Wednesday, February 5, 2014

| বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-৩ : ব্রহ্মসূত্র |

. | বেদান্তদর্শন-ব্রহ্মবেদান্ত-৩ : ব্রহ্মসূত্র |
রণদীপম বসু

১.২ : ব্রহ্মসূত্র :
.
মহর্ষি বাদরায়ণের ‘ব্রহ্মসূত্র’ ব্রহ্মবাদ বা বেদান্ত-দর্শনের সূত্রগ্রন্থ বলে এটিকে ‘বেদান্তসূত্র’ নামেও অভিহিত করা হয়। এতে জগৎ ও ব্রহ্মকে দেহ এবং দেহধারী অর্থাৎ শারীরকের ভিত্তিতে বর্ণনা করা হয়েছে বলে এটিকে  ‘শারীরকসূত্র’ও বলা হয়। এছাড়া ‘বাদরায়ণসূত্র’, ‘শারীরক-মীমাংসা’, ‘উত্তরমীমাংসা’, ‘ব্রহ্মমীমাংসা’ প্রভৃতি নামেও তা পরিচিত।


ব্রহ্মসূত্রের সুত্রকার বাদরায়ণের সময়কাল সম্পর্কে তেমন স্পষ্ট কোন তথ্য পাওয়া যায় না। পৌরাণিক পরম্পরা মতে মহর্ষি বাদরায়ণ ও মহাভারতের গ্রন্থকার মহর্ষি কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাসকে একই ব্যক্তি বলে মনে করা হয় এবং এও মনে করা হয় যে তিনি পাঁচ হাজার বছরেরও পূর্বের অর্থাৎ মহাভারতের যুগের ব্যক্তি। তাছাড়া হিমালয়ের অন্তর্গত বদরি নামক স্থানে বেদব্যাসের আশ্রম ছিলো বলেও তাঁকে বাদরায়ণ বলা হতো। কিন্তু আচার্য শঙ্কর তাঁর ভাষ্যগ্রন্থে ব্যাসকে মহাভারতের এবং বাদরায়ণকে ব্রহ্মসূত্রের রচয়িতা বা গ্রন্থকার বলে উল্লেখ করেছেন। সম্ভবত তাঁর মতে এই দুই ব্যক্তি ভিন্ন। আবার শঙ্করের অনুগামী বাচস্পতি, আনন্দগিরি এবং আরও অনেকে ব্যাস এবং বাদরায়ণকে একই ব্যক্তি বলেই মনে করেন। অন্যদিকে রামানুজ এবং অন্যান্য ভাষ্যকারগণ ব্রহ্মসূত্রকে ব্যাসদেবেরই রচনা বলে উল্লেখ করেছেন।

তবে এই দুই ব্যক্তি যে এক নয় তা স্বয়ং ব্রহ্মসূত্রকারের সূত্রেই প্রমাণ পাওয়া যায় বলে রাহুল সাংকৃত্যায়ন উল্লেখ করেন। কেননা এই ব্রহ্মসূত্রে শুধু বৌদ্ধদর্শনেরই নয়, বুদ্ধের মৃত্যুর ছয়-সাত শতাব্দি পরবর্তীকালের বৌদ্ধদার্শনিক সম্প্রদায় যেমন বৈভাষিক, যোগাচার, মাধ্যমিক মতসমূহের খণ্ডন রয়েছে। রাহুল সাংকৃত্যায়নের মতে-
‘প্লেটোর দর্শনে প্রভাবিত হয়ে বৌদ্ধগণ তাঁদের বিজ্ঞানবাদের বিকাশ নাগার্জুনের আগেই করেছিলেন সন্দেহ নেই, কিন্তু তাতে পরিপূর্ণতা এনেছিলেন পেশাওয়ারের পাঠান ভ্রাতৃদ্বয় অসঙ্গ এবং বসুবন্ধু (৩৫০ খ্রীস্টাব্দ)। যদিও সূত্রে যেভাবে বিজ্ঞানবাদের (= যোগাচারের) খণ্ডন করা হয়েছে তাতে যথেষ্ট সন্দেহ হয় যে, বেদান্তসূত্র হয়ত সত্যিই অসঙ্গের পরবর্তী যুগে রচিত হয়নি, তথাপি আরও সুনিশ্চিত প্রমাণের অভাবে আমরা এইটুকুই বলতে পারি যে, বাদরায়ণ, কণাদ, নাগার্জুন; যোগসূত্রকার পতঞ্জলির পরবর্তী এবং জৈমিনির সমসাময়িক ছিলেন। এটা মনে রাখা দরকার যে ৩৫০ খৃষ্টাব্দের পূর্বেকার দর্শন-সমালোচক বৌদ্ধদার্শনিকগণের গ্রন্থে এমন কথা জানা যায় না যে, তাঁদের যুগে বেদান্তসূত্র বা মীমাংসাসূত্র ছিল।’- (দর্শন-দিগদর্শন-২, পৃষ্ঠা-১৭৩)।

