Monday, June 28, 2010

| জন্মদিনে প্রফেসর ইউনূস ও সোশ্যাল বিজনেস ডে |

| জন্মদিনে প্রফেসর ইউনূস ও সোশ্যাল বিজনেস ডে |
-রণদীপম বসু

একটি সফল ও বিশ্ব-নাড়ানো প্রায়োগিক দর্শন বা তত্ত্ব হিসেবে ‘ক্ষুদ্র-ঋণ’ বা ‘মাইক্রো-ক্রেডিট’ এর বিশ্বজয় এখন পুরনো ঘটনা। এর প্রবক্তা ও প্রয়োগকর্তা হিসেবে প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার প্রদানের ঘোষণার প্রাক্কালে ১৩ অক্টোবর নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান ওলে ডানবোল্ট মিওস যে সাইটেশনটি পড়ে শোনান, ওখানেই বিশ্ববাসীর চোখে মাইক্রোক্রেডিটের গুরুত্বটুকু ফুটে উঠে। ওখানে বলা হয়-

Friday, June 25, 2010

| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩১|


| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩১|
-রণদীপম বসু

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল, ১৯৯৩)

কিছুক্ষণ আগের ঘটনায় মনটা খুব খারাপ হয়ে গেলো রূপা। এমন কতো ঘটনাই তো আকছার ঘটছে জানি, শুনি। কিন্তু এটা নাকের সামনে ঘটলো বলেই হয়তো খুব রেখাপাত করলো মনটায়। পাঁচ কদম সামনে বাড়লেই যে দোকানটা থেকে আমি হরদম চা পান সিগারেট এবং অন্যান্য কিছুর জন্যে রুম থেকেই চেঁচিয়ে আনিয়ে নেই, সেই দোকানদারকে হঠাৎ বলা নেই কওয়া নেই পুলিশে ধরে নিয়ে গেলো। দু’মিনিটও হয়নি চা দিয়ে গেলো আমাকে। হঠাৎ চেঁচামেচি শুনে বেরিয়ে দেখি এই কাণ্ড। চা’র কাপটা এখনো আমার টেবিলে রয়ে গেছে, অথচ…। জমি-জিরাত নিয়ে ভাইয়ে ভাইয়ে গণ্ডগোল হবে হয়তো। তবে সবকিছুর মূলে ‘ভিলেজ পলিটিক্স’। সহজ সরল লোকটা বুঝি ফেসে গেলো। ওর লক্ষ্মী কচি বউটা আমাদের পাশেই থাকে। তার নিরাপত্তাহীন ভয়ার্ত মুখ কল্পনা করে ভীষণ খারাপ লাগছে। এখনো থেকে থেকে তার বুকফাঁটা চাপাকান্না শুনতে পাচ্ছি। জানি না এ কান্না তার ভালোবাসার নাকি নিরাপত্তাহীনতার। সে যাই হোক, একটি অসহায় হতভাগা লোকের জন্য এই যে কান্নার অর্ঘ্য, তোমার কথা মনে পড়ছে রূপা। বউটা খুব ভালো, অন্তত আমার কাছে তাই মনে হয়েছে। কোলের ছোট্ট শিশু মেয়েটা বুঝিবা হতবাক। কোন কান্না নেই তার। কত কে আসছে চেনা-জানা তার, সান্ত্বনা জানাচ্ছে। বহিরাগত চাকুরে হিসেবে কোন সাহায্য আমি করতে পারবো না জানি, তাই সান্ত্বনা দিতে যাইনি। সান্ত্বনার ছলনায় যাদের কারো কারো চোখ শুধু নারীর শরীর খোঁজে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে থাকতেই কেমন কেমন লাগছিলো। প্রতিবেশিসুলভ দায়িত্ব সম্পর্কে এখনো আমি অসামাজিকই রয়ে গেলাম হয়তো। মনে মনে মেয়েটির জন্য সমবেদনা বোধ করছি।


| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩০|


| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩০|
-রণদীপম বসু

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল, ১৯৯৩)

