Thursday, May 8, 2008

# যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(০৭)



যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(০৭)

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)


“ বেদনা মধুর হয়ে যায়, তুমি যদি দাও...”

তোমার কাছে কিসের আশায় ছুটে যাই ? কষ্টই তো বেড়ে যায় শুধু। তবুও যাই। তোমার দেয়া বেদনা মধুর হয়ে যায় বলেই ? রূপা, পৃথিবীতে কেউ আমাকে শত চেষ্টা করেও এতটুকু কষ্ট দিতে পারে না তেমন, তুমি না চাইলেও যেভাবে কষ্ট দিয়ে যাও। না কি ইচ্ছে করেই দাও ? আমাকে এত কষ্ট দিয়ে তুমি কী আনন্দ পাও ?

‘কহতে হ্যঁয় আগে থা বুতোঁ মেঁ রহম্
হায় খুদা জানীয়ে য়হ্ কবকী বাত।’


(লোকে বলে আগের দিনে প্রতিমাদের বুকে দয়ামায়া ছিল,
হায়, ঈশ্বরই জানেন ওঁরা কবেকার কথা বলছেন।) - মীর।

মেয়েটি যে যুবকটিকে এতো কষ্ট দিয়ে যায়, সে কীভাবে এই কষ্ট ধারণ করে জানো ? মেয়েটির দেয়া সব কষ্ট এই যুবক ঐ মেয়েটির বুকেই জমা করে দেয়। না করে রাখবে কোথায় বলো ? যেখানে রাখবে সেখানটা যে এখন উজাড়। তার সব কিছুই যে মেয়েটিকে দিয়ে উজাড় হয়ে আছে !

“ যেই দিন জেনেছে এ মন তুমি যে আমার, সেই থেকে যা পেয়েছে সে সবই যে তোমার...”

তাই তো যখন যা কুড়িয়ে পায় সবই মেয়েটিকে দিয়ে দেয়। দিয়ে দিয়ে উজাড় হতে ভালোবাসে এই যুবক। তাই বুঝি মীর কেঁদে উঠেন-
‘খরাবী দিলকী ইস হদ্ হ্যয় কেহ্ য়হ্ সমঝা নহীঁ জাতা
কেহ্ আবাদী ভী য়াঁ থী য়া-কেহ্ বীরানহ্ থা মুদ্দৎকা।’


(হৃদয় আমার এমন উজাড় হয়েছে যে বোঝাই যায় না- এখানে কোনো দিন বসতি ছিলো, না কি যুগ যুগ ধরে উজাড় হয়েই আছে।)

রূপা, ‘দুঃখ হয় প্রীতি অর্ঘ্য যদি দিয়ে যাও’ তুমি।


চলবে...

আগের পর্ব (০৬):
পরের পর্ব (০৮):
R_d_B

No comments: