Saturday, April 24, 2010

| বিজয় বনাম অভ্র বিতর্ক, ভাষা উন্মুক্তির লক্ষ্যটাই নির্ধারণ করে দিলো...|


| বিজয় বনাম অভ্র বিতর্ক, ভাষা উন্মুক্তির লক্ষ্যটাই নির্ধারণ করে দিলো...|
-রণদীপম বসু
...
'আহ্লাদে গদগদ, ভূমিতে না পড়ে পদ', ছোটবেলায় মা-মাসিদের কাছে শুনা এ কটাক্ষপূর্ণ ছন্দময় বাক্যবন্ধটায় বেশ আমোদ পেতাম। 'মুই কি হনুরে' জাতীয় আহ্লাদে আটখানা হয়ে গেলে মানুষ যে কতোটা অহঙ্কারি হয়ে ওঠে, তারই প্রবাদতুল্য নমুনা-বচন এটা। এমন অবস্থায় এলে নাকি মানুষের পা তখন আর বাস্তবের মাটিতে পড়তে চায় না। আর বাস্তববিবর্জিত হলে যা হয়, একটু চিপায় পড়লেই যুক্তিহীন আবোলতাবোল বকতে থাকে। তার সাথে যদি ক্ষমতার মদমত্ততা যুক্ত থাকে, তাইলে তো আর কথাই নেই। ধরাকে সরা জ্ঞান করে এরা এই বোধটুকুও হারিয়ে ফেলে যে, 'কাউকে কাউকে সবসময় বোকা বানানো যায়, সবাইকে কিছুদিন বোকা বানানো যায়, কিন্তু সবাইকে সবসময় বোকা বানানো যায় না'।
ইতিহাসে নজর দিলে এই আলামত দেখতে পাই আমরা বাংলা ভাষা আন্দোলনের সেই উত্তাল দিনগুলোতে কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ্'র আচরণে। তৎকালীন পাকিস্তানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর এই ব্যক্তি ঢাকায় এসেই যখন বড়ো অহঙ্কারি স্বরে তাঁর স্বভাবসুলভ ইংরেজিতে বলে ওঠেন- উর্দু, এবং উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, মুখের উপর বাঙালির পুচকে দামাল ছেলেমেয়েরা তাঁর মুখের কথা পড়তে না পড়তেই 'নো নো' বলে চিৎকার করে ওঠে সমুচিত জবাব দিয়ে তাঁর দর্প চূর্ণ করে দেয়। এরপর বাঙালি বুকের রক্ত দিয়ে গোটা দুনিয়াকে জানিয়ে দিলো, মায়ের ভাষার কোন বিকল্প হয় না। বিভিন্ন ক্ষেত্রে এরকম নজির ভুরি ভুরি রয়েছে।
ভিন্নভাষী জিন্নাহ্'র এই রাজনৈতিক চালবাজীর না হয় একটা যুক্তি মেলে। কিন্তু বহুকাল পরে এসে একজন সামান্য বাঙালি ব্যক্তিও যখন সাময়িক পরজীবী ক্ষমতার ফানুসে ভেসে নিজস্ব অন্ধতাকে কিছু বালখিল্য মন্তব্যের স্রোতে ভাসিয়ে একটা অহেতুক বিতর্কের ঝড় বইয়ে দেয়, তখন তাঁর জ্ঞান-বুদ্ধি-সুস্থতার প্রশ্ন তো জড়িত হয়ই, সাথে সাথে ইতিহাস থেকে শিক্ষা না নেয়ার একটা নিকৃষ্ট নমুনাও তৈরি হয়ে যায় বৈকি। বাঙালি হয়েও ভাষার ব্যাপারী এই ব্যক্তি কি আজো বুঝেন নি যে, ভাষার প্রশ্নে বাঙালি কখনো আপোস করে না !

Thursday, April 22, 2010

| কাকতালীয়…|


| কাকতালীয়…|
-রণদীপম বসু

ভাতের গ্রাসটি ঠেলে মুখে পুরে দিতেই বিবমিষায় ভরে গেলো মুখ। মেটে আলুর মতো স্বাদ-গন্ধহীন শক্ত শক্ত কাঁচকলায় রান্না তরকারি। কাতলার মতো বড় কানকাঅলা মাছের মাথাটার চ্যাপ্টা দুধার দুদিকে রেখে লম্বালম্বি দু’ভাগ করার পর মাথার মধ্যে লোটাকাটা ছাড়া আর কিছু থাকে কিনা কে জানে। মোটাচালের ভাত আর কেন্টিনের বিখ্যাত হলদে কিন্তু অবয়বহীন ডাল। সব মিলিয়ে একসাথে মেখে যে পদার্থটা তৈরি হলো তার একটা গ্রাস মুখে অর্থহীন কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করে পেটে চালান করতে গিয়ে নাজুক শরীর আরো কাহিল হয়ে ওঠলো। কিন্তু খেতে হবে। এখনো জি-ম্যাক্স ৫০০ এমজি ট্যাবলেট প্রতিদিন একটি করে চলছে। সাথে নাপা ও স্ট্যামিটিল তিন বেলা। আরো কী কী ঔষধ যেনো রয়েছে। দেহের ইঞ্জিন চালু রাখতে ফুয়েল তো দিতেই হবে। সেক্ষেত্রে জিহ্বাকে আর প্রাধান্য দিয়ে লাভ কী !

