Monday, January 10, 2011

| ছবির গল্প | আবর্জনার প্রতীক, কাক না মানুষ !


| ছবির গল্প | আবর্জনার প্রতীক, কাক না মানুষ !
-রণদীপম বসু

কোথাও কাক দেখলেই আমাদের অনেকেরই হয়তো আবর্জনার কথা মনে পড়ে যায়। কেননা আবর্জনাপূর্ণ স্থানের আশেপাশেই পক্ষীজগতের অন্যতম সদস্য কাকের উপস্থিতি সাধারণত বেশি দেখা যায়। আর মানুষ এমনই স্ববিরোধী স্বভাবের প্রাণী যে, যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা থেকে বিরত থাকার বদলে কাকের কুশ্রী উপস্থিতি দেখেই আমরা বিরক্ত হই বেশি।
.
.
এমনিতেই আমাদের এই নগরী অসহনীয় আবর্জনায় পরিপূর্ণ। এই ধূলিধুসরিত মুক্ত বাতাসহীন নগরীর আবদ্ধতায় আক্রান্ত নাগরিকেরা কিছুটা সময়ের জন্যে হলেও নাগরিক হাসফাস থেকে মুক্তি পেতে চলে যান কোন মুক্ত পরিবেশে প্রকৃতির নির্মল সান্নিধ্যে। এরকমই একটি স্থান হলো শেরেবাংলা নগরের বিজয়সরণী সংলগ্ন জাতীয় সংসদ ভবন ও জিয়া উদ্যান এলাকা।
.
.
ছুটির দিনে পরিবার পরিজন নিয়ে নাগরিকেরা ছুটে আসেন এখানকার ঝকঝকে তকতকে পরিবেশে। সবুজ বৃক্ষের সারি আর টলটলে জলপূর্ণ নাতিদীর্ঘ লেকটির অবস্থিতিই এলাকাটির অন্যতম সৌন্দর্য ও প্রধান আকর্ষণ। অথচ এখানেও কাকের আধিক্য দেখে আশ্চর্য হতে হয়। এতো কাক এখানে কেন ? একটু খেয়াল করলেই এর উত্তর পাওয়া যায়।
.
 
.
পরিবারের ছোট-বড় সদস্যদের নিয়ে নাগরিকরা এখানে আসেন যে আকর্ষণে, একটা নির্মল পরিচ্ছন্নতার খুঁজে, এরাই আবার হাতের চিপস বা চানাচুরের খালি প্যাকেট বা আইসক্রিমের প্লাস্টিকের পরিত্যক্ত মোড়ক কিংবা ফলের খোশা বা গলন-পচনশীল অভুক্ত খাবার দ্রব্যগুলো নির্ধারিত ডাস্টবিনে না ফেলে নির্দ্বিধায় ছুঁড়ে দেন লেকের পানিতে। প্রতিদিন এরকম শতশত উচ্ছিষ্টের ভার এই লেকের পানিকে বদলে দিচ্ছে ভীষণভাবে। এই সুবিবেচনাহীন নাগরিকেরা হয়তো একটু ভাবার প্রয়োজনও বোধ করেন না যে, তাদের শিশু-কিশোর সন্তানরাই কিন্তু লেকের এই নোংরা পানিতে খেলছে, আর এই লেকের পানিই হাতে মুখে মেখে নিচ্ছে স্বভাবসুলভ উচ্ছলতায়। এসব দেখে মানুষের কাছে বিরক্তিকর পাখি এই কাকও হয়তো আমাদের এমন হঠকারি আচরণে লজ্জা পেয়ে যায়। তাই হয়তো নিজেরাই এসব ময়লা পরিষ্কারে লেগে যায়। এজন্যেই কি কাককে প্রকৃতির ঝাড়ুদার বলা হয় !

No comments: