Friday, May 2, 2008

# যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(০২)







যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...(০২)

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল,১৯৯৩)


রূপা, মানুষের ভাষা এতো বেশি অক্ষম যে, তুমিই বুঝালে আমাকে। এই বুকটাতে এতো বেশি কথা জমে আছে, প্রচণ্ড ভারে ফেটে যেতে চায় ; বিশ্বাস করো, খুব কষ্ট হয়, খুব ! তাই তো ফিরে ফিরে তোমার কাছেই যেতে চাই, হালকা হবো বলে। কথার ফুলঝুরি ছোটাবো বলে, বুকের পাথরটাকে গলিয়ে ঝরণা করবো বলে। প্রচণ্ড ইচ্ছা নিয়ে যাই, তোমাকে কোলে বসিয়ে উন্মাদ আদরে আদরে যুবকের গল্প বলবো, এবং সেই মেয়েটির গল্প শুনবো, যা আমার আজো শোনা হয়নি। অথচ এমনই নিয়তি আমার, কিছুই বলা হয় না, বুকটা হঠাৎই অবরুদ্ধ হয়ে ওঠে, ভাষা অক্ষম আর কণ্ঠ নির্বাক হয়ে যায়। তোমার দিকে চেয়ে আমি কেমোন হয়ে যাই। রূপা, বিশ্বাস করো, আমি মরিয়া হয়ে ওঠি, কিছু বলতে চাই- বলিও বটে। তবে এ কথা সে কথা নয়। খেই হারিয়ে কী বলতে কী যে বলে ফেলি অসংলগ্ন, যার অর্থ আমি নিজেও বুঝি না। হয়তো এর কোন অর্থই নাই। তুমি কী মনে করো জানি না, কিন্তু যখন ফিরে আসি, মনে মনে সঙ্কোচে মরে যাই ছুঁড়ে দেয়া এসব হালকা আর অসংলগ্ন কথার জন্য। আমার জন্মান্ধ চোখকে ক্ষমা করো রূপা, সে তোমাকে, একান্ত তোমাকেই দেখতে চায় বলে এমন পলকহীন চেয়ে থাকে তোমার চোখের তারায়। সে কী দেখে, জানি না আমি। হয়তো তোমার চোখের আয়নায় নিজেকেই ফিরে ফিরে দেখে।

এবার সেই যুবকের গল্প শুনো। যুবকটি এভাবেই মেয়েটির বিষণ্ন মুখের দিকে চেয়ে থাকে অপলক। ঐ বিষণ্নতার উৎস খুঁজে বেদনায় নীল হয়ে ওঠে নিজে নিজে। তাঁর কষ্ট সে নিতে চায় বলে সে নিজের কষ্টও ছুঁড়ে দেয় ওর দিকে। মেয়েটি কিন্তু তা বুঝলো না। ভাবলে হয়তো, এ যুবক ক্ষণভঙ্গুর ; কষ্ট ধারণ করার ক্ষমতা যার নাই একেবারেই, সে কিনা যোগ্যতার বড়াই করে ? মেয়েটির মৃদু ভর্ৎসনায় সম্বিৎ ফিরে পায় সে। তাই তো ! কষ্ট সইতে না পারলে এমোন বন্ধুর পথে এসেছো কেন ? অতঃপর যুবক গুটিয়ে নেয় নিজকে এই গভীর কষ্টের এমোন হাস্যকর হালকা প্রকাশ থেকে। আর বলতে পারে না যে, মেয়েটিকে বুকে জড়িয়ে সে শুধু কাঁদতে চায়। শুধু কাঁদতে, গুমরে গুমরে। যেখানে কোন কথা নেই, ভাষারা নীরব, স্পর্শে ঘ্রাণে আর উপলব্ধ অনুভূতির প্রগাঢ়তায় পরস্পর জারিত হয়ে চিনে নেবে একে অন্যকে। পৃথিবীর সব ভাষা নুয়ে পড়ে জানাবে তাদের অনন্ত কৃতজ্ঞতা।

না রূপা, থাক ওই যুবকের গল্প। এটা বলে যাওয়া সত্যি কঠিন। যেখানে ভাষারা নতজানু, সেখানে বুঝে নেয়া ছাড়া অন্য কোন পথ কি আর খোলা থাকে ? বলতে যাওয়া বা শুনতে চাওয়া যে তার প্রতি অবিচারই হবে, হয়তো মেয়েটির প্রতিও তাই।

আচ্ছা রূপা বলবে কি, মেয়েটির ওই কষ্টের উৎস কোথায় ? তাঁর গল্প তো তুমিই জানো। তাঁর কষ্ট কি এই যুবক ? না কি অন্য কিছু ? চেহারায় আড়ম্বরে কোনভাবেই যার কোন সমৃদ্ধি নেই, তাকে কেনই বা এই মেয়ে তাঁর নিজের কষ্ট বানাতে যাবে ? নিজের মধ্যে কোন সুন্দর কিছু আদৌ আছে কি না যুবক জানে না। জানে শুধুই এটুকুই, মেয়েটির সমস্ত সুন্দরের আলোকে সে আলোকিত। তাইতো তার চোখে সে মেয়ে কোন মেয়ে নয়, কেবলই কুয়াশা। হয়তোবা জ্বলতে থাকা এক নিঃসঙ্গ মঙ্গল-দীপ !


চলবে...


আগের পর্ব - (০১):
পরের পর্ব - (০৩):
R_d_B

No comments: