Sunday, October 23, 2011

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…| ২৮১-২৯০ |

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…| ২৮১-২৯০ |
রণদীপম বসু

(২৮১)
যৌনতা ছাড়া মানববিশ্বে দ্বিতীয় কোন সৌন্দর্য্য নেই;
যেখানেই সৌন্দর্য্য, পেছনে যৌনতার সূত্র গ্রথিত।
 .
(২৮২)
সৌন্দর্য্যবোধ হচ্ছে মানুষের আদিম নগ্নতা,
ভোগ্য না-হওয়াতক যার পূর্ণতৃপ্তি আসে না।
 .
(২৮৩)
লেংটা হওয়ার আগ-মুহূর্তে মানুষ
ইজ্জত সম্পর্কিত সচেতনতার শীর্ষে অবস্থান করে।

Saturday, October 22, 2011

| উবুন্টু ১১.১০ রিলিজ পার্টি |


| উবুন্টু ১১.১০ রিলিজ পার্টি |
-রণদীপম বসু

এই কম্পুকানা আমাকে কেউ যদি প্রশ্ন করেন- উবুন্টু কী ?  সোজা একটি লিংক ধরিয়ে দেবো মাতৃভাষা বাংলায় যেখানে খুব সুন্দর করে উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করে বলে দেয়া হয়েছে। শুধু ওইটুকু পড়লেই আপনারা নিশ্চয়ই বুঝতে পারবেন কেন আমি উবুন্টু তথা লিনাক্স ইউজারদের সম্মান করি।
মানুষ যতক্ষণ নিজেকে মুক্ত ভাবতে পারে না, ততক্ষণ পর্যন্ত আসলে তার মানুষ পরিচয়টা পূর্ণাঙ্গ হয় না বলে আমি বিশ্বাস করি। তাই একটা অসীম সম্ভাবনাময় মুক্ত সত্তা হয়ে মানুষের জন্ম হলেও জন্মের পরপরই সে বন্দী হয়ে যায় ইতঃপূর্বে জন্ম নেয়া অন্য কিছু মুনাফা ও ক্ষমতালোভী মানুষেরই জন্য। আবার কিছু সংখ্যক মানুষ থাকেন যাঁরা এই বন্দীত্বকে মুক্ত করতে নিজেকে নিয়োজিত করেন  নৈতিক ও মানবিক বোধে তাড়িত হয়ে। এটাই মানবসমাজের এযাবৎ ইতিহাস। অতিমুনাফার সর্বগ্রাসী লোভ বড় শক্ত জিনিস, এ থেকে মুক্ত হওয়ার নৈতিক শক্তি অর্জন করতে দরকার সেই মানবিক বোধ যা দিয়ে মানুষকে মুক্ত স্বাধীন ও সৃজনুন্মোখ মানুষ হিসেবে স্বীকার ও স্বীকৃতি দেয়ার বিবেচক অবস্থান সৃষ্টি করা। যেকোন অবস্থার জন্যেই তা সত্য, এবং এই তথ্য-প্রযুক্তির যুগে প্রযুক্তির ক্ষেত্রে তো তা আরো বেশি প্রযোজ্য হওয়া উচিত ! বিশ্বমানব আজ যে ভয়ঙ্কর তথ্যবন্দীত্বের অনৈতিক শৃঙ্খেল আবদ্ধ হয়ে গেছে, স্বাধীন সত্তা হিসেবে মানুষের মুক্ত হওয়া জরুরি আজ। কেননা মানুষ আর রোবট এক নয় ! মানুষের সৃজনশীল উত্থানকে রুদ্ধ আর ধ্বংস করে চাপিয়ে দেয়া দাসত্ব শেষপর্যন্ত মানুষকে অন্যের ক্রীড়নক বানিয়ে দেয়।  ধ্বসে পড়ে নীতিবোধ, মানবিক উন্মেষ আর সৃষ্টি হতে থাকে দাসানুরূপ মানব-রোবট প্রজন্মের।  মানুষকে এই রোবট বানানোর প্রযুক্তি-সন্ত্রাসের প্রতিরোধে তাই মানুষকেই এগিয়ে আসতে হয় তাঁর সৃজনশীল প্রযুক্তির মুক্ত সত্তা নিয়ে। ওপেন সোর্স, মুক্ত সফটঅয়্যার কিংবা লিনাক্স ওস এরকমই একেকটা মুক্ত-মানবিক আন্দোলন, যাদের মধ্যকার আন্তসম্পর্ক নিবিড় ও মানবিক। ফলে ব্যক্তি হিসেবে হতে পারি আমি কম্পুকানা, কিন্তু মানুষ তো ! মানবিক বোধের শেষ বিন্দুটুকু থাকতেও আমরা কি চুপ করে থাকতে পারি ! মানুষ হিসেবে আমার ও আমার উত্তর প্রজন্মের অধিকারবোধটুকু প্রতিষ্ঠায় যাঁরা নিজেদের নিয়োজিত করে, তাঁদেরকে সমর্থন ও সহযোগিতা করাও আমার নৈতিক দায়িত্বের অংশ। তাই কোথাও একটু পাতা নড়লেই কোন ব্যক্তিগত সীমাবদ্ধতার কারণে প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ করতে না পারলেও আমার সমর্থনটুকু জানাতে দ্বিধা করবো কেন ! এই পোস্টও এরই বহিঃপ্রকাশ।
.
 জানতে পারলাম সর্বশেষ ডিস্ট্রো উবুন্টু ১১.১০ এর একটি রিলিজ পার্টি হতে যাচ্ছে ২৮ অক্টোবর ২০১১ শুক্রবার বিকেল ৩.৩০ টায় ঢাকার শাহবাগ এলাকায় ছবির হাটে। আপনারা জানেন কি ? আয়োজনটা করছে উবুন্টু বাংলাদেশ লোকো টিম।

