Sunday, February 21, 2010

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৩১-১৪০|


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৩১-১৪০|
রণদীপম বসু

...
(১৩১)
মানুষ কখনোই তার শৈশবকে ছাড়িয়ে যেতে পারে না।
শিশুর স্বপ্ন দেখার ক্ষমতা অসীম;
বড় হতে হতে মানুষের স্বপ্ন-পরিধি ক্রমেই ছোট হয়ে আসে।

(১৩২)
সম্পদ ততক্ষণই সম্পদ, যতক্ষণ তা বিনিময়যোগ্য থাকে;
জ্ঞানও অর্থহীন যদি তা ব্যবহারযোগ্যতায় না আসে।
তাই প্রচার বিমুখ ব্যক্তিত্ব বলতে আসলে কিছু নেই।

(১৩৩)
নিজেকে যে বোকা হিসেবে আবিষ্কার করে, সেই বুদ্ধিমান;
আর যিনি নিজেকে খুব বুদ্ধিমান ভাবেন, তার বুদ্ধি অপরিপক্ক।

Saturday, February 20, 2010

| ইয়োগা, সুস্থতায় যোগচর্চা | একটু সুলুক-সন্ধান |


| ইয়োগা, সুস্থতায় যোগচর্চা | একটু সুলুক-সন্ধান |
-রণদীপম বসু


লেখকের জবানবন্দী:
চোখ ফেরালেই ইদানিং সুদেহী মানুষের অভাববোধ ভয়ানক পীড়া দিয়ে উঠে। তারচে’ও প্রকট সুস্থ দেহে সুমনা সত্ত্বার অভাব। আমরা কি দিন দিন অসুস্থ হয়ে পড়ছি ! সর্বগ্রাসী দুষণের মাত্রাতিরিক্ত সংক্রমণে মানুষের শরীর স্বাস্থ্য ঠিক রাখা বাস্তবিকই কঠিন আজ। এ বড় দুঃসহ কাল। শরীরের সাথে মনের যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক, তার সূত্র ধরেই নাগরিক সভ্যতায় আজ দিনকে দিন সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার সাথে পাল্লা দিয়ে একদিকে যেমন বেড়ে চলছে মানসিক অস্থিরতা, টেনশন আর অনিশ্চয়তা, অন্যদিকে অতিদ্রুত ভেঙে পড়ছে সতেজ মনে সুস্থ থাকার ন্যুনতম ভারসাম্যও। এই কঠিন দুঃসময়ে নিজের দিকে একটু ফিরে তাকানোর সময়ও কি হবে না আমাদের !

শহর বন্দর গ্রাম গঞ্জ থেকে একে একে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চোখে নিবিড় আদর বুলানো সবুজ বৃক্ষ, বুক ভরে শ্বাস নেয়ার নির্মল বাতাস, বিশুদ্ধ পানীয় জলের স্বচ্ছতা, খেলার মাঠ আর আকাশের উদারতা এবং সুস্থ দেহে বেঁচে থাকার অনিবার্য শর্তগুলো। আমাদের অজান্তেই আমরা যে কতো নীরব ঘাতকের চিহ্ণিত লক্ষ্য হয়ে যাচ্ছি সে খেয়াল কি রাখছি ? সৃজনশীল হওয়া সে তো বহু দূরের কথা। অথর্ব মন আর ভাঙা শরীর নিয়ে এতো সহজ মৃত্যুর দিকে জটিল সব অসুখের ডিপো হয়ে তিলে তিলে ভোগে ভোগে যেভাবে এক দুঃসহ পরিণতির দিকে এগিয়ে যাচ্ছি আমরা, সামনে এখন দুটো পথই খোলা। সব কিছু মেনে নিয়ে বাধ্য প্রাণীর মতো একযোগে আত্মহত্যা করা, নয়তো ঘুরে দাঁড়ানো। যিনি আত্মহত্যা করার মৌলিক অধিকারের ঝাণ্ডা উড়িয়ে মার্চপাস্ট করবেন, তাঁর সাথে তো আর কোন হিসাব চুকানোর কিছু নেই। যিনি তাঁর মানবিক সৃজনশীলতাকে অর্থবহ বাঁচিয়ে রাখার জন্যই ঘুরে দাঁড়াতে চান, আসুন আমরা সে চেষ্টাটাই করে দেখি একবার। আর সে চেষ্টা কিছুতেই যাতে বিফলে না যায়, তারই ছোট্ট প্রয়াস এই ‘ইয়োগা, সুস্থতায় যোগচর্চা’ গ্রন্থটি।

