Friday, July 30, 2010

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|১৭১-১৮০|

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|১৭১-১৮০|
-রণদীপম বসু

(১৭১)
একটি সিংহকে পোশাক পরালে সে আর তেজোদ্দীপ্ত সিংহ থাকে না,
তার সৌন্দর্যেরও মৃত্যু ঘটে।
কিন্তু মানুষের কুশ্রীতা ঢাকতে পোশাকের দরকার হয়।

(১৭২)
অন্যের ব্যর্থতার সাপেক্ষে যে নিজের যোগ্যতার পরিমাপ করে, সে অযোগ্য।
সফল ব্যক্তি অন্যের যোগ্যতাকেই নিজস্ব তুলাদণ্ডে যাচাই করে নেয়।

(১৭৩)
প্রার্থণার নামে করুণা ভিক্ষা করে মেরুদণ্ডহীন অথর্বরা;
এরা ধর্মান্ধ ক্রিতদাস, নিঃস্ব।
মানুষের জন্যে পৃথিবীর জন্যে অন্ধতা ছাড়া এদের দেয়ার কিছু নেই।

Wednesday, July 28, 2010

| আমি তো মিন্টু হইলাম, কিন্তু…!


| আমি তো মিন্টু হইলাম, কিন্তু…!
-রণদীপম বসু

(০১)
আপনি রণদীপম দাদা না !
প্লাস্টিকের ওয়ান-টাইম পেয়ালায় চায়ে চুমুক দিতে দিতে দারুণ জলি-টাইপ হাস্যোজ্জ্বল প্রশ্নকারী দোহারা গড়নের যুবকটির দিকে তাকালাম। আমার সম্মতিসূচক জবাব ও প্রশ্নময় চাউনিতে তিনি বলে যাচ্ছেন- ‘আপনি উইকিমিডিয়ায় প্রচুর ছবি দিয়েছেন দাদা, ব্লগে আপনার ছবিও দেখেছি তো..!
এবার মনে হয় চিনতে পেরেছি তাঁকে। বাংলা উইকিতে বেলায়েত ভাইর হালকা নিক ছবির সাথে অনেক মিল চেহারায়, তিনিই হবেন। আপনি বেলায়েত ভাই ?
না-না, আমি বেলায়েত না। বেলায়েত যখন আপনার ছবিগুলোর কাজ করছিলো, আমি দেখেছি তখন। আমার নাম মাহে আলম খান। সংক্ষেপে সবাই ম্যাক বলে চিনে।বলেই তিনি যে ভুবন-ভুলানো হাসিটা দিলেন, তাতেই বুঝে গেলাম, এ লোকের পৃথিবীতে কোন শত্রু থাকতে পারে না। বর্তমানে অনলাইন জগতে বাংলাকে ব্যবহার-বান্ধব করে তুলতে অঙ্কুর-আইসিটি ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের সাথে উজার হয়ে কাজ করছেন জানা গেলো।

Thursday, July 22, 2010

| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩৫|


| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩৫|
-রণদীপম বসু

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল, ১৯৯৩)

তুমি কি জানো না, তোমার একটি চিঠির জন্যে কেমোন উতলা হয়ে থাকি সারাক্ষণ ! সেই প্রবাদটা কি ভুলে গেছো, প্রতিক্ষার চেয়ে মরণ ভালো ? শুধু একটি চিঠির জন্যে, প্রত্যাশিত চিঠির জন্যে সমস্ত বিষয়কর্ম কেমোন বিস্বাদ হয়ে যায় ! না পাওয়া পর্যন্ত চিঠি আসবে চিঠি আসবে করে করে প্রতিটা দিনকে আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করি। বলি, হে দিন, আমার প্রিয়তমার চিঠিটা আসুক, তবে যেও। কিন্তু সময় তো কারো কর্তৃত্ব মানে না। আমার দীর্ঘশ্বাস পেছনে ফেলে রেখে সে চলে যায়, বড় বেশি অবহেলায় ফাঁকি দেয় আমাকে। সে যদি তুমি বুঝতে, এ যে কী যন্ত্রণা !

দুখ্ অব ফিরাক্ কা হমসে সহা নহী জাতা।
ফির উসসে জুলম য়্যহ্ হ্যয় কুছ কহা নহী জাতা ।।

‘বিরহের জ্বালা আর তো সইতে পারছি না,
আরও যন্ত্রণার এই যে, মুখ ফুটে কিছু বলতেও পারছি না।’  –(মীর-তকী-মীর)

সামাজিক ব্যবসা : নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন (প্রফেসর ইউনূসের সাক্ষাৎকার)


সামাজিক ব্যবসা : নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন (প্রফেসর ইউনূসের সাক্ষাৎকার)