Friday, October 21, 2011

| আলগা প্যাঁচাল-০৬ | এইটা ঠিক না !


| আলগা প্যাঁচাল-০৬ | এইটা ঠিক না !
-রণদীপম বসু

আশেপাশে সিটি কর্পোরেশানের টানানো বৈদ্যুতিক লাইন থাকায় বাড়ন্ত ডালপালা ছেটে ঠুটু বানিয়ে রাখা হলেও তরুণ বটগাছটার গোড়ায় চারদিক ঘিরে বাঁধানো গোল বেদীটা চওড়া ফুটপাথের মধ্যে চমৎকার একটা আবহ তৈরি করে রেখেছে। হাঁটুরে পথিকদের জন্য বা অপেক্ষমান ড্রাইভার-রিক্সাচালকদের জন্য এই বেদীটার মতো এমন আরামের ছায়াময় বিশ্রামস্থল আশেপাশে আর না থাকায় মিরপুর জিপিও গেটের এই কোণাটা অফিস কর্মদিবসে সারাক্ষণই সরগরম থাকে এবং একে ঘিরে কিছু খুচরা ভ্রাম্যমান টং-দোকানও বেশ জমে ওঠে। খুব নিকটবর্তী দূরত্বে গ্রামীণ ব্যাংক, হার্ট ফাউন্ডেশন, ওএসবি চক্ষু হাসপাতাল, কিডনি ফাউন্ডেশন, মিরপুর কলেজ, ওয়ার্ড কমিশনারের কার্যালয়, সর্বোপরি মিরপুর জেনারেল পোস্ট অফিস ইত্যাদি বহুল পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থিতির সুবাদে এখানে শিক্ষিত সচেতন লোকদের আনাগোনা এমনিতেই বেশি থাকে। ফলে অফিস আওয়ারে এই বটের বেদীটাতে বসার জায়গা পাওয়াই ভার। কিন্তু আজকের প্যাঁচাল অন্য বিষয়ে।

| আলগা প্যাঁচাল-০৫ | রবিবারে আসেন… |


| আলগা প্যাঁচাল-০৫ | রবিবারে আসেন… |
-রণদীপম বসু

অন্তর্জালিক উন্মুক্ত বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার সংরক্ষণে নাকি আমাদের দেশের সরকারি দপ্তর-অধিদপ্তরের পরিচয়বাহী ভবনগুলোর প্রয়োজনীয় ও ব্যবহারযোগ্য ছবি খুব একটা নেই। শিক্ষিত সচেতন জনগোষ্ঠির জন্য এরকম তথ্য নিঃসন্দেহে হতাশাব্যঞ্জক। এই ঘাটতি পূরণের আইডিয়া হিসেবে সবাইকে এ ব্যাপারে আগ্রহী করে তুলতে গত বছরের ডিসেম্বর মাসে কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবী উইকিপিডিয়ান মিলে সিদ্ধান্ত নিলেন একটা ফটোওয়াক করে ফেলবেন। এটার নাম হবে ‘উইকি ফটো ওয়াক’। যেই কথা সেই কাজ। কিন্তু একটা গ্রুপের দ্বারা তো আর গোটা ঢাকা নগরী দ্রুত কাভার করা সম্ভব নয়। বিশেষ করে এলাকা, অবস্থান, যোগাযোগ, পথ-ঘাট ইত্যাদি চেনা-জানা বা অবগত না থাকলে দেখা যাবে কাজের চেয়ে অকাজের হাঁটাটাই সার হবে। তাই সেক্ষেত্রে বিকল্প হিসেবে যে অঞ্চলে যে বসবাস করছে সেরকম পাশাপাশি কয়েকজন মিলে একেকটা এলাকা কাভার করাটাই অধিক ফলপ্রসূ হতে পারে।

