;nbsp; বা বাংলাদেশি হতে হয়, না কি মুসলমান হতে হয় ? এই গোটা রিপোর্টটিতে কোথাও সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে যোগ্যতার মাপকাঠি কী বা দায়িত্ব পালনে অযোগ্য কেউ মূল্যায়িত হলেন কিনা তা সুস্পষ্টভাবে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। কেবল রাষ্ট্রীয়ভাবে ধর্মীয় সংখ্যালঘুত্বকেই মূল্যায়নের মানদণ্ড হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে এবং এক্ষেত্রে সংখ্যালঘুত্বকেই কটাক্ষ বা অপমান করা হয়েছে। ব্যক্তির যোগ্যতা যাচাইয়ের মানদণ্ড কি সংখ্যালঘুত্বের অনুপাত ? এই রিপোর্টে রীতিমতো সংখ্যালঘু কর্মকর্তাদের নামের তালিকাও দেয়া হয়েছে। ওখানে একজন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর নাম রয়েছে। প্রতিবেদকের যে হীন মানসিকতা প্রতিবেদনে প্রতিফলিত হয়েছে, তাতে তাঁর দৃষ্টিতে মুসলমান কর্মকর্তাদের শতকরা ৩৯ জনের বিপরীতে বৌদ্ধধর্মাবলম্বীদেরকে তো শতকরা ১০০ ভাগ পদোন্নতি দেয়া হয়ে গেছে। তিনি তো বহুভাবে বিভিন্ন অংক কষে গণিতে তাঁর দক্ষতা দেখিয়ে দিয়েছেন। আনুপাতিক হার সমান করে তিনি এটাও দেখিয়ে দিতে পারতেন ক’জন হিন্দু, ক’জন বৌদ্ধ বা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেয়া দরকার ছিলো। সাথে সাথে বিগত বিএনপি-জামায়াত সরকার আমলের এরকম একটা লিস্টি এনে তুলনামূলক চিত্র হাজির করতে পারতেন এই বলে যে, দেখেন সেই সরকারের আমলে পদোন্নতির অনুপাত কতো যত্ন করে ঠিক রাখা হয়েছিলো।&amp;nbsp; সাংবাদিকতার মতো মহান পেশাটাতেও যে সাম্প্রদায়িকতার মতো জঘন্য নোঙরামি তলে তলে কতো জমা হয়ে যাচ্ছে, এই প্রতিবেদনটা&amp;nbsp; তার অন্যতম উৎকৃষ্ট নমুনা হিসেবে অক্ষয় হয়ে রইলো। এসব নিন্দাযোগ্য হীন প্রবণতাগুলোকে চিহ্ণিত করেই বোধহয় প্রয়াত হুমায়ুন আজাদ তাঁর প্রবচনগুচ্ছের ৬২ নম্বর প্রবচনটি লিখেছিলেন এভাবে- ‘এদেশের মুসলমান এক সময় মুসলমান বাঙালি, তারপর বাঙালি মুসলমান, তারপর বাঙালি হয়েছিলো; এখন আবার তারা বাঙালি থেকে বাঙালি মুসলমান, বাঙালি মুসলমান থেকে মুসলমান বাঙালি, এবং মুসলমান বাঙালি থেকে মুসলমান হচ্ছে। পৌত্রের ঔরষে জন্ম নিচ্ছে পিতামহ।’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সুন্দরের প্রতি সহজাত দুর্বলতার কারণেই আমরা সুন্দর সুন্দর কথা আর বুলি শুনে কতো মুগ্ধ হয়ে পড়ি। আমাদের দৈনিক পত্রিকাগুলোর লোগোর সাথে মুদ্রিত এরকম কতো চমৎকার চমৎকার কথা মুদ্রিত রয়েছে। যেমন ‘প্রথম আলো’- প্রচেষ্টার ১০ বছর, ‘জনকণ্ঠ’- স্বাতন্ত্র্য ও নিরপেক্ষতায় সচেষ্ট, ‘যায় যায় দিন’- পনের কোটি মানুষের জন্য প্রতিদিন, ‘সংবাদ’- প্রকাশনার ৫৯ বছর, ‘ইনকিলাব’- শুধু দেশ ও জনগণের পক্ষে, ‘ভোরের কাগজ’- মুক্ত প্রাণের প্রতিধ্বনি, ‘মানবজমিন’- কারও তাঁবেদারি করে না, ‘ইত্তেফাক’- ৫৬ পেরিয়ে আস্থায় শীর্ষে, ‘যুগান্তর’- সত্যের সন্ধানে নির্ভীক, ‘আমাদের সময়’- নতুন ধারার দৈনিক, ‘নয়াদিগন্ত’(সাতরঙ)- সময়ের সাথে সময়ের আগে, ‘সমকাল’- অসঙ্কোচ প্রকাশের দুরন্ত সাহস এবং ‘আমার দেশ’- স্বাধীনতার কথা বলে, ইত্যাদি। &lt;br /&gt;কিন্তু কোন্ মধু-বুলির আড়ালে কী বিষাক্ত কামড় অপেক্ষা করে আছে, দৈনিক পত্রিকার সাধারণ পাঠক হিসেবে আমাদের যাচাই করার কোন উপায় জানা আছে কি ? আমাদেরকে হঠাৎ করে হুক্কা-হুয়া ডাক শুনেই যেমন কোন কিছুর উপস্থিতির প্রমাণ জানতে হয়, তেমনি পত্রিকায় প্রকাশিত এইরকম বিশেষ বিশেষ প্রতিবেদন থেকেই বুঝে নিতে হয় পত্রিকাটির লক্ষ্য, চিন্তাধারা বা দৃষ্টিভঙ্গি কী। ‘আমার দেশ’ পত্রিকাটির প্রিন্টার্স লাইনে ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবে নাম রয়েছে মাহমুদুর রহমান। সম্পাদকের অনুমতি বা নির্দেশ ছাড়া তো&amp;nbsp; কোন বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গিসম্পন্ন প্রতিবেদন পত্রিকায় প্রকাশ করার কথা নয়। উল্লেখিত প্রতিবেদনটিও যে সম্পাদকের স্পেশাল নির্দেশ ছাড়া তৈরি হয় নি তা কোন নির্বোধও না বুঝার কথা নয়। ‘আমার দেশ’ পত্রিকাটির প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, এটা নিশ্চয় একজন পাঠক ও রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে জানার অধিকার আমরা সংরক্ষণ করি। আর এ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের ভূমিকাই বা কী, তা কি কেউ বলবে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;[&lt;b&gt;অতিরিক্ত সংযুক্তি: এটা আঁৎকে ওঠার মতো খবর কিনা বুঝতে পারছি না। ১&lt;a href="http://www.prothom-alo.com/detail/date/2009-10-11/news/11580"&gt;১ অক্টোবর ২০০৯ এর ‘প্রথম আলো’র&lt;/a&gt; খবরটায় বলা হচ্ছে যে, রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এহতেশাম উল হক-এর জঙ্গীবাদের সাথে সংশ্লিষ্ট থাকার অভিযোগে তাৎক্ষণিকভাবে রংপুর ৬৬ ডিভিশনের জিওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে। ২০০১ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর সিলেটে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টাকারী জঙ্গি মাসুদ আহমেদ শাকিল ওরফে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিবের নামে জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার বিষয় উঠে এসেছে। মজার বিষয় হলো রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান তাঁকে গত ২৫ মার্চ ২০০৯ তারিখে মেজর জেনারেল হিসেবে র‌্যাঙ্ক পরিয়ে দিয়েছিলেন। সেলুকাস আসলেই বিচিত্র !&lt;/b&gt;]&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/ranadipam_basu/27945"&gt;sachalayatan&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/ranadipam/29027223"&gt;somewherein&lt;/a&gt; | &lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/group/alternative/29027223"&gt;alternative&lt;/a&gt;] &lt;br /&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-7497212763203192338?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/7497212763203192338/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=7497212763203192338' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/7497212763203192338'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/7497212763203192338'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_12.html' title='| হঠাৎ হুক্কা-হুয়া রব ছাড়িয়া নিজের পরিচয় প্রকাশ করিলো...!'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StIV0e-kA8I/AAAAAAAAGAA/2WMmU1NNq3M/s72-c/6523.1236785809.Desh-10.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-6953199542812128233</id><published>2009-10-10T14:39:00.004+07:00</published><updated>2009-10-10T14:54:10.823+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Megapixel'/><title type='text'>| দুই-মেগাপিক্সেল...| পাখির চোখে |</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA1-WxoQtI/AAAAAAAAF_I/HauwAzeA-hY/s1600-h/15042009_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA1-WxoQtI/AAAAAAAAF_I/HauwAzeA-hY/s320/15042009_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;b&gt;| দুই-মেগাপিক্সেল...| পাখির চোখে |&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;i&gt; রণদীপম বসু&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;(০২)&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সেই যে-মানব একদিন ডানা মেলে ভেসে থাকা পাখিটার দিকে মুখ তুলে তাকালো গভীরভাবে, সেদিনই তার মনে জেগে উঠলো উড়ার বাসনা। সাধ জাগলো বিশ্বটাকে পাখির চোখে দেখার। কিন্তু সে তো উড়তে জানে না ! তাই বলে কি থেমে থাকবে ? মানুষ থেমে থাকে না কখনো। ডানা নেই তবু ডানার সাহসে বাইতে শিখলো ঠিকই।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সেও কি এভাবে কল্পনা করেছিলো, অনেক উঁচু দালানের কার্নিশে বসে শ্রান্ত পাখিটা ওই দূরের মিরপুর ভাসানী স্টেডিয়ামটাকে কি এভাবেই দেখে ?&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA2gpPjLHI/AAAAAAAAF_Q/U-0LOX3hn-o/s1600-h/25112008_Mirpur1_Dhaka_photo_RanadipamBasu-2.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA2gpPjLHI/AAAAAAAAF_Q/U-0LOX3hn-o/s320/25112008_Mirpur1_Dhaka_photo_RanadipamBasu-2.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;(০৩)&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;মানুষের স্বপ্ন একধরনের উড়ালই তো। উড়তে না জানলে কী হবে, স্বপ্নের পাখায় ভর করে উড়ে চলা জীবন পেরিয়েই আমরা সবাই বড় হয়ে উঠি। নিজেকে ধারণ করে রাখা নিস্তেজ ছাদের আড়াল থেকে বাইরের পৃথিবীটা কতো বড় হয়ে যায় স্বপ্নীল চোখে ! আহা, যদি একজোড়া ডানা থাকতো ! এই ডানার স্বপ্নে বিভোর শৈশব তার কচি কচি চোখ মেলে জড়িয়ে নেয় পৃথিবীটা, যতদূর চোখ যায়। আর বড় হয়ে উঠা আমাদের অক্ষম স্বপ্নহীনতাগুলো ফের স্বপ্ন দেখে আরেকটা শৈশবকে ঘিরে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA3F_JqqNI/AAAAAAAAF_Y/Hmm4v8VhIIo/s1600-h/22022009_Dream_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA3F_JqqNI/AAAAAAAAF_Y/Hmm4v8VhIIo/s320/22022009_Dream_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;(০৪)&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ভাড়াটে হিসেবে ছাদে উঠতে না পারার কষ্টটা সমব্যথীরাই পারেন অনুভব করতে। নিজেকে কেমোন খুপড়ি-পুরা খুপড়ি-পুরা মনে হয় ! এই যে দালানের ছাদে চড়া, তা কি কেবলই বন্ধনহীন খোলামেলা বাতাসে হাঁফ ছেড়ে বাঁচার আনন্দ ? অন্য কিছু নয় ? মনে হয় না শুধু তা-ই। আসলে এটাও এক ধরনের উড়ার আনন্দই বলা যায়। ভিন্নভাবে, ভিন্নরূপে। নিজেকে অনেক উপরে তুলে পাখির চোখে দেখা পাশের নিচু ছাদগুলোও তখন কতো নির্মল সুন্দর হয়ে উঠে !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA3u6wJVgI/AAAAAAAAF_g/zDaPYM5xaOo/s1600-h/25112008_Mirpur02_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA3u6wJVgI/AAAAAAAAF_g/zDaPYM5xaOo/s320/25112008_Mirpur02_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;(০৫)&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;ছবির এ দৃশ্যটাও পাল্টে যাবে ক’দিন পর। ফাঁকা জায়গাটুকু আর ফাঁকা থাকবে না। বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেইনিং একাডেমি মিরপুরের উঁচু দালানটাও হয়তো আড়ালে চলে যাবে পাশে নির্মিয়মান বহুতল কিডনী ফাউন্ডেশানের সু-উচ্চ স্থাপনার ছায়ায়। ছবিতে হয়তো শোনা যাবে না, তবু কল্পনা করলে ঠিকই শোনা যায় যন্ত্রসভ্যতার সেই একটানা ঘরঘর ঘরঘর ঘররঘর ঘরঘর...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA4TMtlUHI/AAAAAAAAF_o/nSfFubLV_Vo/s1600-h/22022009_Mirpur03_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA4TMtlUHI/AAAAAAAAF_o/nSfFubLV_Vo/s320/22022009_Mirpur03_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;(০৬)&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;একুশ তলার কোন জানালা দিয়ে দেখা মিরপুর দুই-এর এই দৃশ্যটাও একদিন এরকম থাকবে না আর। অন্য কোন দৃশ্যের অতলে তা স্মৃতি কিংবা বিস্মৃতির ভাঙা টুকরো হয়ে কালের অক্ষরে গেঁথে যাবে। একটানা দীর্ঘদিন এরকম একটুকু ফাঁকা স্থান এই মহানগরী ঢাকায় দৃশ্যমান থাকার কথা কোন গাধাও বিশ্বাস করবে না। ধীরে ধীরে দমবন্ধ মৃত্যুপুরীর দিকে এগিয়ে যাওয়া ঢাকার আগামী দিনের প্রতি ইঞ্চি ভূমির সুযোগ্য ব্যবহারকারী কোন সুযোগ্য নাগরিক হয়তো এরকম ছবি দেখে চমকে উঠবে ! বলতেও পারে- কোন্ গাধায় তুলেছিলো এরকম কাল্পনিক দৃশ্য !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA4x6BsjHI/AAAAAAAAF_w/9801ScrnehE/s1600-h/22022009_Mirpur04_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA4x6BsjHI/AAAAAAAAF_w/9801ScrnehE/s320/22022009_Mirpur04_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;(০৭)&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সেদিন হয়তো এরকম ছাদ ফুঁড়েই আকাশ দেখে আগামীর কোন শিশু চিৎকার করে উঠবে- দেখো দেখো, আকাশটা কেমন নীল ! অসহ্য ! &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA5H9k3JsI/AAAAAAAAF_4/JKO7yvDX6m4/s1600-h/16062009_Sky_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA5H9k3JsI/AAAAAAAAF_4/JKO7yvDX6m4/s320/16062009_Sky_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;আমাদের আকাশগুলো সত্যি কি হারিয়ে যাবে...!&lt;br /&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-6953199542812128233?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/6953199542812128233/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=6953199542812128233' title='1 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/6953199542812128233'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/6953199542812128233'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_1129.html' title='| দুই-মেগাপিক্সেল...