[ বাংলা সাপ্তাহিক পত্রিকা 'সাপ্তাহিক'-এর বর্ষ ৩ সংখ্যা ১০, ২২ জুলাই ২০১০-এ ২০০৬ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী অর্থনীতিবিদ প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার প্রকাশিত হয়েছে।  অর্থনীতির জগতে এক নতুন ধারণা 'সামাজিক ব্যবসা' সম্পর্কিত বিস্তারিত আলোচনা ও বিভিন্ন কারণে এ সাক্ষাৎকারটিকে গুরুত্বপূর্ণ মনে হওয়ায় সংশ্লিষ্ট ম্যাগাজিন থেকে হুবহু সাক্ষাৎকারটির অনুলিপি এই ব্লগে সংরক্ষণ করা হলো।  আগামীতে কোন গবেষণার জন্যেও সাক্ষাৎকারটি প্রয়োজনীয় মনে হতে পারে। তাছাড়া এই সামাজিক ব্যবসার অভূতপূর্ব ধারণা এবং এর সম্ভাব্য কার্যকর প্রভাব যে আগামীতে আরেকটি নোবেল পুরস্কারের বীজ উপ্ত  করে দিচ্ছে না, তাই বা কে বলতে পারে ! সাক্ষাৎকারটি পড়ে এই সম্ভাবনাকে একেবারে উড়িয়ে দেযার  মতো মনে হয় নি। -রণদীপম বসু ]

| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩৪|


| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩৪|
-রণদীপম বসু

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল, ১৯৯৩)

মাঝে মাঝে কিছু কিছু সময় আসে হঠাৎ যুবকের অবাধ্য দেহটা ক্ষেপে ওঠে। মেয়েটির শরীরের প্রতি ইঞ্চি জমি চুমোয় চুমোয়, তীব্র আদরে আদরে একেবারে এলোমেলো করে দিতে ভীষণ ইচ্ছে করে। এ কি ভালোবাসা নামের মুদ্রার অপর পিঠ ? জানি না। তবে রক্তকে অস্বীকার করার, অবহেলা করার ক্ষমতা শরীরের নেই এটা বুঝি। তাই বুঝি শারীরিক উত্তাপ বিপরীতে আরেকটা শরীরের উত্তাপের জন্যে মাঝে মাঝে উন্মাদ হয়ে ওঠে। এই উন্মাদনার তুমি কী নাম দেবে জানি না রূপা। তবে এটা বাস্তব এবং ভয়ঙ্কর সত্যি বলেই দ্বিধাহীন প্রকাশ করছি। তুমি ভুল বুঝো না। যদি ভালোই বাসবে, জেনেশুনে ভালোবাসা উচিৎ নয় কি ? আমি তো জানি, যুবকের ভালোবাসা নিখাদ, অন্তত তার দৃষ্টিতে। সে সমগ্র অস্তিত্ব দিয়ে, তার গোটা সত্তা দিয়েই ঐ নারীকে ভালোবাসে। এতে কোন ভুল নেই।


অদৃশ্য বাতিঘর--১২ (কবিতাগুচ্ছ)


অদৃশ্য বাতিঘর--১২ (কবিতাগুচ্ছ)
 -রণদীপম বসু
...
| আহত লিরিক |
ধরো যদি একদিন কোন এক চন্দ্রাতপ রাতে
অকস্মাৎ মরে যাই আমি
কাঁদতে এসো না কেউ–
কাজ নেই আতর চন্দন মেখে, অথবা গোলাপ;
কেবল বিক্ষত হৃদয়টা আমার খুলে নিয়ো
উদ্ভ্রান্ত এ শরীর থেকে।

কেউ যেন না-পোড়ায় তা
না-দেয় কবর কিংবা না-ভাসায় জলে।
যা খুশি করো এই শরীরটাকে
কিছুই বলবো না আমি–
শুধু অভাগা হৃদয়টাকে সযত্নে তোলে ঠিক
বসিয়ে দিয়ো ওই হৃদয়হীন পাথর রমণীর বুকে–
আমৃত্যু জ্বালায় জ্বলে যেনো সে বুঝতে পায়
হৃদয়জ মানুষের দুর্বিষহ কষ্টের ক্ষরণ।

Wednesday, July 21, 2010

| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩৩|


| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩৩|
-রণদীপম বসু

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল, ১৯৯৩)

একদিন যুবকটি অসুস্থ হয়ে পড়লো। বেশ আগের কথা, যখন-তখন মেয়েটির ওখানে ঢুঁ মারা যার অভ্যাসে দাঁড়িয়ে গেলো, হঠাৎ করে তা থেমে গেলো বলে বোধকরি মেয়েটি কী জানি বুঝলো। একেবারে ঔষধ-পথ্যসহ সরাসরি ছেলেটির এখানে হাজির। এমন আশাতীত তাকে দেখে যুবকের রোগযন্ত্রণা জানি না কোথায় গেলো। মেয়েটির সযত্ন শাসনে যুবকের তো কেঁদে ফেলার অবস্থা, কী এক পূর্ণতার আনন্দে !  হতচ্ছাড়া যুবক তার ভবঘুরে ছন্নছাড়া জীবনে এতকাল জেনে এসেছে পৃথিবীতে অনেক কিছুরই মোকাবেলা একা একাই করতে হয়। অথচ এমন সোহাগী স্পর্শে সে কেমন জানি হয়ে গেলো। সেদিনই পাল্টে গেলো তার পৃথিবী। একটা অনন্ত আশ্বাস আর অবলম্বনের অযাচিত অধিকার পেয়ে সেদিন সে মুহূর্তে যুবকের সমস্ত অসহায় নিঃসঙ্গতা খান খান হয়ে গেলো। দৃঢ়চিত্ত যুবক হয়ে গেলো দুর্বল। তার সমস্ত দেহ মন এবং সবকিছুই একটি নারীর কাছে নির্ভরতা পেয়ে পাথর অস্তিত্ব থেকে রক্তমাংসের নমনীয়তায় ফিরে এলো।