Tuesday, February 16, 2010

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ১২১ - ১৩০ |

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ১২১ - ১৩০ |
-রণদীপম বসু

...
(১২১)
মেয়াদোত্তীর্ণ হলে অমৃতও বিষ হয়ে যায়;
আর মেয়াদোত্তীর্ণ বিষ কী হতে পারে তার উৎকৃষ্ট নমুনা বোধহয়
কাল্পনিক সৃষ্টিকর্তার নামে পুরুষতন্ত্রের রচিত, প্রবর্তিত ও ব্যবহৃত
অলৌকিক ধর্মগুলো।

(১২২)
প্রচলিত ধর্মগ্রন্থগুলোতে সম্ভবত কোন মানুষের কাহিনী নেই;
আছে ভোগলিপ্সু পুরুষ-প্রভু আর ভোগ্যপণ্য নারী-দাসীর কথা।

(১২৩)
ভাবুকদের জন্য কোলাহলপূর্ণ ড্রয়িংরুমের চেয়ে
নিরিবিলি টয়লেটও উত্তম।

| দুই-মেগাপিক্সেল | একুশে বইমেলা ২০১০ | পর্ব-০৪ |


| দুই-মেগাপিক্সেল | একুশে বইমেলা ২০১০ | পর্ব-০৪ |
-রণদীপম বসু

এ পর্বটা আমার সেই সব নিন্দুক বন্ধুদের জন্য যারা আড়ালে-আবডালে হাসাহাসি করেন আর বলতে কসুর করেন না যে- এ্যাহ্, দ্যাখো, পুরান পাগলে ভাত পায় না, নতুন পাগলের আমদানি ! তবে তাদের কথা কিন্তু একটুও ফেলনা নয়। তারা সত্যিই বলেন। এতো বিশাল বিশাল কামান-মার্কা অত্যাধুনিক সব ক্যামেরার বিপরীতে দুই-মেগাপিক্সেল নিয়ে এরকম মশকারি দেখলে কার না গা জ্বলবে ! আর বইমেলা তো হচ্ছে সব ধরনের পাগলেরই গারদখানা। সাধারণ পাগলদের সাথে তাদের তফাৎ শুধু একটা জায়গাতেই। এরা হচ্ছেন স্বেচ্ছা-পাগল, সংস্কৃতির পাগল। পাঠক বন্ধুরা, আসুন এ সুযোগে আজ সেই পুরান পাগলদেরকেই একটু দেখে নেই তাহলে।

Wednesday, February 10, 2010

| দুই-মেগাপিক্সেল | একুশে বইমেলা ২০১০ | পর্ব-০৩ |

| দুই-মেগাপিক্সেল | একুশে বইমেলা ২০১০ | পর্ব-০৩ |
-রণদীপম বসু

যে কোনো মেলার ক্ষেত্রেই হয়তো দর্শক হিসেবে প্রথমবার আমাদের একটা মনস্তাত্ত্বিক সঙ্কট তৈরি হয়। অবশ্য এটা কোনো জটিলতা নয়, অত্যন্ত সাধারণ একটা ব্যাপার। আমাদের মানসিক চাওয়া হয়- মেলা থাকবে সুশৃঙ্খল, গোছানো। কিন্তু মজার বিষয় হচ্ছে, আমাদের মনটাই থাকে সবচাইতে অস্থির, গোলমেলে। কৌতুহল আর আগ্রহের আতিশয্যে আমরা নিজেরাই যেকোনো শৃঙ্খলা মানতে খুব অজান্তেই নারাজ হয়ে যাই। আর এই প্রবণতাটা অতি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি বলেই মেলার আয়োজকদেরও নাস্তানাবুদ হয়ে শৃঙ্খলা রক্ষার নানান ফন্দি ফিকির খুঁজতে হয়। আর বইমেলার ক্ষেত্রে তো এটা আমাদের বড় মধুর স্ববিরোধিতা। শৃঙ্খলা মেনে চলার দায়িত্ব সবার ক্ষেত্রে ঠিক রাখা চাই, শুধু আমার জন্যে তা প্রযোজ্য হওয়া উচিত নয়। হা হা হা !

