Saturday, December 31, 2011

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|৩০১-৩১০|

.
| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|৩০১-৩১০|
রণদীপম বসু

(৩০১)
প্রেম হলো একটি কল্পনা-ভ্রমণ, আর প্রিয় মানুষটি হচ্ছে এর বাহন।
.
(৩০২)
ইতিহাস পচে না কখনো, পচে যাই আমরাই।
.
(৩০৩)
মানুষের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতা হলো
মানুষ যে আসলে সীমাবদ্ধ নয়, এটাতে আস্থা রাখার সীমাবদ্ধতা।
 .

Wednesday, December 7, 2011

| জৈনদর্শন:পর্ব-১০| জৈন ধর্ম ও দর্শনের মূল্যায়ন |

 
| জৈনদর্শন:পর্ব-১০| জৈন ধর্ম ও দর্শনের মূল্যায়ন |
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৪.০ : জৈন ধর্ম ও দর্শনের মূল্যায়ন (Jainism: Religion and Philosophy)
.
যেকোন ধর্মের বৈশিষ্ট্য জানতে হলে তার আচারমার্গের অনুশীলনকে আবশ্যক বিবেচনা করা হয়। কেননা আচারমার্গের প্রতিপাদনেই ধর্মের ধর্মত্ব নিহিত থাকে। এখানেই সেই সেই ধর্মের স্বাতন্ত্র্য ও বৈশিষ্ট্য। ধর্ম ও তার দর্শনের ক্ষেত্রে মূল পার্থক্যটা হচ্ছে, দর্শনের মূল্য বা বৈশিষ্ট্য তার সৈদ্ধান্তিক পর্যায়ে, ধর্মের মহত্ত্ব তার ব্যবহারিক নিমিত্তে। দর্শন হচ্ছে সিদ্ধান্তের সাধক, ধর্ম হচ্ছে ব্যবহারিক তত্ত্বের প্রতিপাদক। বিশ্বাসীদের মতে, যার দ্বারা লৌকিক উন্নতি ও পারলৌকিক কল্যাণ সিদ্ধ হয় তাকে ধর্ম বলে।

| জৈনদর্শন: পর্ব-০৯ | জৈনমতে অনীশ্বরবাদ ও কর্মবিচার |

| জৈনদর্শন: পর্ব-০৯ | জৈনমতে অনীশ্বরবাদ ও কর্মবিচার |
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৩.৬ : জৈনমতে অনীশ্বরবাদ (Atheism in Jainism)
.
চার্বাক এবং বৌদ্ধদর্শনের মতো জৈনধর্মেও ঈশ্বরকে মানা হয়নি। এর যুক্তিসমূহও প্রায় এক রকম। বৈশেষিকরা লোক সৃষ্টির জন্য অ-দৃষ্টকে ঈশ্বরের স্থলাভিষিক্ত করেছেন, এবং জৈনরা সেই স্থান দিয়েছেন ধর্ম ও অধর্মকে।
কোন বস্তুকে করতে, না করতে বা অন্যথা করতে যে সমর্থ তাকে ঈশ্বর বলা হয়- ব্রাহ্মণ্যধর্মে এরূপ স্বতন্ত্র ও সর্বশক্তিমান ঈশ্বর স্বীকৃত। কিন্তু জৈনদর্শনে এ ধরনের ঈশ্বর স্বীকার করা হয় নি। ঈশ্বরবাদীদের আরেকটি যুক্তি হলো, ঈশ্বরের জ্ঞান প্রত্যক্ষ প্রমাণ দ্বারা সিদ্ধ না হলেও যুক্তি দ্বারা সম্ভব। ঈশ্বরের অস্তিত্ববিষয়ক এরকম যুক্তিকে জৈনরা দোষ দেখিয়ে খণ্ডন করেছেন। তাঁরা অনাদিসিদ্ধ পরমাত্মার সত্তাকে কোনভাবে স্বীকার করেন না।

| জৈনদর্শন:পর্ব-০৮| ত্রিরত্ন-মোক্ষমার্গ ও পঞ্চ-মহাব্রত|

| জৈনদর্শন:পর্ব-০৮| ত্রিরত্ন-মোক্ষমার্গ ও পঞ্চ-মহাব্রত|
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৩.৫ : ত্রিরত্ন মোক্ষমার্গ (Threefold Liberation Path)
.
জৈনমত (Jainism) অনুসারে ক্রোধ, মান, লোভ ও মায়া নামক কুপ্রবৃত্তিকেই বন্ধনের মূলকারণ বলা হয়। আবার এই কুপ্রবৃত্তিগুলির কারণ হলো অজ্ঞান। এ অজ্ঞানের নাশ জ্ঞানের দ্বারাই সম্ভব। তাই জৈনদর্শনে মোক্ষের জন্য সম্যক জ্ঞানকে (right knowledge) আবশ্যক মনে করা হয়। পথপ্রদর্শকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস হতেই সম্যগ্জ্ঞান সিদ্ধ হয়। জৈনদর্শনে তীর্থঙ্করদের মোক্ষলাভের পথপ্রদর্শক বলা হয়েছে।

| জৈনদর্শন: পর্ব-০৭ | জৈনমতে বন্ধন ও মোক্ষ |


| জৈনদর্শন: পর্ব-০৭ | জৈনমতে বন্ধন ও মোক্ষ |
-রণদীপম বসু

(আগের পর্বের পর…)

৩.৪ : জৈনমতে বন্ধন ও মোক্ষ (bondage & liberation)
.
ভারতীয় দর্শনে বন্ধনের অর্থ নিরন্তর জন্ম গ্রহণ করা এবং সংসারের দুঃখকে সহ্য করা। জৈনদর্শন (Jainism) অনুযায়ী, কষায়ে লিপ্ত হয়ে জীবের যে বিষয়াসক্তি হয় একেই বলে বন্ধন (bondage), যার ফলে দুঃখ সহ্য করেও জীব এক দেহ থেকে অন্য দেহে গমনাগমন করে। এই গমনাগমনকে বলে আস্রব (flow)। আস্রব অর্থ বহমানতা। আর কষায় (sticky substance) হচ্ছে চিত্তমালিন্য। জীব কষায়ে লিপ্ত হয়ে গমনাগমন করে। ক্রোধ, অভিমান, মোহ, লোভ ও অশুভকে মন্দ-কষায় বলে এবং ক্রোধহীনতা, নিরভিমান, মোহমুক্তি, নির্লোভতা প্রভৃতি শুভ-কষায়।