Wednesday, April 13, 2011

|কালের স্মৃতিচিহ্ন |ঢাকা: বড় কাটরা ও ছোট কাটরা |

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: বড় কাটরা ও ছোট কাটরা |
-রণদীপম বসু

‘কাটরা’ শব্দটি আরবি শব্দ ‘কাতরার’ বা ‘কাতারা’ থেকে উদ্ভূত বলে মনে করা হয়। কাতারা শব্দের অর্থ খিলান সারিযুক্ত ইমারত। আরবি ও ফার্সি সাহিত্যে এটাকে কারওয়ান সরাই বলা হয়, যাকে ইংরেজিতে বলা হয় ক্যারভান সরাই বা শুধু সরাই। ইসলামি স্থাপত্য সংস্কৃতিতে কারওয়ান সরাই নির্মাণ একটি পূণ্যের কাজ বলে গণ্য হতো। তাই পূণ্য লাভের আশায় পরোপকারী শাসকরা অনেক সরাইখানা নির্মাণ করেছেন বলে ইতিহাস রয়েছে। এগুলো সাধারণত বাণিজ্য রুটের পাশ দিয়ে নির্মাণ করা হতো। কারওয়ান সরাই সাধারণত প্রয়োজনীয় অঙ্গন বিশিষ্ট ইমারত। অঙ্গনটিকে খিলান সারিযুক্ত বারান্দা দিয়ে চারদিক থেকে ঘিরে রাখা হতো। বারান্দার পাশেই থাকতো অতিথিদের কক্ষ। পরিব্রাজক ও ব্যাবসায়ীরা বিভিন্ন স্থানে যাওয়ার পথে এসব কক্ষে সাময়িক আশ্রয় নিতেন। বোঝাবহনকারী পশু, গাড়ি ও অন্যান্য সামগ্রি খোলা প্রাঙ্গণে রাখা হতো। বাংলার সুলতানি ও মুগল আমলে এ ধরনের বেশ কিছু সরাই বা কাটরা নির্মিত হয়েছিলো বলে জানা যায়।

Thursday, April 7, 2011

| ক্ষুদ্রঋণের সুদ গণনা ও গ্রামীণ ব্যাংক বিতর্ক |


| ক্ষুদ্রঋণের সুদ গণনা ও গ্রামীণ ব্যাংক বিতর্ক |
-রণদীপম বসু


আজ থেকে অন্তত তিরিশ বছর আগের কথা। ১৯৮০ সাল। আমি তখন ভ্রাম্যমান নাগরিক হিসেবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইন্টারমিডিয়েট ক্লাসের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। অতিরিক্ত আগ্রহ হিসেবে ক্লাস শেষে বিকেলে কলেজের সাধারণ জিমনেশিয়ামটিতে যাতায়াত ছিলো নিয়মিত। এখন সেই জিমনেশিয়াম কম্পাউন্ডটার কীরকম চেহারা দাঁড়িয়েছে জানি না, তবে সেসময়ে তা দেখতে যে খুব একটা দৃষ্টিনন্দন ছিলো তাও নয়। কলেজ ক্যাম্পাসের প্রান্ত ঘেষা স্বল্পপরিসর জিমনেশিয়াম কম্পাউন্ডে ঢোকার জন্যে রাস্তার পাশে লোহার গ্রিলের বুক সমান উঁচু যে পুরনো পকেট গেটটা ছিলো ওটা সবসময়ই তালাবদ্ধ পেয়েছি। ফলে গেটটি বেয়ে উঠে তীরের ফলার মতো  লোহার খাড়া গ্রিলের ছুঁচালো অগ্রভাগ বাঁচিয়ে টপকে গেটের ভেতরে ঢুকে প্রয়োজনীয় কাজ সারতে হতো আমাদের। ছাত্র-অছাত্র বিভিন্ন শ্রেণীর ইচ্ছুক শরীরচর্চাকারীদের আনাগোনা ছিলো সেখানে। নিয়মিত যাতায়াতের কারণে অনেকের সাথেই ব্যক্তিগত পরিচয় ও সখ্যতা গড়ে উঠেছিলো। স্মৃতিবিভ্রাটের কারণে সেই বড় ভাইটির নাম এ মুহূর্তে মনে করতে পারছি না। ধরে নেই  শাহীন ভাই। বেশ জলি টাইপের লোক ছিলেন। তো একদিন তিনি তাঁর এক বন্ধুর সাথে খেলাচ্ছলে তখনকার হিসাবে দশ টাকার একটা বেট ধরে বসলেন। বেট আর কিছু নয়, লোহার গেটটা একলাফে পেরোনো। যথারীতি লাফ দিলেন এবং অনায়াসে পেরিয়ে গেলেন। অতঃপর বাজি জেতা দশ টাকা নিয়ে খুশিমনে বন্ধুসহ চলেও গেলেন। হরদম ঘটে যাওয়া খুব সাধারণ ও গুরুত্বহীন একটা ঘটনা হিসেবে কিছুক্ষণের মধ্যে আমরাও মনে রাখলাম না সেটা। 

