Saturday, November 28, 2009

অদৃশ্য বাতিঘর-১০ (কবিতাগুচ্ছ)



অদৃশ্য বাতিঘর-১০ (কবিতাগুচ্ছ)
-রণদীপম বসু
...

বিষণ্ন লিরিক
...
(০১)
চুপে চুপে খুঁজে নাও কাঙ্ক্ষিত গোলাপ তোমার
বাহারি পাঁপড়ির ভিড়ে
নিসর্গে ভেজা এই স্বপ্নালু উদ্যানে জলে
দিলাম উন্মুক্ত করে তোমার প্রবেশ;
অবারিত ইচ্ছেকে শুধু
নির্বিশেষে কোরো না উন্মুক্ত যেনো
তবে নতমুখী হয়ে যাবে উন্মিলিত পুষ্পেরা সব।
নতমুখী গোলাপেরা কখনো বোঝে না মানুষের ভাষা।

অদৃশ্য বাতিঘর-০৯ (কবিতাগুচ্ছ)



অদৃশ্য বাতিঘর-০৯ (কবিতাগুচ্ছ)
-রণদীপম বসু
...
অন্তর্লীন বৃক্ষ এক
...
(প্রয়াত কথাশিল্পী আখতারুজ্জামান ইলিয়াস-কে শ্রদ্ধার্ঘ)

এখনো শৈত্য ঝরে কবোষ্ণ মাটিতে
অন্ধকারে।
কোথাও শব্দ নেই কোনো অথবা শিশির;
দরদর ঘামে ঝরে বৃক্ষপত্রেরা তবু।

বাতাসে কিসের ওম ?
পরস্পর চাওয়া-চাওয়ি মুখে
জটলাটা ফিকে হয়ে এলে
তখনো পড়ে থাকেন শরীরসুদ্ধ তিনি।
কষ্ট ঝেরে নির্বিকার জীবিত বাতাসে
একটি কথাই কেবল ঘোরে আর ফিরে-
আরেকটু সময় ছিলো বড়ো বেশি প্রয়োজন খুব।
অফুরন্ত এতো যে সময় পচে এতোসব নষ্ট বিবরে
হায়, কারো কারো রয়েই যায়
চিরন্তন আকাল প্রহর...।

অদৃশ্য বাতিঘর-০৮ (কবিতাগুচ্ছ)



অদৃশ্য বাতিঘর-০৮ (কবিতাগুচ্ছ)
- রণদীপম বসু

...
স্বপ্নের কাছে সমর্পিত
...
(তরিকুল ইসলাম দুলাল বন্ধুবরেষু)

স্বপ্নের কাছে সমর্পিত হবো দ্বিধাহীন-
         খুব বেশি আকাঙ্ক্ষা তো নয়
তবু নিজ নিজ বৃত্তের মাঝে বহমান মানুষেরা আজ
একান্ত স্বাধীন নয় আর
হুট করে হানা দেয় বিরোধী আপন ছায়া
বিষাক্ত আঁচড় কাটে স্বপ্নবান চোখে।
কী করে সরাই তাকে ?

Sunday, November 22, 2009

| ড.মুহাম্মদ ইউনূসের নোবেল বক্তৃতা |




১০ ডিসেম্বর ২০০৬ অসলোতে নোবেল শান্তি পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে উপস্থাপিত নোবেল বক্তৃতা

‌'দারিদ্র্যকে আমরা জাদুঘরে পাঠাতে পারি' 
-মুহাম্মদ ইউনূস
...
মান্যবর রাজা, রাজকীয় মান্যবর, নরওয়ের নোবেল কমিটির মাননীয় সদস্যবৃন্দ, সুধীমণ্ডলী, ভদ্রমহিলা ও মহোদয়গণ!

গ্রামীণ ব্যাংক ও আমি নিজে সবচেয়ে মর্যাদাকর পুরস্কার গ্রহণ করতে আজ গভীর সম্মানিত বোধ করছি। এই সম্মানে সম্মানিত হয়ে আমি পরম রোমাঞ্চিত, অভিতূত ও আপ্লুত। নোবেল শান্তি পুরস্কার ঘোষণার পর থেকে সারাটা বিশ্ব থেকে অগুণতি বার্তা আসছে আমার কাছে। কিন্তু যা আমাকে সবচেয়ে বেশি আলোড়িত করে, যখন প্রায় প্রতিদিন  আমি টেলিফোন পাই গ্রামীণ ব্যাংকের ঋণ গ্রাহক,  বাংলাদেশের সেই সুদূর পল্লীজনপদগুলির মানুষের কাছ থেকে, যারা আমাকে জানাতে চান এই মহৎ স্বীকৃতি পেয়ে তারা কতোখানি গৌরববোধ করছেন।

Friday, November 20, 2009

| ঘৃণার বুলেটে বিদ্ধ ভালোবাসা...!



| ঘৃণার বুলেটে বিদ্ধ ভালোবাসা...!
রণদীপম বসু
...

প্রিয় রাসেল
বেঁচে থাকলে তুমি আজ ঠিক আমার বয়েসী-ই হতে। কারণ একই বছরে জন্মেছিলাম আমরা। কিন্তু আমার মতোই হতে কিনা জানি না। গড়পড়তা বাঙালির মধ্যমাকৃতির দেহে অকাল-বাতাসে উড়ে যাওয়া তৃণভূমির বিরাণ হাহাকার হয়তো জ্বলজ্বল করতো না তোমার মাথায়। ঘন কালো গভীর অরণ্যে বিচ্ছুরিত আলোকরেখার মতো এক ঝাঁক রূপালী ঝিলিক নিয়ে আশ্চর্য সুঠাম ও দীর্ঘদেহী পৌরাণিক পিতার কনিষ্ঠ উত্তরাধিকার তুমি অসম্ভব ঋজুতায় অহঙ্কারী হতে। ‘হয়তো’র সম্ভাব্য-আঁটা এই অনিবার্য বৈশিষ্ট্যও তোমার আর আমার মাঝে মূলত কোন পার্থক্য সূচিত করে না আজ। বেঁচে থাকলে আমাদের আকস্মিক বন্ধুতা হওয়াও তেমন কোন আশ্চর্যের বিষয় হতো না। কারণ এখনো তুমি আমার ভাই। আমাদের পিতা তোমাকে দিয়েছিলেন রক্তের জেনেটিক স্রোত আর আমাকে দিয়েছেন দুর্বার পরিচয়।