| পাখির চোখে |'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StA1-WxoQtI/AAAAAAAAF_I/HauwAzeA-hY/s72-c/15042009_photo_Ranadipam_Basu.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>1</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-2304059123017167957</id><published>2009-10-10T11:41:00.007+07:00</published><updated>2009-10-20T00:23:58.218+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Megapixel'/><title type='text'>| দুই-মেগাপিক্সেল...| আইডেনটিটি |</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StAQLTZ0xKI/AAAAAAAAF-4/qYMMTtzCrpE/s1600-h/03082009_photo1_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StAQLTZ0xKI/AAAAAAAAF-4/qYMMTtzCrpE/s320/03082009_photo1_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;b&gt; | দুই-মেগাপিক্সেল...| আইডেনটিটি |&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; রণদীপম বসু&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অর্থনীতির হিসাবে ওরা এসেছে বিশ্বের অন্যতম সেরা শক্তিশালী রাষ্ট্রটি থেকে। জাপান। তারুণ্যে ভরপুর এদেরকে দেখলেই বুঝা যায় কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বা সেদেশের স্কুল পড়ুয়া ছাত্রছাত্রী। উচ্ছল প্রাণ-চাঞ্চল্য সাথে নিয়ে বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশটিতে এসেছে বেড়াতে কিংবা কোন শিক্ষা সফরে, হয়তো অভিজ্ঞতা অর্জন বা কোন গবেষণা সন্দর্ভ তৈরির জন্য। এ-সবই ধারণা। কিন্তু ছবি যা বলে, তা হয়তো ধারণা নয়। সফরের প্রামাণ্য হিসেবে ডিজিটাল আলোয় যে অভিজ্ঞতাটুকু তাদের মুঠোবন্দী হচ্ছে, তা আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StARUiuHWzI/AAAAAAAAF_A/2pykR7x-N3s/s1600-h/03082009_photo2_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StARUiuHWzI/AAAAAAAAF_A/2pykR7x-N3s/s320/03082009_photo2_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;একদিন হয়তো তাদের অভিজ্ঞতার এই আলো কিংবা অন্ধকার টুকরোগুলো ছড়িয়ে পড়বে অন্তর্জালিক বিশ্বের প্রতিটা ডিজিটাল কোণায়; ক্যাপশানে হয়তো লেখা থাকবে বোধ্য বা অবোধ্য ভাষায়- এই দেখো বাংলাদেশ !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আমার দুখিনী বাংলা, তোমার উদোম গতর এখনো উন্মুক্ত; নগ্ন, এক টুকরো কাপড়ের আশায়। ক্ষুধায় আর্ত হাত যে সাদা-কালো বুঝে না, খুঁজে শুধু এক বেলার আহারের আশ্বাস.. !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/ranadipam_basu/27565"&gt;sachalayatan&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/ranadipam/29028755"&gt;somewherein&lt;/a&gt; | &lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/group/alternative/29028755"&gt;alternative&lt;/a&gt;] &lt;br /&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-2304059123017167957?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/2304059123017167957/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=2304059123017167957' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/2304059123017167957'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/2304059123017167957'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_526.html' title='| দুই-মেগাপিক্সেল...| আইডেনটিটি |'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/StAQLTZ0xKI/AAAAAAAAF-4/qYMMTtzCrpE/s72-c/03082009_photo1_Ranadipam_Basu.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-9175031946126610865</id><published>2009-10-10T04:25:00.001+07:00</published><updated>2009-10-10T04:30:49.225+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Megapixel'/><title type='text'>| দুই-মেগাপিক্সেল...| বঙ্গভবন |</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-ohrrxAxI/AAAAAAAAF-Q/pUoAo8TNJ9M/s1600-h/23092009_Bangabhaban4_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-ohrrxAxI/AAAAAAAAF-Q/pUoAo8TNJ9M/s320/23092009_Bangabhaban4_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;b&gt;| দুই-মেগাপিক্সেল...| বঙ্গভবন |&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&amp;nbsp; &lt;i&gt;রণদীপম বসু&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;হঠাৎ করেই সুযোগ হলো বঙ্গভবনে যাওয়ার। মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের ত্রিসীমানায় আমার মতো নটু-ফটুর প্রবেশাধিকার পাওয়ার কোন প্রশ্নই আসে না। মূলত একজন সিনিয়র বন্ধুর সঙ্গি হয়ে যাচ্ছি। পকেটে দুই-মেগাপিক্সেলটা রয়েছে ঠিকই, কিন্তু এসব ক্ষেত্রে আমার ভাগ্য যে সুপ্রসন্ন হয় না তার প্রমাণ এই ছবি। গাড়ির ভেতর বসেই সামনের দিকে তাক করা। অঝোর বৃষ্টিতে কাজীপাড়া রাস্তার পানি হাটুর মাপ পেরিয়ে উপরের দিকে উঠছে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-lHGoPFhI/AAAAAAAAF9g/THGTD2R_zvc/s1600-h/23092009_kajipara_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-lHGoPFhI/AAAAAAAAF9g/THGTD2R_zvc/s320/23092009_kajipara_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;প্রথমে কাজ ছিলো দৈনিক ইত্তেফাকে। সিঁড়ি দিয়ে উঠতে দোতলার প্যাসেজের দেয়ালে তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার ম্যুরালটা চোখে পড়লো। দিলাম ক্লিক।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-mcsfKnxI/AAAAAAAAF9o/Mg-e-B7WtRA/s1600-h/23092009_Tafajjal_Hossen_Manik_Miah_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-mcsfKnxI/AAAAAAAAF9o/Mg-e-B7WtRA/s320/23092009_Tafajjal_Hossen_Manik_Miah_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এরপর বঙ্গভবনের দিকে। বৃষ্টি ঝরছেই। সর্বোচ্চ সংরক্ষিত এলাকা হিসেবে নিশ্চয়ই ছবি-টবি তোলা সম্ভব হবে না। ভাবতে ভাবতেই বঙ্গভবনের গেটে পৌঁছে গেলাম। ভেতরে ঢোকার পাশ নেয়ার ফর্মালিটিজের ফাঁকে আমি গাড়িতে বসেই জানালা দিয়ে গেটের দিকে দুই-মেগাপিক্সেল তাক করে দিলাম ক্লিক। ছবিটা আংশিক এলো, একটু অন্যরকম ভাবে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-m20jyAGI/AAAAAAAAF9w/tLErdoMns4c/s1600-h/23092009_Bangabhaban_Gate_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-m20jyAGI/AAAAAAAAF9w/tLErdoMns4c/s320/23092009_Bangabhaban_Gate_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;গেটের পাশেই কামানের প্রতিকৃতি। ওটা আর দোষ করলো কী ! ছোট বলে অবহেলা করতে নেই। তাকেও অবহেলা করলাম না। সবই কিন্তু গাড়িতে বসে। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-nPGTQOhI/AAAAAAAAF94/Qbney_1JvSE/s1600-h/23092009_Kaman_Bangabhaban_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-nPGTQOhI/AAAAAAAAF94/Qbney_1JvSE/s320/23092009_Kaman_Bangabhaban_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বিশাল প্রকাণ্ড রাস্তা। গেটের বিপরীত পাশেই কারুকার্যময় দেয়াল ঘেষে সিঁড়ির মতো দেখতে একটা স্থাপনা চোখে পড়লো। একেতো দুই-মেগাপিক্সেল, তার উপরে রোদ নেই। অপেক্ষমান গাড়ি থেকে জানালা দিয়ে ওটাও এক ক্লিকে ধরলাম। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-nhWtv3dI/AAAAAAAAF-A/LtYdD9gT3as/s1600-h/23092009_Bangabhaban2_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-nhWtv3dI/AAAAAAAAF-A/LtYdD9gT3as/s320/23092009_Bangabhaban2_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;গেটপাস এসে গেছে। কর্তব্যরত রক্ষীরা বিশাল ফটক হা করে ধরতেই আমাদের গাড়ি ঢুকে গেলো ভেতরে। ঢুকতেই বাঁ-পাশে একটা গম্ভুজ ধরনের ছোট্ট স্থাপনা। কোন এক হযরত খাজা বাবার কবরস্থান। বৃষ্টি আর আলোক-স্বল্পতায় গাড়ির গতিতে খাজাবাবার নামটা ঠিকভাবে পড়া হলো না। কেননা পড়ার চাইতে তখন ক্লিক করাটাকেই অগ্রাধিকার মনে করেছি।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-n2WBEBmI/AAAAAAAAF-I/Xq-Wxu35KCY/s1600-h/23092009_Bangabhaban3_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-n2WBEBmI/AAAAAAAAF-I/Xq-Wxu35KCY/s320/23092009_Bangabhaban3_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অল্পদূরে মহামান্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয় কাম বাসভবনের সামনেটা দেখা যাচ্ছে। বেশ বড়ো গোলাকার আয়ল্যান্ডের ফুলবাগানের মাঝখানে ফোয়ারাই হবে, আকাশের দিকে গলা বাড়িয়ে রাখা পাখি বা বকের মনোরম ধাতব ভাস্কর্যটা দেখেই মনটা উলুকঝুলুক করে উঠলো। কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই তা পাশ কেটে হালকা ডানে বেঁকে এগিয়ে সচিবালয়ের গেট। গাড়ি থেকে নেমে সিঁড়ি বেয়ে উঠে নিরাপত্তারীদের জিম্মায়। চেকিং ও গেটপাশ পরীক্ষা-নিরীক্ষা ইত্যাদি রুটিনকর্ম সেরে যথারীতি ভেতরে ঢুকলাম। কাজ সেরে বেরিয়েই মাথাটা চক্কর দিয়ে উঠলো। বৃষ্টি চলছেই। আর কখন এখানে ঢুকার সুযোগ পাই না পাই, একটা আলোকস্মৃতি থাকবে না ! পার্কিং থেকে গাড়িটা স্টার্ট নিয়েছে। তার আগেই আমি বৃষ্টির মধ্যেই ছুটতে লাগলাম ভাস্কর্য-দ্বীপটার দিকে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-kdDbL7xI/AAAAAAAAF9Y/tt2cv-TOd5E/s1600-h/23092009_foara_Bangabhabn_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-kdDbL7xI/AAAAAAAAF9Y/tt2cv-TOd5E/s320/23092009_foara_Bangabhabn_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বঙ্গভবনকে মুখোমুখি রেখে ক্লিক করলাম। দুই-মেগাপিক্সেল মোবাইল-ক্যামেরায় ওযাইড শট আশা করা বৃথা। ভবনের একাংশ ধরা পড়লো। ওদিকে সেনাপোশাকধারী নিরাপত্তারীরা খেয়াল করলো কিনা কে জানে। আর ছবি তোলা আদৌ নিষেধ কি অবারিত তাও জানি না। পূর্ব অভিজ্ঞতায় ফরেন সার্ভিস একাডেমি গিয়ে ছবি তোলার অনুমতি নিতে গিয়ে গাধার মতো অপরাধী বনে সুযোগ হারানোর রিস্ক অন্তত এক্ষেত্রে নেয়া যায় না। বাকি জীবনে এখানে ঢুকার সুযোগ নাও মিলতে পারে। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-pTNDJEXI/AAAAAAAAF-Y/3BpkEtATQGw/s1600-h/23092009_Bangabhaban5_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-pTNDJEXI/AAAAAAAAF-Y/3BpkEtATQGw/s320/23092009_Bangabhaban5_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;গাড়িটা এসে পাশে ব্রেক কষলো। উঠতে উঠতে বঙ্গভবনের সামনের দিকে অর্থাৎ যেদিক দিয়ে ঢুকেছিলাম এবং এখন রেরোচ্ছি, দূর থেকে সেই গেট তাক করে আরেকটা কিক মারলাম। বৃষ্টি ম্যাদা ম্যাদা ছবি উপহার দিয়ে যে ক্ষতিটা করলো, হয়তো উপকারও করলো, ছবি তোলার সুযোগ করে দিয়ে। অথবা এ সবই আমার কষ্ট-কল্পনা। হয়তো ছবি তোলায় কোন বাধা-নিষেধ নেই। আসলে এ ব্যাপারে কিছুই জানি না আমি। কাউকে জিজ্ঞেস করতেও যাই নি- উত্তর যদি নিগেটিভ হয় ! তারচে’ পরে সম্ভাব্য ক্ষমা চাওয়ার সুযোগটাই খোলা থাক। গেটে এসে গেটপাসগুলো ফেরৎ দিয়ে আমাদের গাড়ি বেরিয়ে গেলো এবং যেতে যেতে আরেকটা ক্লিক। &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-pvwDp-nI/AAAAAAAAF-g/hgV0yJ-94-I/s1600-h/23092009_Bangabhaban_Gate2_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-pvwDp-nI/AAAAAAAAF-g/hgV0yJ-94-I/s320/23092009_Bangabhaban_Gate2_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এবারে চেয়েছি ভেতরে দূরে বঙ্গভবন ফোকাসে রেখে গেটটাকে ধরতে। কিন্তু চলতি গাড়িতে যা হয়- আম নেই, কেবল ছালার একাংশ ! হা হা হা ! গাবর আর কাকে বলে !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-9175031946126610865?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/9175031946126610865/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=9175031946126610865' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/9175031946126610865'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/9175031946126610865'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_8539.html' title='| দুই-মেগাপিক্সেল...| বঙ্গভবন |'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://1.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss-ohrrxAxI/AAAAAAAAF-Q/pUoAo8TNJ9M/s72-c/23092009_Bangabhaban4_photo_Ranadipam_Basu.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-6291569728330991609</id><published>2009-10-10T00:57:00.002+07:00</published><updated>2009-10-23T15:16:43.915+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Utbachan'/><title type='text'>| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৭১-৮০|</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss94std4_jI/AAAAAAAAF9Q/I3ANFHNxxIQ/s1600-h/bilde-005-225x300.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss94std4_jI/AAAAAAAAF9Q/I3ANFHNxxIQ/s320/bilde-005-225x300.