ব্রহ্মসূত্রে চারটি অধ্যায়- সমন্বয়, অবিরোধ, সাধন ও ফল। প্রতিটি অধ্যায়ে আবার চারটি করে পাদ রয়েছে, যার মোট সূত্রসংখ্যা পাঁচশ পঞ্চান্নটি (৫৫৫)। প্রথম অধ্যায়ে বিভিন্ন উপনিষদের বাক্যসমূহে প্রকাশিত অর্থের সমন্বয়সাধন করে এক অদ্বিতীয়, নির্গুণ, নির্বিশেষ ব্রহ্মের স্বরূপ ও ব্রহ্মের সঙ্গে জগৎ ও জীবের সম্বন্ধ প্রতিপাদন করা হয়েছে। দ্বিতীয় অধ্যায়ে বিরোধী মত খণ্ডনপূর্বক ব্রহ্মের প্রাতিভাসিক, ব্যবহারিক ও পারমার্থিক সত্তার মধ্যে যে কোনো বিরোধ নেই এবং তারা যে এক অবিরোধী সত্তাকেই নির্দেশ করে, তা প্রতিপাদন করা হয়েছে। তৃতীয় অধ্যায়ে ব্রহ্মপ্রাপ্তির উপায় (উপাসনা, সাধন ইত্যাদি) নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। আর চতুর্থ অধ্যায়ে ব্রহ্মবিদ্যার ফলস্বরূপ ব্রহ্মপ্রাপ্তি বা মোক্ষের স্বরূপ আলোচনা করা হয়েছে।

ব্রহ্মসূত্রের সূত্রগুলি অতি সংক্ষিপ্ত, অনেক সময় পূর্ণাঙ্গ বাক্যও নয়। এক একটি সূত্রে দুটি বা তিনটি শব্দ আছে। স্বাভাবিকভাবেই সূত্রগুলি অতি দুর্বোধ্য। শব্দগুলি অনেক ক্ষেত্রেই দ্ব্যর্থক ও কোন কোন ক্ষেত্রে অনেকার্থক। তাই শুধুমাত্র এই সূত্রগ্রন্থটি পাঠ করে প্রকৃত অর্থ নির্ণয় করা একান্তই কঠিন।  সুতরাং কালক্রমে সূত্রকে ব্যাখ্যা করবার জন্য রচিত হয়েছে নানা ভাষ্যগ্রস্থ। বেদান্তমত ব্যাখ্যার উদ্দেশ্যে রচিত ভাষ্যগ্রন্থগুলির মধ্যে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ হলো শঙ্করাচার্যের ‘শারীরকভাষ্য’। শঙ্করাচার্য ছাড়াও ব্রহ্মসূত্রের ভাষ্য রচনায় শঙ্করের পরবর্তীকালে যাদব প্রকাশ, ভাস্কর, বিজ্ঞানভিক্ষু, রামানুজ, নীলকণ্ঠ, শ্রীপতি, নিম্বার্ক, মধ্ব, বল্লভ এবং বলদেব প্রমুখ অনেকেই আবির্ভূত হন। সূত্রের ভাষ্যকাররা সূত্রগুলির ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নানান ভাষ্যগ্রন্থে নিজ নিজ বদ্ধমূল ধারণার বশবর্তী হয়ে এতাটাই বৈচিত্র্যের স্বাধীনতা পেয়েছিলেন যে, এই ব্যাখ্যার ভিন্নতাকে কেন্দ্র করে বেদান্ত দর্শনে নানান উপসম্প্রদায় গড়ে উঠেছে। তাঁদের সকলেই প্রমাণ করতে সচেষ্ট যে, তাঁদেরই মতবাদ বাদরায়ণ তাঁর সূত্রের মাধ্যমে প্রচার করেছিলেন। এই উপসম্প্রদায়গুলির মধ্যে আচার্য শঙ্করের ‘অদ্বৈতবাদ’, রামানুজের ‘বিশিষ্টাদ্বৈতবাদ’, মধ্বের ‘দ্বৈতবাদ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বেদান্তের অন্যান্য উপসম্প্রদায়গুলির মধ্যে নিম্বার্কের ‘ভেদাভেদবাদ’, বল্লভাচার্যের ‘শুদ্ধাদ্বৈতবাদ’, ভাস্করের ‘ঔপাধিক ভেদাভেদবাদ’, শ্রীকণ্ঠের ‘বিশিষ্টশিবাদ্বৈতবাদ’, বলদেব বিদ্যাভূষণের ‘অচিন্ত্যভেদাভেদবাদ’ উল্লেখযোগ্য। যেহেতু বাদরায়ণ তাঁর নিজস্ব কোন মত প্রকাশের ব্যাপারে বহুক্ষেত্রেই নিরব, এমনকি কোন মৌলিক প্রশ্নের ক্ষেত্রেও নিরব, কেবল বিভিন্ন বেদান্তবাদীর মত মাত্র উপস্থাপন করেই আলোচনা শেষ করেছেন, তাই বাদরায়ণ তাঁর সূত্রে যে-সকল প্রাচীন বৈদান্তিক মতবাদসমূহের উল্লেখ করেছেন, সূত্রভাষ্যকারদের উপসম্প্রদায়ভিত্তিক মতবাদগুলিও বাদরায়ণোক্ত কোন না কোন শাখার উপর প্রতিষ্ঠিত বলে অনুমিত হয়।

