Showing posts with label Article (Micro-story). Show all posts
Showing posts with label Article (Micro-story). Show all posts

Friday, July 17, 2009

# [রম্যগল্প]...লিঙ্গান্তর...


লিঙ্গান্তর...
রণদীপম বসু
...
(০১)
হঠাৎ করিয়া একখান গায়েবী আওয়াজ হইলো- ‘ হে প্রাণীগণ, সৃষ্টির পুনর্বিন্যাসকাল আসন্ন। এবার প্রস্তুত হও। অনতিবিলম্বে তোমাদের মধ্যে পরস্পর লিঙ্গ পরিবর্তন করিয়া দেওয়া হইবে।’

চিরিং করিয়া উঠিয়া বসিলো আক্কাছ। অজান্তেই বাম হাতখানা অভ্যাসবশত তলপেট বাহিয়া নিচে নামিতে লাগিলো। এইটা কী শুনিলো ! বৈচিত্র্যহীন ছুটির দিনের মধ্যাহ্ণভোজ সারিয়া ক্রমে ক্রমে গরম হইয়া ওঠা মাথাটাকে নতুন কভার লাগানো বালিশখানায় ভালো করিয়া রাখিতেও পারিলো না, ওই পাশের ঘর হইতে স্ত্রী খালিজা বানু ওরফে কলিজা বেগমের হম্বিতম্বিটাও পুরাদমে শুনা যাইতেছে, আচমকা এই গায়েবী ঘোষণা ! এইটা কী করিয়া সম্ভব ! পুরুষগুলা সব নারী হইয়া নারীগুলি পুরুষ হইয়া যাবে ! নাহ্, সে ভুল শুনিয়াছে !

Sunday, June 14, 2009

# [রম্য] সচলাড্ডা, না কি বোম ভোলানাথ...!


সচলাড্ডা, না কি বোম ভোলানাথ...!
রণদীপম বসু
...
সময় সমাসন্ন, অথচ মেলার আয়োজক ভোলাবাবার বিশিষ্ট ভক্ত প্রখ্যাত আহমেদুর রশিদ টুটুলের কোনো পাত্তা নেই। এদিকে ভোলানাথের শিষ্যরা একে একে আসতে শুরু করেছেন। আয়োজন ভেনু শুদ্ধস্বরের সত্ত্বাধিকারী হিসেবে নিজের আসনটিসহ ওখানে আসন সংখ্যা সাকুল্যে চারটি, যা ইতোমধ্যেই দখল হয়ে আগত শিষ্যরা যার যার কারিশমা দেখাতে শুরু করে দিয়েছেন। হঠাৎ ফোনে আয়োজক টুটুল নিজে উপস্থিত থাকতে পারছেন না এরকম ব্যাখ্যা শুনে মেলার কো-অরডিনেটর বিপ্লব রহমানের চান্দি এন্টিক্লকওয়াইজ চক্কর শুরু করে দিয়েছে। এখন উপায় ! পরীক্ষিত শিষ্য নজরুল ইসলাম বাবার প্রসাদ পেতে দেরি দেখে খেকখেক শুরু করে দিয়েছে। প্রসাদ নয়, বাবাকে পছন্দের প্রায়োরিটি দিয়ে অতি ভদ্র কবিশিষ্য তারেক রহিম নিজেকে শান্ত রাখার রিহার্সেল দিচ্ছে। তাঁকে আবার উত্তমভাবে চর্চার প্রক্রিয়া শিখিয়ে দিচ্ছে গাল্পিকশিষ্য পান্থ রহমান রেজা। যার একারই একত্রে চার-চারটি আসন দরকার হয়, নিরীহ পর্বতাকার শিষ্য শাহেনশাহ সিমন তো ঢুকেই তেড়ে গেলো নজু ভাইয়ের দিকে। ভোলাবাবার প্রসাদের প্রতি এমন বেলায়েক মন্তব্য ! আর টেকনিক্যাল শিষ্য গৌতম রায় বেশ লিনাক্স মুডে তা পর্যবেক্ষণ করছে। অবস্থা বেগতিক দেখে অর্ধমাত্রার বায়বীয় প্রসাদের সাপ্লাই দিয়ে কো-অরডিনেটর বিপ্লব দা’ তখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আর একই সাথে আয়োজকের গোষ্ঠী উদ্ধার করে যাচ্ছেন। কী আশ্চর্য, বাবার স্বঘোষিত চেলা গোঁসাই লীলেনেরও খোঁজ নাই !