Wednesday, April 21, 2010

| সৃষ্টিতে যাপনে কথাশিল্পী মাহবুব-উল আলম |

| সৃষ্টিতে যাপনে কথাশিল্পী মাহবুব-উল আলম |
রণদীপম বসু

আজ থেকে ১১২ বছর আগের কথা। সে আমলে আমাদের দেশের সামাজিক বাস্তবতা যেরকম ছিলো, তাতে একজন কৃষকের পুত্র কৃষকই হতো, মৌলভীর পুত্র হতো মৌলভীই। এটাই ছিলো খুব স্বাভাবিক পরিণতি। এর ব্যতিক্রম হওয়াটাই ছিলো বিরল ব্যাপার। কিন্তু ১৮৯৮ সালের ১লা মে চট্টগ্রামের ফতেহাবাদ গ্রামে পিতা মৌলভী নসিহউদ্দিন সাহেবের দ্বিতীয় পুত্র হিসেবে জন্ম নেয়া মাহবুব-উল আলম নামের ছেলেটি পরবর্তীতে মৌলভী তো হলোই না, বরং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ফতেয়াবাদ মিডল ইংলিশ স্কুল থেকে এন্ট্রান্স পাশ করে তৎকালীন দেশসেরা কলেজ চট্টগ্রাম কলেজে ভর্তি হয়ে রীতিমতো লেখাপড়া চালিয়ে যেতে লাগলো। তৎকালীন সামাজিক বাস্তবতায় এটা একটা উল্লেখযোগ্য বিষয় বৈ কি। আরো মজার ব্যাপার হচ্ছে, তাঁর কোন ভাই-ই মৌলভী হন নি। তাঁর অন্য ভাইরা হচ্ছেন শামসুল আলম, দিদার-উল আলম ও ওহীদুল আলম।

Sunday, April 18, 2010

| বোশেখ এলে |


| বোশেখ এলে |
-রণদীপম বসু

আচ্ছা লাবু, বোশেখ নাকি গ্রামেই মজা ?
ইচ্ছেখুশি বেরিয়ে পড়া, যেদিকে চাই ছুটতে পারা
ডানে বামে কিংবা সোজা ?
সূর্যটা খুব গনগনিয়ে দুপুর যখন আগুন জ্বালে
সবাই নাকি ঝাঁপিয়ে পড়ে ঝিল পুকুরের ঠাণ্ডা জলে,
কোথাও থাকে ছোট্ট নদী, কেউ বা ডুবায় শান্ত খালে ?

Sunday, April 11, 2010

| একজন ফকির হায়দার বাবা এবং কিছু প্রশ্নরেখা…|


| একজন ফকির হায়দার বাবা এবং কিছু প্রশ্নরেখা…|
-রণদীপম বসু


(০১)
সম্ভবত বছর দুয়েক আগের ঘটনা। মিরপুর বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ থেকে বেরিয়ে রিক্সায় মিরপুর একের দিকে যাচ্ছি। হযরত শাহ আলী মাজারের কাছাকাছি আসতেই রিক্সার গতি মন্থর হলো। সামনে মোটামুটি হৃষ্টপুষ্ট একটা মৌন মিছিলের মতো। ধীর গতিতে, সম্ভবত মাজারের দিকেই যাচ্ছে। কোনো অকেশন-টকেশন আছে কিনা জানি না। পাশ কেটে ওভারটেক করতে গিয়ে লক্ষ্য করলাম নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রায় সবার হাতেই কোন না কোন খাবারের পোটলা বা ভাণ্ড। ফল-পসারি পানির বোতলও আছে অনেকের হাতে। মিছিলের অগ্রভাগে বেশ ময়লা-অপরিষ্কার জীর্ণ-শীর্ণ আলখাল্লা পরিহিত একজন বেটেখাটো শ্মশ্রু-গুম্ফধারী দরবেশ টাইপের বৃদ্ধলোক আপন মনে দুলে দুলে হাঁটছে মাথাটাকে সামনে ঝুলিয়ে দিয়ে। সামনের দিকে দু-একজনকে আবার অনেকটা শৃঙ্খলারক্ষার ভঙ্গিতে তৎপর দেখা গেলো। উনি কে ? জিজ্ঞেস করতেই রিক্সাচালক বললো- হায়দার বাবা, বড় কামেল ফকির !

Thursday, April 8, 2010

| দুই-মেগাপিক্সেল | ক্ষুধা ও শিল্প…|


| দুই-মেগাপিক্সেল | ক্ষুধা ও শিল্প…|
-রণদীপম বসু

ছবিতে যে শিল্পকর্ম দেখা যাচ্ছে, এটা কোন পথ-শিল্প নয়। বা কোনো দিবস উদযাপনও নয়। ছন্নছাড়া মনের খেয়ালে কোন্ সুদূর মফস্বল থেকে রাজধানী শহরে চলে আসা এক ক্ষুধার্ত অসহায় শিল্পীর কষ্টের ক্ষরণ। ব্যক্তি ভিক্ষা চাইতে পারে, কিন্তু শিল্পীর হাত কি কখনো ভিক্ষুক হয় ? তবু ক্ষুধার কাছে ব্যক্তি আর শিল্পীসত্তা যখন একাকার হয়ে যায়, শিল্প বুঝি থমকেই যায়। আহা ক্ষুধা !