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: center;"&gt;&lt;b&gt;| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৭১-৮০|&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;রণদীপম বসু&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭১)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;যে সমাজে গাধার শ্রেষ্ঠ গুণ হলো সে গাধা&lt;br /&gt;আর মানুষের নিকৃষ্ট অপরাধ হচ্ছে সে মানুষ,&lt;br /&gt;সে সমাজ বাঙালির।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭২)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;প্রকৃতির সবুজ ছোঁয়া থেকে যে যতো দূরবর্তী&lt;br /&gt;সে ততো সভ্য,&lt;br /&gt;বহুতলশীর্ষ ফ্যাটে হয় সভ্যতম মানুষটির বসবাস।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭৩)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;আজকাল কোন অফিসে ঢুকলে মনে হয়&lt;br /&gt;ভুল করে বুঝি মসজিদেই ঢুকে গেলাম,&lt;br /&gt;জরুরি ফাইলের চাইতে জায়নামাজই অধিক মূল্যবান সেখানে।&lt;br /&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭৪)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;পুলিশের আচরণই বলে দেয় রাষ্ট্রের মানসিক স্বাস্থ্য কেমন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭৫)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;যতদিন চাকুরে থাকে ততদিন সে দাস;&lt;br /&gt;অবসরে গেলেই তৎক্ষণাৎ সে পেনশনভোগী এক ব্যবহারযোগ্য দাসীতে পরিণত হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭৬)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;সেবার সাথে মুনাফার যোগসূত্র মানে-&lt;br /&gt;ধর্ষণের মাধ্যমে ধর্ষিতাকে যৌনসুখ দেয়ার মহত্ত্ব !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭৭)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;একান্ত সেবক মানে, হয় সে ভণ্ড নয় স্বার্থপর।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭৮)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;ঝুলন্ত&amp;nbsp; ব্রা’কে পুরুষ দেখে স্তন, নারী ভাবে আব্রু।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৭৯)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;ওকে নিয়ে ঘুরতে যাবার পথ-খরচা না রেখে নিজের জন্য ঔষধ কিনে বোকারা;&lt;br /&gt;অর্থহীন দীর্ঘ জীবনের চাইতে অর্থময় স্বল্প জীবন অনেক বেশি তাৎপর্যময়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;(৮০)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;সবাই নিজে নিজে একেকজন সাংঘাতিক নীতিবান মানুষ;&lt;br /&gt;নিজের সাথে বনে না এমন সব নীতিই হয় অনীতি বা দুর্নীতি।&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2009/09/blog-post_15.html"&gt;৬১-৭০&lt;/a&gt;][*][&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_23.html"&gt;৮১-৯০&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-6291569728330991609?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/6291569728330991609/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=6291569728330991609' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/6291569728330991609'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/6291569728330991609'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_7140.html' title='| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|৭১-৮০|'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss94std4_jI/AAAAAAAAF9Q/I3ANFHNxxIQ/s72-c/bilde-005-225x300.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-5259494443046874546</id><published>2009-10-10T00:16:00.003+07:00</published><updated>2009-11-13T02:04:01.885+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Shudhui Bishad'/><title type='text'>@ টান নেই আঁচড় নেই শুধুই বিষাদ - ০৪ (কবিতাগুচ্ছ)</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss9vfJtehBI/AAAAAAAAF9I/HJpRvkW4Cj4/s1600-h/AA-AW134%7EEndless-Love-Posters.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss9vfJtehBI/AAAAAAAAF9I/HJpRvkW4Cj4/s200/AA-AW134%7EEndless-Love-Posters.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;স্রোত-স্বর&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;রণদীপম বসু&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;ডিঙাটা বাইছিলো যে দুর্বিনীত হাত&lt;br /&gt;উন্মত্ত বৈঠায় শ্লোকে&lt;br /&gt;প্রতিকূল স্রোত ভেঙে ধাবমান সে তো&lt;br /&gt;লুঠতে নয়, তোমাকে সাজাতেই আসছিলো ;&lt;br /&gt;কী আশ্চর্য প্যারাডক্স- ওটাকে সরাতে গিয়ে&lt;br /&gt;ভয় থির থির তুমি &lt;br /&gt;অদ্ভুত এ দৃশ্য থেকে নদীটাই ফেলে দিলে !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;যে-চোখে নদীই নেই, জলের ভ্রুকুটিহীন নিরক্ত গহ্বর&lt;br /&gt;ওখানে কেন সে আসবে আর !&lt;br /&gt;পাড়-হীন তুমি হারিয়েছো স্রোত-স্বর&lt;br /&gt;হারিয়েছো নদীচোখ।&lt;br /&gt;(১৪-১০-২০০৭)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Svxb-rFulOI/AAAAAAAAGCk/A_-yG6HnbSw/s1600-h/7325_102770319736920_100000118560811_74373_1247689_n.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Svxb-rFulOI/AAAAAAAAGCk/A_-yG6HnbSw/s320/7325_102770319736920_100000118560811_74373_1247689_n.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&amp;nbsp;&amp;nbsp;&lt;b&gt; ছায়াবৃত্ত&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;নীলডুবো জলের কাছে বললাম- &lt;br /&gt;আমাকে তোমার আলোটুকু দেবে ?&lt;br /&gt;একদৃষ্টে আমার দিকে চেয়ে জল বললো- এই নাও, সাবধানে রেখো।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;জলের আলোয় রাঙা হয়ে হেঁটে হেঁটে আমি &lt;br /&gt;ঠিক পাহাড়টার কাছে গিয়ে দাঁড়ালাম। পাশ থেকে &lt;br /&gt;এক প্রাচীন বৃক্ষ ডেকে উঠলো- সবুজ পাখি শোনো, &lt;br /&gt;পাহাড়ের কাছে কিছু চাইতে গিয়ে তাঁকে ভুলেও চঞ্চল করো না যেনো !&lt;br /&gt;প্রাগৈতিহাসিক দুঃখ বুকে নিয়ে বৃষ্টিভেজা পাহাড়টাকে&lt;br /&gt;ওভাবেই বুঁদ হয়ে থাকতে দাও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বৃক্ষজ্ঞানহীন আমি বললাম- তুমি আমাকে পাখি বললে কেন ?&lt;br /&gt;‘ডানার সাহস পেলে মানুষ পাখি নয়তো বৃক্ষ হয়ে যায়’-&lt;br /&gt;মন্ত্রঃপুত বৃক্ষস্বরে চমকে ওঠে দেখি, আমার দুই কাঁধ জুড়ে&lt;br /&gt;বিস্তৃত সবুজ ডানায় আলোকিত চারপাশ !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাকে আর পাহাড়ের কাছে চাইতে হবে না কিছু,&lt;br /&gt;চূড়া থেকে ঝাঁপ দেবার মানবিক ইচ্ছেটা ঝলমল করে উঠলো-&lt;br /&gt;সজোর ঝাপটায় ভর দিলাম উৎফুল্ল ডানায়,&lt;br /&gt;কী আশ্চর্য ! মরমর করে দুয়েকটা শেকড় ছিঁড়লো বটে,&lt;br /&gt;তবু অসংখ্য শেকড়ে বদ্ধ প্রোথিত পা দুটো নড়লো না একটুও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি জানতে চাইলাম- হে জ্ঞানী বৃক্ষ, আমি কি বৃক্ষই তবে !&lt;br /&gt;মাথা নেড়ে জানালো- না, শেকড়-বাকড় শুধু মানুষেরই হয়, বৃক্ষের নয়।&lt;br /&gt;আমি চিৎকার করে উঠলাম- অসম্ভব ! আমি হেঁটে হেঁটেই এসেছিলাম এখানে।&lt;br /&gt;বাতাসে শিষ কেটে বললো সে, এ-সবই মানুষের কাল্পনিক ভ্রমণ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;দরদর ঘেমে নেয়ে বৃক্ষল-শরীরে আমার ছটফটে মানবিক ক্রোধ এদিক-ওদিক &lt;br /&gt;ঠোকাঠুকি করে, ছেঁড়া-ফাড়া অন্ধকার খুঁড়ে আচ্ছন্ন ঘুমের রেশ কেটেকুটে&lt;br /&gt;প্রবল নিঃশ্বাসে খুঁজি একান্ত বিছানা আমার... নিরিবিলি বালিশের ওম...&lt;br /&gt;নিশ্চিন্ত দেয়ালে ঘেরা ছোট্ট সেই ঘর...&lt;br /&gt;আমি খুঁজতেই থাকি নিশ্চল মাংসপিণ্ড কিংবা &lt;br /&gt;কবন্ধহীন বৃত্তে ঘেরা ছায়ার সংসার... আমি খুঁজতেই থাকি&lt;br /&gt;শেষবার কবে যেনো অভ্যাসবশেই&amp;nbsp; বিছানায় এলিয়েছিলাম গা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এইসব ছায়াবৃত্ত ভেঙে&lt;br /&gt;জলরাঙা চোখ ফুঁড়ে এক ঝাঁক প্রজাপতি তখন&lt;br /&gt;ঘরময় ছোটাছুটি করে...&lt;br /&gt;(১২/১১/২০০৯)&lt;br /&gt;&amp;nbsp;...&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-5259494443046874546?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/5259494443046874546/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=5259494443046874546' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/5259494443046874546'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/5259494443046874546'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_10.html' title='@ টান নেই আঁচড় নেই শুধুই বিষাদ - ০৪ (কবিতাগুচ্ছ)'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss9vfJtehBI/AAAAAAAAF9I/HJpRvkW4Cj4/s72-c/AA-AW134%7EEndless-Love-Posters.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-4487862231671451828</id><published>2009-10-09T14:11:00.002+07:00</published><updated>2009-10-10T15:04:50.075+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Article (Literature)'/><title type='text'>| ষোড়শ সংখ্যা ‘প্রতীকী’, কিছু কথা কিছু আকথা…|</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss7jd4gv4AI/AAAAAAAAF84/kXxsV_j5gko/s1600-h/07102009_Protikee_photo_Ranadipam_Basu.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss7jd4gv4AI/AAAAAAAAF84/kXxsV_j5gko/s320/07102009_Protikee_photo_Ranadipam_Basu.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;| ষোড়শ সংখ্যা ‘প্রতীকী’, কিছু কথা কিছু আকথা…|&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;রণদীপম বসু&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;…&lt;br /&gt;&lt;b&gt;০১.&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;কে কেন কিভাবে লিখেন, এ নিয়ে দুনিয়াজোড়া মজার মজার কাহিনী প্রচলিত আছে। আবার প্রতিটা মানুষই নাকি কোন না কোনভাবে কিছু কিছু মজার স্ববিরোধিতায় আক্রান্ত হয়ে থাকেন। বিশেষ করে যাঁরা ভাবনার খুব গভীরতলে পৌঁছে যান, তাঁরাই আবার খুব হালকামাত্রায় এসে বেশ হাস্যকর কর্মকাণ্ড ঘটিয়ে বসেন। বিজ্ঞানী নিউটনের এরকম একটা ঘটনার কথা তো বহুল প্রচলিত, যা সেই ছাত্রকালে শুনে বেশ মজা পেয়েছিলাম। কী এক গবেষণা চালাতে গিয়ে নিউটন নাকি একবার দুই কোঠা বিশিষ্ট বড় একটি বাক্সের মধ্যবর্তী পার্টিশনটাতে দুই আকৃতির দুটো ছিদ্র করেছিলেন, কোঠা বদল করতে বড় বিড়ালের জন্য একটি এবং ছোটটির জন্য অন্যটি। শুধুমাত্র একপাশ থেকে অন্যপাশে যাওয়ার জন্য দুটো বেড়ালের জন্য যে একটি রাস্তাই যথেষ্ট, এ কথাটা নিউটনকে কিছুতেই বোঝানো যাচ্ছে না। অবশেষে তাঁর সহকারী হাতে-কলমে দেখিয়ে দেয়ার পর নিউটনের উক্তি ছিলো- তাই তো ! ঘটনাটি আদৌ সত্য কিনা, না কি বাঙালির রসসৃষ্টির অসাধারণ প্রতিভার আরেকটি নমুনা উদাহরণ কে জানে। তবে মনোবিজ্ঞান বলে যে, ভাবনার উচ্চস্তরে অবস্থান করলে একই সময়ে নিচের স্তরের এরকম ছোটখাটো অসংগতি ঘটানো মানব-মস্তিষ্কের স্বাভাবিক প্রবণতার একটা অংশ।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এই স্বাভাবিক প্রবণতাই লক্ষ্য করা যায় চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত মিজানুর রহমান শামীম সম্পাদিত ছড়ার কাগজ ‘প্রতীকী’ ১৬ সংখ্যায় মুদ্রিত হিমাদ্রি নির্ঝর-এর ‘&lt;i&gt;ছড়া-কবিতায় ছন্দের শাসন-দুঃশাসন’: রচনার ঊনতা-পূর্ণতা&lt;/i&gt;’ শিরোনামের সমালোচনামূলক সিরিয়াস গদ্যটিতে। একেতো গদ্যের টোন সিরিয়াস, তার উপরে গদ্যের বিষয়বস্তু হলো প্রতীকী’র ১৫ সংখ্যায় প্রকাশিত আমারই লেখা গদ্য ‘&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2008/03/blog-post_02.html"&gt;&lt;b&gt;ছড়া-কবিতায় ছন্দের শাসন-দুঃশাসন&lt;/b&gt;&lt;/a&gt;’-এর ঊনতা-পূর্ণতা খোঁজার প্রয়াস। সংগত কারণে আগ্রহের মাত্রায় আমার ঘাটতি থাকার কথা নয়। গদ্যের পরতে পরতে লেখকের প্রশংসনীয় জ্ঞান ও মেধার বিকিরণ চোখ এড়ায় না। গদ্যটিতে চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো ‘&lt;i&gt;উৎকর্ষ&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;উৎকর্ষতা&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;নৈর্ব্যক্তিকতা&lt;/i&gt;’ শব্দগুলোর ব্যবহার নিয়ে তাঁর প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গিকে কোনভাবে ছোট না করেও বিশেষ্য ‘&lt;i&gt;উৎকর্ষ&lt;/i&gt;’ শব্দকে বিশেষণ হিসেবে ‘&lt;i&gt;উৎকৃষ্টতা&lt;/i&gt;’র বদলে প্রতিরূপে ‘&lt;i&gt;উৎকর্ষতা&lt;/i&gt;’র ব্যবহার করা এবং ‘&lt;i&gt;নৈর্ব্যক্তিক&lt;/i&gt;’ বিশেষণকেও যে ‘&lt;i&gt;নৈর্ব্যক্তিকতা&lt;/i&gt;’র বিশেষ্য বানিয়ে নতুন শব্দ হিসেবে প্রথাবদ্ধতার বেড়াজাল ছিন্ন করা যেতে পারে, তা নিয়ে একটি ভিন্নধর্মী আলোচনার প্রেক্ষিত তৈরি হতে পারতো। পারেনি যে তার কারণ অন্যত্র। অনেকেই ভুল করে এমন ব্যবহার করেন, না কি জেনেশুনেই করেন আমি জানি না। হয়তো বাংলা ভাষার উপর স্বেচ্ছাচার হচ্ছে কিংবা গেলোরে গেলোরে বলে রব উঠাতে পারেন কেউ কেউ, তবু আপাতত এটুকু বলে রাখি যে, যেহেতু শব্দগুলো অভিধানে নেই অর্থাৎ অন্যকোন শব্দ বা শব্দার্থকে কোনভাবেই আঘাত করে না, তাই আমি অত্যন্ত সচেতনভাবেই এই শব্দগুলো ব্যবহার করেছি। যেভাবে ব্যবহার করেছি ’&lt;i&gt;বাধকতা&lt;/i&gt;’ শব্দটিও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অত্যন্ত মজার বিষয় হলো, হিমাদ্রি নির্ঝর শব্দের এই প্রথাহীন ব্যবহারে আপত্তি জানালেও অন্য জায়গায় আবার হুমায়ুন আজাদ ও জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে ভিন্ন চেতনার কথাই বলছেন- ‘&lt;i&gt;হুমায়ুন আজাদের কিশোর কবিতাগুলো শতাব্দীর পরমায়ু উৎরে যাবে অনায়াসে- এমনটি ভাবতে একটুও দ্বিধাগ্রস্ত হতে হয় না’। ছন্দমিলহীন ক’টি কিশোর কবিতা এমন অজর প্রাণশক্তির বড়াই করতে পারে ? বস্তুত কবিতায় আধুনিকতা অন্ত্যমিলহীনতায় নয়, অভিনব শব্দসুষমায় নবতর ভাব সঞ্চারণে। জীবনানন্দ দাশ কেন আধুনিক- অন্ত্যমিলহীনতার জন্যে, না-কি অগতানুগতিক বাকভঙ্গিমা আর শব্দে নবতর অর্থব্যক্তি সৃজনের জন্য ?&lt;/i&gt;…’ খুবই চমৎকার উদ্ধৃতি বলা যায়। কিন্তু একেকজনের দৃষ্টিভঙ্গি একেকরকম। হতে পারে হিমাদ্রি নির্ঝরের দৃষ্টিভঙ্গি হচ্ছে প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তিত্ব হলেই কেবল অভিনব শব্দসুষমায় নবতর ভাব সঞ্চারণ এবং অগতানুগতিক বাকভঙ্গিমা আর শব্দে নবতর অর্থব্যক্তি সৃজন করা যাবে, নইলে কিছুতেই তা মানা যাবে না। আমার এই সীমিত জ্ঞান দিয়ে যতটুকু জানি, হুমায়ুন আজাদ কিংবা জীবনানন্দ দাশ প্রতিষ্ঠিত হবার আগেই এরকম অভিনবত্ব ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন। আর এজন্যে প্রথম প্রথম তাঁদেরকে অনেক গঞ্জনাও সইতে হয়েছে। নইলে এমনি এমনি কি আর হুমায়ুন আজাদ তাঁর প্রবচনগুচ্ছের ১৮২ নম্বর প্রবচনে বলতে যান- ‘&lt;b&gt;মানুষ মরলে লাশ হয়, সংস্কৃতি মরলে প্রথা হয়&lt;/b&gt;’ !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এটা কিছুতেই বোধগম্য হয় না যে, বহতা নদীর মতো সংস্কৃতি বা সাহিত্যের ‘উৎকর্ষ’ মাধ্যম কবিতার আধুনিকতা নিয়ে যখন জগৎ জুড়ে নতুন নতুন আন্দোলনের সূচনা হচ্ছে, পুরনো প্রথা ভেঙে নতুন নতুন সৃষ্টির মধ্য দিয়ে সংস্কৃতি এগিয়ে যাচ্ছে, তখন হিমাদ্রি নির্ঝর কী করে এই আধুনিকতাকে বিস্ময়করভাবে গণ্ডিবদ্ধ করে ফেলেন এভাবে- ‘&lt;i&gt;অন্ত্যমিলহীন কিশোর কবিতা রচিত হওয়া মোটেই দোষের নয়; কিন্তু আল-মাহমুদের অন্ত্যমিলযুক্ত কিশোর কবিতাগুলো যদি একালের কিশোর পাঠকদের রসেন্দ্রিয়কে কিছুমাত্র পীড়িত না করে, তবে ‘Quit Rhyme’ আন্দোলনের তেলহীন সলতে পুড়িয়ে গলদঘর্ম হয়ে লাভ কী ?&lt;/i&gt;’ সম্ভবত গোটা গদ্যে তিনি প্রথাবদ্ধ এই থিমটাকেই প্রতিষ্ঠিত করতে চেয়েছেন। আর তা করতে গিয়ে তিনি অনেকগুলো স্ববিরোধিতায় নিজেই আক্রান্ত হয়ে গেছেন। পরিবর্তন চাইলে পরিবর্তনের নিরবচ্ছিন্ন স্রোতটাকেই ধারণ করতে হয়। গজ-ফিতা মেপে এতোটুকু পরিবর্তন চাই, আর না, এটা আধুনিকতার কোন&amp;nbsp; লক্ষণ হয় কি ? আমার গদ্যে কি কোথাও তেলহীন সলতে পোড়ানোর কথা বলেছিলাম ? গদ্যের টোনটাই তো ছিলো ওই তেলটুকুর আবশ্যকতা নিয়েই। সলতেও জ্বলবে, আলোও ছড়াবে, প্রয়োজন আমাদের তেল যোগানদারের।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তিরিশের দশকের (দশক নামকরণে তিরিশ হয় কিনা তা নিয়ে মতদ্বৈধতা রয়েছে) আগে আমাদের রসপ্রিয় পাঠকদের ইন্দ্রিয়ও রবীন্দ্রনাথের গীতিকবিতায় পীড়িত ছিলো না বলেই জানি। তবু বাংলা কাব্যসাহিত্যের সেই পঞ্চপাণ্ডবদের পশ্চিমা আধুনিকতার হাতুড়ি কিন্তু আক্রান্ত করেছিলো রবীন্দ্রনাথকেও। রবীন্দ্রবলয় ভেঙে গেলে রবীন্দ্রনাথও প্রথম প্রথম কম মনঃক্ষুণ্ন হন নি। সেই তিনিই আবার শেষ বয়সে এসে গদ্যকবিতায় হাত মকশো করতে উঠেপড়ে লেগেছিলেন। এবং সফলও হয়েছিলেন বলা যায়। ‘&lt;i&gt;বাঁশি&lt;/i&gt;’, ‘&lt;i&gt;রেলগাড়ির কামরায়&lt;/i&gt;’ প্রভৃতি কবিতা তাঁর ছন্দমিলযুক্ত গীতিকবিতাগুলোর চাইতে গুণে মানে কোন অংশে কম তো ছিলোই না, বরং আবেদনময়তায় অনেক বেশি এগিয়ে। আধুনিকতা মানে যে এক জায়গায় থেমে যাওয়া নয় কিংবা নির্দিষ্ট কোন বৃত্তের মধ্যে আবর্তনও নয়, এই সহজ কথাটাই অতিরিক্ত ভাবুকজনেরা কি অনিচ্ছাকৃতভাবে ভুলে যান, না কি উদ্দেশ্যমূলক এড়িয়ে যান, এটা একটা রহস্য বৈ কি !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;অথচ আমাদের অভিজ্ঞতার অত্যন্ত নিম্ন লেভেল দিয়ে বুঝি- আধুনিকতা মানে ক্রমাগত বৃত্ত ভেঙে ভেঙে এগিয়ে যাওয়া। মানুষের সংস্কৃতি মানেই তাই। প্রথাবিরোধী লেখক হিসেবে পরিচিত হুমায়ুন আজাদের উদ্ধৃতি টানার লোভ এবারও সংবরণ করতে পারছি না। কেননা তিনি আমার মতো হিমাদ্রি নির্ঝরেরও প্রিয় ব্যক্তিত্ব হবেন ধারণা করছি। ড. আজাদের প্রবচনগুচ্ছের সর্বশেষ অর্থাৎ ২০০ সম্বর প্রবচনটি হলো- ‘&lt;b&gt;পৃথিবীতে যতো দিন অন্তত একজনও প্রথাবিরোধী মানুষ থাকবে, ততো দিন পৃথিবী মানুষের।&lt;/b&gt;’ এ ব্যাপারে কোন সন্দেহ থাকলে অবশ্য সমস্ত প্রাক-আলোচনাই অর্থহীন। সে ক্ষেত্রে আর কথা না বাড়ানোই সংগত।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এবার হিমাদ্রি নির্ঝরের লেখা থেকে একটু হৃষ্টপুষ্ট অংশ উদ্ধৃত করি, যা তিনি আমাকে উদ্দেশ্য করেই লিখেছেন।&lt;br /&gt;&lt;i&gt;‘ লেখক ছড়া-কবিতা-পদ্যের ভেদলক্ষণ নিয়ে বেশ কিছু বাক্যব্যয় করলেও ‘আমাদের সেই সব অহংকার’ উপশিরোনামে উদ্ধৃতি দিতে গিয়ে ছড়া-কবিতা-পদ্যের মিশেল দিয়ে সেসবকে আবার ‘আধুনিকতায় ছুঁয়ে যাওয়া কিশোর কবিতার মাস্টারপিস’ বললেন কেনো বোঝা গেলো না। উদ্ধৃত তিরিশটি ছড়া-কবিতা-পদ্যের গুণলক্ষণকে মাস্টারপিসের আদর্শ গুণলক্ষণ ধরলে বাংলা শিশু সাহিত্যে মাস্টারপিসের সংখ্যা কয়েক হাজার তো হবেই। তাহলে মাত্র তিরিশটি উদ্ধৃতি কেন, আর বর্তমানে শিশুসাহিত্যে কিছুই হচ্ছে না, হলোনা- এমন হা-পিত্যেশই বা কেনো ? তিরিশ সংখ্যক উদ্ধৃতির পংক্তি ক’টি নেয়া হয়েছে জুলফিকার শাহাদাৎ-এর ‘ডাক দিয়ে যায় কে’ কবিতা থেকে। কবিতাটি তাঁর ‘আকাশকে খোলা চিঠি’ বইয়ের অন্তর্ভুক্ত। প্রতীকী’র উদ্ধৃতির অংশবিশেষ এখানে আবার উদ্ধৃত করছিঃ&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;‘নিঝুমরাতে চাঁদের পানে দু’চোখ মেলে চাই/ দেখি শুধু হাজার তারার মুগ্ধ পাড়াটাই।/ জোছনামাখা চাঁদের হাসি/ ঝরে পড়ে রাশিরাশি/ তখন আমি যাই ছুটে যাই ঘর থেকে ঠিক দূরে।’&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;এখন ক’টি প্রশ্ন করি জুলফিকারকে নয়, রণদীপমকে- এক, ‘চাঁদের পাড়াটাই’ কি মুগ্ধ (Charmed; enchanted); না-কি কবি ? বস্তুত চাঁদের পাড়া’ হওয়ার কথা মোহনীয় (Charming; enchanting), আর কবি’র হওয়ার কথা মুগ্ধ। দুই, ‘চাঁদের আলোই জোসনা, যা চাঁদের হাসির রূপকল্প; ‘জোসনা যদি চাঁদের হাসির নামান্তর হয়, তাহলে ‘জোসনামাখাহাসি’ কি যৌক্তিক শব্দবন্ধ ?&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;তিন. ‘ঠিক’ শব্দটি কি নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক ? ঠিক দুপুর, ঠিক মধ্যরাত, ঠিক দশটা, ঠিক দশ হাত, ঠিক মাঝখান- এ প্রয়োগগুলোর প্রতিটি নির্দিষ্টতাজ্ঞাপক; কিন্তু ‘দূরে’ শব্দটি নির্দিষ্ট স্থানিক অবস্থান নির্দেশ করে না, তাই ‘ঠিক দূরে’ আরোপিত মনে হয়।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;এখানে আমার মন্তব্য : আলোচিত উদ্ধৃতাংশ কিংবা কবিতাটি শিশুকিশোর সাহিত্যের মাস্টারপিস তো নয়ই, জুলফিকার- এরও শ্রেষ্ঠ কবিতা নয়। এর চেয়ে ভালো কবিতা তাঁর আছে। বলতে দ্বিধা নেই জুলফিকার শাহাদাৎ অত্যন্ত সম্ভাবনাময় কিশোর কবিতা রচয়িতা। উদ্ধৃতাংশটুকু জুলফিকার তোষণের নমুনা মাত্র, কিংবা বলা যায় ‘ misquoted’।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;মারাত্মক ব্যাপার-স্যাপার ! আসলে থলেতে বিড়াল থাকলে তা কোন না কোনভাবে বেরিয়েই যায়। এখানেও থলের বেড়ালটার উঁকিঝুকি প্রত্যক্ষ করতে আর কোন সমস্যা হয় না। সব সমস্যার গোঁড়ায় মনে হচ্ছে তিরিশটি উদ্ধৃত কবিতা-পদ্যাংশের তিরিশ সংখ্যক উদ্ধৃতিটা কেন জুলফিকার শাহাদাৎ-এর লেখা থেকে নেয়া হলো ! হা হা হা ! হিমাদ্রি নির্ঝরের বক্তব্য অনুযায়ী উদ্ধৃতাংশটুকু যদি জুলফিকারের শ্রেষ্ঠ কবিতার না হয়ে তার কোন অপ-কবিতা থেকে নেয়া অপ-উদ্ধৃতি হয়ে থাকে, তাহলে এটা জুলফিকার তোষণ হলো কী করে ! এ তো রীতিমতো জুলফিকারকে অপমানই করলাম আমি ! এক্ষেত্রে আমাকে তিনি জুলফিকার-বিদ্বেষী আখ্যা দিতে পারতেন। ওটা না করে তাঁর স্ববিরোধী হয়ে উঠার কারণ যে ভিন্ন তা অনুমেয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হিমাদ্রি নির্ঝরের কথা অনুযায়ী ছড়া-কবিতা-পদ্যের ভেদলক্ষণ নিয়ে বেশ কিছু বাক্যব্যয় করলেও তা যে কোন কোন ক্ষেত্রে আমার সময় ও বাক্যের ভীষণ অপচয়ই হয়েছে, তার বিবৃতি-ব্যাখ্যা টানতে গেলে মিজানুর রহমান শামীমের ‘প্রতীকী’ আর সীমিত আয়তনের ছড়ার কাগজ থাকবে কিনা, না কি রণদীপম বসু রচিত একক গদ্যকাগজ হয়ে যাবে, এটাও যে ভাবার বিষয় ছিলো, তাকে তিনি গুরুত্ব দেন নি।&amp;nbsp; যেভাবে মাস্টারপিস উদ্ধৃতি তিরিশটি না হয়ে তিনশ’ বা তার অধিক হলে ‘প্রতীকী’র সেই সংখ্যাটায় কীরকম ঘটনা ঘটতে পারতো, তার হিসাব না করে যখন আমাদের সিরিয়াস ভাবুকরা&amp;nbsp; অদ্ভুত সব প্রশ্ন করে বসেন- মাত্র তিরিশটি উদ্ধৃতি কেন ? অবগতির জন্য এটা বলা যায় যে, আমাদের শিশুসাহিত্যে উদ্ধৃত করার মতো হাজারটা নমুনা খুঁজে আনা অসম্ভব কিছু না। তবে দুর্ভাগ্যের বিষয় হচ্ছে স্বাধীনতা উত্তর এই বাংলাদেশে বর্তমানে যাঁরা এই অঙ্গনে খুব অযৌক্তিকভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন তাঁদের রচনা ঘেটে অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুঃখজনকভাবে হতাশই হতে হয়। এজন্যেই এতো হা-পিত্যেশ। আর সেই তিরিশটি উদ্ধৃতি টানার আগে যে ছোট্ট একটু প্রাক-মন্তব্য করে রেখেছিলাম, তা বোধ করি ভাবনার আতিশয্যে হিমাদ্রি নির্ঝরের দৃষ্টি এড়িয়ে গেছে। ওটুকু খেয়াল করলে অনেক প্রশ্নের মীমাংসা সেখানেই হয়ে যেতো না কি ? আবার একটু খেয়াল করে দেখবেন কি, কী লেখা ছিলো ওই প্রাক-মন্তব্যে ?-&lt;br /&gt;‘&lt;i&gt;ছন্দ মিলের দুঃশাসন যেমন একদিকে অনেক চমৎকার সম্ভাবনাকে নষ্ট করে দিতে পারে, অন্যদিকে ছন্দ বা মিল-এর সফল শাসন ও পরিমিতবোধে&amp;nbsp; উত্তীর্ণ লেখাগুলোই শিল্প সৌকর্যে পাঠক-নন্দিত সৃষ্টি হয়ে সংরক্ষণযোগ্য হয়ে ওঠে শিল্পের নিকানো উঠোনে। আমাদের অহংকার সেই সব রচনা থেকে এরকম কিছু সফল পংক্তির উদাহরণ চেখে নেয়া যেতে পারে। পাঠকের উন্মুক্ত বিবেচনায় সমর্পণ করে এগুলো থেকেও আধুনিকতায় ছুঁয়ে যাওয়া কিশোর কবিতার অন্যতম কিছু মাস্টারপিস কবিতা বেছে নেয়া যেতে পারে।&lt;/i&gt;’&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আরো আশ্চর্য় হই, যিনি ‘অভিনব শব্দসুষমায় নবতর ভাব সঞ্চারণে’র কথা কিংবা ‘অগতানুগতিক বাকভঙ্গিমা আর শব্দে নবতর অর্থব্যক্তি সৃজনের’ কথা বলেন, তিনিই কিভাবে ব্যাকরণের গজ-ফিতা-পাল্লা-পাথর মেপে মেপে মজার মজার প্রশ্নগুলো করেন ! যে গদ্যটি নিয়ে তাঁর লেখার সূত্রপাত এবং বিস্তার, সেই গদ্যে ধারণ করা কবিতা বিষয়ক নিচের উদ্ধৃত ব্যাখ্যাটি কি তিনি তাহলে অস্বীকার করেন ?&lt;br /&gt;&lt;i&gt;“শেষ পর্যন্ত আমাদের অগতির গতি রবীন্দ্রনাথেই ফিরে যেতে হয়- ‘&lt;b&gt;রূপের মধ্যে অরূপের সন্ধানই কবিতা&lt;/b&gt;।’ এটাকেই যথার্থ সংজ্ঞা বলে মনে হয়। প্রয়োজনীয় শব্দের পর শব্দ সাজিয়ে যে অপরূপ শব্দচিত্র বা দৃশ্য আঁকা হয় তার মধ্যে অরূপের সন্ধান অর্থাৎ অন্তর্গত অনুভূতির রসে ভিন্ন কোন অর্থের আবহ তৈরি করাকে কবিতা বলা যায়।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;কিন্তু আমাদের অর্থময় চেনা জগতের বাস্তব শব্দ দিয়ে তো আসলে&amp;nbsp; অবাস্তব কিছু নয় বরং আমাদের চেনা দৃশ্য বা বাস্তব আদলই তৈরি করা যায়। তাই এ বাস্তবতাকে তীর্যকভাবে দেখার প্রয়োজনেই চলে এলো প্রতীক উপমা রূপক ইত্যাদির আলংকারিক ব্যবহারের মাধ্যমে চিত্রকল্প সৃষ্টির এক শিল্পীত প্রবণতা। সেজন্যেই জীবনানন্দ দাশের কথায় ‘&lt;b&gt;উপমাই কবিতা&lt;/b&gt;’ বলতে মূলত কবিতার চিত্রকল্পতাকেই বুঝানো হয়ে থাকে। এভাবে যথাযোগ্য শ্রেষ্ঠ শব্দগুলোকে শ্রেষ্ঠ বিন্যাসের মাধ্যমে যে অপরূপ শব্দশরীরী চিত্রটা তৈরি হয়ে যায় তাও যখন প্রকাশের বর্ণনাময় আতিশয্যে রহস্যবিহীন, নিরাভরণ ও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে তখন রূপকল্পের দ্যোতনাময় মায়াবী চাদরে জড়িয়ে তাকে করে তোলা হয় চেনা অচেনার মিশেলে গড়া আধা-বাস্তব আধা-কল্পনার এক স্পন্দনশীল মূর্তি। এটাই কবিতা। আক্ষরিক ব্যাখ্যাযোগ্যতার গভীরে ক্রিয়াশীল অন্য এক উপলব্ধির অর্থময় অনুভব। পাঠকমনের সৃজনশীল কল্পনাও এখানে ক্রিয়াশীল হবার বিষয়নিষ্ঠ সুযোগ পেয়ে&amp;nbsp; যায়। সে রচনা তখন আর স্রষ্টা বা কবির একার থাকে না, পাঠকের স্বতস্ফূর্ত অন্তর্ভূক্তি একে নিয়ে যায় রসঘন এক ব্যাখ্যাহীন পরিতৃপ্তির অন্তর্গত জগতে। এবং তখনই একটি সার্থক কবিতা প্রকৃতই কবিতা হয়ে ওঠে। এখানে আর বুঝানোর কিছু থাকে না, বুঝে নিতে হয়; ম্যাকলিশের সেই বিখ্যাত পংক্তির মতোই- ‘&lt;b&gt;কবিতা কিছু বোঝায় না/ কবিতা হয়ে ওঠে&lt;/b&gt;।’ কেননা বুঝাতে গেলে সে যে আর কবিতাই থাকে না। এই উপলব্ধিজাত বিস্ময় থেকেই বুঝি রবার্ট ফ্রস্টও উচ্চারণ করেন- ‘&lt;b&gt;সেটুকুই বিশুদ্ধ কবিতা, যার অনুবাদ সম্ভব নয়’&lt;/b&gt;।”&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;চিন্তা, চেতনা, ভাবনার মৌলিক কাঠামো বা দৃষ্টিভঙ্গিতে ভিন্নতা থাকতেই পারে। বস্তুত হিমাদ্রি নির্ঝর কবিতা বিষয়ে কোন্ দৃষ্টিভঙ্গি পোষণ করেন তা যদি তিনি ব্যাখ্যা না করেন, তাহলে সব আলোচনাই শেষ পর্যন্ত অর্থহীনতায় পর্যবসিত হতে বাধ্য। এবং তাতে করে আবারো যে আমার সব কথাই তাঁর ভাষায় অর্থহীন ‘বাক্যব্যয়’ই হবে, তা থেকে সন্দেহমুক্ত হই কী করে ! তবু ‘&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2008/03/blog-post_02.html"&gt;&lt;b&gt;ছড়া-কবিতায় ছন্দের শাসন-দুঃশাসন&lt;/b&gt;&lt;/a&gt;’ শিরোনামের গদ্যটাকে তিনি যে তাঁর মহত্ব ও উদারতা দিয়ে আলোচনার যোগ্য মনে করেছেন, সে জন্যে তাঁর প্রতি আমার অশেষ কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। আশা করি আগামীতে তাঁর সাথে এই অসমাপ্ত আলোচনাটা এগিয়ে নেয়ার কিঞ্চিৎ সুযোগ তিনি আবারো সৃষ্টি করে দেবেন।&lt;br /&gt;…&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;০২.&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;এবার সিরিয়াস আলোচনা বাদ দিয়ে আমরা মনে হয় একটু হালকা বিনোদনের দিকে দৃষ্টি ফেরাতে পারি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;প্রাচীন গ্রীসের ডেলফির মন্দিরে যেদিন দৈববাণী হলো- তোমাদের মধ্যে সক্রেটিসই সবচেয়ে জ্ঞানী, এথেন্স নগরীতে নাকি হুলুস্থুল অবস্থা। চালচুলোহীন ওই ভবঘুরে লোকটিই জ্ঞানী ! সেই সময়ের তথাকথিত জ্ঞানী বলে প্রচারিত ব্যক্তিরা অত্যন্ত রুষ্ট হয়ে সক্রেটিসকে ডেকে পাঠালেন। দৈববাণীর কারণ জানতে সক্রেটিসকে প্রশ্ন করা হলে সক্রেটিসের জবাব নাকি এরকম ছিলো- &lt;b&gt;‘আমি শুধু এটুকুই জানি, আমি কিছু জানি না। আর আপনারা এটাও জানেন না যে আপনারা কিছুই জানেন না।’&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;‘&lt;b&gt;অর্বাচীন&lt;/b&gt;’ শব্দটির অর্থ বুঝতে কারো বাংলা অভিধান খোঁজার দরকার পড়ে না। তবে ন্যুনতম সহবৎ জ্ঞান অর্জনের জন্য এটুকু জানা মনে হয় জরুরি যে, নিজে অর্বাচীন না হলে অন্যকে অর্বাচীন বলার মতো পাঁঠামী কেউ করতে যায় না। তবে কি অর্বাচীন শব্দটি বাংলা ভাষা থেকে হারিয়ে যাবে ? না, তা যাবে না। গাধা প্রাণীটি যেমন পৃথিবী থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেলেও ‘গাধা’ শব্দটি তার প্রয়োগযোগ্যতার কারণেই বাংলা ভাষা থেকে সহজে হারাবে না, অর্বাচীন শব্দটাও তাই। কেননা আমাদের সমাজে মানসিক বিকারগ্রস্ত লোকের সংখ্যা যেমন কম নয়, তেমনি এই অর্বাচীন শব্দ ব্যবহারকারীর সংখ্যাতেও টান নেই। তার কিছু উৎকৃষ্ট নমুনা সংরক্ষণ ও প্রকাশ করার কৌতুক করে ‘প্রতীকী’ সম্পাদক মিজানুর রহমান শামীম যে রসবোধের পরিচয় দিয়েছেন তা প্রশংসার দাবীদার বৈ কি। নইলে আমরা কিছু মজাদার বিনোদন থেকে যে বঞ্চিত হতাম তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এটাও বলে রাখা আবশ্যক, যাঁরা অনেক শ্রম-ক্লান্তির পর মাঝে মাঝে সুক্ষ্ম বিনোদন নেয়ার মতো স্নায়ু-সংবেদনশীলতায় থাকেন না এবং তখনকার মতো স্থূল বিনোদন পেতে ভাঁড়ামো আর গোয়ার্তুমিকে আপাত অগ্রাধিকার দেবেন, তাঁরা &lt;b&gt;প্রতীকী’র ১৬ সংখ্যায়&lt;/b&gt; প্রকাশিত জনৈক কুমার গৌরব-এর লেখা ‘&lt;b&gt;প্রতীকী’র ১৫তম সংখ্যা- একটি পাঠ প্রতিক্রিয়া&lt;/b&gt;’ রচনাটি পড়ে দেখতে পারেন। যে লেখাটির আগার সাথে পাছার সংশ্রব নেই, পাছার সাথে মাঝের মিল নেই ইত্যাদি। আশা করা যায় বিনোদন প্রাপ্তিতে ঘাটতি হবে না। পড়তে গিয়ে কিছুতেই নিশ্চিন্ত হতে পারছিলাম না যে, লেখক কি আদৌ কোন রচনা লিখছেন, না-কি বর্জ্যত্যাগ করছেন ! অক্ষর বা শব্দ যেমন প্রয়োগ ও লেখার গুণে স্নিগ্ধ সুবাস ছড়ায়, শালীনতার অভাব বা লেখার অশ্লীলতার কারণে অক্ষর থেকেও দুর্গন্ধ ছড়ায়। ওই লেখাটিও সেরকমই। এরকম দুর্গন্ধযুক্ত লেখার জবাব দেয়া রুচিসম্মত নয়। ঘাটাঘাটিতে দুর্গন্ধ আরো বেশি করে ছড়িয়ে স্বস্তিকর বাতাসকেও আক্রান্ত করে। কিন্তু লেখক হিসেবে পাঠকের প্রতি দায়বদ্ধতাকে এড়িয়ে যাওয়ার উপায় নেই। তার চেয়েও বড় কথা, কিছু বিনোদন প্রাপ্তির কৃতজ্ঞতা স্বীকারেরও একটা বিষয় রয়েছে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এই গল্পটা তো সবাই জানেন। ছেলে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে শ্বশুরের সাথেই কোন কথা বলে না, কেবল এড়িয়ে এড়িয়ে থাকে। বংশের এমন দুর্নাম বাবা সহ্য করেন কিভাবে ! তাই ছেলেকে ডেকে বলে দিলেন শ্বশুরের সাথে যাতে অবশ্যই কুশল বিনিময় করে এবং খানিকটা কথাবার্তাও বলে নেয়। পরবর্তীতে ছেলে পিতার উপদেশ অক্ষরে অক্ষরেই পালন করলো। শ্বশুরকে দেখেই বলে উঠলো- বাবা, আপনি বিয়া করছেন ?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের কুমার গৌরব লেখার শুরুতেই তাঁর পরিচয় দিয়ে রেখেছেন- তিনি কোন কবিতাকর্মী, গদ্যকার বা সাহিত্যকর্মী নন। তবে ছড়া/কবিতা তাঁর খুব ভালো লাগে। গ্রামে বসবাস করেও বিভিন্ন লিটল ম্যাগাজিন সংগ্রহ করা তাঁর পুরনো অভ্যাস। গল্পের সেই ছেলের মতো আর কি। আর নতুন অভ্যাসটা তিনি তার লেখাতেই সেই ছেলেটির মতোই দেখিয়ে দিয়েছেন।&amp;nbsp; তার ছোট্ট একটু নমুনা- &lt;i&gt;‘কখনো কখনো কোন &lt;b&gt;অর্বাচীন &lt;/b&gt;লেখকের মতামত হয়ে পড়েছে একপেশে কিংবা &lt;b&gt;তৈলমর্দন&lt;/b&gt; নির্ভর। যেমন- প্রতীকীর ১৫তম সংখ্যার ৭৩ থেকে ৯০ পৃষ্ঠায় রনদীপম বসু’র গদ্য ‘ছড়া কবিতায় ছন্দের শাসন ও দুঃশাসন’। তিনি তাঁর গদ্যে খ্যাতিমান কবি সুজন বড়ুয়াকে &lt;b&gt;একহাত নিয়েছেন&lt;/b&gt;। সুজন বড়ুয়ার কিশোর কবিতায় কবিতার একটি শব্দ ‘খর’ নিয়ে তিনি যে &lt;b&gt;নিষ্ফল আস্ফালন&lt;/b&gt; করেছেন তাতে মনে হয়েছে সুজন বড়ুয়ার মত খ্যাতিমান কবিকে &lt;b&gt;টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনাই&lt;/b&gt; তার একমাত্র ব্রত। বাংলাদেশের কিশোর কবিতাঙ্গনে সুজন বড়ুয়া এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা। &lt;b&gt;সম্পূর্ণ চার রঙা&lt;/b&gt; যাঁর আলোতে বর্তমান সময়ের অনেক কিশোর কবিতাকর্মী আলোকিত হয়েছেন। কেউ কেউ নিজ স্বাতন্ত্র বিসর্জন দিয়ে এতাঁর লেখার চর্বিত চর্বন করে যাচ্ছেন। &lt;b&gt;রনদীপম বসুর গাত্রদাহ কোথায় তা বোঝা দুস্কর। রনদীপম বসুর সারা জীবনের অর্জিত সাধনায় সম্ভব হবে কি সুজন বড়ুয়ার কিশোর কবিতার মত অন্ততঃ একটি কবিতা লেখা ?&lt;/b&gt;…’&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;হা হা হা ! একটু হেসে নিলাম। সেই স্কুলজীবনের প্রবচনটা মনে পড়লো- &lt;b&gt;‘বন্যেরা বনে সুন্দর, শিশুরা মাতৃক্রোড়ে।’&lt;/b&gt; যাকে যেখানে মানায়। মানসিক ভারসাম্য বিপর্যস্ত না হলে কেউ সাহিত্য আলোচনায় এমন অভব্য শব্দপ্রয়োগ করতে পারে, তা আগে জানা ছিলো না। এগুলোর কি কোন সুস্থ জবাব হয় ? হুমায়ুন আজাদ এজন্যেই হয়তো তাঁর প্রবচনগুচ্ছে ১৯০ নম্বর প্রবচনটা লিখেছিলেন- &lt;b&gt;‘গাধা একশো বছর বাঁচলেও সিংহ হয় না।’&lt;/b&gt; ঘটের মধ্যে ন্যুনতম শিষ্টাচার ও সৌজন্যবোধ থাকলে কুয়োর ব্যাঙের মতো নিজের গণ্ডিটাকেই অপরিসীম মহাসাগর ভাবার মতো হঠকারি নির্বুদ্ধিতা আর ভাঁড়ামোতে ভর করতো না তাঁকে। গোটা লেখাতে বহুবার উচ্চারিত ‘&lt;b&gt;রণদীপম বসু&lt;/b&gt;’ নামটাকে বিকৃতভাবে উচ্চারণ করার মধ্যে প্রচুর বীরত্ব থাকতে পারে, ভদ্রতা নেই। এজন্যে তাঁকে আগাম দোষারোপ করবো না। অর্বাচীন ভুতের উৎপাত ছাপাখানায়ও থাকতে পারে।&amp;nbsp; তবে লেখালেখির জগতে একান্ত অপগণ্ড না হলে সারা জীবনের অর্জিত সাধনা দিয়ে কেউ সুজন বড়ুয়ার মতো কবিতা লিখতে যাবে না, এটা যাঁরা কবিতার অ আ-ও বুঝেন তাঁরাও নিশ্চয়ই অনুধাবন করেন। আর কারো মতো কবিতা লিখতে না পারলে তাঁর সাহিত্যমান নিয়ে আলোচনা করা যাবে না এরকম উজবুক ধরনের ভয়ঙ্কর চিন্তাচেতনা ধারণ করলে প্রথমেই আমাদের সাহিত্য জগতের বাঘা বাঘা সব সাহিত্য-সমালোচকের নাম ও কৃতিগুলোকেই যে কেটেছেটে বাদ দিয়ে দিতে হবে, এই সহজ কথাটা বুঝতে না চাওয়ার মধ্যে দুরভিসন্ধি যেমন থাকে, তেমনি মূর্খতার আলামতও ঢেকে রাখা যায় না। ভাগ্যিস কুমার গৌরব যে বলে বসেন নি, সারা জীবনের সাধনা দিয়ে আগে সুজন বড়ুয়ার মতো এরকম সম্পূর্ণ চার রঙা গোলগাল একখান গৌরবর্ণ জ্যোতির্ময় চেহারা বানিয়ে তারপর তাঁর লেখা নিয়ে আলোচনা করতে আসেন !&amp;nbsp; এজন্যে তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ তো বটেই। নইলে আজ এই দুয়েকটা কথা বলার সুযোগ কি আর ঘটতো !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কুমার গৌরবের বক্তব্য অনুযায়ী সুজন বড়ুয়ার মতো ‘বাংলাদেশের কিশোর কবিতাঙ্গনের এক উজ্জ্বল ধ্রুবতারা’র একটি রচনার একটি শব্দ &lt;b&gt;‘খর’&lt;/b&gt;-এর ভুল ব্যবহার নিয়ে আলোচনা করাটা তাঁর মতে &lt;b&gt;‘নিষ্ফল আস্ফালন’&lt;/b&gt; হয়ে গেছে আমার। এরকম আরোপিত সিদ্ধান্তের হেঁচকা টানে আমাকে সরাসরি যুদ্ধের ময়দানে নামিয়ে দেয়ার প্রেক্ষিতে জবাব দিতে গেলে আলোচনায় একটু খরতা এসে যায় বৈ কি। এ জন্যে লেখক ও সম্মানিত পাঠকদের কাছে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আমার স্বাভাবিক গদ্যভাষা থেকে এ লেখাটার উপস্থাপনভঙ্গির ভিন্নতার কারণে।&amp;nbsp; ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী’র উল্লেখযোগ্য একটা উক্তি ছিলো, যা বাংলা উচ্চারণে এরকম- &lt;b&gt;‘নোবোডি কিকস এ্যা ডেড-ডগ’&lt;/b&gt;। মহাজন ব্যক্তিদের কিছু কিছু উক্তিকে আপ্তবাক্য হিসেবে মান্য করতে হয়। সুজন বড়ুয়া, এখন পর্যন্ত যাঁর রচনাবলীর কিশোর-কবিতা নামধারী রচনার শতকরা নব্বইভাগ বর্জ্য-পদ্য ছাড়া আর কিছু না, বাকিগুলোর সিংহভাগই ‘হতে পারতো’ জাতীয় লেখা, তাঁকে নিয়ে আলোচনা করার রুচি বা দুর্মতি কোনটাই আমার নেই বা কখনো ছিলোও না। কিন্তু আমার কলমের সামনে অযাচিতভাবে এসে সামনে দাঁড়িয়ে যাবার কৃতিত্ব বা দায় একান্ত তাঁরই।&amp;nbsp; কুমার গৌরবের বক্তব্য অনুযাযী ‘সুজন বড়ুয়ার মত খ্যাতিমান কবিকে টেনে হিঁচড়ে নিচে নামিয়ে আনাই’ আমার একমাত্র ব্রত কিনা তার জবার একটু খেয়াল করলে এ রচনাতেই পাঠকরা পেয়ে যেতে পারেন ।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পাঠকের বিনোদন পাওয়ার মতো কুমার গৌরবের বহু প্রণিধানযোগ্য উক্তি তাঁর লেখাটিতে রয়েছে। আসুন আগে সেরকম আরো কিছু উক্তি শুনে নেই আমরা।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;‘মাগো তুমি বলো শুধু- “খোকন পড়ো,/ হতে হবে জ্ঞানী গুণী অনেক বড়,/ হতে হবে উঁচু শির পাহাড়ের মতো থির/ হতে হবে সুগভীর সাগর খর/ আকাশের মতো খোলা বিশাল বড়।” -(কোন একদিন/ সুজন বড়ুয়া)&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;‘একজন কিশোর সাগরের মত ‘খর’ হতে চাইছে কেন। এখানেই রনদীপম বসুর আপত্তি। দুরন্ত কিশোরের সাগরের মত ‘খর’ হতে চাওয়াকে তিনি নেতিবাচক অর্থে চিন্তা করেছেন, যাতে তার জ্ঞানের সীমাবদ্ধতার প্রকাশ পেয়েছে। …… রনদীপম বসুর মত অর্বাচীনদের যা বোঝার কথা নয়।’&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিশাল কবিতা বোদ্ধার মতো কথাই বটে ! সারারাত রামায়ণ পড়ে অতঃপর প্রশ্ন হলো- সীতা কার বাপ ? উপরের পঙক্তিগুলোতে কোথাও কি তা বুঝানো হয়েছে যে এগুলো একান্তই খোকার চাওয়া ? না-কি খোকার মায়ের ইচ্ছেটাই এখানে প্রতিফলিত ? আমার গদ্যে শুধু ‘খর’ই নয়, পরবর্তীতে কবি যে তাঁর অন্য বইয়ে এই ‘খর’ শব্দটিকে ‘খড়’ দিয়ে প্রতিস্থাপিত করেছেন, সে ব্যাপারেও আলোকপাত করা হয়েছিলো। সে বিষয়টা তিনি আদৌ পড়েছেন, না কি সুকৌশলে এড়িয়ে গেলেন তা বুঝা যাচ্ছে না। তবে এটা বুঝা যাচ্ছে যে, আর যাই হোক তালে তিনি ঠিকই আছেন। এ বিষয়টাতে আর কথা না বাড়িয়ে বরং আমার গদ্যটাতে এ ব্যাপারে কিভাবে কী বলা হয়েছিলো তা পাঠকের বিবেচনার জন্য উদ্ধৃত করি-&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;‘অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার ১৩৯১ প্রাপ্ত ‘আজ সারাদিন আমরা স্বাধীন’ বই এর উপরে উদ্ধৃতাংশের কবিতাটি একটি সেরা রচনা এবং প্রচলিত প্রকরণে আদর্শ নমূনা হিসেবে কিশোরকবিতার অন্যতম দৃষ্টান্ত হতে পারতো। উদ্ধৃত অংশটুকু কবিতাটির প্রথম প্যারা। এখানে একটি খোকার প্রতি একজন মায়ের চিরকালীন চাওয়াটুকু বর্ণিত হয়েছে খোকার জবানীতে। কবিতার পরবর্তী ছ’টি প্যারাতে লেখক ছন্দের নিপুণ ব্যবহার ও চমৎকার কাব্যময় অভিব্যক্তির মাধ্যমে চিরায়ত খোকার অনুভূতিগুলো ব্যক্ত করার মুন্সিয়ানা দেখিয়ে ‘বিদ্যাসাগর’ রূপকাশ্রয়ে সমাপ্তিও টেনেছেন অত্যন্ত সুন্দরভাবে। কিন্তু কবিতাটির শুরুতেই প্রথম প্যারায় যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করা হয়েছে, পাঠক এখানে এসেই অকস্মাৎ কর্কশ হোঁচট খেয়ে ছিটকে গেলে বাকী পথ পেরোবেন কী করে? উদ্ধৃত অংশের চতুর্থ পঙক্তিতে মায়ের অন্যতম চাওয়া ‘হতে হবে সুগভীর সাগর খর’। এখানে ‘&lt;b&gt;খর’&lt;/b&gt; শব্দটি ব্যবহার করে লেখক আসলে কী বুঝাতে চেয়েছেন?