Sunday, April 3, 2011

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২৪১-২৫০|

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২৪১-২৫০|
রণদীপম বসু

(২৪১)
অন্ধবিশ্বাস কোন বিশ্বাস নয়, এতে যুক্তিবোধ নেই;
অন্ধভক্তও প্রকৃতপক্ষে ভক্ত নয়,
কারণ তাদের কোন বিবেচনাবোধ থাকে না।

(২৪২)
সাধারণ মানুষ কখনো ইতিহাস বিকৃত করে না;
নির্লজ্জ ফায়দার লোভে জ্ঞানপাপীরাই ইতিহাস বিকৃতিতে নামেন।

(২৪৩)
ঝগড়াটে মেয়েদের স্মৃতিশক্তি হয় প্রখর;
পুরুষের ক্ষেত্রে ঠিক তার উল্টো।

Saturday, April 2, 2011

|প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক | ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন |

 
|প্রথম আলো গোলটেবিল বৈঠক | ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন |

[  ক্ষুদ্রঋণ (microcredit) ও দারিদ্র্য (poverty) বিমোচন বিষয়ে সংক্ষিপ্তভাবে হলেও এতোজন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদের তলস্পর্শী আলোচনা একসাথে পাওয়া সম্ভব হয় না সবসময়। পূর্ব-অভিজ্ঞতা অনুযায়ী পত্রিকার অনলাইন আর্কাইভ ব্যবস্থার উপর দূরবর্তী আস্থা খুব কম বিধায় পরবর্তীর রেফারেন্স হিসেবে পত্রিকায় প্রকাশিত গোটা আলোচনাটা হুবহু (কিছু ইংরেজি ট্যাগ সংযুক্ত করে) এখানে তুলে রাখলাম। কৃতজ্ঞতা: প্রথম আলো।]
| তারিখ: ২৭-০৩-২০১১ |
১৩ মার্চ প্রথম আলোর উদ্যোগে ‘ক্ষুদ্রঋণ ও দারিদ্র্য বিমোচন’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা আলোচনায় অংশ নেন। তাঁদের বক্তব্য এখানে সংক্ষিপ্ত আকারে ছাপা হলো:

Friday, April 1, 2011

| ‘সুযোগের অভাবে চরিত্রবান !’

| ‘সুযোগের অভাবে চরিত্রবান !’
-রণদীপম বসু

(০১)

ইদানিং মোবাইলের ম্যাসেজ টোনটা মাঝেমধ্যেই চিৎকার করে ওঠে পেটের ভেতরে চমৎকার কিছু শ্লোগানের এসএমএস নিয়ে। আমিও আয়েশ করে বিটিআরসি বা গভট ইনফো প্রেরিত ইংরেজি হরফের বাংলা উচ্চারণে লিখিত শ্লোগানগুলো পড়ে পড়ে মুগ্ধ হই। কিছু কিছু ম্যাসেজে কিছু প্রয়োজনীয় তথ্য থাকে যা থেকে মেসেজ প্রাপকদের উদ্যোগ নিতে সুবিধা হয়, সেগুলোকে অবশ্যই ওয়েলকাম। কিন্তু আবার কিছু কিছু মেসেজ পড়ে মেসেজদাতার উদ্দেশ্য সম্পর্কেই এক ধরনের ধোয়াশাচ্ছন্নতা তৈরি হয়। যেমন-
‘দারিদ্র্য হটাতে হলে দুর্নীতি রুখতে হবে। – প্রধানমন্ত্রী’
‘সবাই মিলে লড়বো দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়বো। – দুদক’
‘তথ্য জানা ও পাওয়া আপনার মৌলিক অধিকার। তথ্য অধিকার আইন অনুসারে সরকারি ও বেসরকারি সংস্থা তথ্য প্রদানে বাধ্য। – সরকারি তথ্য বিবরণী’
‘ইভটিজিং প্রতিরোধে সোচ্চার হোন। – মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়’
ইত্যাদি।