Wednesday, September 24, 2008

@ মনোবিকলন না কি ছিটগ্রস্ততা...! (গদ্যপ্রলাপ)




মনোবিকলন না কি ছিটগ্রস্ততা...! (গদ্যপ্রলাপ)
রণদীপম বসু


দ্বিতীয় অংশ:

এরকম সমস্যায় একটাই উপায়। মেডিটেশন ! বিছানায় চিৎ হয়ে একনিবিষ্টে ছাদের দিকে হা করে তাকিয়ে লাশের মতো জপতে থাকলাম, আমি অমুক, বয়স এতো, সাংঘাতিক ধরনের মহাজ্ঞানী পুরুষ। স্ত্রী অমুক, কটমটিয়ে তাকানোর বাতিক থাকলেও মানুষ খারাপ না। তবে নির্বোধ রমণী। পৃথিবীর সবাই ভয়ঙ্কর ধরনের লেখক হয়ে উঠুক এটা তার ফেভারিট চাওয়া, শুধু অথর্ব স্বামীটি বাদে। একমাত্র সন্তানের নাম অমুক, বয়স এতো, নাকের দুধ না শুকালেও জলজ্যান্ত বিদ্যাসাগর, একেবারে ট্যাবলেট সংস্করণ। আর আমি ? জগতের এমন কোন বিষয় নেই যা আমার অগম্য। একেবারে নখদর্পণে। ইচ্ছে করলেই আমি যে দিকে তাকাই ভূত ভবিষ্যৎ সব বলে দিতে পারি......

মেডিটেশনে কাজ দিতে শুরু করেছে ! চোখে মুখে শীতল পরশ টের পাচ্ছি। শুধু শীতলই নয়, হিম ঠান্ডা ! আহ্, বিদ্যুৎহীন অন্ধকারেও মেডিটেশনের কী দ্রব্যগুণ ! আমার মনে পড়তে লাগলো মাসুদা ভাট্টির পোস্ট ভি এস নাইপলকে নিয়ে নোবেল বিজয়ী আত্মম্ভরী মর্ষকামী, জুলিয়ান সিদ্দিকীর তিতিক্ষা, ধর্মপুত্র যুধিষ্ঠিরের ধর্ম নিয়ে কী ভয়ঙ্কর পোস্ট লালন কি জাত সংসারে, গৌতমের কনফেশন নিজেকে যাচাই করা হয় না অনেকদিন, আর অতন্দ্র প্রহরীর দুঃখ বিলাস বুড়ো হয়ে যাচ্ছি ! এখনো বাকি রয়ে গেছে ফারুক ওয়াসিফের গান ও কবিতা শোনা, ফারুক হাসানের ফের্মার শেষ উপপাদ্য মিলানো, এস এম মাহবুব মুর্শেদের পিটসবার্গের ধুসর পান্ডুলিপির খোঁজ করা, হাসান মোরশেদের অরুন্ধতী পাঠ এবং দেবোত্তম দাশের সূর্যাস্ত সহ আরো কতো কিছু ! এবং অন্ধকারে আমি সব দেখতে পাচ্ছি ! কে বলেছে অন্ধকার ! ঝলমলে আলো। কিন্তু সামনে দাঁড়ানো এ কে ? ফ্রিজিং ওয়াটার বোতল হাতে এমন দজ্জাল চেহারার রমণীকে আমি কি আগে দেখেছি কোথাও ? ওমা, অশিষ্টের মতো কথাও তো বলছে দেখি !
কী ব্যাপার ? হেমায়েতপুরের সিরিয়াল দিয়েছো কবে ? তোমার যা অবস্থা, ওখানেও রাখবে না ! এই জঞ্জাল শেষ পর্যন্ত আমার গলাতেই ঝুলবে ! অসুবিধা নাই, এর চিকিৎসাও আমার জানা আছে।
এ..এ..এ্যাঁ..!!! মেডিটেশন কি উল্টো হয়ে গেলো ? আবার করতে হবে !
ধপাশ করে চিৎ হয়ে পড়লাম !

প্রথম অংশ:

আজ সচলে লগইন করে যারা যারা পোস্ট দিয়েছেন এবং বিভিন্ন পোস্টে মন্তব্য করেছেন, প্রত্যেকে যার যার মোটমাট লেখা ও মন্তব্য সবগুলো একত্রে ধারাবাহিক সমাবেশ ঘটালে এগুলো দেখে কার কতটুকু মনোবিকলন ঘটেছে তা কি আদৌ যাচাই করা সম্ভব ? মনোসমীক্ষণবাদী দার্শনিক ফ্রয়েড থাকলে কী করতেন জানি না। এ থেকে নতুন কোন থিওরী বেরিয়ে আসতো কিনা তাও বলতে পারবো না। আর আজকে আমি কোন কারণে ছিটগ্রস্ত হয়ে ওঠেছি কিনা সেটা গবেষণার বিষয় হলেও হতে পারে। তবে সচলে ঢুকেই ভারি ভারি লেখাগুলোর দিকেই আজ মনোযোগ আকৃষ্ট হলো বেশি।

সব দিন এমনটা হয় না। কোনদিন হয়তো কোথায় কোথায় ফান থাকতে পারে ধারণা করে সেখানে ঢু মারি। আবার কোন দিন হয়তো কাব্যে পেয়ে বসে। কোন দিন মন্তব্য করার বাতিকে এমন জাপটে ধরে যে তা থেকে আর ছুটতেই পারি না। আবার এমনও দেখা গেছে সেদিন লগইন না করেই দু’তিন ঘণ্টা আয়েশ করে ঘুরাঘুরি করলাম এবং বহুৎ তৃপ্তি বোঝাই হয়ে হাঁসের মতো গড়িয়ে গড়িয়ে বিছানায় উঠে গেলাম। কিন্তু আজ এমন সব আকর্ষণীয় লেখায় সচলের পাতাটা সমৃদ্ধ হয়ে ওঠলো যে খুঁজে খুঁজে সেগুলোতেই ডুব সাঁতার দিতে থাকলাম আর দমবন্ধ হবার আগে নিজেকে আবিষ্কার করলাম আমি হাঁপাচ্ছি। কারণ আমাদের সচলদের জন্য আমি সত্যিই গর্ববোধ করি এ জন্যেই যে চোখ একটা নয়। ফ্রান্সিস বেকনের সেই মৌমাছিদের মতো তাঁদের অনেকগুলো চোখ। এবং এ চোখগুলো দিয়ে তাঁরা যাই আহরণ করছেন কী চমৎকার মধু বানিয়ে এনে ছেড়ে দিচ্ছেন সচলের পাতাটাতে। এটা যেন পাতা নয়, জলজ্যান্ত মৌচাক একটা।

কিন্তু মধুর অনেক গুণাগুণের মতোই এটাও নিশ্চয় বিরাট গুণ যে, সাধ্যের বেশি গিললেই মাঘের শীতেও নাকি রাতভর ঠিকানা হয়ে ওঠে পাশের শীতল ডোবাটাই। আমার অবস্থাও কি তাই ? অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে খেয়াল করলাম মাত্র গুটিকয় পোস্টে ঘোরাঘুরি করেই এবং মধু একটু বেশি খেতে গিয়েই মরিমরি অবস্থা। মহামতি ফ্রয়েড থাকলে হয়তো একটা সমাধান চাওয়া যেতো। আড়চোখে ফোলা বেলুনের মতো নিজেকে বিশালভাবে দেখে মুই কি হনুরে ভাবতে ভাবতে যেভাবে আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তুলছিলাম, হঠাৎ এভাবে সর্বসমক্ষে ফুস করে চুপসে গেলাম ! মাথার ভেতর কোষগুলো তার সমস্ত সংবেদনশীলতা নিয়ে কিলবিল করতে লাগলো এবং এক সময় সচল ছেড়ে সোজা বিছানায় চিৎ হয়ে পড়ে রইলাম। কেন এমন হবে ? মাথার ধারণক্ষমতা কি ক্রমেই পড়ে আসছে ? এ ব্যাপারে মহাজ্ঞানীরা কে কী বলেছেন মনে করতে চেষ্টা করলাম। কী আশ্চর্য, মাথার ভেতরটা এক্কেবারে ফাঁকা ! এবং আরো আশ্চর্য হয়ে লক্ষ্য করলাম একটু আগে কোথায় কী মন্তব্য করেছি তাও ক্রমেই ঝাপসা হয়ে আসছে ! এখন উপায় ?

তৃতীয় অংশ:

প্রযোজ্য নয়।

শেষ অংশ:

ফ্রয়েড নেই তো কী হয়েছে ? আমার মেধাবী সব সচল বন্ধুরা আছে না ! নিশ্চয়ই একটা না একটা তরিকা বেরিয়ে আসবেই। এটা কি মনোবিকলন না কি ছিটগ্রস্ততা ? তবে মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে শুনেছি কেসহিস্ট্রি না কি যেনো দিতে হয়। সে হিসেবে আমার আজকের কেসহিস্ট্রি অতি সরল।
এই যদি আমার আজকের কাহিনী হয়, তাহলে সচল বন্ধুদের কাছে আমার আরজি, বলেন তো ইহা কি মনোবিকলন, না কি সত্যিই ছিটগ্রস্ততা ? আমি কি আদৌ সুস্থ আছি ?

[sachalayatan]

No comments: