Sunday, December 27, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| মধুর কেন্টিন |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| মধুর কেন্টিন |
- রণদীপম বসু


‘মধু দা’ ও ‘মধুর কেন্টিন’, বাঙালির স্বাধীনতা আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে অবিচ্ছেদ্য একটি নাম। তারুণ্যের টগবগে উচ্ছ্বাস আর চেতনাকে ধারণ করে যে ছাত্র আন্দোলন জাতীয় রাজনীতি-সংগ্রামের ঝাণ্ডাটাকে শক্ত হাতে সাফল্যের স্বর্ণ-দুয়ারে পৌঁছে দিতে অগ্রবর্তী ভূমিকা রেখেছিলো, তার লালন ও বিকাশভূমি বাঙালির সংগ্রামী তীর্থ এই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। তৎকালীন তুখোড় বিপ্লবী ছাত্র ও নেতৃবৃন্দ যারা পরবর্তীতে জাতিকে নেতৃত্ব দিয়ে এসেছে এবং এখনো দিচ্ছে, তাঁরা কেন যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছোট্ট অনাড়ম্বর একটা কেন্টিনকে সংগ্রামী চেতনার অঙ্কুরকেন্দ্র বানিয়ে তুলেছিলেন, সেটা নাহয় তাঁদের স্মৃতিকথা থেকেই আমরা জানবো। কিন্তু স্বাধীনতা সংগ্রামের চরম মুহূর্তে এসে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ২৫ মার্চ ১৯৭১ এর কালোরাত্রির প্রথম প্রহরে যে তাণ্ডব-যজ্ঞের মাধ্যমে বিশ্বের বৃহত্তম গণহত্যার সূচনা করেছিলো, তৎকালীন ছাত্র-শিক-কর্মচারীদের সাথে একজন ‘মধুসূদন দে’ নামের নিরীহ কেন্টিন পরিচালককেও যখন খুঁজে ধরে এনে হানাদার পশুরা নৃশংস কায়দায় হত্যা করে, তখন আর বুঝতে বাকী থাকে না সবাইকে ঋণী করে রাখা সবার প্রিয় ‘মধুদা’কে চিনে নিতে কেন শত্রুরাও ভুল করে নি।

১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ বিজয় দিবসের মধ্যদুপুরে এক ফাঁকে ঢুঁ মারলাম মধুর কেন্টিনে। বেশ কিছুদিন আগেও আরেকবার যখন এসেছিলাম, তখনো কান-কথা শুনছিলাম যে, কারা নাকি এই ঐতিহ্যবাহী মধুর কেন্টিনের মলিন ভবনটা ভেঙে নতুন ভবন তৈরির পায়তারা করছে। ঐতিহ্য-ধ্বংসের এই চক্রান্ত কতোটা সত্যি জানি না। তবে সত্যিই যদি হারিয়ে যায়, সে আশঙ্কা বুকে নিয়ে গুটিকয় আলোক-স্মৃতি গেঁথে নিলাম দুই-মেগাপিক্সেলটায়।

Saturday, December 26, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| শিখা চিরন্তন |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| শিখা চিরন্তন |
- রণদীপম বসু


রমনা শিশু পার্কের (জিয়া শিশু পার্ক) লাগোয়া পেছনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে স্পটটাতে বিখ্যাত স্মারক-স্থাপনা ‘শিখা চিরন্তন’-এর অনির্বাপিত শিখা জ্বলছে জ্বলজ্বল করে, সে আমলের কেউ এখানে এসে দাঁড়ালে এখনো হয়তো ফিরে যান সেই সময়ে, বঙ্গবন্ধুর বজ্রকণ্ঠের সেই স্বাধীনতার ডাক শুনতে পান। আজ যাকে আমরা সোহরাওয়ার্দী ময়দান বলি, এককালের সেই ঐতিহাসিক রেইসকোর্স ময়দান এখন বিশাল এক স্থাপনায় উন্নীত হয়েছে। এটাই কি ‘বিজয় মঞ্চ’ ? 

