Thursday, March 25, 2010

| দুই-মেগাপিক্সেল | স্মৃতি-একাত্তর…৭১ |

| দুই-মেগাপিক্সেল | স্মৃতি-একাত্তর…৭১ |
-রণদীপম বসু

মার্চ, বাঙালির স্বাধীনতার মাস। মার্চ, বাঙালির রক্তাক্ত হওয়ার মাস। মার্চ, বাঙালির স্বজন হারানোর মাস। মার্চ, বাঙালির প্রতিরোধের গর্জে ওঠার মাস। মার্চ, বাঙালির কান্নার মাস, কথার পিঠে কথা হারিয়ে ফেলার মাস। মার্চ, ঘৃণ্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড়-করাতে অনিবার্য দাবী আদায়ের মাস। মার্চ, যুদ্ধাপরাধীর পক্ষে সাফাইকারীদের মুখেও থুথু নিক্ষেপের মাস।
মার্চ, শহীদ স্বজনদের প্রতি আলোকচিত্রধারী নির্বোধ যন্ত্রেরও গভীর শ্রদ্ধায় বেদনায় নতজানু থাকার মাস।

Wednesday, March 24, 2010

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৬১-১৭০|

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৬১-১৭০|
-রণদীপম বসু
...
(১৬১)
মুখে যে বেশি হাসে, তার মনেই বেশি ব্যথা;
যে হাসতে জানে না, সে কাঁদতেও পারে না।

(১৬২)
জ্যোৎস্নার অনুভবে কোনো উল্লাস থাকে না, থাকে মগ্নতা;
কষ্টগুলো জেগে ওঠে বলেই জ্যোৎস্না এতো মোহময়।

(১৬৩)
চাকুরিজীবী দুই ধরনের-
এক দলে থাকে চাকুরিকে জীবিকা করে যে খায়;
আর অন্য দলে চাকুরিকে খাওয়াই যার জীবিকা।

Tuesday, March 23, 2010

। দুই-মেগাপিক্সেল । পানিইইই...।


। দুই-মেগাপিক্সেল...। পানিইইই...।
-রণদীপম বসু
...
আজ (২২ মার্চ ২০১০) বিশ্ব পানি দিবস।
কেউ যদি প্রশ্ন করেন, এই দিবসের উপজীব্য কী ? অত্যন্ত সোজা উত্তর। ঘুম থেকে উঠে এরপর গোটা দিনটাই কেটে গেলো; পানিহীন। এক ফোটা পানি নেই সাপ্লাই লাইনে ! মধ্যরাতে ক্যালেন্ডার ডেট পাল্টে গেছে আরো প্রায় ঘণ্টাখানেক আগেই। তবুও দুঃসহ প্রতীক্ষায় বসে আছি....।

Saturday, March 20, 2010

| দুই-মেগাপিক্সেল | ভাঁজ করা আকাশ |


| দুই-মেগাপিক্সেল | ভাঁজ করা আকাশ |
-রণদীপম বসু

শেষপর্যন্ত মানুষের জীবন একটা চক্রেই আবর্তিত হয়। অবুঝ শিশু দুটো খেলার ছলেই কিংবা যেভাবেই হোক যে চক্রে ঢুকে পড়েছে, ওরা কি জানে, নিয়তি তাদেরকে এরকমই একটা বৃত্তাবদ্ধ সুড়ঙ্গে ছুঁড়ে দিয়েছে ? তা থেকে বেরোতে না পারলে তাদের জীবনের আকাশটা শেষপর্যন্ত ভাঁজ করাই থেকে যাবে, উন্মুক্ত হবে না কোনোদিন !

Thursday, March 18, 2010

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৫১-১৬০|


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১৫১-১৬০|
রণদীপম বসু
...
(১৫১)
অসার জিহ্বা ভাষাকে মুক্ত করতে অক্ষম বলেই
বোবার চোখ ভাষার রুদ্ধতাকে বাঙ্ময় করে তোলে।

(১৫২)
খ্যাতি ও ক্ষমতা কুড়ানোর চতুর পদ্ধতি হলো পুরস্কার দেয়া।
পুরস্কার পেতে হয়তো ন্যূনতম যোগ্যতা থাকতে হয়,
পুরস্কার দেয়ার জন্য কোন যোগ্যতার দরকার হয় না।
পুরস্কার বারবার পাওয়া যায় না, কিন্তু বারবার দেয়া যায়।

(১৫৩)
যোগ্যতা অর্জনের আগেই কোনকিছু দ্রুত পাওয়ার ইচ্ছা মানুষকে অপরাধপ্রবণ করে তোলে।
আর খ্যাতির লিপ্সায় অপরাধপ্রবণ মানুষ সুকুমার বৃত্তি হারিয়ে শেষপর্যন্ত নিঃস্ব হয়ে যায়।
এজন্যেই শিল্প-সাহিত্যের অঙ্গনে নিঃস্ব মানুষের আনাগোনা বেশি হয়ে থাকে।

Monday, March 8, 2010

| শতবর্ষে নারী দিবস এবং মানবেতিহাসের এক বহমান লজ্জার গাথা |

 
| শতবর্ষে নারী দিবস এবং
মানবেতিহাসের এক বহমান লজ্জার গাথা |


-রণদীপম বসু
(০১)
মানবসভ্যতার সেই লজ্জাকর মুহূর্তে নারী যখন সর্বগ্রাসী ধর্মীয় মৌলবাদী পুরুষতন্ত্রের হাতে এক ব্যবহারযোগ্য ভোগ্যপণ্য হিসেবে শৃঙ্খলিত হলো, সেই থেকে নারীসত্ত্বা তার শৃঙ্খলভাঙার অবদমিত ইচ্ছাকে লালন করে আসছে হাজার হাজার বছর ধরে। পুরুষতন্ত্রের সেই আদিম ও আরোপিত ফাঁস থেকে নারীর আজো বেরিয়ে আসা সম্ভব হয়নি। তাকে বেরিয়ে আসতে দেয়া হয়নি। কেননা প্রচলিত সভ্যতা ও সংস্কৃতির গোটা প্রক্রিয়া ও কাঠামোটাই এই মৌলবাদী পুরুষতন্ত্র এক প্রতারণামূলক ধর্মতাত্ত্বিক বিটুমিন দিয়ে নিজের অনুকূলে ঢালাই করে নিয়েছে সুকৌশলে। প্রতিনিয়ত অসভ্য প্রহরায় রাখা সেই ঢালাই ভাঙা তো চাট্টিখানি কথা নয়।

Saturday, March 6, 2010

| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...|২৯|


| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...|২৯|
-রণদীপম বসু
...
তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল, ১৯৯৩)
...
কী সুন্দর অনাচার ! জন্ম নেয়াটা তবে কি সারাটা জীবনের এক অদ্ভুত উদ্ভ্রান্তি নিয়ে নিরবচ্ছিন্ন বয়ে চলা ? অনর্থক একটা মৃত্যুর মাঝে যার অনিচ্ছুক সমাপ্তি !
এর কোন উত্তর হয় না রূপা। তুমি যার জীবনে এলে মঙ্গলদীপ হয়ে, তার কাছে জীবনের কিছুই তো আর অনর্থক হতে পারে না। প্রতিশ্রুতিহীন জীবনের বোঝার অনাচার হয়তো অপেক্ষা করে যেনতেন কোন সমাপ্তির। কিন্তু একটি চিরন্তন নারী আর একটি চিরায়ত পুরুষের মহামিলনের প্রতিশ্রুতি মৃত্যুর অনিবার্য পরিসমাপ্তিকেও অর্থবহ করে তোলে বলে একের জন্ম কোন অকস্মাৎ ঘটনা নয়, সেটা যুগলের আগমনী প্রতিক্ষা মাত্র। তাই জন্মমাত্র আমার নিয়তি অনিবার্য করেছিলো তোমর জন্ম নেয়াকে। আমাকে নিয়তিবাদী বলে ভেবো না যেনো। আমি নিয়তিবাদী নই। অদৃষ্টকেই আমরা নিয়তি বলে ডাকি। অদৃষ্ট মানে যা দৃষ্ট নয়। অর্থাৎ এর পর কী হবে যা জানা যায় না। আমার জন্ম যেমন বিকল্পহীন সত্য, তেমনি তোমার জন্মও অনিবার্য সত্য- একে অন্যের জন্য, এটাই বলতে চাচ্ছি।

| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...|২৮|



| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...|২৮|
-রণদীপম বসু
...
তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল, ১৯৯৩)
...
 নববর্ষের, নতুন শতাব্দির কল্যাণ ভরে শুভেচ্ছা কার্ড পাঠালে আমাকে তুমি। আমি পেলাম। অথচ আমার পাঠানো হলো না। এভাবেই বারে বারে হেরে যাই আমি তোমার কাছে। তবু এটাকে আমার হেরে যাওয়া ভাবতে পারি না রূপা। তোমার জয়ে আমারই জিৎ হয়।
ভালোবাসা তো কোন খেলা নয়। অথবা এমনই খেলা যেখানে একপক্ষের জন্যে কোন হারজিৎ থাকে না। হারলে দু’পক্ষই হারে, এবং জিতলেও দু’পক্ষই একসাথে জিতে। আমি তো, যতক্ষণ এ দেহে প্রাণ আছে, আমার ভালোবাসাকে হারতে দিতে পারি না। তাই তোমার পাঠানো শুভেচ্ছা আমার সবচেয়ে বড় আনন্দ। এর বিকল্প আমার পৃথিবীতে আর কিছুই নেই। রূপা, তুমি যে আমার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। এই পাওয়াকে আমি আমার অনন্ত সময়ে জড়িয়ে রাখবো, তুমি যদি থাকো।

| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...|২৭|



| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর...|২৭|
-রণদীপম বসু
...
তারিখ: নেই (অনুমান ১৩ এপ্রিল, ১৯৯৩)
...

 রূপা, এ মুহূর্তে একটা শতাব্দীর একেবারে শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে তোমার একান্ত ভাবনার ঢেউগুলো কোথায় কিভাবে কোন্ স্রোতে আছড়ে পড়ছে জানতে পারছি না বলে ভীষণ খাবাপ লাগছে। আমার ভাবনাও এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কেন যেন একটা ভীষণ অচেনা প্রত্যুষ আমার জন্য অপেক্ষা করছে। আজন্মের চেনা-অচেনা প্রত্যুষগুলো থেকে যেন কতো আলাদা! রূপে বৈচিত্রে এক হলেও কেমন একটা মৌলিক ভিন্নতা একে আলাদা করে দেবে। বুঝি স্বতন্ত্র কোন এক অন্তর্গত ভাব !

Thursday, March 4, 2010

| বোরকা…[রম্য-রচনা]

| বোরকা…[রম্য-রচনা]
রণদীপম বসু
(১)
মনজু সাহেব সদ্য রংপুর বদলি হইয়া আসিয়াছেন। পেশায় সরকারি গোয়েন্দা পুলিশ বলিয়া প্রথম প্রথম পাবলিকের নিকট হইতে ব্যাপক সমীহ পাইলেও ইদানিং পরিস্থিতি কী রকম যেন বদলাইয়া গেছে ! সন্দেহের টোটকা ফুকিয়া অপরাধী ধরিবার কলা-কৌশলও আর কাজ করিতেছে না। প্রতিদিন পত্রিকার পাতায় কতোরকমের অপরাধ কাহিনী প্রকাশ পাইতেছে, অথচ তিনি এইসব কিছুই টের পাইতেছেন না। আর ওইসব বিচ্ছু সাংবাদিকগুলা কী করিয়া যেন আগেভাগেই টের পাইয়া যায়। নিশ্চয়ই তাহাদেরও যোগসাজশ রহিয়াছে! তাহাদের প্রতি তিনি একটু একটু করিয়া নাখোশ হইতে লাগিলেন। এবং হঠাৎ করিয়া আবিষ্কার করিলেন, নালায়েক পাবলিকই উল্টা তাহাকে সন্দেহ করিতে লাগিয়াছে। ইহা যে এইহাত-ওইহাত বাণিজ্যের জন্য কিছুতেই শুভ ঘটনা নয় তাহা বুঝিতে পারিয়া তিনি আকুল হইয়া পড়িলেন। ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধার করিতে এইবার মরিয়া হইয়া উঠিলেন, কিছু একটা তাহাকে করিতেই হইবে। শেষপর্যন্ত সিদ্ধান্ত লইলেন, তিনি ভালো হইয়া যাইবেন।

Tuesday, March 2, 2010

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|১৪১-১৫০|

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|১৪১-১৫০|
রণদীপম বসু
(১৪১)
সম্পদ যে পরিমাণেই থাক
সেই আসল ফকির যে খরচ করতে জানে না।

(১৪২)
সম্পদের পরিমাণ দিয়ে সম্পদশালী হয় না;
খরচের বাহার দিয়েই সম্পদশালী নির্ণীত হয়।

(১৪৩)
পরকালের দোহাই হচ্ছে প্রচলিত ধর্মগুলোর
সবচেয়ে বড় প্রতারণা।