Tuesday, October 18, 2011

| আলগা প্যাঁচাল-০৪ | চিত্তবাবু জানেন…|


| আলগা প্যাঁচাল-০৪ | চিত্তবাবু জানেন…|
-রণদীপম বসু

ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে জগন্নাথ হলে এলাম বাদাইম্যা স্বভাবের তাড়নায়। শারদীয় উৎসবের আগের সপ্তার ঘটনা। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়েছিলাম যে শিববাড়ি নামে পরিচিত হেরিটেজ মর্যাদার পুরনো স্থাপনাটা এখানে কোথাও ঘাপটি মেরে আছে ! কিন্তু সূত্রটা যে আসলে ততটা বিশ্বস্ত নয়, অচিরেই বুঝা গেলো এদিকওদিক উঁকিঝুকি মেরে কোথাও না পেয়ে একজন ছাত্রকে জিজ্ঞেস করতেই। ছাত্রটি তর্জনি নির্দেশে শিববাড়ির অবস্থান যেদিকে দেখালো সেদিকে বেরোনোর গেট ছাড়া আর কিছুই দেখলাম না ! তর্জনি আকিয়ে বাঁকিয়ে সে বললো এদিকে গিয়ে ওদিকে যেয়ে সেদিকে যাবেন। কি আর করা ! তথৈবচঃ !

Monday, October 17, 2011

| আলগা প্যাঁচাল-০৩ | লাঞ্চবিরতি ও একটি ডিনারপার্টির ভূমিকা |


| আলগা প্যাঁচাল-০৩ | লাঞ্চবিরতি ও একটি ডিনারপার্টির ভূমিকা |
-রণদীপম বসু

“পাছায় কষে না বাইড়ালে বাঙালি সোজা হয় না !” খুব বিজ্ঞের মতো মুখে অনর্গল খই ফুটিয়ে যাচ্ছেন তিনি- ‘গণতন্ত্র ফনতন্ত্র দিয়ে এদেশে কিচ্ছু হবে না ! এই দেশে সামরিক শাসকের কোনো বিকল্প নাই ! সব ধান্ধাবাজ ! ডাণ্ডা ছাড়া বাঙালি ঠাণ্ডা হয় নাকি !! এদের টাইট রাখতে…”
‘আপনার এরকম ধারণার কারণ ?’ মাঝপথে বাগড়া দিয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি এমনভাবে আমার দিকে চাইলেন, যেন নতুন করে আমাকে দেখছেন !

Tuesday, October 4, 2011

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২৭১-২৮০|

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২৭১-২৮০|
রণদীপম বসু

(২৭১)
আত্মাহুতির পূর্বমুহূর্তে মানুষ ধীর স্থির এবং অস্বাভাবিক শান্ত হয়ে যায়;
তখন আর তাঁর মধ্যে সিদ্ধান্তহীনতার অস্থিরতা থাকে না।
 .
(২৭২)
অনন্ত প্রশ্নমালার সংহত ও সংক্ষিপ্ত রূপটির নাম ‘কেন’।
মানুষ যতক্ষণ নিষ্কলুষ শৈশবকে লালন করে,
এই প্রশ্নপ্রবাহে ততক্ষণ সে সহজাত নির্দ্বিধ হয়।
 .
(২৭৩)
সাম্প্রদায়িক দৃষ্টিভঙ্গির প্রধান বৈশিষ্ট্য হচ্ছে-
তাদের পরিচয়ে আগে গোষ্ঠি বা সম্প্রদায়, পরে মানুষ।
সাম্প্রদায়িকতায় শুরুতেই দৃষ্টি খণ্ডিত হয়ে যায় বলে
গোষ্ঠির বাইরে মানুষ পরিচয়টাই তাদের কাছে অর্থহীন।
 .