&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;‘বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান’ ৮ম পুনমুদ্রণ: মাঘ ১৪১৩/ জানুয়ারি ২০০৭ সংস্করণ থেকে দেখা যাক ‘খর’ শব্দটির কী অর্থ বেরিয়ে আসে। খর(১)- ১ ধারাল; তীক্ষ্ণ (খর অসি)। ২ প্রবল (খর দাহন)। ৩ তীব্রগতি (খরস্রোতা)। ৪ কর্কশ; কঠোর; রূঢ় (খর বচন)। ৫ উগ্র; কড়া (খর ঝাল)। ৬ প্রখর; প্রচণ্ড (খর রৌদ্র)। ৭ ধাতব পদার্থ মিশ্রিত (খর পানি)। খর(২) ১ গর্দভ; খচ্চর; অশ্বতর। ২ রাস বিশেষ।&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;দেখা যাচ্ছে যে ‘খর’ শব্দটি একটি বিশেষণবাচক শব্দ এবং মানুষের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যে এ শব্দের প্রয়োগ নেতিবাচক গুণাবলীই (?) প্রকাশ করে। কোন মা কি তাঁর সন্তানের মধ্যে ‘সুগভীর সাগরের’ বিশাল ব্যাপ্তি নিয়ে কোন খর বা নেতিবাচক গুণের প্রকাশ ঘটাতে চাইতে পারেন?&amp;nbsp; শুধুমাত্র ছন্দ ও মিলের সুতীব্র মোহে চিরকালীন মায়েদের নির্মল আকাঙ্ক্ষায়ও বিপত্তি ঘটিয়ে দেয়া হলো!&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;উল্লেখ্য, ফেব্রুয়ারি ২০০৭ এ প্রকাশিত একই লেখকের ‘এসো ছন্দ শিখি ছড়া-কবিতা লিখি’ গ্রন্থটির দ্বিতীয় পরিচ্ছেদের দ্বিতীয় অধ্যায়ে ‘ছন্দ যেন মন্দ না হয়’ শিরোনামের নিবন্ধটিতে বিষয়ের দৃষ্টান্ত হিসেবে লেখক নিজের রচিত এই কবিতাটিরই পুরো উদ্ধৃতি টেনে এখানে আবার আলোচ্য ‘খর’ শব্দটি প্রতিস্থাপিত করেছেন ‘&lt;b&gt;খড়’&lt;/b&gt; শব্দ দিয়ে। পূর্বোক্ত বাংলা অভিধানে ‘খড়’ শব্দের অর্থ দেয়া আছে- শুষ্ক শস্যশূন্য ধানগাছ; বিচালি বা শুকনা ঘাস। অতএব পঙক্তিটির সর্বশেষ সংস্করণ ‘হতে হবে সুগভীর সাগর খড়’-এর ভাবগত অর্থ কী হতে পারে&amp;nbsp; তার সুযোগ্য ব্যাখ্যা হয়তো প্রাজ্ঞজনেরাই দিতে পারবেন।’&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কুমার গৌরব যে সুজন বড়ুয়ার একজন অন্ধ ভক্ত তা তাঁর লেখাটির পরতে পরতে ক্ষোভের সাথে রণদীপম বসুর উপর খড়গ-হস্ত হয়ে উঠা দেখেই বুঝা যায়। এক্ষেত্রে সুজন বড়ুয়া প্রশংসার দাবীদার যে, অন্তত এমন একজন অন্ধ ভক্ত তিনি তৈরি করার কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। তবে অন্ধত্ব যে শেষ বিচারে বিপর্যয়ই ডেকে আনে তাও জেনে রাখা উচিত ছিলো। কুমার গৌরবের লেখাটিতে আসলে ক্ষোভের বিষয় দুটো। একটি হলো পৃথিবীতে আর যে কারো সমালোচনা হোক ক্ষতি নেই, এমন কি প্রায় সুজন বড়ুয়ার কাতারের রাশেদ রউফ-এর লেখার সমালোচনাও করা যাবে, কিন্তু সুজন বড়ুয়ার লেখার সমালোচনা করা যাবে না। আর দ্বিতীয়টি হলো, ভাশুরের নাম মুখে আনার মতোই পরিত্যাজ্য লেখক জুলফিকার শাহাদাৎ-এর নাম কেন উচ্চারণ করা হবে ? তাঁর গোটা লেখাটার সারবস্তু হচ্ছে- &lt;b&gt;‘ঠাকুর ঘরে কে রে ? আমি কলা খাই না !’&lt;/b&gt; আমার সেই গদ্যটিতে তিরিশজন লেখকের তিরিশটা উদ্ধৃতির মধ্যে জুলফিকার শাহাদাৎ কেন আসবে, এটাই তাঁর আসল ক্ষোভ। আর এই ক্ষোভ প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি জুলফিকারের কবিতার যে উদ্ভট বিশ্লেষণ করেছেন, তা এতোটাই হাস্যকর যে তা যাঁরা কবিতা বিষয়ে সামান্য ধারণাও রাখেন, তাঁদের জন্য বেশ বিনোদনের খোরাক হবে বলে মনে করি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কুমার গৌরব আরেকটা যে মহান তত্ত্ব আবিষ্কার করলেন তাও বেশ চমকপ্রদ। তাঁর নমুনা- &lt;i&gt;‘রনদীপম বসুর আরো অনেক গদ্যে ঘুরে ফিরে জুলফিকার শাহাদাৎ এসেছেন বার বার। খবর নিয়ে জানা যায় জুলফিকার শাহাদাৎ তাঁর খুবই ঘনিষ্ঠ, একই প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। জুলফিকার শাহাদাৎকে হাইলাইট করাও রনদীপম বসুর আর একটি চাতুর্য্যপূর্ণ মিশন। তাই বলে এমন নির্লজ্জ সাফাই ? ঘোড়াও এতে না হেসে পারে না।&lt;/i&gt;…’&lt;br /&gt;এবার পাঠকরাই বলুন, এ কথার কী জবাব হয় ? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন লেখক শিক্ষক কি তাহলে আরেকজন লেখক শিক্ষকের আলোচনা করতে পারবেন না ? একই পত্রিকায় কর্মরত একজন লেখক কি আরেকজনের নাম মুখে আনতে পারবেন না ? তবে একই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ শিশু একাডেমীতে কর্মরত থেকেও লেখক ফারুক নওয়াজ কিন্তু সুজন বড়ুয়ার প্রশংসা করতে পারবেন এবং করেছেনও। তার কারণ কি সুজন বড়ুয়া জুলফিকার শাহাদাৎ নয়, এজন্যেই ? আরেকটা প্রবচন মনে হলো- &lt;b&gt;‘যে সমাজে গাধার সবচেয়ে বড় গুণ হলো সে গাধা, আর মানুষের সাংঘাতিক অপরাধ হচ্ছে সে মানুষ, সে সমাজে গাধারাই রীতিনীতির সিদ্ধান্ত দেয়’।&lt;/b&gt; আমি যদি এখন দেড়মন গোবর নিয়ে বলি এগুলো পোলাও-এর চাল, কেউ কি তা বিশ্বাস করবে ? আর দেড়মন পোলাও-এর চালকে গোবর বললেই কি মানুষ তা ফেলে দেবে ? আসুন কুমার গৌরবের গুরু সুজন বড়ুয়া জ্বলজ্বলে অক্ষরে জুলফিকার শাহাদাৎ সম্পর্কে কী বললেন তা দেখি-&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;‘কিশোর কবিতা এখন এক জনপ্রিয় সাহিত্য মাধ্যম। কবিতার ভাব, অর্থ ও আঙ্গিক সব আধুনিক মোহনীয় বৈশিষ্ট্য এ শ্রেণীর রচনায় উপস্থিত। অনুপস্থিত শুধু কবিতার গভীর রহস্যময়তা। কৈশোর সংলগ্ন শিল্পিত কিন্তু সরল প্রকাশভঙ্গির জন্যই এর পরিচয় কিশোর কবিতা। বাংলাদেশে প্রবহমান কিশোর কবিতার বর্তমান ধারায় জুলফিকার শাহাদাৎ একটি নতুন কষ্ঠস্বর। গতানুগতিক প্রথার বেড়াজাল ভাঙার প্রত্যয়ে উদ্দীপ্ত কবি তিনি। তাঁর প্রতিটি লেখাই বিষয়ে আঙ্গিকে, শব্দে, ছন্দে পরীক্ষা-নিরীক্ষায় পুষ্ট। আবেগের সঙ্গে বুদ্ধির মেলবন্ধনই তাঁর কবিতা। বাংলাদেশের সবুজ গ্রাম, নিবিড় প্রকৃতি ও সংগ্রামী জীবনের অনুষঙ্গগুলো তাঁর কবিতায় পায় ভিন্ন মাত্রা। এই বইয়ের একুশটি কবিতাও এ বক্তব্যের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়। এটি তাঁর প্রথম প্রকাশিত বই। অথচ এটি নিছক তারুণ্যের উচ্ছ্বাস নয়, আধুনিক মননঘন পরিণত উচ্চারণ। এই বই বাংলাদেশের কিশোর কবিতার জগতে নিঃসন্দেহে এক নতুন আলোক-বিন্দু।’&lt;/i&gt;- (সুজন বড়ুয়া, ১২.০১.০৭)।&amp;nbsp; ‘আকাশকে খোলাচিঠি’ বইটির সূত্র ধরে এই হলো জুলফিকার শাহাদাৎ সম্পর্কে সুজন বড়ুয়ার মূল্যায়ন।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে বিভিন্নভাবে বহু গদ্য লিখতে হয়েছে আমাকে। ছড়া সাহিত্য বা শিশু-সাহিত্য নিয়েও লেখা হয়েছে বেশ কতকগুলো। কিন্তু আমার মনে পড়ে না, এতোটা হাতখোলা প্রশস্তি আমি জুলফিকার শাহাদাৎ-কে নিয়ে কোথাও করেছি কিনা। বরাবরই লেখার গুণমুগ্ধ আমি। লেখা উপেক্ষা করে লেখক বা ব্যক্তিকে কখনো প্রাধান্য দিয়েছি বলেও মনে পড়ে না। ভালো লাগলে একেবারে নবীন লেখকের চমৎকার লেখাটিও অনায়াসে তুলে এনে সবার সাথে ভাব বিনিময়ের চেষ্টায় সবসময় সচেষ্ট থেকেছি এবং এখনও আছি। ফোর-কালারের খ্যাতিমান ব্যক্তি হলেই যে তাঁর বর্জ্যকেও গায়ে মেখে নিতে হবে, এরকম আহামরি রুচিবোধ প্রদর্শনে অন্ধভক্ত কুমার গৌরবের জন্য শ্লাঘার বিষয় হতে পারে, রণদীপম বসুর মেরুদণ্ড এতোটা নিগ্রহে এখনো পৌঁছায়নি। আর তৈলমর্দনের বিষয়টা যেহেতু ব্যক্তিকেন্দ্রিকই হয়, তাই ব্যক্তিকেন্দ্রিক তৈল মর্দনের সুবিধা-অসুবিধাগুলো সম্পর্কে ব্যক্তিচর্চাকারী কুমার গৌরবই ভালো বলতে পারেন। এক্ষেত্রে আমার অনভিজ্ঞতাই আমার মহার্ঘ সম্পদ হয়ে থাকলো না হয়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আগেই উল্লেখ করেছি যে, অন্ধতা বা গোঁড়ামি শেষ বিচারে আসলে বিপর্যয়ই ডেকে আনে। আমাদের প্রয়োজন গুণমুগ্ধ হওয়া, কিছুতেই অন্ধভক্তি নয়। কিন্তু আমাদের অন্ধভক্তদেরকে এ কথাটা বুঝানোর মতো কোন আধুনিক প্রযুক্তি বোধ হয় এখনো আবিষ্কৃত হয়নি। তাই অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এখনো যে আদিম প্রক্রিয়াটিই ব্যবহার করতে হয়, তা হলো গুঁতো দেয়া। এতেও অনেক ক্ষেত্রে কোন কাজে আসে না। কারণ চামড়ার পুরুত্বের সাথে অনুভূতির তীব্রতা সব সময়ই বিপরীতানুপাতিক হয়। কুমার গৌরব যে উল্লেখ করেছেন- &lt;i&gt;‘রনদীপম বসুর আরো অনেক গদ্যে ঘুরে ফিরে জুলফিকার শাহাদাৎ এসেছেন বার বার’&lt;/i&gt;, সেক্ষেত্রে তিনি যদি কিছু নমুনা-উদ্ধৃতি টানতেন তাহলে সুনির্দিষ্টভাবে সেই প্রেক্ষাপটগুলো আলোচনা করায় সুবিধা পাওয়া যেতো। প্রতিটা লেখকেরই কিছু না কিছু দায়বদ্ধতা থাকে বা থাকা উচিত। প্রাচীন গ্রীক কবি ইউরিপিডিস (৪৮০-৪০৬ খ্রীঃ পূঃ)-এর চমৎকার একটা উক্তি আছে- &lt;b&gt;‘চিন্তারাজিকে লুকিয়ে রাখার মধ্যে কোন মাহাত্ম্য নেই, তা প্রকাশ করতে যদি লজ্জাবোধ হয়, তবে সে ধরনের চিন্তা না করাই বোধ হয় ভাল।’&lt;/b&gt; এই কথাটাকে আমি আমার ক্ষেত্রে আপ্তবাক্য হিসেবে জ্ঞান করি। যেখানেই কোন অনাচার বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড নজরে আসে এবং তা আমাকে ভাবায়, সম্ভব হলে সাধ্যানুযায়ী এর প্রতিবাদ করার চেষ্টা করে এসেছি আমি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নভাবে। এরকমই ২০০৭ সালে &lt;i&gt;‘এম নূরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার’&lt;/i&gt; ঘোষণায় সাহিত্য-পাঠকদেরকে রামছাগল বিবেচনা করার যে অনৈতিক প্রক্রিয়া খুব স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে আমার, সেই নেক্কারজনক ঘটনা নিয়ে &lt;i&gt;‘&lt;a href="http://horoppa.blogspot.com/2008/03/blog-post_03.html"&gt;&lt;b&gt;আমাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, ভানুমতির খেল&lt;/b&gt;&lt;/a&gt;’&lt;/i&gt; শিরোনামে একটা গদ্য লিখেছিলাম, যা একটি দৈনিকের ঈদ সংখ্যায় প্রকাশিত হয়েছিলো। যেখানে একই বিষয় ছড়া-কবিতায় পুরস্কারপ্রাপ্ত দুটো বই সুজন বড়ুয়া’র &lt;i&gt;‘বুকের ভেতর শাপলা ফোটে’&lt;/i&gt; এবং শিবুকান্তি দাশের &lt;i&gt;‘রোদের কণা রুপোর সিকি’&lt;/i&gt; নিয়ে পরিপূর্ণ ব্যবচ্ছেদ ও বিশ্লেষণমূলক তথ্য উপাত্ত উপস্থাপন করা হয়েছিলো। সেখানে অন্যতম প্রতিযোগী হিসেবে অধিকতর যোগ্য বই জুলফিকার শাহাদাৎ-এর ‘আকাশকে খোলাচিঠি’ নিয়েও খুব সঙ্গতভাবেই তুলনামূলক বিশ্লেষণ করা হয়েছিলো। নইলে ভানুমতির খেলটাকে পাঠকরা যথাযথভাবে যাচাই করতেন কিভাবে ?&amp;nbsp; পাঠকরা খুব শীঘ্রই অন্য কোন ছোটকাগজে সেই গদ্যটার সর্বশেষ রিভিউটা পড়ার সুযোগ পাবেন আশা করছি। এতেও যদি আমাদের চোখ বন্ধ করে রাখা জাস্টিফাইড ভক্ত-পাঠকদের দৃষ্টি-বিভ্রম কিছুটা ঘুঁচে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ তো গেলো দৃশ্যমান কৃতকর্মের যৎকিঞ্চিৎ ফিরিস্তি। এর বাইরেও লোকচুর অন্তরালে এমন কিছু ঘটনা ঘটে যায় যেখানে ব্যক্তির যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নবান হতেই হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে সেগুলো এমন একপক্ষীয় ও ব্যক্তিগত সাক্ষ্যবাহী যে তার খণ্ডিত যে প্রমাণটুকু পাঠকের চোখের সামনে থাকে তা থেকে পাঠক আসলে কিছুই প্রমাণ করতে পারে না। এরকম একটা অভিজ্ঞতা আজ প্রসঙ্গক্রমে পাঠকের সাথে শেয়ার করছি। তবে তার আগে পাঠকের কাছে আবারো মার্জনা চেয়ে রাখছি। কুমার গৌরব জেনে বা না জেনে রণদীপম বসুর যোগ্যতা নিয়ে যে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে রেখেছেন তার প্রমাণপত্র এখানে হাজির করা তাঁর কৃতকর্মের মতোই আরেকটা ছ্যাবলামো হয়ে যাবে। তিনি যেহেতু ব্যক্তিগত খোঁজ-খবর সংগ্রহে ইতোমধ্যেই তাঁর অতুলনীয় দক্ষতা দেখিয়ে দিয়েছেন, আশা করি বাকি খোঁজ-খবরটুকুও নিজ দায়ে সংগ্রহ করে তাঁর জানার কুয়োটাকে সম্প্রসারণ করতে উদ্যোগি হবেন। এখানে যে অভিজ্ঞতাটুকু শেয়ার করতে চাচ্ছি, তা হচ্ছে কুমার গৌরবের মূর্তিমান গুরু সুজন বড়ুয়ার সম্পাদক হিসেবে কবিতা বুঝার ভয়ানক গুণাবলী বিষয়ক।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ব্যক্তির যোগ্যতা আসলে তাঁর সমস্ত কর্মকাণ্ডেই কোন না কোনভাবে প্রকাশ পাবেই। সেটা সম্ভবত ২০০৭ সালের এপ্রিল বা মে মাসের কথা। বাংলাদেশ শিশু একাডেমী থেকে যে শিশু-কিশোরদের সচিত্র মাসিক পত্রিকা ‘শিশু’ নিয়মিত বের হয়, তাতে ডাকযোগে একটি কিশোর-কবিতা পাঠাই আমি। শিশু’র সম্পাদক হিসেবে সরকার নিয়োজিত যে আমলা-ব্যক্তিদের নাম প্রিন্টার্স লাইনে আসে, তা কেবলই একটা পদাধিকার সিস্টেম। মূলত পত্রিকাটির সম্পাদনা করেন মূলতঃ সুজন বড়ুয়াই। ছুড়ি-কাচি নিয়ে লেখকদের উপর চড়াও হওয়ার স্বয়ম্ভু ক্ষমতা পদাধিকার বলেই তাঁরা পেয়ে যান। যোগ্য হাতে ছুড়ি কাচি থাকলে বাঁদর যেমন শিবের মহিমা পেয়ে যায়, তেমনি কিরকম হাতে পড়লে শিবও বাঁদর হয়ে যায় তা পাঠকদের বিবেচনার কাছেই সিদ্ধান্তটা তুলে দেয়া হলো।&lt;br /&gt;আমার প্রেরিত কবিতাটার চেহারা ছিলো এরকম-&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;/আলোর দুপুর উল্টে দিয়ে&amp;nbsp; আগুন জামা গায়&lt;br /&gt;বোশেখ এলেই রোদ বালিকার দুষ্টু নাচন&lt;br /&gt;তপ্ত নূপুর পায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ও বালিকা দুষ্টু কেন,&lt;br /&gt;এই আমাকে তুমি চেন ?&lt;br /&gt;মেঘ ভাইয়ারা আরো ভালো, তোমার মতো নয়&lt;br /&gt;তবুও ভালোবাসি তোমায়- আর কে এমন হয়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমি যখন চুপটি করে&lt;br /&gt;খেলতে চলি ভরদুপুরে&lt;br /&gt;তুমিও না হয় অমনি আমার&amp;nbsp; খেলার সঙ্গী হয়ো&lt;br /&gt;শুধু, ওই জামাটা পাল্টে তোমার&amp;nbsp; অন্য জামা নিও।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;তখন মা আর বকবে না&lt;br /&gt;যেতে বারণ করবে না&lt;br /&gt;কত্তো খেলা শিখিয়ে দেবো&amp;nbsp; খেলবে গিয়ে ঘরে,&lt;br /&gt;মেঘ ভাইয়াকেও সঙ্গে এনো&amp;nbsp; খেলার সাথি করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;(&lt;b&gt;রোদ বালিকা/ রণদীপম বসু&lt;/b&gt;)&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পরবর্তীতে ২০০৮-এর বইমেলায় ‘মুক্তদেশ’ প্রকাশনা থেকে প্রকাশিত আমার কিশোর-কবিতার বই ‘খোকার জানালা’-তেও কবিতাটা স্থান পেয়েছে। পাঠকরা সেখান থেকেও মিলিয়ে দেখতে পারেন, অন্যদিকে শিশু একাডেমীর মালখানায় নিশ্চয়ই আমার স্বহস্তে লিখিত কাগজটা রক্ষিত থাকার কথা। কিন্তু ‘শিশু’ জুন ২০০৭ সংখ্যায় উপরোক্ত কবিতাটাই যেভাবে রক্তাক্ত হয়ে পাঠকের কাছে উপস্থাপিত হলো, তার নমুনা এবার দেখুন-&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;/আলোর দুপুর উল্টে দিয়ে&amp;nbsp; আগুন জামা গায়&lt;br /&gt;বোশেখ এলেই রোদ বালিকার দুষ্টু নাচন&lt;br /&gt;তপ্ত নূপুর পায়।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;ও বালিকা দুষ্টু কেন,&lt;br /&gt;এই আমাকে তুমি চেন ?&lt;br /&gt;মেঘ ভাইয়ারা আরো ভালো, তোমার মতো নয়&lt;br /&gt;তবুও ভালোবাসি তোমায়- আর কে এমন হয়!&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;আমি যখন চুপিসারে খেলতে চলি ভরদুপুরে&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;তুমিও না হয় খেলার সঙ্গী হয়ো আমার প্রিয়&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;শুধু তোমার ওই জামাটা পাল্টে তুমি অন্য জামা নিও-&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;তখন মা আর বকবে না&lt;br /&gt;যেতে বারণ করবে না&lt;br /&gt;&lt;b&gt;কত্ত&lt;/b&gt; খেলা শিখিয়ে দেবো&amp;nbsp; খেলবে গিয়ে ঘরে,&lt;br /&gt;মেঘ ভাইয়াকেও সঙ্গে এনো&amp;nbsp; খেলার সাথি করে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সেদিন থেকেই এটা বুঝে গেছি যে, কোন সৃষ্টিই ঐ শিশু পত্রিকার জন্য কোনভাবেই নিরাপদ নয়, যতক্ষণ পর্যন্ত সুজন বড়ুয়ার মতো কবিতা বোদ্ধার উপস্থিতি সেখানে থাকবে। লেখকরা যে কেবল সম্মানি বা মুদ্রিত হওয়ার জন্যই লিখেন না, তার পেছনে থাকে সৃষ্টির যন্ত্রণা ও আনন্দ, সেই উপলব্ধি যে ধারণ করতে জানে না তাঁর নিজস্ব সৃষ্টির হাল-হকিকত কী হবে তা নিশ্চয়ই এ থেকেই অনুমেয়। রণদীপম বসু ভুলেও আর কখনো ‘শিশু’র ঠিকানায় ডাকবাক্সে কিছু ফেলেনি বা তাঁর লেখাগুলোর সম্মানীর জন্যেও শিশু একাডেমীতে যায় নি।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;আমাদের কুমার গৌরব যেভাবে ধ্রুবতারার মূর্তি বানিয়ে সুজন-পূজায় মত্ত আছেন, তাতে অন্ধ আবেগ থাকতে পারে, যুক্তি নেই। আমাদের মেরুদণ্ডহীন অন্ধত্বকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখাতেই বোধ করি হুমায়ুন আজাদ তাঁর প্রবচনগুচ্ছের ৭৯ নম্বর প্রবচনটি এভাবে লিখেছিলেন- &lt;b&gt;‘মূর্তি ভাঙতে লাগে মেরুদণ্ড, মূর্তিপূজা করতে লাগে মেরুদণ্ডহীনতা।’&lt;/b&gt; সুজন বড়ুয়াকে নিয়ে কিছু লেখার মতো এমন আহামরি সম্ভার তাঁর রচনাবলীতে পাইনি যে বিরোধিতা করার জন্যেও তাঁকে নিয়ে তেমন কিছু লিখতে হবে আমাকে। এই যেমন পৃথিবীতে কতো কিছু থাকতেও উল্লেখযোগ্যহীন জনৈক কুমার গৌরবকে নিয়ে বিন্দুমাত্র ইচ্ছা বা রুচি কোনটাই না থাকার পরও এতোক্ষণ সময় ও কালির অপচয় করতে হলো আমাকে, যা সাহিত্যের কোন কাজেই আসবে না। একমাত্র আশা, যদি কারো বোধোদয় ঘটাতে তা কাজে লাগে। সুজন বড়ুয়াকে আকাশের উজ্জ্বল ধ্রুবতারা বানিয়ে পরিশেষে তিনি যেমন বলেছেন- &lt;i&gt;‘রনদীপম বসু এরকম একপেশে, তৈলমর্দন নির্ভর গদ্য অথবা কারো আজ্ঞাবহ হয়ে তাকে আকাশে তোলার হাস্যকর মন্তব্য নির্ভর গদ্য লেখা থেকে বিরত থাকলে সাহিত্যের এ মাধ্যমটি বড় বিপদ থেকে রক্ষা পাবে বৈকি।’&lt;/i&gt;&amp;nbsp; তার প্রেক্ষিতে ছোট্ট একটা কৌতুক দিয়েই লেখাটার মুখ গুটিয়ে ফেলতে চাচ্ছি। কৌতুকটা হলো-&lt;br /&gt;ছেলেকে নিয়ে পিতা গেছেন রাঙামাটি বেড়াতে। প্রকৃতির বিচিত্র লীলা আর অপরূপ সৌন্দর্যে মুগ্ধ পিতা&amp;nbsp; ছেলের কাছে জানতে চাইছেন- বাবু, সিনারিগুলো কেমন লাগছে তোমার ? ছেলে বলছে- বাবা, সিনারি দেখবো কী করে ? পাহাড়ের জন্যে তো কোন সিনারিই দেখা যাচ্ছে না !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কুমার গৌরবের চোখের সামনেও রণদীপম বসু’র মতো একটা পাহাড় যদি বাধা হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সাহিত্যের সিনারি দেখাটা তাঁর জন্যে বড় বিপদ বৈ কি !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;…&lt;br /&gt;[ 'প্রতীকী' ১৭সংখ্যায় প্রকাশিতব্য]&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-4487862231671451828?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/4487862231671451828/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=4487862231671451828' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/4487862231671451828'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/4487862231671451828'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_6461.html' title='| ষোড়শ সংখ্যা ‘প্রতীকী’, কিছু কথা কিছু আকথা…|'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://3.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss7jd4gv4AI/AAAAAAAAF84/kXxsV_j5gko/s72-c/07102009_Protikee_photo_Ranadipam_Basu.jpg' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-3227089940699740733</id><published>2009-10-09T12:42:00.004+07:00</published><updated>2009-10-10T15:06:47.265+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Free-Article'/><title type='text'>| ‘একুশে পদক’ চান ? এখনই আবেদন করুন !</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss7QAkRfdGI/AAAAAAAAF8w/IWfdnoShxQg/s1600-h/Ekushepadak.JPG" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss7QAkRfdGI/AAAAAAAAF8w/IWfdnoShxQg/s320/Ekushepadak.JPG" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;br /&gt;&lt;b&gt;|‘একুশে পদক’ চান ? এখনই আবেদন করুন !&lt;/b&gt;&lt;br /&gt;&lt;i&gt;রণদীপম বসু&lt;/i&gt;&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২০০৯ তারিখে দৈনিক ইত্তেফাকের ১২ পৃষ্ঠায় ‘বিনোদন প্রতিদিন’ বিভাগের পাতায় প্রকাশিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রদত্ত বিজ্ঞপ্তিটিকে নিশ্চয়ই কেউ বিনোদন হিসেবে নেবেন না। তবু সিরিয়াস এই বিজ্ঞপ্তিটাকে কেন যেন মজার একটা বিনোদন হিসেবেই মনে হলো। আমার ভুল হয়ে থাকলে পাঠক চোখে নিশ্চয়ই তা এড়াবে না। একুশে পদক- ২০১০-এ পুরস্কার প্রদানের নিমিত্তে আগ্রহী প্রার্থীদের কাছ থেকে আবেদন চেয়ে প্রদত্ত এ বিজ্ঞপ্তিটিতে বলা হচ্ছে- ‘ এতদ্বারা সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে একুশে পদক- ২০১০ এর পুরস্কার প্রদানের নিমিত্ত নিম্ন বর্ণিত যোগ্যতা সম্পন্ন ব্যক্তি/ সংগঠনকে নির্ধারিত ছকে জীবনবৃত্তান্ত উল্লেখ পূর্বক আগামী ২২-১০-২০০৯ ইং তারিখের মধ্যে বাংলাদেশ সরকারের যে কোন মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন যে কোন দপ্তর/ অধিদপ্তর/ সংস্থা এবং জেলা প্রশাসনের (সংশ্লিষ্ট জেলা) দপ্তরে দাখিলে জন্য অনুরোধ করা যাচ্ছে। উপরোক্ত দপ্তর/ সংস্থা মনোনয়ন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে অগ্রায়ন করবে।..’ (বিঃ দ্রঃ- বিজ্ঞপ্তির ভাষা ও বানান হুবহু রাখা হয়েছে।) &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;পাঠকেরা বিশ্বাস করেন আর না করেন, এতটুকু পড়েই বুকের ভেতরটায় কেমন আনচান করতে লাগলো ! এর আগ পর্যন্ত এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রাপ্তির বিষয়টিকে বহুৎ দূরের বিশাল কিছু একটা ভেবে এসেছি। ওটা পেতে আগ্রহী হবার কল্পনাতীত দুর্মতি চিন্তারও অগম্য ছিলো। কিন্তু এটাকে হঠাৎ এখন সর্বসাধারণের আবেদনযোগ্য করে তোলায় মনের মধ্যে কী যেন একটা ভুলকি মারতে লাগলো। অগ্রণী ব্যাংক সাহিত্য পুরস্কার, এম নূরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার প্রভৃতিতে দেখেছি আগ্রহী প্রার্থীরা নিজের বায়োডাটা তৈরি করে কতকগুলো প্রকাশিত বই বিজ্ঞপ্তি-নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠিয়ে দিয়ে অতঃপর পুরস্কার ঘোষণার দিন গুনা শুরু করে দেয়। শুনেছি কেউ কেউ নাকি আবার নিজের যোগ্যতাকে অপ্রতিদ্বন্দ্বী করতে নানারকম যোগাযোগের অন্ধি-সন্ধি খোঁজায়ও ব্যস্ত হয়ে পড়েন। একুশে পদকের ক্ষেত্রে কেমন হবে জানি না, তবে বিজ্ঞপ্তিটি প্রকাশের পর পর সুধীমহলের বিস্ময় আর শিল্পী সমাজের প্রতিবাদ প্রতিক্রিয়া যেভাবে ঝরতে লাগলো, তাতে করে আশঙ্কায় আছি, কি জানি এই প্রক্রিয়াটি রদ হয়ে আমার মতো অনেকেরই জেগে উঠা আশা-ভরসার বেলুনটা ঠুশ করে আবার ফেটে যায় !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;শিক্ষা সংস্কৃতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতির উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে অসামান্য অবদার রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ গুণী ও কৃতী ব্যক্তিদেরকে ১৯৭৬ সাল থেকে সম্মানজনক এই রাষ্ট্রীয় একুশে পদক প্রদান করা হয়ে আসছে। এ  জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন চাওয়ার ঘটনায় বিস্মিত সুধিমহলের কিছু প্রতিবাদও ইতোমধ্যেই বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হচ্ছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৯ প্রথম আলোতেও এ ধরনের কিছু মন্তব্য চোখে পড়লো। নাট্য ব্যক্তিত্ব রামেন্দু মজুমদার এ বিজ্ঞপ্তিকে পদক পাওয়ার যোগ্যদের জন্য অসম্মানের বিষয় বলে বিবেচনা করে বলছেন- ‘ এটা বিস্ময়কর, আমাদের অবাক করেছে। একুশে পদকের মতো বড় মাপের পদকের জন্য কোন যোগ্য প্রার্থী আবেদন করবে না।’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি নাসিরুদ্দিন ইউসুফ বলেন- ‘ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতীয়ভাবে অবদান রাখা সম্মানিত ব্যক্তি অথবা প্রতিষ্ঠানকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার জাতির মহিমাকে সবার সামনে মেলে ধরে সমাজ বিকাশে প্রেরণাদায়ক ভূমিকা পালন করে। এই তাৎপর্যপূর্ণ কর্তব্য সম্পাদনে যে সংবেদনশীলতা ও সম্মানবোধ প্রদর্শন করতে হয়, তার কোন তোয়াক্কা না করে যেভাবে এবং যে ভাষায় পদকপ্রাপ্তি অভিলাষী ব্যক্তিদের আবেদন করার জন্য বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে, তা সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আমলাতান্ত্রিক মনোভাবের পাশাপাশি কুরুচি ও সৌজন্যবোধের অভাবই প্রকাশ পেয়েছে।’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;এসব মন্তব্য প্রতিবাদের প্রেক্ষিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফুল আলমের যে বক্তব্যটি প্রথম আলোতে প্রকাশিত হয়েছে তাকে আপত্তিকর মনে করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। তাঁর বক্তব্যটি হলো- ‘ এ ধরনের বিজ্ঞপ্তি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। এটা অন্যভাবে দেখার কিছু নেই। সরাসরি দরখাস্ত দেওয়ার উদ্দেশ্যে এটা দেওয়া হযনি।’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;অথচ বিজ্ঞপ্তিটা পড়লেই সচিব হুজুরের বক্তব্যের সাথে অদ্ভুত বৈপরীত্য চোখে পড়ে। তিনি নিজে যদি এই বৈপরীত্য টের না পেয়ে থাকেন, তাহলে নিরূপায় আমাদেরকেই বোধ করি নতুন করে বাংলা ভাষা শিক্ষা নিতে হবে।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;বিজ্ঞপ্তির ২ নং ক্রমে প্রথমে প্রার্থীর যোগ্যতা উল্লেখ করে দেয়া হয়েছে- ‘ এতদ্বারা একুশে পদক যাঁকে প্রদান করা হবে- (ক) তাঁকে বাংলাদেশের নাগরিক হতে হবে। (খ) তাঁকে একজন সাহিত্যিক, শিল্পী, সাংবাদিক, ভাষাবিদ ও ভাষা সংগ্রামী, গবেষক, শিাবিদ, অর্থনীতিবিদ, দারিদ্রবিমোচনে অবদানকারী ও সামাজিক ব্যক্তিত্ব হতে হবে। (গ) সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে তাঁর বিশেষ অবদান থাকতে হবে। (ঘ) চরিত্রগুণ ও দেশাত্মবোধে তাঁকে অনবদ্য হতে হবে। (ঙ) দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভাষা/ মাতৃভাষার স্বীকৃতি/ উৎকর্ষতার জন্য নিবেদিত এবং উল্লেখযোগ্য অবদানকারী ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন।&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;আগ্রহী প্রার্থীর এসব যোগ্যতা যে আছে তার প্রমাণ কী ? এজন্যে বিজ্ঞপ্তির ৩ নং ক্রমে সুস্পষ্টভাবে বলে দেয়া হয়েছে- ‘ আবেদনকারীকে নির্ধারিত ছক পূরণ-পূর্বক সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের বিষয়ে প্রমানপত্র ও আলাদা জীবনবৃত্তান্ত সহ নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন করতে হবে।’ কৌতুহলী পাঠক বিজ্ঞপ্তির এই বাক্যটা আবারো খেয়াল করে দেখুন, বাক্যের প্রথমে রয়েছে ‘আবেদনকারীকে’ এবং বাক্যের শেষে রয়েছে ‘আবেদন করতে হবে’। সচিব হুজুরের বক্তব্য যে কতোটা অসার ও বিভ্রান্তিমূলক তা কি স্পষ্ট হয়ে উঠে না ? বিজ্ঞপ্তির ৪ নং ক্রমে বলা হয়েছে- ‘ সকল মন্ত্রণালয়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়াধীন দপ্তর/ অধিদপ্তর/ সংস্থা ও জেলা প্রশাসকগণ স্বপ্রনোদিত হয়েও একুশে পদকের মনোনয়ন পাঠাতে পারবেন। প্রাপ্ত আবেদন পত্র সমূহ প্রাথমিক যাচাইক্রমে (প্রয়োজনে) ২৯-১০-২০০৯ তারিখের মধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করবেন।’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিটিতে বানান-ত্রুটির কথা নাই বললাম। এ পর্যন্ত আলোচনা থেকে এটা কি স্পষ্ট নয় যে, বিজ্ঞপ্তির ২ নং ক্রমের উল্লেখিত যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি/ সংগঠনকেই নির্ধারিত ছকে জীবনবৃত্তান্ত  উল্লেখপূর্বক আবেদন করতে হবে ? বিজ্ঞপ্তির ভাষায় তো তা স্পষ্ট। তবে অপশন হিসেবে ৪ নং ক্রমে উল্লেখিত মন্ত্রণালয়াধীন দপ্তর/ অধিদপ্তর/ সংস্থা ও জেলা প্রশাসনগণ স্বপ্রণোদিত হয়েও একুশে পদকের মনোনয়ন পাঠাতে পারবেন। কিংবা বিজ্ঞপ্তির ৫ নং ক্রম অনুযায়ী ‘ একুশে পদক প্রাপ্ত সম্মানিত সুধীবৃন্দ উপযুক্ত ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানকে মনোনয়ন প্রদান করে সরাসরি মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব প্রেরণ করতে পারবেন।’ অথবা ৬ নং ক্রম অনুযায়ী ‘ দেশব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনাকারী (অধিকাংশ জেলায়) বেসরকারী সংস্থা/ শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান উপযুক্ত ব্যক্তি/ প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করে মন্ত্রণালয়ে সরাসরি প্রস্তাব প্রেরণ করতে পারবেন।’ এ জন্যে বিজ্ঞপ্তির সর্বশেষ ৭ নং ক্রম অনুযায়ী ‘ আবেদন সম্পর্কিত তথ্য ছক মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন শাখা, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী, বাংলা একাডেমী, জাতীয় জাদুঘর, জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র এবং মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট (&lt;a href="http://www.moca.gov.bd/"&gt;www.moca.gov.bd&lt;/a&gt;) হতে সংগ্রহ (download) করা যাবে।’&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;যেহেতু প্রাতিষ্ঠানিক তথ্য আদান-প্রদানে মুখের কথার কোন বেইল নেই, তাই সচিব হুজুর মুখে যা-ই বলুন, আমরা কিন্তু পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিকেই চূড়ান্ত বলে ধরে নেবো। অতএব বাংলাদেশের যে কোন নাগরিক নিজেকে শর্ত অনুযায়ী যোগ্য মনে করলে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা একুশে পদকের জন্য আবেদন করতে পারেন। তাই দেশের সুধীমহল এতে যতোই বিস্মিত হোন বা প্রতিবাদে তীব্র হন না কেন, আমি কিন্তু মনে মনে যার পর নাই প্রীত হয়েছি ! আর যাই হোক, চাইলে আমিও তো একটা আবেদন করে দেখতে পারি ! এমন সুযোগ হাতে পেয়ে পায়ে ঠেলি কী করে ! শুধু ২(ঘ) পয়েন্ট মোতাবেক চরিত্রগুণ ও দেশাত্মবোধে অনবদ্য হবার একটা সার্টিফেটের জন্যে না হয় কোন চরিত্রহীন গেজেটেড কর্মকর্তার কাছে যা একটু ধর্না দিতে হবে। হুমায়ুন আজাদের মতো কোন ব্যক্তিত্ব এই পুরস্কার পেলেও অন্তত এটা তো সবাইকে ধরে ধরে বলতে পারবো, আমিও এই পদকের প্রার্থী ও প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলাম ! কিন্তু বিভিন্ন পত্রিকায় যেভাবে প্রতিবাদের ঝড় দেখছি, আমার খায়েশ বুঝি শেষ পর্যন্ত অপূর্ণই থেকে যাবে !&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;৩০-০৯-২০০৯ এর দৈনিক সমকালে দেখি সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলছেন- ‘ পদকপ্রাপ্তদের কেউ না কেউ মনোনয়ন দেবেন। এখানে পদকের জন্য আবেদন করা আমার কাছে অনেকটা টেন্ডার প্রক্রিয়ার মতো মনে হচ্ছে, যা এই পদকের মর্যাদাকে হেয় করে।’ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী প্রমোদ মানকিন বলছেন- ‘ আমার ব্যক্তিগত অভিমত আসলে আবেদন করে পদক পাওয়া যায় না। কারও জীবনের ওপর স্টাডি করে পদক দেওয়ার বিষয়টি নিরূপিত হয়।’ তাঁদের বক্তব্যের পর শেষপর্যন্ত আমার মতো নির্বোধ গাধাদের হা করে চেয়ে থাকা ছাড়া আর কিছুই করার থাকে না, যখন আবার সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সেই সচিব হুজুর শরফুল আলমের বক্তব্য পড়ি- ‘ বিগত ১৮ বছর ধরে যেভাবে একুশে পদকের জন্য মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে, এবারও তাই করা হচ্ছে।’ &lt;br /&gt;&lt;/div&gt;...&lt;br /&gt;[একুশে পদকের ছবি 'উইকিপিডিয়া' থেকে নেয়া হয়েছে]&lt;br /&gt;...&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.sachalayatan.com/ranadipam_basu/27627"&gt;sachalayatan&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/blog/ranadipam/29019196"&gt;somewherein&lt;/a&gt; | &lt;a href="http://www.somewhereinblog.net/group/alternative/29019196"&gt;alternative&lt;/a&gt;]&lt;br /&gt;[&lt;a href="http://mukto-mona.com/banga_blog/?p=2627"&gt;mukto-mona&lt;/a&gt;]&lt;div class="blogger-post-footer"&gt;&lt;img width='1' height='1' src='https://blogger.googleusercontent.com/tracker/2855647572276899802-3227089940699740733?l=horoppa.blogspot.com'/&gt;&lt;/div&gt;</content><link rel='replies' type='application/atom+xml' href='http://horoppa.blogspot.com/feeds/3227089940699740733/comments/default' title='Post Comments'/><link rel='replies' type='text/html' href='https://www.blogger.com/comment.g?blogID=2855647572276899802&amp;postID=3227089940699740733' title='0 Comments'/><link rel='edit' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/3227089940699740733'/><link rel='self' type='application/atom+xml' href='http://www.blogger.com/feeds/2855647572276899802/posts/default/3227089940699740733'/><link rel='alternate' type='text/html' href='http://horoppa.blogspot.com/2009/10/blog-post_7919.html' title='| ‘একুশে পদক’ চান ? এখনই আবেদন করুন !'/><author><name>Harappa</name><uri>http://www.blogger.com/profile/10950605597883895954</uri><email>noreply@blogger.com</email><gd:extendedProperty xmlns:gd='http://schemas.google.com/g/2005' name='OpenSocialUserId' value='05349007295424498755'/></author><media:thumbnail xmlns:media='http://search.yahoo.com/mrss/' url='http://2.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss7QAkRfdGI/AAAAAAAAF8w/IWfdnoShxQg/s72-c/Ekushepadak.JPG' height='72' width='72'/><thr:total xmlns:thr='http://purl.org/syndication/thread/1.0'>0</thr:total></entry><entry><id>tag:blogger.com,1999:blog-2855647572276899802.post-7174971576309101982</id><published>2009-10-09T10:24:00.009+07:00</published><updated>2009-10-09T10:50:32.687+07:00</updated><category scheme='http://www.blogger.com/atom/ns#' term='Free-Article'/><title type='text'>| নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ, লুঠপাটের নতুন ধান্ধা নয় তো !</title><content type='html'>&lt;div class="separator" style="clear: both; text-align: center;"&gt;&lt;a href="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss6sXfTODWI/AAAAAAAAF8I/1eZatJ9ZFLw/s1600-h/05102009.jpg" imageanchor="1" style="margin-left: 1em; margin-right: 1em;"&gt;&lt;img border="0" src="http://4.bp.blogspot.com/_ZKadQ7i2QGA/Ss6sXfTODWI/AAAAAAAAF8I/1eZatJ9ZFLw/s320/05102009.jpg" /&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;div style="text-align: justify;"&gt;&lt;br /&gt;&lt;/div&gt;&lt;span style="font-size: large;"&gt;| নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ, লুঠপাটের নতুন ধান্ধা নয় তো !&lt;br /&gt;রণদীপম বসু&lt;br /&gt;…&lt;br /&gt;জাতে বাঙাল হওয়ার সমস্যা এটাই, শুরুতেই সন্দেহ এসে ভর করে। গত ০২ অক্টোবর ২০০৯ শুক্রবারের দৈনিক সমকালের প্রথম পাতায় বড় লাল শিরোনামে প্রধান সংবাদটা ছিলো- ‘সব ধরনের নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ’। তার নিচেই ছোট্ট উপশিরোনাম- ‘বিপণন কোম্পানিগুলোকে পেট্রোবাংলার চিঠি, উৎপাদন না বাড়া পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে’। ০১ অক্টোবর থেকে বলবৎ হওয়া এ সিদ্ধান্তটি গ্যাস (Gas) ও জ্বালানিসম্পদের তত্ত্বাবধানকারী সরকারি সংস্থা পেট্রোবাংলা&amp;nbsp; (Patrobangla) ৩০ সেপ্টেম্বর ২০০৯ বুধবার চিঠির মাধ্যমে জানিয়ে দিয়েছে। এই সংবাদ শুনামাত্র নাকি সারাদেশে সংযোগ প্রত্যাশী, ঠিকাদার সংস্থার সদস্যরা বিপণন কোম্পানিগুলোর সামনে বিক্ষোভও করেছে। শেষপর্যন্ত ফলাফল যে কী দাঁড়াবে তা-ই ভাববার বিষয় বৈ কি। আদৌ কি ভালো কিছু হচ্ছে ?&lt;a name='more'&gt;&lt;/a&gt;&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;এ মুহূর্তে বলার উপায় নেই সারাদেশে কী পরিমাণ নতুন বাড়ি-ঘর নির্মানাধীন আছে। গ্যাস সংযোগ ছাড়া এসব বাড়িঘরের আদৌ কোন মনুষ্য-ব্যবহারযোগ্যতা থাকবে কি ? বড় বড় শহর ও নগরীগুলোর আবাসন সমস্যা নিরসনে যথেষ্ট প্রভাব বিস্তারকারী কী পরিমাণ ডেভেলাপার বা ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান সক্রিয় রয়েছে এবং তাদের মাধ্যমে কী পরিমাণ নির্মানাধীন বহুতল ভবন গ্যাস সংযোগের অপেক্ষায় অব্যবহার্য হয়ে থাকবে ? কী পরিমাণ পুঁজি এই খাতে স্তব্ধ হয়ে যাবে ? গড়ে উঠা গ্যাস নির্ভর শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর শেষ গন্তব্য কী হবে ? ইত্যাদি ইত্যাদি বহু প্রশ্ন মাথায় এসে ভীড় করতে লাগলো। এর সাথে রয়েছে বিদ্যুৎকেন্দ্র, রফতানিমুখী শিল্প ও অর্থনৈতিক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সত্যি কি এগুলো সব বন্ধ থাকবে ? এর সুনির্দিষ্ট কোন তথ্য উপাত্ত আমার জানা নেই।&amp;nbsp; কিন্তু ধারণার মধ্যে থেকেও এটা কি ধারণা করা যায় না যে এর পরবর্তী প্রভাব কী হতে পারে ?&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;সারাদেশে পাইপলাইনে গ্যাস বিপণনের জন্য সরকারের চারটি কোম্পানি রয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ আশপাশের ১৬ টি জেলায় গ্যাস বিতরণ করে থাকে তিতাস গ্যাস টিঅ্যান্ডডি কোম্পানি লিমিটেড, উত্তর ও পশ্চিমে বিতরণ করে পশ্চিমাঞ্চলীয় গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (ওয়েস গ্যাস), চট্টগ্রাম অঞ্চলে বাখরাবাদ গ্যাস সিস্টেম লিমিটেড এবং সিলেট অঞ্চলে শাহজালাল গ্যাস টিঅ্যান্ডডি সিস্টেম লিমিটেড। সারাদেশে এই চারটি গ্যাস বিপণন কোম্পানিতে প্রায় দু’লাখ সংযোগের আবেদন ইতোমধ্যেই জমা পড়ে আছে বলে জানা যায়। গত কয়েক বছর ধরেই গ্যাসের সংযোগ পাওয়া সোনার হরিণ পাওয়ার মতো বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠান তো রয়েছেই, নতুন বাড়ি করেও অনেকে সংযোগ পাচ্ছেন না। আগে নতুন সংযোগকে করা হতো নিরুৎসাহিত, আর এখন ঘোষণা দিয়েই বন্ধ করে দেয়া হলো। আসলেই কি নতুন সব গ্যাস সংযোগ বন্ধ হয়ে গেলো ? বিষয়টা কে কিভাবে নিচ্ছেন জানি না, তবে মনে হচ্ছে বেশ দুঃশ্চিন্তার এবং আতঙ্কজনকও। কেননা যে কোন কারণেই হোক পুনঃসংযোগের বেলায়ও নাকি গ্রাহকদের বেগ পেতে হতে পারে। আর যদি অনিয়মের কারণে কোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, সেগুলোর পুনঃসংযোগ না-ও দেয়া হতে পারে।&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;কিন্তু কেন এরকম হলো ? পেট্রোবাংলার হিসাবে প্রতিদিন ২০ কোটি ঘনফুটের বেশি গ্যাস ঘাটতি রয়েছে। সারাদেশে বর্তমানে প্রায় ১৮৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের বিপরীতে চাহিদা ২৩০ কোটি ঘনফুটের কথা পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) মুক্তাদীর আলীর বক্তব্য থেকে জানা যায়। তিনি আরো বলেন, ‘উৎপাদন চাহিদার বেশি বাড়লে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে ধরে নেওয়া হবে। তখন নতুন সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’ এখন প্রশ্ন হলো, বর্তমান যা পরিস্থিতি, এই হাল চলতে থাকলে আদৌ কি কখনো চাহিদার চেয়ে উৎপাদন বেশি হবার কোন সম্ভাবনা আছে ? শোনা যায় বর্তমানে গ্যাসের অভাবে প্রতিদিন ৫০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। বহু শিল্প-কারখানায় গ্যাসের নির্দিষ্ট চাপ নেই। এছাড়া বহু সংযোগ সক্রিয় করার অপেক্ষায় রয়েছে। এসব ঘাটতি মিটিয়ে অবশেষে বাড়তি উৎপাদন এলেই তবে নয় মণ ঘি-ও হবে আর রাধাও নাচবে !&lt;br /&gt;&lt;br /&gt;পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান অবশ্য কথায় একটু কিন্তু রেখে দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে এটুকুও জানা গেলো যে, ‘ এতে সংযোগ পুরোপুরি বন্ধ হবে না। তবে জাতীয় অর্থনৈতিক গুরুত্ব বিবেচনা করে কিছু কিছু সংযোগ দেওয়া হবে।’ মনে হচেছ আসল রহস্যটা এখানেই। শেষপর্যন্ত এখানে এসেই বুঝি কবিকে নীরব হয়ে যেতে হয়। হয়তোবা কেঁদেও দিতে হবে। কেন ? সাধারণত দেখা যায় যে, আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে আসীন ও ক্ষমতাসীনরা কেন 