এখানে উল্লেখ্য, সূত্রকার বাদরায়ণ যেখানে যেখানে বেদান্ত-বহির্ভূত মতবাদকে আক্রমণ করেছেন, সে-সকল ক্ষেত্রে সূত্রভাষ্যকাররাও অল্প বিস্তর একই মত প্রকাশ করেন। এছাড়া, ব্রহ্মই এ বিশ্বের কারণ, ব্রহ্মজ্ঞান হতেই জীবের পরম কাম্য মোক্ষ লাভ হয়; একমাত্র শাস্ত্রের মাধ্যমেই ব্রহ্মকে জানা সম্ভব, শুধু তর্কের দ্বারা নয়- এ সকল বিষয়ে সকল ভাষ্যকারই ঐকমত্য পোষণ করেন। কিন্তু ব্রহ্মের স্বরূপ, জগতের সঙ্গে ব্রহ্মের কার্যকারণ সম্বন্ধ, জীবাত্মার সঙ্গে ব্রহ্মের সম্পর্ক, এবং মুক্ত অবস্থায় আত্মার স্বরূপ কী ইত্যাদি বিষয়ে ভাষ্যকারদের পরস্পরের মধ্যে বিরোধ রয়েছে।

আচার্য শঙ্করের মতে ব্রহ্ম নির্গুণ, শাশ্বত, শুদ্ধ-চৈতন্য স্বরূপ। অদ্বৈতবেদান্ত মতে নির্গুণ ব্রহ্মই একমাত্র বা অদ্বিতীয় সত্য, জগৎ মিথ্যা, জীব এবং ব্রহ্ম অভিন্ন। অজ্ঞানবশে আমরা পরিদৃশ্যমান জগৎ এবং নিজেদের স্বতন্ত্র সত্তাকে সত্য বলে মনে করি, কিন্তু প্রকৃত জ্ঞানের উদ্ভব হলে বোঝা যাবে চিৎস্বরূপ আমি একমাত্র সত্য। তারই নাম ব্রহ্ম। এই ব্রহ্ম নির্গুণ। ব্রহ্ম ছাড়া দ্বিতীয় কিছুর কল্পনা অজ্ঞানের পরিণাম। এই অজ্ঞানের নামান্তর মায়া; তাই অদ্বৈতবাদকে মায়াবাদ বলেও উল্লেখ করা হয়। শঙ্করের মতে ঈশ্বর হলেন মায়া সৃষ্ট নির্গুণ ব্রহ্মের জীবাত্মার বুদ্ধিগ্রাহ্য সর্বশ্রেষ্ঠ রূপ। জগৎ হলো নির্গুণ ব্রহ্মেরই মায়াসৃষ্ট বিবর্ত- যার কোন বাস্তব সত্তা নেই। প্রকৃতপক্ষে জীব হলো সর্বব্যাপী এবং ব্রহ্ম হতে অভিন্ন। যদিও অন্তরেন্দ্রিয় দ্বারা উপাধি বিশিষ্ট হয়ে সে নিজেকে অণু, কর্তা এবং ঈশ্বরের অংশ বলে মনে করে। নির্গুণ ব্রহ্মকে যাঁরা জানেন তাঁরা প্রত্যক্ষভাবেই তাঁকে লাভ করেন, তাঁদের ‘দেবযানের’ মাধ্যমে যেতে হয় না। যাঁরা সগুণ ব্রহ্মকে জানেন তাঁদেরই দেবযানের মাধ্যমে ব্রহ্মলোকে যেতে হয়। ব্রহ্মলোক হতে তাঁদের আর প্রত্যাবর্তন করতে হয় না- কল্পান্তে তাঁরা ব্রহ্মেই লীন হন। জ্ঞানই হলো মোক্ষলাভের একমাত্র উপায়।