অদৃশ্য বাতিঘর--১১ (কবিতাগুচ্ছ)

অদৃশ্য বাতিঘর--১১ (কবিতাগুচ্ছ)
-রণদীপম বসু
...
| ক্ষরণ |
পিঞ্জল বুকের চৈতী হাওয়ায় মেখে
তোমার জন্যে সাজিয়ে রেখেছি মন–সুবর্ণ প্রাসাদ,
তুমি তো আসো নি কাল।
নীলার মূল্যে আঁকা রূপোর পাত্রখানি
এখনো অচ্ছুৎ তেমনি আছে–
গায়ে গায়ে তোমারই বিস্মৃতি গাঁথা।

যে বসন্ত সায়াহ্নে ডোবায় গা
তার কাছে থাকে বাকি বৃষ্টি কিছু- কিছু জলের ফোঁটা
কিছু কিছু দীর্ঘ নিঃশ্বাস আর
হিরন্ময় প্রতীক্ষার প্রহর কিছু।

| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩২|


| যে ডায়েরীটা লেখা হবে না আর…|৩২|
-রণদীপম বসু

তারিখ: নেই (অনুমান এপ্রিল, ১৯৯৩)

তোমার অ্যালবাম থেকে তুলে নেয়া সেই একটিমাত্র ছবি আমার এখনকার সঙ্গি রূপা। দিনরাত কত যে চেয়ে থাকি এই ছবিতে তোমার দিকে, আশ মেটে না। কখনো চেয়ে থাকি অপলক অনেকক্ষণ, কখনো চুমোয় চুমোয় ভরিয়ে দেই তোমার অদ্ভুত সুন্দর মুখখানায়। কখনো বা বুকে চেপে ধরি। শিহরিত সমস্ত শরীরে মনে কি যে করি তোমাকে বুঝাতে পারবো না। বলো তো, তোমাকে দেখলে কেন আমার এমন হয় ? সেই গানটাই মনে পড়ে-
‘দুই নয়নে তোমায় দেখে আশা মেটে না
মনের আশা মেটে না,
হাজার নয়ন দাও না আমায় লক্ষ নয়ন দাও না…।’


Saturday, July 3, 2010

|আগুন, কিভাবে নিজে বাঁচবেন এবং অন্যকে বাঁচাবেন|

| আগুন, কিভাবে নিজে বাঁচবেন এবং অন্যকে বাঁচাবেন |
-রণদীপম বসু

আগুন, যার একটাই গুণ- কেবল জ্বালাতেই জানে। এবং এই অগ্নিক্ষুধা এতোটাই একপাক্ষিক ঘটনা যে, জান-মাল সহ কিছুই আর অবশিষ্ট রাখে না। প্রতিবছর আমাদের দেশে আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডে কী পরিমাণ জান-মালের ক্ষতি হয় তার কোন পরিসংখ্যানমূলক তথ্য হাতের কাছে না থাকলেও নাগরিক জীবনে এর ভয়াবহতা ও ভিকটিম হিসেবে আমাদের অসহায়তার অন্ত নেই। বাসা-বাড়ি অফিস-আদালত থেকে শুরু করে মার্কেট-বহুতল ভবন যান-বাহন ইত্যাদি প্রায় সকল ক্ষেত্রে  অগ্নি নির্বাপক সিস্টেমের অভাব বা অপ্রতুলতা এবং আমাদের ভয়ানক অজ্ঞতা-অসচেতনতার কারণে যেকোন সময় যেকোন স্থানে যে কেউ এই আগ্রাসী অগ্নিকাণ্ডের দুঃখজনক ট্র্যাজেডির অসহায় শিকার হয়ে যাওয়া বিচিত্র নয়। গ্রামে-গঞ্জে বা ছোটখাটো শহরগুলোতে হুট করে বাইরে খোলা জায়গায় বেরিয়ে পড়ে প্রাণ বাঁচানোর ছোট্ট সুযোগটুকু পাওয়া গেলেও খাঁচাবদ্ধ নাগরিক জীবনে সেটাও সুদূরপরাহত বলেই মনে হয়। তাই প্রতিমুহূর্তের সমূহ আশঙ্কা আর সম্ভাব্য বিপদ মাথায় নিয়েই আমাদের নাগরিক জীবন।