Monday, December 27, 2010

| ছবির গল্প | নাগরিক মনের হারানো বটের ছায়া…|

 
| ছবির গল্প | নাগরিক মনের হারানো বটের ছায়া…|
-রণদীপম বসু

এই নগরীতে কোথাও কি বটগাছ চোখে পড়ে, তাও যদি হয় ফুটপাথ ঘেষা ? ছুটির দিনের এক অলস দুপুরে রিক্সায় যেতে যেতে দৃশ্যটা চোখে পড়তেই নাগরিক মনটা আনচান করে ওঠলো। মিরপুর জিপিও’র পশ্চিম গেটের সামনেই রাস্তা ঘেষে ফুটপাথে দাঁড়ানো তরুণ বটগাছটির সিমেন্ট বাঁধানো ছোট্ট বেদীর নিরিবিলি ছায়ায় গভীর ঘুমে শুয়ে আছে লোকটি। ঠিকানাহীন ছিন্নমূল কোন ভবঘুরে বলেই মনে হয়। বৃক্ষের কাছে ফকির বাদশায় তো কোন ভেদ নেই। এমন নির্বিঘ্ন আশ্রয় শ্যামল বৃক্ষ ছাড়া আর কে দেবে ? কিন্তু ইট-বালু-রড-সিমেন্টের রুদ্ধশ্বাস এই নগরীর সর্বগ্রাসী ক্ষুধায় বৃক্ষরাই যে ছিন্নমূল আজ। এই বটগাছও কি আদৌ নিরাপদ এখন ? সিটি কর্পোরেশানের কেউ লাগায়নি এ গাছ। তাহলে এই বটের চারা কী করেই বা এলো এখানে ? আরেক কর্মমুখর দিনে সেখানে গিয়ে জানা গেলো কাহিনী।

Saturday, December 25, 2010

| ছড়ার গাঁঠছড়াটা খুলবে কী করে….|

 
| ছড়ার গাঁঠছড়াটা খুলবে কী করে…|
-রণদীপম বসু

পূর্বকথন
বাংলা ছড়া নিয়ে লিখতে বসলে প্রথম যে বিপত্তিটা দেখা দেয় তা হলো, ছড়া কী, তার কোন নিষ্পত্তি চোখে না পড়া। এটা যদি লেখকের একান্তই নিজস্ব সীমাবদ্ধতা হয় বা হতো, তাহলেও একটা সান্ত্বনা থাকতো যে- জন্মান্ধ চোখে ঢুরে দেখা হয়নি, তবে নিশ্চয়ই এর একটা নির্দিষ্ট রূপরেখা চিহ্নিত করা আছে হয়তো। কিন্তু বাস্তবতার সাক্ষ্য কি তা বলে, বা চোখে পড়ে কোথাও ? বিজ্ঞজনেরা হয়তো ছড়া, কবিতা, পদ্য এর মধ্যকার সূক্ষ্ম বা স্থূল পার্থক্যের ধারণাগুলো নিজস্ব বোধে আত্মস্থ করে নিয়ে নিরন্তর চর্চার মাধ্যমে তা থেকে রসবৈচিত্র্যের সন্ধান করতে সক্ষম ঠিকই। কিন্তু অধিকাংশ সাধারণ সাহিত্যরসিক ও আগ্রহীজনের অনভিজ্ঞ বোধ ও মননে এই পার্থক্যহীনতার মিশ্রন ও প্রভাব আসলে সত্যিকারভাবে কতোটা রসবোধ তৈরি করতে সক্ষম তা নিয়ে মনে হয় আমরা কেউ ভাবি না। 

Tuesday, December 21, 2010

| ছবির গল্প | টিয়ে দিয়ে ভাগ্যগণনা, ভাগ্যবন্দী মানুষের অদ্ভুত সান্ত্বনা!

 
| ছবির গল্প | টিয়ে দিয়ে ভাগ্যগণনা,
ভাগ্যবন্দী মানুষের অদ্ভুত সান্ত্বনা!
-রণদীপম বসু
কেবল ভাগ্যকে সম্বল করে জীবিকার টানে দেশের নানা প্রান্ত থেকে কর্মহীন বেকার মানুষগুলো ছুটে আসে রাজধানীর দিকে। সর্বস্ব হারানো চোখে তাদের অনাগত স্বপ্ন, মনে কত কী আশা, সব কিছু সম্ভব করে দেবে এই নগরী ! অসহায় নিরিবিলি জীবন পেছনে ফেলে এই ব্যস্তবহুল নগরীর বিপুল জনস্রোতে মিশে অতঃপর খেই হারিয়ে বুঝে যায় জীবন আরো কঠিন ও কর্কশ এখানে। বন্ধুহীন স্বজনহীন এই নগরীতে কেউ কারো নয়। কিন্তু আর ফেরার উপায় নেই। নিরূপায় এরা শেষে জড়িয়ে পড়ে বাছ-বিচারহীন বৈধ অবৈধ বিচিত্র কর্মকাণ্ডে। অপরাধকর্মেও জড়িয়ে পড়ে কেউ কেউ। কেউ হয়তো আখের গড়ে। অধিকাংশই  ভাগ্যের মরীচিকায় আটকে পড়া ফাঁদে হয়ে যায় ভাগ্যসর্বস্ব, অনিশ্চিত, অসহায় ছিন্নমূল। দিনের শুরুতে জানে না এরা সামনে কী অপেক্ষা করছে নসিবে। তাদের এই আকুলতা, অশিক্ষা, অজ্ঞতা ও কুসংস্কার তাদেরকে প্ররোচিত করে কিছু মিথ্যে আশা ও অভয়বাণীর দিকে। যার নাম ভাগ্য-গণনা। শিক্ষিত ও সংস্কারমুক্ত মানুষের কাছে তা অর্থহীন হলেও ওই অসহায় লোকগুলোর কাছে এটাই হয়তো বেঁচে থাকার প্রচণ্ড আশা ও প্রাপ্তির সুর, যা তাদেরকে পুনরায় সাহসে উজ্জীবিত করে।

