Saturday, September 25, 2010

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২০১-২১০|

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২০১-২১০|
রণদীপম বসু

(২০১)
যে সত্য প্রকাশ করা যায় না, তার কোন ব্যবহারিক মূল্য নেই।
যার ব্যবহারিক মূল্য থাকে না, তা অর্থহীন অপ্রয়োজনীয়।

(২০২)
যে প্রশ্নের উত্তর জানি বলে আমরা মনে করি, তা নিয়ে কেউ ভাবি না।
শেষ পর্যন্ত উত্তরটা আর জানা হয় না আমাদের;
এবং সবচেয়ে কম জানি সেটাই।

(২০৩)
চিন্তারাজিকে সীমাহীন উন্মুক্ত না-করলে বিজ্ঞান-মনস্ক হওয়া যায় না;
আর মুক্তচিন্তাকে অবরুদ্ধ না করলে প্রচলিত ধার্মিক হওয়া সম্ভব নয়।

Tuesday, September 7, 2010

| সঙ্গম-সূত্র |


| সঙ্গম-সূত্র |
-রণদীপম বসু
প্রতিটি সঙ্গমে বেড়ে ওঠি আমরা। অথচ আমাদের সঙ্গম-মুহূর্তগুলো কেটে যায় সঙ্গমহীন। আর অবিরল সঙ্গমরত হতে হতে ভুলে যাই আমাদের সঙ্গমকাল পেরিয়েছে অন্য কোনো সঙ্গমের কালে।

প্রাকৃত-সঙ্গমে অক্ষম বলেই মানুষ সঙ্গমনিরত প্রাণী। কালি ও কলমের সঙ্গমচিহ্ন এঁকে, কাগজের বুকে, কবিতার বৈভব নিয়ে নেচে নেচে ভুলে যাই হয়তোবা অন্য কোনো সঙ্গমের ক্ষত। অতঃপর ভুল সঙ্গমে সঙ্গমে কাটে আমাদের অনন্ত-অকাল।

| আলগা-প্যাঁচাল-০২ | হাত…|


| আলগা-প্যাঁচাল-০২ | হাত…|
-রণদীপম বসু

০১.
এক হাতে প্রিয় সন্তান বা প্রিয়জনকে আগলে রেখে অন্য হাতে সমস্ত প্রতিকূলতা সামলানোর জন্যে হলেও মানুষের দুটো হাতের দরকার হয়। প্রকৃতিও হয়তো তা জানতো যে মানুষের বেঁচে থাকার যুদ্ধে প্রধান হাতিয়ার হলো তাঁর দুটো হাতই। ওখানেই তাঁর পূর্ণ ব্যবহারিক শক্তিটুকু লুকিয়ে থাকে। এখানে যেকোন ঘাটতি আসলে তার সামর্থেরই ঘাটতি। তবুও একান্তই ঘাটতি হয়েই গেলে তা পূরণ করতে হয় অতিরিক্ত ইচ্ছা, উদ্যম আর মনোবল দিয়ে। এটা কেউ পারে, অনেকেই পারে না। কিন্তু বেঁচে থাকা এক আশ্চর্য প্রত্যয়ের নাম !

Friday, September 3, 2010

| শান্তাহার…|


| শান্তাহার…|
-রণদীপম বসু
শান্তাহার রেলস্টেশনে কখনো যাই নি আমি, অথবা শান্তাহারেও না। যদি জানতে চায় কেউ, শান্তাহার কোথায়, কেমন ? আমি তাও বলতে পারবো না। শুধু একটি নামকে ভালোবেসে একটি শব্দ গেঁথে গেলো মগজে, যুক্তিহীন, পরম্পরাহীন। এর কোন মানে নেই। অথচ কোন মানে না থাকারও একটা মানে হয়ে যায়, আমি বিড়বিড় করে উচ্চারণ করি শান্তাহার শান্তাহার… !

একটা একটা বোতাম খুলি, ফস করে নামিয়ে দেই চেইনটাও। সরিয়ে ফেলি সুদৃশ্য অন্তর্বাস। আমি জানি না মানুষের অন্তর্বাস এতো সুদৃশ্য হয় কেন ! এরপর একটু একটু করে এগিয়ে যাই শান্তাহার রেলস্টেশনের দিকে। কী আশ্চর্য, আমি কখনো শান্তাহার রেলস্টেশনে যাই নি !