Monday, April 13, 2015

। সমতলে বক্ররেখা-০৭। বিজ্ঞানহীন প্রযুক্তিমনস্কতা, তবে কি কাঁঠালেও আমসত্ত্ব হয়!

...  
। সমতলে বক্ররেখা-০৭। বিজ্ঞানহীন প্রযুক্তিমনস্কতা, তবে কি কাঁঠালেও আমসত্ত্ব হয়!
রণদীপম বসু

(১)
‘সোনার পাথরবাটি’ কিংবা ‘কাঁঠালের আমসত্ত্ব’ জাতীয় প্রবাদগুলো ছোটকাল থেকেই আমরা সবাই শুনে আসছি এবং এসব অবাস্তব বস্তু বা বিষয়ের মর্মার্থও আমাদের বোধের অগম্য নয় নিশ্চয়ই। কিন্তু একালে এসে যখন তথাকথিত কোন বিদ্বানপ্রবরের মুখে নতুন আঙ্গিকে এমন কথা বলতে শুনি- ‘বিজ্ঞান চাই কিন্তু বিজ্ঞানবাদিতা চাই না’, তখন আঁৎকে উঠে পুরনো কাসুন্দিকেই আবার নতুন করে ঘুটানো ছাড়া গত্যন্তর থাকে কি! কথাটা কি কোন বিদ্বানের অসতর্ক মুহূর্তে ক্ষণিকের প্রলাপ ভাববো, না কি এর ভেতরে কোন রহস্য ও গূঢ় উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খোঁজার আগে আমরা মনে হয় কিছু তরল কথাবার্তা সেরে নিতে পারি!

Tuesday, January 27, 2015

| কেন চার্বাক পাঠ প্রাসঙ্গিক ?

...
| কেন চার্বাক পাঠ প্রাসঙ্গিক ?
রণদীপম বসু

একটা পর্যায় থেকে, মানব সভ্যতার ইতিহাস আসলে ধর্মেরই ইতিহাস। সম্ভবত কথাটা বলেছিলেন দার্শনিক ম্যাক্স মুলার, যিনি প্রাচীন ভারতীয় দর্শন তথা বৈদিক সাহিত্য বা সংস্কৃতিরও একজন অনুসন্ধিৎসু বিদ্বান হিসেবে খ্যাতিমান। তবে যে-ই বলে থাকুন না কেন, সভ্যতার এক দুর্দান্ত বিন্দুতে দাঁড়িয়েও উক্তিটির রেশ এখনো যেভাবে আমাদের সমাজ সংস্কৃতি ও জীবনাচরণের রন্ধ্রে রন্ধ্রে খুব দৃশ্যমানভাবেই বহমান, তাতে করে এর সত্যতা একবিন্দ্ওু হ্রাস পায় নি। বরং কোন কোন ক্ষেত্রে তা অনেক বেশিই প্রকট থেকে প্রকটতরই হচ্ছে বলে মনে হয়।

Sunday, February 16, 2014

| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-১০ : বাদরায়ণের দার্শনিক মত- জগৎ |

.
| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-১০ : বাদরায়ণের দার্শনিক মত- জগৎ |
রণদীপম বসু
২.২.০৩. জগৎ :

বাদরায়ণের মতে জগৎ হলো ব্রহ্মের শরীর, কেননা জগতের উপাদান-কারণ ব্রহ্ম। উভয়ের মধ্যে বৈলক্ষণ্য আছে, কিন্তু কার্য-কারণের এই অসাম্য যে বাদরায়ণ স্বীকার করেছেন তা ইতঃপূর্বেই বলা হয়েছে। জগৎকে ব্রহ্মের শরীর হিসেবে স্বীকার করেই বাদরায়ণ জগৎকে কোথাও মারা বা কাল্পনিক বলে মানেননি। বেদান্তসূত্রে বলা হয়েছে-

| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-০৯ : বাদরায়ণের দার্শনিক মত- সৃষ্টিকর্তা |

.
| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-০৯ : বাদরায়ণের দার্শনিক মত- সৃষ্টিকর্তা |
রণদীপম বসু
২.২.০২. সৃষ্টিকর্তা :
.
ব্রহ্মকেই সৃষ্টিকর্তা বলা হয়েছে। সেই নিত্য, মুক্ত, তৃপ্ত ব্রহ্ম কী প্রয়োজনে সৃষ্টি করেন ? যদি ধরেও নেয়া হয় যে, ব্রহ্মের সৃষ্টিকার্যের সকল শক্তিই আছে, তবুও ব্রহ্মের সৃষ্টিকর্তৃত্ব বিষয়ে কিছু আপত্তি উত্থাপিত হয়। যেমন, উদ্দেশ্য বা প্রয়োজন ছাড়া কেউই কর্মে প্রবৃত্ত হয় না। কিন্তু ব্রহ্ম হলেন আপ্তকাম, সুতরাং সৃষ্টি করে পাওয়ার মতো তাঁর কিছুই থাকতে পারে না। সেজন্যেই ব্রহ্ম নিষ্প্রয়োজনে কোন কর্মে প্রবৃত্ত হবেন এরূপ প্রত্যাশা আমরা করতে পারি না। সুতরাং ব্রহ্ম জগৎ-সৃষ্টির কারণ হতে পারেন না।

| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-০৮ : বাদরায়ণের দার্শনিক মত- ব্রহ্মই উপাদান কারণ |

.
| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-০৮ : বাদরায়ণের দার্শনিক মত- ব্রহ্মই উপাদান কারণ |
রণদীপম বসু

২.২ : বাদরায়ণের দার্শনিক মত
.
বায়রায়ণ প্রকৃতপক্ষে উপনিষদের বিভিন্ন শ্রুতিকেই অবিসম্বাদিত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে উপনিষদের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা করতে চেয়েছেন এবং উপনিষদের বিভিন্ন ঋষির মতভেদকে দূর করে সর্বসমন্বয় করতে চেয়েছেন। কিন্তু উপনিষদে যেহেতু মতভেদের যথেষ্ট বীজ ছিলো, যার ফলে অনুগামীরা গুরুর সর্বসমন্বয় নীতিকে খণ্ডন করতে উদ্যোগী হওয়ায় বেদান্তের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে কিছু শক্তিশালী মতভেদেরও সৃষ্টি হয়েছিলো। তবু বাদরায়ণের সর্বসমন্বয় তত্ত্বের মধ্যেও তাঁর কিছু সুস্পষ্ট মতামত সিদ্ধান্ত আকারে পরিদৃষ্ট হয়, যাকে বাদরায়ণের ব্রহ্মবাদ বলা যায়।