Thursday, March 31, 2011

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে শেরাটন হয়ে এবার ‘রূপসী বাংলা’ !

 
| ইন্টারকন্টিনেন্টাল থেকে শেরাটন হয়ে এবার ‘রূপসী বাংলা’ !
-রণদীপম বসু

পহেলা এপ্রিল থেকে দেশের প্রথম পাঁচতারকা হোটেল শেরাটনের নাম বদলে যাচ্ছে। পরিচিত হবে খাঁটি দেশীয় নাম ‘রূপসী বাংলা’ নামে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক চেইন প্রতিষ্ঠান স্টারউড এশিয়া প্যাসিফিক হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট এবং বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল)-এর মধ্যে সম্পাদিত হোটেল পরিচালনার চুক্তি ৩১ মার্চ ২০১১ তারিখে শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে স্টারউডের ব্রান্ড নেম শেরাটন আর ব্যবহার করা যাবে না। নিয়ন্ত্রণকারী সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেড (বিএসএল)-এর পরিচালনা পর্ষদ নতুন কোন চেইন প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি করার আগ পর্যন্ত কেবল ‘রূপসী বাংলা’ নামেই এই পাঁচতারকা হোটেল পরিচিত হবে। তবে ভবিষ্যতে নতুন কোন আন্তর্জাতিক হোটেল এটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নিলে বাংলা নাম রূপসী বাংলার সঙ্গে যুক্ত হবে চেইন অপারেটর বা হোটেলের নাম। যেভাবে অন্য পাঁচতারকা হোটেল ঢাকা প্যান প্যাসিফিক-এর সাথে শুরু থেকেই বাংলা নাম সোনারগাঁও যুক্ত হয়ে আছে।

Thursday, March 24, 2011

| কালের স্মৃতিচিহ্ন |ঢাকা: বর্ধমান হাউস|

 
| কালের স্মৃতিচিহ্ন |ঢাকা: বর্ধমান হাউস|
-রণদীপম বসু

ঢাকা তথা পূর্ব বাংলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা, আন্দোলন, সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের মূর্তিমান সাক্ষি এই বর্ধমান হাউস (Burdwan House), বর্তমানে যাকে আমরা বাংলা একাডেমী হিসেবে চিনি। ভবনটির নির্মাণ সাল ১৯০৬। বলা হয়ে থাকে যে বর্ধমানের রাজা এটি নির্মাণ করেন। কারো মতে ১৯১১ সালের বঙ্গভঙ্গ রদের পর এটি নির্মিত হয়। তবে সর্বজন স্বীকৃত মত অনুযায়ী ১৯০৫ সালে বঙ্গভঙ্গের পর ঢাকা প্রাদেশিক রাজধানীতে পরিবর্তিত হলে পূর্ববঙ্গে গভর্ণরের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্যদের জন্য রমনা এলাকায় এই বাড়িটি নির্মাণ করা হয়। সে সময়েই পুরানা হাইকোর্ট ভবন, কার্জন হলও নির্মিত হয় বলে জানা যায়। অর্ধচন্দ্রাকৃতি বারান্দা, নিচতলায় নাচের বলরুম, দোতলায় ফায়ার প্লেস ও অন্যান্য সুবিধাসহ অনেকটা ভিক্টোরিয়ান রীতিতে তৈরি ধবধবে সাদা এই দোতলা পাকা দালানটি মূলত ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত সরকারী উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ও রাজকীয় অতিথিদের জন্যে বাংলো হিসেবে ব্যবহার করা হতো বলে ধারণা করা হয়।  ১৯১৯ থেকে ১৯২৪ সাল পর্যন্ত পূর্ববঙ্গে গভর্ণরের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিলের সদস্য হওয়ায় বর্ধমানের রাজা স্যার বিজয়চাঁদ ম্যাকার্থি সে সময় রাজকীয় অতিথি হিসেবে এই বাড়িতে বাস করেন। তাঁর নামানুসারেই এটি বর্ধমান হাউস নামে পরিচিতি লাভ করে।

Tuesday, March 22, 2011

| শ্রদ্ধেয় রাহাত খান, এভাবেও মিথ্যাচার করা যায় !