অন্যদিকে, রামানুজ এবং অন্যান্য ভাষ্যকারদের মতানুসারেও যদিও ব্রহ্মই চূড়ান্ত সত্য, তবুও ব্রহ্মকে নির্গুণ আখ্যা দেয়া ভুল, বরং তাঁকে অনন্ত কল্যাণ-গুণসম্পন্ন সাকার ঈশ্বর মনে করতে হবে। তাঁরা মনে করেন, যদিও মানুষের ব্যক্তিত্ব সসীমরূপেই অনুভূত হয়, তবুও শঙ্করের মতানুযায়ী এটিকে যদি অবিকলভাবে ঈশ্বরের ব্যক্তিত্বে আরোপ না করা হয়, তবে আর তাঁর অসীমত্বে আপত্তি আসে না। তাঁরা শঙ্করের মায়াবাদকে স্বীকার করেন না। কারণ তাঁদের মতে জগৎ সত্য এজন্য যে, জগৎ ব্রহ্ম হতেই উৎপন্ন হয়েছে।

বিশিষ্টাদ্বৈত বেদান্ত মতে ব্রহ্মই ঈশ্বর; উপাসনাদি সৎকর্মের সাহায্যে তাঁর করুণার উদ্রেক করতে পারলেই জীবের মুক্তি। পরিদৃশ্যমান জড়জগৎ এবং জীবাত্মার মধ্যে স্বাতন্ত্র্য মিথ্যা নয়। কেননা, ব্রহ্ম বা ঈশ্বরের মধ্যেই চিৎ এবং অচিৎ- অর্থাৎ চেতনা এবং জড়- উভয় বৈশিষ্ট্যই বর্তমান। চিৎ বৈশিষ্ট্য থেকেই জীবাত্মার সৃষ্টি এবং অচিৎ থেকে জড়জগতের। ব্রহ্ম চিৎ-অচিৎ বিশিষ্ট। জীবাত্মার সঙ্গে জড়দেহের সম্পর্কই বন্ধনের স্বরূপ এবং তার মূলে আছে জন্মজন্মান্তরের কৃতকর্মজনিত অজ্ঞান। ঈশ্বরের করুণায় জীবাত্মা এই অজ্ঞান কাটিয়ে মুক্তিলাভ করবে।

তবে মধ্বাচার্য কিন্তু ব্রহ্মকে জগতের নিমিত্ত-কারণ মাত্র বলেই গ্রহণ করেন, উপাদান-কারণ হিসেবে নয়। তাঁদের মতে জীব বাস্তবিকই অণু, কর্তা এবং ঈশ্বরেরই অংশ বিশেষ। ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষ দেবযানের পথে ব্রহ্মলোক প্রাপ্ত হয়ে ব্রহ্মে লীন হন এবং আর মর্ত্যলোকে প্রত্যাবর্তন করেন না। তাঁরা শঙ্করের মতো জ্ঞানকে উচ্চ বা নিম্ন বলে পার্থক্য করেন না। তাঁদের মতে জ্ঞান নয়, ভক্তিই মুক্তিলাভের প্রধান উপায়।