গতকাল সন্ধ্যায় কালবোশেখির তাণ্ডব বইছিলো খুব। গাছপালা বাড়িঘর ফসল মাঠ পুকুর দোকানপাট বিদ্যুতের খুটি রাস্তাঘাট সবকিছু যখন জলে-বাতাসে একাকার, অঝোর বর্ষায় সমস্ত প্রাণিকূল মানুষগুলো যখন গুটিশুটি মেরে নিজকে আড়াল করছে, এমোন অদ্ভুত ঘনঘোর নিঃসঙ্গতায় তখন তোমার জন্য রূপা শুধু তোমার জন্যে মনটা আকুল হয়ে ওঠলো। খুব ইচ্ছে করছিলো তোমাকে বুকের খুব কাছে জড়িয়ে রেখে প্রকৃতির একটানা এই ক্রন্দনোচ্ছ্বাস দেখি এবং শুনি। এই ক্রন্দন তো বাইরে নয়, যেনো আমার বুকের ভেতরেই হচ্ছিলো। আমার সমস্ত কথাই বুঝি গলে গলে ঝরছিলো সমগ্র প্রকৃতি ভাসিয়ে, শুধু তোমাকে বলার জন্যে। অথচ তুমি নেই কাছে এমোন বিষণ্ন বাদল রাতে। এমন দিনেই বুঝি মনের অর্গল খুলে যায় কাউকে কিছু বলার জন্যে নিবিড় করে। এজন্যেই কি ‘বরষা মঙ্গলের’ কবি এমন ব্যাকুল হয়ে গেয়েছিলেন-
‘—- এমনদিনে তারে বলা যায়
এমন ঘনঘোর বরিষায়।—-’

Saturday, June 19, 2010

| একটি কল্পগ্রন্থ-ভূমিকা কিংবা প্রাক্-কথন |



| একটি কল্পগ্রন্থ-ভূমিকা কিংবা প্রাক্-কথন |
-রণদীপম বসু

প্রচলিত ভাবনা-স্রোতের মধ্যে থেকেও ব্যক্তি-মানুষের চিন্তা-শৈলীতে স্বাতন্ত্র্য রয়েছে। ব্যক্তিবিশেষে এই স্বাতন্ত্র্য বা ভিন্নতা এতোটাই যৌক্তিক যে, একই অভিন্ন বিষয়কে দেখার ভঙ্গি ও আপতিক অবস্থানেও তা অনিবার্য পার্থক্য এনে দেয়। কখনো কখনো এই বৈচিত্র্যময় চিন্তারেখা এতোটা ব্যতক্রমী ও প্রশ্নপ্রবণ হয়ে ওঠে, তা আর প্রচলিত ধারণা বা ভাবনাস্রোতের অনুষঙ্গ হয়ে থাকতে পারে না। ক্ষেত্রবিশেষে বিপরীত স্রোতের যাত্রী হয়ে ওঠে। এটাকেই মুক্তচিন্তা বা চিন্তার স্বাধীনতা বলা যেতো। কিন্তু চিন্তার কোন দৃশ্যমান সত্তা নেই বলে অপ্রকাশিত চিন্তার আসলে কোন কার্যকরিতাও নেই। ভাষা, চিত্র, শব্দ বা সুর ইত্যাদি ইন্দ্রীয়গ্রাহ্য মাধ্যমে চিন্তার প্রকাশ ঘটাতে হয়। কিন্তু চাইলেও তা সবসময় সম্ভব হয়ে ওঠে না বিভিন্ন বিপত্তিগত কারণে। এই প্রকাশের স্বাধীনতাকেই আমরা বলি চিন্তার স্বাধীনতা। তবে অপ্রকাশিত চিন্তাকে অস্তিত্বহীন বলাটাও অযৌক্তিক হবে। কেননা চিন্তক ব্যক্তির অদৃশ্য মননকোষে সতত সঞ্চারমাণ অসংখ্য ভাবনা-স্রোতের জারণ-বিজারণ ক্রিয়ার ফলাফলই তার নিজস্ব চিন্তারেখা। প্রতিনিয়ত তা প্রভাবিত হচ্ছে অন্যান্য চিন্তাস্রোতের সাথে, কোথাও বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে, কোথাও প্রাণিত হচ্ছে, কোথাও থেমে যাচ্ছে, কোথাও আবার গতি পাচ্ছে। এই যে চিন্তার অনিবার্য অভিঘাত, তার উপর ভিত্তি করেই ব্যক্তি তার চিন্তাজগতে এগিয়ে যায়, থেমে যায়, এবং কখনো বা পেছন হাঁটে।