এবারই ১৬ ডিসেম্বর ২০০৯ বিজয় দিবসের প্রাক-মধ্যাহ্ণে প্রথম এ এলাকাটায় আসার সুযোগ হলো আমার। পকেটে দুই-মেগাপিক্সেল, কিন্তু স্চ্ছন্দে ক্লিক করার মতো কুয়াশাক্রান্ত আবহাওয়া কিছুতেই অনুকূলে ছিলো না তখন। কী আর করা ! আমি তো ফটোগ্রাফি করতে আসিনি, বা সে হাতিয়ারও আমার নেই। যোগ্যতাও নেই। তাই দুই-মেগাপিক্সেল মোবাইল ক্যামেরায় কয়েকটি স্মৃতিময় মুহূর্ত ধরে রাখার চেষ্টা করেছি কেবল।

Friday, December 25, 2009

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|১১১-১২০|

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন…|১১১-১২০|
রণদীপম বসু

(১১১)
একশ’টা বই পড়ার চেয়ে একটা বই বুঝা অনেক গুরুত্বপূর্ণ।
মলাটবদ্ধ অক্ষর-সমষ্টিমাত্রই বই নয়।
বই হচ্ছে সেই বৈধ প্রতারক, যা
মানুষের বর্তমান মুহূর্তকে অস্বীকার করে।

(১১২)
মানুষ হলো এক আজব বিজ্ঞাপন,
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, প্রভাবশালী এবং একইসাথে অত্যন্ত আকর্ষণীয়
ও বিরক্তিকর।

(১১৩)
আস্তিক্য-জীবনযাত্রা মানে গণ্ডিবদ্ধ রুটিন-ওয়ার্ক।
আর অলৌকিক সীমানায় আবদ্ধ নয় বলে নাস্তিক্য-জীবনধারা হয়
চির বৈচিত্র্যময়, সৃজনশীল।

Tuesday, December 22, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| ঢাবি শহীদ তালিকা-স্তম্ভ |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| ঢাবি শহীদ তালিকা-স্তম্ভ |
রণদীপম বসু



ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলাভবনের সামনের টিএসসি-নীলক্ষেত মূল সংযোগ-সড়কটির মধ্যবর্তী গ্রন্থিমুখে চোখে পড়বে একটা সুদৃশ্য সড়ক-দ্বীপ, যেখানে রয়েছে অত্যন্ত নান্দনিক ভঙ্গিতে কতকগুলো আয়তাকার ফলক বা স্তম্ভের সাজানো স্থাপনা। এই চমৎকার নির্মাণ-শৈলীর প্রতিটা ফলকের ভেতর-পার্শ্বে থরে থরে অঙ্কিত রয়েছে একাত্তরে তৎকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট শহীদদের গুচ্ছ গুচ্ছ তালিকা।
এর একটি ফলকে লেখা রয়েছে-


বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে শহীদ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা, কর্মচারী
ও অন্যান্যদের
পবিত্র নামখচিত এই ফলকগুলি
বাংলাদেশের স্বাধীনতালাভের চব্বিশবর্ষপূর্তির দিনে
কৃতজ্ঞ বিশ্ববিদ্যালয়-সমাজের পক্ষ থেকে
স্থাপিত হলো।

| দুই-মেগাপিক্সেল…| কবি নজরুল সমাধি-স্তম্ভ |


| দুই-মেগাপিক্সেল…| কবি নজরুল সমাধি-স্তম্ভ |
রণদীপম বসু
‘মসজিদেরই পাশে আমায় কবর দিয়ো ভাই
যেন গোড়ে থেকে ঐ মুয়াজ্জিনের আযান শুনতে পাই।…’

বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম (১৮৯৯ – ১৯৭৬) এই গানের মধ্য দিয়েই হয়তো তাঁর অন্তিম ইচ্ছাটা জানিয়ে রেখেছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে কবি নজরুলকে জাতীয় কবির মর্যাদা দিয়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে নিয়ে আসার উদ্যোগ নেন এবং অসুস্থ কবিকে যথাযোগ্য সম্মান ও পরিচর্যায় এদেশে স্থায়ীভাবে অবস্থানের সুব্যবস্থা করেন। কবির মৃত্যুর পর অন্তিম ইচ্ছানুযায়ী তাঁকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদের পাশেই সমাধিস্থ করা হয়।
আমাদের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। তাঁর সুদৃশ্য সমাধি-স্তম্ভ ও সুসজ্জিত এলাকাটি দেখতে প্রতিদিন কত শ্রদ্ধাবনত মানুষের আগমন ঘটে। দুই-মেগাপিক্সেলের চোখেও এই স্মিত-সৌন্দর্য এক অনির্বচনীয় মুগ্ধতার রেশ ছড়িয়ে দেয়। কবি নজরুল আমাদের অহঙ্কার !

Saturday, December 19, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| রোড-টু-সিলেট-০৪ |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| রোড-টু-সিলেট-০৪ |
- রণদীপম বসু


রোড-টু-সিলেট: পর্ব-[০১][০২][০৩][*]
সিলেট নামটা উচ্চারণের সাথে সাথে অনিবার্যভাবে চলে আসে হয়রত শাহজালাল (রঃ) আউলিয়া’র  নাম। পূণ্যার্থি ও পর্যটকদের ভিড়ে সারাক্ষণ সরগরম তাঁর মাজার বা দরগাহ্। একইসাথে ধড়িবাজ, ফক্কর ও মাদকাসক্ত আউলা-ঝাউলা লোকদেরও আগাগোনা এখানে। এবং এই শাহজালাল মাজারকে ঘিরে গড়ে উঠেছে একটা জমজমাট ব্যবসাস্রোতও। সিলেটে দরগাহ বললে একডাকে সবাই যাকে চিহ্ণিত করে, হযরত শাহজালাল (রঃ)-এর মাজার বা দরগাহ।

| দুই-মেগাপিক্সেল…| রোড-টু-সিলেট-০৩ |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| রোড-টু-সিলেট-০৩ |
- রণদীপম বসু


রোড-টু-সিলেট: পর্ব-[০১][০২][*][০৪]

বিকেলে একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানে যোগদান করতেই গতরাতে (০৪-১২-২০০৯) সিলেট পৌঁছা। রাতেই আবার ফিরতে হবে ঢাকায়। সকালে ঘুম ভেঙেই ভাবলাম তারুণ্যের বহু স্মৃতিমাখানো এই সিলেট শহরটায় একটা ছোটখাটো চক্কর দিয়ে আসি। বেরোতে বেরোতে এগারোটা পেরিয়ে গেছে। পকেটে দুই-মেগাপিক্সেল। প্রকৃত ছবিয়ালদের জন্য গোটা সিলেট এক বিস্ময়কর রত্নভাণ্ডার। আমি ছবিয়াল নই, এবং বাউণ্ডুলে আমার হাতে মাত্র তিনটা ঘণ্টা সর্বোচ্চ বরাদ্দ। কিন্তু যেখানেই দুই-মেগাপিক্সেল তাক করি, সূর্য হঠাৎ তার জ্বলন্ত দৃষ্টি নিয়ে ঠিক মুখোমুখি হয়ে যায়। ক্ষুধার্ত জিহ্বায় মশকারির ছাই আর কি !

Friday, December 18, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| রোড-টু-সিলেট-০২ |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| রোড-টু-সিলেট-০২ |
- রণদীপম বসু


রোড-টু-সিলেট: পর্ব-[০১][*][০৩][০৪]

১২.
ভৈরব ব্রীজের বুক বেয়ে প্রশস্ত মেঘনা পেরুচ্ছি। শা শা করে ছুটে চলা গাড়ির জানলা দিয়ে দুই মেগা-পিক্সেলটা তাক করলাম খাঁ খাঁ শূন্যতার মতো প্রশস্ত মেঘনার বুকে গজিয়ে উঠা চরটার দিকে। এপার ভৈরব, ওপার আশুগঞ্জ। এপার নরসিংদী জেলা কিংবা হালে হতে যাওয়া জেলা ভৈরব, ওপার ব্রাহ্মণবাড়িয়া।

Wednesday, December 16, 2009

| লাল সূর্যটা...|



| লাল সূর্যটা...|
রণদীপম বসু
...