এভাবে তাঁদের সবার কাছে ব্রহ্ম, জগৎ এবং জীব সব কিছুই সত্য। তবে রামানুজ এ তিনটিকে একই অঙ্গবিশিষ্ট বলে মনে করেন, কেননা তাঁদের মতে জগৎ এবং জীব ব্রহ্মেরই দেহ। আবার ভেদাভেদবাদের মতানুসারে নিম্বার্কাচার্য ভেদ এবং অভেদ এই উভয় কল্পনা করে ব্রহ্ম, জগৎ এবং জীব এই তিনটিকে ব্রহ্মের সঙ্গে একীভূত করে বলেছেন যে, চেতন এবং অচেতন জগৎ ব্রহ্ম হতে ভিন্নও বটে অভিন্নও বটে। আর কট্টর দ্বৈতবাদী মধ্বাচার্য এ তিনটিকে সম্পূর্ণ স্বাধীন এবং নিত্য বলে মনে করেন, তবে তাঁর মতে ব্রহ্মই হলেন অপর দুটির নিয়ন্তা। বল্লভাচার্যের মতে জীব এবং জগৎ ব্রহ্মেরই অভিন্ন স্বরূপ। তারা সকলেই সত্য- ব্রহ্ম হতে তারা অভিন্ন, তবে ব্রহ্ম হলেন পূর্ণ, আর অপর দুটি হলো তাঁর অংশ।

বেদ থেকে শুরু করে বেদান্ত দর্শন পর্যন্ত চলে আসা বিবর্তিত চিন্তাধারার এই যে ক্রমবিকাশ, তার পর্যালোচনা করলে বেদান্ত চিন্তাধারার তিনটি স্তর বা ধাপ লক্ষ্য করা যায়। বেদ ও উপনিষদ হলো বেদান্ত চিন্তাধারার প্রথম স্তর, ব্রহ্মসূত্র বেদান্ত চিন্তাধারার দ্বিতীয় স্তর এবং বিভিন্ন ভাষ্যগ্রন্থ বেদান্ত চিন্তাধারার তৃতীয় স্তর। বলা বাহুল্য, এই তিনটি স্তর কোন বিচ্ছিন্ন চিন্তার প্রতিফলন নয়, বরং বিভিন্ন স্তরে একই চিন্তাধারারই পরিণতির প্রতিফলন ঘটেছে। এগুলিই মূলত বেদান্ত-দর্শনের উৎসমুখ।

এ প্রসঙ্গে একথাও উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, উপনিষদ ও ব্রহ্মসূত্র (ভাষ্যসহ) ছাড়াও বেদান্ত দর্শনের অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসমুখ রয়েছে, সেটি হলো- শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা। অর্জুনের উদ্দেশ্যে জীব, জগৎ ও পরমাত্মা বিষয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মুখনিঃসৃত জ্ঞান-বাণীর সংকলনই ভগবদ্গীতা। ভগবদ্গীতাই বেদান্ত চিন্তাধারার চরম ও পরম পর্যায় বলে মনে করা হয়। তাই বলা হয়ে থাকে, উপনিষদ হলো বেদান্ততত্ত্বের ‘শ্রুতিপ্রস্থান’, ব্রহ্মসূত্র বেদান্ততত্ত্বের ‘ন্যায়প্রস্থান’ এবং শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা বেদান্ততত্ত্বের ‘স্মৃতিপ্রস্থান’। এই তিন শাস্ত্রকে একসাথে বলা হয় ‘প্রস্থান-ত্রয়ী’। এই প্রস্থানত্রয়কে সাধনকর্মে যথাক্রমে শ্রবণ, মনন ও নিদিধ্যাসনের নির্দেশক বলে আখ্যায়িত করা হয়।

(চলবে…)

[আগের পর্ব :  বেদান্তের উৎপত্তি ও উপনিষদীয় ক্রমবিকাশ] [*] [পরের পর্ব : শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা]

2 comments:

kaisarahmed said...

ধন্যবাদ,লেখাটা পড়ে ভালো লাগলো | আমি আপনাকে কোন প্রকার অফার করছি না। আমার মানে হয় এই ছোট তথ্যটি আপনার উপকারে আসতে পারে বাড়ী ভাড়া।

sadiphasan said...

আমাদের বেঁচে থাকার জন্য খাদ্যের ভূমিকা অনেক। আমরা অনেকেই নানা রকম খাবার ভালোবাসি। আমরা সবাই কম বেশি মাছ ভালোবাসি। কিন্তু বর্তমানে তাজা বা টাটকা মাছ খোঁজে পাওয়া যাই না। আপনি কি সামুদ্রিক মাছ, গলদা চিংড়ি, চিংড়ি, তাজা জল-মাছ, কাঁকড়া, ইত্যাদি দরণের মাছ খোঁজ করছে? তাহলে ভিজিট করুন freshfishbd.