| শ্রদ্ধেয় রাহাত খান, এভাবেও মিথ্যাচার করা যায় !
-রণদীপম বসু

ড. ইউনূস গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা নন’- ১৯ মার্চ ২০১১ তারিখের দৈনিক কালের কণ্ঠে এরকম শিরোনামের একটা উপসম্পাদকীয় কলামে চোখ পড়তেই চমকে ওঠলাম ! আরো চমক অপেক্ষা করলো যখন লেখক হিসেবে এটাতে স্বনামখ্যাত সাহিত্যিক সাংবাদিক শ্রদ্ধেয় রাহাত খানের নাম দেখলাম !
(Priyo Blog-এও রাহাত খানের একই লেখার পোস্ট ) যিনি একজন বিশিষ্ট সাহিত্যিক তো বটেই, তার ওপর দৈনিক ইত্তেফাক-এর মতো সমৃদ্ধ ও দীর্ঘ ঐতিহ্যবাহী একটি পত্রিকায় যিনি অনেকদিন ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে এতোকালের প্রতিষ্ঠিত একটি সত্যকে দুমড়ে দেয়া শিরোনামের এরকম একটি লেখা পড়ার আগেই নিজস্ব ভাবনা-রাজ্যটা যে দুলে ওঠবে ভীষণ তা কি আর বলার অপেক্ষা রাখে ! কিন্তু লেখাটা পড়ার পর সেই দুলুনিটা ঠেকলো গিয়ে আমাদের কথিত বিজ্ঞবানদের নিজেদের যা কিছু ইমেজ তা হাস্যস্পদ করে সুকৌশলে ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে অন্য কোন সম্মানিত নাগরিকের ইমেজ ধ্বংসের  বিকৃত সুচতুরতা দেখে। এটাকেই হয়তো বলে নিজের নাক কেটে অন্যের যাত্রাভঙ্গ করা। সমাজের মানী ব্যক্তিদের মধ্যে এই অভ্যস্ততা দেখে আমরা সাধারণ নাগরিকরা যে কতোটা হীনম্মন্য হয়ে পড়ি তা হয়তো তাঁরা ভেবে দেখারও প্রয়োজন মনে করেন না। এভাবে আমাদের শ্রদ্ধা জানানোর তালিকা থেকে তাঁরা তাঁদের নামটাকে ধুসর করে দিয়ে আমাদের মনোজগতে যে অমোচনীয় দাগ কেটে দেন সেটা তাঁরা মুছবেন কী করে ! আবারো মনে পড়লো শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত পঙক্তিটার কথা- ‘দেখায় বড়র মতো, বড় নয় কেউ।’

Saturday, March 19, 2011

| যেখানে শুয়ে আছেন আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ সাতজন |

| যেখানে শুয়ে আছেন আমাদের বীরশ্রেষ্ঠ সাতজন |
-রণদীপম বসু

১৯৭৩ সালের ১৫ই ডিসেম্বরে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ ও অদম্য সাহসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতির সেরা বীর সন্তানদেরকে শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এদের মধ্যে মরণোত্তর সাতজন সর্বশ্রেষ্ঠ উপাধি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ৬৮ জন ‘বীর উত্তম’, ১৭৫ জন ‘বীর বিক্রম’ এবং ৪২৬ জন ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

শহীদ সাত বীরশ্রেষ্ঠরা হলেন রাইফেলস-এর ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ  ও ল্যান্স নায়েক মুন্সী আবদুর রউফ, সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, সিপাহি মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল  ও সিপাহি মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, নৌবাহিনীর ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমিন  এবং বিমান বাহিনীর ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান। বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাঁরা রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সমাহিত আছেন। তাঁরা আমাদের গৌরবের অহঙ্কার। এই বীর সন্তানেরা এখন কে কীভাবে কোথায় শোয়ে আছেন তা দেখার আগে আসুন আমরা আরেকবার অবনত চিত্তে শ্রদ্ধা জানাই তাঁদের জীবন ও বীরোচিত গৌরব গাথাকে গর্বভরে স্মরণ করে।

Wednesday, March 16, 2011

| মতিউর ও হামিদুর, স্মৃতিস্তম্ভের ভিন্নতা নিয়ে পাশাপাশি শুয়ে থাকা বীরশ্রেষ্ঠ দু’জন |

| মতিউর ও হামিদুর,
স্মৃতিস্তম্ভের ভিন্নতা নিয়ে পাশাপাশি শুয়ে থাকা বীরশ্রেষ্ঠ দু’জন |
-রণদীপম বসু

১৯৭৩ সালের ১৫ই ডিসেম্বরে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশন অনুযায়ী বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগ ও অদম্য সাহসিক অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ জাতির সেরা বীর সন্তানদেরকে শ্রেষ্ঠ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এদের মধ্যে মরণোত্তর সাতজন সর্বশ্রেষ্ঠ উপাধি ‘বীরশ্রেষ্ঠ’, ৬৮ জন ‘বীর উত্তম’, ১৭৫ জন ‘বীর বিক্রম’ এবং ৪২৬ জন ‘বীর প্রতীক’ খেতাবে ভূষিত হন।

Saturday, March 12, 2011

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: শায়েস্তা খান মসজিদ |

 
| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: শায়েস্তা খান মসজিদ |
-রণদীপম বসু

ঢাকার বাবু বাজার এলাকায় প্রাক্তন মিটফোর্ড হাসপাতাল বর্তমান সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজের পেছনে বুড়ীগঙ্গা নদীর কোল ঘেঁষে তিন গম্বুজ বিশিষ্ট ছোট্ট একটি মসজিদ- শায়েস্তা খাঁর মসজিদ (Shayesta Khan Mosque)। এটাই ঢাকায় নির্মিত প্রথম মসজিদ হিসেবে পরিচিত। সুবাদার হিসেবে ঢাকায় শায়েস্তা খানের পদার্পণের পরই বিভিন্ন ইমারত নির্মাণের কাজ শুরু হয়। এই মিটফোর্ড এলাকায় নিজের থাকার জায়গা, মসজিদ প্রভৃতি এবং নদীতীরে একটি বাঁধও নির্মাণ করেছিলেন বলে জানা যায়। সেসব কিছুই আর না থাকলেও শায়েস্তা খান রীতিতে গড়া এই মসজিদটি রয়ে গেছে।

Friday, March 11, 2011

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: মুসা খান মসজিদ |

 
| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: মুসা খান মসজিদ |
-রণদীপম বসু

বর্তমান শহীদুল্লাহ হলের পাশেই মুসা খাঁর মসজিদ (Musa Khan Mosque) অবস্থিত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্জন হল এলাকার পশ্চিমাংশ এই বর্তমান শহীদুল্লাহ হল এলাকা পরিচিত ছিলো বাগ-ই-মুসা খাঁ নামে। মুসা খান ছিলেন বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈসা খাঁর পুত্র। সুবাদার ইসলাম খাঁর সঙ্গে যুদ্ধে পরাজিত হয়ে মুসা খাঁ বন্দী হলেও তাঁর সঙ্গে ইসলাম খাঁ সদয় ব্যবহার করেছিলেন বলে কথিত আছে। মসজিদটি এই মুসা খাঁর দ্বারাই নির্মিত বলে জানা যায়। কিন্তু মসজিদের স্থাপত্য শিল্পরীতি দেখে ধারণা করা হয়, শায়েস্তা খানী রীতিতে নির্মিত মসজিদটি আসলে মুসা খাঁর পুত্র দিওয়ান মুনাওয়ার খানই পিতার স্মৃতির উদ্দেশ্যে ১৬৭৯ সালের দিকে নির্মাণ করেছেন।

| কালের স্মৃতিচিহ্ন |ঢাকা: খান মহম্মদ মির্ধা মসজিদ|

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: খান মহম্মদ মির্ধা মসজিদ |
-রণদীপম বসু

লালবাগ কেল্লা থেকে উত্তর-পশ্চিমে সামান্য দূরে আতশখানায় এই সুদৃশ্য খান মহম্মদ মির্ধা মসজিদটির (Khan Muhammad Mirdha Mosque) অবস্থান। মূলত এটি চারদিকে দেয়াল দ্বারা বেষ্টিত একটি আবাসিক মাদ্রাসা-মসজিদ কমপ্লেক্স। কাজী ইবাদুল্লাহর নির্দেশে জনৈক খান মহম্মদ মির্ধা এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয় কাজী ইবাদুল্লাহ ছিলেন ঢাকার প্রধান কাজী। তবে মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে গবেষক মুনতাসীর মামুনের ‘ঢাকা স্মৃতি বিস্মৃতির নগরী’ গ্রন্থের তথ্যমতে ফররুখসিয়ার যখন ঢাকার উপ শাসনকর্তা তখন ১৭০৬ সালে মসজিদটি নির্মিত হয়। প্রাচীনত্বের দিক থেকে এর অবস্থান সপ্তদশ। বাংলাদেশ এশিয়াটিক সোসাইটি থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক সমীক্ষামালা-২’ স্থাপত্য শীর্ষক গ্রন্থে এই কমপ্লেক্সটির নির্মাণকাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৭০৪-০৫ সাল।

Thursday, March 10, 2011

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: হোসেইনী দালান |

 
| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: হোসেইনী দালান |
-রণদীপম বসু

হুসেনী দালান বা হোসেইনী দালান (Hossaini Dalan) হচ্ছে শিয়া সম্প্রদায়ের মহররম উৎসবের কেন্দ্র ইমামবাড়া। আক্ষরিক অর্থে ইমামবাড়া বলতে ইমামের বাড়িকে বুঝায়। কিন্তু স্থাপত্যিক অর্থে ইমামবাড়া হলো একটি শিয়া মিলনায়তন যেখানে মহানবীর দৌহিত্র হযরত হোসাইনের মৃত্যু দিবস বা আশুরার উদযাপন পালিত হয়। মহরম মাসের ১০ তারিখে ইমাম হোসাইন শাহাদত বরণ করায় ঐ দিনটিকে শিয়া সম্প্রদায় সমগ্র বিশ্বে আশুরা বা শোকের দিবস হিসেবে পালন করে থাকে। এই দিনে ইমামবাড়ায় কোরান পাঠ, কারবালার শোক গাথার বর্ণনা, মাতম বা বুক চাপড়িয়ে শোক প্রকাশ এবং মিলনায়তন থেকে তাজিয়া আনা-নেয়া হয়।

Wednesday, March 9, 2011

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২৩১-২৪০|

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|২৩১-২৪০|
-রণদীপম বসু

(২৩১)
কৃপণ আর স্বার্থপরে পার্থক্য সামান্যই;
স্বার্থপর অন্যকে ঠকায়, কৃপণ ঠকায় নিজেকে।

(২৩২)
মানুষ যতক্ষণ প্রকৃতির সন্তান, ততক্ষণ সে মুক্ত ও স্বাধীন।
স্বাধীনতা রুদ্ধ হলেই মানুষ নাগরিক-গৃহস্থ হয়ে ওঠে।

(২৩৩)
ভালোবাসার অবয়ব বাইরেই, রঙিন বেলুনের মতো;
ভেতরে তার অদৃশ্য হাওয়া।

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: হাজী শাহবাজ মসজিদ |

 
| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: হাজী শাহবাজ মসজিদ |
-রণদীপম বসু

রমনা রেসকোর্সের দক্ষিণ-পূর্ব কোণে এবং বর্তমান তিন নেতার মাজারের লাগোয়া পূর্ব প্রান্তে যে নিরিবিলি মসজিদটি চোখে পড়ে, ওটাই হাজী খাজা শাহবাজ মসজিদ (Hawji Khwajah Shahbaz Mosque) হিসেবে পরিচিত। এর পশ্চিমে এখন শিশু একাডেমী ভবন। মুঘল সুবাদার মুহম্মদ আজমের সময় ১৬৭৯ সালে এই মসজিদটি নির্মিত হয়। হাজী শাহবাজ সম্পর্কে দু’ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। কেউ বলেন তিনি ছিলেন রাজমিস্ত্রি, আবার কারো মতে তিনি ব্যবসায়ী। ঐতিহাসিকদের অনুমান তিনি ব্যবসায়ী ছিলেন। তবে তিনি যে হাজী ছিলেন এ ব্যাপারে সম্ভবত দ্বিমত নেই। তাঁদের মতে হাজী শাহবাজ কাশ্মীর থেকে এখানে আগমন করেন এবং টংগীতেই বসবাস করতেন। সেখান থেকে নিজের নির্মিত এই মসজিদে নামাজ পড়তে আসতেন।

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: আর্মেনিয়ান চার্চ |

 
| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: আর্মেনিয়ান চার্চ |
-রণদীপম বসু

পুরান ঢাকার আর্মেনীটোলায় যে আর্মেনীয় গীর্জাটি রয়েছে তা-ই ‘আর্মেনিয়ান চার্চ’ (Armanian Church)  হিসেবে পরিচিত। এটি নির্মিত হয় ১৭৯১ সালে। ঐতিহ্যবাহী এই গীর্জার সাথে জড়িয়ে আছে ঢাকায় আর্মেনীয়দের ইতিহাস। আর্মেনীটোলা বা আর্মানিটোলা নামটিও এসেছে আর্মেনীদের কারণে। ধারণা করা হয় এই গীর্জা নির্মাণের আগে তাদের ছোট একটি উপাসনাগার ছিলো। এখন যে জায়গায় গীর্জাটি দাঁড়িয়ে আছে, ১৭৮১ সালে সেখানে ছিলো আর্মেনীদের গোরস্থান। গীর্জা নির্মাণের জন্য গোরস্থানের আশেপাশে যে বিস্তৃত জমি তা দান করেছিলেন আগা মিনাস ক্যাটচিক নামের এক আর্মেনীয়। আর লোকশ্রুতি অনুযায়ী গীর্জাটি নির্মাণে সাহায্য করেছিলেন চারজন আর্মেনীয়। এরা হলেন মাইকেল সার্কিস, অকোটাভাটা সেতুর সিভর্গ, আগা এমনিয়াস এবং মার্কার পোগজ। গীর্জাটি লম্বায় সাড়ে সাতশো ফুট, দরজা চারটি, জানালা সাতটি। এর পাশেই ছিলো একটি ঘড়িঘর। এটি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন জোহানস কারু পিয়েত সার্কিস। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ঘড়িঘরটি ভেঙে গিয়েছিলো বলে জানা যায়। গীর্জায় বৃহৎ আকারের একটি ঘণ্টা ছিলো। এই ঘণ্টা বাজার শব্দ নগরের প্রায় সব স্থান থেকে শুনা যেত বলে সাক্ষ্য পাওয়া যায়। এই ঘণ্টার শব্দ শুনেই নাকি অধিকাংশ ঢাকাবাসী নিজ নিজ সময়ঘড়ি ঠিক করে নিতেন। ১৮৮০ সালের দিকে আর্মেনী গীর্জার এই বিখ্যাত ঘণ্টাটি স্তব্ধ হয়ে যায়, যা আর কখনো বাজেনি।

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: রোজ গার্ডেন |

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: রোজ গার্ডেন |
-রণদীপম বসু

দেয়াল ঘেরা বেশ বড় বাগানবাড়ির মাঝখানে চমৎকার কারুকাজ সমৃদ্ধ ধবধবে সাদা জমকালো এক অট্টালিকা, যার নাম ‘রোজ গার্ডেন’ (Rose Garden)। বোঝাই যাচ্ছে এককালে হয়তো গোলাপের বিখ্যাত বাগান ছিলো বাড়িটিকে ঘিরে। এর ছিটেফোটা চিহ্ন এখনো রয়ে গেছে। বাঁধানো পাকা ঘাট সমেত চমৎকার পুকুরটি এখনো মন টানে। অট্টালিকাটি ঘিরে কতকগুলো আকর্ষণীয় মর্মর মূর্তি এই বাড়ি নির্মাতার রুচি ও রসবোধের সাক্ষ্য বহন করছে আজো। বর্তমানে জীর্ণ হলেও বাড়িটির নির্মাণশৈলী এতো মনোহর যে, চোখ ফেরাতেই ইচ্ছে করে না।

| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: আহসান মঞ্জিল |

 .
| কালের স্মৃতিচিহ্ন | ঢাকা: আহসান মঞ্জিল |
-রণদীপম বসু

ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ল্যান্ডমার্ক হিসেবে আহসান মঞ্জিলের (Ahsan Manzil) নাম শোনেন নি এমন শিক্ষিত বাঙালি খুঁজে পাওয়া ভার। বুড়িগঙ্গার তীর ঘেষে দক্ষিণমুখী হয়ে দাঁড়ানো আগুনে লালরঙা এই অসাধারণ কারুকার্যময় অট্টালিকা কেবল অমূল্য স্থাপত্য হিসেবেই নয়, ঢাকা নগরের অতীত ইতিহাস ও তৎকালীন জীবনযাত্রায়ও রেখেছে ব্যাপক প্রভাব। উনিশ শতকের মধ্যভাগ থেকে বিশ শতকের দ্বিতীয় দশক পর্যন্ত ঢাকায় তো বটেই, গোটা পূর্ববঙ্গেও প্রভাব বিস্তার করেছিলো আহসান মঞ্জিল। স্থানীয়ভাবে ঢাকাবাসীদের কাছে এর পরিচয় নবাববাড়ি নামে। অর্থাৎ এটা শুধু মঞ্জিল নয়, নবাব পরিবারের আভিজাত্য, বৈভব ও প্রভাবের প্রতীক এই অট্টালিকা। পাশাপাশি দুটো বিশাল দ্বিতল ভবনের পূর্ব পাশের ভবনে ছিলো নবাব পরিবারের বাস এবং পশ্চিম পাশেরটি ছিলো দরবার হল।