এই শিশুটি, আমাদের আগামী প্রজন্ম, স্বাধীনতার রঙে নিজেকে রাঙিয়ে কী ভীষণ মনোযোগ দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছে এতো বড়ো লাল সূর্যটাকে ! ওটাকে কতো যত্ন আর শ্রম দিয়ে একটু একটু করে তৈরি করে তারপর শহীদ মিনারটার গায়ে জুড়ে দিতে হয় ! কারণ আজ যে বিজয় দিবস !
...
[sachalayatan]
...

Tuesday, December 15, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিক্ষেত্র – ০৩ |


 
| দুই-মেগাপিক্সেল…| শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিক্ষেত্র – ০৩ |
-রণদীপম বসু


# শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিক্ষেত্রে চিরশায়িত শহীদদের সমাধি

আবারো পুনরুক্তি করি। মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ (Intellectual Martyrs Monument) এলাকার সমাধিক্ষেত্রে চিরশায়িত শহীদদের সমাধিফলকগুলোতে যেভাবে যে তথ্য দেয়া রয়েছে, ঠিক তার ভিত্তিতেই ছবির বর্ণনা বা ক্যাপশানগুলো তৈরি করা হয়েছে। নিজ থেকে কোন তথ্য জুড়ে দেয়ার যে-কোন প্রচেষ্টাই বর্জন করা হয়েছে। ছবিতে ক্লিক করে বড় করে দেখলেই তথ্য মিলিয়ে নেয়া যাবে। কোন কোন সমাধি ফলক তথ্য-অস্পষ্টতায় আক্রান্ত হওয়ায় পুরো তথ্য উদ্ধৃত করা যায় নি। আবার কোন কোন সমাধির কোন ফলকই চোখে পড়েনি। ফলে কোন্ শহীদরা সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন, আমার জানার আপাত কোন সুযোগ হয়নি। আর একটু দৃষ্টিপাত করলে মনে হবে সমাধিফলকগুলোতে বাংলা বানানরীতির দিকে খেয়াল রাখা হয়নি হয়তো।

Monday, December 14, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিক্ষেত্র – ০২ |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিক্ষেত্র – ০২ |
-রণদীপম বসু





# শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিক্ষেত্রে চিরশায়িত শহীদদের সমাধি


পুনরুক্তি হলেও আবারো বলে নেই, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ (Intellectual Martyrs Monument) এলাকার সমাধিক্ষেত্রে দৃশ্যমান প্রায় সবগুলো সমাধির আলোকচিত্র নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। চিরশায়িত শহীদদের সমাধিফলকগুলোতে যেভাবে যে তথ্য দেয়া রয়েছে, ঠিক তার ভিত্তিতেই ছবির বর্ণনা বা ক্যাপশানগুলো তৈরি করা হয়েছে। নিজ থেকে কোন তথ্য জুড়ে দেয়ার যেকোন প্রচেষ্টাই বর্জন করা হয়েছে। ছবিতে ক্লিক করে বড় করে দেখলেই তথ্য মিলিয়ে নেয়া যাবে। কোন কোন সমাধি ফলক তথ্য-অস্পষ্টতায় আক্রান্ত হওয়ায় পুরো তথ্য উদ্ধৃত করা যায় নি। আবার কোন কোন সমাধির কোন ফলকই চোখে পড়েনি। ফলে কোন্ শহীদরা সেখানে চিরনিদ্রায় শায়িত রয়েছেন, আমার জানার আপাত কোন সুযোগ হয়নি। সমাধিফলকগুলোতে বাংলা বানানরীতির প্রতি আরেকটু মনোযোগ দিলে কোন কোন ক্ষেত্রে চোখে পীড়া বোধ হতো না হয়তো।

Sunday, December 13, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিক্ষেত্র – ০১|



| দুই-মেগাপিক্সেল…| শহীদ বুদ্ধিজীবী সমাধিক্ষেত্র – ০১|
-রণদীপম বসু



ভুট্টাক্ষেতের বর্তমান অধিবাসী গণকমিস্তিরি রাগিব ভাই ক’দিন আগে উইকিপিডিয়ার আর্কাইভে রাখা তথ্য অনুসরণে আমাদের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ-এর জীবনীভিত্তিক একটি অন্তর্জালিক পোস্ট দেন তাঁর ব্লগে। ওখানে চারজন বীরশ্রেষ্ঠর সমাধিস্তম্ভের ছবি দেয়া হলেও তখন অন্য আরো দু’জনসহ বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী হামিদুর রহমান-এর সমাধির কোন ছবি দেয়া হয়নি। এতে মনে হলো যে শহীদ হামিদুর রহমানের সমাধিস্তম্ভের কোন ছবি তখনো উইকিতে নেই। তথ্য অনুযায়ী এই বীরশ্রেষ্ঠর সমাধিও শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে রয়েছে। গত ডিসেম্বর ২০০৮-এ শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ সংশ্লিষ্ট ছবিগুলো যখন ধারণ করি তখন বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেঃ মতিউর রহমানের সমাধির ছবিটাই কেবল ধারণ করেছিলাম। কিন্তু শহীদ হামিদুর রহমানের সমাধিটা কেন আমার চোখে পড়লো না তখন, তা একবার যাচাই করতে ভাবলাম শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ (Intellectual Martyrs Monument) এলাকাটা আরেকবার ঘুরে আসা দরকার। সে লক্ষ্যেই এক বছরের ব্যবধানে আজ (১২-১২-২০০৯) চলে গেলাম সেখানে। সঙ্গি আমার দুই-মেগাপিক্সেল।

Saturday, December 12, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল | রোড-টু-সিলেট-০১ |



| দুই-মেগাপিক্সেল | রোড-টু-সিলেট-০১ |
- রণদীপম বসু




০১.
০৪-১২-২০০৯ শুক্রবার। চাইলেও সাত-তাড়াতাড়ি বের হওয়া গেলো না। সায়েদাবাদ থেকে হানিফ এন্টারপ্রাইজের গাড়িটা সিলেটের উদ্দেশ্যে টারমিনাল ছাড়লো দুপুর ১.০০ টায়। আজ গিয়ে কালই ফিরতি গাড়ি ধরতে হবে ঢাকার। কাঁধে এরকম ভুতের দাবড়ানি নিয়ে আমি ছুটলেও গাড়ির সেরকম কোন তাড়া নেই। কী আর করা ! মন ভোলাতে বাইরের দৃশ্য দেখছি প্রাণ খুলে। কাঁচপুর ব্রীজের উপর থেকে বাইরের দৃশ্যটাকে কেমন মনভোলা মনে হচ্ছে। বাস্তবেও কি তাই ? পরখ করতে পকেট থেকে দুই-মেগাপিক্সেলটা বের করে নিলাম। এবং গোটাকয় ক্লিক।