Friday, December 10, 2010

| ছবির গল্প | শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং…|

 
| ছবির গল্প | শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ এবং…|
-রণদীপম বসু

মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ আমাদের শোক, আবেগ ও প্রেরণার অন্যতম প্রতীকী উৎস। ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে এখানে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দর্শনার্থীর ঢল নামে। মধ্য নভেম্বরের এক প্রায়-দুপুরে ওখানে ঢোকার গেটে গিয়ে থমকে গেলাম। ভেতর থেকে শেকলবদ্ধ। দায়িত্বরত ব্যক্তিটি কাউকে ঢুকতে দিচ্ছে না। কৌতুহলী হয়ে পর্যবেক্ষণ করছিলাম, আগত লোকজনকে  গেটের ভেতর থেকে, বিশেষ করে যাদের চেহারায় আরাম-আয়েশের কোন ছাপ নেই তাদেরকে অনেকটা ধমকের সুরে বলছে- বিকেল চারটার পরে। দর্শনার্থীর ভিড় পাতলা হয়ে এলে এক ফাঁকে অনেকটা শীতল কণ্ঠে বললাম- গেট খোলেন, ছবি তুলবো পত্রিকার জন্যে। বিনা বাক্যব্যয়ে খুলে দিলো।

| ছবির গল্প | আহত প্রজাপতি: নাগরিক প্রকৃতির বহমান প্রতীক |

 
| ছবির গল্প | আহত প্রজাপতি:
নাগরিক প্রকৃতির বহমান প্রতীক |
-রণদীপম বসু

প্রকৃতি তাকে বহুবর্ণিল অপূর্ব সুন্দর দুটো পাখা দিয়েছিলো। মধুর সন্ধানে দিনের বেলা ফুল থেকে ফুলে উড়ে বেড়ায়। পৃথিবীর সর্বত্রই রঙিন পাখাওয়ালা প্রজাপতি দেখা যায়। ১৫ থেকে ২০ হাজার প্রজাতির প্রজাপতি রয়েছে পৃথিবীতে। বলা হয়, কল্পনায় যত রঙ আঁকা যায়, তত রঙেরই প্রজাপতি হতে পারে। আকৃতিও বিভিন্ন। পৃথিবীর বৃহত্তম প্রজাপতি ‘রাণী আলেকজান্দ্রার বার্ডউইং’। পাখা দুটোর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত এটি প্রায় পঁচিশ সেন্টিমিটার লম্বা। আর ক্ষুদ্রতম প্রজাপতিটির নাম ‘ওয়েস্টার্ন পিগমি ব্লু;। লম্বায় মাত্র এক সেন্টিমিটার। এতো সুন্দর যে পতঙ্গ, ভাবতে কষ্ট হয়, বেশির ভাগ প্রজাপতির স্বাভাবিক জীবনকাল মাত্র এক থেকে দুই সপ্তাহ। কোন কোনটা আবার আঠারো মাস পর্যন্ত বাঁচতে পারে। কিন্তু এতো স্বল্পায়ু হয়েও এই সুন্দর পতঙ্গ কি তার স্বাভাবিক জীবনকাল অতিক্রম করতে পারে, বিশেষ করে ভয়াবহ পরিবেশ দূষণে আক্রান্ত এই নগরীতে ?

| ছবির গল্প | নগর-সভ্যতায় বিতাড়িত ফুল কচুরিপানা |

 
| ছবির গল্প | নগর-সভ্যতায় বিতাড়িত ফুল কচুরিপানা |
-রণদীপম বসু
সাত-আট বছর বয়েসী স্কুল পড়ুয়া শিশুকে জিজ্ঞেস করলাম- বাবু, গোলাপ চেনো ? অনায়াসে উত্তর এলো- হাঁ। কী রকম দেখতে ? লাল ! কচুরিপানা ফুল দেখেছো ? এবার তার চোখে অচেনা আভা। কাদা-পানির উত্তরাধিকার বাঙালি সন্তান কচুরিপানা ফুল চেনে না। এ শিশুর দোষ কোথায় ! সে জানবে কোত্থেকে ! অফিসের সহকর্মী থেকে শুরু করে পরিচিত-অপরিচিত অনেকের কাছেই জানতে চাইলাম এখন ঢাকা নগরীর কোথায় গেলে কচুরিপানার ফুল দেখা যাবে ? নির্দ্বিধায় বলে দিলেন- যেকোনো মজা পুকুর বা ডোবায় গেলেই তো দেখা যায় ! সেটা কোথায়, কাছাকাছি একটা লোকেশান বলেন ? সুনির্দিষ্ট প্রশ্নে এবার সবারই আমতা-আমতা ভাব। তাই তো !