Friday, May 15, 2009

# [রম্য-গল্প] --- চটাশ !


...চটাশ !
রণদীপম বসু
...
চটাশ্ !
চমকে ঘুরে তাকালাম। হতভম্ব লোকটা ডান হাত দিয়ে সম্ভবত বাঁ গালটাকে চেপে রেখেছে। অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে এমনভাবে তাকাচ্ছে যেন বিশ্বাসই করতে পারছে না এরকম কিছু ঘটতে পারে ! তাঁর বাঁ হাতটা টেনে ধরে মেয়েটি এক ঝটকায় পাশের খালি রিক্সাটায় উঠে বসলো এবং লোকটাকে টানতে লাগলো। শাহবাগের এই জনাকীর্ণ মোড়ে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এমন অভূতপূর্ব ঘটনায় আমার মতো কৌতুহলী দর্শকের অভাব থাকার কথা নয়। লোকটা কী বুঝলো কে জানে, আশপাশ তাকিয়ে ঝট করে সেও উঠে বসলো মেয়েটির পাশে।

Monday, May 11, 2009

# [অনুগল্প] --- ভৃঙ্গু কোবরেজ!


ভৃঙ্গু কোবরেজ
রণদীপম বসু
...
ধারণা করা হয ভৃঙ্গু কোবরেজের নামটা তাঁর পিতৃ-প্রদত্ত নাম নয়। তবুও এই নামটাই তাঁর আদিনাম ছাপিয়ে কী করে যে দশ গ্রাম পেরিয়ে বহু দূর দেশেও খ্যাতি পেয়ে গেলো, এর কোষ্ঠি বিচার করার বয়েসী কেউ আর জীবিত নেই এখন। কিংবা আদৌ তাঁর কোন আদিনাম ছিলো কিনা সেটাও কোবরেজের নির্বিকার ঘোলা চোখ পাঠ করে কোন সুরাহা মেলে না। তাই সবক্ষেত্রে যা হয়, ক্লু হারিয়ে নাম নিয়ে আগ্রহ বা কৌতুহলগুলো তাঁর বয়সটার মতোই বহুকাল আগেই থমকে গেছে।

আর বয়সের কথা বললে, সেই যেবার তাঁর সদ্য বিয়ে করা বড় ছেলেটা অজানা মাড়িতে ভুগে ঘরের খুঁটির সাথে বাঁধা থাকা অবস্থায় মরে গেলো, সেবার মালোপাড়ার দক্ষিণ চাতালে মেয়ে বিয়োতে গিয়ে মরে যাওয়া আবিয়ত্তা মেয়েটার পিতৃপরিচয়হীন সদ্যজাত যে অভাগা মেয়েটাকে ভৃঙ্গু কোবরেজই কোলে করে নিয়ে এসে নিজেই লালন পালন করতে থাকে, কী আশ্চর্য, সেই মেয়েটাই লকলকিয়ে বেড়ে ওঠে কবে থেকে যে বছর বছর মরা বাচ্চা প্রসব করে যাচ্ছে, অথচ কোবরেজের কাচাপাকা চুলগুলো ঠিক সেরকমই রয়ে গেছে আজো ! কেউ বলে কোবরেজের অপ্রকৃতিস্থ ছোট ছেলেটা, যে নাকি মাঝে মাঝেই কোথায় যেন হাওয়া হয়ে গিয়ে আবার ফিরেও আসে, তার সাথেই মেয়েটার বিয়ে হয়েছিলো, কেউ বলে হয় নি। তবে এ নিয়ে গ্রামের কাউকেই খুব একটা মাথা ঘামাতে দেখা যায় না।

Wednesday, April 22, 2009

# [অনুগল্প] --- এই রিমি, দাঁড়া...!


এই রিমি, দাঁড়া...!
রণদীপম বসু
...
ধাম করে জড়িয়ে ধরলো সে। এবং কিছু বুঝে ওঠার আগেই নরোম ঠোঁট দুটো সজোরে চেপে ধরলো আমার খসখসে গালে। একটা মৌ মৌ গন্ধে কয়েক মুহূর্ত কেটে গেলো। যখন বুঝতে শুরু করলাম একটি সদ্য তরুণী-দেহ তার সমগ্র সত্তা দিয়ে অক্টোপাশ-বন্ধনে আমাকে আস্টেপৃষ্ঠে পিশে ফেলতে চাইছে, কী যেন হয়ে গেলো আমার ! এই প্রথম টের পেলাম, শক্ত-সমত্থ তরুণ শরীরটাতে বুঝি মনের আড়ালে মিশে লুকিয়ে ছিলো একটা বেয়াড়া পুরুষও ! কিন্তু তার আগেই ঝট করে ছেড়ে দিয়ে দু’পা পিছিয়ে দাঁড়ালো সে, জোড়া দীঘির মতো টলটলে চোখ দুটো মেলে কীরকম চেয়ে রইলো আমার দিকে ! চিকচিক করলো কি ? আচমকা ঘুরেই দৌড়াতে লাগলো !
আরে আরে করে কী ! কেবল তো এলো ! এখনই চলে যাচ্ছে কেন ! ওর সাথে আর কি দেখা হবে আমার ! কণ্ঠ চিরে অজান্তেই বেরিয়ে এলো- এই রিমি, দাঁড়া...!