Saturday, June 12, 2010

Friday, June 11, 2010

| অশ্লীল |

| অশ্লীল |
-রণদীপম বসু
[সাহিত্যে শ্লীল আর অশ্লীলের সীমা নির্ধারণ করাটা মনে হয় খুবই বিটকেলে একটা ব্যাপার। তাছাড়া শ্লীল ও অশ্লীলের আপেক্ষিক অবস্থান নির্ণয় করার ক্ষেত্রেও রয়েছে বিস্তর মতানৈক্য। ব্যক্তি, পরিবেশ, পরিস্থিতি, অবস্থান, সময়, সংস্কৃতি, প্রথা প্রভৃতির মতো জটিল জটিল সব অনুঘটকের জারণ-বিজারণ ক্রিয়ার দুরুহ সমীকরণ টানার দায়-দায়িত্ব যারা কাঁধে তুলে নিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের চিরকেলে দায়িত্ব পালন করতে থাকুন। ইত্যবসরে আমরা নাহয় পাঠকের নিজস্ব বিবেচনাবোধকেই আপাত মাপকাঠি ধরে সাহিত্যক্রিয়ায় রত থাকি। আপনি আমি সেই সমীকরণের সর্বজনগ্রাহ্য ফলাফলের অনির্দিষ্ট আশায় হাত গুটিয়ে বসে থাকলেও সাহিত্যের চিরায়ত স্রোতটা থেমে থাকবে না নিশ্চয়ই।

এই গল্পটা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য কিনা জানিনা, তবে বাস্তবসঞ্জাত চরিত্রের স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্ত সংলাপগুলোতে তথাকথিত আপত্তিকর শব্দাবলির ব্যবহারে কোন রাখঢাকের চেষ্টা করা হয়নি। আশা করি আগ্রহী পাঠক নিজ দায়িত্বেই তা পড়বেন।
]

Friday, June 4, 2010

| আমার একটা ফেসবুক ছিলো |


| আমার একটা ফেসবুক ছিলো |

আমার একটা ফেসবুক ছিলো। সেখানে আমার অনেকগুলো বন্ধু ছিলো। ভালোই কাটছিলো দিন। একদিন হঠাৎ একটা বিশাল কালো ডিজিটাল হাত তার থাবা বসিয়ে দিলো আমাদের নিরিবিলি উঠোনে। তারপর সবকিছু অন্ধকার হয়ে গেলো। কিন্তু তথ্য-প্রযুক্তিকে যে পৃথিবীর কোন রাজন্যই ঠেকিয়ে রাখতে পারে না, সেই অনৈতিক হস্তক্ষেপের প্রতিবাদ হিসেবে আমরা সেই অন্ধকার ফেসবুকে ফের প্রবেশ করলাম (উপরের ছবি)।
শুধু নম্রস্বরে এটা জানাতেই যে, এই দেখো হে বালখিল্য হস্তক্ষেপকারী তোমাদের নগ্ন-অশ্লীল হাতের চাইতেও প্রযুক্তির হাত অনেক দীর্ঘ, অ-নে-ক ! শুধু তোমরাই জানো না যে, তোমাদের দৌড় কতো সীমাবদ্ধ, হাস্যকর।