Friday, December 11, 2009

| দুই-মেগাপিক্সেল…| বিশ্ব মর্যাদা দিবস |



| দুই-মেগাপিক্সেল…| বিশ্ব মর্যাদা দিবস |
রণদীপম বসু



০৬-১২-২০০৯ রোববার। মতিঝিল থেকে মিরপুরগামী ডবল-ডেকার বাসে চড়লাম। বাসের দোতলায় জানালার পাশে বসে প্রতি মুহূর্তে নতুন হয়ে ওঠা ঢাকা দেখে দেখে চলছি। ভালোই লাগছিলো। পল্টন পেরিয়ে প্রেসকাব পর্যন্ত যাবার আগেই হঠাৎ জ্যাম। মাথা বের করে সামনে তাকিয়ে জ্যামের মাথা  দেখার চেষ্টা করলাম। বুঝা গেলো সুপ্রিম কোর্টের সামনের সেই কদম ফোয়ারা পর্যন্ত গাড়িতে ঠাশা। কোন কারণ খুঁজে পেলাম না। এরই মধ্যে দূর থেকে নজরে এলো, একটা জাকজমকপূর্ণ শোভাযাত্রা বিশাল অজগরের মতো তার মাথা বাঁকিয়ে ঠিক প্রেসকাবের কোণাটাতে রাস্তা ক্রস করছে। সামনে রঙচঙে টমটম বা ঘোড়ার গাড়ি কয়েকটা। এর পেছনেই প্রতিবন্ধী মানুষসহ কতকগুলো হুইল চেয়ার ঠেলছে কজন নারী-পুরুষ, বেশ সুশৃঙ্খল সারিবদ্ধ। তার পেছনে পর্যায়ক্রমে লাইনবদ্ধ মানুষ, ফেস্টুন আর চওড়া ব্যানারের সারি। সাড়াশব্দহীন নিরিবিলি শোভাযাত্রাটা তার লম্বা শরীটা বাঁকিয়ে রাস্তা পেরিয়ে উল্টোমুখী হচ্ছে।  প্রতি কূলোয় একেকটা অক্ষর বিন্যাস করে কতকগুলো কুলোর সমন্বয়ে যে লেখাটা প্রদর্শিত হচ্ছে, দূর থেকে তা-ই বুঝা গেলো শুধু- ‘বিশ্ব মর্যাদা দিবস’। (World Dignity Day 2009)

Thursday, December 10, 2009

| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...| ১০১-১১০ |


| ঘড়ায়-ভরা উৎবচন...|১০১-১১০|
রণদীপম বসু

...
(১০১)
মানুষ বাস করে তাঁর স্বপ্নের মধ্যে;
স্বপ্নহীনরাই প্রকৃত উদ্বাস্তু।

(১০২)
জন্মদিন হলো একটা হাস্যকর চিহ্ণ, যা
দূরবর্তী হতে হতে নিশ্চিহ্ণের ঠিকানাটা চিহ্ণিত করে।

(১০৩)
 শেকড়-বিচ্ছিন্ন না হলে বহুতল ভবনের অধিকারী হওয়া যায় না;
বাতাসই হয়ে যায় মাটির বিকল্প তখন।

Wednesday, December 9, 2009

| বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ও আমাদের অভিশপ্ত শিশুরা |



| বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন ও আমাদের অভিশপ্ত শিশুরা |
 রণদীপম বসু

...

‘বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ান’। সাতসকালে পত্রিকাগুলোর হেডলাইন দেখেই চমকে উঠলাম ! মেরুদণ্ড বেয়ে একটা শিনশিন ঠাণ্ডা স্রোত নেমে গেলো নিচের দিকে। নিজের জন্য নয়, আমাদের সন্তানদের ভবিতব্য চিন্তা করে। সেই উনিশশো একাত্তরেও নাকি এভাবে একবার বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বিশ্ববাসীকে আহ্বান জানিয়েছিলেন বিশ্বের কিছু মানবহিতৈষী ব্যক্তি। সেটা যে কতোবড়ো দুঃসহ কাল ছিলো এই দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, স্বাধীনতা-উত্তর প্রজন্মের কেউ তা কখনো বুঝবে না। বুঝার কথাও নয়। শৈশবের ধবধবে বুকে অতশত না বুঝেও সেই দুঃসহ স্মৃতি আর মা-ভাই-বোন হারানোর দগদগে ক্ষত নিয়ে আজো চলছি ঠিকই। তবু আগ্রাসী চিতার মতো দাউ দাউ জ্বলছে এখনো সেই ক্ষত। ওটা যে কোন রূপকথা ছিলো না, ছিলো বাঙালির অস্তিত্বের প্রশ্ন, সেটা এখনো বুঝাতে হয আমাদের বাঙালি প্রজন্মকে, দুর্ভাগ্যের এই কলঙ্ক-তিলক হয়তো আমাদের প্রাপ্যই ছিলো। কারণ মীর জাফর আলী খান বাঙালির পূর্বপুরুষ না হলেও আমাদের রক্তের আত্মীয় হয়ে গেছেন অনেক আগেই। আর তাই হযতো সেরকম সাদৃশ্যপূর্ণ একটা গুরুত্বপূর্ণ প্রধান সংবাদ পত্রিকায় দেখে এভাবে আঁতকে উঠা ! কিন্তু খবরটা তো আঁতকে উঠার মতোই।