Monday, February 8, 2010

| দুই-মেগাপিক্সেল | একুশে বইমেলা ২০১০ | পর্ব-০২ |


| দুই-মেগাপিক্সেল | একুশে বইমেলা ২০১০ | পর্ব-০২ |
-রণদীপম বসু

বইমেলা মানেই হচ্ছে হরেক রকমের অগুনতি বইয়ের মেলা। তবে এটা কোন শেষ কথা নয়। আসলে নানা রঙের দর্শনার্থী মানুষেরই মেলা এটা। এবং চূড়ান্ত বিচারে লেখক-পাঠক-ক্রেতার মেলা। একজন দর্শনার্থীকে পাঠক থেকে ক্রেতার ভূমিকায় টেনে আনার কৌশলই হচ্ছে বইমেলার মূল দর্শন। আর এই দর্শনটাকে সফল করে তোলার লক্ষ্যেই যা কিছু আয়োজন। শেষ বিচারে মেলার সার্থকতাও ওখানেই। তাই একজন ব্যক্তি হিসেবে আমরা যখনই মেলায় ঢুকবো, আসলে একজন দর্শনার্থী হিসেবেই ঢুকবো। মেলার সমস্ত নান্দনিকতা সাজানো হয় একজন দর্শনার্থীকে সফলভাবে আকৃষ্ট করার  সর্বোচ্চ আগ্রহ নিয়েই। মেলার শৃঙ্খলা, প্রকাশনার স্টল সাজানো কিংবা যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা একজন দর্শনার্থীর রুচি ও সাচ্ছন্দ্যের বিষয়টাকে মাথায় রেখেই সম্পন্ন করা হয়। সার্বিক আবহের সাথে সচ্ছন্দভাবে মিশে গিয়ে একজন দর্শনার্থী যখন মেলার সাথে একাত্ম হয়ে যাবেন, তখনই তিনি দর্শনার্থী থেকে পাঠকে রূপান্তরিত হবার প্রক্রিয়ায় এগিয়ে যাবেন। তিনি স্টলে স্টলে ঢুঁ মেরে এটা ওটা ওল্টেপাল্টে নাড়াচাড়ার মধ্যে দিয়ে খুব অজান্তেই পাঠক হিসেবে অভিনীত হতে থাকবেন। আর চূড়ান্ত অঙ্কে এসে পাঠকরুচির সার্থক প্রতিফলনের মধ্য দিয়ে একটি সফল প্রকাশনা তাঁকে একজন অনিবার্য ক্রেতা হিসেবে উপস্থাপন করবে। অর্থাৎ চূড়ান্তভাবে একজন ক্রেতার আবির্ভাবের মধ্য দিয়ে একটি একক চক্র পূর্ণ হবে। এরকম অজস্র চলমান চক্রের সমন্বিত বিশাল সব ঢেউয়ের ধারাবাহিক বহমানতাই এই একুশে মেলার প্রাণ।

Sunday, February 7, 2010

| দুই-মেগাপিক্সেল | একুশে বইমেলা ২০১০ | পর্ব-০১ |

 
| দুই-মেগাপিক্সেল | একুশে বইমেলা ২০১০ | পর্ব-০১ |
-রণদীপম বসু
ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি। তবে ফেব্রুয়ারি এগিয়ে এলেই যে দৃশ্যটা মনের চোখে ভেসে ওঠে প্রথমেই, বাংলা একাডেমীর বইমেলা। আসার কথা শহীদ মিনার আগে। কিন্তু তা যে হয়নি, এটার কারণ হয়তো মাসের শুরুতেই বইমেলার বিশাল উৎসব-আয়োজন। এবং তারও আগে এর প্রস্তুতির সরব কোলাহল। চারদিকে হৈহৈ রব রৈরৈ উল্লাস। এরপর একুশ যতই এগিয়ে আসতে থাকবে শহীদ মিনার ততই তার গভীর ও প্রোথিত সত্ত্বা নিয়ে একটু একটু করে অধিকার করতে থাকবে আমাদেরকে। যেহেতু একুশে বইমেলা এখন আমাদের বাঙালি সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশই বলা যায়, আর তাই, মেলা এসে গেলো, অথচ আমার দুই-মেগাপিক্সেল চোখ বন্ধ করে থাকবে, তা কী করে হয় !

| অন্তর্জালিক সংযোগাভিধান (Web-Linktionary) |

| অন্তর্জালিক সংযোগাভিধান (Web-Linktionary) |
———————————————-